আজমেরী হক বাঁধন
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বরাবরই খোলামেলা কথা বলেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। অভিনয়জীবনের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, সম্পর্ক এবং জীবনদর্শনও প্রায়ই আলোচনায় আসে।
রোববার (৩১ মে) এক সাক্ষাৎকারে বিয়ে ও প্রেমের অভিজ্ঞতা নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন এ অভিনেত্রী।
গত বছরের শুরুতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন জানিয়েছিলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জন্য পাত্র খোঁজা হচ্ছে এবং উপযুক্ত কাউকে পেলে তিনি বিয়ের বিষয়টি বিবেচনা করবেন। বিষয়টি নিয়ে মজার ছলে বাঁধন বলেন, ‘আমি মজা করেই বলতে চাই, তিনি ভেগে গেছেন। আসলে কেন এগোলেন না, সেটা আমি বলতে পারব না। তবে কেন জানি মনে হয়, ছেলেরা আমাকে একটু ভয় পায়।’
বাঁধনের ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পাত্র ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কটি বেশ ইতিবাচকভাবেই এগোচ্ছিল, এমনকি ছেলেটির পরিবারও তাঁকে পছন্দ করত। কিন্তু পারিবারিক আলোচনা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত বিয়ের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। তবে এ নিয়ে তাঁর কোনো আক্ষেপ বা অভিযোগ নেই।
বাঁধন বলেন, ‘তিনি ভীষণ ভদ্র একজন মানুষ। তাঁর পরিবারও দারুণ। পারিবারিকভাবে সবকিছু ভালোভাবেই এগোচ্ছিল, কিন্তু পরে আর এগোয়নি। এ নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই।’
বিয়ের আলোচনা থেমে যাওয়ার পর ২০২৫ সালের শুরুতে বিনোদন অঙ্গনের বাইরের একজনের সঙ্গে নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন বাঁধন। কিন্তু সেই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তিনি জানান, পরে বুঝতে পেরেছেন এটি তাঁর জীবনের ভুল সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল এবং সম্পর্কটি ভেঙে যাওয়াই শেষ পর্যন্ত ভালো হয়েছে। দুবার বিয়ের অভিজ্ঞতা থাকা এই অভিনেত্রী এখন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো আরও সতর্কতা ও ভেবেচিন্তে নিতে চান।
অভিনয়জীবনে বাঁধন সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসেন আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ পরিচালিত ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ছবির মাধ্যমে। এই ছবির মাধ্যমে তিনি বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ কান চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। কাজের ক্ষেত্রে সব সময় বেছে বেছে এগোনো এই অভিনেত্রী সর্বশেষ ঈদে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা নিয়ে আলোচনায় ছিলেন। তবে এবার ঈদে তাঁর কোনো নতুন সিনেমা মুক্তি পায়নি।
জীবনের নানা উত্থান-পতন, সম্পর্কের সাফল্য-ব্যর্থতা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নিয়ে খোলামেলা কথা বললেও ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদীই থাকতে চান বাঁধন, সেভাবেই চলছে পরিকল্পনা।
আগুনঝরা লুকে শাহরুখ
