মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা গাড়ি-বাড়িসহ ১৩ সুবিধা পাবেন

বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে বছরে ১০ লাখ টাকা বীমা সুবিধা

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নিচ্ছেন নতুন মন্ত্রিসভার মন্ত্রীরা।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:১৮ পিএম

গাড়ি-বাড়ি, বেতন ও সম্পূর্ণ চিকিৎসা খরচসহ অন্তত ১৩ ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা। 


মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, চিফ হুইপ, হুইপ, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এসব সুবিধাভোগী হবেন। বিগত সরকারগুলোর মন্ত্রিসভার সদস্য ও উপদেষ্টারাও এসব সুযোগ-সুবিধা পেয়ে এসেছেন।


মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রীরা কী সুযোগ-সুবিধা পাবেন, তা নির্ধারণ করা আছে সংবিধানের দ্য মিনিস্টার্স এবং মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলাইজ) অ্যাক্টে। এর বাইরে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা সরকারের পক্ষ থেকে এমপিদের দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া রাজধানীতে যাদের থাকার স্থায়ী জায়গা নেই, তাদের অনেককে প্লটও বরাদ্দ দিয়েছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এবার এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।


বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান।গতকাল মঙ্গলবার এমপিদের শপথ গ্রহণ শেষে সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠক শেষে বিএনপির পক্ষ থেকেও একই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।


অতীতের রেওয়াজ থেকে এটা বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন বলে মনে করছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। 


তিনি বলেন, শুল্কমুক্ত গাড়ি ও প্লট সুবিধা না নেওয়ার ঘোষণা খুবই ভালো একটা উদ্যোগ। পাশাপাশি এটাও বলব, জুলাই সনদে ৩২টি রাজনৈতিক দল স্বাক্ষর করেছে।


সেখানে ৭৪ নম্বর ধারায় বলা আছে, যে কোনো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে তাঁর এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব দেবেন। সেটা নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে দেওয়া থাকবে। এভাবে প্রতি বছর তারা সম্পদের হিসাব দেবেন। এখন আমাদের কাজ হবে তারা এগুলো করছে কিনা ফলোআপ করা।


রাষ্ট্রীয় মর্যাদাক্রম অনুযায়ী চিফ হুইপ এবং সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন। হুইপরা ভোগ করেন প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা। স্পিকারের পদমর্যাদা প্রধানমন্ত্রীর পরই। এ ছাড়া ডেপুটি স্পিকার মন্ত্রীর মর্যাদা পেয়ে থাকেন। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন।


বেতন-বাড়ি


একজন মন্ত্রী পদমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ এক লাখ পাঁচ হাজার টাকা, প্রতিমন্ত্রী ৯২ হাজার টাকা এবং উপমন্ত্রী ৮৬ হাজার ৫০০ টাকা পাবেন। দায়িত্ব নেওয়ার পরই তারা সরকারি ব্যয়ে সুসজ্জিত বাসভবন পাবেন বিনা ভাড়ায়। এ ছাড়া যখন প্রয়োজন বাসার সব মেরামতও সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে। প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। তবে তারা কেউ সরকারি বাড়িতে থাকতে না চাইলে একজন মন্ত্রী বাসা ভাড়া বাবদ মাসে ৮০ হাজার টাকা পাবেন। প্রতিমন্ত্রী-উপমন্ত্রী পাবেন ৭০ হাজার টাকা। নিজ বাড়ি বা ভাড়া বাড়িতে থাকলে ব্যবস্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তিন মাসের বাড়ি ভাড়ার সমপরিমাণ টাকা তারা প্রতিবছর পাবেন। বাসভবনের বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি ও টেলিফোনের যাবতীয় খরচ সরকার বহন করবে। সরকারি বাড়ির সাজসজ্জার জন্য একজন মন্ত্রী পাঁচ লাখ এবং প্রতিমন্ত্রী চার লাখ টাকা পাবেন প্রতিবছর।


