নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের পূর্বাভাস

ভোটে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা বেশি

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১১:৫৯ এএম

আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে প্রকৃত অর্থেই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এটিই প্রথম এমন নির্বাচন এবং দেশের ইতিহাসে প্রথমবার ব্যালটে থাকছে না আওয়ামী লীগ।


২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন যে গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন, তা শুধু শাসকই বদল করেনি; বরং দেশের পুরো রাজনৈতিক মানচিত্রই বদলে দিয়েছে।


ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট থেকে শুরু করে ইনোভিশন কনসাল্টিংয়ের মতো সাতটি প্রধান জাতীয় জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের পূর্বাভাস বলছে, অত্যাসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কার্যকর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে। তবে ভোটের ব্যবধান ও অনিশ্চয়তা অনেকের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।


জরিপগুলোর তথ্য কী বলছে, কী আড়াল করছে এবং বাংলাদেশের ‘ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট’ (এমন এক নির্বাচনী ব্যবস্থা, যেখানে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনিই জয়ী হন। ভোটের ব্যবধান যা-ই হোক) নির্বাচনী ব্যবস্থা কেন সামান্য ভোটের ব্যবধানকেও আসনের বড় ব্যবধানে রূপান্তর করবে; সেটির একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো-


জরিপ ও তথ্যের ব্যবধান


হাসিনা সরকারের পতনের পর পরিচালিত প্রতিটি জরিপেই জামায়াতে ইসলামীর চেয়ে বিএনপিকে এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। তবে এ ব্যবধানের মাত্রা একেক জরিপে একেক রকম, যেমন ন্যারেটিভ/ আইআইএলডির জরিপে দুই দলের ব্যবধান মাত্র ১ দশমিক ১ শতাংশ, আবার ইনোভিশনের সর্বশেষ প্যানেল স্টাডিতে বিএনপি ২১ দশমিক ৮ পয়েন্টে এগিয়ে।


জরিপের এই ভিন্নতা এলোমেলো কোনো বিষয় নয়। এটি মূলত ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতির ফলাফল। ২৯৫টি আসনের ২২ হাজার ১৭৪ জন উত্তরদাতার ওপর করা ন্যারেটিভ কনসোর্টিয়ামের জরিপটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের চিত্র তুলে ধরেছে। 


অন্যদিকে ইনোভিশন আগে সাক্ষাৎকার নেওয়া ৫ হাজার ১৪৭ জনের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করেছে। ফলে সময়ের সঙ্গে জনমতের প্রকৃত পরিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে এটি ছিল একমাত্র নির্ভরযোগ্য পন্থা।


আওয়ামী লীগের বিরাট ভোটব্যাংক


এ নির্বাচনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, আওয়ামী লীগের ভোট। দলটি নিয়মিতভাবে মোট ভোটের ৩৫ থেকে ৪৮ শতাংশ পেয়ে আসছিল। এখন দলটির কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রায় ৪ কোটি ভোটারকে নতুন রাজনৈতিক আশ্রয় খুঁজতে হচ্ছে। সিআরএফ/ বিইপিওএস জরিপ অনুযায়ী, এই ভোটারের প্রায় অর্ধেকই বিএনপির দিকে যাচ্ছে। রাজনৈতিক শক্তির এই বিশাল কাঠামোগত স্থানান্তরই বিএনপিকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে পারে।


তবে জামায়াতও এ ভোটব্যাংকের দ্বিতীয় সুবিধাভোগী। আওয়ামী লীগকে আগে যাঁরা ভোট দিতেন; তাঁদের প্রায় ৩০ শতাংশ বলছেন, তাঁরা একটি ইসলামপন্থী দলকে ভোট দেবেন। ইসলামপন্থী দলটিকে শেখ হাসিনার আমলে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল এবং তাঁদের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি দেওয়া ও গুম করা হয়েছিল। ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান এর দুটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রথমত, স্থানীয় পর্যায়ে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রতি বিএনপির কঠোর আচরণের কারণে তাঁরা জামায়াতকে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, কিছু আওয়ামী ভোটার হয়তো জামায়াতকে বেছে নিচ্ছেন হাসিনার সেই দাবিকে প্রমাণ করতে যে তিনি ছাড়া বাংলাদেশ একটি মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত হবে।


