জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)
বিনা মূল্যের পাঠ্যবইয়ের চাহিদা ‘ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে’ দেখানো হচ্ছে। প্রকৃত চাহিদার চেয়ে বেশি বই চেয়ে পাঠাচ্ছেন বিদ্যালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। এতে সরকারের বিপুল অর্থের অপচয় হচ্ছে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) তথ্য বলছে, এরই মধ্যে ২৯৩টি উপজেলার তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, কেবল মাধ্যমিক স্তরেই প্রকৃত চাহিদার তুলনায় ৮৮ লাখ ৪২ হাজার বেশি পাঠ্যবইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, সব উপজেলার তথ্য পাওয়া গেলে এ সংখ্যা দেড় কোটির কাছাকাছি হতে পারে। এখন যাচাই করে চাহিদা সংশোধন করা হচ্ছে; সে অনুযায়ী বই ছাপা হবে। প্রতিবছরই বিনা মূল্যের পাঠ্যবই প্রকৃত চাহিদার চেয়ে বেশি ছাপানোর অভিযোগ ওঠে। এনসিটিবির মতে, বিদ্যালয় ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দেওয়া অতিরিক্ত চাহিদার কারণে প্রতিবছরই অর্থের অপচয় হচ্ছে।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষার্থীর প্রকৃত সংখ্যা ও প্রবণতা বিবেচনায় নিয়ে চাহিদা নির্ধারণের একটি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি গড়ে তোলা জরুরি। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে দেওয়া তথ্যের যথাযথ যাচাই নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে প্রতিবছরই অপচয় ঘটতে থাকবে।
এনসিটিবির সূত্রগুলো জানায়, পাঠ্যবইয়ের চাহিদা নির্ধারণ করা হয় প্রায় এক বছর আগে। এ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য শিক্ষার্থী ধরে চাহিদা পাঠায়। কিন্তু প্রায়ই দেখা যায়, এই অনুমান বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না; বরং প্রয়োজনের চেয়ে বেশি চাহিদা দেওয়া হয়। আগে এই চাহিদা খুব বেশি যাচাই করা হতো না বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে বেশি বই ছাপা হলেও সব বই কাজে লাগত না।
তবে গতবার থেকে এনসিটিবি চাহিদা নির্ধারণে বেশি যাচাই-বাছাই শুরু করেছে। কর্মকর্তারা কিছু এলাকায় সরেজমিনেও যাচাই করছেন।
এনসিটিবির সূত্র জানায়, চলতি বছরের জন্য মাধ্যমিক স্তরে বিনা মূল্যে বিতরণের জন্য চাহিদা ছিল ২১ কোটি ৩৭ লাখ ৬৭ হাজারের বেশি বই। কিন্তু আগামী বছরের জন্য এই চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ কোটি ৩২ লাখ ৩০ হাজার ৩১৮ কপিতে। এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সন্দেহ হলে এনসিটিবি ৩৪টি দল গঠন করে মাঠপর্যায়ে যাচাই শুরু করে।
যাচাইয়ে গিয়ে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে চাহিদা পাঠানোর প্রমাণ পাওয়া যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা বলেন, তিনি ঢাকার একটি এলাকায় গিয়ে দেখেছেন, একটি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের গুদামে বিপুল সংখ্যক বই মজুত আছে, যার অনেকগুলো গত তিন বছরের।
এনসিটিবির আরেকটি সূত্র জানায়, ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ২৯৩টি উপজেলার তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, মাধ্যমিকে ৮৮ লাখ ৪২ হাজারের বেশি বইয়ের অতিরিক্ত চাহিদা ছিল, যা পরে সংশোধন করে কমানো হয়েছে। এর আগে প্রথম দফায় যাচাই করা ১১০টি উপজেলায় গড়ে সাড়ে ৮ শতাংশ বেশি চাহিদা দেওয়া হয়েছিল। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মাদ্রাসা থেকে তুলনামূলক বেশি অতিরিক্ত চাহিদা এসেছে; সরকারি প্রতিষ্ঠানে তা কম।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, এবার চাহিদা পাওয়ার পরই মনে হয়েছে, এটি প্রকৃত চাহিদার চেয়ে অনেক বেশি। তখন তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে একটি উপজেলায় বিষয়টি যাচাই করেন এবং বেশি চাহিদার প্রমাণ পান। পরে ৩৪টি দলকে ৬৪ জেলায় পাঠানো হয়; তারা ১৬৮টি উপজেলা পরিদর্শন করেছে। সব উপজেলার তথ্য পাওয়া গেলে বইয়ের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি কমবে বলে তাঁদের ধারণা। এতে সরকারের বড় অঙ্কের অপচয় রোধ হবে।
১৫ নভেম্বরের মধ্যে ছাপা শেষ করার লক্ষ্য
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই শিক্ষাবর্ষে বিনা মূল্যের পাঠ্যবই বিতরণের সুযোগ পেলেও একবারও বছরের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই পৌঁছানো যায়নি। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে সব বই সরবরাহে সময় লেগেছিল প্রায় তিন মাস। আর চলতি শিক্ষাবর্ষ (২০২৬) শুরুর এক মাস সাত দিনের মাথায়, গত ৭ ফেব্রুয়ারি শতভাগ বই সরবরাহ করা হয় বলে এনসিটিবি সূত্রে জানা যায়। বই দেরিতে পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় প্রভাব পড়ে।
চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে মোট ৩০ কোটি ২ লাখ ৫৫ হাজার ১৫৪টি পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও সরবরাহ করা হয়েছে।
এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে, তারা আগামী বছরের পাঠ্যবই ছাপার প্রক্রিয়া (দরপত্রসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম) এখন থেকেই শুরু করছে। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী বলেন, আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সব বই ছাপিয়ে মাঠপর্যায়ে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে তাঁরা এগোচ্ছেন। এতে বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
ছবি: নওরোজ
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (WUB)-এর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়ন, নেতৃত্বের বিকাশ এবং অ্যাকাডেমিক ও সহ-শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘মেকানিক্যাল ক্লাব’-এর ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সম্প্রতি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত “মেকানিক্যাল কার্নিভাল-২০২৬” অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে নবগঠিত কমিটির নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা ও অনুমোদন দেওয়া হয়।
নতুন কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধান ও দিকনির্দেশনায় পরিচালিত হবে। ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগের প্রফেসর ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. মিজানুর রহমান। সহকারী পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন সহকারী প্রফেসর মো. সোহেল রানা। এছাড়া সহযোগী উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিভাগের লেকচারার মো. ইউসুফ আলী এবং আহমেদ আব্দুল্লাহ মুজাহিদ।
নবগঠিত কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃত্বে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মারুফ আহমেদ। সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন প্রিতম দেবনাথ, আবু রায়হান শাফী ও নুর আমিন। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মোব্বাসিরা আক্তার।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কমিটির পক্ষ থেকে ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। আগামী মেয়াদে কারিগরি সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মেকানিক্যাল ও রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।
এ উপলক্ষে প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বিভাগীয় প্রধান ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, “মেকানিক্যাল ক্লাব শিক্ষার্থীদেরবাস্তবমুখী অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বগুণ অর্জনের অন্যতম প্ল্যাটফর্ম। আশা করি, সভাপতি মারুফ আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদকমোব্বাসিরা আক্তারের নেতৃত্বে নতুন কমিটি ক্লাবের কার্যক্রমকে আরও বেগবান করবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নবগঠিত কমিটি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের পেশাগত প্রস্তুতি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দ্য ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টস (আইটিইটি)-এর সভাপতি প্রকৌশলী মো. এনায়েত হোসেনের নেতৃত্বে সংগঠনটির ১৫তম কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের নবনির্বাচিত সদস্যরা বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
সোমবার মন্ত্রীর বাসভবনে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে আইটিইটি’র নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দ নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন এবং সংগঠনের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম এবং টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স ফোরাম, বাংলাদেশ-এর সভাপতি প্রকৌশলী এ. টি. এম. শামসুদ্দিন খানসহ অন্যান্যরা।
সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী আইটিইটি’র নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি দেশের টেক্সটাইল ও পোশাক খাতের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ, চলমান সংকট নিরসন এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেন। পাশাপাশি শিল্পখাতের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আইটিইটি’র কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট লিখিত পরামর্শ আহ্বান করেন।
আলোচনার এক পর্যায়ে আইটিইটি’র পক্ষ থেকে দেশের টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে মানসম্মত ও বাস্তবমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রী জানান, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন ও শিক্ষক সংকট নিরসনে চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে স্টুডেন্ট ও টিচার এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালুর পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
দেশের টেক্সটাইল খাতের সার্বিক উন্নয়ন এবং প্রকৌশলীদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের সঙ্গে আইটিইটি’র এই গঠনমূলক সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) নতুন কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে 'নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১' এর ১৩ (১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে নোবিপ্রবির কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ প্রদান করা হলো।
প্রজ্ঞাপনে নিয়োগের শর্তে বলা হয়, কোষাধ্যক্ষ পদে তাঁর নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ হতে ৪ (চার) বছর অথবা তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখের মধ্যে যা পূর্বে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত কার্যকর হবে। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কর্তৃক পূর্বের প্রজ্ঞাপন (২৭.১২.২০২০ তারিখে জারিকৃত) অনুযায়ী মাসিক সম্মানী প্রাপ্য হবেন।বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় সংবিধি ও আইন দ্বারা নির্ধারিত এবং ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালন করবেন।মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। অনুলিপিটি অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিব, ইউজিসি চেয়ারম্যান, নোবিপ্রবি ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এবং রেজিষ্ট্রারসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি) নতুন উপ-উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সাইন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর সরকার।
আজ সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০-এর ১২ (১) ধারা অনুযায়ী তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নিয়োগের শর্তাবলীতে উল্লেখ করা হয়, তার নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ হতে ৪ (চার) বছর অথবা অবসর গ্রহণের তারিখ যেটি পূর্বে ঘটে, সেই সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে।তিনি তার মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি প্রাপ্য হবেন।তিনি বিধি অনুযায়ী পদসংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুবিধা ভোগ করবেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।বিশ্ববিদ্যালয়ের সংবিধি ও আইন দ্বারা নির্ধারিত এবং উপাচার্য কর্তৃক প্রদত্ত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনটিতে স্বাক্ষর করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো: শাহ্ আলম সিরাজ। জনস্বার্থে অবিলম্বে এ আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাম দিক থেকে নতুন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. ইদ্রিস
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি) হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন ও ট্রেজারার হিসেবে দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী নিয়োগ পেয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী তাদের এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর নিজ নিজ পদে দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্ব পালনকালে তারা বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন এবং বিধি অনুযায়ী পদ-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।
এছাড়া তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে সার্বক্ষণিক অবস্থান করবেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও সংবিধি অনুযায়ী নিজ নিজ পদের ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তবে রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রয়োজনে যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।
নবনিযুক্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাবেক ডিন। এছাড়াও তিনি ইউট্যাব, ইবি শাখার কার্যনির্বাহী সদস্য এবং জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
অন্যদিকে, নবনিযুক্ত ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
দায়িত্ব পাওয়ার পর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন বলেন, “ভাইস চ্যান্সেলর মহোদয়কে সঙ্গে নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়া এবং বিশ্বদরবারে বিশ্ববিদ্যালয়কে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে কাজ করে যাব।”
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসে দিন দিন বেড়েই চলেছে পথকুকুরের উৎপাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট থেকে শুরু করে বীর মুক্তিযোদ্ধা মালেক উকিল হল, আবদুস সালাম হল, নবাব ফয়জুন্নেছা হলসহ প্রায় পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে কুকুরের অবাধ বিচরণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কুকুরগুলো প্রায়ই নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় পথচারীদের ধাওয়া করে এবং আক্রমণাত্মক আচরণও করে। বিশেষ করে মালেক উকিল হল ও আবদুস সালাম হলসংলগ্ন সড়ক দিয়ে চলাচলকারী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে চলাচল করছেন।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটসংলগ্ন এলাকায় কুকুরের কামড়ে দুই শিশু আহত হওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাসজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হয়েছে।
একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কুকুরের কারণে হল এলাকায় স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁদের ভাষ্য, "হলের সামনে ও আশপাশে প্রায় সব সময়ই কুকুরের অবস্থান থাকে। কিছু কুকুরকে অসুস্থ বলেও মনে হয়। এতে জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকি নিয়েও আমরা শঙ্কিত।"
এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, "কুকুরের ভয়ে ক্যাম্পাসে নিশ্চিন্তে হাঁটতে পারি না। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই অনেক সময় কুকুর তেড়ে আসে এবং ধাওয়া করে। শান্তি নিকেতন এলাকা দিয়ে একা চলাচল করতেও ভয় লাগে। একাধিকবার অল্পের জন্য কুকুরের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছি।"
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টের মন্তব্যে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, "নবাব ফয়জুন্নেছা হলের রুমের সামনেও কুকুরের অবস্থান থাকে। বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানানোর পরও হল প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখতে পাইনি।"
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পথকুকুর ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও মানবিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে কুকুরগুলোর টিকাদান, চিকিৎসা, নির্বীজন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।