ছবি : সংগৃহীত
ডেঙ্গু মোকাবেলায় ভারত শিগগিরই নতুন একটি টিকা পেতে যাচ্ছে। ভারতের ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজ ও তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যাল এ বিষয়ে একটি চুক্তি করেছে। চুক্তির আওতায় ভারতে কিউডেঙ্গা টিকার প্রচার ও বিতরণ করা হবে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে এই খবর বলা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন ও বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শেষ হলে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে ভারতে কিউডেঙ্গা টিকা পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতে ডেঙ্গু এখনো জনস্বাস্থ্যের উদ্বেগ
ডেঙ্গু একটি মশাবাহিত ভাইরাসজনিত রোগ। ভারতে বিশেষ করে বর্ষাকাল ও বর্ষার পর ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। ভারতে ডেঙ্গু এখনো জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ। এডিস মশার মাধ্যমে মূলত ডেঙ্গু ছড়ায়। জমে থাকা পানিতে এই মশা বংশবিস্তার করে।
বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়লে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়। তাই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রোগ প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
কিউডেঙ্গা কী?
কিউডেঙ্গা হলো জাপানের ওষুধ কম্পানি তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালের তৈরি একটি ডেঙ্গু টিকা। এই টিকা ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন থেকেই সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি। টিকাটি ৪ থেকে ৬০ বছর বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।
কিউডেঙ্গা টিকা দুই ডোজে দেওয়া হয়। প্রতিটি ডোজের পরিমাণ ০.৫ মিলিলিটার। প্রথম ডোজ দেওয়ার তিন মাস পর দ্বিতীয় ডোজ দিতে হয়। এই টিকার একটি বিশেষ দিক হলো, আগে কেউ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে থাকলেও বা ডেঙ্গু ভাইরাসের সংস্পর্শে না এলেও টিকা দেওয়া যায়। তাই টিকা দেওয়ার আগে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না।
ভারতে কবে পাওয়া যাবে কিউডেঙ্গা টিকা?
ভারতে কিউডেঙ্গা ডেঙ্গু টিকা ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে পাওয়া যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে এর জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ও বাজারজাত করার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে।
সূত্র অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ভারতের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কিউডেঙ্গা টিকাকে অনুমোদন দিয়েছে। এদিকে ডক্টর রেড্ডি’স ল্যাবরেটরিজ ও তাকেদা ফার্মাসিউটিক্যালের চুক্তির ফলে ভারতে কিউডেঙ্গা টিকার প্রচার ও বিতরণ করা হবে।
টিকাটি কতটা কার্যকর?
টিকাটি নিশ্চিত ডেঙ্গু সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদানে সক্ষম বলে প্রমাণিত হয়েছে। সূত্রটিতে বলা হয়েছে, একটি শেষ পর্যায়ের পরীক্ষায় দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার এক বছর পর কিউডেঙ্গা নিশ্চিত ডেঙ্গু রোগীদের বিরুদ্ধে ৮০.২ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে।
টিকাটি ১৮ মাস পর ডেঙ্গু-জনিত হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রেও ৯০.৪ শতাংশ কার্যকারিতা দেখিয়েছে, যা গবেষণাটির একটি গৌণ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেছে। এই পরিসংখ্যানগুলো সূত্রে উল্লিখিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য থেকে নেওয়া হয়েছে এবং এগুলো গবেষণায় অংশগ্রহণকারী জনগোষ্ঠীর ওপর টিকার কার্যকারিতা বর্ণনা করে।
তবে এই ফলাফল নির্দিষ্ট ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে পাওয়া গেছে। তাই সবার ক্ষেত্রে টিকাটি একই মাত্রায় কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা এই তথ্য থেকে দেওয়া যায় না।
ভারতের ডেঙ্গু টিকা কেন প্রয়োজন?
