ছবি : সংগৃহীত
চীনের সাথে বাণিজ্য চুক্তি করলে কানাডার সকল পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আজ শনিবার তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে তিনি এ হুমকি দিয়েছেন।
ট্রাম্প লিখেছেন, “কানাডা যদি চীনের সাথে চুক্তি করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আসা সকল কানাডিয়ান পণ্যের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।”
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। কার্নি সম্প্রতি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে দেখা করেছেন। তিনি ঘোষণা করেছেন, কানাডা ও চীন বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ বেশ কয়েকটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে।
আজ শনিবারের পোস্টে, ট্রাম্প কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে ‘গভর্নর কার্নি’ উল্লেখ করে লিখেছেন, “যদি তিনি মনে করেন যে তিনি কানাডাকে চীনের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠানোর জন্য ‘ড্রপ অফ পোর্ট’ বানাবেন, তাহলে তিনি সম্পূর্ণ ভুল করছেন।”
এর আগে গত বছর ট্রাম্প কানাডাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘৫১তম রাজ্য’ হিসেবে এবং কার্নিকে ‘গভর্নর’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। ওই সময় ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, তিনি কানাডাকে দখল করতে পারেন।
বেতন বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভে ৪৪৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। বৃহস্পতিবারের (৫ নভেম্বর) এসব বিক্ষোভে অন্তত ৫৩ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ৮৬টি ঘটনা ঘটেছে।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দেশজুড়ে গ্রেপ্তার, আহত ও অগ্নিকাণ্ডের এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্যারিস, লিওঁ, রেন ও তুলুজে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলেও অধিকাংশ মিছিল শান্তিপূর্ণ ছিল বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, দেশজুড়ে প্রায় ৫ লাখ ৭৫ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। এর মধ্যে রাজধানী প্যারিসে ছিলেন প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ। এর আগে প্রাথমিক হিসাবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ বলে জানানো হয়েছিল।তবে শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, দেশজুড়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন প্রায় ১৬ লাখ মানুষ। শুধু প্যারিসেই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৫০ হাজার।
সিজিটি ইউনিয়নের মহাসচিব সোফি ধর্মঘটকে ‘অত্যন্ত কার্যকর’ বলে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে একই সঙ্গে তিনি দেশটিতে আর কোনো ধ্বংসযজ্ঞ না চালানোর পক্ষপাতী বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট সম্মতি ছাড়া তেহরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি এগিয়ে নিতে পারবে না বলেও দৃঢ় অবস্থানের কথা জানিয়েছেন তিনি।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘সম্ভব হলে বাকি দেশটিকে আমি ধ্বংস করতে চাই না, তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে। আপনারা বিষয়টি খুব দ্রুতই জানতে পারবেন।’ ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের ওপর কড়া নজরদারির কথা উল্লেখ করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ‘আমাদের অনুমোদন ছাড়া তারা কিছুই করতে পারছে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের পরাজয়ের পর দীর্ঘ আট মাস ধরে চলমান ইরান যুদ্ধ ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাপের মধ্যে পড়েছেন ট্রাম্প। সংঘাতের কারণে সৃষ্ট জনঅসন্তোষ এবং জ্বালানি তেলের লাগাতার মূল্যবৃদ্ধি এই নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের আসন লাভের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগেও ট্রাম্প বারবার হুমকি দিয়ে আসছিলেন যে, ওয়াশিংটনের গ্রহণযোগ্য শর্তে তেহরান চুক্তিতে না এলে দেশটিতে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক হামলা চালানো হবে। এরই মধ্যে সংঘাতের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে লোহিত সাগরেও, যেখানে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের অব্যাহত হামলা ও আঞ্চলিক বাহিনীর পাল্টা পদক্ষেপে সামগ্রিক পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিয়েছে।
উভয় দেশের মধ্যকার সাম্প্রতিক ঘটনাবলিতে দেখা যাচ্ছে কূটনৈতিক ব্যবধান ক্রমেই বাড়ছে। কাতারকে মধ্যস্থতাকারী করে ইরান নিজেদের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তেহরানের স্পষ্ট শর্ত—নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ তাদের দাবিগুলো ওয়াশিংটন মেনে নিলেই কেবল আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ইরানের পাঠানো প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে দেখছে, যদিও একই সময়ে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্পও উন্মুক্ত রেখেছেন ট্রাম্প। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিসংলগ্ন জলসীমায় সামরিক উত্তেজনা এখনো চরম আকার ধারণ করে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে এবং পারমাণবিক আলোচনা শুরুর আগে সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে নতুন একটি পারমাণবিক প্রস্তাবও পাঠিয়েছে তেহরান। তবে ইরানের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনাও শুরু হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দেশটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রস্তাবটি পাঠায় ইরান।
দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে। তবে প্রস্তাবের বিস্তারিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করেননি তিনি।
ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা মোহসেন রেজায়ী এর আগে জানিয়েছিলেন, কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাতটি শর্ত তুলে ধরেছে তেহরান। এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হবে না এবং কোনো আলোচনাও হবে না।
ইরানের সাত শর্তের মধ্যে যা রয়েছে
ইরানের পক্ষ থেকে সাতটি শর্তের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে দেশটির কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১. মধ্যপ্রাচ্যের সব রণাঙ্গনে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
২. ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে।
৩. ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে।
৪. বিদেশে জব্দ করে রাখা ইরানের সম্পদ ও অর্থ ফেরত দিতে হবে।
৫. মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি কমাতে হবে।
৬. যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
৭. ভবিষ্যতে ইরানের ভূখণ্ডে সামরিক হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা দিতে হবে।
ইরানের এসব দাবির মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ ফেরত এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রয়টার্স। তবে বাকি শর্তগুলোর বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই করা যায়নি।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নাকচ করেননি। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যেকোনো প্রাথমিক আলোচনায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
ফলে যুদ্ধ বন্ধ, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। কাতারের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও সমঝোতা কতটা সম্ভব, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি ও রয়টার্স।
ছবি : সংগৃহীত
কনটেইনার থেকে কাচের প্যানেলভর্তি ভারী বাক্স নামানোর সময় দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিন বাংলাদেশি। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র মরিশাসে কর্মস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন (৩৬), হোসেন মো. বেলাল (৩৭) ও সিকদার জুবায়েদ ইসলাম (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেশটির উত্তরাঞ্চলের প্লেইন-দে-পাপাইয়েস এলাকার মসজিদ রোডে একটি প্রতিষ্ঠানের চত্বরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিকরা কনটেইনার থেকে ৪১টি কাচের প্যানেলযুক্ত একটি বাক্স নামাচ্ছিলেন। প্রতিটি কাচের প্যানেলের আকার ছিল ছয় ফুট বাই আট ফুট।
এ সময় ভারী বাক্সটি হঠাৎ উল্টে তাদের ওপর পড়ে। এতে বাক্স ও কাচের প্যানেলের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে প্লেইন-দে-পাপাইয়েস পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে মরিশাস ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তারা তিন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে পাঠান।
সূত্র: ল্য ডেফি মিডিয়া
তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় আফিয়নকারাহিসার প্রদেশের তিনটি গ্রামে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। হামলাকারীকে ধরতে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে দেশটির পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যার দিকে প্রদেশটির গ্রামীণ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এলাকাটি রাজধানী আঙ্কারা ও উপকূলীয় শহর ইজমিরের মাঝামাঝি অবস্থিত।
প্রাদেশিক গভর্নরের কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, সশস্ত্র হামলায় আটজন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা যায়, ইউকারিতানদির গ্রামে সড়কের ওপর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই নারীকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
এ ছাড়া ওই গ্রামের প্রায় আধা ঘণ্টার পথ দূরে কিয়ির গ্রামে আরও তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়। একইভাবে আরও আধা ঘণ্টা দূরের আয়াজিনি গ্রামে উদ্ধার করা হয় আরও তিনজনের মরদেহ।
হামলায় আহত গুরুতর অবস্থায় থাকা ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তিনি কোন গ্রামে হামলার শিকার হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভি জানিয়েছে, হামলার পর লাল রঙের একটি গাড়িতে করে এক সন্দেহভাজনকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। পুলিশ ওই গাড়ি ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছে।
তবে হামলার কারণ, নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা সন্দেহভাজন হামলাকারীর পরিচয় সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত