সৌদি আরব ও বাংলাদেশের পতাকা
বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোট গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ করবে। এই তিনটি জলপথ ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর হিসেবে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ার সময় এই জোট গঠনের ঘোষণা এলো। বিশ্বের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ একসময় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হতো। সেখানে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধাদের হামলায় বাব আল-মান্দেব-লোহিত সাগর-এডেন উপসাগর রুটও বারবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
সৌদি আরব জানায়, জোট গঠন উপলক্ষে আয়োজিত বৈঠকে আমন্ত্রিত ৫১টি দেশের মধ্যে ৪৩টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিল।
ইইউর এরই মধ্যে লোহিত সাগরে ‘অ্যাসপিডিস’ নামে একটি নৌ নিরাপত্তা মিশন রয়েছে। তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন নতুন জোটটির সঙ্গে সেই মিশনের পার্থক্য কী হবে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
জোটে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো হলো-সৌদি আরব, তুরস্ক, কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, জিবুতি, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, ইয়েমেন, সুদান ও কোমোরোস। ফলে জোটে সৌদি আরবসহ মোট সদস্য সংখ্যা ১৪। তবে একই ধরনের নিরাপত্তা স্বার্থ থাকা সত্ত্বেও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও ওমান এই জোটে যোগ দেয়নি।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় জাতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভবিষ্যতে অন্য দেশগুলোর জন্যও এই জোটে যোগ দেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে।
গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও যৌথ মহড়া
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সদস্য দেশগুলো বিশ্বাস করে যে সামুদ্রিক নিরাপত্তা একটি যৌথ দায়িত্ব। এ কারণে আন্তর্জাতিক ও আন্তঃসীমান্ত সামুদ্রিক হুমকি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
জোটের আওতায় গোয়েন্দা তথ্য ও অন্যান্য তথ্য বিনিময়, যৌথ পরিকল্পনা, সামরিক মহড়া এবং সমন্বিত সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করা হবে। তবে কোন দেশ কতটি যুদ্ধজাহাজ, বিমান বা অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দেবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সৌদি আরব জোর দিয়ে বলেছে, এই জোটের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে গঠন করা হয়নি।
সূত্র: আল-জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রভাবশালী এই সংবাদমাধ্যমটির এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মূলত এমন এক সময়ে এই হামলার খবর এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে অনেকটা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি’। তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’
তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি বা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে পৃথক প্রতিবেদনে আনাদোলু জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ ও হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।
বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যম দুটি। মূলত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই বিস্ফোরণের খবর এলো।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে। তিনি নিশ্চিত করেন, কাতারের মধ্যস্থতায় এ যোগাযোগ সহজ করতে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন।
এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। পরে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।
হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।
বাড়িতে কয়েক দিনের খাবার, পানি, ওষুধ, টর্চলাইট ও রেডিও রাখার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার। ছবি: পেক্সেলস
বাড়িতে কয়েক দিনের খাবার, পানি, ওষুধ, টর্চলাইট ও রেডিও রাখার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স নাগরিকদের তিন দিনের প্রস্তুতি নিতে বলছে। সুইডেন ও নরওয়েতে এক সপ্তাহ এবং জার্মানিতে ১০ দিনের প্রস্তুতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
যুক্তরাজ্যে সরকারের আহ্বানের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে টিনজাত খাবার, রেডিও, টর্চলাইট ও পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রিও বেড়েছে। কেন এত দেশ নাগরিকদের জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলছে? এর পেছনে কি আসন্ন কোনো যুদ্ধ বা বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা আছে?
