মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ

  • প্রকাশ : শনিবার ২৭ জুন, ২০২৬, সময় : ১২:০১ এএম

মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিল এবং ওই পদে পাওয়া সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে একজন প্রবীণ চিকিৎসক ও শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে দেখছেন চিকিৎসক সমাজ, শিক্ষাবিদ, সাবেক শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ। 


তারা বলেছেন, প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কোনো ত্রুটি থাকলেও তার দায় একজন ইমেরিটাস অধ্যাপকের ওপর চাপানো উচিত নয়। প্রশাসনিক কোনো ত্রুটি থাকলেও একজন গুণী শিক্ষক ও চিকিৎসকের সম্মান ক্ষুণ্ন না করেই বিষয়টির সমাধান করা যেত।


গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তফা কামাল স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে বলা হয়, অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহকে আজীবনের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার প্রক্রিয়া বিধিবহির্ভূত ছিল। এ কারণে তার আজীবন নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৪ সালের ২০ জুন থেকে ওই পদে উত্তোলিত সব বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বিষয়টি নিয়ে গত দুই দিন ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চিকিৎসক, সাংবাদিক, গবেষক এবং সাধারণ মানুষের দেওয়া পোস্টে ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর দীর্ঘ চিকিৎসাসেবা, শিক্ষকতা, ব্যক্তিগত সততা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি তার দায়বদ্ধতার কথা উঠে এসেছে। ডা. আব্দুল্লাহর আজীবন ইমেরিটাস অধ্যাপক নিয়োগ বাতিলের সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া অধিকাংশ পোস্টেই তাকে ‘দল-মতের ঊর্ধ্বে একজন চিকিৎসক’, ‘গরিবের ডাক্তার’ এবং ‘জাতীয় সম্পদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই লিখেছেন, একজন চিকিৎসক হিসেবে ডা. আব্দুল্লাহ কখনো রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়, বরং তার পেশাগত সততা ও মানবিকতার জন্য মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছেন। অনেকে লিখেছেন, জাতীয় অধ্যাপক কোনো চাকরি নয়; এটি একজন শিক্ষকের সারাজীবনের গবেষণা, শিক্ষা ও একাডেমিক অবদানের স্বীকৃতি। ফলে এমন সম্মান প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে আরও সংবেদনশীলতা প্রয়োজন ছিল। তাদের মতে, এসব সম্মান দেওয়ার ক্ষেত্রেও যেমন যোগ্যতাই একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত, তেমনি কোনো প্রশাসনিক ত্রুটি থাকলেও তা সংশোধনের সময় একজন গুণী মানুষের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। দেশের লাখো মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে পরিচিত একজন চিকিৎসককে এভাবে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মুখোমুখি করা জাতির জন্য সুখকর বার্তা নয়।


সবচেয়ে বেশি সমালোচনা তার ভাতা ফেরতের নির্দেশকে ঘিরে। ভাতা ফেরতের নিদের্শের সমালোচনা করে চিকিৎসকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বলেছেন, ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে যে সম্মান ও ভাতা তিনি পেয়েছেন, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই গ্রহণ করেছেন। এখন সেই অর্থ ফেরত চাওয়া আইনগতভাবে কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনেকে বলেছেন, কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত পরে বাতিল হলেও এরই মধ্যে প্রদত্ত সম্মানী বা আর্থিক সুবিধা ফেরত চাওয়ার নিচু মানসিকতার পরিচয়। এক্ষেত্রে সুস্পষ্ট আইনগত ভিত্তি থাকা প্রয়োজন।


বহু চিকিৎসক লিখেছেন, অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন মূলত তার পেশাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং চিকিৎসক হিসেবে গ্রহণযোগ্যতার কারণে। একজন রাষ্ট্রপ্রধান তার চিকিৎসক হিসেবে যাকে বেছে নেন, সেটি রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে পেশাগত আস্থার বিষয় বলেই তারা মনে করেন। একজন চিকিৎসক ফেসবুকে লেখেন, ‘ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ স্যারের মতো একজন মানুষের সারাজীবনের অবদানকে মূল্যায়ন না করে কেবল একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত দিয়ে বিচার করা ঠিক নয়।’


যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলছে, বিষয়টি কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে নয়; বরং বিধিবহির্ভূতভাবে গৃহীত একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত সংশোধনের অংশ। তবে এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সমালোচকরা। তাদের মতে, প্রশাসনিক শুদ্ধতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি একজন বরেণ্য চিকিৎসক, শিক্ষক ও গবেষকের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার বিকল্প পথও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে খোলা ছিল। তাদের মতে, গুণী মানুষকে সম্মান জানানো শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান জানানো নয়; গুণীজনদের মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সেটি শুধু একজন ব্যক্তির নয়, রাষ্ট্রের মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করে।


গুণী মানুষের মর্যাদাহারি এবং গরিবের ডাক্তারকে অসম্মান হিসেবেও দেখছেন অনেকে। তাদের মতে, ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ দীর্ঘদিন কম টাকায় রোগী দেখা, দরিদ্র মানুষের চিকিৎসক এবং শিক্ষার্থীদের কাছে সহজপ্রাপ্য শিক্ষক হিসেবে পরিচিত। তার সাবেক শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের অনেকে লিখেছেন, চিকিৎসক হিসেবে ব্যক্তিগত সততা, সাদাসিধে জীবনযাপন এবং মানবিক আচরণের কারণে তিনি দেশের অন্যতম গ্রহণযোগ্য চিকিৎসকে পরিণত হয়েছেন। তার মতো এমন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিকিৎসকের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সময় তার সারাজীবনের অবদানকে বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।


রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি নিয়েও প্রশ্ন: সমালোচকদের একটি অংশ মনে করছে, বিষয়টি এখন আর শুধু একজন অধ্যাপকের নিয়োগ বাতিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে তাদের গুণী মানুষদের মূল্যায়ন করে, সেই প্রশ্নও সামনে নিয়ে এসেছে। জাতীয় অধ্যাপক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক হওয়ার মতো সম্মান একজন শিক্ষক জীবনের দীর্ঘ সাধনা, গবেষণা ও শিক্ষাদানের মাধ্যমে অর্জন করেন। তখন তার ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দেশের জন্য তার অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাই বড় সম্পদ হয়ে ওঠে। তাই এসব পদে নিয়োগ কিংবা পদ বাতিলের ক্ষেত্রে দল, মত বা রাজনৈতিক পরিচয়ের পরিবর্তে একজন শিক্ষকের সামগ্রিক অবদানই প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত।


সামজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একজন লিখেছেন, এটি কোনো ভালো সিদ্ধান্ত নয়। তিনি শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ছিলেন মূলত উনার পেশাগত উৎকর্ষতার কারণে। দলীয় পরিচয়ে নয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় তাকে অসম্মান করা দেশের জন্য অসম্মান। দলীয় প্রতিহিংসার কারণে উনার নিয়োগ বাতিল করলেও উত্তোলিত অর্থ ফেরত চাওয়া প্রচলিত আইন ও বিধির পরিপন্থি।


আরেকজন লিখেছেন, জানি না, কে বা কার পরামর্শে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে আমার কাছে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও অপ্রয়োজনীয় বলে মনে হয়েছে। অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ আমাদের জাতীয় সম্পদ। তিনি সারা জীবন মানুষের সেবা, চিকিৎসা শিক্ষা এবং মানবকল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। অর্থ-বিত্ত বা রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা—কোনোটিই কখনো তার পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠেনি। একজন অধ্যাপক হয়েও তিনি আজীবন সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থেকেছেন। তিনি রোগী দেখার জন্য কত সামান্য ফি নিতেন, কত অসহায় মানুষকে বিনা পারিশ্রমিকে চিকিৎসা দিয়েছেন—এসব দেশের মানুষ ভালো করেই জানে। এমন একজন সহজ সরল সাদা মনের মানব হিতৈশী দেশপ্রেমিক ডাক্তারকে অসম্মানিত করে আমরা খুবই ছোট মনের পরিচয় দিলাম।


