ছবি : সংগৃহীত
ভেনেজুয়েলায় সম্প্রতি ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। দেশটির ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় ভূমিকম্প হলেও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর তালিকায় এর স্থান নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্তিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ছিল ১৯৬০ সালে চিলিতে। ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৯.৫ এবং এতে অন্তত ১ হাজার ৬৫৫ জন নিহত হন।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১৯৬৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে আঘাত হানা ৯.২ মাত্রার ভূমিকম্প। এতে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়।
২০০৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা উপকূলে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্প এবং পরবর্তী সুনামিতে ২ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এটি আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বিবেচিত।
২০১১ সালে জাপানের তোহোকু অঞ্চলে ৯.১ মাত্রার ভূমিকম্পে ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। এই ভূমিকম্পের পর সৃষ্ট সুনামি ফুকুশিমা পারমাণবিক বিপর্যায়ের কারণও হয়ে ওঠে।
১৯৫২ সালে রাশিয়ার কামচাটকা উপদ্বীপে ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্পে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া ২০২৫ সালে একই অঞ্চলে ৮.৮ মাত্রার আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে উন্নত সতর্কতা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতির কারণে এতে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
তালিকায় আরও রয়েছে ২০১০ সালে চিলির বায়োবিও অঞ্চলের ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, ১৯০৬ সালে ইকুয়েডরের এসমেরালদাস অঞ্চলের ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, ১৯৬৫ সালে আলাস্কার ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্প এবং ১৯৫০ সালে ভারতের অরুনাচল প্রদেশে আঘাত হানা ৮.৬ মাত্রার ভূমিকম্প।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের মাত্রা যত বড়ই হোক, প্রাণহানির পরিমাণ অনেকাংশে নির্ভর করে জনবসতি, অবকাঠামোর মান, সতর্কতা ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতির ওপর।
সূত্র: আল-জাজিরা
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের কাছাকাছি মদিনার মরুভূমি থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে স্যাটেলাইট ছবিতে। (ছবি- এএফপি)
ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তাদের একটি প্রধান তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিস্তারের মধ্যে শুক্রবার সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ পাইপলাইনটি বন্ধের ঘোষণা দেয় রিয়াদ।
ইরাক স্বীকার করেছে, প্রতিবেশী সৌদি আরবের এই পাইপলাইনে চালানো ড্রোন হামলাটি ইরানের সীমান্তবর্তী মায়সান প্রদেশ থেকে শুরু হয়েছিল। এ ঘটনায় ইরাকের একজন সামরিক কমান্ডারকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে।
১ হাজার ২০০ কিলোমিটার (৭৪৫ মাইল) দীর্ঘ এই পাইপলাইনটি বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে তেল পরিবহনের সুযোগ দিয়ে আসছিল। জাহাজ ট্র্যাকিংকারী কোম্পানি ও বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের ৪ থেকে ৫ শতাংশ এই পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিবাহিত হতো।
ঘটনার আগে ওই পাইপলাইনের কাছাকাছি এলাকায় পুড়ে যাওয়া মাটি ও ধোঁয়ার উপগ্রহ চিত্র প্রকাশ পায়। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা হচ্ছে।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে তারা আপাতত কোনো পাল্টা ব্যবস্থা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে চালানো হামলা প্রতিরোধে ইরাকি সরকারের প্রচেষ্টাকেও সৌদি আরব সমর্থন করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষা, স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত এবং নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা বিধানে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার সৌদি আরব সংরক্ষণ করে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পৃথক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরান-সীমান্তবর্তী মায়সান প্রদেশের অপারেশনস কমান্ডারকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই অঞ্চল থেকেই ড্রোন হামলাটি চালানো হয়েছিল—এমনটি নিশ্চিত হওয়ার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, ওমান, কাতার ও কুয়েতের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত ‘গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিল’ (জিসিসি) এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটির মহাসচিব জাসেম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই বলেছেন, ‘এই হামলা পরিস্থিতিকে বিপজ্জনকভাবে উত্তপ্ত করে তুলেছে এবং সৌদি আরবের নিরাপত্তা, ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর জন্য একটি অগ্রহণযোগ্য হুমকি সৃষ্টি করেছে; পাশাপাশি এটি আন্তর্জাতিক আইনের নীতিমালারও চরম লঙ্ঘন।’
