মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ছাত্র সংগঠনগুলো ২০২৫ সালে শিক্ষার্থী কল্যাণ, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় ব্যাপক কার্যক্রম চালিয়েছে।
গুচ্ছ পরীক্ষার্থীদের জন্য ছাত্রদলের হটলাইন ও বিনামূল্যে যাতায়াত সেবা প্রদান
গত ২৫ এপ্রিল ভর্তি পরীক্ষার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গেট, টার্মিনাল ও স্টেশনগুলোতে সাধারণত চাপ ও ভিড় বেড়ে যায়। বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে আসা ভর্তিচ্ছুদের অনেকেই ছিল ক্যাম্পাস সম্পর্কে অজানা। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় ছাত্রদল বিশেষ হটলাইন নম্বর চালু করে, যাতে পরীক্ষার্থীরা শহর থেকে ক্যাম্পাসে পৌঁছানোর রুট, থাকার ব্যবস্থা, পরিবহন নির্দেশনা ও জরুরি সহায়তা পেতে পারে। এছাড়া বিনামূল্যে যানবাহন সার্ভিস চালু করে সংগঠনটি — যেখানে নির্দিষ্ট স্পটে দাঁড়িয়ে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে আনা-নেওয়া করা হয়।
চারটি আবাসিক হলে সাইকেল পাম্প স্থাপন ছাত্রদলের
গত ১৩ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে সাধারণ বাহন হলো সাইকেল। কিন্তু হঠাৎ চাকা ফেঁসে গেলে ছাত্রদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিষয়টি মাথায় রেখে ছাত্রদল চারটি ছাত্র আবাসিক হলে স্থায়ী সাইকেল পাম্প স্থাপন করে, যাতে শিক্ষার্থীরা যেকোনো সময়ে বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারে।
৪৭তম বিসিএসে পরীক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি বাস সার্ভিস ব্যবস্থায় ছাত্রদল
গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিসিএস পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় ছাত্রদলের এই উদ্যোগটি ক্যাম্পাসে অধিক আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ রাস্তাপথে সময় ও খরচ দুটিই পরীক্ষার্থীদের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ছাত্রদল দুটি পূর্ণাঙ্গ যাত্রীবাহী বাস বিনামূল্যে চালায়, যেখানে শতাধিক পরীক্ষার্থী ঢাকাসহ বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেন। পরীক্ষার দিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পরীক্ষা শেষে একই বাসে নিরাপদে ফেরত আনা হয়।
যানজট নিরসনে সেকেন্ড গেটে ফুলের টব স্থাপন ছাত্রদলের
গত ১৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় গেটে দীর্ঘদিন ধরে যানবাহনের প্রবেশ-বাহিরে বিশৃঙ্খলা ছিল। যানবাহন এলোমেলোভাবে দাঁড়ানো ও রিকশা-অটোরিকশার চাপ স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত করত। সমাধানে ছাত্রদল ফুলের টব দিয়ে পথ বিভাজন সৃষ্টি করে একটি নান্দনিক লেন-সিস্টেম তৈরি করে, যার ফলে চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরে এবং জায়গাটি সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়।
ঈদে ক্যাম্পাসে অবস্থানরতদের মাঝে ছাত্রদলের খাবার বিতরণ
গত ৮ জুন ঈদে অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি ফিরতে পারেন না — বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চলের বা সংকটাপন্ন অবস্থার শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় ফাঁকা থাকলেও তাদের জন্য দিনটি একাকীত্ব নিয়ে আসে। এই চিত্র বদলাতে ছাত্রদল হল ও ক্যাম্পাসে থেকে যাওয়া শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজন করে। মেন্যু হিসেবে ছিল পোলাও, মাংস ও বিশেষ আইটেম। নেতাকর্মীরা নিজ হাতে রুমে রুমে খাবার পৌঁছে দেন। এটি ক্যাম্পাসে উৎসবের উষ্ণতা ছড়ায়।
কাগমারি সড়ক সংস্কারে ছাত্রদল
গত ৪ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কাগমারি সড়কের ভাঙ্গাচোরা অংশ বর্ষায় আরও বিপজ্জনক হয়ে পড়ছিল। শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী ও যানবাহন চলাচলে এতে ঘনঘন দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছিল। পরিস্থিতি বিবেচনায় ছাত্রদল নেতা শামীম ও অয়ন নিজ উদ্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করেন, যাতে চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শহিদ আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকীতে ছাত্রদলের দোয়া মাহফিল
গত ৭ অক্টোবর আবরারের স্মরণে ছাত্রদল কর্তৃক আয়োজিত দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। তার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
বড় পর্দায় বাংলাদেশ–ভারত ক্রিকেট ম্যাচ সম্প্রচারে ছাত্রদল
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মান্নান হলের সামনে বড় স্ক্রিনে বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করেন ছাত্রদল। সেখানে শতশত শিক্ষার্থী একত্র হয় এবং খেলা দেখার উৎসব পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
বিজয় দিবস ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট আয়োজন
গত ১৪–১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার মাসে তিনদিনব্যাপী ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট আয়োজন করে ছাত্রদল। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা একাধিক ক্যাটাগরিতে অংশ নেন। পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠান ক্যাম্পাসে প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি করে।
পবিত্র মাহে রমাদানকে স্বাগত জানান ইসলামী ছাত্র শিবির
পবিত্র মাহে রমাদানকে স্বাগত জানিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) ব্যতিক্রমী কর্মসূচির আয়োজন করে ইসলামী ছাত্র শিবির। রমাদানের পবিত্রতা ও তাৎপর্য শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এদিন ব্যানার প্রদর্শনী, ভ্রাতৃত্বের প্রতীক চিরকুট বিনিময় এবং বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। রমজান মাসকে কেন্দ্র করে গত ২ মার্চ থেকে পুরো রমজানজুড়ে নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদাভাবে সহীহ কুরআন শিক্ষা কোর্স পরিচালনা করে সংগঠনটি। এতে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি
সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ২৬ই মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার ২০টি অসচ্ছল পরিবারের শিশুদের মাঝে পাঞ্জাবি ও পায়জামা বিতরণ করেন। একইভাবে ঈদুল আজহায় ৭ ই জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মচারী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষের মাঝে কুরবানির গোস্ত বিতরণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামী ছাত্র শিবির।
ভর্তিচ্ছুদের সহযোগিতায় ইসলামী ছাত্র শিবির
ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সহায়তায় গুচ্ছভুক্ত তিনটি ইউনিটের (এ, বি ও সি) ভর্তি পরীক্ষার সময় ২৫ এপ্রিল, ২ মে ও ৯ মে হেল্প ডেস্ক চালু করে ইসলামী ছাত্র শিবির। এ সময় হটলাইন নম্বর, আবাসন ও তথ্যসেবা, পানি, হাতপাখা, অভিভাবকদের জন্য ছাউনি, কলম ও বই উপহারসহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়। পাশাপাশি আগস্ট মাসে চূড়ান্ত ভর্তির সময় চার দিনব্যাপী ভর্তি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
ধর্মীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২৪ মে ও ১৭ সেপ্টেম্বর দুটি ধাপে মাভাবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অর্থসহ পাঁচ শতাধিক পবিত্র কুরআন বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে সংগঠনটি।
বিভিন্ন সময়ে ইসলামী ছাত্র শিবির
ছাত্র অধিকার ও ক্যাম্পাস উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর ছাত্র সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে ৫২ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এসব দাবির অগ্রগতি ও পরিবহন সংকট নিরসনের বিষয়ে ১৫ অক্টোবর এবং ১৬ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ইসলামী ছাত্র শিবিরের প্রতিনিধিদল। এ সময় পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়ন, মেধা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, হলের খাবারের মানোন্নয়ন এবং অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য টোকেন সুবিধাসহ বিভিন্ন বাস্তবায়নযোগ্য দাবি তুলে ধরা হয়।
এছাড়া ৬ অক্টোবর আবরার ফাহাদের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ২০ নভেম্বর জাঁকজমকপূর্ণ নবীন বরণ উৎসব ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন প্রোগ্রামের আয়োজন করে সংগঠনটি। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর ভিক্টরি রান ইউথ শিবির এবং সেন্ট্রাল ফিল্ডে প্রীতি ক্রিকেট ম্যাচের আয়োজনের মাধ্যমে বছরজুড়ে তাদের কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘটে।
নবীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি ফি ও মেস ফি সহায়তায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ৮জন শিক্ষার্থীর পূর্ণ ভর্তি ফি এবং ৫ জন শিক্ষার্থীর অর্ধেক ভর্তি ও মেস ফি প্রদান করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মাভাবিপ্রবি শাখা। এর মাধ্যমে নিশ্চিত করে যে, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের পথে কোনো বাধা তৈরি করবে না। এই পদক্ষেপ শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উন্নয়ন, পড়াশোনায় মনোযোগ এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ গ্রহণে সহায়ক হয়েছে।
দুই ঈদে ভিন্ন ৫টি অস্বচ্ছল পরিবারকে ঈদসামগ্রী বিতরণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
২৫ মার্চ ও ৪ জুন দুইটি ঈদে ভিন্ন ৫টি অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে ঈদসামগ্রী বিতরণ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য পাঞ্জাবি, পায়জামা এবং জুতা প্রদান করেছি এবং সকলকে ঈদ সালামি দিয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করেছি। সুবিধা বঞ্চিত মানুষদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করেন।
হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের সুস্বাদু ও পুষ্টিকর খাবার পরিবেশনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
গত ১৭ই মার্চ এবং ১২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন হাফেজিয়া মাদ্রাসার মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকবার সুস্বাদু ভালো খাবার আয়োজন ও শিক্ষা উপকরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
অস্বচ্ছল পরিবারের পুনর্বাসন ও সচ্ছলতাকরণে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
গত ৬ জুলাই ৮ সদস্যের একটি অস্বচ্ছল পরিবারকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। পরিবারের আয়ক্ষম সদস্যকে ব্যবসা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা, প্রক্রিয়া এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়, যার ফলে তারা স্বাবলম্বী হতে পারে।
গুচ্ছভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
গত ৯ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় শহর থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত প্রচুর ট্রাফিক জ্যামের সৃষ্টি হয়, শিক্ষার্থীরা যাতে সঠিক সময়ে পরীক্ষার হলে অবস্থান করতে পারে এজন্য শতাধিক ভলান্টিয়ার দিয়ে শহর থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত অটো চলাচল সুশৃঙ্খল করেছি। পরীক্ষার দিনে এক হাজারের অধিক শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের জন্য বসার ব্যবস্থা এবং ঠান্ডা মিনারেল পানি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গুচ্ছভর্তি পরীক্ষার ভর্তিচ্ছুদের পাশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