এক চিকিৎসক লিখেছেন, অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের কাছে দলমতের ঊর্ধ্বে একজন গ্রহণযোগ্য চিকিৎসা ব্যক্তিত্ব। বহু অধ্যাপকের শিক্ষক। তার এমিরেটাস অধ্যাপক পদ বাতিলের বিষয়টি একেবারেই অপ্রয়োজনীয় এবং ব্যক্তিগত আক্রোশের ফল বলে মনে হয়। এই অনর্থক সিদ্ধান্তের কারণে বিএমইউ ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে আমি মনে করি।


এক গণমাধ্যমকর্মী লিখেছেন, অসম্ভব জ্ঞানী (মেডিকেল বিষয়ে), গুণী, বিনয়ী এবং সত্যিকারের সেবার ব্রত আছে তার মধ্যে। তার চেম্বারে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত নামে পৃথক প্রেসক্রিপশন হতো বলে জানা নেই! সেই প্রেসক্রিপশনও আবার ৩০০ টাকার বিনিময়ে! গুণী মানুষ ‘কদর’ পায় না এদেশে। আগেও পায়নি, এখনো না এবং নিশ্চিত করে বলতে পারি দলীয় নষ্টামির এই প্র্যাকটিস চলতে থাকবে। সে কারণেই যোগ্যরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে বাঁচে। কী বা করবে! এ বি এম আব্দুল্লাহ, কষ্ট নেবেন না। নষ্ট দেশের ভ্রষ্ট আর অযোগ্যরা, তাদের চারপাশে কেবল সমমানের মানুষগুলোকেই দেখতে চায়। সরি, স্যার। ভালো থাকবেন।


অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ দেশের চিকিৎসা অঙ্গনের অন্যতম উজ্জ্বল নাম: অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ দেশের চিকিৎসা জগতের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে তিনি অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং মেডিসিন অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার তত্ত্বাবধানে দেশের শত শত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ তৈরি হয়েছেন।


চিকিৎসাসেবা, গবেষণা এবং চিকিৎসা শিক্ষায় অবদানের জন্য তিনি দেশি-বিদেশি বহু সম্মাননা অর্জন করেছেন। ২০১৬ সালে একুশে পদক, ২০১৭ সালে বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক ফেলোশিপ, ইউজিসি প্রফেসরশিপ, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট অ্যাওয়ার্ড, মেহের কবীর বিজ্ঞানসাহিত্য পুরস্কারসহ বহু স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি। মেডিসিনের আন্তর্জাতিক পাঠ্যপুস্তক ডেভিডসনস প্রিন্সিপলস অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব মেডিসিনের ২৪তম সংস্করণের উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্যও ছিলেন তিনি।


করোনা মহামারির সময় গণমাধ্যমে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দিয়ে এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ব্যাপক প্রশংসীত হয়েছিলেন। কম খরেচ রোগী দেখা ও দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কারণে তিনি ‘গরিবের ডাক্তার’ হিসেবেও পরিচিত। ২০২২ সালে তাকে তিন বছরের জন্য বিএসএমএমইউর ইমেরিটাস অধ্যাপক করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট তাকে আজীবনের জন্য ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে তিনিই প্রথম এই সম্মান অর্জন করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, এই স্বীকৃতি তাকে শিক্ষা, গবেষণা ও লেখালেখিতে আরও বেশি অবদান রাখতে উৎসাহিত করবে।




আইজিপি আলী হোসেন ফকির

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪০ পিএম

১৯৭১ সালের উত্তাল দিনগুলোতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা যাকে হত্যা করে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে নিয়েছিল, সেই শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ ফকিরের রক্ত ও ত্যাগের উত্তরাধিকার আজ স্বাধীন বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীর সর্বোচ্চ আসনে।


অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে যাঁর পুত্র আলী হোসেন ফকির আজ বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), তাঁকে ঘিরে শুরু হয়েছে বহুমুখী সংস্কার প্রচেষ্টা এবং সমান্তরালে তীব্র অপপ্রচার। 


এই লড়াই কেবল একজন ব্যক্তির পদ রক্ষার লড়াই নয়, বরং একটি স্বাধীন দেশের পুলিশ বাহিনীকে দল দাসত্ব থেকে মুক্ত করে 'জনগণের পুলিশ' হিসেবে গড়ে তোলার ঐতিহাসিক লড়াই।