এফপিটিপি নির্বাচনী ব্যবস্থার প্রভাব


বাংলাদেশের ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট (এফপিটিপি) নির্বাচনী ব্যবস্থা বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম ভারসাম্যহীন ব্যবস্থা। এখানে ৩০০টি একক নির্বাচনী এলাকায় যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি ভোট পান, তিনিই জয়ী হন। এ ব্যবস্থা দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা দলকে কঠোরভাবে ‘শাস্তি’ দেয় এবং সুনির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত সমর্থনের চেয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সমর্থনকে বেশি পুরস্কৃত করে।


২০২৬ সালের নির্বাচনের জন্য এর প্রভাব হবে অত্যন্ত প্রকট। ন্যারেটিভ জরিপের দাবি অনুযায়ী, যদি জাতীয়ভাবে জামায়াত বিএনপির চেয়ে মাত্র ৩-৫ শতাংশ ভোটে পিছিয়েও থাকে, তবু নির্বাচনী ব্যবস্থার কারণে আসনের ব্যবধান ৬০ থেকে ১০০ পর্যন্ত হতে পারে। 


জামায়াতের ভোট মূলত উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নির্দিষ্ট ঘাঁটিতে কেন্দ্রীভূত। অন্যদিকে বিএনপির সমর্থন সারা দেশে সুষমভাবে ছড়িয়ে আছে; যা এফপিটিপি নির্বাচনী ব্যবস্থায় আসন জয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা।


জামায়াত কখনো সংসদে ১৮টির বেশি আসন পায়নি এবং তাদের ভোটের হার ১২ শতাংশ অতিক্রম করেনি। তাই বর্তমান জরিপগুলোতে তাদের ২৯-৩৪ শতাংশ সমর্থনের যে দাবি করা হচ্ছে, তা এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর অর্থ হলো, হয় বাংলাদেশে কোনো প্রকৃত ‘রাজনৈতিক ভূমিকম্প’ ঘটছে অথবা কিছু জরিপে জামায়াতের সমর্থনকে বাড়িয়ে দেখানো হচ্ছে।


ফলাফল নির্ধারণ করবে তিন সমীকরণ


১. বিদ্রোহী প্রার্থী


বর্তমানে বিএনপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, দলটির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। দলের মনোনয়ন না পেয়ে ৯২ জন নেতা ৭৯টি নির্বাচনী এলাকায় স্বতন্ত্র বা ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকেই সাবেক সংসদ সদস্য বা জেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতা।


অন্তত ৪৬টি আসনে এই বিদ্রোহীদের শক্তিশালী নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে। নির্বাচনী পাটিগণিত খুব সহজ—যেখানে লড়াই শুধু বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে; সেখানে বিএনপি অনায়াসে জিতবে। কিন্তু যেখানে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ভোট ভাগ করবেন, সেখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সুযোগে মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোট পেলেই জামায়াত জয়ী হতে পারে। গাণিতিক মডেল বলছে, এ বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে বিএনপি ১৫ থেকে ৩০টি আসন হারাতে পারে।


২. তরুণ ভোটারের উপস্থিতি


জামায়াতের ছাত্রসংগঠন দেশের প্রধান চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছে। প্রথমবার ভোট দেবেন, এমন তরুণদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশের পছন্দ জামায়াত। বর্তমানে মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশই জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম; সংখ্যায় যা প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ। যদি তরুণদের ভোট দেওয়ার হার জাতীয় গড়ের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ বেশি হয়, তবে জামায়াতের আসনসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। আর এই তরুণ ভোটাররা যদি ভোটকেন্দ্রে না আসেন, তবে দলটির আসনসংখ্যা বড় ব্যবধানে কমে যাবে।