গুচ্ছের তিনটি ইউনিটের (এ, বি ও সি) ভর্তি পরীক্ষার (২৫ এপ্রিল, ২ মে ও ৯ মে) গুচ্ছভর্তি পরীক্ষার সময়ে দূর থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদে রাতে থাকার ব্যাবস্থা এবং মানসম্মত খাবার প্রদান করা হয়েছে। এতে তারা পরীক্ষার আগে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে পারে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থভাবে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়।
ভার্সিটির ২য় গেট পর্যন্ত রাস্তার সম্পূর্ণ মেরামতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন
গত ৮ নভেম্বর আমরা কাগমারী মোর থেকে ভার্সিটির ২য় গেট পর্যন্ত রাস্তার সম্পূর্ণ মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছি,এবং এক ভাসানী মেলা শুরু হওয়ার আগেই রাস্তার ঢালাই সম্পন্ন করার ব্যাবস্থা করেছি। যা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আরও সুষ্ঠু ও নিরাপদ হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত, যানজট কমানো এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আলোচনা সভা ও “বিপ্লব থেকে বিজয়” কুইজ প্রতিযোগিতা
আগামী ৮ জানুয়ারি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ইতিহাসবিষয়ক শিক্ষণীয় অভিজ্ঞতা প্রদানের লক্ষ্যে আয়োজন করা হয়েছে দুটি বিশেষ অনুষ্ঠান।
২০২৫ সালে উদ্যোগ নেওয়া “বিপ্লব থেকে বিজয়” শীর্ষক কুইজ প্রতিযোগিতায় থাকবে ২৫,০০০ টাকা পুরষ্কার। কুইজের বিষয়বস্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, গণঅভ্যুত্থান এবং স্বাধীনতার ইতিহাস।
সেই সঙ্গে, আধিপত্যবাদের বিরোধী আলোচনা সভায় অংশ নেবেন মুক্তিযুদ্ধের নেতৃবৃন্দ, জুলাই আন্দোলনের নেতা এবং ডাকসু, রাকসু ও জাকসুর নেতৃবৃন্দ। উভয় অনুষ্ঠান ৮ জানুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। উদ্যোগ, পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি সম্পূর্ণভাবে ২০২৫ সালে নেওয়া হয়েছে।
ভর্তি পরীক্ষায় ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের সহযোগিতা
গত ২৫ এপ্রিল ও ৯ মে গুচ্ছভুক্ত ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে পরীক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতায় ইসলামি ছাত্র আন্দোলন পরীক্ষার্থী কল্যাণ বুথ স্থাপন করে। বুথগুলোতে পরীক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন, ঘড়ি, ব্যাগ, বাইক, হেলমেটসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিরাপদে জমা রাখার ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশুদ্ধ পানি, খাবার স্যালাইন, হাতপাখা ও কলম বিতরণ করা হয়। প্রতিটি পরীক্ষার দিনে প্রায় পাঁচশত অভিভাবকের বসার সুব্যবস্থা ও ছায়ার ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে তারা স্বস্তিতে অপেক্ষা করতে পারেন। এছাড়া কামগামী রোডে স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করে যানজট নিরসনে সহায়তা করেন।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ক্যাম্পাস সবুজায়ন
ক্যাম্পাস সবুজায়নের লক্ষ্যে এবং তীব্র দাবদাহ থেকে শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসবাসীকে স্বস্তি দিতে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নতুন কমিটির উদ্যোগে ১৫ জুলাই ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচির আওতায় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নানা প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। এতে সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।
শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে প্রকাশ্য ও ধারাবাহিক আন্দোলনে ইসলামি ছাত্র আন্দোলন
গত ১৬ সেপ্টেম্বর মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (মাকসু)-সহ বিভিন্ন ন্যায্য দাবিতে আয়োজিত মানববন্ধন, মিছিল ও সভা-সমাবেশে ইসলামি ছাত্র আন্দোলন দলীয়ভাবে সামনের সারিতে থেকে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আসছে।
গত ১৫ অক্টোবর ভাসানী ছাত্র সমাবেশে দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ করা ছাড়াও সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবির পক্ষে নিয়মিতভাবে সমর্থন ও বিবৃতি প্রদান করেছে সংগঠনটি।
The Idea of Great Santosh এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মাকসু বাস্তবায়ন বিভিন্ন কর্মসূচি।
গত ৫ জুলাই থেকে ২০ জুলাই মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (মাকসু) বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের থেকে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করে। গত ২১ জুলাই ছাত্র সমাবেশ, গত ১১ আগস্ট থেকে ১২ আগস্ট পর্যন্ত মাকসু বাস্তবায়নে দাবিতে মো. আক্তারুজ্জামান সাজু অনশন কর্মসূচি পালন করেন, ১৩- ২৭ আগস্ট অবস্থান ও পাটি মিছিল, ১৬ সেপ্টেম্বর ফের মানববন্ধন কর্মসূচি, ১৫ অক্টোবর ভাসানীর দরবার হলে ছাত্র সম্মেলন, ২২ অক্টোবর জুলাই বন্ধন, ১১ ডিসেম্বর মুক্তমঞ্চে সাংস্কৃতিক আন্দোলন, এছাড়া টিএসসি আন্দোলন ও ভাসানী স্মৃতি সংরক্ষণ আন্দোলন চলমান। যার নেতৃত্ব ছিল The Idea of Great Santosh-এর একদল চিন্তক যাদের মধ্যে অন্যতম মো. আক্তারুজ্জামান সাজু, কাশিফ আহমাদ, নাইম ইসলাম, ইয়ামিন, অনিক ইসলাম অপু প্রমূখ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নগরবাউল জেমস। ছবিঃ সংগৃহীত
দীর্ঘ ১০ বছর পর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ক্যাম্পাসে সংগীত পরিবেশন করে শিক্ষার্থীদের মাতালেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নগরবাউল জেমস। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্টে তার পরিবেশনায় উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিল্পীর জনপ্রিয় গানগুলোতে আনন্দ-উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত ৮ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবন প্রাঙ্গণে শুরু হয় নগরবাউল জেমসের সংগীত পরিবেশনা। তাকে একনজর দেখতে এবং সরাসরি গান শুনতে কনসার্টস্থলে ভিড় করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।
