• প্রকাশ : মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৮:১৮ এএম

জন্মহার বাড়াতে ভিয়েতনাম বা শ্রীলঙ্কা থেকে তরুণী ‘আমদানি’র প্রস্তাব দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জিন্ডো কাউন্টির প্রধান কিম হি-সু। তার এই মন্তব্যকে নারীদের মর্যাদাহানিকর ও মানবিক মূল্যবোধবিরোধী বলে আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকেরা।


বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত সপ্তাহে এক বৈঠকে কিম হি-সু প্রস্তাব দেন দেশটির গ্রামীণ অঞ্চলের অবিবাহিত যুবকদের জন্য জন্মহার বাড়ানোর লক্ষ্যে ভিয়েতনাম বা শ্রীলঙ্কা থেকে তরুণী আনা যেতে পারে। মন্তব্যটি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত হওয়ার পরপরই দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।


সমালোচকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য নারীদের পণ্য হিসেবে উপস্থাপন করে এবং এটি লিঙ্গসমতা ও মানবাধিকারের পরিপন্থী। ব্যাপক বিতর্কের জেরে ক্ষমতাসীন ডেমোক্রেটিক পার্টি কিম হি-সুকে দল থেকে বহিষ্কার করে।


উল্লেখ্য, দক্ষিণ কোরিয়ায় বর্তমানে বিশ্বের সর্বনিম্ন জন্মহার বিদ্যমান। এই ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ৬০ বছরে দেশটির প্রায় ৫ কোটি জনসংখ্যার অর্ধেক কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।


কিম হি-সুর মন্তব্যের কড়া নিন্দা জানিয়েছে ভিয়েতনাম। সিউলে অবস্থিত ভিয়েতনাম দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি শ্রীলঙ্কা।


সমালোচনার মুখে পড়ে পরে ক্ষমা চান কিম হি-সু। তিনি স্বীকার করেন, তার ভাষা ছিল ‘অনুপযুক্ত’।



সর্বশেষ সব খবর

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:৩২ এএম

কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১১১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। ভূমিকম্পে বহু ভবন ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন অনেকে। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং আতঙ্কে বাসিন্দাদের অনেকেই নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।


এদিকে ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে সতর্ক করেছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। সংস্থ্যাটি জানিয়েছে, সোমবার (১০ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল কলম্বিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমারের কাছে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০৭ কিলোমিটার। এর ফলে দেশটির বিভিন্ন বড় শহরেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।




সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে পশ্চিমাঞ্চলীয় রিসারালদা প্রদেশে। কফি উৎপাদনের জন্য পরিচিত এ অঞ্চলের গভর্নর হুয়ান দিয়েগো পাতিনো টেলিভিশন চ্যানেল কারাকোলকে জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ৪২ জন নিহত হয়েছেন।


কলম্বিয়ার অন্যতম বড় শহর ক্যালিও ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের জানিয়েছেন, অন্তত ৩০টি ভবন ধসে পড়েছে। এসব ভবনের মধ্যে ১০টিতে উদ্ধারকাজ চলছে। তবে ক্যালিতে এখনো প্রাণহানির সংখ্যা নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।




ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে অংশ নেওয়া ক্যালির স্থানীয় বাসিন্দা হুয়ান কার্লোস অসোরিও বলেন, ‘ভবনটি পুরোপুরি ধসে পড়েছে। শব্দটি বোমা বিস্ফোরণের মতো মনে হয়েছিল। পরিস্থিতি ভয়াবহ। আমরা প্রতিবেশীরা সবাই মিলে কাজ করছি। মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ধ্বংসস্তূপ সরাচ্ছি। আমাদের ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। অনেক মানুষ আটকা পড়ে আছেন।’


এদিকে রিসারালদা প্রদেশের রাজধানী পেরেইরায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে একটি ভবনের ফাটল ধরা সম্মুখভাগ ধসে পড়তে দেখা গেছে। এতে চারপাশে ধুলা ও ধ্বংসাবশেষের মেঘ তৈরি হয়। রাস্তায় থাকা মানুষ আতঙ্কে ছুটে পালান।


ম্যানিজালেস শহরের একটি নব্য-গথিক ক্যাথেড্রালের ওপরের টাওয়ারগুলোর একটিও ভূমিকম্পের আঘাতে ধসে পড়েছে।


ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের সবচেয়ে কাছের প্রদেশ চোকোতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। প্রদেশটির গভর্নর নুবিয়া ক্যারোলিনা কর্দোবা-কুরি জানিয়েছেন, রাজধানী কুইবদোতে প্রাণহানি, বহু মানুষ আহত এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের পরাঘাত বা আফটারশকের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েল্লা দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক দিন পরই এ শক্তিশালী ভূমিকম্পে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে তার প্রশাসন। এর আগে গত জুনে প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলায় দুটি ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছিল।


সূত্র: এপি, রয়টার্স

সর্বশেষ সব খবর

ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:২৪ এএম

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়াকে আরও ৫০ হাজার সেনা দিতে যাচ্ছে উত্তর কোরিয়া। এরই মধ্যে দেশটি রাশিয়াকে হাজার হাজার সেনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। এদিকে ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি।


জেলেনস্কি বলেন, উত্তর কোরিয়ার সেনারা রাশিয়ার সঙ্গে থেকে আধুনিক যুদ্ধে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। ইউক্রেনের ভূখণ্ডে উত্তর কোরিয়ার তৈরি কিছু ক্ষেপণাস্ত্রও পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি। গত জুলাইয়ে জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, রাশিয়ায় প্রায় ৩০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। এবার সেই সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ হাজার করা হয়েছে।


ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার একটি ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিট ইতোমধ্যে পশ্চিম রাশিয়ায় সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম পাঠানো শুরু করেছে। ইউনিটটিতে ১২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ছয়টি লঞ্চার থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


এর আগে ২০২৪ সালে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রায় ১৪ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানো হয়েছিল। উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ কামানের গোলা, মর্টারের গোলা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ব্যবস্থাও দিয়েছে বলে ইউক্রেন ও বিভিন্ন স্বাধীন সূত্রের দাবি।


এদিকে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে এ ক্ষেত্রে সহায়তা চেয়েছেন। বিশেষ করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন বলে জানান তিনি।


 ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ‘হেরে গেছে’ যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন সিনেটর



অন্যদিকে তুরস্কের কাছ থেকে ইউক্রেন ৭০টি মার্কিন তৈরি এটিএসিএমএস স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে যাচ্ছে বলে মার্কিন কংগ্রেসের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া তুরস্ক ইউক্রেনকে ৪৭ হাজার কামানের গোলা, ১২টি এম২৭০ রকেট লঞ্চার এবং ২ হাজারের বেশি ক্লাস্টার বোমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নথিতে জানানো হয়েছে।


এদিকে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনের খারকিভে একটি বহুতল আবাসিক ভবনে দুইজন নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ওদেসায় রুশ হামলায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বন্দর ও আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের পাভলোহরাদেও হামলায় চার শিশুসহ নয়জন আহত হয়েছেন।


অন্যদিকে রাশিয়া জানিয়েছে, ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় বেলগোরোদ অঞ্চলে পাঁচজন নিহত এবং প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন। জেলেনস্কি রাশিয়ার তেল শোধনাগার, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্টেশনে ইউক্রেনের হামলাকে রুশ হামলার জবাব হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস জানিয়েছেন, ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে ডব্লিউএইচওর চিকিৎসা সরঞ্জামের একটি গুদাম রুশ হামলায় ধ্বংস হয়েছে। তিনি স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।


এদিকে রাশিয়ার নোভোরোসিস্ক শহরে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় কয়েকটি বাণিজ্যিক স্থাপনা ও একটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরটিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি টার্মিনাল রয়েছে, যেখান থেকে কাজাখস্তানের তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।


আরেক ঘটনায় ইউক্রেনের একটি ড্রোন ভুল করে বুলগেরিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। সীমান্ত পার হওয়ার পর ড্রোনটি একটি আন্তর্জাতিক গ্যাস পাইপলাইনের কাছে বিস্ফোরিত হয়। এতে কেউ হতাহত হয়নি। বুলগেরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘটনাটিকে সম্ভবত দুর্ঘটনা বলে জানিয়েছে। ইউক্রেনও বলেছে, বুলগেরিয়াকে লক্ষ্য করে কোনো হামলা চালানো হয়নি।


