জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) ১০ বছর ধরে ক্যাডার হিসেবে কাজ করছেন সাত কর্মকর্তা। এর মধ্যে শুল্ক ও আবগারি ক্যাডারের চারজন এবং আয়কর ক্যাডারে তিনজন। অথচ ২৯তম বিসিএসে তারা সুপারিশপ্রাপ্ত ছিলেন নন-ক্যাডারে। বর্তমানে তারা এনবিআরের আওতাধীন বিভিন্ন শুল্ক ও আয়কর অনুবিভাগে কর্মরত।
শুরু থেকে এসব কর্মকর্তাকে নিয়ে নানা আলোচনা থাকলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিষয়টি সামনে আসে। এরই মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে একটি কমিটিও গঠন করেছে সংস্থাটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, ২০১১ সালের আগস্টে ২৯তম বিসিএসে শুল্ক ও আবগারি ক্যাডারে সুপারিশ করা হয় ৬৮ কর্মকর্তার। এর মধ্যে মেধাতালিকায় ছিলেন ৩২ জন, আর কোটায় ছিলেন ৩৬ কর্মকর্তা। তারা সবাই ওই বছরের আগস্টে যোগদান করেন। কিন্তু শুল্কের নন-ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়া চার কর্মকর্তা প্রায় আড়াই বছর পর যোগদান করেন। তখন ৩১তম বিসিএসের যোগদান প্রক্রিয়া শেষ। অথচ ওই চার কর্মকর্তাকে দুই বছর পর ২৯তম বিসিএসের কর্মকর্তা হিসেবে গেজেটভুক্ত করা হয়। প্রায় আড়াই বছর পর যোগ দেওয়া এসব কর্মকর্তাকে জ্যেষ্ঠতা দেওয়ার বিষয়টিও গেজেটে উল্লেখ করা হয়। কাস্টমস ও ট্যাক্সে যোগ দেওয়া এসব কর্মকর্তা হলেন ফরিদা ইয়াসমিন, ফাহমিদা মাহজাবিন, রোখসানা খাতুন ও অপ্সরা বড়ুয়া। তাদের মধ্যে গত বছরের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তন পর বিদেশে চলে যান ফাহমিদা মাহজাবিন। পরে তিনি এনবিআরের কাছে স্বেচ্ছায় অবসরের আবেদন করেন।
এদিকে কর ক্যাডারে যোগ দেওয়া কর্মকর্তারা হলেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, কামরুন নাহার শম্পা ও মাকসুদা ইসলাম। বিসিএসের ২৯ ব্যাচে কর ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হন ২৮ কর্মকর্তা। এর মধ্যে ১৪ জন মেধায়, আর বাকি ১৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হন কোটায়। আয়কর ক্যাডারে প্রায় এক বছর পর যোগদান করলেও গেজেটের মাধ্যমে ২৯তম বিসিএসের কর্মকর্তা হিসেবে এনবিআরে আসা এসব কর্মকর্তা নিয়মিত ভিত্তিতে পান পদায়ন ও পদোন্নতি।
২৯তম বিসিএসের নন-ক্যাডারের সুপারিশে ক্যাডার পাওয়া কর্মকর্তাদের বিষয়ে ২০১৩ সালে আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করেন মোহাম্মদ ফেরদৌস হাসান নামে এক ব্যক্তির মা। ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাডারে আসা এসব কর্মকর্তার নিয়োগ বাতিল করেন উচ্চ আদালত। কিন্তু আদলতের ওই রায় আমলে নেয়নি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। দীর্ঘদিন পর গত বছরের ১১ নভেম্বর আদালতের রিট পিটিশনের বিষয়ে এনবিআরে একটি চিঠিও দেওয়া হয়। সেই চিঠির এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়নি এনবিআর।
জানতে চাইলে এনবিআরের প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্য মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। বিষয়টি শুনেছি, তবে খোঁজখবর নিয়ে সর্ম্পূণটা বলতে পারব।’
দুদক সূত্রে জানা গেছে, ২৯তম বিসিএসে আসা কাস্টম-ট্যাক্সের সাত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এনবিআর কার্যকর পদক্ষেপ না নিলেও অনুসন্ধান শুরু করেছে দুদক। গত ১৪ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টুকে প্রধান করে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে কাস্টম-ট্যাক্সের এই সাত কর্মকর্তাকে শুনানিতে ডেকেছে অনুসন্ধানী টিম।
আদিল চৌধুরী
আর্থিক সংকটে থাকা ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আদিল চৌধুরী পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগপত্র জমা দেয়ার পর থেকে তিনি নিয়মিত ব্যাংকের কার্যালয়েও যাচ্ছেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
গত বছরের ৭ জুলাই তিন বছরের জন্য ন্যাশনাল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন আদিল চৌধুরী। এর আগে তিনি ব্যাংক এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে ন্যাশনাল ব্যাংকে তার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত এলো। এর আগেও ব্যাংকটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদুল আলম খান মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন।
আদিল চৌধুরীর পদত্যাগ এমন এক সময়ে হলো, যখন ন্যাশনাল ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। উচ্চ খেলাপি ঋণের বোঝা, ধারাবাহিক লোকসান এবং আমানত প্রত্যাহারের চাপ ব্যাংকটির সামগ্রিক কার্যক্রমকে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলেছে। ২০২২ সাল থেকে টানা লোকসানে রয়েছে ব্যাংকটি। খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের প্রভাবে ব্যাংকটির পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৮ হাজার ৯০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
ব্যাংকটির আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ঢাকার পান্থপথে নির্মাণাধীন ‘টুইন টাওয়ার’ ভবন ইজারা দেয়ার অনুমতি দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকটির আয় বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