২০১৬ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সংগীত পরিবেশনের দীর্ঘদিন পর ক্যাম্পাসে জেমসের কণ্ঠ শিক্ষার্থীদের কাছে বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে। তার গানের সঙ্গে কণ্ঠ মেলান উপস্থিত শিক্ষার্থীরা। প্রিয় শিল্পীর পরিবেশনায় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস, করতালি ও আনন্দ-উল্লাসে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজনস্থল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান বলেন, "জেমসের গান ছোটবেলা থেকেই শুনি। তাকে নিজের ক্যাম্পাসে সরাসরি গান গাইতে দেখা এবং তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলাতে পারা অসাধারণ অভিজ্ঞতা। বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এই আয়োজন আমাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে।"
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার কাদের প্লাবন বলেন, "জেমসের মতো জনপ্রিয় শিল্পীর গান সরাসরি উপভোগ করতে পেরে আমরা আনন্দিত। পুরো কনসার্টজুড়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। এমন আয়োজন প্রতিবছর হওয়া উচিত।"
এদিকে গান পরিবেশনাকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইস উদ্দীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নগরবাউল জেমসকে আবার আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় তার আশ্বাসে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল 'তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ-ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান'। দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক আয়োজনের অংশ হিসেবে নগরবাউল জেমসের কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দিবস
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আনন্দ র্যালি, শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নগরবাউল জেমসের কনসার্টসহ নানা আয়োজনে উদযাপিত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস-২০২৬।
সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার চত্বরে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন।
এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিপাদ্য ছিল ‘তারুণ্যে দীপ্তপ্রাণ-ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯৫ সালের ২ নভেম্বর সরকারি জগন্নাথ কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। ওই ঘোষণার স্মরণে এবার ২০ অক্টোবরের পরিবর্তে ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি আনন্দ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে রায়সাহেব বাজার মোড় ও ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। পরে সকাল সোয়া ১০টায় শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচতলায় চারুকলা অনুষদের আয়োজনে শিল্পকর্ম ও চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথিয বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সবাইকে বিশ্ববিদ্যালয়মুখী করা শুভ লক্ষণ নয়। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার ঘটাতে হবে। শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তার মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল কাজ শুধু চাকরিমুখী শিক্ষা দেওয়া নয়; বরং গবেষণা, জ্ঞানচর্চা ও মুক্তচিন্তার বিকাশ ঘটানো।
শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের সময়ে শিক্ষাব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতে অপসংস্কৃতি এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দূষণ প্রবেশ করানো হয়েছে। তার ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়েছিল। তিনি শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন, গবেষণার পরিবেশ এবং সমৃদ্ধ গ্রন্থাগার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন।
এ ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টির উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হবে। রাজধানীর কেরানীগঞ্জে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত ২০০ একরের আবাসিক ক্যাম্পাসের প্রসঙ্গও উঠে আসে তার বক্তব্যে।
আলোচনা সভায় জবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ফ্যাসিবাদী শাসনামলে প্রতিষ্ঠানটিকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। রাজধানীর বুকে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয় জাতির প্রতিটি ক্রান্তিলগ্নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও প্রাপ্তির খাতা প্রায় শূন্য। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়টি নানা বঞ্চনার শিকার হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের পাশাপাশি এ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীদের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দুর্দশা ও বঞ্চনা দূর করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি ও ইতিবাচক উদ্যোগ কামনা করেন তিনি।
দিনের অন্যান্য কর্মসূচির মধ্যে দুপুরে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ, নাট্যকলা বিভাগ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, আবৃত্তি সংসদ, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী জবি সংসদ ও রঙ্গভূমি পরিবেশনা নিয়ে অংশ নেয়। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ড মিউজিক অ্যাসোসিয়েশনসহ অফসাইড, কোমল গান্ধার, কিম্ভুত ও স্বরূপ ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে।
দিনের সমাপনী আয়োজন হিসেবে থাকছে নগরবাউল জেমসের কনসার্ট। সন্ধ্যায় তার পরিবেশনা উপভোগ করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দিনব্যাপী কর্মসূচিতে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, বিভিন্ন অনুষদ ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, রেজিস্ট্রার, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রভোস্ট, প্রক্টরসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন।
নোবিপ্রবি
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক হল, মেডিকেল সেন্টার ও গবেষণাগারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একের পর এক সাপের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
গত ২৭ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ছয় দিনের ব্যবধানে অন্তত পাঁচ দফায় সাপ দেখা গেছে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে। উদ্ধার হওয়া ও মেরে ফেলা সাপগুলোর বেশির ভাগই বিষধর পদ্ম গোখরা বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার তো বটেই, নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালেও সাপে কাটার চিকিৎসায় ব্যবহৃত অ্যান্টিভেনম নেই। ফলে কেউ বিষধর সাপের কামড়ের শিকার হলে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনমের জন্য প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হবে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্কের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ অক্টোবর প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় প্রথম সাপের উপস্থিতি দেখা যায়। সেখান থেকে দুটি পদ্ম গোখরার বাচ্চা উদ্ধার করা হয়। এরপর ২৯ ও ৩১ অক্টোবর দুই দফায় শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারে সাপ দেখা যায়। ৩০ অক্টোবর জুলাই শহীদ স্মৃতি হলে এবং সর্বশেষ ২ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানিমেল ল্যাবে সাপের উপস্থিতি পাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ এসব স্থানে সাপের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থী, চিকিৎসক ও নার্সদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গত ২৭ অক্টোবর প্রশাসনিক ভবন থেকে সাপ উদ্ধার করেন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ওয়াইল্ডলাইফ স্নেক অ্যান্ড রেসকিউ টিম ইন বাংলাদেশ (ডব্লিউএসআরটিবিডি)-এর সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জুওলজি বিভাগের ১৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জান্নাতুল ইসলাম মিতু। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে যেসব সাপের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, সেগুলোর বেশির ভাগই বিষধর। এ পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণের পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি সাপ দেখামাত্র না মেরে দ্রুত তাঁকে জানানোর আহ্বান জানান।
একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় সাপের উপস্থিতিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের আশঙ্কা, রাতে চলাচল কিংবা হঠাৎ কোনো ভবন বা কক্ষে সাপের মুখোমুখি হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আর কেউ সাপে কামড়ালে দ্রুত অ্যান্টিভেনম পাওয়ার নিশ্চয়তা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসটিই) বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান বলেন, ‘ক্যাম্পাসে দিন-রাত সমানভাবে সাপের দেখা মিলছে। কাউকে সাপে কামড়ালে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। এভাবে সাপের উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। মেডিকেলে নাপা ও গ্যাসের ট্যাবলেট ছাড়া আর কিছুই নেই। অবিলম্বে অ্যান্টিভেনমের ব্যবস্থা করা উচিত।’
ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুস সালাম বলেন, ‘ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গা এখনো ঝোপঝাড়মুক্ত হয়নি। প্রকৃতির স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ঝোপঝাড়ের কারণে সাপের উপস্থিতি বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে। এ জন্য প্রতিদিনই আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। শিক্ষার্থীরা যেন নিরাপদে ক্যাম্পাসে চলাফেরা করতে পারে, সে জন্য প্রশাসনের দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
ফলিত গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ইমাম হোসেন ইমন বলেন, ‘অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ঝোপঝাড় ও প্রয়োজনীয় স্থান আগাছামুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি সাপে কামড়ালে জরুরি চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সাপের উপস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে দিন-রাত বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছে। আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মীর মুগ্ধ মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ(ভারপ্রাপ্ত) মেডিকেল অফিসার ডা. ইসমাত আরা পারভীন বলেন, ‘সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম সদর হাসপাতাল ছাড়া অন্য কোথাও দেওয়া হয় না। এর আগেও আমরা একাধিকবার অ্যান্টিভেনম আনার চেষ্টা করেছি, কিন্তু পারিনি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত। ক্যাম্পাসের ঝোপঝাড়গুলো পরিষ্কার করার নির্দেশনা দিয়েছি। এ ছাড়া অতিদ্রুত অ্যান্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাপাজসের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন নোবিপ্রবির ইফতেখার হোসাইন
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির (বাপাজস) গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরের সহকারী পরিচালক ইফতেখার হোসাইন।