বাবার মাথাবিহীন কবরের ছায়া থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বে 


১৯৭১ সালে শহীদ নূর মোহাম্মদ ফকিরকে নৃশংসভাবে হত্যার পর তাঁর পরিবার একটি মাথাবিহীন মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হয়েছিল। যে শিশুটি সেদিন পিতৃহীন শৈশব পার করেছিল, আজ তিনি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল দায়িত্বে। 


স্বাধীন দেশের মাটিতে বড় হওয়া সেই সন্তান আলী হোসেন ফকিরের কাঁধে এখন পুলিশ বাহিনীকে জনগণের আস্থার প্রতীকে পরিণত করার বিশাল দায়। 


স্বাধীনতার মূল্য যে পরিবার রক্ত দিয়ে পরিশোধ করেছে, সেই পরিবারের উত্তরসূরির হাত ধরেই আজ রাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কঠিন দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে।


সংস্কারের চ্যালেঞ্জ ও জনগণের পুলিশ গড়ার অঙ্গীকার


বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ বাহিনীকে অতীতের বিতর্কিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বের করে আধুনিক, পেশাদার, জবাবদিহিমূলক ও জনগণবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে। সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা থানা হবে বিচার চাওয়ার নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না।


পুলিশ কোনো ব্যক্তি, দল বা ক্ষমতাবান গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত বাহিনী না হয়ে প্রজাতন্ত্রের সেবক হিসেবে কাজ করবে এমনটাই প্রত্যাশা দেশবাসীর। কিন্তু দীর্ঘদিনের চর্চিত ক্ষমতা ও সুবিধার সংস্কৃতিতে যখন আঘাত লাগে, তখন স্বাভাবিকভাবেই সেই স্বার্থান্বেশী মহল থেকে প্রতিরোধ ও ষড়যন্ত্রের সৃষ্টি হয়।


অপপ্রচার, কুৎসা ও সত্য উদঘাটনের দাবি


সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইউটিউবে আইজিপি আলী হোসেন ফকিরকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ ও কুৎসা ছড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। তথ্য-প্রমাণের চেয়ে রাজনৈতিক বিদ্বেষ ও চরিত্রহননের উদ্দেশ্যে পরিচালিত এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে অতীতের সুবিধাভোগী ও পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্রের অর্থায়নের গুঞ্জন রয়েছে। 


সচেতন মহল মনে করেন, আলী হোসেন ফকির সমালোচনার ঊর্ধ্বে নন এবং তাঁর কাজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি; তবে প্রমাণ ছাড়া অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কখনো ন্যায়বিচার বা সাংবাদিকতা হতে পারে না।

 

প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনের জন্য নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে কে বা কারা অর্থ দিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, তা জাতির সামনে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।


ব্যক্তি আলী হোসেন ফকিরকে টিকিয়ে রাখা এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য নয়; বরং পুলিশ বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার এবং জনগণের পুলিশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই আসল কথা। 


শহীদ মুক্তিযোদ্ধার রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র উপায় হলো এমন একটি পুলিশ বাহিনী তৈরি করা, যার পোশাক দেখলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত নয়, বরং নিরাপদ বোধ করবে। মিথ্যা, কুৎসা ও ষড়যন্ত্রকে পেছনে ফেলে পুলিশ যেন সত্যিকার অর্থেই জনগণের প্রজাতন্ত্রের বাহিনী হয়ে উঠতে পারে এটাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।


আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩০ পিএম

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ এসেছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক)। আজ রোববার কমিশন নতুন অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের অনুমোদন দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আগের নিয়োগ, বদলি, পদায়নে দুর্নীতির অভিযোগের সঙ্গে নতুন অভিযোগগুলোরও অনুসন্ধান হবে। দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। 


দুদুকে আসা নতুন অভিযোগগুলো হলো- 


দুদুক জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগ এসেছে। 


এছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্য ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন গ্রহণেরও অভিযোগ রয়েছে।   


দুদুকে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তিনি নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ও কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে টেন্ডার বাণেজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন। 


