বাংলাদেশ বেতার
বাংলাদেশ বেতার সংবাদ উপস্থাপকদের জন্য জারি করা ‘ড্রেস কোড’–সংক্রান্ত নির্দেশনা শেষ পর্যন্ত বাতিল করেছে। সামাজিকমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলের সমালোচনায় গত রোববার নতুন অফিস আদেশ জারি করে আগের নির্দেশনা প্রত্যাহার করা হয়।
বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) এ এস এম জাহীদের স্বাক্ষরিত নতুন আদেশে জানানো হয়, সংবাদ উপস্থাপকদের পোশাক বিষয়ে আগে জারি করা অফিস আদেশটি আর কার্যকর থাকবে না।
বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আজ সোমবার দুপুরে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় এ এস এম জাহীদের সঙ্গে। সুনির্দিষ্ট বিষয় উল্লেখ করে হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠানো এবং একাধিকবার কল করা হলেও বেলা একটা পর্যন্ত মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এর আগে ৪ মে বাংলাদেশ বেতারের কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থার পরিচালক (বার্তা) তানিয়া নাজনীন স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছিল। ফেসবুক লাইভে সংবাদ বুলেটিন প্রচারের বিষয়টি উল্লেখ করে ওই আদেশে নারী ও পুরুষ সংবাদ উপস্থাপকদের জন্য পৃথক পোশাকবিধি নির্ধারণ করা হয়।
নির্দেশনা অনুযায়ী, নারী সংবাদ উপস্থাপকদের শাড়ি অথবা ওড়নাসহ সালোয়ার-কামিজ পরতে বলা হয়। একই সঙ্গে বড় আকারের টিপ ব্যবহার না করা এবং এক পাশে ওড়না না পরার নির্দেশনাও দেওয়া হয়। অন্যদিকে পুরুষ সংবাদ উপস্থাপকদের জন্য ফুলহাতা শার্ট ও টাই পরিধানের কথা বলা হয়েছিল। তবে বিশেষ দিবস ও উৎসব-পার্বণে পাঞ্জাবি পরার সুযোগ রাখা হয়। এ ছাড়া টি-শার্ট ও গেঞ্জি পরিধান না করার নির্দেশও ছিল।
সম্প্রতি ওই অফিস আদেশের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সংবাদ উপস্থাপকদের পোশাক নিয়ে এমন নির্দেশনাকে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে নারী উপস্থাপকদের পোশাক ও সাজসজ্জা নিয়ে পৃথক নির্দেশনা দেওয়াকে অনেকে লিঙ্গবৈষম্যমূলক বলেও সমালোচনা করেন।
সমালোচকদের মতে, সংবাদ উপস্থাপনার ক্ষেত্রে মূল গুরুত্ব হওয়া উচিত পেশাদারত্ব, ভাষা ও সংবাদ পরিবেশনের দক্ষতায়; ব্যক্তিগত পোশাকের ধরন নির্ধারণে নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিতর্কের মুখে অবশেষে বাংলাদেশ বেতার আগের নির্দেশনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে সংবাদ উপস্থাপকদের পোশাকবিষয়ক সমালোচিত ‘ড্রেস কোড’ এখন আর থাকছে না।
সুনেরাহ বিনতে কামাল
অনিন্দ্য অভিনয় দিয়ে দর্শকের মনোযোগ কেড়েছেন বহু আগে। একইভাবে নাটকপ্রেমীদের মনে স্থায়ী আসন গড়ে নিয়েছেন ভিন্ন রকম গল্প ও চরিত্র পর্দায় তুলে ধরে। সে কারণে সুনেরাহ বিনতে কামালের কাছে প্রত্যাশাও বেড়ে গেছে দর্শকের। আর সে প্রত্যাশা পূরণে নন্দিত এ অভিনেত্রী চেষ্টা করে যাচ্ছেন অভিনয়ে প্রতিনিয়ত নিজেকে ভেঙে নতুন রূপে উপস্থাপন করতে।
