সংগৃহীত ছবি

  • প্রকাশ : সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬, সময় : ৫:২৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সম্ভাব্য শান্তিচুক্তিতে সম্মত হয়েছে। আগামী শুক্রবার দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির বিষয়ে ইরানের কট্টরপন্থীরা জোরালো আপত্তি তুলেছেন। তাঁদের দাবি, এ চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা, ক্ষতিপূরণ কিংবা হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণ থাকার কোনো নিশ্চয়তা নেই।


ইরানের পার্লামেন্ট সদস্য কামরান গাজানফারি বলেন, ‘তারা (ইরানের শাসকগোষ্ঠী) যে বলছে, আমরা জয়ী হয়েছি এবং যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটেছে—এটা স্পষ্টতই মিথ্যা।’


কট্টরপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির ভগ্নিপতি এবং রাজানিউজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেইসাম নিলি সম্ভাব্য চুক্তিটিকে ‘বিপর্যয়কর আত্মসমর্পণ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি ইরানিদের নীরব না থাকার আহ্বান জানান।


সমালোচনার মুখে ইরানি কর্মকর্তারা পাল্টা জবাব দিয়েছেন। আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের উপদেষ্টা মেহদি মোহাম্মাদি এক অডিও বার্তায় বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন।


মেহদি মোহাম্মাদি দাবি করেছেন, এই চুক্তি যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। এর মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান থামানোর বিষয়টিও আছে। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরানকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো নতুন অঙ্গীকার করতে বাধ্য করা হয়নি।


ফলে ইরানের কাছে থাকা উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের ভেতরেই ইউরেনিয়ামকে কম সমৃদ্ধ মাত্রায় রূপান্তর করার মতো বিকল্প উপায়ও আছে। এ বিষয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।


মোহাম্মাদি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র চুক্তির খসড়া থেকে ‘ইরানি ব্যবস্থাপনা’ বাক্যাংশটি বাদ দেওয়ার জন্য জোরালো চেষ্টা চালিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মতো প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে সম্মত হয়েছে।


মোহাম্মাদি বলেন, চুক্তির সমালোচকদের বক্তব্য তথ্য ও ব্যাখ্যা—উভয় ক্ষেত্রেই বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাঁর দাবি, সমালোচকেরা পুরোনো খসড়ার ভিত্তিতে মন্তব্য করছেন বলেই এই বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।


হরমুজ প্রণালিতে নোঙর করে থাকা বিভিন্ন জাহাজ দেখা গেছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ছোট মালবাহী জাহাজ বলে মনে হচ্ছে।


পারমাণবিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে মোহাম্মাদি বলেন, চুক্তির রূপরেখায় এ বিষয়ে মাত্র একটি বক্তব্য আছে। সেটি হলো—ইরান কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং কিনবেও না।


মোহাম্মাদি বলেন, ‘এটাই আমরা বহু বছর ধরে বলে আসছি।’


মোহাম্মাদি দাবি করেছেন, প্রস্তাবিত চুক্তিটি ইরানকে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির চেয়ে বেশি সুবিধা দেবে। ওই চুক্তি তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে হয়েছিল। ওই চুক্তিতে ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা মেনে নেওয়ার বিনিময়ে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা মুক্তি পেয়েছিল।


মোহাম্মাদির মতে, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কারণ, ইরান প্রমাণ করেছে যে তারা হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণ করার সক্ষমতা রাখে।


মোহাম্মাদি বলেন, ‘এবার এমন নয় যে আমরা পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করে দেব এবং তারপর তাদের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের অপেক্ষায় বসে থাকব। এমন কোনো অলীক আশাবাদ আমাদের নেই। হরমুজ প্রণালি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। আমরা চাইলে যেকোনো সময়, মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই এটি বন্ধ করে দিতে পারি।’


তবে চুক্তির রূপরেখায় বিদেশে জব্দ থাকা ইরানের অর্থের অর্ধেক ছাড় দেওয়ার বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেছেন। এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার।


এ প্রসঙ্গে মোহাম্মাদি বলেন, ‘আমরা জানি, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের কোনো অর্থ দেবে না। আরব দেশগুলো এই অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং তারা তা দিতে বাধ্য। কারণ, আমরা তাদের চেয়ে শক্তিশালী। তারা এই অঞ্চলে আমাদের ক্ষমতা দেখেছে এবং আমাদের শক্তির জায়গাটা উপলব্ধি করতে পেয়েছে।’