গাড়ি সুবিধা


মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা সরকারি খরচে গাড়ি পাবেন। সরকারের পরিবহন পুল থেকে এই গাড়ি সরবরাহ করা হবে। প্রতিদিন ১৮ লিটার জ্বালানি তেল বা সমপরিমাণ অর্থ পাবেন গাড়ির জ্বালানি বাবদ। সরকারি প্রয়োজনে বা নির্বাচনী এলাকায় ভ্রমণের সময় মন্ত্রণালয়ের অধীন যে কোনো সংস্থা বা দপ্তর থেকে একটি জিপ পাবেন তারা। দেশের ভেতরে কোথাও ভ্রমণে গেলে দৈনিক ভাতা পাবেন দুই হাজার টাকা করে। উপমন্ত্রী পাবেন দেড় হাজার টাকা। বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে বছরে ১০ লাখ টাকা বীমা সুবিধা পাবেন তারা।


মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের সহায়ক ব্যক্তি সুবিধা


একজন মন্ত্রী তাঁর পছন্দ অনুযায়ী উপসচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে পাবেন। এ ছাড়া তারা একজন সহকারী একান্ত সচিব পাবেন। পাবেন দুজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা। এগুলো তাদের পছন্দমতো ব্যক্তিকে তারা নিয়োগ দিতে পারবেন। এ ছাড়া একজন জমাদার, একজন আরদালি, দুজন অফিস সহায়ক ও একজন বাবুর্চি পাবেন। প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রে এসব সুবিধা কিছুটা কম পাবেন। দুজনের পরিবর্তে একজন অফিস সহকারী, একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তা পাবেন তারা।


চিকিৎসা


মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের কেউ অসুস্থ হলে চিকিৎসার পুরো ব্যয়ভার সরকার বহন করবে। সেই খরচের কোনো সীমা আইনে বেঁধে দেওয়া নেই। তবে চিকিৎসা খরচের ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হবে।


আপ্যায়ন


দেশি-বিদেশি অতিথিদের আপ্যায়নের জন্য একজন মন্ত্রী মাসে ১০ হাজার টাকা করে আপ্যায়ন ভাতা পাবেন। আর প্রতিমন্ত্রী পাবেন সাড়ে সাত হাজার টাকা। উপমন্ত্রী পাবেন পাঁচ হাজার টাকা।


এলাকার উন্নয়নে বরাদ্দ


নিজের নির্বাচনী এলাকার মসজিদ, মন্দির উন্নয়নসহ এলাকার মানুষের দাতব্য কাজে একজন মন্ত্রী বছরে ১০ লাখ টাকা, প্রতিমন্ত্রী পাবেন সাড়ে সাত লাখ এবং উপমন্ত্রী পাবেন পাঁচ লাখ। এ টাকার মধ্যে একজন মন্ত্রী চাইলে একজন ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা দিতে পারেন। প্রতিমন্ত্রী দিতে পারবেন ৩৫ হাজার ও উপমন্ত্রী দিতে পারবেন ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বেতন ও সুবিধাদি নির্ধারণ করা রয়েছে দ্য প্রাইম মিনিস্টার্স (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্টের মাধ্যমে। 


সেখানে বলা আছে, একজন প্রধানমন্ত্রী মাসে এক লাখ ১৫ হাজার টাকা পারিশ্রমিক পাবেন। এর সঙ্গে বাড়ি ভাড়া হিসেবে পাবেন এক লাখ টাকা। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিনোদনের জন্য ব্যয় করা সম্পূর্ণ অর্থই তিনি পাবেন ভাতা হিসেবে। তাঁর অফিস থেকে বাসা এবং বাসা থেকে অফিসে যাতায়াতের সব খরচও বহন করবে রাষ্ট্র। এ ছাড়া তিনি আরও অনেক সুবিধা রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী হিসেবে পেয়ে থাকেন। 


এমপিদের সুযোগ-সুবিধা


এমপিরা মাসে বেতন হিসেবে ৫৫ হাজার টাকা পেয়ে থাকেন। তবে অতীতে দেখা গেছে, বেতনের বাইরেও এলাকার উন্নয়নে তাদের পৃথকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা খাত দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা বরাদ্দের নজির রয়েছে। এ ছাড়া তারা শুল্কমুক্ত গাড়ি নিয়েছেন। প্লটও পেয়েছেন অনেকে।




হাওড়া ফিশ মার্কেটের ইলিশ

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩৯ পিএম

বাংলাদেশের ইলিশের জন্য মুখিয়ে থাকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। প্রতিবছর দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হবে কিনা, তা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বাজারে তৈরি হয় আগ্রহ। অথচ এবার পরিস্থিতি পুরোপুরি উল্টো। দেশের বাজারের ঘাটতি মেটাতে ভারত থেকেই ইলিশ আসছে ‘ইলিশের দেশে’। 


চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে আগস্টেই এসেছে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি। জুলাইয়ে এসেছিল ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি। আমদানি করা এসব ইলিশের ঘোষিত মূল্য প্রায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা।


বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ইলিশ উৎপাদনকারী দেশ বাংলাদেশ। বিশ্বে মোট ইলিশ উৎপাদনের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ ভাগ বাংলাদেশে হয় বলে জানিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। দেশের নদনদী ও বঙ্গোপসাগর ইলিশের অন্যতম প্রধান বিচরণক্ষেত্র। সেই বাংলাদেশের বাজারেই এখন ভারতীয় ইলিশের সরবরাহ বাড়ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেশে ইলিশের জোগান কমে যাওয়ায় চাহিদা মেটাতে আমদানি করতে হচ্ছে।


ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা ও হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই মাসে ভারত থেকে প্রায় ৫০০ টন ইলিশ বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে। হাওড়া পাইকারি ফিশ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সৈয়দ আনোয়ার মকসুদকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বাংলাদেশে এবার ইলিশের ঘাটতি থাকায় প্রথমবারের মতো হাওড়া বাজার থেকেও ইলিশ রপ্তানি হয়েছে। সাধারণত হাওড়া থেকে বাংলাদেশে রুই, পারসে, ট্যাংরাসহ বিভিন্ন মাছ যায়।


গুজরাটের ইলিশের ক্ষেত্রেও এবার ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গুজরাটে এবার ইলিশের জোগান ভালো হওয়ায় তুলনামূলক কম দামে মাছ পাওয়া যাচ্ছে। ডিমওয়ালা ইলিশের চাহিদা থাকায় এসব মাছ বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলে ইলিশের ডিম আলাদা করে বিক্রি এবং কিছু মাছ নোনা ইলিশ হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে। আরও ১০০ থেকে ১৫০ টন ইলিশ বাংলাদেশে পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও ভারতীয় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।


বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই ও আগস্ট মাসে মোট ২২টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ইলিশ এনেছে। জুলাইয়ে তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। আমদানি করা এসব মাছের ঘোষিত মূল্য ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা।


জুলাইয়ে আমদানি মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা। বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, প্রথম দুই মাসে ৩ লাখ ৫২ হাজার ৭৮৬ কেজি ইলিশ আমদানি হয়েছে। মাছ পরীক্ষা করে কোয়ারেন্টাইন সনদ দেওয়া হয়েছে। 


বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি এবং আগস্টে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি ভারতীয় ইলিশ আমদানি হয়েছে। কাস্টমসের ছাড়পত্র ও বন্দরের শুল্ক আদায়ের পর আমদানিকারকরা বাংলাদেশি ট্রাকে করে এসব মাছ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গেছেন।