সেই ভাবনা থেকে অভিনয়ের জন্য এবার বেছে নিয়েছেন ‘অজানা অধ্যায়’ নামে একক নাটকটি। যেখানে তাঁর দেখা মিলেছে ইতি নামে এক সংগ্রামী তরুণীর চরিত্রে। যে অসুস্থ বাবা ও অসহায় বড় বোনের সমস্ত দায়দায়িত্ব একা বহন করে। চাকরির নাম করে সে প্রতিদিন বাসা থেকে বের হয়। কিন্তু চাকরি সে আদৌ করে না। কারণ পরিবারে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য ইতি অর্থ উপার্জনের জন্য বেছে নিয়েছে এক অন্ধকার জগতের পথ। টাকার জন্য সে সময় কাটায় সমাজের বিত্তবানদের সঙ্গে। একসময় এই সত্যটি আবিষ্কার করে ইতির প্রেমিক। ভয়ংকর এই সত্য জানার পর সে দিশেহারা হয়ে পড়ে। বুঝে পায় না, ইতিকে কীভাবে সঠিক পথে নিয়ে আসা যায়। এভাবেই একের পর এক জন্ম নিতে থাকে নতুন সব ঘটনার।
এ রকম কাহিনি নিয়ে ‘অজানা অধ্যায়’ নাটকটি নির্মাণ করেছেন জহিরুল ইসলাম নীরব। নাটকের কাহিনি ও চিত্রনাট্যও লিখেছেন এই পরিচালক। নাটকে সুনেরাহর বিপরীতে আবারও দেখা মিলেছে অভিনেতা আরশ খানের। আরও অভিনয় করেছেন দিলরুবা হোসেন দোয়েল, সাহেদ আলী, মঞ্জু রহমান, রিপন, শফিক, ইমন প্রমুখ। সম্প্রতি জি-সিরিজের ইউটিউব চ্যানেলে নাটকটি প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিনেত্রী সুনেরাহ বিনতে কামালের কথায়, ক্যারিয়ারে নানা ধরনের গল্প ও চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ হয়েছে। ‘অজানা অধ্যায়’ নাটকের কাহিনি ও ইতি চরিত্রটি আগের সব নাটক থেকে অনেকটা আলাদা। চেষ্টা করেছেন সাবলীল অভিনয়ের মধ্য দিয়ে চরিত্রটি দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার। গল্প, চরিত্র, নির্মাণ, সহশিল্পীদের অভিনয় মিলিয়ে নাটকটি অনেকের মনে ছাপ ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করেন এ অভিনেত্রী।
আরশ খানের বিপরীতে অভিনয় প্রসঙ্গে সুনেরাহ জানান, নির্মাতারা মূলত দর্শকের প্রত্যাশা পূরণে নতুন সব জুটি গড়েন। আরশের সঙ্গে অভিনয়ের শুরু থেকে জুটি হিসেবে তাদের পছন্দ করেছেন সবাই। যে জন্য নির্মাতারা চাইছেন তাদের নিয়ে নতুন সব গল্প তুলে ধরার।
কিছুদিন আগে ‘মায়ারে’ নামে একক নাটকে জুটি বেঁধে দর্শকের প্রশংসা পেয়েছেন তারা। এরও আগে ‘কপাল’, ‘ভুল নাকি প্রেম’, ‘না বলা কথা’, ‘তুমি দূরত্ব চেয়ো না’, ‘সিগনেচার’, ‘পরমা সুন্দরী’, ‘বাটারফ্লাই ইফেক্ট’, ‘পাষাণ হৃদয়’, ‘কখনও কি তোমার হবো’, ‘আমি তুমি, তুমি আমি’, ‘হৃদয়ে ফাগুন’, ‘পূর্ণতা’, ‘ফিরে আসা ভালোবাসা’, ‘শ্যাওলা ফুল’সহ বেশ কিছু নাটকে জুটি বেঁধে অভিনয় করে মনোযোগ কাড়তে পেরেছেন অসংখ্য দর্শকের। সেই সুবাদে ‘অজানা অধ্যায়’ নাটকে আরও একবার জুটি বাঁধা।
পরিমনি