ভারতসহ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ও উপ-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে ডেঙ্গু এখনও একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। সাধারণত বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। এ সময় জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর ভেক্টর বোর্ন ডিজিজেস কন্ট্রোলের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভারতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৫০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হন এবং ৯৫ জন মারা যান।
এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, ভারতে ডেঙ্গুর সংক্রমণ এখনও একটি বড় সমস্যা। তাই মশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার মতো কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তাই মশা নিয়ন্ত্রণ ও অন্যান্য জনস্বাস্থ্য উদ্যোগের পাশাপাশি ডেঙ্গুর টিকা রোগ প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হতে পারে। তবে শুধু টিকা নিলেই হবে না। জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা এবং মশার বংশবিস্তার কমানোর মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাও চালিয়ে যেতে হবে।
কিউডেঙ্গা টিকার ভারতে আসা ডেঙ্গু প্রতিরোধে নতুন একটি সুযোগ তৈরি করতে পারে। টিকাটি ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি ধরন থেকেই সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এটি দুই ডোজে দেওয়া হয় এবং দুই ডোজের মধ্যে তিন মাসের ব্যবধান থাকে।
তাকেদা জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তারা বিশ্বব্যাপী বছরে ১০ কোটি ডোজ টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি করতে চায়। কম্পানিটি আরো জানিয়েছে, গত ২০ বছরে ভারতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার পাশাপাশি মশা নিয়ন্ত্রণ ও জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার মতো পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৭ সালে কিউডেঙ্গা ভারতের বাজারে আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত হতে পারে। তবে টিকা বাজারে আসার আগ পর্যন্ত মশার বংশবিস্তার বন্ধ করা, মশার কামড় থেকে নিজেকে রক্ষা করা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই ডেঙ্গুর ঝুঁকি কমানোর প্রধান উপায়।
বিএমডব্লিউর পাশে সামসুদ্দিন মিদ্যার ও তার ছেলে তালহা। ছবি: সংগৃহীত
প্রতীকী ছবি
সৌদি আরবে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নারী ও শিশুসহ সাত বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। শনিবার (৭ নভেম্বর) মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। জেদ্দা থেকে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত সাতজন বাংলাদেশের একাধিক পরিবারের সদস্য। তাদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। শনিবার ভোরে মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে বাংলাদেশিদের বহনকারী একটি বাসকে পেছন থেকে একটি ট্রাক ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
এতে ঘটনাস্থলেই নারী, শিশুসহ সাতজন প্রাণ হারান। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, নিহতদের সবাই আল আবির কোল্ড স্টোরস ট্রেডিং কোম্পানির সঙ্গে কর্মসূত্রে সম্পৃক্ত পরিবারের সদস্য।
প্রতিষ্ঠানটির মার্কেটিং ম্যানেজার নুরুজ্জামানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাদের মধ্যে রয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির স্টোরকিপার জিয়াউর রহমান, তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
এ ছাড়াও ফর্কলিফট চালক ইলিয়াসের স্ত্রী ও মক্কায় কর্মরত স্টোরকিপার আলমশাহ ও তার এক মাস বয়সী কন্যা সন্তানও রয়েছেন। তাদের বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট সময়, স্থান, কারণ ও নিহতদের গ্রামের বাড়ি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পদত্যাগের কথা ভাবছেন। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে একজন প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করতে ইরান যুদ্ধসহ প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে চাইছেন তিনি। সব মিলিয়ে চার থেকে পাঁচজন মন্ত্রী পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে আলোচনা চলছে। দ্য ইনডিপেনডেন্টকে এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি সূত্র।
৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনে গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত সবশেষ যে হিসাব পাওয়া যাচ্ছে, তাতে কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছেন ২৫৩টি। আর রিপাবলিকানরা পেয়েছেন ১৬০টি। উচ্চকক্ষ সিনেটে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানরা পেয়েছেন যথাক্রমে ৫৪ ও ৪৪ আসন।