বলিউডের বাদশাহ শাহরুখ খান মানেই কখনো রোমান্স, কখনো দুর্ধর্ষ অ্যাকশন। এবার দুই রূপেরই ঝলক দেখা গেল তার আসন্ন সিনেমা ‘কিং’-এর নতুন পোস্টারে। মুখে গোলাপ, হাতে বন্দুক আর চারপাশে দাউদাউ আগুন এমন এক ভিন্নধর্মী লুকে ভক্তদের সামনে হাজির হয়েছেন ৬০ বছর বয়সী এই অভিনেতা। পোস্টারের সঙ্গে তার বার্তাও নজর কেড়েছে। নিজেকে খুনি নয়, প্রেমিক হিসেবেই পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন শাহরুখ।
হিন্দুস্তান টাইমস থেকে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কিং’-এর নতুন পোস্টার প্রকাশ করেন অভিনেতা। ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘আজ ফির ইয়াদ আয়া... কাতিল নেহি... আশিক হুঁ।’
অর্থাৎ, ‘আজ আবার মনে পড়ল, খুনি নই, প্রেমিক আমি।’ শাহরুখের ১৯৯৯ সালের সিনেমা ‘বাদশাহ’-এর জনপ্রিয় গানের কথার সঙ্গে মিল রয়েছে এই সংলাপের। ফলে নতুন পোস্টার ঘিরে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত ‘কিং’ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে আগামী ২৪ ডিসেম্বর, বড়দিনের ছুটিকে সামনে রেখে। সিনেমাটিতে শাহরুখের সঙ্গে অভিনয় করেছেন তাঁর মেয়ে সুহানা খান, দীপিকা পাড়ুকোন, অভিষেক বচ্চন ও রানী মুখার্জি। এ ছাড়া জয়দীপ আহলাওয়াত, রাঘব জুয়েল ও সৌরভ শুক্লাকেও দেখা যাবে সিনেমাটিতে।
২০২৫ সালের ২ নভেম্বর শাহরুখের ৬০তম জন্মদিনে সিনেমাটির নাম প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রথম ঝলকে রুপালি চুলের এক ভয়ংকর অ্যাকশন হিরোর অবতারে দেখা যায় তাকে। সেখানে তাঁর সংলাপ ছিল, ‘ডর নেহি, দেহশত হুঁ’ অর্থাৎ, ‘ভয় নই, আমি আতঙ্ক।’
‘কিং’-এর ট্রেলার প্রকাশে দেরি হওয়ায় সম্প্রতি এক ভক্তের প্রশ্নের জবাব দেন শাহরুখ। তিনি জানান, ভক্তদের অপেক্ষায় রাখার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করছেন না নির্মাতারা। বরং সিনেমাটি ভালোভাবে তৈরি করে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করতে সময় নিচ্ছেন তারা। শাহরুখের কথায়, সবকিছুই ২৪ ডিসেম্বরের আগে প্রকাশ করা হবে। অর্থাৎ, সিনেমা মুক্তির আগেই ধাপে ধাপে সামনে আসবে আরও প্রচারণামূলক উপকরণ।
‘পাঠান’-এর পর পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দের সঙ্গে এটি শাহরুখের দ্বিতীয় কাজ। অন্যদিকে, মেয়ে সুহানা খানের সঙ্গে এই প্রথম বড় পর্দায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন তিনি। ফলে অ্যাকশন, রোমান্স আর বাবা-মেয়ের প্রথম পর্দা-জুটি সব মিলিয়ে ‘কিং’ নিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশা এখন তুঙ্গে।
স্ত্রীকে পরম যত্নে আগলে রেখেছেন বিরাট কোহলি। ছবি: সংগৃহীত
জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও নাজনীন নীহা
একসঙ্গে জুটি হয়ে বেশ কয়েকটি নাটকে অভিনয় করেছেন জিয়াউল ফারুক অপূর্ব ও নাজনীন নীহা। তাদের জুটির নাটকগুলোও দর্শকের প্রত্যাশা পূরণ করেছে। আবারও জুটি হয়ে পর্দায় এসেছেন এই দুই তারকা। নাটকটির নাম ‘ভালো আছো তো’। প্রকাশের মাত্র দুই দিনেই কোটি ভিউয়ের মাইলফলক ছুঁয়েছে নাটকটি।
জাকারিয়া সৌখিনের নির্মাণে অপূর্ব ও নাজনীন নীহার অভিনীত ‘ভালো আছো তো’ প্রকাশিত হয়েছে সিএমভির ইউটিউব চ্যানেলে। এর আগে একই নির্মাতার ‘মন দুয়ারি’ ও ‘মায়াপাখি’ নাটকেও জুটি হয়ে অভিনয় করেছিলেন তাঁরা। এবার সেই জুটি ও নির্মাতার নতুন কাজ দর্শকপ্রিয়তার নতুন নজির গড়েছে।
