বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সোনালী দলের ২০২৬-২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) নতুন এ কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিষয়টির সত্যতা আজ নিশ্চিত করেছেন নবগঠিত কমিটির সভাপতি ও কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান।
এর আগে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১ জুলাই ২০২৪-২৫ সময়কালের জন্য সোনালী দলের কমিটি গঠন করা হয়। দীর্ঘ দুই বছর পরে নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত কমিটিতে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. আদহাম। কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে আছেন মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আছেন অ্যানিমেল ব্রিডিং অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ভূঁঞা।
কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক-১ উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী হোসেন, যুগ্ম-সম্পাদক-২ পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. ছাদেকা হক, দপ্তর ও প্রচার সম্পাদক সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. জি. মোস্তফা আমিন, সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এনাটমি অ্যান্ড হিস্টোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউল হক এবং গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম কাদের খান।
এ ছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. মোখলেছুর রহমান (কৃষি রসায়ন), অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাশেম (এনিমেল সায়েন্স), অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল হাসান ভূঞা (পদার্থ বিজ্ঞান), অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির (কৃষি অর্থনীতি), অধ্যাপক ড. মো. মোজাম্মেল হক (গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট), অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান (ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিক্স), অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া (ফিজিওলজি), অধ্যাপক ড. মো. মফিজুর রহমান জাহাঙ্গীর (মৃত্তিকা বিজ্ঞান) এবং অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোহেল রানা সিদ্দিকী (ডেইরি সায়েন্স)।
পদাধিকারবলে সদস্য হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক (একোয়াকালচার), অধ্যাপক ড. আহমদ খায়রুল হাসান (কৃষিতত্ত্ব), অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার (ফিশারিজ বায়োলজি ও জেনেটিক্স) এবং অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার (কৃষি সম্প্রসারণ শিক্ষা)। তবে অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বর্তমানে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় পদটি শূন্য থাকবে বলে কমিটির তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান বলেন, "আমরা চাই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হোক এবং ক্যাম্পাসে একটি শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল পরিবেশ বজায় থাকুক। এ লক্ষ্য অর্জনে সোনালী দলের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করতে আমরা প্রস্তুত আছি।
আমরা বিশ্বাস করি, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা সম্ভব। সে লক্ষ্যে যে কোনো ইতিবাচক উদ্যোগের পাশে আমরা থাকব এবং সর্বাত্মক সহযোগিতা করব।"
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের পক্ষে দেশের ২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ শিক্ষক গোপনে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
'বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ' নামে টেলিগ্রামে খোলা একটি সিক্রেট গ্রুপের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম সমন্বয় করা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়। ওই প্রতিবেদনে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষকের নামও রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা নিরূপণে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. মজিবুর রহমান মজুমদার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, গত ৪ ও ৫ আগস্ট বিভিন্ন জাতীয় সংবাদপত্রে প্রকাশিত ওই সংবাদের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের তৎপরতা এবং নাম প্রকাশিত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন (বর্তমান ও সাবেক) শিক্ষকের সম্পৃক্ততা বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত যাচাই, শিক্ষকদের পরিচয় ও কার্যক্রম নিরূপণের লক্ষ্যে উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
৪ সদস্যের কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে রয়েছেন গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম। সদস্য হিসেবে রয়েছেন সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ ফয়সল বিন আবদুল আজিজ এবং আইসিটি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক পিন্টু চন্দ্র পাল। সদস্য-সচিব হিসেবে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মনিরুজ্জামান।
প্রকাশিত সংবাদে দাবি করা হয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষকের নাম ওই তালিকায় রয়েছে। তারা হলেন, (যেভাবে উল্লেখ ছিলো) ড. কাজী ওমর সিদ্দিকী, বাদশা মিয়া, মো. ইকরাবুল হক, ড. আবদুল্লাহ আল মাসুম, আলম (সাংকেতিক নাম), অধ্যাপক ড. এম. এ. এ. মামুন, আইয়ুব আনসারী পিনু, সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. রাসেল, রাসূল আমিন, জি. এম. সাদিক হাসান এবং ড. হেলাল উদ্দিন।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবদুল হাকিম বলেন, "আজই আমরা অফিস আদেশটি পেয়েছি। প্রকাশিত সংবাদে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষকের নাম এসেছে। প্রাথমিকভাবে দেখেছি, সেখানে কয়েকটি নামের গরমিল রয়েছে। এসব তথ্যের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতা যাচাই করাই আমাদের মূল কাজ। খুব শিগগিরই কমিটির সভা করে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করব এবং নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেব।"
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া আমাদের দায়িত্ব নয়। আমরা কেবল তদন্ত করে তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করব। পরবর্তী সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নেবে।"
উল্লেখ্য, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে বলা হয়েছে।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইউসুব আলী বলেছেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে নিরাপদে পদচারণা করবে। কিন্তু আমরা দেখেছি ক্ষমতা পাওয়ার সাথে সাথে ছাত্রদলের ভাইয়েরা ক্যাম্পাসগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করার জন্য সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা শুরু করেছে। আমরা ধৈর্য ধারণ করছি। ধৈর্যের বাঁধ যদি একবার ভেঙে যায়, তাহলে আপনাদের পিঠের চামড়া আমরা তুলে ফেলব।
বুধবার ( ৫ আগস্ট) দুপুরে জুলাই বিপ্লবের ২য় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত 'অদম্য জুলাই মিছিল' পরবর্তী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, "বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল ক্যাম্পাসগুলোতে আবারও গণরুম-গেস্টরুম কালচারের পাঁয়তারা করছে। তারা ইতোমধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি জায়গায় আবারও গণরুম-গেস্টরুম কালচার চালু করে দিয়েছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, আমরা আর সহ্য করবো না। শিক্ষার্থীদের নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ার মাধ্যমে এই গণরুম-গেস্টরুম কালচার চালুকারিদেরকে আমরা ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করবো।"
ছাত্রলীগের পরিণতির স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ''আমাদের জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল হল দখলের রাজনীতি মূলোৎপাটন করা। কিন্তু আমরা দেখেছি যে, সেই রাজনীতি আবার শুরু হয়ে গেছে। আমরা সতর্ক করে দিতে চাই, ছাত্রলীগ এই কাজ করেছে, সুতরাং ছাত্রলীগের পরিণতি কি ভয়ানক হয়েছে, সেই পরিণতির দিকে আপনারা আসবেন না।"
নানান আয়োজনে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী পালিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৯টা ২০ মিনিটে প্রশাসন ভবন চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং আনন্দের প্রতীক বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে.এম মতিনুর রহমান।
দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের নেতৃত্বে প্রশাসন ভবন চত্বর থেকে একটি আনন্দ র্যালি বের হয়ে ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসিসি মিলনায়তনে এসে আলোচনা সভায় সমবেত হয়। এসময় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা, ছাত্র-শিক্ষকদের জুলাই বিপ্লবের ভূমিকা নিয়ে ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং জুলাই ৩৬ এর ২য় বর্ষ পালন বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও ব্যবসা প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস শাহীদ মিয়ার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম. মতিনুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হক। এছাড়া বিভিন্ন অনুষদের ডিন, হল প্রভোস্ট, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন সমিতি ও সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও শিক্ষক-কর্মকর্তার সংগঠনের প্রতিনিধিসহ অন্যান্য অতিথিরা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. মতিনুর রহমান বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে যারা নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দেশের জন্য উৎসর্গ করেছেন, তাদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, তাদের প্রতি সমবেদনা; তাদের পরিবারের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। একই সাথে এই বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্বাধীনতার দিন থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক আন্দোলনে অন্যায়ভাবে যাদেরকে গুম ও হত্যা করা হয়েছে, তারাসহ সকল শহীদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছি। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যিনি এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় মূল ভূমিকা রেখেছেন। সেই সাথে এই বিশ্ববিদ্যালয় বিনির্মাণে যে সকল প্রাজ্ঞ ব্যক্তি চিন্তা করেছেন, দিকনির্দেশনা ও অনুপ্রেরণা দিয়েছেন, তাদেরও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।
তিনি আরও বলেন, বিপ্লবের সময়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়াটা মোটেই কোনো সহজ বিষয় ছিল না, অনেক কঠিন বিষয় ছিল।
আমরা ২৪ জুলাই ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিস্ট তাড়িয়েছিলাম; আজ আবার নতুন করে শপথ গ্রহণ করি। আমি মনে করি যে জুলাই একটি আবেগ ছিল, কিন্তু পুরোটাই যদি আবেগের বশবর্তী হয়, তাহলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে। আমরা যদি সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, ইনশাআল্লাহ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যে লক্ষ্য—আমি আগেও বলেছি, আজও এই ৫ আগস্টের ৩৬ জুলাই উপলক্ষে বলতে চাই—সেই লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যকে ধারণ করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এদেশ আমাদের। এ দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন, এ দেশটাকে আমরা ভালোবাসি, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হই, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে, সমালোচনা থাকবে এবং সেটি আমরা অব্যাহত রাখব।
এরপরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও হলসমূহের মধ্যে প্রীতি ভলিবল প্রতিযোগিতা ও মহিলাদের মধ্যে পিলো পাসিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