ন্যাশনাল ব্যাংকের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়েও গত কয়েক বছরে বড় পরিবর্তন এসেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দীর্ঘদিন সিকদার গ্রুপ ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপের পর গ্রুপটি ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ হারায়। এরপর পুনর্গঠিত পরিচালনা পর্ষদে মাল্টিমোড গ্রুপ, হোসাফ গ্রুপ এবং আর্মানা গ্রুপ সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা যুক্ত হন।
এদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদত্যাগের পর ব্যাংকটির নেতৃত্বে কে আসছেন, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। পরিচালনা পর্ষদ পদত্যাগপত্র গ্রহণ এবং নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
মাত্র তিন দিন আগে দাম কমানোর পর দেশের বাজারে আবারও স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এক লাফে দুই হাজার ২১৬ টাকা বেড়ে ভ্যাটসহ দুই লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে নতুন এ মূল্য কার্যকর হয়েছে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি বা পিওর গোল্ডের দাম বৃদ্ধির কারণে সার্বিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম এক লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের প্রতি ভরির দাম রাখা হয়েছে এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।
সংগঠনটি জানিয়েছে, পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের নকশা ও কারুকাজ অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে। যেহেতু স্বর্ণ ও রৌপ্য অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকবে, তাই গ্রাহকদের কাছ থেকে পৃথকভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি এবং পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে বাজুসের বিদ্যমান নীতিমালা বহাল থাকবে।
এর আগে ২৪ জুলাই স্বর্ণের দাম কমিয়েছিল বাজুস। সেদিন প্রতি ভরিতে তিন হাজার ৩২৪ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভ্যাটসহ দুই লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
তখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরির দাম ছিল দুই লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম এক লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল এক লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা
রংপুর-৪ আসনের এমপি আখতার হোসেন
সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আলাদা করে কোনো আর্থিক অনিয়মের তদন্ত করবে না বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম খতিয়ে দেখার সময় যদি কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তবে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান বাংলাদেশে ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
আরিফ হোসেন বলেন, সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে ছিলেন, তাই তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে আলাদা কোনো অনুসন্ধান চালাবে না নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে দেশের আর্থিক খাতের সংস্কারে ব্যাংকভিত্তিক যে তদন্তগুলো চলছে, সেখানে কারো সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘গ্রাহকরা ব্যাংকের কাস্টমার।
আর কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকে ইন্সপেকশন করে। তদন্তের সময় কোনো অনিয়ম পাওয়া গেলে বাংলাদেশ ব্যাংক সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করে। কোনো ব্যক্তি অনিয়ম করলে, সেই অনিয়মের সঙ্গে পর্ষদ জড়িত কি না সেটাও দেখা হয়।’
তিনি যোগ করেন, ‘এটা ব্যাংক নিজেরাই অডিট করে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকও করে এবং এক্সটার্নাল অডিটও হয়।
এটা কোনো ব্যক্তি বিশেষকে টার্গেট করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক করবে না। বিশেষ প্রায়োরিটি নিয়ে কিংবা টার্গেট করে কাজ করছে, এমন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর এক দিন পর আজ রবিবার বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানের বাসায় ওঠেন তিনি।
এদিকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করা হয়েছে।
রবিবার বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষ থেকে ট্রাইব্যুনালে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ফিকি এফডিআই কনফারেন্স-২০২৬: ড্রাইভিং ফরেন ইনভেস্টমেন্ট ফর জবস অ্যান্ড প্রসপারিটি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও ইনভেস্টরস এক্সপোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সামনে যেমন নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তেমনি রয়েছে বিপুল সম্ভাবনাও। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নিরাপদ ও টেকসই বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার সরলীকরণ, বিনিয়োগ-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ স্বল্পমেয়াদি নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বিদেশি বিনিয়োগ চায়।
