ইব্রাহিম জোলফাকারি

  • প্রকাশ : সোমবার ০৮ জুন, ২০২৬, সময় : ৪:৫২ এএম

ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, ইসরায়েলে চালানো এই হামলা আরও ব্যাপক জবাবের একটি সতর্কবার্তা। যদি আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে ইসরায়েল ও এই অঞ্চলে তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক জবাব দেবে ইরান।


ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসির মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলের উপশহরগুলোতে হামলা বন্ধ করতে হবে।


ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করে জায়নবাদী আগ্রাসী শাসনব্যবস্থা (ইসরায়েল) অপরাধী যুক্তরাষ্ট্রের সবুজসংকেত–সমর্থনে লেবাননের নিপীড়িত জনগণের ওপর দিন দিন নৃশংসতা বাড়িয়ে চলছে। জায়নবাদী সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতের উপশহরগুলোতে হামলা বন্ধ করতে হবে। তারা যদি ওই অঞ্চলে হামলা আরও বিস্তৃত করে বা ইরানের পদক্ষেপের জবাব দেয়, তাহলে তাদের আরও কঠোর ও অনুশোচনীয় আঘাতের মুখোমুখি হতে হবে। তখন ওই শাসনব্যবস্থা ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক হামলা শুরু হবে।


তথ্যসূত্র: রয়টার্স




ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৪ পিএম

সাত বছর পর বিক্রস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারত সফরে আসছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। এই সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শি জিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। 


ধারণা করা হচ্ছে- এতে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন গতি আসতে পারে।


১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ভারতে ব্রিকস সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। গত বছর মোদির চীন সফরের পর দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগে গতি আসে। চলতি মাসে কিরগিজস্তানে একটি আঞ্চলিক সম্মেলনের ফাঁকে মোদি ও শি জিনপিংয়ের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎও হয়েছে।


চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, দুই নেতা মনে করেন- ভারত ও চীন ‘প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার’। পাশাপাশি দুই দেশ একে অপরের উন্নয়নের জন্য হুমকি নয়, বরং সুযোগ তৈরি করে বলে মনে করেন তারা।


ভারতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত বিক্রম দোরাইস্বামীও দুই দেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, বিশ্বের দুই বৃহৎ উদীয়মান অর্থনীতি ভারত ও চীনের স্থিতিশীল ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দুই দেশের ২৮০ কোটি মানুষের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। এ সম্পর্ক এশিয়া ও বৃহত্তর বিশ্বের শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।


সীমান্ত নিয়ে আলোচনা


মোদি-শি বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পেতে পারে। নয়াদিল্লির অবস্থান হলো, সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা ছাড়া ভারত-চীন সম্পর্কের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।


২০২০ সালে পূর্ব লাদাখে ভারত ও চীনের সেনাদের সংঘর্ষের পর দুই দেশের সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। পরে কাজানে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ আবার শুরু করার বিষয়ে সমঝোতা হয়। 


পূর্ব লাদাখে সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে বিরোধের কিছু বিষয় সমাধানের পর দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ার পথে এগোয়।


সীমান্তবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধিদের দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত বিরোধের একটি ন্যায্য, যুক্তিসংগত ও পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান খোঁজার বিষয়েও তাদের কাজ করার কথা রয়েছে।


গত মাসে বেইজিংয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর বৈঠকেও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের বৈঠকের ফলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে আলোচনা হয়।


বাণিজ্য ঘাটতিও আলোচনায়


চীনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়লেও বিপুল বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে নয়াদিল্লির উদ্বেগ রয়েছে। শি জিনপিংয়ের সফরে বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে। ২০২৬ সালের মার্চে শেষ হওয়া অর্থবছরে ভারত ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য রেকর্ড ১৫১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়ে রেকর্ড ১১২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আগের বছর এই ঘাটতি ছিল ৯৯ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার।


ভারত চীনের বাজারে নিজেদের পণ্যের জন্য আরও বেশি সুযোগ চায়। একই সঙ্গে সরবরাহব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা এবং দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য আনার বিষয়েও জোর দিতে পারে নয়াদিল্লি।


চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনের সাংবাদিক হুয়াং ইউ বলেন, শির সফর দুই দেশের বাণিজ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তার ভাষ্য, বড় একটি চীনা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল শির সঙ্গে নয়াদিল্লিতে আসছে। চীনা কোম্পানিগুলো ব্রিকসের দেশগুলোতে ব্যবসার সুযোগ খুঁজছে।


সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও চীনের সম্পর্কে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। দুই দেশ সরাসরি বিমান চলাচল আবার শুরু করেছে। চীনা ব্যবসায়ীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়াও সহজ করেছে ভারত।


ছয় বছর বন্ধ থাকার পর এ বছর ভারত-চীন সীমান্ত বাণিজ্যও আবার শুরু হয়েছে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে এই বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।


সিকিমের নাথুলা পাস দিয়েও ছয় বছর পর সীমান্ত বাণিজ্য আবার চালু হয়েছে। ঐতিহাসিক সিল্ক রোডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বাণিজ্যপথ পুনরায় চালু হওয়াকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আরেকটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সূত্র: এনডিটিভি


যুক্তরাষ্ট্রে গৃহবন্দিত্ব চাইলেন মাদুরোর স্ত্রী ফ্লোরেস

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:০২ পিএম

হৃদরোগের অবনতির কথা জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফেডারেল হেফাজত থেকে মুক্তি চেয়েছেন ভেনেজুয়েলার সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস দে মাদুরো। 


বিচার শুরুর আগ পর্যন্ত তাকে ম্যানহাটনের একটি বাসায় গৃহবন্দি রাখার অনুমতি দিতে বিচারকের কাছে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা। আজ শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।


এর আগে বুধবার আদালতে দেওয়া আবেদনে ফ্লোরেসের আইনজীবীরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের পর ভেনেজুয়েলা থেকে তাকে আটক করে নিউইয়র্কে নেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। একই অভিযানে তার স্বামী ও ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকেও যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়।


আইনি আবেদনে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলা থেকে আটক হওয়ার আগে ফ্লোরেস শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং নিয়মিত কোনো ওষুধ গ্রহণ করতেন না। শুধু হৃদযন্ত্রের একটি ভালভের সমস্যা, মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপস নিয়ন্ত্রণে মাসে একবার একটি ইনজেকশন নিতেন তিনি।


তবে বর্তমানে তার চার ধরনের ওষুধ প্রয়োজন হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। সম্ভাব্য হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য তিনি সবসময় নাইট্রোগ্লিসারিন সঙ্গে রাখছেন। চিকিৎসকেরা তার হৃদ্‌যন্ত্র পরীক্ষা ও অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


আইনজীবীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে থাকার সময় গত ২৯ জুলাই ফ্লোরেসের ছোট ধরনের হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে বাইরের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করার পর তারা এমন আশঙ্কা করছেন। তার মাইট্রাল ভালভ প্রোল্যাপসের জন্য যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।


ফ্লোরেসের আইনজীবীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে আটক হওয়ার পর থেকে তিনি হৃদযন্ত্রের সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় মাসিক ইনজেকশনটি পাননি। এর পরিবর্তে তাকে বেবি অ্যাসপিরিন, স্ট্যাটিন, ডিলটিয়াজেম এবং বুকে ব্যথা হলে ব্যবহারের জন্য নাইট্রোগ্লিসারিন দেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।


ভবিষ্যতে তার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। আইনজীবীরা বলেছেন, এমন চিকিৎসা হলে সুস্থ হওয়ার জন্য ফ্লোরেসের পর্যাপ্ত সময় এবং উপযুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন হবে। তবে আবেদনে ফ্লোরেসের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে যে চিকিৎসকরা তাকে ‘চমৎকার চিকিৎসা’ দিয়েছেন। তাদের যুক্তি, একটি আটককেন্দ্রে চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ পাওয়া কঠিন।