দুদকে আসা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে- তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ, ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করেন। তিনি হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও গাড়িতে যাতায়াত করেছেন। দুর্নীতির টাকা দিয়ে তিনি পর্তুগালে জমি ক্রয়, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ ও সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা করেছেন। 


আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে, তিনি দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার ০০০ কোটি টাকা ও সুইজারল্যান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয় ও বিভিন্ন ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করেছেন। তার দুই বোন জামাই ও ভাগ্নের মাধ্যমে তিনি বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করেছেন। 


গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তার নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। প্রকল্পটির বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ। তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন। 


এছাড়া তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া ঘুষ লেনদেনের তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। 


দুদক জানিয়েছে- আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে। এসব অভিযোগ নথিভুক্ত করে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। 


সাগর-রুনি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪৩ পিএম

বহুল আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার বিচার এবং তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে লিখিত আবেদন দেওয়া হয়েছে। আজ রোববার চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের কাছে সশরীরে হাজির হয়ে এ আবেদন দাখিল করেন রুনির ভাই নওশের রোমান।


লিখিত এ আবেদনে বলা হয়, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাত ২টা থেকে সকাল ৭টার মধ্যে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট মেহেরুন রুনি খুন হন। দীর্ঘ ১৪ বছরেও এ হত্যাকাণ্ডের কোনো তথ্য বের করতে পারেনি একাধিক তদন্ত সংস্থা। 


এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ ও র‍্যাব ব্যর্থ হওয়ার পর হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্ত করতে দেওয়া হয়। অথচ সংস্থাটি তদন্ত করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। তাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান পরিবারের সদস্যরা। 


এছাড়া দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানোর পাশাপাশি আবেদনটি রেজিস্টারভুক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তারা।


হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ এএম

তওবা ছাড়া সাদ কান্ধলভীকে বাংলাদেশে আসতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। তিনি বলেছেন, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে শুরায়ি নেজাম দ্বারা পরিচালিত হবে। শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) সম্মেলনে হেফাজতের আমির এ কথা বলেন। ‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’ ব্যানারে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয় ২০১৮ সালের ১ ডিসেম্বর ও ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা ময়দানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচারের দাবিতে। 


মাওলানা সাদ কান্ধলভী তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহাম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভীর প্রপৌত্র। তাঁকে তাবলিগ জামায়াতের দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের একাংশ নিজেদের আমির মানেন। কোরান শিক্ষা দিয়ে অর্থগ্রহণ হারাম- সাদ কান্ধলভীর বক্তব্যের কারণে দেওবন্দিধারার আলেমরা তাঁর বিরুদ্ধে। 


বক্তব্য থেকে সরে না আসা পর্যন্ত দেওবন্দের অনুসারী বাংলাদেশের আলিমরা সাদ কান্ধলভীকে টঙ্গীর ইজতেমায় আসতে না দিচ্ছেন না। তিনি আসতে না পারলেও তাঁর অনুসারীরা পৃথক ইজতেমা করেছেন। দুই পক্ষের দুই দফা প্রাণঘাতী সংঘর্ষ হচ্ছে।


মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ‘ওলামা মাশায়েখ বাংলাদেশ’ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। তাঁর লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সংগঠনের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী। সরকারের উদ্দেশে হেফাজত আমির বলেন, সাদ কান্ধলভী তওবা করে যত দিন দেওবন্দের মুরব্বিদের কাছে রুজু না করবেন, তত দিন তাকে বাংলাদেশে আসতে দেওয়া যাবে না। 


টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা আলেমদের তত্ত্বাবধানে শুরায়ি নেজামের পরিচালনার দাবি করে মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, কাকরাইল মারকাজের কার্যক্রম ওলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে চলবে। সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা মাঠ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে না। সাদ কান্ধলভীকে বাংলাদেশে এনে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে বিচার করতে হবে। 

হেফাজতের আমির বলেন, তাবলিগের শুরায়ি নেজামের সাথি ও মাদ্রাসাছাত্রদের ওপর হামলাকারীদের অনেকে ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের দোসর’। 