ইফতেখার হোসাইন পূর্ববর্তী কমিটিতে প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি প্রায় ১১ বছর ধরে নোবিপ্রবি জনসংযোগ ও প্রকাশনা দপ্তরে কর্মরত রয়েছেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতা ও জনসংযোগে ১৫ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ভারতের এমসিআর হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে জনসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণে তিনি পূর্ণ অর্থায়নে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন। এ ছাড়া তিনি জাতীয় সংবাদপত্রে বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত কলাম ও ফিচার লেখেন।
গত ১৬ অক্টোবর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত সমিতির সাধারণ সভায় ২০২৭–২০২৮ মেয়াদের দ্বিবার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। সংগঠনটির সদ্য বিদায়ী সভাপতি মো. আবুল কাসেম শিখদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সমিতির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (সুমন) এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রেস প্রকাশনা দপ্তরের উপপরিচালক মো. সামছুল আলম (শিবলী)।
২০২৭–২০২৮ মেয়াদের জন্য ২৭ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।কমিটির অন্যান্য পদধারী হলেন সিনিয়র সহসভাপতি রফিকুল ইমলাম পান্না (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), সহসভাপতি মোহাম্মদ আলী (বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর) ও মো. নজরুল ইসলাম (শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান (চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়) ও মো. সাইফুল ইসলাম (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আল-আমিন খান (বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়), দপ্তর সম্পাদক ফরহাদ রহমান সরকার (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়), প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. সালমান সাদেকীন চয়ন (বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়), সমাজকল্যাণ সম্পাদক মোস্তাক জাহান (বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস) এবং ক্রীড়া সম্পাদক মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম (চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়)।
এ ছাড়া কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্যরা হলেন কৃষিবিদ দীন মোহাম্মদ দীনু (বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), মো. বশিরুল ইসলাম (শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়), গোলাম মর্তুজা (রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), কামরুন নাহার (ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), খাদেমুল ইসলাম (হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), মো. সাহেদ হাসান (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়), খন্দকার মোয়াজ্জেম হোসেন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), আবু সালেহ মুহাম্মদ মূসা (ইসলামিক আরবি বিশ্ববিদ্যালয়) এবং ফররুখ মাহমুদ (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)।
উল্লেখ্য, দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জনসংযোগ দপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জনসংযোগ কার্যক্রমের উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতি (বাপাজস) ২০২০ সালে যাত্রা শুরু করে।
উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণে প্রতিবছর বিদেশি শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করে চীন সরকার। এর মধ্যে অন্যতম চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপ (সিজিএস), যা চায়না স্কলারশিপ কাউন্সিলের (সিএসসি) মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এ বৃত্তির আওতায় চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা। স্কলারশিপের ধরন ও শর্ত অনুযায়ী এতে টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা ও মাসিক ভাতার সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে।
২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে এ স্কলারশিপ অর্জন করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) প্রাক্তন ৫জন কৃতী শিক্ষার্থী। তাঁদের স্কলারশিপ অর্জনের অভিজ্ঞতা, উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত কথা তুলে ধরেছেন নিয়ামুল ইসলাম তামিম।
মো. জিয়াউর রহমান
বুটেক্সের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. জিয়াউর রহমান চীনের সাংহাইয়ে অবস্থিত ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর করছেন। তিনি চীন সরকারের ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপের আওতায় এ সুযোগ পেয়েছেন।
স্কলারশিপ পাওয়ার সময় একটি কারখানায় কর্মরত ছিলেন জিয়াউর রহমান। উচ্চশিক্ষার সুযোগের পাশাপাশি মাসিক ভাতার সুবিধা থাকায় এটিকে কর্মজীবন থেকে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখেন তিনি।
নিজের আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে জিয়াউর রহমান বলেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার পর ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করি। ইমেইলের মাধ্যমে আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলাম। আবেদনের ক্ষেত্রে আইইএলটিএসের স্কোর ও একাডেমিক ফলাফল বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।
ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে জিয়াউর রহমান বলেন, সেখানে মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণার জন্য অধ্যাপকদের অধীনে পৃথক ল্যাব আছে। এসব ল্যাবে বিভিন্ন ধরনের স্যাম্পল তৈরির যন্ত্রপাতি থাকায় শিক্ষার্থীরা গবেষণার প্রয়োজন অনুযায়ী নমুনা তৈরি করতে পারে।