বেনাপোল, যশোরের বড় বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে এখন আমদানি করা ইলিশের সরবরাহ বেড়েছে। এসব মাছের বড় অংশ ভারতীয় ইলিশ বলে সরকারি কর্মকর্তারা জানালেও স্থানীয় বাজারে কিছু ব্যবসায়ী এগুলোকে মিয়ানমারের ইলিশ বলছেন। আবার ক্রেতাদের অভিযোগ, ভারত বা মিয়ানমার থেকে আসা মাছকে পদ্মা, চাঁদপুর, বরিশাল কিংবা চট্টগ্রামের ইলিশ বলে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।


ব্যবসায়ীদের তথ্য অনুযায়ী, ১ কেজি ২০০ থেকে ১ কেজি ৩০০ গ্রাম ওজনের দেশি ইলিশ বর্তমানে কেজিপ্রতি ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিপরীতে একই ধরনের আমদানি করা ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। কম দামে বড় মাছ পাওয়ায় অনেক ক্রেতা আমদানি করা ইলিশের দিকে ঝুঁকছেন। এতে দেশি ইলিশের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে দাবি করেছেন তারা।


যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, আমদানি করা মাছ দেশি বলে বিক্রি করার বিষয়টি মৎস্য আইনের আওতায় সরাসরি পড়ে না। ফলে আমরা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছি না। 


বিশ্বে ইলিশ উৎপাদনে শীর্ষ অবস্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য এই পরিস্থিতিকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। মৎস্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, বাংলাদেশের নদীগুলোতে দূষণ ও নাব্য সংকট দীর্ঘদিনের। এর সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যুক্ত হওয়ায় ইলিশের আবাস ও চলাচলের ওপর চাপ বাড়ছে। 


বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন কমে গিয়ে যদি বাজারের চাহিদা পূরণে প্রতিবেশী দেশের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে এটি ইলিশের জন্য বড় হুমকি।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৯ পিএম

‘ডোপ টেস্ট’-এ মাদকের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় পুলিশ অধিদপ্তরের পুলিশ সুপার (টিআর) আ ফ ম নিজাম উদ্দিনকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি রংপুর রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১০ সেপ্টেম্বর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। 


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মিরপুর সেনানিবাসে ‘ডিএসসিএসসি-২০২৬’ কোর্সে অংশ নিতে গত ৮ জানুয়ারি পুলিশ অধিদপ্তর থেকে যান নিজাম উদ্দিন। কোর্স চলাকালে গত ৭ জুন তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে আনুষঙ্গিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হিসেবে নিজাম উদ্দিনের ‘ডোপ টেস্ট’ করা হয়। পরীক্ষায় ‘পজিটিভ’ আসে, যা এই কোর্সের শৃঙ্খলা পরিপন্থী।


সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী, নিজাম উদ্দিনকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সাময়িক বরখাস্তকালে নিজাম উদ্দিন বিধি অনুযায়ী খোরপোশ ভাতা পাবেন।


জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।


নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৩৭ পিএম

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি থেকে শুরু হবে। শিগগিরই ঘোষণা করা হবে নির্বাচনের তফসিল। এ কথা জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। তবে কবে নাগাদ তফসিল ঘোষণা করা হবে- সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা তিনি জানাননি। 


ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার ব্যাপারে ইসির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি।


আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে আইন পরিবর্তন না হয়, তবে আমরা বিদ্যমান আইন অনুযায়ীই স্থানীয় নির্বাচন পরিচালনা করব।’


স্থানীয় নির্বাচনের তফসিল সেপ্টেম্বর বা অক্টোবরে ঘোষণা করা হবে কি না- এমন প্রশ্নের কোনো মন্তব্য না করে তিনি বলেছেন, শিগগিরই ইসি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে।


এর আগে ৬ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকারের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। চলতি মাসেই এ নির্বাচনের বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করা হবে। 


আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আরও জানিয়েছিলেন, ‘আমরা আশা করছি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়েই স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরু হবে। ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন একটা পর্যায়ে গেলে আমরা সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো করব।’


ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের তফসিল কবে হবে- সে বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই মাসের মধ্যেই আপনারা অনেক কিছু দেখবেন এবং অনেক কিছুই আমরা সুনির্দিষ্টভাবে বলতে পারব। আমাদের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ খুব দ্রুত গতিতে চলছে।’ 


এ নির্বাচনের তফসিল এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে জানানো হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক, বৃত্তি ও টেস্ট পরীক্ষাসহ নানা ব্যস্ততা থাকে। ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহৃত হয় এবং শিক্ষকরাই প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেন। তাই পরীক্ষার সময়গুলো বাদ দিয়ে, আগে বা পরে নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তবে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকা নির্বাচনগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


তিনি বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে আমরা এবার আরও সাহসী পদক্ষেপ নিচ্ছি। সব ভোটকেন্দ্র সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুভমেন্ট দ্রুত করতে ড্রোন ব্যবহারের পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হবে। এছাড়া অপতথ্যের ঝুঁকি মোকাবিলাতেও আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।


আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও আচরণবিধিতে কিছু কড়াকড়ি থাকছে। ভিআইপিরা যেন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে না পারেন, সেটির বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া পচনশীল নয় এমন দ্রব্য বা পোস্টারের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। কিছুদিনের মধ্যেই এ সংক্রান্ত সংশোধিত আচরণবিধির প্রজ্ঞাপন জারি হবে।


এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রার্থী হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিলে সহকর্মীরা তার পক্ষে কাজ করেন, যা ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দেয়। শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখতে এবং শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার স্বার্থে তারা যেন নির্বাচনে অংশ না নেন, এমন একটি পর্যবেক্ষণ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ইসি।


মেট্রোরেল

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১১:২৮ এএম

অবশেষে ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের লাইন-৫-এর দক্ষিণাঞ্চলীয় রুট অনুমোদনের জন্য উঠছে। আগামী বুধবার অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করছে পরিকল্পনা কমিশন। একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করবেন। 


প্রকল্পের উন্নয়ন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাজধানীর পশ্চিম অংশ গাবতলী থেকে পূর্ব অংশ দাশেরকান্দিতে যাওয়া যাবে মাত্র ২৮ মিনিটে। পরিবহন ব্যয়ও কমবে। রুটে প্রতিদিন যাতায়াত করবেন ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী। প্রতিটি ট্রেনে যাত্রী ধারণক্ষমতা দুই হাজার ৩১২ জন। ২১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। সড়কে গাড়ি চলাচল কমবে ১ হাজার ৪৯টি। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে বাতাসে ২ লাখ ৮ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারবে এ প্রকল্প।


২০৩০ সালের জুনে এই মেট্রোরেল নগরবাসীর ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০৩২ সাল পর্যন্ত। এটি মেট্রো লাইন-৫ (উত্তর) ও মেট্রো লাইন-২-কে সংযুক্ত করবে। এর ফলে গোটা রাজধানীই মেট্রোরেল অবকাঠামোর আওতায় আসবে। 


মেট্রোরেল-৫ (দক্ষিণ) লাইনের রুট পরিকল্পনায় দেখা যায়, মোট স্টেশন থাকছে ১৫টি। গাবতলী থেকে টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজগেট, আসাদগেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল, তেজগাঁও, আফতাবনগর, আফতাবনগর সেন্টার, আফতাবনগর পূর্ব, নাছিরাবাদ ও সর্বশেষ স্টেশন হবে দাশেরকান্দি। দৈর্ঘ্য হবে ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথ। উড়ালপথ ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার। পাতাল স্টেশন হবে ১১টি। উড়াল স্টেশন চারটি। 