বিভিন্ন দেশের সরকারি নির্দেশনা এবং বিবিসি, নিউজউইক, স্কাই নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তুতির পেছনে আছে একাধিক ঝুঁকি।
এর মধ্যে আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চরম আবহাওয়া, সাইবার হামলা এবং বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। ইউরোপের কিছু দেশের প্রস্তুতিতে যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বিবেচনায় আছে।
তবে এসব নির্দেশনা থেকে নির্দিষ্ট কোনো যুদ্ধ বা বিপর্যয় আসন্ন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি নেই।
যুক্তরাজ্যে কী হচ্ছে
গত ২২ অক্টোবর যুক্তরাজ্য সরকার ‘বি রেডি’ নামের একটি প্রচারাভিযান শুরু করে। এর উদ্দেশ্য, জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকেরা যেন অন্তত ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন নিজেদের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারে।
ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশনায় একজনের জন্য প্রতিদিন তিন লিটার খাবার পানি, সহজে নষ্ট হয় না এমন খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাংক ও ব্যাটারিচালিত বা হাতল ঘুরিয়ে চালানো যায় এমন রেডিও রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকার বলছে, ঝড়, বন্যা, বিদ্যুৎবিভ্রাট কিংবা সাইবার হামলার কারণে জরুরি পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো কিছুদিন নিজেরা চলতে পারলে উদ্ধার ও সহায়তাকারী সংস্থাগুলো বেশি বিপদে থাকা মানুষদের আগে সাহায্য করতে পারবে।
টিনজাত খাবার ও রেডিওর বিক্রি বেড়েছে
সরকারের এই আহ্বানের পর যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরুরি সামগ্রীর বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিবিসির ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, সুপারমার্কেট চেইন আইসল্যান্ডে এক সপ্তাহান্তে টিনজাত খাবারের বিক্রি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বোতলজাত পানির বিক্রিও বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাজ্যের গৃহস্থালির ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রবার্ট ডায়াস জানিয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় তাদের রেডিও বিক্রি বেড়েছে ১৬০ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যের ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ম্যাপলিনের হিসাবে, সরকারি ঘোষণার পর রেডিওর বিক্রি ৯২ শতাংশ, টর্চলাইটের বিক্রি ২৮৪ শতাংশ এবং পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রি ১০৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগের মাসের একই সময়ের সঙ্গে এই পরিসংখ্যানের তুলনা করেছে।
জরুরি পরিস্থিতির সরঞ্জাম বিক্রি করে এমন কয়েকটি ছোট প্রতিষ্ঠানও চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
তবে এসব পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট কয়েকটি বিক্রেতার। এ থেকে গোটা যুক্তরাজ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বা খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
সুপারমার্কেট চেইন আইসল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের টিনজাত খাবারসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।
অন্য দেশগুলো কী বলছে
২৮ অক্টোবর প্রকাশিত নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের জরুরি প্রস্তুতিবিষয়ক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো কানাডা, জাপান, মেক্সিকো ও নেদারল্যান্ডসেও তিন দিনের জরুরি সামগ্রী রাখার পরামর্শ আছে। সুইডেন ও নরওয়ে প্রায় এক সপ্তাহ এবং জার্মানি দিয়েছে ১০ দিনের প্রস্তুতির পরামর্শ।
ভারতে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে বললেও সবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট ‘রেডি ডট গভ’-এও কয়েক দিন চলার মতো খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার নির্দেশনা আছে।
তবে সব দেশের নির্দেশনার কারণ এক নয়। জাপানের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার কিছু অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে স্থানীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য আলাদা নির্দেশনা আছে।
এ ছাড়া এসব নির্দেশনার সবই নতুন নয়। অনেক দেশে দীর্ঘদিন ধরে দুর্যোগ প্রস্তুতির কর্মসূচি চালু আছে।
ইউরোপে কেন বাড়তি গুরুত্ব
ইউরোপীয় কমিশন ২০২৫ সালের মার্চে ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’ ঘোষণা করে। এতে সদস্যদেশগুলোর নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সংঘাত, সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা মোকাবিলায় সামগ্রিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।
সুইডেনের সরকারি নির্দেশিকায় সংকটের পাশাপাশি যুদ্ধের পরিস্থিতির কথাও আছে। দেশটির নাগরিকদের এক সপ্তাহ চলার মতো খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
তবে সুইডেনে যুদ্ধকালীন নাগরিক প্রস্তুতির নির্দেশনা নতুন নয়। দেশটির এমন নির্দেশিকা প্রকাশের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। সাম্প্রতিক সংস্করণে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ৯০ দিনের প্রস্তুতি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক স্থাপনাগুলোর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে।