এদিকে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বড় ধরনের অগ্রগতির মধ্যেই এ ঘটনা ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সপ্তম মাসে গড়ানোর সময় এ হামলা বিশ্বজুড়ে তেল পরিবহনের রুটগুলোর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, এই সপ্তাহে ইয়েমেনে দ্রুত অভিযানের মাধ্যমে হুথি বিদ্রোহীরা দেশটির উপকূলরেখার বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিয়েছে। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, লোহিত সাগর ও সুয়েজ খালের প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত ‘বাব আল-মানদাব প্রণালী’ এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে তারা জানিয়েছে, ‘সৌদি জাহাজ ছাড়া অন্য সব কোম্পানির জন্য’ সমুদ্রপথে চলাচল নিরাপদ।
আরব উপদ্বীপের উভয় প্রান্তে উদ্ভূত এই পরিস্থিতির চাপে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে গেছে। জুলাই মাসের পর প্রথমবারের মতো তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। খবর-বিবিসি
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সাগরের পানিতে তেলের ছড়িয়ে পড়ার চিহ্ন দেখা গেছে। ইউরোপীয় কপারনিকাস প্রোগ্রামের স্যাটেলাইটে ধারণ করা ছবিতে এ দৃশ্য ধরা পড়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।
বুধবার ধারণ করা একটি ছবিতে পানির উপরিভাগে বাদামি রঙের লম্বা রেখা দেখা যায়। একই স্থানের বৃহস্পতিবারের আরেকটি কপারনিকাস ছবিতেও একই ধরনের দৈর্ঘ্যের আঁকাবাঁকা রেখা দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় স্যাটেলাইটের ছবিগুলো বিশ্লেষণ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি। তাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এগুলো হরমুজ প্রণালির কাছে পানিতে ছড়িয়ে পড়া তেলের স্তর বা ‘অয়েল স্লিক’।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার সন্দেহে কয়েকটি তেলবাহী ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এসব তেলের স্তর দেখা গেছে।
ভূমিকম্প
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর-পূর্ব জাভা প্রদেশের তেলুকনাগা এলাকার কাছে ৬.৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২৩ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৩৫৮ দশমিক ৬ কিলোমিটার (২২২ দশমিক ৮ মাইল) গভীরে। ভূমিকম্পের পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে জটিল হয়ে উঠছে ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের দ্রুত অগ্রগতিতে। ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর কৌশলগত কয়েকটি দ্বীপের দিকে এগিয়ে গেছে হুথিরা। এতে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে তাদের প্রভাব আরও বেড়েছে।
হুথিদের এই অগ্রগতি শুধু ইয়েমেনের যুদ্ধকেই নতুন মাত্রা দেয়নি, বরং সৌদি আরবের নিরাপত্তা, তেল রপ্তানি এবং আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য নিয়েও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় সৌদি আরব এখন লোহিত সাগরের নৌপথের ওপর বেশি নির্ভরশীল।
মোখা দখল, কৌশলগত দ্বীপের দিকে অগ্রসর
১০ সেপ্টেম্বর ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর লোহিত সাগরের উপকূল ধরে আরও দক্ষিণে অগ্রসর হয়েছে হুথি বাহিনী। তারা কৌশলগত হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও পৌঁছেছে বলে ইয়েমেন সরকারের সামরিক সূত্র দাবি করেছে।
এই অগ্রগতির ফলে বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর হুথিদের প্রভাব আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। লোহিত সাগরের সঙ্গে এডেন উপসাগর এবং পরবর্তী সময়ে ভারত মহাসাগরের যোগাযোগ তৈরি করে এই প্রণালি। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের জন্য এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি।
হুথিদের এই অগ্রগতি এমন সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ নভেম্বরের মধ্যবর্তী মার্কিন নির্বাচনের পর শেষ হতে পারে।
বাব আল-মান্দেব কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