সম্মেলনে ঘোষণাপত্রে টঙ্গীর ইজতেমা মাঠে সাদপন্থিদের বিশ্ব ইজতেমা বা তাবলিগের কোনো কার্যক্রমে অংশ নিতে না দেওয়াসহ নানা দাবি জানানো হয়। সম্মেলনে বক্তৃতা করেন হেফাজতের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের (বেফাক) মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক প্রমুখ। 


রাজধানীর নভোথিয়েটারে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লেনারি সেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৪ এএম

আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠ্যবইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিকস, মেশিন লার্নিং ও সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে শুধু মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়েই নয়, উচ্চশিক্ষা স্তরেও স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষাকে সমানভাবে অগ্রাধিকার দিতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।


শনিবার বিকেলে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর প্লেনারি সেশনে তিনি এ কথা বলেন।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এ মেলার আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় শিক্ষাক্রমে এসব যুগোপযোগী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। পরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।


প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে বেশ কিছু নতুন বিষয় যুক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে প্রাথমিক পর্যায়ে ‘খেলাধুলা’ ও ‘সংস্কৃতি’ নামে দুটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। আর ষষ্ঠ শ্রেণিতে আসছে আরও দুটি নতুন বিষয়, যার একটি হলো ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে মূলধারায় নিয়ে এসে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে এটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। পর্যায়ক্রমে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বাধ্যতামূলকভাবে কারিগরি শিক্ষার এই অংশটুকু সম্পন্ন করতে হবে।


উচ্চশিক্ষায় বাস্তবমুখী জ্ঞান


দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুঁথিগত বিদ্যা ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে যে দূরত্ব রয়েছে, তা কমিয়ে আনতে কাজ করছে সরকার। মাহদী আমিন বলেন, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রকৌশল শিক্ষায় শিক্ষার্থীদের জন্য নিছক সনদ বা থিওরি যথেষ্ট নয়। থিওরি ও প্র্যাকটিসের উপযুক্ত সমন্বয়ের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের অর্জিত সনদকে কর্মসংস্থান ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির শক্ত হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার শিক্ষাক্রম সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে।


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন সারা দেশে প্রায় আড়াই হাজার কলেজ থাকার কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে আলোচনা করেছি—কীভাবে কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায় এবং বাস্তবতার নিরিখে পাঠ্যক্রমকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা যায়।’


এর পাশাপাশি দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে দেড় শতাধিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন জানান, তাঁদের লক্ষ্য হলো পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে বাস্তব জীবনের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্ত করা। এ কারণে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও পরিমার্জনের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


প্লেনারি সেশনটি সঞ্চালনা করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। আলোচনায় আরও অংশ নেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ম তামিম, ইউনেসকো ঢাকা অফিসের শিক্ষা প্রধান এস কিয়াং কো, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তানভীর মোহাম্মদ প্রমুখ।


শনিবার নভোথিয়েটারে বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬ এ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৫২ পিএম

দেশীয় উদ্ভাবনকে ল্যাবরেটরি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনে রূপান্তর এবং সরাসরি বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়ে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন তিনি।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ মেলায় দেশীয় উদ্ভাবক ও উদ্ভাবনী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নীতিনির্ধারক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের টেকসই অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।


মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্বতন্ত্র গবেষক, শিক্ষার্থী, নতুন স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান (এসএমই) এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন। আয়োজনে প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি নতুন ও সম্ভাবনাময় উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে।


সংশ্লিষ্টরা জানান, তৃণমূল পর্যায়ে বহু সম্ভাবনাময় প্রযুক্তি ও ধারণা তৈরি হলেও নীতি সহায়তা, প্রাথমিক তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার অভাবে তা বাস্তবে রূপ পায় না। প্রশাসনিক ও আর্থিক এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করে মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ করাই এ প্রদর্শনীর প্রধান লক্ষ্য।


আগামীকাল মেলার দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য উদ্ভাবন: সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ সম্প্রসারণ’ শীর্ষক এক বিশেষ আন্তর্জাতিক সেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রান্তিক জনগণের দোরগোড়ায় কম খরচে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হবে। সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।


এই মেলায় কৌশলগত অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর (ডিপিডিটি), ফরেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এফআইসিসিআই) এবং কারিগরি অংশীদার হিসেবে রয়েছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)।