২ নভেম্বর দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ‘ফোর্ট্রেস আমেরিকা’ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বাইরে থেকে সহায়তা না পেলেও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলো যেন অন্তত ৯০ দিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
এ জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানির স্বনির্ভরতা, সরবরাহব্যবস্থা, জরুরি মজুত এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা আছে।
তবে এই ৯০ দিনের প্রস্তুতি সাধারণ নাগরিকদের জন্য দেওয়া কোনো নির্দেশনা নয়। এটি সামরিক স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম সচল রাখার পরিকল্পনা।
তাহলে কি বড় কোনো বিপর্যয় আসছে
বিভিন্ন দেশের প্রস্তুতির উদ্যোগকে একই ধরনের আসন্ন হুমকির সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আধুনিক জীবনে বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, ব্যাংকিং ও যোগাযোগব্যবস্থা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বড় ধরনের দুর্যোগ বা সাইবার হামলায় একটি পরিষেবা বন্ধ হলে অন্য পরিষেবাও ব্যাহত হতে পারে। সরকারি নির্দেশনাগুলোর মূল উদ্দেশ্য এমন পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ কমানো।
ব্রিটিশ সরকারও স্পষ্ট করেছে, জরুরি প্রস্তুতি মানে একবারে বিপুল পরিমাণ খাবার বা পানি কিনে রাখা নয়। ঘরে আগে থেকেই থাকা সামগ্রী দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে কিছু জিনিস যোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের নির্দেশনায় প্রতিবেশীদের খোঁজ রাখা, জরুরি যোগাযোগের নম্বর লিখে রাখা এবং যাঁদের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের কথা বিবেচনা করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের এই উদ্যোগের মূল বার্তা হলো সম্ভাব্য সংকটের জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকা। এসব আসন্ন যুদ্ধ বা খাদ্যসংকটের নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।
সূত্র: বিবিসি, নিউজউইক, স্কাই নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান, ইউরোপীয় কমিশন, সুইডিশ সিভিল ডিফেন্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স এজেন্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের রেডি ডট গভ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার তীব্র সামরিক উত্তেজনা নিরসনে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতার ইতিবাচক আভাসে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে বিঘ্নিত হওয়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা স্তিমিত হওয়ায় সোমবার এক দিনেই পণ্যটির দাম প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে।গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) বেলা ২টার বাজারদর অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ দশমিক ৯০ ডলার বা ৬ শতাংশ কমে ১০৬ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে এসেছে। একই সময়ে মার্কিন মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৬ ডলার ২৫ সেন্ট বা ৬ শতাংশ কমে অবস্থান করছে ৯৭ ডলার ৮৭ সেন্টে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ-এর বরাতে জানা গেছে, সংকট নিরসনে সরকারের কূটনৈতিক আলোচনার উদ্যোগে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি।
সোমবার তেহরানে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে সরাসরি কূটনৈতিক বার্তা পৌঁছাতে দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বর্তমানে দোহা সফর করছেন। মুখপাত্র স্পষ্ট করেন, ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন সামরিক ও নৌ অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করার শর্তের সঙ্গেই কেবল হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রস্তাবকে যুক্ত করেছে তেহরান।এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক ফোনালাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক অভিযানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে আরও কিছুটা সময় দিতে চান।
এর আগে শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মন্তব্য করেছিলেন, রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের চেয়ে ওয়াশিংটন একটি টেকসই কূটনৈতিক সমাধানকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনও নতুন কোনো সামরিক হামলার চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি।
আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যের এই নাটকীয় ওঠানামার মধ্যেই তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর প্রভাবশালী জোট ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য দেশ রোববার ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকে আগামী ডিসেম্বর মাসেও নতুন করে তেল উৎপাদন না বাড়িয়ে বর্তমান উত্তোলন হারই অপরিবর্তিত রাখার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মাধ্যমে গত অক্টোবর থেকে তেল উৎপাদন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার গৃহীত পদক্ষেপটি আরও এক মাসের জন্য কার্যকর বহাল থাকল।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ব্যস্ত সড়কে ক্ষেপণাস্ত্রের মতো আছড়ে পড়েছে একটি উড়োজাহাজ। এতে থাকা ৯ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। খবর এনবিসি মিয়ামির।