হুথিরা যদি বাব আল-মান্দেবের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে ইরানের জন্য এটি বড় কৌশলগত সুবিধা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালির মতো বাব আল-মান্দেবও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ। হরমুজ দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। যুদ্ধের কারণে সেই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরের রুট আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে বাব আল-মান্দাব দিয়ে সৌদি আরবের সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় আট গুণ বেড়েছে। ২০২৪ সালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪১ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী এমন পণ্যের মোট পরিবহনের প্রায় ৫ শতাংশ।
ফলে বাব আল-মান্দেবে বড় ধরনের বাধা তৈরি হলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা আসতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক বাজারেও।
সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করার হুমকি
হুথি নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেনের মানবিক কার্যক্রম সমন্বয় কেন্দ্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরে অন্যান্য নৌযানের চলাচল নিরাপদ থাকবে। তবে সৌদি আরবের জাহাজগুলো এই নিরাপত্তার আওতায় থাকবে না বলে জানানো হয়েছে।
অর্থাৎ সৌদি জাহাজকে লক্ষ্য করে হুথিদের অবরোধ ও হামলার হুমকি অব্যাহত রয়েছে। এরই মধ্যে জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করেছিল হুথিরা। চলতি মাসে তারা হামলা আরও জোরদার করেছে।
হুথিদের হামলার মধ্যে সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টায় চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
ইয়েমেন পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বিশেষ দূত হ্যান্স গ্রুন্ডবার্গ সতর্ক করে বলেছেন, ইয়েমেনের যুদ্ধ এখন আরও নতুন ও বিপজ্জনক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
মোখার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের হাতে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথের প্রবেশপথে তাদের সরাসরি উপস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জেনিফার নাইডহার্ট ডি অর্টিজ হুতিদের ইরানের ‘এজেন্ট ও হাতিয়ার’ হিসেবে অভিযুক্ত করেছেন। তার দাবি, হুথিদের উত্তেজনা বৃদ্ধি গ্রহণযোগ্য নয় এবং যারা তাদের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করছে, তাদের পরিণতির দায় নিতে হবে।
ইরান-সৌদি সংঘাতের নতুন মাত্রা
ইরান ও সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব বিস্তার নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছে। ইরান সরাসরি সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে ইয়েমেন, লেবানন ও ইরাকের মতো দেশে মিত্র ও সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে প্রভাব ধরে রেখেছে বলে মনে করা হয়।
হুথিদের সাধারণত ইরান-সমর্থিত ‘প্রতিরোধ অক্ষের’ অংশ হিসেবে দেখা হলেও তাদের নিজস্ব সংগঠন, স্বার্থ ও রাজনৈতিক লক্ষ্যও রয়েছে। ইয়েমেনের দীর্ঘ যুদ্ধে তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা তৈরি করেছে।
২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর সংঘাত বড় আকার নেয়। ২০১৫ সালে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি সামরিক জোট হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। লক্ষ্য ছিল তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আবদ-রাব্বু মনসুর হাদির সরকারকে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় বড় ধরনের লড়াই বন্ধ হলেও এবার নতুন করে সংঘাত তীব্র হয়েছে। চলতি সপ্তাহে হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের তেল স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তু হয়েছে এবং কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
তেলের বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব
হুথিদের অগ্রগতির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দামও প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গ্যাসবাডি।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুই নৌপথ—হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব—একই সময়ে সংঘাতের ঝুঁকিতে পড়ায় জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
পাকিস্তানের সতর্কবার্তা, ইরানের অস্বীকার
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাকিস্তান ইরানকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছে বলে সৌদি, পাকিস্তানি ও ইরানি সূত্র জানিয়েছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে পাকিস্তান এই সতর্কবার্তা তেহরানের কাছে পৌঁছে দেয়।
তবে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান হুথিদের নিয়ন্ত্রণ করে না।
এদিকে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সাম্প্রতিক মক্কা চুক্তিও পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। চুক্তি অনুযায়ী, কোনো একটি সদস্য দেশ হামলার শিকার হলে সেটিকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে। এরই মধ্যে সৌদি আরবে পাকিস্তানের সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের খবরও এসেছে।
