প্রতীকী ছবি ।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য (এমপি) ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকায় এ-সংক্রান্ত অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এতে বিপুলসংখ্যক লোকের সমাগম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠান ঘিরে যানজট এড়াতে ট্রাফিক নির্দেশনা দিয়েছে মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।
এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিএমপি।
বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুসারে, অনুষ্ঠান চলাকালীন সংসদ ভবনের সামনের খেজুর বাগান ক্রসিং হতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এবং জুলাই স্মৃতি জাদুঘর (গণভবন ক্রসিং) হতে উড়োজাহাজ ক্রসিং পর্যন্ত লেকরোডে যানচলাচল সীমিত করা হবে। যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে সৃষ্ট সাময়িক অসুবিধা নিরসনকল্পে ট্রাফিক বিভাগ কর্তৃক ডাইভারশনের মাধ্যমে নিম্নোক্তভাবে যানবাহনের প্রবাহ সচল রাখা হবে।
ডাইভারশন পয়েন্ট এবং বিকল্প সড়কসমূহ
১. মিরপুর রোড টু ফার্মগেট ভায়া মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত ফার্মগেট/সোনারগাঁও অভিমুখী যানবাহন প্রতিরক্ষা গ্যাপ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেটের দিকে গমন করবে।
২. ধানমন্ডি হতে ফার্মগেট ধানমন্ডি-২৭ হতে আগত যানবাহন আসাদগেট-প্রতিরক্ষা গ্যাপ দিয়ে ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিংয়ের দিকে গমনাগমন করবে।
৩. আসাদগেট হতে ফার্মগেট ক্রসিং আসাদগেট বামে মোড় নিয়ে গণভবন ক্রসিং (জুলাই স্মৃতি জাদুঘর) প্রতিরক্ষা গ্যাপ-ডানে মোড় নিয়ে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র -উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট ক্রসিংয়ের দিকে গমন করবে।
৪. এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে/ ইন্দিরা রোড হতে ধানমন্ডি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে/ইন্দিরা রোড হতে আগত যানবাহন খেজুর বাগান ক্রসিং-ডানে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র বামে মোড় নিয়ে প্রতিরক্ষা গ্যাপ-বামে মোড় নিয়ে আসাদগেট হয়ে ধানমন্ডির দিকে গমন করবে।
৫. মিরপুর রোড হতে ধানমন্ডি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ হতে ব্লকেড সরিয়ে ফেলা হবে বিধায় মিরপুর রোড হতে দক্ষিণ অভিমুখী যানবাহন শ্যামলী-শিশুমেলা-গণভবন (জুলাই স্মৃতি জাদুঘর)-আসাদগেট হতে সোজা ধানমন্ডি ২৭য়ের দিকে গমনাগমন করবে।
৬. এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান চলাকালীন যানজট/দুর্ভোগ এড়াতে ফার্মগেট এক্সিট র্যাম্প ব্যবহারের পরিবর্তে এফডিসি (হাতিরঝিল) র্যাম্প সচল থাকবে।
সব প্রকার যানবাহন চালকদের মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও লেক রোড এড়িয়ে উল্লিখিত নির্দেশনা মোতাবেক চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
এ বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্মানিত নগরবাসীর সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
আফ্রিকায় আগুনে ঘুমন্ত ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু
দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (বর্তমান কোমানি) থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরের সমো এলাকায় একটি দোকানে অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের সবার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলায়।
সূত্রে বরাতে জানা গেছে, দোকানের ভেতরের আবাসিক কক্ষে ৭ জন বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুন ছড়িয়ে পড়লে ৬ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অপর একজনকে উদ্ধার করে কুইন্সটাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মো. ফয়সাল (২৫), মো. ফাহিম (২৮), শামীম হাসান (৩০) ও মোহাম্মদ আপন (২৪)-এর পরিচয় জানা গেছে। আরও দুইজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, নিহতদের সবার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার আলীরটেক ও বক্তাবলী ইউনিয়ন এলাকায়। আহত আরেকজনের বাড়ি মুন্সীগঞ্জের রিকাবিবাজার এলাকায়।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করছে।
এর আগেও দেশটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর নর্থ ওয়েস্ট প্রদেশের ব্রিটস শহরে একটি দোকানে আগুন লেগে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার একই পরিবারের তিনজনসহ চার বাংলাদেশি নিহত হন।
এছাড়া ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশের পিটারম্যারিটজবার্গের একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডে আরও দুই বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেছেন
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবনে তাঁর কার্যক্রম শুরু করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এ প্রথম কার্যক্রম শুরু করেন। মঙ্গলবার সকাল সোয়া ১১টায় তিনি বঙ্গভবনে পৌঁছেন।
বঙ্গভবনের প্রধান ফটক-২ এ প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত অশ্বারোহী দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানায় এবং গার্ড অব অনার প্রদানের জায়গায় নিয়ে যায়। পরে পিজিআর-এর একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার দেন।
গার্ড অব অনার শেষে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এ এস এম বাহাউদ্দিন, জনবিভাগের সচিব খান মো. নূরুল আমিন, প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এবং সহকারী সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রাইসুল ইসলাম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে অক্টাগনে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।
আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি তাঁর কার্যালয়ে উপস্থিত হন এবং সেখানকার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় সামরিক সচিব ও জনবিভাগের সচিব তাঁকে বঙ্গভবনের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে অবহিত করেন।
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে ইসির বৈঠক
জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন (ইসি) বৈঠক করেছেন।