৩. অনিশ্চিত বা দোদুল্যমান ভোটার


প্রতিটি জরিপেই দেখা গেছে, ১৫ থেকে ৩৫ শতাংশ উত্তরদাতা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি কিংবা তাঁদের পছন্দের কথা প্রকাশ করতে রাজি হননি। ন্যারেটিভের জরিপে ১৭ শতাংশ ভোটার এখনো দোদুল্যমান। এর মধ্যে ৩০ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশ্বাস করেন না। এই ভোটাররাই নির্বাচনের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। তাঁরা যদি সব দলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়ে যান, তবে বিএনপির বর্তমান লিড বজায় থাকবে। কিন্তু তাঁরা যদি ২:১ অনুপাতে জামায়াতের দিকে ঝুঁকে পড়েন, তবে ভোটের লড়াই তীব্র হয়ে উঠবে নাটকীয়ভাবে।


আসন পূর্বাভাস


সংসদের আসন: ৩০০


একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা: ১৫১


বিএনপি ও জোট: ১৫৫–২১৫


জামায়াত ও এনসিপি: ৫৫–১১০


জাতীয় পার্টি: ৫–১৮


ইসলামী আন্দোলন: ২–১০


অন্যান্য/স্বতন্ত্র: ১০–৩৫


ভোটের গড় হার, ফার্স্ট-পাস্ট-দ্য-পোস্ট মডেল এবং বিদ্রোহী প্রার্থী ও ভোটার উপস্থিতির প্রভাব সমন্বয় করে এ পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে।


সবচেয়ে সম্ভাব্য আসনসংখ্যা (কেন্দ্রীয় প্রাক্কলন)


বিএনপি ও জোট: ১৮৫


জামায়াত ও এনসিপি: ৮০


জাতীয় পার্টি: ১০


ইসলামী আন্দোলন: ৫


অন্যান্য/ স্বতন্ত্র: ২০


সম্ভাব্য চারটি চিত্র


১. বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (সম্ভাবনা ৫০%)


এ সমীকরণে বড় জনসমর্থন নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন। এখানে মূলত ইনোভিশনের প্যানেল ডেটা বা জরিপের তথ্যের প্রতিফলন ঘটবে। ভোটার উপস্থিতি ৭০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে এবং বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর সৃষ্ট আবেগ দোদুল্যমান ভোটারদের বিএনপির পক্ষে টানবে। পূর্বাভাস: বিএনপি ১৮৫-২১৫ আসন। জামায়াত ৫৫-৮০ আসন।


২. বিএনপির সামান্য ব্যবধানে জয় (সম্ভাবনা ২০%)


বিদ্রোহী প্রার্থী এবং তৃণমূল পর্যায়ে জামায়াতের শক্তিশালী প্রচারের কারণে ৩০ থেকে ৪০ আসনে বিএনপির জয়ের সম্ভাবনা কমবে। তারা সরকার গঠন করবে ঠিক, তবে হাতে খুব বেশি বাড়তি আসন থাকবে না। ফলে সরকার পরিচালনায় জোটসঙ্গীদের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। পূর্বাভাস: বিএনপি ১৫৫-১৮৫ আসন। জামায়াত ৮০-১০০ আসন।


৩. ঝুলন্ত সংসদ (সম্ভাবনা ২০%)


যদি ন্যারেটিভ/ আইআইএলডির জরিপ সঠিক হয়, তবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা এখানে দলটির সর্বোচ্চ ক্ষতি করবেন এবং তরুণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের জোয়ার বাস্তবে রূপ নেবে। কোনো জোটই সরকার গঠনের মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ফলে শুরু হবে জোট গঠনের দর–কষাকষি ও রাজনীতি। পূর্বাভাস: বিএনপি ১৩০-১৫৫ আসন। জামায়াত ৯০-১১০ আসন।


৪. জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের জয় (সম্ভাবনা ১০%)