সূত্র বলছে, এমআরটি লাইন-৫ (দক্ষিণ) প্রকল্পটি অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছে বর্তমান সরকার। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিএনপির পক্ষ থেকে যোগাযোগ ও পরিবহন খাত নিয়ে যে রূপরেখা দেওয়া হয়, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ঢাকার যানজট নিরসনে মেট্রোরেল ব্যবস্থার সম্প্রসারণ। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, মৌলিক প্রকৌশল নকশা, দরপত্র, ভূমি অধিগ্রহণ পরিকল্পনা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন-সংক্রান্ত পরিকল্পনার কাজ শেষ করা হয়েছে আগেই। 


গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হাদীউজ্জামান বলেন, প্রকল্পটি অবশ্যই গণমুখী। তবে অন্য মেট্রোরেল প্রকল্পের তুলনায় এ প্রকল্পে যাত্রী চাহিদা তুলনামূলক কম। প্রতিটি স্টেশনের সঙ্গে আন্তঃসংযোগের বিষয়টি প্রকল্পভুক্ত করতে হবে, যাতে প্রকল্পটি আরও বেশি গণমুখী হয়। প্রকল্পটির বড় অংশ পাতাল হওয়ায় নির্মাণ ও পরিচালনও চ্যালেঞ্জিং। সে বিষয়েও সতর্কতা প্রয়োজন।


পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির শুরুর দিকে প্রাক্কলিত ব্যয়ের চেয়ে ৭ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা কমিয়ে প্রস্তাব পুনর্গঠন করা হয়েছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়া সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কোঅপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ) এ প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে। আগের প্রাক্কলনে মোট ব্যয় ধরা হয় ৫৫ হাজার কোটি টাকা। এবার ব্যয় ধরা হচ্ছে ৪৭ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা। এই ব্যয়ে এডিবি ও ইডিসিএফ দিচ্ছে ৩২ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা সরকারের নিজস্ব জোগান। 


প্রকল্পে বিদেশি অর্থায়ন বিষয়ে উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, আলোচনা ও চুক্তি করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। ইআরডির অতিরিক্ত সচিব এস এম জাকারিয়া হক বলেন, এ বিষয়ে এডিবির সঙ্গে আগেই কাঠামো চুক্তি হয়েছিল। নতুন করে আবার এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 


গাবতলী থেকে আফতাবনগর হয়ে দাশেরকান্দি পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ ‍সালে। ২০২২ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করা হয়। এ বাবদ এবং ডিটেইল্ড ডিজাইনে মোট ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রকল্পটির অনুমোদন আটকে যায়। পরে ব্যয় কমিয়ে একনেকে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা হলেও অন্তর্বর্তী সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সাড়া না পাওয়ায় একনেকে ওঠানো যায়নি। 


জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, বর্তমান সরকার প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে চাইছে। উন্নয়ন সহযোগীরাও তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনেছে। নগরবাসীর যোগাযোগ উন্নয়ন এবং যানজট থেকে মুক্তির জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উদ্যোগ।


রাজধানীতে যানজটের সমস্যা কমাতে সরকারি গণপরিবহন নেটওয়ার্ক হিসেবে পাঁচটি মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। মেট্রোরেল-৬ এরই মধ্যে চালু হয়েছে, যা নগর যাতায়াতে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।


আইজিপি আলী হোসেন ফকির

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪০ পিএম

১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা যাকে হত্যা করে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছিল, সেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ ফকিরের রক্ত ও ত্যাগের উত্তরাধিকার আজ স্বাধীন বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ আসনে।


অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে যাঁর পুত্র আলী হোসেন ফকির আজ বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে বহুমুখী সংস্কার প্রচেষ্টা এবং সমান্তরালে তীব্র অপপ্রচার। 


এই লড়াই কেবল একজন ব্যক্তির পদ রক্ষার লড়াই নয়, বরং একটি স্বাধীন দেশের পুলিশ বাহিনীকে দল দাসত্ব থেকে মুক্ত করে 'জনগণের পুলিশ' হিসেবে গড়ে তোলার ঐতিহাসিক লড়াই।