জাককানইবি উপাচার্য ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন
“জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস এক অর্থে গণতন্ত্র পুনরুত্থান দিবস। অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে কাজ করতে হবে।” জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বুধবার (৫ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, জুলাই একদিকে আনন্দঘন, অন্যদিকে বেদনাবিধুর। এই মাস দেশের জন্য আত্মত্যাগের স্মারক। “জুলাই মানে সন্তানহারা মা-বাবার বুকফাটা কান্না, ভাইহারা বোন ও বোনহারা ভাইয়ের কান্না। পৃথিবীতে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস মানুষের জীবন। অথচ দেশের প্রয়োজনে এ দেশের মানুষ নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। জুলাইয়ের শহিদরা জীবন দিয়ে মৃত্যুকে জয় করেছেন।”
উপাচার্য আরও বলেন, ছাত্র-শিক্ষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সার্বজনীন আন্দোলনে পরিণত হয়েছিল। সেই চেতনাকে ধারণ করে সব ধরনের বিভেদ ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে বিশ্ববিদ্যালয়কে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এর আগে বক্তব্যের শুরুতে তিনি জুলাইসহ বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে দেশের জন্য আত্মাহুতি দেওয়া ব্যক্তিদের এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি তাঁদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফারেন্স কক্ষে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার এবং আইন অনুষদের ডিন মুহাম্মদ ইরফান আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল। স্বাগত বক্তব্য দেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) খন্দকার নাজমুল হাসান এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন এবং অনেকে তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
এর আগে সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি বিজয় র্যালি বের হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জুলাই স্কয়ারে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে নির্মিতব্য প্রস্তাবিত জুলাই সোপানে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ শহীদুল হকের সভাপতিত্বে এবং সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহর সঞ্চালনায় প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকবৃন্দ, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ক,খ,গ,ঘ মোট চারটি বিভাগে অনুষ্ঠিত হয় এবং প্রতিটি বিভাগ থেকে তিনজন করে মোট ১২ জন বিজয়ীকে পুরস্কৃত করা হয়।
"ক" দলে নার্সারী থেকে ২য় শ্রেণী পর্যন্ত শিশুরা অংশ নেয় এবং এতে ১ম স্থান অধিকার করে শিশু নিকেতনের রাইয়ান আদিয়ান, ২য় স্থান অধিকার করে একই বিদ্যালয়ের ওয়াসিফা রহমান ইনারা এবং ৩য় স্থান অধিকার করে ক্যান্টনমেন্ট স্কুল এন্ড কলেজের খাদিজা তুজ তাহিরা।
"খ" দলে ৩য় থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অংশ নেয় এবং এতে ১ম স্থান অধিকার করে কে বি হাই স্কুলের ৫ম শ্রেণীর ছাত্র মোঃ শায়ান হোসেন, ২য় স্থান অধিকার করে একই বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্র জারিফ আরিয়ান এবং ৩য় স্থান অধিকার করে একই বিদ্যালয়ের নেহরিন ইঞ্জিলা সাত্তার।
"গ" দলে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। ১ম স্থান অধিকার করে ইউনিক প্রগ্রেসিভ স্কুলের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী তানিশা তাবাসসুম ইথা, ২য় স্থান অধিকার করে ইউনিক প্রগ্রেসিভ স্কুলের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী শ্রেয়া মন্ডল অন্বেষা এবং ৩য় স্থান অধিকার করে বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী তাসনিম হোসেন রাইসা।
"ঘ" দলে ৯ম থেকে দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়।১ম স্থান অধিকার করে ভবেখালি দাখিল মাদ্রাসার ১০ম শ্রেণীর ফাতিমাতুজ জাহরা, ২য় স্থান অধিকার করে কে বি হাই স্কুলের ৯ম শ্রেণীর ছাত্র সামিন নিহাল এবং বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হয় কে বি হাই স্কুলের জাইমা ইসলামকে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তোমাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ছাত্র-জনতা ও সর্বস্তরের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে। এ গণঅভ্যুত্থান থেকে অর্জিত চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সর্বদা সচেতন থাকতে উদ্বুদ্ধ করবে।
জুলাই’২৪ গণঅভ্যুত্থানের গৌরবময় স্মৃতি ও চেতনাকে ধারণ করে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ( বাকৃবি) বিজয় শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার(৫ আগষ্ট) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটির আয়োজনে এটি অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখ থেকে শুরু করে কৃষি অনুষদের করিডোর হয়ে কৃষি অনুষদ ছাত্র সমিতির সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে শোভাযাত্রায় অংশ নেন রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো: হেলাল উদ্দীন, ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো: শহীদুল হক, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ সহ বিশ্ববিদ্যলয়ের বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ছাত্র প্রতিনিধিরা।
শোভাযাত্রা শেষে সকলের উদ্দেশ্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, "ছাত্রজনতার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনর সূত্র ধরেই এদেশের সাধারন জনগন রাজপথে নেমেছিল ফ্যাসিবাদী সরকারকে প্রতিহত করার জন্য। এদেশের মানুষের উপরে নির্যাতন, নিপীড়ন, হেলিকপ্টার থেকে গরম পানি নিক্ষেপ থেকে শুরু করে এমন কিছু নেই যেটা সেই ফ্যাসিবাদী সরকার করেনি।"
তিনি আরও বলেন, "তারা এখনো নানা বিধি চেষ্টা করছে এই অর্জনকে ধূলিসাৎ করার। কিন্তু এদেশের নিপীড়িত মানুষ আর কখনোই তাদেরকে বাংলার মাটিতে মেনে নিবে না।"