জন্মদিনে চট্টগ্রাম থেকে উড়োজাহাজে করে চিত্রনায়িকা পরীমনির জন্য শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন কেউ একজন। শনিবার রাতে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী নিজেই এমন উপহার পাওয়ার কথা জানান। তবে ফুল পাঠানো ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করেননি। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়। রোববার দিনভর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে আলোচনা।
কে সেই ব্যক্তি, যিনি পরীমনির জন্য এত দূর থেকে উড়োজাহাজে শিউলি ফুল পাঠালেন? এই আলোচনায় যোগ দেন অভিনেতা ও পরিচালক শাহরিয়ার নাজিম জয়ও। রসিকতা করে ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন তিনি। সেই পোস্টের মন্তব্যে পরীমনি তার জবাবও দিয়েছেন।
কয়েক দিন আগে ফেসবুকে পরীমনি লিখেছিলেন, ‘২ মণ শিউলি ফুল দরকার। ২৪ অক্টোবর দুপুর ১২টায়!’ তাঁর সেই ইচ্ছা পূরণে এগিয়ে আসেন চট্টগ্রামের এক নারী।উড়োজাহাজে করে ঢাকায় পাঠান শিউলি ফুল। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে এমন ভালোবাসার কথা জানিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন পরীমনি। তবে তখনো জানাননি, কে পাঠিয়েছেন এত ফুল।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) ছিল পরীমনির ৩৪তম জন্মদিন। এদিন সন্ধ্যায় ঢাকার পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কাছের বন্ধু, সহকর্মী ও সাংবাদিকদের নিয়ে জন্মদিন উদ্যাপন করেন তিনি। পুরো আয়োজনেই ছিল শিউলি ফুলের ছোঁয়া। রেস্তোরাঁর সিঁড়ি সাজানো হয় শিউলি ফুল দিয়ে। পরীমনি নিজেও পরেছিলেন শিউলি ফুলের নকশা করা শাড়ি। সাজসজ্জা থেকে পোশাক—সবকিছুতেই ছিল একই ভাবনা।
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে পরীমনি বলেন, ‘শিউলি ফুলের কথা মাথায় রেখেই সব করেছি। ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিয়েছিলাম, কেউ আমাকে অনেকগুলো শিউলি ফুল এনে দাও। কিন্তু এটা আসলে সম্ভবও না। এই ফুল চার-পাঁচ ঘণ্টাও ঠিক রাখা যায় না। কিন্তু একজন আমাকে চট্টগ্রাম থেকে ফ্লাইটে করে শিউলি ফুল পাঠিয়েছে।’
পরীমনির ইচ্ছা ছিল, পুরো আয়োজনকে শিউলি ফুলের বাগানের মতো সাজাবেন। কিন্তু ফুলের স্বল্পস্থায়িত্বের কারণে সবটুকু কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তাই সাজসজ্জার পাশাপাশি নিজের পোশাকেও শিউলি ফুলের আবহ রেখেছিলেন তিনি।
জয়ের রসিকতায় রহস্য
পরীমনির জন্মদিনে চট্টগ্রাম থেকে ফুল আসার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা আলোচনা। এর মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে রসিকতা করেন শাহরিয়ার নাজিম জয়।
জয় তাঁর পোস্টে লেখেন, পরীমনির প্রতি এমন ভালোবাসা দেখে চট্টগ্রামের ধনী পরিবারের স্ত্রীদের অনেকেই হয়তো দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, কোন স্বামী পরীমনির জন্য এত শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন?