সামনে আরও বড় সংকটের আশঙ্কা
ইয়েমেন উপকূলে হুথিদের অগ্রগতি এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের কারণে উপসাগরীয় নৌপথে বড় ধরনের উত্তেজনা চলছে। হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি এখন বাব আল-মান্দাব ও লোহিত সাগরও সংঘাতের ঝুঁকিতে।
হুথিরা বাব আল-মান্দাবের ওপর প্রভাব বাড়াতে পারলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি, আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে তেলের দাম বাড়লে ইরান যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টাও আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের অগ্রগতি এখন আর শুধু একটি দেশের গৃহযুদ্ধের বিষয় নয়। এটি সৌদি আরবের নিরাপত্তা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজার সবকিছুর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, আল-জাজিরা, বিবিসি
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী
ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা শুক্রবার লোহিত সাগরের একটি দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এই দ্বীপটি জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত। এটি দখলের মধ্য দিয়ে তারা প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রচেষ্টা সম্পন্ন করেছে। ইয়েমেনের এক সরকারি কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দ্বীপটি মায়ুন ও পারিম নামে পরিচিত। এটি প্রণালিকে দুটি ভাগে ভাগ করেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী দ্বীপটি থেকে সরে যায়। এরপর হুতি যোদ্ধেদের বহনকারী নৌকা মায়ুনে পৌঁছায়।
এএফপিকে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘হুথিরা বাব এল-মান্দেব এলাকা ও প্রণালির মাঝখানে অবস্থিত মায়ুন দ্বীপের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।’ ধারণা করা হচ্ছে এই দ্বীপের পাহাড় থেকে হুতিরা প্রণালির ওপর নজর রাখবে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বন্দুকধারীরা বাব এল-মান্দেবের উপকূলজুড়েও অবস্থান নিয়েছে। সামরিক যানবাহনে করে ঘোরাফেরা করছে।
তেল রপ্তানির জন্য সৌদি আরবের কাছে এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রণালির আশপাশে থাকা রিয়াদ সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে গত সপ্তাহে অভিযান শুরু করে হুতিরা। এ সময়ে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।
জলপথটিতে চারটি কৌশলগত দ্বীপ আছে। এগুলো হলো জুকার, মায়ুন, গ্রেট হানিশ ও লিটল হানিশ। মায়ুনের আগে হুতিরা বৃহস্পতিবার জুকারের দখল নেয়। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, হুথিরা হানিশ দ্বীপপুঞ্জে সরকারি বাহিনীর সেনাদের অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
সূত্র আরও জানায়, হানিশে থাকা ২ হাজারের বেশি সেনার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন। সম্ভবত তাদেরকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে হুতিরা। একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা বলেন, অবরুদ্ধ সেনারা কর্তৃপক্ষের কাছে খাবার, পানি ও উদ্ধার সহায়তা চেয়েছে। কিন্তু অবরোধ দশা থেকে মুক্তির জন্য সেখানে বিমান পাঠানো প্রয়োজন।
বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজ লোহিত সাগরে প্রবেশের পর সুয়েজ খালের দিকে যায়। সরু জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হুতিদের পলিটব্যুরোর সদস্য হাজেম এল-আসাদ বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়ে যে বৈশ্বিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটি কমানোর চেষ্টা চলছে।
আল-আরাবি আল-জাদিদ নামের একটি গণমাধ্যমে হাজেম বলেন, ‘লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে নৌ চলাচল নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অবস্থায় আছে। আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
সৌদির অনুরোধে ট্রাম্পের ‘না’
দুজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইয়েমেনের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে বৃহস্পতিবার ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ফোন করেছিলেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। তখন তিনি পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার কথা জানান। কয়েক ঘণ্টা পর আবার কল করে হুতিদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অনুরোধ করেন। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে রাজি হননি।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়াশিংটন সৌদি আরবকে হুতিদের বিষয়ে গোয়েন্দা ও লক্ষ্যবস্তু সংক্রান্ত তথ্য দেবে। ইতোমধ্যে সৌদিতে অবস্থান করা ২০০ জনের বেশি মার্কিন সেনা সদস্য রিয়াদকে ‘নন-কাইনেটিক সহায়তা’ দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের প্রথম দফার ফোনালাপের সময় হুতিরা বাব এল-মান্দেবের কাছের উপকূলীয় শহর মোচার দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। পরে তারা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। শুক্রবার প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খবর জানা গেল।