বাবার মাথাবিহীন কবরের ছায়া থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বে 


১৯৭১ সালে শহীদ নূর মোহাম্মদ ফকিরকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাঁর পরিবার একটি মাথাবিহীন মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হয়েছিল। যে শিশুটি সেদিন পিতৃহীন শৈশব পার করেছিল, আজ তিনি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্বে। 


স্বাধীন দেশের মাটিতে বড় হওয়া সেই সন্তান আলী হোসেন ফকিরের কাঁধে এখন পুলিশ বাহিনীকে জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত করার বিশাল দায়। 


স্বাধীনতার মূল্য যে পরিবার রক্ত দিয়ে পরিশোধ করেছে, সেই পরিবারের উত্তরসূরির হাত ধরেই আজ রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কঠিন দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।


সংস্কারের চ্যালেঞ্জ ও জনগণের পুলিশ গড়ার অঙ্গীকার


বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ বাহিনীকে অতীতের বিতর্কিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বের করে আধুনিক, পেশাদার, জবাবদিহিমূলক ও জনগণবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা থানা হবে বিচার চাওয়ার নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না।


পুলিশ কোনো ব্যক্তি, দল বা ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত বাহিনী না হয়ে প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে কাজ করবে এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর। কিন্তু দীর্ঘদিনের চর্চিত ক্ষমতা ও সুবিধার সংস্কৃতিতে যখন আঘাত লাগে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই স্বার্থান্বেশী মহল থেকে প্রতিরোধ ও ষড়যন্ত্রের সৃষ্টি হয়।


অপপ্রচার, কুৎসা ও সত্য উদঘাটনের দাবি


সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও কুৎসা ছড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য-প্রমাণের চেয়ে রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে অতীতের সুবিধাভোগী ও পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রের অর্থায়নের গুঞ্জন রয়েছে। 


সচেতন মহল মনে করেন, আলী হোসেন ফকির সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন এবং তাঁর কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি; তবে প্রমাণ ছাড়া অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কখনো ন্যায়বিচার বা সাংবাদিকতা হতে পারে না।

 

প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে কে বা কারা অর্থ দিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।


ব্যক্তি আলী হোসেন ফকিরকে টিকিয়ে রাখা এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য নয়; বরং পুলিশ বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার এবং জনগণের পুলিশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আসল কথা। 


শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো এমন একটি পুলিশ বাহিনী তৈরি করা, যার পোশাক দেখলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত নয়, বরং নিরাপদ বোধ করবে। মিথ্যা, কুৎসা ও ষড়যন্ত্রকে পেছনে ফেলে পুলিশ যেন সত্যিকার অর্থেই জনগণের প্রজাতন্ত্রের বাহিনী হয়ে উঠতে পারে এটাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।


আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩০ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। আজ রোববার কমিশন নতুন অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের অনুমোদন দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আগের নিয়োগ, বদলি, পদায়নে দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে নতুন অভিযোগগুলোরও অনুসন্ধান হবে। দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। 


দুদুকে আসা নতুন অভিযোগগুলো হলো- 


দুদুক জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ এসেছে। 


এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণেরও অভিযোগ রয়েছে।   


দুদুকে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তিনি নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে টেন্ডার বাণেজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন। 


দুদকে আসা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ, ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করেন। তিনি হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও গাড়িতে যাতায়াত করেছেন। দুর্নীতির টাকা দিয়ে তিনি পর্তুগালে জমি ক্রয়, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ ও সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন। 


আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, তিনি দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার ০০০ কোটি টাকা ও সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয় ও বিভিন্ন ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেছেন। তার দুই বোন জামাই ও ভাগ্নের মাধ্যমে তিনি বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন। 


গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তার নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকল্পটির বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ। তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন। 


এছাড়া তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। 


দুদক জানিয়েছে- আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এসব অভিযোগ নথিভুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।