জিয়াউর রহমানের মতে, বুটেক্সে স্নাতক পর্যায়ে এ ধরনের স্যাম্পল তৈরির যন্ত্রপাতি ও ব্যবহারিক গবেষণার সুযোগ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। এতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবেন এবং গবেষণার দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাবে।
মো. রাকিব হাসান গাজী
বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪২তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মো. রাকিব হাসান গাজী চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের আওতায় চীনের উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার অব সায়েন্স প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন।
স্কলারশিপ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে রাকিব বলেন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ও অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালস নিয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল আমার। আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সুবিধাসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
চীনে টেক্সটাইল বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রাকিব কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেন। রাকিবের মতে, ভালো সিজিপিএ বজায় রাখার পাশাপাশি গবেষণাপত্র, সম্মেলনে প্রকাশনা ও প্রকল্পে কাজের অভিজ্ঞতা আবেদনকে শক্তিশালী করতে পারে। এ ছাড়া পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ ও অধ্যাপকদের গবেষণার ক্ষেত্র সম্পর্কে জেনে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সময়মতো প্রস্তুত রাখা জরুরি।
ভাষাগত দক্ষতার বিষয়ে রাকিব বলেন, ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত কোর্সের ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বা টোয়েফলের মতো পরীক্ষার স্কোর সুবিধা দিতে পারে। পাশাপাশি প্রাথমিক চীনা ভাষা শেখা দৈনন্দিন জীবন ও যোগাযোগে সহায়ক হতে পারে।
চীনে যাওয়ার পর প্রথম দিকে ভাষার পার্থক্য, খাবার ও আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়াকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন রাকিব। অনুবাদের অ্যাপ ব্যবহার, প্রয়োজনীয় চীনা বাক্য অনুশীলন, উপযোগী খাবারের জায়গা খুঁজে নেওয়া এবং আবহাওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পোশাক ব্যবহারের মাধ্যমে এসব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি।
মেহেদী হাসান ইমন
বুটেক্সের ফেব্রিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৫তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান ইমন চীনের ডংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার্স অব ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের (সিএসসি) আওতায় এ সুযোগ অর্জন করেন।
স্কলারশিপ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে তিনি বলেন, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা ও শিল্পে কাজের অভিজ্ঞতার পর উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বাড়ানো এবং নতুন সুযোগ অনুসন্ধানের ইচ্ছা ছিল। স্কলারশিপ পাওয়ার খবরটি আমাকে আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ করেছে। তাঁর মতে, এ সুযোগ একাডেমিক উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জন এবং দীর্ঘমেয়াদি ক্যারিয়ার লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছে।
নিজের আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, প্রথমে উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের শর্ত সম্পর্কে খোঁজ নেই। এরপর একাডেমিক কাগজপত্র, সিভি, স্টাডি প্ল্যান ও সুপারিশপত্র প্রস্তুত করে আইইএলটিএসসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। পরে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন জমা দেই এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করি।
বুটেক্সের বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইমন বলেন, স্কলারশিপের মাধ্যিমে উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার জন্য, স্নাতক পর্যায় থেকেই প্রস্তুতি শুরু করা, ভালো একাডেমিক ফলাফল বজায় রাখা এবং গবেষণা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত থাকা জরুরি। পাশাপাশি নিজের সিভি শক্তিশালী করা, সুস্পষ্ট স্টাডি প্ল্যান তৈরি এবং সুপারিশপত্রের জন্য শিক্ষকদের সঙ্গে ভালো যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।
স্কলারশিপের শর্ত ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে নিজে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে স্বপ্ন থেকে পিছিয়ে না যাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
হাসান মাজহারুল হক
বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪২তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী হাসান মাজহারুল হক চীনের উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে এমএসসি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত আছেন। তিনি চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের টাইপ বি ক্যাটাগরিতে ফুল-ফান্ডেড বৃত্তি পেয়েছেন। এ বৃত্তির আওতায় তাঁর টিউশন ফি, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা ও মাসিক ভাতার সুবিধা রয়েছে।
স্কলারশিপ পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে হাসান বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের স্বপ্ন আমার অনেক দিনের। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে প্রস্তুতি, অপেক্ষা ও নানা অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। ফলে স্কলারশিপ পাওয়ার খবরটি আমার কাছে আনন্দ, আবেগ ও কৃতজ্ঞতার মুহূর্ত হয়ে আসে।