মঙ্গলবার সকাল ১১টায় জাতীয় সংসদে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বৈঠকে আলোচনা হয় বলে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে।
বৈঠক শেষে সিইসি সাংবাদিকদের জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত আছে কমিশন। দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি।
সিইসি জানান, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এ–সংক্রান্ত আইনে নির্বাচনের আগে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দিনক্ষণ ঠিক করার কথা বলা আছে। সে জন্য নির্বাচন কমিশন ভারপ্রাপ্ত স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে। জাতীয় সংসদ অধিবেশন থাকলে এ নির্বাচন একভাবে হবে, আর না থাকলে আরেক ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। এ বিষয়ে প্রাথমিকভাবে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এটি চূড়ান্ত হলে জানানো হবে।
সিইসি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে, তা জানানো হয়েছে ভারপ্রাপ্ত স্পিকারকে। সংসদ সচিবালয় এ নির্বাচনের ভোটার তালিকা দেবে, এ জন্য নির্বাচন কমিশন চিঠিও দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সাতক্ষীরা–৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। এ আসনের বিষয়ে সংসদ সচিবালয় পদক্ষেপ নিতে বললে কমিশন ব্যবস্থা নেবে।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, আনোয়ারুল ইসলাম সরকার ও তাহমিদা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সংসদ সচিবের কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শুক্রবার নিজ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদের দফা ২-এর বিধান অনুসারে, রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগের কারণে এই পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে তা পূর্ণ করার জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে হবে।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এর ৫ ধারার (২) ও (৩) উপ-ধারার বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য স্পিকারের সাথে আলোচনাক্রমে নির্বাচন কমিশনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তপশিল সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে ঘোষণা করতে হবে। এ বিষয়ে স্পিকার কর্তৃক নির্ধারিত সুবিধাজনক তারিখ ও সময়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সাক্ষাতের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।
সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী (এস কে সুর চৌধুরী)
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার সুর চৌধুরীকে (এস কে সুর চৌধুরী) তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সম্পদের হিসাব বিবরণী দাখিল না করায় আজ মঙ্গলবার তাঁকে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন এ রায় ঘোষণা করেন। দুদকের কৌঁসুলি আবুল কালাম আজাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সকালে কারাগার থকে এস কে সুরকে আদালতে হাজির করা হয়। সাজা ঘোষণার পর তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
এর আগে দুদক ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ১৫ জুলাই এ মামলার রায়ের দিন ধার্য করা হয়। দুদকের পক্ষে প্রসিকিউটর আবুল কালাম আজাদ যুক্তিতর্ক তুলে ধরে তাঁর সর্বোচ্চ তিন বছরের সাজা প্রার্থনা করেন আদালতের কাছে। আসামি পক্ষের আইনজীবী সরোজ কুমার হাওলাদার আসামির খালাস চান। মামলাটির বিচার চলাকালে আদালত সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন । আলোচিত পি কে হালদারের আর্থিক কেলেঙ্কারিতে নাম আসায় ২০২২ সালে এস কে সুরের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। ওই বছরের মার্চে তাঁকে দুদকে তলব করা হয়। এস কে সুর চৌধুরী ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ডেপুটি গভর্নরের পদ থেকে অবসরে যান।
২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
অভিযোগ আছে, এস কে সুর ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে আলোচিত এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদারের (পি কে হালদার) ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় সহযোগিতা করেছেন এবং সুবিধা নিয়েছেন।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, এসকে সুরের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ বা সম্পত্তির মালিক হওয়ার অভিযোগে তাঁর ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের স্বনামে বা বেনামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর বা অস্থাবর সম্পদ বা সম্পত্তি, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও তা অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করার জন্য সম্পদের হিসাব বিবরণীর নোটিশ জারি করা হয়। ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর নিজ স্বাক্ষরে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশসহ সম্পদ বিবরণী ফরম গ্রহণ করেন তিনি। তবে আদেশ পাওয়ার ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এস কে সুর, তার স্ত্রী সুপর্ণা সুর চৌধুরী ও কন্যা নন্দিতা সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৩ ডিসেম্বর দুদক মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন। ২৫ আস্ট তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক মো. আহসান উদ্দিন। ৬ নভেম্বর এস কে সুরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) দায়িত্ব পালন করা ৩২ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। ওই নির্বাচনটি ‘রাতের ভোট’ হিসেবে আলোচিত।
তারা সবাই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি পান। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। আজ সোমবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ-সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, তাদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হয়েছে। জনস্বার্থে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া প্রয়োজন বিবেচনায় সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে। বিধি অনুযায়ী তারা অবসরজনিত সব সুবিধা পাবেন।