দুর্ঘটনার বেশ কিছু ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গাড়িতে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শীর রেকর্ডকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, বাহামাসগামী উড়োজাহাজটি আকাশ থেকে খাড়া নিচে নেমে এসে সড়কের কাছে আছড়ে পড়ে এবং বিস্ফোরণ ঘটে। দুর্ঘটনাস্থলের সৃষ্ট গর্তের চারপাশে ছিটকে পড়া পিচ ও ইট-পাথরের টুকরোগুলোতে আগুন জ্বলছিল।
ঘটনাস্থলে ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিসান্টিস সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রলয়ংকরী এক উড়োজাহাজ দুর্ঘটনা। মনে হচ্ছিল একটি ক্ষেপণাস্ত্র নেমে আসছে। রাস্তার পাশে বিশাল এক গর্ত তৈরি হয়েছে।’
রোববার ওই অঞ্চলে তুমুল বৃষ্টিপাত হচ্ছিল। দেশটির জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে সোমবার দুপুর পর্যন্ত সেখানে বন্যা সতর্কবার্তা কার্যকর ছিল।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) তথ্যমতে, উড়োজাহাজটি টেক্সাসের অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। তবে উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ কিংবা আরোহীদের পরিচয় সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানায়নি।
উড়োজাহাজটি ৩৫ জাহাজ ফুট উচ্চতায় উড়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখনই পাইলটরা প্রচণ্ড ঝাঁকুনি, বরফ জমা এবং বৃষ্টিপাতের কথা জানিয়ে উচ্চতা ২ হাজার ফুট বাড়ানোর অনুরোধ জানান।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেকর্ডিং ও ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, এর কিছুক্ষণ পরই উড়োজাহাজটি দ্রুত গতিতে নিচে নামতে শুরু করে। প্রথমে প্রতি মিনিটে ১০ হাজার ফুট, তারপর প্রতি মিনিটে ২০ হাজার ফুট এবং শেষ পর্যন্ত প্রতি মিনিটে ৩০ হাজার ফুট গতিতে খাড়াভাবে নিচে নেমে আসে।
এ সময় পাইলট জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে সাহায্যের জন্য বিপদসংকেত পাঠান। খাড়াভাবে মাটিতে আছড়ে পড়ার ঠিক পূর্বে উড়োজাহাজটি মারাত্মকভাবে ডানদিকে বাঁক নেয়।
লাইভএটিসি ডট নেট-এর সংরক্ষিত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের রেকর্ডিং থেকে জানা যায়, উড়োজাহাজটি বিধ্বস্ত হওয়ার কয়েক মিনিট আগে পাইলট উড়োজাহাজে বরফ জমা এবং তীব্র ঝাঁকুনির কথা রিপোর্ট করেছিলেন। এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলকে পাইলট বলেন, ‘আমাদের উড়োজাহাজে হালকা ও স্বচ্ছ বরফ জমেছে যা নিয়ন্ত্রণযোগ্য, তবে মাঝারি ধরনের ঝাঁকুনি হচ্ছে।’
রেডিও বার্তায় পাইলটকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছি, প্রতি মিনিটে ৮,০০০ ফুট—মে ডে, মে ডে—আমরা প্রতি মিনিটে ১০,০০০ ফুট নিচে নেমে যাচ্ছি।’
বিপদ আরও চরম রূপ নিলে পাইলট আসন্ন বিপর্যয়ের ভয়াবহতা জানিয়ে শেষ রেডিও বার্তায় বলেন, ‘আমরা ওভারস্পিডে আছি এবং প্রতি মিনিটে ২০,০০০ ফুট নিচে নামছি। আমরা মাটিতে বিধ্বস্ত হতে যাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, ফ্লোরিডার যে এলাকায় উড়োজাহাজটি আছড়ে পড়েছে, সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত প্রাসাদ মার-এ-লাগো দূরত্ব মাত্র ১৪ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার (৯ মাইল)।
ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ শহরের কাছে একটি ব্যক্তিগত জেট উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ ৯ আরোহী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বাসভবন মার-এ-লাগোর দূরত্ব প্রায় ৯ মাইল বা ১৪ দশমিক ৪৮ কিলোমিটার।
শনিবার বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) তথ্য অনুযায়ী, উড়োজাহাজটি টেক্সাসের অস্টিন শহরের বার্গস্ট্রম বিমানবন্দর থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।
এফএএর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ৯ আরোহী নিয়ে উড়োজাহাজটি দক্ষিণ ফ্লোরিডার পাম বিচ শহরের ক্রেস্টহেভেন এলাকার কাছে একটি আবাসিক এলাকায় আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই উড়োজাহাজটিতে আগুন ধরে যায়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এফএএ ও যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে দুর্ঘটনার তদন্ত করবে। তদন্তের নেতৃত্ব দেবে এনটিএসবি।
এ বিষয়ে পরবর্তী তথ্যও সংস্থাটি জানাবে।
দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবাদানকারী দলগুলো ক্রেস্টহেভেন বুলেভার্ড ও টেনথ অ্যাভিনিউ নর্থের মধ্যবর্তী মিলিটারি ট্রেইল সড়ক বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি জনসাধারণকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়।
পাম বিচ কাউন্টি ফায়ার সার্ভিস তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে জানায়, এলাকায় বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে উড়োজাহাজটিকে দ্রুত নিচে নেমে আসতে দেখা যায়। এরপর বিস্ফোরণের মতো একটি ঘটনা ঘটে এবং আকাশে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়ে।
বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, লিয়ারজেট মডেলের উড়োজাহাজটি শনিবার বিকেল ৩টা ৩৭ মিনিটে অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করে। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে এটি ৪১ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ছিল বলে ওয়েবসাইটটির তথ্যের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
সূত্র : ফক্স নিউজ
ছবি : সংগৃহীত
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর দাম্মামের একটি শিল্প কমপ্লেক্সে হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সেখানে ভয়াবহ আগুন ছড়িয়ে পড়ে। রোববার (১ নভেম্বর) এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন বলছে, সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে দেয়া এক পোস্টে ইরনা বলেছে, “ইয়েমেন থেকে চালানো হামলায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে দাম্মামের একটি শিল্প কমপ্লেক্সে আঘাত হানা হয়েছে। এতে স্থাপনাটিতে বড় ধরনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে।”
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দেয়া সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাত বাড়তে থাকার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। গত জুলাইয়ে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে দুই পক্ষ প্রতিদিনই পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার হুতিরা জানিয়েছিল, পশ্চিম ইয়েমেনের আবাসিক এলাকায় সৌদি হামলায় ১২ জন নিহত এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গোষ্ঠীটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, মাকবানা জেলার আল-বারাহ এলাকায় দুই পরিবারের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। এর আগে গত বুধবার একটি পেট্রল স্টেশন ও বাজারে সৌদি হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল হুতিরা। অন্যদিকে, গোষ্ঠীটি ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এডেনের বিমানবন্দরেও হামলা চালায়। এতে বেসামরিক লোকজন আহত হন।
২০২২ সালের যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর সংঘাতের সর্বশেষ এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জুলাইয়ে সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণাধীন ইয়েমেনের আকাশসীমা অমান্য করে হুতিরা ইরানের একটি বিমানকে সানায় অবতরণের অনুমতি দেয়। এর জেরে নতুন করে হামলা শুরু হয়। পরে হুতিরা সৌদি ভূখণ্ড, নৌযান ও তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
সংঘাতের জেরে সৌদি আরবে হামলা আরও জোরদার করেছে হুতিরা। রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার কারণে গত অক্টোবরে দুই সপ্তাহ সেটি বন্ধ রাখতে হয়েছিল এবং বড় কয়েকটি সম্মেলনও বাতিল করা হয়। এতে সৌদি আরবের অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার পরিকল্পনাও হুমকির মুখে পড়েছে।
২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে সংঘাত চলছে। ওই বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এর পরের বছর সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হস্তক্ষেপ করে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার পর থেকে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং ২ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
এদিকে রোববার ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিল দুটি ডিক্রি জারি করে দেশটির মধ্যাঞ্চলের আল-বাইদা এবং উত্তরাঞ্চলের আল-জাওফ প্রদেশে নতুন গভর্নর নিয়োগ দিয়েছে। প্রদেশ দুটি আংশিকভাবে হুতিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সরকার-পরিচালিত সাবা নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, মেজর জেনারেল হুসেইন আল-আজি আলী আল-আওয়াধিকে আল-বাইদার গভর্নর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মেজর জেনারেল আমিন আলী আল-আকিমিকে আল-জাওফের গভর্নর এবং ওই অঞ্চলের সামরিক কমান্ডের প্রধান করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আল-বাইদার সাবেক গভর্নর নাসের আল-সাওয়াদির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আল-আওয়াধি। আর আল-জাওফের গভর্নর হিসেবে আল-আওয়াধির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আল-আকিমি।
দুই প্রদেশেই জটিল সামরিক পরিস্থিতির মধ্যে এ নিয়োগ দেয়া হলো। কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি বাহিনী ও হুতিদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।
মূলত আল-বাইদার বেশির ভাগ এলাকা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে, আল-জাওফের নিয়ন্ত্রণ হুতি গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে বিভক্ত।
ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত আল-বাইদা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রদেশটির সীমান্ত রয়েছে আরও আটটি প্রদেশের সঙ্গে—এর মধ্যে চারটি উত্তরে এবং চারটি দক্ষিণে।
আল-জাওফও সামরিক ও ভৌগোলিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। প্রদেশটির সঙ্গে সৌদি আরবের স্থলসীমান্ত রয়েছে। এ ছাড়া হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা সাদা, আমরান ও সানা প্রদেশের কাছাকাছি এর অবস্থান। সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশের সঙ্গেও এর সীমান্ত রয়েছে।