ছবি : সংগৃহীত
সম্পর্ক থাকাকালে প্রেমিকার পেছনে বিপুল অর্থ খরচ করেছিলেন সিঙ্গাপুরের এক ব্যবসায়ী। দামি উপহার, বিদেশ ভ্রমণ, ফেংশুই বিশেষজ্ঞের পারিশ্রমিক ও জীবনবিমার প্রিমিয়াম- সব মিলিয়ে খরচ করেছিলেন ৪ লাখ ৬৮ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ কোটি ৫৫ লাখ ৯৯ হাজার ৫৯৭ টাকা (১ সিঙ্গাপুর ডলার ৯৭.৪৪ টাকা)। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর সেই অর্থ ফেরত চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। তবে তার সেই চেষ্টা সফল হয়নি।
সিঙ্গাপুরের হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, তিনি স্বেচ্ছায় ওই অর্থ খরচ করেছিলেন এবং এগুলোকে ঋণ হিসেবে দেখানোর মতো যথেষ্ট প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার বাদী চন্দর আগরওয়াল একটি লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। ২০১৯ সালে একটি ফ্লাইটে সাবেক ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ফেলিসিয়া লির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল।
সম্পর্কের সময় আগরওয়াল লিকে নিয়মিত দামি উপহার দিতেন। আদালতে তিনি দাবি করেন, লি তার কাছে বিভিন্ন সময় সুদমুক্ত ঋণ চেয়েছিলেন। এসব অর্থের মধ্যে ছিল ক্রেডিট কার্ডের খরচ বাবদ ২ লাখ ৬ হাজার সিঙ্গাপুর ডলার, বিদেশ ভ্রমণে ১ লাখ ২৯ হাজার ডলার, তার অ্যাপার্টমেন্টের জন্য ফেংশুই বিশেষজ্ঞ নিয়োগে ১৭ হাজার ডলার এবং জীবনবিমার প্রিমিয়াম বাবদ ২০ হাজার ডলার।
তবে লি আদালতে বলেন, এসব অর্থ তিনি ঋণ হিসেবে নেননি। এগুলো ছিল ভালোবাসা ও সম্পর্কের কারণে দেওয়া উপহার।
২০২৪ সালের মার্চে আগরওয়াল মামলাটি করেন। তার দাবি ছিল, সম্পর্ক চলাকালে দেওয়া অর্থ তাকে ফেরত দিতে হবে।
সিঙ্গাপুরের হাইকোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারক লি সিউ কিন আগরওয়ালের দাবি নাকচ করে দেন। বিচারক বলেন, কথিত ঋণের পক্ষে প্রয়োজনীয় নথিপত্র বা প্রমাণ আগরওয়াল উপস্থাপন করতে পারেননি। এমনকি লি যে তার কাছ থেকে ঋণ নিয়েছেন, তার স্বীকৃতিও তিনি দেখাতে পারেননি।
বিচারকের পর্যবেক্ষণ, সম্পর্কের সময় আগরওয়াল লিকে দামি উপহার দেওয়ার একটি ধারাবাহিক প্রবণতা দেখিয়েছেন। এমনকি তাদের প্রেমের সম্পর্ক শুরুর আগেও তিনি তাকে উপহার দিতেন এবং এসব অর্থ ফেরত চান না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন।
বিচারক বলেন, প্রমাণে স্পষ্ট যে- আগরওয়াল লির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে সম্পর্কের সময় তাকে দামি উপহার দিয়েছেন। কিন্তু সম্পর্কটি তিক্তভাবে শেষ হওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং তার কাছ থেকে এর মূল্য আদায় করতে চেয়েছিলেন।
রায়ে আরও বলা হয়, আগরওয়াল আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং তার জীবনযাপনে ব্যয়ের প্রবণতা ছিল। অন্যদিকে লি তার মতো আর্থিক সামর্থ্যের অবস্থানে ছিলেন না।
আদালত আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন খুদে বার্তায় লি আগরওয়ালের দামি উপহারের প্রস্তাবে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। কখনো কখনো তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে এসব উপহার নিতে অনীহাও দেখিয়েছিলেন।
রায়ের শেষাংশে বিচারক ইংরেজ নাট্যকার উইলিয়াম কংগ্রিভের একটি বিখ্যাত পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করেন। ‘প্রেম ঘৃণায় পরিণত হলে স্বর্গেও তার মতো তীব্র কোনো রোষ নেই; আর অবহেলিত নারীর ক্ষোভের মতো ভয়ংকর কোনো ক্রোধ নরকেও নেই।’-ওই পঙ্ক্তির পর বিচারক মন্তব্য করেন, এমন আবেগ শুধু কোনো একটি লিঙ্গের মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
সিঙ্গাপুরে প্রেম ও প্রত্যাখ্যানকে কেন্দ্র করে আদালতে এমন মামলা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের শুরুর দিকে আরেক সিঙ্গাপুরের নাগরিক এক নারীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছিলেন। তার দাবির পরিমাণ ছিল ৩০ লাখ সিঙ্গাপুর ডলারের বেশি। ওই নারী তার প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
কে কাওশিগান নামের ওই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন, ওই নারীর প্রত্যাখ্যানের কারণে তিনি মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তার সুনামও ক্ষুণ্ন হয়েছে। তবে সিঙ্গাপুরের আদালত তার মামলা খারিজ করে দেন। পরে ওই নারীও কাওশিগানের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। নিজেকে কথিত হয়রানি থেকে রক্ষায় আইনি লড়াই চালাতে যে অর্থ খরচ হয়েছে, তা ফেরত চেয়েছিলেন তিনি।
সূত্র: বিবিসি