ওই সময়ের ডিসিদের মধ্যে রয়েছেন—নেত্রকোণার ডিসি মঈনউল ইসলাম, কুমিল্লার ডিসি মো. আবুল ফজল মীর, বান্দরবানের ডিসি মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নাটোরের ডিসি মো. শাহরিয়ার, চাঁদপুরের ডিসি মো. মাজেদুর রহমান খান, শরীয়তপুরের ডিসি কাজী আবু তাহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডিসি এ জেড এম নুরুল হক, ময়মনসিংহের ডিসি মো. মিজানুর রহমান, চট্টগ্রামের ডিসি মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের ডিসি অঞ্জন চন্দ্র পাল, রাঙ্গামাটির ডিসি এ কে এম মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের ডিসি মো. কামাল হোসেন, কুষ্টিয়ার ডিসি মো. আসলাম হোসেন, শেরপুরের ডিসি আনার কলি মাহবুব।
এছাড়া তৎকালীন মানিকগঞ্জের ডিসি এস এম ফেরদৌস, চুয়াডাঙ্গার ডিসি গোপাল চন্দ্র দাশখাগড়াছড়ির ডিসি মো. শহিদুল ইসলাম, ফেনীর ডিসি মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বরিশালের ডিসি এস এম অজিয়র রহমান, ভোলার ডিসি মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পটুয়াখালীর ডিসি মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, সুনামগঞ্জের ডিসি মো. আব্দুল আহাদ, পাবনার ডিসি মো. জসিম উদ্দিন, ঝিনাইদহের ডিসি সরোজ কুমার নাথ, নীলফামারীর ডিসি নাজিয়া শিরিন, রাজশাহীর ডিসি এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার ডিসি মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের ডিসি মাহমুদুল কবীর মুরাদ, কিশোরগঞ্জের ডিসি মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর ডিসি সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার ডিসি মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, কুড়িগ্রামের ডিসি মোছা. সুলতানা পারভীনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর কাফরুলে যুবদলকর্মী ইউসুফ বেপারীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় জড়িত অভিযোগে এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের পরিকল্পনায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন। তবে সেদিন গুলিতে মারা যান ইউসুফ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নাহিদ হাসান, শাফিন আহমেদ, জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ ও আবির হাওলাদার। ধারাবাহিক অভিযানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি ও কাফরুল থানা পুলিশ। এর আগে ঘটনার পরপরই চঞ্চল মোল্লা নামে শুটারকে অস্ত্রসহ আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে জনতা।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে গতকাল সোমবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন হাফিজ। তবে ঘটনাচক্রে অস্ত্রধারীদের গুলিতে যুবদলকর্মী ইউসুফ নিহত এবং দুজন গুরুতর আহত হন।
তিনি জানান, হত্যার মিশনে ১১ জন অংশ নেয় বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে সরাসরি জড়িত চার শুটারসহ আটজনকে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে পলাতক মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজ। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার জন্য হাফিজ তাদের ঝিনাইদহ ও মাগুরা থেকে ভাড়া করে আনেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইউসুফ হত্যার ঘটনায় তাঁর বড় ভাই কাফরুল থানায় মামলা করেন। এর পরপরই ডিবি মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত শনিবার ডিবি মিরপুর এলাকা থেকে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর থেকে আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্যদিকে কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে জিহাদ মোল্লা এবং যশোরের বাঘারপাড়া থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয়রা কাফরুল থানায় সোপর্দ করেছিল।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের বরাতে ডিবি জানায়, গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাত আরও দুই-তিনজন ঢাকায় আসেন। তারা মিরপুর-১০ নম্বরের বৈশাখী হোটেলে ওঠেন এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে বৈঠক করেন। তখন আবির হাওলাদারের কাছ থেকে দুটি পিস্তল নিয়ে সেখানে হাজির হন হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে মিসফায়ার হলে সেদিন হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাঁকে শনাক্ত করেন। সেইসঙ্গে হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যান। ২২ জুলাই হাফিজের নির্দেশে তারা পুনরায় ঢাকায় এসে মিরপুর-২ নম্বরের সোনালী হোটেলে ওঠেন। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হন। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ গুলিভর্তি দুটি পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাত দুই-তিনজন বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর অফিসের সামনে অবস্থান নেন। হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করেন।
গত শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে কাফরুলের ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডে বাবু তাঁর কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন অপরিচিত কয়েকজনকে সন্দেহ হলে তিনি পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তল্লাশির চেষ্টা করলে তাদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে ইউসুফ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন আহত হন।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা? এমন প্রশ্নে ডিবিপ্রধান বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নেই। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে তাদের সন্ত্রাসী হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার আব্বাস ও ইব্রাহিমের যোগসাজশ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তবে অপরাধীরা নিজেদের প্রভাবশালী হিসেবে তুলে ধরতে অনেক সময় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নাম ব্যবহার করে।
যুবদল নেতা হাফিজুল ইসলাম বাবু সমকালকে বলেন, ময়লার টেন্ডার বা ফুটপাত দখল নিয়ে বিরোধের কথা পুরোপুরি মিথ্যা। হাফিজ শুটার ভাড়া করেছেন, কিন্তু তাঁর সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ নেই। তিনি অন্য কারও হয়ে কাজ করেছেন। তাঁকে পেলে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
অভিযুক্ত কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।