তারেক রহমান বলেন, দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। অর্থনীতির বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ভ্যাট ও কর ব্যবস্থার সংস্কার, সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশন এবং বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতীকী ছবি
চলতি করবর্ষে আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন প্রথম প্রান্তিকেই দাখিল করে প্রণোদনা পেতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন সেবা চালু করেছে এনবিআর।
করদাতাদের জন্য ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের ই-রিটার্ন সেবা চালু করে বুধবার এনবিআর সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। এর ফলে এখন থেকেই অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করা যাচ্ছে।
এনবিআর বলছে, করসেবা সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করার জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বুধবার থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের এই সুবিধা দিচ্ছে; এতে করে করদাতারা এখন ঘরে বসেই তাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন প্রস্তুত ও দাখিল করতে পারবেন।
২০২৬-২০২৭ করবর্ষ হতে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে নিট প্রদেয় করের ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা প্রণোদনা পাওয়ার বিধান রয়েছে।
ফলে এ সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল ব্যক্তিশ্রেণির করদাতারা প্রণোদনা পাবেন। এই সময়ের পর দাখিলকৃত রিটার্নের ক্ষেত্রে এই প্রণোদনা প্রযোজ্য হবে না বরং ডিসেম্বর পরবর্তী সময়ে দাখিলকৃত রিটার্নে অতিরিক্ত কর প্রদান করতে হবে।
তাই এনবিআর 'যথাসময়ে রিটার্ন দাখিলের জন্য করদাতাদের ‘বিশেষ অনুরোধ করছে' বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
২০২১ সালে অনলাইন রিটার্ন দাখিল পদ্ধতি চালুর পর থেকে পদ্ধতিটা করদাতাদের মাঝে সাড়া ফেলে।
২০২৫-২০২৬ করবর্ষে রেকর্ড প্রায় ৪৭ আখ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেমের মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল করেন।
এদিকে এনবিআর এবারেও গত করবর্ষের মতই বিশেষ আদেশ জারির মাধ্যমে স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।
তবে, ৬৫ বছর বা তার চেয়ে বয়সের প্রবীণ করদাতা, সনদপত্র দাখিল সাপেক্ষে শারীরিকভাবে অসমর্থ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা, মৃত করদাতার পক্ষে প্রতিনিধি অথবা বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকরা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার পরিবর্তে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
এছাড়াও, ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন সংক্রান্ত সমস্যার কারণে অন্যান্য স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতাগণ অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিলে সমর্থ না হলে সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত বা যুগ্মকর কমিশনারের অনুমোদনক্রমে পেপার রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
জাতীয় রাজস্ব বের্ডের www.etaxnbr.gov.bd সিস্টেমে করদাতারা ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, বিকাশ, রকেট, নগদ অথবা অন্য কোনো মোবাইল ফাইন্যানশিয়াল সার্ভিস এর মাধ্যমে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপা<ই সঠিক তথ্য দিয়ে নির্ভুলভাবে রিটার্ন প্রস্তুতপূর্বক রিটার্ন জমা দিয়ে তাৎক্ষণিক প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ সংগ্রহ করতে পারবেন।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হলে তা সমাধানের জন্য রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তারা সরকারি ছুটি ছাড়া অফিস চলাকালীন কল সেন্টার (০৯৬৪৩৭১৭১৭১) এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সেবা দেবেন।
ছবি : সংগৃহীত
দেশের বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) শুক্রবার সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন মূল্য ঘোষণা করে। নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, খাঁটি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দাম সমন্বয় করা হয়েছে।
নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, নতুন মূল্য ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অলংকারের ডিজাইন ও কারুকাজভেদে মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে। রুপার অলংকারের ভ্যাট বিষয়ে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এদিকে ২২ ক্যারেট রুপার দাম ভরিপ্রতি ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। ২১ ক্যারেট রুপার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা। ১৮ ক্যারেটের দাম ৩ হাজার ৭৯০ টাকা, সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ২ হাজার ৮৫৭ টাকা।