আইনজীবীরা ফ্লোরেসকে ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার থেকে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের আওতাধীন একটি বাসায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়েছেন। আগামী জুনে ওই আদালত জেলাতেই ফ্লোরেস ও মাদুরোর বিচার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।


গৃহবন্দিত্বের আওতায় ফ্লোরেসকে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র নজরদারিতে রাখা হবে। আদালত ও ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অনুমোদিত ব্যক্তিরাই তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। 


তার বাসায় ভিডিও নজরদারি এবং ফোনকল রেকর্ড করার ব্যবস্থাও থাকবে বলে আবেদনে জানানো হয়েছে। তবে ফ্লোরেসের আবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত দেননি বিচারক অ্যালভিন কে. হেলারস্টেইন।


৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস এবং ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোকে গত ৩ জানুয়ারি কারাকাসে তাদের বাড়ি থেকে অপহরণ করে মার্কিন বাহিনী। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রয়েছেন তারা। যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে করা মামলায় দুজনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। 


ফ্লোরেস ২০১৩ সালে মাদুরো প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভেনেজুয়েলার ফার্স্ট লেডির দায়িত্ব পালন করেন। 


এর আগে তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির (পিএসইউভি) গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং চার বছরের বেশি সময় জাতীয় পরিষদের নেতৃত্ব দিয়েছেন।


মাদুরো দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন। ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারকারীদের পাঠানোর অভিযোগ করেছিলেন। মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও রাজনৈতিক বিরোধিতা দমনে সহিংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।


সূত্র: আলজাজিরা


সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:১৭ পিএম

ইউক্রেনের দনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পাভলোহরাদ শহরে একটি শপিং মলে রুশ ড্রোন হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬৭ জন। আহতদের মধ্যে আটজন শিশু। গতকাল বৃহস্পতিবার দিনের বেলায় এ হামলা হয় বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। 


দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভান ভিহিভস্কি বলেন, রাস্তায় যখন মানুষের ভিড় ছিল, তখন শপিং মলটিতে ড্রোন হামলা চালানো হয়। এতে দোকানপাট ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


আঞ্চলিক গভর্নর ওলেকসান্দর হানঝা জানান, হামলায় ৬৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আটজন শিশু। হামলার পর ঘটনাস্থলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। 


ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শপিং মলের আশপাশে অবস্থান করা মানুষকে লক্ষ্য করে রুশ বাহিনী ড্রোন ব্যবহার করেছে।


ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই সিবিহা এই হামলাকে রাশিয়ার ‘চাপ প্রয়োগের কৌশল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার অভিযোগ, বেসামরিক মানুষের ওপর ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে ইউক্রেনের জনগণকে ক্লান্ত করে যুদ্ধ বন্ধে ছাড় দিতে বাধ্য করতে চায় রাশিয়া।


পাভলোহরাদ দনিপ্রো শহরের কাছের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও সরবরাহকেন্দ্র। 


এর আগেও শহরটিতে রুশ হামলা হয়েছে। গত মাসে শহরের কয়েকটি গুদামে হামলায় দুজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।


সম্প্রতি ইউক্রেনের আরও কয়েকটি শপিং মল রুশ হামলার লক্ষ্য হয়েছে। বুধবার সুমি শহরের একটি শপিং মলে রুশ হামলায় দুজন নিহত ও ২০ জন আহত হন বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সুমিতে রুশ বিমান হামলায় আরও আটজন আহত হন, যাদের মধ্যে তিনজন শিশু।


সোমবার জাপোরিঝঝিয়া শহরের একটি শপিং মলও রুশ হামলায় প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে বলে এর মালিকপক্ষ জানিয়েছে। তবে হামলার সময় সেটি বন্ধ থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।


অন্যদিকে, রাশিয়াও ইউক্রেনের হামলায় হতাহতের কথা জানিয়েছে। রুশ কর্মকর্তাদের দাবি, বুধবার রাতে সোচি শহরের উপকূলে ইউক্রেনের সমুদ্রপথে চালানো ড্রোন হামলায় ২৮ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজন শিশু। 