রসিকতা সেখানেই থামাননি জয়। তাঁর কথায়, ফুল পাঠানো ব্যক্তিকে খুঁজে পেলে অনেকে হয়তো তাঁকে গণমাধ্যমের সামনে হাজির করবেন। তবে জয় চান, ওই ব্যক্তি যেন ধরা না পড়েন। নিজের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে মজার ছলে জানান, তিনিও অনেককে শিউলি ফুল দিয়েছেন, কিন্তু ধরা পড়েননি। তাঁর ভাষায়, ‘এক পাপী আরেক পাপীর পক্ষ নেবে, এটাই তো স্বাভাবিক।’
একই পোস্টে পরীমনির প্রশংসাও করেন জয়। তাঁর মতে, পরীমনি বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাদের একজন। চলচ্চিত্র অঙ্গনকে তিনি নিজের আপন জায়গা মনে করেন। শুধু প্রচারণা কিংবা সংবাদ সম্মেলনের জন্য নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গা থেকেও চলচ্চিত্রের মানুষদের ভালোবাসেন ও সম্মান করেন। পোস্টের শেষে পরীমনিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান তিনি।
তবে জয়ের পোস্টে মন্তব্য করে ফুল পাঠানোর রহস্যের একটি অংশ পরিষ্কার করেন পরীমনি। জানান, চট্টগ্রাম থেকে শিউলি ফুল পাঠিয়েছেন কোনো পুরুষ নন, একজন নারী। ফলে জয়ের রসিকতারও জবাব মেলে। যদিও ওই নারীর নাম বা পরিচয় প্রকাশ করেননি অভিনেত্রী।
জন্মদিনে নতুন সিনেমার চমক
শুধু শিউলি ফুল নয়, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে নতুন সিনেমার খবর দিয়েও চমকে দেন পরীমনি। জানান, ‘ফারজানা’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করছেন তিনি। ছবিটি পরিচালনা করছেন তারেক রহমান। এরই মধ্যে সিনেমাটির শুটিংয়ের বেশির ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
নতুন সিনেমা প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘জন্মদিনে একটা সারপ্রাইজ আছে। আমার মনে হয়, আপনারা আমাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন। তাই উত্তর ঠিক করে এসেছি। আমার মনে হলো, এটা সুন্দর সময়। এখানে কাজ নিয়েও কথা বলা যায়।’
সিনেমাটির প্রস্তুতি ও শুটিংয়ের অগ্রগতি সম্পর্কে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমরা ছয় মাস আগেই লুক ঠিক করেছি। কাজ করতে যাওয়ার সময় নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। সিনেমাটির শুটিং চলছে। কিছু কাজ বাকি আছে। বাকি কাজ শেষ করে জানাব।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক তারেক রহমানও। তিনি জানান, ‘ফারজানা’ সিনেমায় পরীমনিকে সংগ্রামী এক নারীর চরিত্রে দেখা যাবে। পরিচালক বলেন, ‘আমরা সুন্দর একটা জার্নি শুরু করতে যাচ্ছি। পরীমনির চরিত্রটি স্ট্রাগলিং একজন নারীর। আশা করি, জার্নিটা সুন্দর হবে। আপনারা নতুন পরীমনিকে আবিষ্কার করবেন।’
জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী ও সহকর্মীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান পরীমনি। দীর্ঘদিন ধরে পাওয়া ভালোবাসার প্রতিদান ভালো কাজ দিয়েই দিতে চান তিনি।
পরীমনি বলেন, ‘শুরু থেকেই সবাই আমাকে যেভাবে ভালোবাসা দিয়েছেন, পাশে থেকেছেন, আশীর্বাদ করেছেন; সবকিছু ছাপিয়ে আমাকে ভালোবেসেছেন, সেই ভালোবাসার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। এর বিপরীতে আমি সুন্দর সুন্দর কাজ ছাড়া আর কিছুই দিতে পারব না। সেটাই যেন করতে পারি, দোয়া করবেন।’
নাজনীন নিহা। ছবি: সংগৃহীত
জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক পরিচালক আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভোরে রাজধানীর মগবাজার এলাকার বিশাল সেন্টারের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আসিফ আকবরের ছবি ও গুলিবিদ্ধ গাড়ির ছবি দিয়ে একটি পোস্ট করেন তিনি।
পোস্টে ওমর সানী লেখেন, ‘গায়ক আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি করা একটা অশনি সংকেত। এটা হওয়া উচিত না, আসিফ তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। আল্লাহ ভালো রাখুন তোমাকে।’
এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, গুলি চালানোর সময় গাড়িতে ছিলেন না আসিফ আকবর। ফলে তিনি অক্ষত রয়েছেন।
তবে কারা এবং কী কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত বা পেশাগত কোনো বিরোধের সঙ্গে এ ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওসি জানান, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং ঘটনার নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে।
আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় শোবিজ অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর ভক্তদের মধ্যেও এ ঘটনা নিয়ে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
বলিউড অভিনেতা সালমান খানের প্রশংসা করায় অভিনেতা টাইগার শ্রফকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন এক অভিযুক্ত। অভিনেতার ওপর হামলার ঘটনায় তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এ তথ্য দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে একটি সিনেমার প্রচার অনুষ্ঠানে সালমান খানকে ‘ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র টাইগার’ বলে প্রশংসা করেছিলেন টাইগার শ্রফ। এই মন্তব্য লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করার অন্যতম কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন ওই অভিযুক্ত।
গত ১৮ অক্টোবর মুম্বাইয়ের জুহুতে একটি মাঠে ফুটবল খেলা শেষে ফেরার সময় টাইগার শ্রফের বিএমডব্লিউ গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুই বন্দুকধারী। তারা সাত রাউন্ড গুলি ছুড়ে সহযোগীদের নিয়ে মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় অভিনেতার গাড়িচালক ও এক পথচারী আহত হন।
পরে লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের এক সদস্য হামলার দায় স্বীকার করে। ঘটনার পরদিন রাজস্থানের কোটা রেলস্টেশনে পুনে-জয়পুর সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সালমান খানের সঙ্গে টাইগার শ্রফের ঘনিষ্ঠতা এবং তাঁর প্রতি সমর্থনের কারণে এ হামলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। এর আগে সালমান খানের ঘনিষ্ঠ বলে বিবেচিত ব্যক্তিদেরও বিষ্ণোই গ্যাং হুমকি দিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশের তদন্তসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য অনুসরণ করছিলেন। সিসিটিভি ফুটেজে রেহান নামে এক অভিযুক্তকে বারবার মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
পুলিশের সন্দেহ, ইন্টারনেটভিত্তিক কলের মাধ্যমে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য অভিযুক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছিল। পালানোর জন্য ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি আন্ধেরিতে পাওয়া যায়। অভিযুক্তরা ট্রেনে যাত্রা করছেন—এমন তথ্যও বার্তার মাধ্যমে হামলাকারীদের জানানো হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
পুলিশকে এড়াতে অভিযুক্তরা মোটরসাইকেল, ট্রেন ও ক্যাব ব্যবহার করেন। তবে মুম্বাই পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজস্থান পুলিশের সদস্যরা সুরাট থেকে জয়পুরগামী একটি ট্রেনে তাঁদের আটক করেন। ইন্টারনেট কলের উৎস শনাক্ত করা তদন্তকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। তদন্তের তথ্য অভিযুক্তদের কাছে কে পৌঁছে দিচ্ছিল, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর পর অভিযুক্তরা নিজেদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেন। পুরো পরিকল্পনায় হামলাকারী ও তাঁদের সহযোগীরা ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল (ভিওআইপি) কল ব্যবহার করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে নিয়মিত মোবাইল ফোনে করা একটি কল পুলিশের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্তরা মুম্বাইয়ের বোরিভলি থেকে সুরাট যাওয়ার জন্য একটি ব্যক্তিগত ক্যাব ভাড়া করেছিলেন।
গুলি চালানোর পর তাঁরা আন্ধেরি থেকে লোকাল ট্রেনে বোরিভলি যান। সেখান থেকে ক্যাবে সুরাটে পৌঁছান। ক্যাবচালকের কাছে করা একটি ফোনকল পুলিশের নজরে আসার পর তাঁদের যাত্রাপথ শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পরে মুম্বাই পুলিশের অ্যান্টি-এক্সটরশন সেলের একটি দল বোরিভলি থেকে সুরাটে যায়। জিজ্ঞাসাবাদে ক্যাবচালক জানান, তিনি অভিযুক্তদের সুরাট রেলস্টেশনে নামিয়ে দিয়েছিলেন। স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ ও ট্রেনের সংরক্ষিত আসনের তালিকা পরীক্ষা করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, অভিযুক্তরা জয়পুরগামী ট্রেনে উঠেছিলেন। পরে রাজস্থানের কোটায় তাঁদের আটক করা হয়।