সবকিছু যদি জামায়াতের অনুকূলে যায়, তবেই এমনটি ঘটা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ব্যাপক বাড়বে, ৫০টির বেশি আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিএনপির ভোট ব্যাপকভাবে ভাগ করবেন এবং আওয়ামী লীগের সাবেক ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেন না; যদিও এটি ঐতিহাসিকভাবে নজিরবিহীন। তবে এবারের নির্বাচন যেকোনো নজিরবিহীন ঘটনার জন্য প্রস্তুত। পূর্বাভাস: বিএনপি<১৩০ আসন। জামায়াত ১৩০+ আসন।


শেষ কথা


আমাদের (দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়াল কর্তৃপক্ষের) মূল পূর্বাভাস বলছে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি প্রায় ১৮৫টি আসনে জয়ী হয়ে দেশের পরবর্তী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল অর্জন করতে পারে। 


তাদের সম্ভাব্য আসনসংখ্যা হতে পারে ৬০ থেকে ১০০টি। এর মাধ্যমে দলটি নিজেকে দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে; যা আগামী এক প্রজন্মের জন্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে নতুন করে বদলে দেবে।


তবে নির্বাচনের গভীর অনিশ্চয়তা কে জিতবে তা নিয়ে নয়; বরং জয়ের ব্যবধান কতটা হবে, তা নিয়ে। বিএনপির ২১০-এর বেশি আসনের নিরঙ্কুশ সমর্থন আর ১৫৫ আসনের নড়বড়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার মধ্যবর্তী ব্যবধানটুকুই হলো বিশ্লেষণের প্রকৃত ক্ষেত্র। আর এটি নির্ধারিত হবে মূলত তিন নিয়ামকের ওপর; যা কোনো জরিপেই পুরোপুরি ধরা সম্ভব নয়। 


এ নিয়ামক হলো-১৭ শতাংশ দোদুল্যমান ভোটারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, বিএনপির ৯২ জন বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাব ও জামায়াতের একনিষ্ঠ তরুণ ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে উপস্থিত হন কি না, সেই বিষয়।


বাংলাদেশের ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটার এমন এক রায় দিতে যাচ্ছেন; যা আগামী এক প্রজন্মের জন্য দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করবে। তথ্য-উপাত্ত বলছে, পাল্লা বিএনপির দিকেই ভারী। তবে এ তথ্য-উপাত্ত একই সঙ্গে এ-ও বলছে, যেকোনো অভাবনীয় পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকুন।



সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে আরও ৮৮, ৯০৯ চিকিৎসক প্রয়োজন


স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৩ পিএম

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে ৩০ হাজার ৩১১ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন। চিকিৎসকের শূন্য পদের সংখ্য ১১ হাজার ৪৯৫টি। আজ সোমবার জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। 


স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত সংসদে প্রশ্নের জবাব দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।


মোশারফ হোসেনের প্রশ্নের জবাবে আরও জানানো হয়, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা অনুযায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ন্যূনতম মানদণ্ড অনুসারে বাংলাদেশে প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন। সরকারের চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।


বিএনপির সংসদ সদস্য শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত ৩ বছর ধরে চাহিদার তুলনায় জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও চিকিৎসা উপকরণের সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।


মন্ত্রী জানান, ক্রয়প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুত মাঠপর্যায়ে সরবরাহ নিশ্চিত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।


মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়ার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের ৩৭টি সরকারি মেডিকেল কলেজের আসনসংখ্যা ৫ হাজার ১০০টি। বেসরকারি ৬৮টি মেডিকেল কলেজের আসন ৬ হাজার ২৭৮টি।


হামের প্রাদুর্ভাবের যে কারণ


গোপালগঞ্জ-১ আসনের মো. সেলিমুজ্জামানের প্রশ্নের লিখিত জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের টিকা সংগ্রহ না হওয়া এবং পরে দেশজুড়ে টিকা সংকটের পেছনে মূল কারণ ছিল টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক নীতি পরিবর্তন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং ইউনিসেফের সতর্কতা উপেক্ষা করা।