সূত্র: বিবিসি


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৬ এএম

পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সই হওয়া মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির সম্প্রসারণের পরিকল্পনা এখন নেই। গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাজ্জাদ হায়দার খান এ কথা বলেছেন। 


তিনি বলেন, পরবর্তী ধাপে এই চুক্তির পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে গত ৭ আগস্ট সই করে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক। চুক্তিটির লক্ষ্য হলো এই তিন দেশের সম্মিলিত প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করে তোলা। 


চুক্তি অনুযায়ী, এই জোটের কোনো সদস্যদেশ হামলার শিকার হলে সব সদস্যদেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।


বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাজ্জাদ হায়দার খান বলেন, মক্কা চুক্তি প্রাথমিকভাবে একটি প্রতিরক্ষা জোট। এর লক্ষ্য হলো প্রতিরোধ সক্ষমতা গড়ে তুলে প্রাথমিকভাবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। আপাতত চুক্তির পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। প্রথমে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ককে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে হবে।


প্রাথমিক পর্যায়ের এ কাজ শেষে একই অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে, এমন সব দেশের চুক্তিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলে জানান সাজ্জাদ হায়দার। তিনি বলেন, চুক্তির কাঠামোর আওতায় সদস্য তিন দেশ বিভিন্ন পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে। চুক্তি সম্প্রসারণের বিষয়ে পরবর্তী ধাপে এই তিন দেশ সিদ্ধান্ত নেবে। এ পর্যায়ে সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে না।


মক্কা চুক্তির সদস্যদেশগুলোর মধ্যে প্রথম বৈঠক গত ৩১ আগস্ট তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মুখপাত্র বলেন, পরবর্তী বৈঠকগুলো কবে হবে, সে বিষয়ে তথ্য ‘নিয়মিতভাবে জানানো হবে’। 


তবে ঠিক কবে এসব বৈঠক হবে, তা এখনো জানা যায়নি। সাজ্জাদ হায়দার বলেন, চুক্তি এখনো গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এর কাঠামো, কার্যপ্রণালি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে পরে বিস্তারিত আলোচনা হবে।


মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে সম্প্রতি আগ্রহ দেখিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সম্প্রতি জাতীয় সংসদে বলেন, বাংলাদেশের মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নির্ভর করছে চুক্তিভুক্ত সদস্যদেশগুলোর অভিপ্রায়ের ওপর। তারা বাংলাদেশকে এ চুক্তিতে নেওয়ার বিষয়ে অভিপ্রায় প্রকাশ করলে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই এটাকে ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।


চীনে বিদেশি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ আগুন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩২ এএম

চীনের পূর্বাঞ্চলের শিংদাও বন্দরে মেরামতকাজ চলার সময় বিদেশি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৫ জন নিহত হয়েছেন। জাহাজটিতে মোট ৪২ জন ছিলেন।


চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে শিংদাওয়ের একটি শিপইয়ার্ডে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘ওশান মেলোডি’ জাহাজটিতে আগুন লাগে।


আগুন লাগার পর জাহাজটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে ততক্ষণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।


মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০ মিটার বা ৬২৩ ফুট দীর্ঘ জাহাজটি গত ৩১ আগস্ট শিংদাও বন্দরে পৌঁছেছিল। শিংদাও চীনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং বিশ্বের ব্যস্ততম বন্দরগুলোর একটি।


অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য অনুযায়ী, জাহাজ থেকে কুণ্ডলী পাকিয়ে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা গেলেও কোনো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়নি।


মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার পর নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। পাশাপাশি ভবিষ্যতে দ্বিতীয় দফা ঝুঁকি বা ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।


অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত পরিস্থিতি জানতে তদন্ত চলছে।


১৩২ বছরের রেকর্ড খরা যুক্তরাষ্ট্রে

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৫ পিএম

এবার তীব্র গরমের মধ্যে পুরো গ্রীষ্মকাল কাটিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রবাসী। দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে ছিল তাপপ্রবাহ। এতে দেখা দিয়েছে খরা।


যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) গতকাল বুধবার জানিয়েছে, গত জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এ তাপমাত্রা পুরো ২০ শতকের গড়ের চেয়ে ১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি। 


এর আগে ১৯৩৬ ও ২০২১ সালের গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এবারের গ্রীষ্মকালের তাপমাত্রা সেই রেকর্ডের চেয়েও শূন্য দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা শূন্য দশমিক ৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি।


আগস্ট ছিল পশ্চিম ইউরোপেরও সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মের একটি মাস। এবারের গরম সেখানে ২০০৩ সালের প্রাণঘাতী তাপপ্রবাহকেও ছাড়িয়ে গেছে।


এনওএএ গত ১৩২ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আবহাওয়ার তথ্য সংরক্ষণ করছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ সময়ের মধ্যে কোনো গ্রীষ্মকালে এবারের মতো এত বেশি তাপমাত্রা দেখা যায়নি।


যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে গত আগস্ট ছিল সবচেয়ে উষ্ণ মাস। ওই মাসজুড়ে দেশটিতে গড় তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ৭৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট।


সাম্প্রতিক বছরগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড তাপমাত্রা ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। এনওএএর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির পাঁচটি উষ্ণতম গ্রীষ্মের চারটিই ছিল গত পাঁচ বছরে। 


বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে বৈশ্বিক উষ্ণতা ক্রমেই বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রে তাপমাত্রা বৃদ্ধিও সেই বৃহত্তর প্রবণতার অংশ।


১৯৩৬ সালের রেকর্ড তাপমাত্রার সময়ে গ্রেট প্লেইনস অঞ্চলে তীব্র গরম ও খরার সঙ্গে ক্ষতিকর কৃষিপদ্ধতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছিল। 


অন্যদিকে, এবারের গ্রীষ্মকালজুড়ে দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি শুষ্ক আবহাওয়া ক্রমেই তীব্রতর হয়েছে।


গত ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের প্রায় ৫৯ শতাংশ এলাকা খরার কবলে ছিল। এক মাসের ব্যবধানে দেশটিতে খরাকবলিত এলাকার পরিমাণ ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গ্রেট প্লেইনস, মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।


টেক্সাস ও ওকলাহোমায় গত আগস্টে স্বাভাবিকের তুলনায় ৩০ শতাংশেরও কম বৃষ্টি হয়েছে। তবে সব জায়গায় পরিস্থিতি একই রকমের শুষ্ক ছিল না। ইন্ডিয়ানা ও ওহাইওর মতো কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে গত আগস্টে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে স্বাভাবিকের প্রায় দ্বিগুণ।


যুক্তরাষ্ট্রে তাপপ্রবাহের তীব্রতা এখনই কমছে না। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতি আরও সক্রিয় আর শক্তিশালী হচ্ছে। এটি ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর প্রভাব ২০২৭ সালের শুরুর দিক পর্যন্ত থাকতে পারে।


ডব্লিউএমওর প্রধান সেলেস্তে সাওলো গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখনকার প্রবণতা অব্যাহত থাকলে, এটি আমাদের পর্যবেক্ষণ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনো হতে পারে। অর্থাৎ চার দশক ধরে আমরা যে মাত্রা দিয়ে এটি পরিমাপ করে আসছি, এবার আক্ষরিক অর্থেই সেই মাত্রার বাইরে চলে যেতে পারে।’


এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু পরিস্থিতি। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বেশি বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। এর মধ্যে এল নিনো পরিস্থিতি বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। ডব্লিউএমও সতর্ক করে বলেছে, এখনকার এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা ও বন্যা দেখা দিতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রে চলতি সেপ্টেম্বরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রা থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাস দিয়েছে এনওএএ। সংস্থাটি আরও জানায়, দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে খরা অব্যাহত থাকতে পারে কিংবা আরও তীব্র হতে পারে।


এনওএএ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পশ্চিম, মধ্য-পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের বেশকিছু অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের দাবানলের ঝুঁকি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকবে।