চলতি বছরের এপ্রিলেও বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪ টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ বিমান
যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১টি নতুন বিমান কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। চুক্তি সাক্ষরের পর নিউইয়র্কের একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
তিনি জানান, বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় রেখেই নতুন উড়োজাহাজ কেনার এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যদিও বিমান কেনার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আগে থেকেই নানা বিতর্ক ও সমালোচনা ছিল। বিশেষ করে, বাংলাদেশের সরকার যখন অর্থনৈতিক চাপের কথা বলছে তখন নতুন করে বিলিয়ন ডলার খরচ করে বিমান কেনার এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করেন অনেক বিশ্লেষক।
এদিকে, মার্কিন প্রতিষ্ঠান বোয়িং এর সঙ্গে বাংলাদেশের চুক্তি হওয়ার বিষয়টিকে দুই দেশে সম্পর্কের জন্য দারুণ অর্জন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।
ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এ বিষয়ে দেওয়া একটি পোস্টে বলা হয়, "বিশ্বসেরা বাণিজ্যিক উড়োজাহাজের আরও ১১টি কেনার চুক্তিতে পৌঁছানোয় বোয়িং ও বিমানকে অভিনন্দন! যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য এটি আরেকটি দারুণ অর্জন, যেখানে লাভবান হবে দুই দেশই।"
চুক্তি নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
এর আগে চলতি বছরেরই ৩০শে এপ্রিল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। কিন্তু এরপর যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া–বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ভারতে দেশটির রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর তার বাংলাদেশ সফর শেষে জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও বোয়িং উড়োজাহাজ কিনতে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে সেই তথ্যই বাস্তবে রূপ নিল। যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে নতুন করে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘বোয়িংয়ের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আরও ১১টি বোয়িং বিমান কেনার বিষয়ে চুক্তি করেছে।’
বাংলাদেশের বিমান পরিবহন খাত সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় নিয়েই নতুন উড়োজাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। বোয়িংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে মি. আমিন জানান, ভবিষ্যতে এয়ারবাসের সঙ্গেও বিমান কেনার বিষয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী আলোচনা হতে পারে।
মাহদী আমিন বলেন, চাহিদা রয়েছে বলেই বোয়িং থেকে নতুন বিমান কিনছে বাংলাদেশ। বোয়িং এর একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে। বাংলাদেশের এভিয়েশন সেক্টর সম্প্রসারণ হচ্ছে, নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এ কারণে নতুন উড়োজাহাজ প্রয়োজন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে চারজন উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর। জানানো হয়, মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্ডাউ, আন্ডার সেক্রেটারি অব কমার্স উইলিয়াম কিমিট এবং দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
হুমায়ুন কবীর দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশেই এ চুক্তি সাক্ষর অনুষ্ঠানে মার্কিন উচ্চ পর্যায়ের এই প্রতিনিধিরা উপস্থিত হয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বিমান কেনার চুক্তির বিষয়টি ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফরের বিভিন্ন কর্মসূচির বিষয়েও জানান মাহদী আমিন।তিনি বলেন, সফরের দ্বিতীয় দিনে প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্য, কৃষি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কসহ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক বৈঠকে অংশ নিয়েছেন।
এছাড়া গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে বৈঠকে স্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ, কৃষকদের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার, কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশে টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার যৌথ উদ্যোগে জাতিসংঘের সাইডলাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান হয়েছে। সেখানে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।
রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা এবং মিয়ানমারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়নের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জানানো হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। তাদের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে আসায় বাংলাদেশের ওপর চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
গ্যাস সরবরাহ কমেছে
প্রায় দুই মাস পর আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে এসেছিল গ্যাস সরবরাহ। গত ১৬ আগস্ট থেকেই মহেশখালীর দুটো ভাসমান টার্মিনাল পুরো সক্ষমতায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করছিল।
সমুদ্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আজ বৃহস্পতিবার এলএনজি সরবরাহ কমে গেছে। এতে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ কমায় গ্রাহকের কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হতে পারে।
আজ বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করায় বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে এলএনজি সরবরাহ কমায় সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমেছে। বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুততম সময়ে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
অনিবার্য কারণে গ্যাস সরবরাহ কমায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।
পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট হলেও ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে।
গতকাল বুধবারও সরবরাহ করা হয়েছে ২৬০ কোটি ঘনফুট। আজ সন্ধ্যায় সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে ২২০ কোটি ঘনফুটে। তার মানে ৪০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ কমে গেছে।
সূত্র বলছে, দেশে সরবরাহ করা গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। এলএনজি রূপান্তর করে পাইপলাইনে সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে সমুদ্রে ভাসমান দুটি টার্মিনাল আছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ও আরেকটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের। দুটো টার্মিনাল মিলে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করতে পারে।
এলএনজি ফুরিয়ে যাওয়ায় একটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে আজ বিকেল পাঁচটায়। এলএনজি নিয়ে নতুন জাহাজ এলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে টার্মিনালে স্থানান্তর করা যায়নি। এর পর থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ৫৯ কোটি ঘনফুট। কয়েক দিন ধরে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল।
এর আগে গত ২১ জুলাই মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসে। দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট দেখা দেয়।
গত ১৫ আগস্ট ওই টার্মিনাল পুরোদমে গ্যাস সরবরাহের জন্য তৈরি হলেও আমদানি করা জাহাজ না আসায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছিল না। এ মাসে আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার পর সরবরাহ বাড়ানো হয়।
মো. রাকিবুল হাসান
সরকার, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনী নিয়ে বক্তব্যের অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা ক্যান্টমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা-ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে আজ ক্যান্টমেন্ট থানায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করেছে পুলিশ। এরপর তাঁকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়।
রাকিবুল হাসান রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি থাকা অবস্থায় ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কথোপকথনের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ও পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে রাকিবুল হাসানকে মন্তব্য করতে শোনা যায়। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি পুলিশে বিভিন্ন পদে পদায়নের ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ করেন।
অডিওটি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে পরদিন রাকিবুল হাসানকে ক্যান্টনমেন্ট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। তাঁকে ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখিয়ে রাজধানীর রাজারবাগে ডিএমপির সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটি করে ডিএমপি।
ওই দিন রাতে রাকিবুল হাসানকে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। তবে পরদিন (১৮ সেপ্টেম্বর) ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম তাঁকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। এরপর এই এক সপ্তাহ রাকিবুল হাসান কোথায় ছিলেন, সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। আজ রাকিবুলকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তারের কথা জানালেন ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
শফিকুল ইসলাম বলেন, রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার করার পর তাঁর বিরুদ্ধে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। গতকাল বুধবার ওই কমিটি ডিএমপি কমিশনারের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এরপর আজ রাকিবুলের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়।
অডিওতে কী বলেছিলেন রাকিবুল
অডিওতে পুলিশ পরিদর্শক রাকিবুল হাসানকে বলতে শোনা যায়, ‘জানি যে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে আসতেছে। কিচ্ছু হবে না আসলে, কিচ্ছু হবে না। আপনারা তো চিন্তা করতে পারছেন, রাস্তার পুলিশ কত দুর্বল। ভয়ানক দুর্বল। আসা উচিত। ডিসেম্বর দেরি হয়ে গেছে। এই মাসে আসা উচিত ছিল। চলে আসলি এই পুলিশ কিচ্ছু করতে পারবে না।’
ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘সিনিয়র অফিসার সব বিএনপি করতেছে। আমরা তো বিএনপি করতেছি না। সব সিনিয়ররা বিএনপি করতেছে, আমরা বিএনপি করতেছি না। এই করার জন্য তো আমরা ডিপার্টমেন্টে আসি নাই। তোমরা খাবাদাবা,…নিয়ে থাকবা আর আমরা এখানে বসে বসে কাজ করব, তা তো হবে না।’
অডিওতে রাকিবুল হাসান পুলিশের ওসি পদায়নে অর্থ লেনদেন এবং যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে অযোগ্যদের পদায়ন দেওয়ার অভিযোগ করেন।
মনির নামে পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তার গাড়িচালক থানার ওসি পদায়ন করছেন বলেও বলা হয় ওই অডিওতে। অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এগুলো সহ্য করা যায়? আর কী বলব? যারা পোস্টিং পাইতেছে, তার (মনির) কাছে টাকা দিচ্ছে, সকালবেলা পোস্টিং হইতেছে।’
রাকিবুলের বিরুদ্ধে মামলায় যা বলা হয়েছে
ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রাকিবুল হাসানের বিরুদ্ধে মামলা ও তাঁকে আদালতে পাঠানোর কথা জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুলিশ পরিদর্শক মো. রাকিবুল হাসানকে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার পেছনের মূল ষড়যন্ত্র উন্মোচনে আসামিকে ৭ দিনের পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন-পিএসসি
এক বছরের মধ্যে বিসিএস পরীক্ষা শেষ করার নির্ধারিত লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তবে আগামী বিসিএসটি সাধারণ হবে নাকি বিশেষ- তা নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, অবশেষে তার অবসান ঘটেছে। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রকাশিত হয়েছে ৫১তম বিসিএসের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন।
আর এই ৫১তম বিসিএসটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের চিকিৎসকদের নিয়োগের জন্য একটি বিশেষ বিসিএস হিসেবে। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পিএসসি সূত্র জানায়, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চলমান চরম চিকিৎসক-সংকট নিরসনে সম্প্রতি বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সে অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে সুনির্দিষ্ট চাহিদাপত্র ও নির্দেশনা পিএসসিতে এসে পৌঁছায়।
পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, ‘চিঠি পাওয়ার পর কমিশন দ্রুততম সময়ে এর দাপ্তরিক কাজ ও প্রয়োজনীয় বোর্ড মিটিংয়ের পর্যালোচনা শেষ করে। সাধারণ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন তৈরির আগেই বিশেষ বিসিএসের সব আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত হয়ে যায়। ফলে নিয়ম অনুযায়ী এই বিশেষ বিসিএসকেই ‘৫১তম বিসিএস’ হিসেবে আজ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল কমিশন।’
প্রকাশিত এই ৫১তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে মোট পাঁচ হাজার চিকিৎসককে ক্যাডার পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৭০০ জন নিয়োগ পাবেন সহকারী সার্জন বা মেডিক্যাল অফিসার পদে এবং বাকি ৩০০ জন নিয়োগ পাবেন ডেন্টাল সার্জন পদে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্বাস্থ্য খাতের সক্ষমতা বাড়ানো ও চিকিৎসাসেবা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্য অর্জনে বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। বাজেটের সেই নীতিগত নির্দেশনার আলোকেই পিএসসি এবার চিকিৎসকদের এই বিশেষ বিসিএস দ্রুততার সঙ্গে চূড়ান্ত করল।
পিএসসি সূত্রে জানা গেছে, চিকিৎসকদের এই বিশেষ বিসিএসে লিখিত পরীক্ষার কোনো দীর্ঘ ও জটিল প্রক্রিয়া থাকবে না। সাধারণত ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ১০০ নম্বরের দক্ষতাভিত্তিক মৌখিক পরীক্ষার (ভাইভা) মাধ্যমেই দ্রুত প্রার্থী বাছাই সম্পন্ন করা হবে।
এর ফলে দ্রুততম সময়ে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে ৫ হাজার নতুন চিকিৎসককে দেশের উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালগুলোতে পদায়ন করা সম্ভব হবে।
৫২তম সাধারণ বিসিএস কবে?
এদিকে বিশেষ বিসিএস ৫১তম হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ পাওয়ায় সাধারণ ক্যাডারপ্রত্যাশীদের চোখ এখন ৫২তম বিসিএসের দিকে। পিএসসির পূর্বঘোষিত বিসিএস ক্যালেন্ডার বা রোডম্যাপ অনুযায়ী চলতি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসেই সাধারণ বিসিএসের নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে ৫০তম বিসিএসের ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) চলছে। নির্ধারিত রোডম্যাপ মেনে আগামী নভেম্বরের মধ্যেই ৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করার জোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন।
৫০তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার পর অথবা এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পিএসসি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নভেম্বরেই নতুন সাধারণ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা রয়েছে।
ইসি আনোয়ারুল
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, আগামী জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে আশা করি। আজ বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন ভবনের নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের কাছে এমন আশার কথা জানান তিনি।
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বর বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করার চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন। বার্ষিক পরীক্ষা থাকায় নভেম্বর-ডিসেম্বরে ভোট হবে না। পরীক্ষা শেষে জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে আশা করি।
তিনি বলেন, পাবলিক পরীক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা যুক্ত থাকেন। তাই এই সময়টাতে নির্বাচন করা কঠিন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে সরকারের সাথে চিঠি চালাচালি করতে হয় এমন কোন নজির নেই। সরকারের সাথে নির্বাচন উপযোগীর তালিকা চাওয়া হয়েছে।
নির্বাচনে তারিখ পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরে তফসিল দিয়ে নভেম্বরের মাঝামাঝি ভোট শুরু করতে চেয়েছিল ইসি। এমনকি সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন করার সম্ভাব্য তারিখও ঘোষণা করেছিল। তবে সরকারের আপত্তি ও নানা কারণে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ইসি। বিশেষ করে শিক্ষা ও পুলিশ প্রশাসন এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ২০২৭ সালের জানুয়ারির আগে নির্বাচন চায় না।
ছবি : সংগৃহীত
সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মোটরসাইকেল ও গাড়ি চালকদের ১২টি নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। বাহিনীটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনায় হেলমেট ব্যবহার, কাগজপত্র সঙ্গে রাখা, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশের নির্দেশনা
> মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে হেলমেট এবং গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সিটবেল্ট ব্যবহার করুন।
> মোটরসাইকেলে চালকসহ আরোহী কোনোভাবেই দুইয়ের অধিক হবে না।
> মোবাইল ফোন ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো থেকে বিরত থাকুন।
> নির্ধারিত গতিসীমা এবং ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলুন।
> বড় এবং ভারী যানবাহনের ব্লাইন্ড স্পট সম্পর্কে সচেতন থাকুন, যাতে চালক আপনাকে দেখতে পায়।
> লেন পরিবর্তন কিংবা টার্ন নেওয়ার পূর্বে ইন্ডিকেটর ব্যবহার করুন।
> অন্য পরিবহনের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
> বিরূপ আবহাওয়ায় গতি কমিয়ে সাবধানে গাড়ি চালান।
> ট্রাফিক জ্যাম কিংবা অন্য চালকদের ভুলে মেজাজ হারাবেন না।
> মাদক সেবন করে, নিদ্রাচ্ছন্ন চোখে কিংবা উল্টো পথে গাড়ি চালাবেন না।
> মহাসড়কে ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকুন, নির্ধারিত লেন মেনে গাড়ি চালান হালনাগাদকৃত কাজগপত্র সঙ্গে রাখুন।
> বাংলাদেশ পুলিশ এসব নির্দেশনা মানার পরামর্শ দিয়ে বলেন, আপনার ও আপনার পরিবারের নিরাপত্তায় সতর্ক থাকুন।
ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে বাসের পাশাপাশি লঞ্চের ভাড়া বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছেন সড়ক, নৌ ও রেল মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম রবি। তিনি বলেছেন, লঞ্চে প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে ২৩ পয়সা করে এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে ২০ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানো হয়েছে।
তবে রেল ও ফেরির ভাড়া না বাড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ অবস্থানের কথা জানান মন্ত্রী রবি।
তিনি বলেন, “যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বে প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩ টাকা ১৮ পয়সা করা হয়েছে।
“১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ৭২ পয়সা করা হয়েছে, অর্থাৎ বেড়েছে ২০ পয়সা।”
রেল ও ফেরির ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে মন্ত্রী রবি বলেন, “এখন পর্যন্ত রেলের ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়নি। ভাড়া না বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। চাইব ভাড়াটা যাতে না বাড়িয়ে অ্যাডজাস্ট রাখা যায়।
“ফেরিতে লোকসান হলেও জনস্বার্থে ভাড়া না বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।”
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর এর আগে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়।
দূরপাল্লার বাসে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ২৩ পয়সা থেকে বেড়ে ২ টাকা ৪০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া ২ টাকা ৫৩ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয় ২ টাকা ৭০ পয়সা।
এতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাসে সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসে ৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে।
এর আগের দিন থেকে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম এক লাফে লিটারে ২০ টাকা করে বাড়ানো হয়।
নতুন দর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।