এই প্রশ্নের লিখিত জবাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী এই বিলম্ব ও সংকটের প্রধান কারণগুলোও তুলে ধরা হয়। 


এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পিছিয়ে যাওয়া এবং পরে ২০২৫ সালে সরকারের পক্ষ থেকে একটি পরিপূরক হাম-রুবেলা বিশেষ ক্যাম্পেইন বাতিল করা হয়। ফলে নিয়মিত টিকাদানের আওতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যায় এবং পরে দেশের শিশু ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে হামের প্রাদুর্ভাব মারত্মক রূপ নেয়।


জাকাত সংগ্রহ ৭ কোটি টাকা


কিশোরগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, বর্তমান অর্থ বছরে সংগৃহীত জাকাতের পরিমাণ ৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ কোটি ৫৯ টাকা সরকারি জাকাত ফান্ডে জমা আছে। বাকি টাকা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের জাকাত ফান্ডে জমা আছে।


চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, দেশের বিভিন্ন মত ও পথের প্রখ্যাত আলেম-ওলামাদের সম্পৃক্ত করে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা, ধর্মীয় বিষয়ে বিভ্রান্তি নিরসন এবং সামাজিক সংঘাত প্রতিরোধের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ ও মতবিনিময়ের লক্ষ্যে উপজেলাভিত্তিক গবেষণা ও ইফতা কার্যক্রম বাস্তবায়ন পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী একটি জাতীয় ওলামা পরামর্শক কমিটি গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।


৩৫ বছরে নৌ দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৫২ জন নিহত


চট্টগ্রাম-১৫ আসনের শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, প্রথমবারের মতো পরিচালিত নৌযান শুমারি কার্যক্রমে ২ লাখ ৫২ হাজার ৮১৩টি নৌযান তালিকাভুক্ত হয়েছে।


সংরক্ষিত আসনের সাবিকুন্নাহারের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, গত ৩৫ বছরে ৪৭ হাজার ৬০৬টি নৌযানের বিরুদ্ধে মামলা করে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭ হাজার ৬৭১টি মামলা মেরিন কোর্টে বিচারের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে নয় হাজার ৯৩৫টি নৌযানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা বিচারাধীন রয়েছে। গত ৩৫ বছরে নৌ দুর্ঘটনায নিহতের সংখ্যা ৪ হাজার ৫২ জন এবং আহতের সংখ্যা ৮০৭ জন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৪ পিএম

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন উপজেলাভিত্তিক হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ। এক্ষেত্রে একটি উপজেলার যতগুলো ইউনিয়ন আছে, সবগুলোয়ে একই সঙ্গে নির্বাচন হবে। আজ সোমবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।


আখতার আহমেদ বলেন, "ইউপি নির্বাচন কয়েক ধাপে হবে। এক্ষেত্রে পাঁচ ধাপে নাকি ছয় ধাপে হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। তবে আমি এটুকু বলতে পারি উপজেলাভিত্তিক নির্বাচন হবে। এক্ষেত্রে একটি উপজেলার যতগুলো ইউনিয়ন আছে সেগুলো একই সঙ্গে হবে। "


তার কথায়, “এক উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন একসঙ্গে হলে, বাকিগুলো অন্য ধাপে হলে একটা বিশৃঙ্খলা হয়ে যাবে। তাই একই সঙ্গে এক উপজেলার সবগুলোতে নির্বাচন হবে এবং কয়েক ধাপে হবে নির্বাচন।”


এসব নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়টি কমিশন নির্ধারণ করবে বলেও জানিয়েছেন ইসি সচিব।


সকালে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের কার্ড ইস্যু প্রসঙ্গে বৈঠক করেন ইসি সচিব। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইউপি নির্বাচন নিয়ে কথা বলেন তিনি।


স্থানীয় নির্বাচনের বিধিমালা নিয়ে ইসি সচিব বলেন, এই ভোটে পোস্টার থাকবে না। এছাড়াও কিছু পরিবর্তন এসেছে।


সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন ইতোমধ্যে বলেছেন, সেপ্টেম্বরে তফসিল দিয়ে নভেম্বরে ইউপি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা এবং জেলা পরিষদের নির্বাচন হবে।


ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই


রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল চলতি সপ্তাহেই ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছেন সচিব আখতার আহমেদ।


এর আগে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার রোববার বলেছিলেন, “এই নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত। সেটার আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং এর প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা রাখি, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আমরা সিডিউলটা ডিক্লেয়ার করতে পারব। নির্বাচন পূজা, পরীক্ষা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে তারিখ নির্ধারণ করা হবে।”


গত ২১ অগাস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের দিন থেকে ওই আসনটি শূন্য হয়েছে।


  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪১ পিএম

দেশের মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নীতিমালা জারি করেছে সরকার। এর আওতায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মাসিক সম্মানী, উৎসব ভাতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোববার ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ‘মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিবর্গের জন্য সম্মানী ও কল্যাণ সহায়তা প্রদান নীতিমালা ২০২৬’ শীর্ষক প্রজ্ঞাপন জারি করে।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসার, সামাজিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় মসজিদ, মন্দির, বৌদ্ধ বিহার ও গির্জাসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।


তাদের এ অবদান বিবেচনায় নিয়ে আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে নতুন এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।


নীতিমালার আওতায় মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমসহ অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের সম্মানী দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে উৎসব ভাতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের নিয়মিত আয় ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


শুধু আর্থিক সহায়তার মধ্যেই এ উদ্যোগ সীমাবদ্ধ থাকছে না। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিকল্পভাবে আয় করার সুযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সেবকদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাদের পেশাগত দক্ষতাও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এ নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। দেশের সব ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের কল্যাণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।


ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোতে কর্মরত ইমাম, মুয়াজ্জিন, পুরোহিত ও সেবকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছেন। নতুন নীতিমালার মাধ্যমে তাদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমবে এবং তাদের সামাজিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।

 


সংসদ অধিবেশন

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৪ পিএম

দান করার পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন– এমন বিধান রেখে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী পাস হয়েছে। গতকাল রোববার সংসদে ‘১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামন্ডমেন্ট) বিল’ সংসদে পাস হয়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করেন। বিলের ওপর আনা বিরোধী সদস্যদের জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাবগুলো কণ্ঠভোটে নিষ্পত্তি করা হয়।


পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, পিতামাতা বা পিতামহ/মাতামহ তাঁর সন্তান বা নাতি-নাতনিকে (অথবা বিপরীতক্রমে) অথবা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সম্পত্তি ভোগের অধিকার থাকবে এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে স্থানান্তরিত হবে।


বিলের উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে আইনমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতি সম্পর্কে বিধান থাকলেও দাতার জীবনকাল পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগের অধিকার সংরক্ষণ করে দান করার বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট বিধান নেই। প্রস্তাবিত জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান হবে সম্পত্তি হস্তান্তরের একটি স্বতন্ত্র পদ্ধতি। এই বিধান সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে। এর ফলে প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের অধীন হেবা বা আইন দ্বারা স্বীকৃত অন্য কোনো প্রকার সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করবে না।


বিল পাসের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই আইনের সঙ্গে শরিয়তের স্পষ্টত কন্ট্রাডিকশন আছে। এখানে আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কী কোরআনের মূলনীতি রাখব নাকি বাদ দেব? আমি মনে করি, এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়। এটি কোরআন-সুন্নাহর মূলনীতি ও প্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়। এই আইন এভাবে উপস্থাপন করায় সমাজে ব্যাপক উচ্ছৃঙ্খলা ও বিশৃঙ্খলা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এই আইন দ্বারা হকদারের হকও বিনষ্ট হওয়ার আশঙ্কা আছে।’


আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী উল্লেখ করে জামায়াতের নাজিবুর রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি বলেছিল, তারা কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন প্রণয়ন করবে না। কিন্তু কোরআন-সুন্নাহ সুস্পষ্ট বিরোধী এই আইন পাস করতে যাচ্ছে। ইসলামিক স্কলারদেরও এই আইনটি নিয়ে ঘোর আপত্তি রয়েছে।