বুটেক্সে পড়ার সময় একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল তাঁর। ফাইবার কম্পোজিট, টেকসই উপকরণ, পুনর্ব্যবহার, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও টেক্সটাইলের স্থায়িত্ব নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা তাঁর গবেষণার আগ্রহকে আরও স্পষ্ট করেছে। হাসানের মতে, গবেষণার এ অভিজ্ঞতা এবং নিজের আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা তাঁর আবেদনকে শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছে। তবে স্কলারশিপ পাওয়ার পেছনে কোনো একটি বিষয়কে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও মনে করেন তিনি।
বুটেক্সের বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হাসান পরামর্শ দেন, একাডেমিক ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার দক্ষতা, ইংরেজিতে যোগাযোগের সক্ষমতা এবং আন্তর্জাতিক উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। শুধু সার্টিফিকেট বা প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ না দিয়ে শেখার মানসিকতা, গবেষণার মৌলিক দক্ষতা এবং নিজের কাজ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেয়া উচিত।
হাসানের মতে, বিদেশে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য সবার প্রোফাইল একই রকম হওয়া প্রয়োজন নেই। নিজের যোগ্যতা, আগ্রহ ও লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করে ধারাবাহিকভাবে কাজ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান শাওন
বুটেক্সের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই) বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান শাওন চীনের উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর(মাস্টার্স) করছেন। তিনি চায়নিজ গভর্নমেন্ট স্কলারশিপের টাইপ বি ক্যাটাগরিতে এ সুযোগ পেয়েছেন।
স্কলারশিপ অর্জনকে নিজের ও পরিবারের জন্য আবেগ ও গর্বের মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন শাওন। পরিবারের প্রথম সদস্য হিসেবে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় শাওনের কাছে এ অর্জনের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।
গবেষনা নিয়ে শাওন জানান, বুটেক্স ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার গবেষণার প্রতি আগ্রহ তৈরি করে। গবেষণার সুযোগ এবং উন্নত ল্যাবে হাতে-কলমে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই চীনে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্ত নেই। শাওন জানান, উহান টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যারোজেলের মতো উন্নত উপাদান নিয়ে বিশ্বমানের গবেষণাগারে কাজের সুযোগ পেয়েছি।
বুটেক্সের যেসব শিক্ষার্থীর স্নাতক পর্যায়ে পর্যাপ্ত গবেষণা বা প্রকাশনার সুযোগ হয়নি, কিন্তু ভবিষ্যতে পিএইচডি করার আগ্রহ রয়েছে, তাঁদের জন্য সিএসসি স্কলারশিপকে সম্ভাবনাময় সুযোগ হিসেবে দেখছেন শাওন। তাঁর মতে, এ ধরনের বৃত্তি আন্তর্জাতিক গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার গঠনে সুযোগ করে দিতে পারে শিক্ষার্থীদের।
শাওন জানান, তাঁর ক্ষেত্রে চীনে আসার জন্য ভাষা পরীক্ষা বা চীনা ভাষা জানা বাধ্যতামূলক ছিল না। তবে নতুন ভাষা শেখা চ্যালেঞ্জিং মনে হলেও অন্য দেশের সংস্কৃতি, মানুষের মনস্তত্ত্ব ও গবেষণার পরিবেশ ভালোভাবে বুঝতে সে দেশের ভাষা শেখা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন শাওন।
নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুটেক্স) অনুষ্ঠিত হয়েছে আর্টেক্স কর্তৃক আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠান ‘অভ্যর্থনায় আলোড়ন ৪.০’। শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ধান চত্বরে ৫২তম ব্যাচের নবীন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘হেমন্তের আঙিনায়, নতুন স্বপ্নের তাসে!’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল সৃজনশীলতা, সংগীত ও আড্ডার সমন্বয়ে নানা আয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন অধ্যায়কে স্মরণীয় করে তোলা এবং নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক পরিচিতি ও সৃজনশীল চর্চার পরিবেশ গড়ে তোলাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয় তিনটি বিশেষ পর্ব—আন্তঃবিভাগীয় গ্রাফিতি প্রতিযোগিতা, ‘গানে গুঞ্জনে’ ও ‘আয়েশী বৈঠক’। গ্রাফিতি প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিল্পসত্তা ও সৃজনশীলতা তুলে ধরার সুযোগ পান। অন্যদিকে, ‘গানে গুঞ্জনে’ পর্বে সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের মাতিয়ে তোলা হয়। পাশাপাশি ‘আয়েশী বৈঠক’ পর্বে পরিচিতি ও আড্ডার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও নতুন বন্ধন তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হয়।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ আন্তঃবিভাগীয় গ্রাফিতি প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে টেক্সটাইল ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।
আয়োজনে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া স্বাগতবার্তায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণকে নতুন সম্ভাবনা, অভিজ্ঞতা ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করা এবং সম্মিলিতভাবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের নতুন গল্প রচনার আহ্বান জানানো হয়।
এবিষয়ে আর্টেক্সের লিডার তামিম হোসেন বলেন, “বুটেক্সে বর্ণিল পরিবেশে সম্পন্ন হলো আর্টেক্স ক্লাব কর্তৃক আয়োজিত আন্তঃবিভাগীয় গ্রাফিতি প্রতিযোগিতা ‘অভ্যর্থনায় আলোড়ন ৪.০’। এতে ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে নিজ নিজ বিভাগের বৈশিষ্ট্য ও কার্যক্রম সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে এবং গ্রাফিতির মাধ্যমে পুরো ক্যাম্পাসকে এক নজরে চেনার সুযোগ করে দিতেই এই আয়োজন।”
আন্তঃবিভাগীয় গ্রাফিতি প্রতিযোগিতার বিজয়ী ঘোষণা ও সম্মাননা প্রদানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।