এদিকে ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে মলদোভাতেও পৌঁছেছে। দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে একটি যুদ্ধ ড্রোনের অংশ পাওয়া গেছে এবং বিস্ফোরণে আগুন লাগলেও কেউ আহত হয়নি।


শীত মৌসুম সামনে রেখে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং। তার মতে, রাশিয়া শীতকে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। তাই মিত্র দেশগুলোকে ইউক্রেনকে আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


অন্যদিকে পোপ লিও ইউক্রেন ও রাশিয়ার সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে নিরপরাধ মানুষ, এমনকি শিশুরাও নিহত ও আহত হচ্ছে। দুই পক্ষকেই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানান তিনি। জাতিসংঘের হিসাবে, যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনে ১৬ হাজারের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:১৯ এএম

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হেরে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি। তার মতে, যুদ্ধ যত দীর্ঘ হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ততই দুর্বল হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে ইরান আরও শক্তিশালী অবস্থানে যাচ্ছে।


রোববার (৯ আগস্ট) এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারফি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হচ্ছে, ইরান শক্তিশালী হচ্ছে।’ যুদ্ধ বন্ধে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর পক্ষে মত দেন তিনি। এমনকি চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খুব ভালো না হলেও যুদ্ধ শেষ এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার স্বার্থে সেটি মেনে নেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।


মারফির মতে, যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন যুদ্ধ চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র আরও দুর্বল হবে, ইরান আরও শক্তিশালী হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষকে এর মূল্য দিতে হবে।


হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি পুনরায় চালু করতে ইরান ক্ষতিপূরণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন টাইমস।


মারফি জানান, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য নতুন করে অর্থ বরাদ্দের পক্ষে তিনি ভোট দেবেন না। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত আবার পূরণ করার জন্য অর্থ দেওয়ার পক্ষে তিনি।


সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

সর্বশেষ সব খবর

মোহসেন রেজাই । ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১১ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ২:১৬ এএম

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) সাবেক প্রধান মোহসেন রেজাইকে দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার ইরানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এএফপির।


প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ের মুখপাত্র মেহদি তাবাতাবাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, কাউন্সিলের সচিবের পদ থেকে মোহাম্মদ বাঘের জুলঘাদর পদত্যাগ করার পর তার জায়গায় রেজাইকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ‘হেরে গেছে’ যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন সিনেটর


৭১ বছর বয়সী মোহসেন রেজাই ১৯৮১ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত আইআরজিসির প্রধান ছিলেন। এই সময়ের বেশির ভাগ সময় ইরান-ইরাক যুদ্ধ চলছিল। পরে তিনি ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও রাজনৈতিক পদে দায়িত্ব পালন করেন। একপর্যায়ে তিনি দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সামরিক উপদেষ্টাও ছিলেন।


ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন রেজাই। গত জুলাইয়ে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ‘ডজনখানেক পারমাণবিক বোমার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ’।


রেজাইয়ের আগে সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান ছিলেন জুলঘাদর। তিনিও আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার। গত মার্চে তিনি এই দায়িত্ব নেন।


রোববার ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় জানিয়েছে, জুলঘাদর এখন আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩১ পিএম
  • আপডেট : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩১ এএম


  • প্রকাশ : রবিবার ০৯ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৪:৩১ পিএম

আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিজ্ঞানী, গবেষক, প্রকৌশলী ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট উচ্চ দক্ষতার পেশাজীবীদের যুক্তরাজ্যে কাজের সুযোগ দেওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা। দেশটির বর্তমান অভিবাসন বিধিমালা অনুযায়ী, নির্দিষ্ট স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন পাওয়া গবেষকেরা প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করলে মাত্র তিন বছর পর যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন।


যুক্তরাজ্য সরকারের হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী, রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশনের অনুমোদনের ভিত্তিতে গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য তিন বছরের স্থায়ী বসবাসের পথ রয়েছে। তবে শুধু তিন বছর যুক্তরাজ্যে থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়া যায় না। আবেদনকারীকে ধারাবাহিক বসবাসসহ অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতাও পূরণ করতে হয়।


গবেষকদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি পথ হলো ইউকে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন বা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদিত গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের ভিত্তিতে আবেদন। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীকে ইউকেআরআই অনুমোদিত কোনো যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকরি বা গবেষণার জন্য যুক্ত থাকতে হবে এবং তার গবেষণার অর্থায়নও অনুমোদিত কোনো তহবিলদাতার কাছ থেকে আসতে হবে।


এই পথে আবেদনের জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষণা অনুদান বা পুরস্কারের মূল্য কমপক্ষে ৩০ হাজার পাউন্ড হতে হবে এবং সেটির মেয়াদ অন্তত দুই বছর হতে হবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীর চাকরির চুক্তি বা গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে হোস্টিং চুক্তির অন্তত এক বছর বাকি থাকতে হবে।


আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো, আবেদনকারীকে তার মোট কর্মসময়ের অন্তত ৫০ শতাংশ ওই গবেষণা অনুদানের আওতাধীন কাজে ব্যয় করতে হবে। প্রধান গবেষক বা সহগবেষকের ক্ষেত্রে একাধিক যোগ্য গবেষণা অনুদানে কাজের সময় একত্র করে এই ৫০ শতাংশের শর্ত পূরণ করার সুযোগ রয়েছে।


গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসার বড় সুবিধাগুলোর একটি হচ্ছে কর্মক্ষেত্রের স্বাধীনতা। এটি সাধারণ স্পনসরনির্ভর ওয়ার্ক ভিসার মতো নির্দিষ্ট একটি চাকরির সঙ্গে একইভাবে আবদ্ধ নয়। ভিসাধারীরা নির্ধারিত নিয়মের মধ্যে চাকরি করতে, চাকরি পরিবর্তন করতে কিংবা স্বনিযুক্ত হিসেবে কাজ করতে পারেন। ফলে গবেষক ও উদ্ভাবকদের ক্যারিয়ার পরিচালনায় তুলনামূলক বেশি স্বাধীনতা থাকে।


স্থায়ী বসবাসের ক্ষেত্রে গবেষকদের জন্য আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা রয়েছে। রয়্যাল সোসাইটি, ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি, রয়্যাল অ্যাকাডেমি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অথবা ইউকেআরআইয়ের অনুমোদন পাওয়া গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসাধারী গবেষকরা গবেষণার কাজে যুক্তরাজ্যের বাইরে যে সময় কাটান, নির্দিষ্ট শর্তে সেই গবেষণাসংশ্লিষ্ট অনুপস্থিতি ধারাবাহিক বসবাসের হিসাবকে বাধাগ্রস্ত করে না।


তবে তিন বছর পর স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় শুধু ভিসার মেয়াদ পূরণ করাই যথেষ্ট নয়। আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যে আয় করার প্রমাণসহ প্রযোজ্য অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হয়। বর্তমান নিয়মে ইংরেজি ভাষার যোগ্যতা এবং যুক্তরাজ্যের জীবন ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত নির্ধারিত পরীক্ষার শর্তও রয়েছে।


ফলে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী ও গবেষকদের জন্য গ্লোবাল ট্যালেন্ট ভিসা শুধু যুক্তরাজ্যে গবেষণা বা চাকরির সুযোগ নয়, যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য তুলনামূলক দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথও তৈরি করছে। বিশেষ করে ইউকেআরআই অনুমোদিত গবেষণা অনুদান এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত গবেষকদের জন্য এই ব্যবস্থা যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ক্যারিয়ার গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৮ আগস্ট, ২০২৬, সময় : ৭:৩৮ পিএম

মক্কার কাসর আল-সাফায় একসঙ্গে জুমার নামাজ আদায় করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, দেশটির ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনির, সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান। শুক্রবার (৭ আগস্ট) গ্র্যান্ড মসজিদের কাছে অবস্থিত রাজপ্রাসাদ কাসর আল-সাফায় তারা একত্রে নামাজ আদায় করেন।


এসময় পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারসহ সৌদি ও তুরস্কের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।


সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে বর্তমানে সৌদি আরব সফরে রয়েছেন শাহবাজ শরিফ। সফরে দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানো এবং আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এর আগে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে অংশীদারত্ব আরও জোরদার করেছে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্ক।


প্রস্তাবিত চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এতে অঞ্চলটির নিরাপত্তা কাঠামোয় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে।


সূত্র:দ্য নেশন

সর্বশেষ সব খবর