মোহাম্মাদি আরও দাবি করেন, ‘এই চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ ফল হলো, আরব দেশগুলো ইরানের সার্বভৌমত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে এবং বিভিন্ন ছাড় দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে সম্মত হয়েছে।’


ইরানে যাঁরা এই চুক্তির বিরোধিতা করছেন এবং পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সমালোচনা করছেন, তাঁরা মূলত পার্লামেন্টের একটি কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য। এই গোষ্ঠীটি পেদারি ফ্রন্টকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এর মধ্যে আছেন জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির কট্টরপন্থী সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান, প্রভাবশালী ভাষ্যকার ও কায়হান পত্রিকার প্রধান সম্পাদক হোসেন শরিয়তমাদারি।


চুক্তিবিরোধীরা তেহরানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিক্ষোভও করেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘উই উইল নট অ্যাকসেপ্ট’ (আমরা মেনে নেব না) হ্যাশট্যাগ প্রচার শুরু করেছে।


তবে সরকারের সমর্থকেরা বলছেন, পেদারি ফ্রন্ট মূলত যেকোনো ধরনের সমঝোতারই বিরোধী এবং তারা সাধারণ ইরানি জনগণকে প্রতিনিধিত্ব করে না। তাঁদের মতে, অধিকাংশ ইরানি বোঝেন যেকোনো পরাশক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ সাধারণত সম্পূর্ণ ও নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে শেষ হয় না।


এক খোলাচিঠিতে হোসেন শরিয়তমাদারি লিখেছেন: ‘গালিবাফ ও আরাগচির কাছে আমাদের কাছে জানতে চাইতে হবে যে রমজান যুদ্ধের (১৯৭৩ সালের ইয়ম কিপুর যুদ্ধ) সময় হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়াটা কি আমাদের দেশের অন্যতম প্রধান কৌশলগত হাতিয়ার ছিল না? প্রণালিটি বন্ধ করে দিয়ে কি শত্রুর বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক শ্বাসপ্রশ্বাসের পথ রুদ্ধ করে তাকে প্রায় শ্বাসরোধের অবস্থায় নিয়ে যাওয়া যায়নি? তাহলে কোন যুক্তি এবং কোন গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যার ভিত্তিতে এ ভদ্রলোকেরা এমন একটি ভাগ্যনির্ধারক হাতিয়ার ছেড়ে দিতে যাচ্ছেন?’


কট্টরপন্থী শিয়া ধর্মীয় নেতা ও পার্লামেন্ট সদস্য মাহমুদ নাবাভিয়ান কার্যত পেদারি ফ্রন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেন। তিনিও প্রস্তাবিত চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে সমালোচনা করেছেন।


নাবাভিয়ান প্রশ্ন তোলেন: ‘তাহলে কি ইসরায়েলি বাণিজ্যিক জাহাজও অবাধে চলাচল করতে পারবে? এটি তো ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানেরই প্রস্তাব। এখন থেকে শুধু সামরিক নয়, ইসরায়েলের সব জাহাজ এবং সব শত্রু দেশের জাহাজও হরমুজ প্রণালি দিয়ে অবাধে চলাচল করতে পারবে।’


চুক্তিবিরোধীদের এতটা স্বাধীনতা দেওয়া নিয়ে ইরানের সংবাদপত্র খোরাসানের প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।


এতে বলা হয়েছে—যদি সরকার এই গোষ্ঠীকে মতপ্রকাশ ও সমাবেশের স্বাধীনতা দেয়, তাহলে চুক্তির সমর্থকদেরও একই ধরনের স্বাধীনতা দিতে হবে। তখন পরিষ্কার হয়ে যাবে যে অধিকাংশ ইরানি জনগণ চুক্তি করার ব্যাপারে সরকারের অবস্থানকে সমর্থন করে। আর সংখ্যালঘু একটি গোষ্ঠী চিৎকার-চেঁচামেচি করে, রাষ্ট্রীয় রেডিও-টেলিভিশন ব্যবহার করে কিংবা সমাবেশের অপব্যবহার করে তাদের ইচ্ছা সরকার ও জাতির ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।


কট্টরপন্থীদের এই সমালোচনা পরোক্ষভাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য সহায়ক হতে পারে। কারণ, তিনি এই চুক্তিটিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার করা চুক্তির চেয়ে ভালো বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।


তবে বাস্তবে দুটি চুক্তির সরাসরি তুলনা করা কঠিন। কারণ, ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তি ছিল একটি সুনির্দিষ্ট ও বিস্তারিত আকারের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। সেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর স্পষ্ট সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। আর এ সমঝোতা স্মারকে মূলত যুদ্ধবিরতির পূর্বশর্তকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।


ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে যে তিনি একটি ব্যয়বহুল, অস্থিতিশীল এবং কথিতভাবে অবৈধ যুদ্ধের মাধ্যমে এমন একটি চুক্তিতে পৌঁছেছেন, যা কূটনৈতিক পথেই অর্জন করা যেত।


ট্রাম্পকে এখন প্রমাণ করতে হবে যে এই চুক্তিটি সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামার করা চুক্তির চেয়ে বেশি কার্যকর। ট্রাম্প নিজেই ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।




ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:২১ এএম

মুম্বাইয়ের পুলিশ ভ্যান আটকে প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠা মডেল রিয়া আহির এবার অনলাইনে তীব্র আক্রমণ ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনার পর তিনি সাইবার পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।


গত ২২ জুলাই মুম্বাইয়ের দাদারের শিবাজি পার্কের কাছে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভরত মানুষদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি পুলিশ ভ্যান আটকে দিয়েছিলেন রিয়া আহির। 


ছাই রঙের হুডি পরে ভ্যানের বনেটে হাত রেখে তার সাহসিকতার সেই দৃশ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। পরবর্তীতে এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পুলিশ অন্যায় করছে বুঝতে পেরেই তিনি সহজাত প্রবৃত্তি থেকে ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর জোর দিয়েছিলেন।


তবে এই সাহসী ঘটনার পর থেকেই অনলাইনে তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমআইডিসি পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা অভিযোগে তিনি জানান যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়মিত হত্যার হুমকি এবং তার অনলাইন কন্টেন্টে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। 



রিয়ার দাবি, তার বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত ঘৃণা প্রচার চালানো হচ্ছে, যার মধ্যে মানহানি, ভীতি প্রদর্শন, নারীর প্রতি অবমাননাকর অপব্যবহার, টার্গেটেড হয়রানি এবং ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


এই সাইবার হয়রানির কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি আইনি সহায়তার পথ বেছে নেন এবং মানহানিকর কন্টেন্টের স্ক্রিনশট, বিভিন্ন ইউআরএল ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র পুলিশের কাছে জমা দেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। 


সম্প্রতি এনডিটিভির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রিয়া আহির জানান, ওই মুহূর্তে তার প্রতিক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল এবং বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে এত বড় একটি অসাধারণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে, তা এখনও তিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না।


সূত্র: এনডিটিভি।


মা-বাবার মাঝে অভিজিৎ দিপকে

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ পিএম

ভারতের সাম্প্রতিক যুব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। আন্দোলন থামতেই এই তরুণের জন্য একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব আসছে তার বাবা-মায়ের কাছে। অভিজিতের মা অনিতা দিপকের ইচ্ছা, আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যেই ছেলেকে বিয়ের পিঁড়িতে বসাবেন। তবে বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা মাসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার তিনি ছেড়ে দিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই সমাজকর্মীর ওপরই।


দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনিতা দিপকে জানান, এনইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সিজেপির প্রতিবাদের আগে থেকেই অভিজিতের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছিল। আর সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।


তিনি স্মরণ করেন, বোস্টনে থাকার সময় অভিজিতের সঙ্গে ফোনে এ বিষয়ে তার কথা হয়েছিল। তিনি যোগ করেন, ‘সে এ নিয়ে বেশি কিছু বলেনি; শুধু একটু হেসেছিল। অভিভাবক হিসেবে আমরা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছি। তবে সে আর কয়েকদিনের মধ্যে বাড়ি ফিরলে আমরা বিষয়টি আবার তুলব এবং তাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেব।’


সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন সমাপ্ত হলে অভিজিতের দ্রুত বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি ভ্রমণ পিছিয়ে দেন। তার মা বলেন, ‘আমরা এখন জানতে পেরেছি তার ফিরতে আরও চার থেকে পাঁচদিন লাগবে।’