পাবনা-৩ আসনের আলী আছগার এই বিলকে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে আখ্যায়িত করেন। 


চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘সব সন্তান পিতামাতার সঙ্গে এই আচরণ করছেন না। গুটি কয়েক অপরাধীর সঙ্গে আমাদের মূল চিন্তা ও বিশ্বাসে সাংঘর্ষিক আইন আমরা পাস করতে পারি না।’


বাগেরহাট-৪ আসনের আব্দুল আলীম বলেন, এই আইন না করে কোরআনে বিধান রয়েছে এক-তৃতীংয়াশের বেশি কেউ দান করতে পারবে না। সেই বিধানটি আইনে পরিণত করা দরকার। ইসলামিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই আইনে ইসলামিক স্কলারদের মতামত দরকার।


শেরপুর-১ আসনের রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘সংবিধানে ৭০ অনুচ্ছেদ বলে একটি নিয়ম থাকলেও আমি বিশ্বাস করি, অধিকাংশ সংসদ সদস্য এই আইন পাসের সময় হয় বিরোধিতা করবেন, না হয় চুপ থাকবেন। ইসলামিক উত্তরাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক একটি কাঠামো তৈরি হলে তা আমরা মেনে নিতে পারি না।’


ময়মনসিংহ-৬ আসনের কামরুল হাসান বলেন, ‘এই আইন সংশোধন করতে গিয়ে মুসলিম পারিবারিক আইনে হাত দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকারের কথা বলে কৌশলে এই আইন পাস করা হচ্ছে। এই আইন সব ধর্মের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে যে বিধান যুক্ত করা হয়েছে, তাতে আমাদের চরম আপত্তি রয়েছে। এই আইন পর্যালোচনা করা না হলে জনবিক্ষোভের আশঙ্কা রয়েছে।’


কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের (স্বতন্ত্র) শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল বলেন, ‘এই আইন দ্রুত পাস করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি। যাতে কোনো কুলাঙ্গার সন্তান দ্বারা কোনো বাবা-মা লাঞ্ছিত না হন।’


স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা মা-বাবার কথা বিবেচনা করে এই বিল আনার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান।


আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এই আইন হেবা বা অন্যভাবে সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না। এখানে আমরা মুসলিম ল’কে টাচ করিনি। এই আইনে যে গিফটের (সম্পত্তি হস্তান্তর) কথা বলা হচ্ছে, তা হেবা নয়। এটি হেবার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এই আইনে হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তর বাধাগ্রস্ত হবে না।’


মুসলিম পারিবারিক আইনের প্রসঙ্গ টেনে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক বাস্তবতার কথা চিন্তা করে এই বিলটি এনেছি।’ 


ইসলামী ব্যাংকিং প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ইসলামিক আইনে সুদ নয়, মুনাফা নেওয়া হয়। উনারা মুনাফা নেন কিন্তু লোকসানের ভাগ নেন না। লোকসানের ভাগদান না হলে ইসলামিক এই ব্যাংকিং সিস্টেম অনুমোদিত না, কিন্তু এটা চলছে। 


একাধিক মুসলিম দেশের উদাহরণ টেনে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, এই আইন অগণিত পিতামাতার শেষ নিঃশ্বাস শান্তিতে নিতে সহায়তা করবে। এই আইন সমাজের চাহিদা পূরণ করবে। মুসলিম পারিবারিক আইন ১৯৬১-এর তুলনায় ইসলামের সঙ্গে অসাংঘর্ষিক।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:২৩ পিএম

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করা হয়েছে। 


নতুন বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নতুন বিধিমালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন ও ব্যয়ের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।


নতুন আচরণবিধির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।


তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল করার সুযোগ থাকবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।


তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।


ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না। নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ। এআই ব্যবহার করে এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না। ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।


ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার কিংবা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে।


সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেও কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে।


নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।


নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।


এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।নির্বাচন কমিশনের নতুন এ বিধিমালার মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন বন্ধ এবং ডিজিটাল প্রচারণায় এআই-নির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান এবারের উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।


পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় গত মাসে একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জন মারা গেছে

  • প্রকাশ : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৫ পিএম

ভারতের কলকাতায় বাংলাদেশি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে শহরটির বড় হাসপাতালগুলো। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তারা বাংলাদেশে প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশি রোগীর জন্য নিজস্ব আবাসন, নিরাপদ হোটেলের সঙ্গে চুক্তি এবং বিশেষ সহায়তা ডেস্ক চালু করা হচ্ছে।


টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি দলের সদস্যরা রোগী ও তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে হোটেল বুকিংয়ের বিষয়ে পরামর্শ দেবেন। পাশাপাশি সব ধরনের নিরাপত্তা ছাড়পত্র রয়েছে এমন হোটেলে যাতে রোগীরা ওঠেন, তা নিশ্চিত করতেও সহায়তা করা হবে।


সম্প্রতি কলকাতার ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের একটি অতিথিশালায় অগ্নিকাণ্ডে সাত বাংলাদেশিসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়। এর পরপরই কম খরচের অনিবন্ধিত হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে নামে স্থানীয় প্রশাসন। এ ঘটনায় কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশন একটি ভ্রমণ নির্দেশিকা জারি করে। এতে বলা হয়, ভারতে আসার আগেই বৈধ ও অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র থাকা নিরাপদ হোটেলে কক্ষ বুক করতে হবে।


তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মনে করছে, বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের জন্য এই পরামর্শ মেনে চলা কঠিন হতে পারে। তাদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য সড়কপথে কলকাতায় আসেন এবং কলকাতা ও এর আশপাশে কম খরচে থাকার জায়গা খোঁজেন। ফলে অনেক সময় তারা যথাযথ অনুমোদন বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই, এমন আবাসনেও উঠে পড়েন। 


অতিথিশালা ও হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করছে হাসপাতালগুলো


বিপি পোদ্দার হাসপাতালের কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধি দল আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে যাবে। দক্ষিণ কলকাতায় অবস্থিত হাসপাতালটির কাছেই বাংলাদেশিদের জন্য নিজস্ব আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে হাসপাতালটি।


বিপি পোদ্দার হাসপাতালের গ্রুপ উপদেষ্টা সুপ্রিয় চক্রবর্তী বলেন, ‘রোগীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই হাসপাতালের পাশেই নির্দিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। সেখানে পরিকল্পিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে।’


উডল্যান্ডস মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালও বাংলাদেশে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। বাংলাদেশি রোগীর জন্য তারা আলিপুর এলাকায় একাধিক গেস্টহাউস ও হোটেলের সঙ্গে চুক্তি করেছে।


উডল্যান্ডসের প্রধান নির্বাহী ও অ্যাসোসিয়েশন অব হসপিটালস অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি রূপক বড়ুয়া বলেন, ‘নিরাপদ হোটেলে থাকার গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা তাদের সচেতন করতে চাই। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে আমাদের হাসপাতালে আসবেন– এমন রোগীদের আলিপুর এলাকার গেস্টহাউস ও হোটেলগুলোর একটি তালিকা পাঠাচ্ছি।’


এর আগে বাংলাদেশি রোগীদের সঙ্গে কথা বলতে প্রতিনিধি দল পাঠানো রুবি জেনারেল হাসপাতাল এবার রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একটি বিশেষ ডেস্ক চালু করছে। রুবি জেনারেল হাসপাতালের প্রধান মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন্স) সুভাষিস দত্ত বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছি এবং হাসপাতালের কাছাকাছি থাকার জায়গাগুলোর একটি তালিকা তৈরি করেছি। ভ্রমণের আগে রোগীরা যাতে কক্ষ বুক করতে পারেন, সে ক্ষেত্রেও আমরা সহায়তা করছি।’