রুবিওর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনার আগে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার একটি গুঞ্জন উঠেছিল। কারণ, ইরান যুদ্ধের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। এ যুদ্ধই যে রিপাবলিকানদের থেকে ভোটারদের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার অন্যতম কারণ, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, এমনকি তা ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন। যদিও হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছে হোয়াইট হাউস।
রুবিওর পদত্যাগের বিষয়ে সূত্র বলেছে, ২০২৮ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হওয়ার দৌড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। এমন পরিস্থিতিতে ইরান যুদ্ধ থেকে দূরত্ব রাখা এবং এর দায় ট্রাম্পের ওপর চাপানো রুবিওর জন্য এখন খুবই দরকার। সেদিক দিয়ে তাঁর পদত্যাগ পুরোপুরি যৌক্তিক।
‘কেউই সরকারে থাকতে চান না’
সূত্রগুলো বলছে, শুধু রুবিওই নন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির এই হতাশাজনক ফলের পর ট্রাম্পের বর্তমান মন্ত্রিসভার মোট চার-পাঁচজন সদস্য পদত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ট্রাম্পের এই শীর্ষ কূটনীতিক পদত্যাগের পরিকল্পনা করছেন কি না, এমন তথ্য জানতে চাওয়া হলে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইনজেল বেশ আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেন। তিনি ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তাঁর প্রশাসনকে নিয়ে ভিত্তিহীন, মিথ্যা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছড়ানোর অভিযোগ তোলেন দ্য ইনডিপেনডেন্ট–এর বিরুদ্ধে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ পুরোপুরি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলে গেছেন বলে জানিয়েছে সূত্র। সূত্রের ভাষ্য, মানচিত্রে ইরান কোথায়, মার্কিনরা তা–ও বলতে পারে না। তাঁরা এই যুদ্ধটাও বোঝেন না। জ্বালানি তেলের দাম মানুষকে সত্যিই খুব খেপিয়ে তুলেছে। সূত্রের মতে, ‘ডেমোক্র্যাটরা একবার হাউস ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিলে আমরা শুধুই অভিশংসনের উদ্যোগই দেখতে পাব। এ অবস্থায় আর কেউই সরকারে থাকতে চান না।’
যুক্তরাজ্য সরকারের এক জ্যেষ্ঠ সূত্র বলেছে, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারের পর মার্কো রুবিও কী করেন, তা আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। তিনি যে পদে বহাল থাকবেন, তা অসম্ভব মনে হচ্ছে।’ অন্য এক রিপাবলিকান সূত্র বলেছে, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই হারের পর রুবিও আর থাকছেন না। তাঁদের মধ্যে প্রায় চার বা পাঁচজন ইস্তফা দিয়ে সরে পড়বেন।’
২০২৪ সালের অক্টোবরে স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে ইরানের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনা
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিলে ২ কোটি ডলার (প্রায় ২৫০ কোটি টাকা) পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তথ্যদাতাকে প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করবে দেশটি। গতকাল শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ ঘোষণা দেয়।
সেন্টকম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচির আওতায় এ পুরস্কার দেওয়া হবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম, বিজ্ঞানী, গবেষক ও অন্যান্য ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়েছে।
১৯৮৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের জন্য ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি চালু করা হয়। তথ্যের বিনিময়ে পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে তথ্যদাতাকে নিরাপদে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এ কর্মসূচিতে।
পুরস্কার ঘোষণার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) নিরাপত্তাবিষয়ক বাধ্যবাধকতা না মানায় দেশটির পারমাণবিক কার্যক্রমে নজরদারি করতে পারছে না সংস্থাটি। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজের মতো গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ তৈরি ও এর মজুত সম্পর্কে সংস্থাটি ধারাবাহিকভাবে তথ্য জানতে পারছে না।
তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো শর্ত জানায়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কার্যত পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাতে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা না চালালে আজ ইসরায়েলের অস্তিত্ব থাকত না। ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে দেশটি তা ব্যবহার করত এবং মধ্যপ্রাচ্য ধ্বংস করে দিত।