হুমকির মুখে আত্মগোপনে যায় পরিবার


অভিজিৎ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই চরম হুমকির মুখে পড়ে তার পরিবার। নিরাপত্তার খাতিরে তাদের প্রায় দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।


অনিতা দিপকে বলেন, দল গঠনের পর বোস্টনেই অভিজিৎকে হুমকি দেওয়া শুরু হয়। ফোন করে হুমকিদাতারা বলত, যেহেতু সে বস্টনে রয়েছে, তাই ভারতে তার বাবা-মাকে টার্গেট করা হবে।


এই খবর পেয়েই অভিজিৎ তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার তাগিদ দেন। এরপর তারা কংকনে আত্মীয়দের বাড়িতে চলে যান এবং সেখানে ১৫ দিন কাটিয়ে আসেন। বর্তমানে পরিবারটি ছত্রপতি সম্ভাজি নগরের ওয়লুজ এলাকায় বসবাস করছে।


পরিবারকে না জানিয়েই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ


অভিজিৎ যে এমন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন, সে পরিকল্পনা তিনি পরিবারকে ঘুণাক্ষরেও জানাননি। সংবাদমাধ্যমে তার সাক্ষাৎকার দেখেই তারা বিষয়টি জানতে পারেন।


তার মা বলেন, ছেলে বাড়িতে খুব একটা কথা বলত না। খাবার বা মৌলিক প্রয়োজন ছাড়া সে দীর্ঘ কোনো আলোচনা করত না। স্কুলের বিতর্কে অংশ নেওয়ারও কোনো রেকর্ড ছিল না তার।


ছোটবেলায় বেশ শান্ত প্রকৃতির এই ছেলেটি কীভাবে জাতীয় টিভিতে তিন ভাষায় কথা বলল, তা দেখে আজও অবাক হন তার মা। মহামারির সময়ে অভিজিতের গৃহহীন আদিবাসী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মানবিক রূপও তিনি তুলে ধরেন।


ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যর্থতা ও আক্রমণের ভয়


দশম শ্রেণীতে ৯৬ শতাংশ নম্বর পাওয়া মেধাবী অভিজিৎকে তার বাবা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় এই পেশায় ঠেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বাদশ শ্রেণীতে ৬৫ শতাংশ পাওয়ার পর পুনের সিংহগড় ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি তিনি। মা স্বীকার করেন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জোর করাটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।


সাম্প্রতিক আন্দোলনে ছেলের ওপর হামলা এবং মুখে কালি ছেটানোর ঘটনায় পরিবারটি দারুণ ভীতি ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে গেছে। মা জানান, এসব খবর শুনে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন এবং ছেলের বড় কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না তা নিয়ে ভেবেছিলেন।


তবে অভিজিৎ তাকে ফোন করে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, তিনি এখন আর শুধু পরিবারের নন, দেশের সাধারণ মানুষের সম্পদে পরিণত হয়েছেন।


সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৬:২৭ পিএম

পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভার নির্বাচনের প্রথম ধাপে বড় ব্যবধানে এগিয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (নওয়াজ) বা পিএমএল-এন। 


অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, ১৩টি আসনের মধ্যে দলটি ৯টিতে জয় পেয়েছে। বাকি চারটি আসন জিতেছে পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি)।


গতকাল সোমবার মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বর জেলার ১৩টি আসনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল পাঁচটায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শুরু হয়।


অনানুষ্ঠানিক ও প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, পিএমএল-এন মিরপুরের দুটি, ভিম্বরের তিনটি এবং কোটলির চারটি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে পিপিপি মিরপুরের দুটি ও কোটলির দুটি আসনে বিজয়ী হয়েছে।


পিএমএল-এনের রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে আয়োজন করতে প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিল। তবে নির্বাচন চলাকালে দুটি সহিংস ঘটনার কথা জানান সানাউল্লাহ। তাঁর ভাষ্য, একটি ঘটনায় পারিবারিক বিরোধের জেরে গুলির ঘটনা ঘটে। অন্যটি ঘটে নাকিয়াল এলাকায়, যেখানে একজন নিহত হন। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


রানা সানাউল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, ভিম্বরের এক আসনে এক প্রার্থী নিজেই একটি ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট বাক্স সরিয়ে ফেলেন। এ ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 


তিনি দাবি করেন, বিচ্ছিন্ন এসব ঘটনা ছাড়া নির্বাচন সামগ্রিকভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৫:০৩ পিএম

আরেকটি তাপপ্রবাহের পূর্বাভাসের মধ্যেই মঙ্গলবার ফ্রান্স ও স্পেনের দমকলকর্মীরা দাবানল নিয়ন্ত্রণে জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। বলা হচ্ছে, দেশ দুটিতে এবারের দাবানলটি স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ। এরই মধ্যে বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলের পাশাপাশি পুড়ে গেছে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি। এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন কয়েক লাখ বাসিন্দা।


ফ্রান্সে ওয়াইন উৎপাদনের রাজধানী হিসেবে পরিচিত বোর্দো শহরের কাছে জ্বলতে থাকা বড় দাবানল থেকে পাইরোকিউমুলোনিম্বাস বা অগ্নি মেঘ তৈরি হয়েছে। বিরল এই মেঘের কারণে ঝড়ো বাতাস ও বজ্রপাত হতে পারে।


আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে পশ্চিম ইউরোপে নতুন তাপপ্রবাহ তৈরি হতে পারে। যা মঙ্গলবার থেকে ফ্রান্সে ও বুধবার থেকে স্পেনে অনুভূত হবে। স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা বলেছেন, মাদ্রিদের পশ্চিমে জ্বলতে থাকা দাবানল নিয়ন্ত্রণে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। 


ফ্রান্সের বোর্দোতে কাজ করা দমকলকর্মীরা মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগের রাতে কয়েকটি স্থানে নতুন করে দাবানল তৈরি হয়। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ায় সেটি আশপাশে ছড়াতে পারেনি। সোমবার বোর্দোর একটি এলাকা পরিদর্শন করেন প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। তিনি বলেন, ‘সামনের দিনগুলো বেশ কঠিন হতে যাচ্ছে। আমাদের টিকে থাকার লড়াই করতে হবে।’


গত ছয়দিনে বোর্দোর আশপাশের দাবানলে ৪২ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল পুড়ে গেছে। এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ২ লাখ ২০ হাজার বাসিন্দা। সেখানে অন্তত ২৪০টি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:৩৯ পিএম

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে পুলিশি হয়রানি ও মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হলে আবারও রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মধ্যরাতের বৈঠকের পর আপাতত নতুন কর্মসূচি স্থগিত রেখেছে দলটি।


সোমবার দিবাগত রাত একটার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টার বৈঠকে আন্দোলনকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে সরকার আগের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।


সৌরভ দাসের ভাষ্য, বিহার ও আসাম সরকারের জারি করা নির্দেশনার কপি তাদের দেখানো হয়েছে। সেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর প্রত্যাহার, ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া এবং আটক ব্যক্তিদের মুক্তির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।


তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার এবং অন্য বিজেপি বা এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলো থেকেও একই ধরনের নির্দেশনা দ্রুত জারি করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।


এক ভিডিও বার্তায় সৌরভ দাস জানান, সরকারের আশ্বাস বাস্তবে কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে বৈঠকে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার দাবি, জবাবে সরকারি প্রতিনিধিরা বিহারের স্বরাষ্ট্র বিভাগের একটি বিজ্ঞপ্তি দেখিয়েছেন, যেখানে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া আইনি ব্যবস্থা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়েছে।


সৌরভ দাস বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যাতে কোনো আইনি জটিলতা তৈরি না হয়, সে জন্য সব রাজ্য সরকারের কাছ থেকে একই ধরনের সুরক্ষামূলক নির্দেশনা জারির বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে।


তিনি বলেন, ‘সরকার আশ্বাস দিয়েছে, আমাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো সমাধান করে বিভিন্ন রাজ্যের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে। এতে আন্দোলনকারীরা নিরাপদ থাকবেন এবং ভবিষ্যতে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না।’


সিজেপির দাবি, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আন্দোলনে অংশ নেওয়া প্রত্যেক ব্যক্তির আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। প্রয়োজন হলে আবারও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে দলটি।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১২:০১ পিএম

মানুষের শারীরিক ও আসল বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। একই বছরে জন্ম নিয়েও দুই ব্যক্তির শরীরে বয়সের ছাপ একই গতিতে নাও আসতে পারে। 


কারও কারও ক্ষেত্রে আবার আসল বয়সের চেয়ে শরীর দ্রুত বুড়িয়ে যেতে থাকে, যা ইঙ্গিত দেয় অসুস্থতার ঝুঁকির। এই শারীরিক বয়সের বিষয়টি পরিমাপ করা হয় রক্তচাপ, ফুসফুসের ক্ষমতা ইত্যাদি বিষয়ের ভিত্তিতে।


নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সিনেমা দেখতে যাওয়া বা জাদুঘরে ঘুরতে যাওয়ার মতো বিষয়গুলো শারীরিক বয়স প্রশ্নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে, এটি বয়স্কদের মধ্যে কমিয়ে দিতে পারে বয়সের ছাপ পড়ার গতি। যুক্তরাজ্যে হওয়া এই গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, বৃদ্ধ বয়সেও যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে ও জাদুঘরে ঘুরতে যান, আর যারা যান না– এই দুইয়ের শারীরিক বয়সের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।  


‘মেজারিং কালচারাল হ্যাবিটস এগেইনস্ট বায়োলজিক্যাল এজ’ শীর্ষক গবেষণায় গবেষকরা বলছেন, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা মানুষের শরীরের বয়স কম রাখতে সহায়তা করতে পারে। সব মিলিয়ে গবেষণায় এক হাজার ৮৯৯ জন অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ পুরুষ। এ ছাড়া ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত চার হাজার দুইশ সাতটি জরিপ করা হয় এ গবেষণার স্বার্থে। 


স্টাডি ফাইন্ডসের প্রতিবেদন বলছে, সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়টি পরিমাপ করতে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তারা কত দিন পরপর সিনেমা দেখতে যান, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারিতে যান, অথবা মঞ্চনাটক দেখেন। উত্তরে অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ বলেছেন, ‘কখনও না’, কেউ বলেছেন, ‘মাসে দুইবার’। কেউ আবার জানিয়েছেন, মাসে দুইবারের চেয়েও বেশি। 


সেসব উত্তরের ওপর ভিত্তি করে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের শূন্য থেকে ১৫ পর্যন্ত নম্বর দেন। গড়ে অংশগ্রহণকারীরা ৪ দশমিক ৩ নম্বর করে পান। যারা কয়েক মাসের মধ্যে বেশ কয়েকবার এ ধরনের কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছেন, তাদের নম্বর আসে গড়ে ৭ দশমিক ৩। অন্যদিকে যারা বছরে একবার বা তার চেয়েও কম জাদুঘরে বা সিনেমা দেখতে গেছেন, তারা পান গড়ে ২ দশমিক ৩ নম্বর। সবাইকে শারীরিক বয়সের ভিত্তিতেও বিচার করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের সবার আসল গড় বয়স ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ, শারীরিক বয়সের গড় ছিল ৬৮ দশমিক ৭ শতাংশ। গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত সিনেমা দেখতে বা জাদুঘরে ঘুরতে যান, তাদের গড় শারীরিক বয়স তিন বছর কম এসেছে অন্যদের তুলনায়। 


বিষয়টি কাকতালীয় কিনা, তা নির্ণয় করতে গবেষকরা পৃথক একটি বিশ্লেষণ করেন এক হাজার ৬৫২ জনের তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে। তাদের ঘুরতে যাওয়া ও শারীরিক বয়সের তথ্য চার বছর ধরে সংগ্রহ করা হয়। পরে দেখা যায়, যারা সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ততা রেখেছিলেন, তাদের শারীরিক বয়স অন্যদের তুলনায় ০ দশমিক ০৮৯ বছর কম এসেছে।


তবে এই গবেষণাটি শুধু যুক্তরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। গবেষকরা জানান, ভিন্ন দেশ বা ভিন্ন সাংস্কৃতিক পরিবেশে এর ফলাফলে পার্থক্য দেখা যেতে পারে। এ ছাড়া গবেষণাটির আরেকটি সীমাবদ্ধতা হলো, এতে শুধু সিনেমা, জাদুঘর বা আর্ট গ্যালারির মতো ভেন্যুতে যাওয়ার বিষয়টি রেকর্ড করা হয়েছে, অন্য ধরনগুলোকে আমলে নেওয়া হয়নি। তবে খাওয়া ও ব্যায়ামের পাশপাশি ঘুরতে যাওয়ার বিষয়টিও যে বয়স্কদের ভালো ও সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সেটি তুলে ধরেছে গবেষণাটি।