ট্রাম্প আরও বলেছেন, আট মাসের যুদ্ধে ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন দেশটি যুদ্ধ বন্ধে চুক্তি করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, ‘আমরা এখন তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি। তারা একটি চুক্তি করতে চায়।’
এদিকে আবার যাতে যুদ্ধ শুরু না হয়, সে জন্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহতভাবে চালাচ্ছে। গত মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও বলেছেন, তাঁর সরকার এখনো আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা করছে।
এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানে আরও দু–একটি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যবস্থা নেওয়া বাকি আছে। এর মধ্যে মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বলছে, সেখানে ইরানের একটি পারমাণবিক স্থাপনা আছে। তবে ইরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।
রাশিয়ার দখলে থাকা জাপোরিঝিয়ায় অন্তত ৫২১টি হোটেল ও রিসোর্টকে `মালিকহীন' ঘোষণা করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ যার মধ্যে ৭৭টি রাশিয়ান কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে
ইউক্রেনের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের আজভ সাগর উপকূলে শত শত হোটেল ও রিসোর্ট দখলে নিয়েছে রাশিয়া। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২২ সালে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর এসব সম্পত্তির অনেকগুলো দখল বা দখলের জন্য চিহ্নিত করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ।
দখলকৃত জাপোরিঝিয়া অঞ্চলে সাত হাজারের বেশি আবাসিক ও বাণিজ্যিক সম্পত্তিকে ‘মালিকানাহীন’ ঘোষণা করেছে রুশ নিয়ন্ত্রিত প্রশাসন। এর মধ্যে ৫২১টি হোটেল ও রিসোর্ট রয়েছে। অন্তত ৭৭টি হোটেল ও রিসোর্ট এখন রুশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণে। এর মধ্যে ২০টি পরিচালনা করছে রুশ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।
এমন পরিস্থিতিতে নিজের হোটেল ও অ্যাপার্টমেন্টের মালিকানা ফিরে পেতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ইউক্রেনীয় ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ নিজেদের পক্ষে আদালতের রায়ও পেয়েছেন। কিন্তু রাশিয়া তাদের ক্ষতিপূরণ দেবে কিনা, তা অনিশ্চিত।
রাশিয়ার সাময়িক দখলে থাকা জাপোরিঝিয়া ওব্লাস্টের আজভ সাগর উপকূলবর্তী এলাকায় অন্তত ৫২১টি হোটেল ও রিসোর্টকে `মালিকহীন' ঘোষণা করেছে রুশ কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে অন্তত ৭৭টি বর্তমানে রাশিয়ান কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বিয়েতে বর-কনের একাংশ
চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, বাস্তুচ্যুত মানুষের অস্থায়ী তাঁবু আর অনিশ্চিত জীবন। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় শুক্রবার (৬ নভেম্বর) এক গণবিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এতে একসঙ্গে বিয়ে বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগল। শনিবার (৭ নভেম্বর) রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ফিলিস্তিনি পতাকা, ফুল ও লাল ফিতা দিয়ে সাজানো গাড়ির বহর নিয়ে শোভাযাত্রা বের করা হয়। গাজার বিধ্বস্ত সড়কগুলো ঘুরে গাড়ির বহরটি ভূমধ্যসাগরের উপকূলে অবস্থিত সি ক্লাবে পৌঁছায়। সেখানেই অনুষ্ঠিত হয় বিয়ের মূল আয়োজন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্যোগ ‘অপারেশন নাইটলি নাইট-৩’-এর আওতায় সাকর বিন মোহাম্মদ আল কাসিমি চ্যারিটেবল অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়।
বাস্তুচ্যুতি, অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার অবনতির কারণে যেসব তরুণ-তরুণীর পক্ষে বিয়ের খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে, তাদের সহায়তা করাই ছিল এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
গণবিয়েতে অংশ নেওয়া বর সাঈদ আল-নাজ্জারের জন্য আনন্দের দিনটি ছিল ব্যক্তিগত শোকের স্মৃতিতে ঘেরা। তিনি জানান, ইসরায়েলি হামলায় তাদের পারিবারিক বাড়িটি ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের ইয়েলো লাইনের কাছে একটি তাঁবুতে বসবাস করছেন।
অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির লটারির মাধ্যমে তিনি বিয়ের জন্য নির্বাচিত হন বলে জানান।
সাঈদ আল-নাজ্জার বলেন, ‘এই আনন্দ শুধু একজন বর কিংবা ২৫০ জন বরের নয়, এটি গাজার সব মানুষের আনন্দ।’
তিনি আরও বলেন, হাজার হাজার ফিলিস্তিনির মতো তিনিও নিজের বাড়ি হারিয়েছেন। এখন তার যাওয়ার মতো আর কোনো জায়গা নেই।
ধ্বংসযজ্ঞ ও বাস্তুচ্যুতির মধ্যেও নতুন জীবন শুরুর এই আয়োজন গাজার মানুষের জন্য আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: রয়টার্স