নাটকটি প্রকাশের পর থেকেই দর্শকের ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন নির্মাতারা। ইউটিউবের মন্তব্যের ঘরে এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার দর্শক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশ মন্তব্য প্রশংসাসূচক।
নির্মাণসংশ্লিষ্টদের মতে, শুরুতে চমকপ্রদ দৃশ্য, ধীরে ধীরে ঘটনার গভীরে প্রবেশ, সাবলীল সংলাপ, আবেগের উপস্থাপন, দৃশ্যায়নে মুন্সিয়ানা এবং ব্যতিক্রমী শেষ দৃশ্য—সব মিলিয়ে দর্শককে ভিন্নমাত্রার অভিজ্ঞতা দিয়েছে ‘ভালো আছো তো’।
নাটকটির সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন নির্মাতা জাকারিয়া সৌখিন। তিনি বলেন, ‘সব সময় নিজের মনের মতো কাজ করতে চেয়েছি। কাজের স্বীকৃতি ও প্রাপ্তিতে আনন্দ হয়। এই প্রাপ্তি আমার একার নয়। প্রযোজক, শিল্পী, দর্শক ও আমার টিমকে অভিনন্দন জানাই।’
সিএমভির কর্ণধার এসকে সাহেদ আলী পাপ্পুও দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই সাফল্যে দর্শকদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। অপূর্ব, নীহা, জাকারিয়া সৌখিনসহ পুরো টিমকে অভিনন্দন। সিএমভি সব সময় দর্শকচাহিদার কথা মাথায় রেখে রুচিশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট তৈরি করছে। এমন প্রাপ্তি পরবর্তী কাজের ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণা জোগায়।’
নাটকটির একমাত্র গান ‘যাকে ভালোবেসেছি’। আহমেদ রিজভীর কথায় গানটির সুর ও সংগীতায়োজন করেছেন সাজিদ সরকার। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন মাহতিম সাকিব ও রুমি রুসা।
অপূর্ব ও নাজনীন নীহা ছাড়াও নাটকটিতে অভিনয় করেছেন মিলি বাশার, সমাপ্তি মাশুক, প্রান্ত প্রমুখ।
বিয়ের আগে বিজয় দেবেরাকোন্ডাকে নাকি প্রায় ১০০ বার প্রস্তাব দিতে হয়েছিল রাশমিকা মান্দানাকে। সম্প্রতি এই মন্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। বিজয়ের বক্তব্যকে ঘিরে কেউ কেউ তার আচরণ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। এবার বিষয়টি নিয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন রাশমিকা। অভিনেত্রীর ভাষ্য, তাদের কথোপকথনের প্রকৃত অর্থ না বুঝেই অনেকে মন্তব্যের একটি অংশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছেন।সম্প্রতি করণ জোহরের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘কফি উইথ করণ’-এর নবম মৌসুমে অতিথি হিসেবে হাজির হন বিজয় ও রাশমিকা। সেখানে তাদের বিয়ের প্রস্তাবের প্রসঙ্গ ওঠে। রাশমিকা জানান, একসময় তিনি বিজয়কে বিয়ের কথা বলেছিলেন। তখন বিজয় মজা করে বলেছিলেন, একই কথা নাকি তাকে ১০০ বার বলতে হবে। বিয়ে নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে আলোচনা চলেছিল বলেও জানান অভিনেত্রী।
বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে ইনস্টাগ্রামে দীর্ঘ বক্তব্য প্রকাশ করেন রাশমিকা। তিনি বলেন, তাদের বিয়ের সিদ্ধান্তের পেছনের ভাবনা বাদ দিয়ে মানুষ শুধু ১০০ বার বলা কিংবা এক বছর সময় নেওয়ার বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করছে।রাশমিকার কথায়, ‘প্রথমেই বলে রাখি, বিষয়টি কখনোই কতবার বলা হয়েছিল কিংবা পুরো এক বছর সময় নেওয়া নিয়ে ছিল না। আপনারা সেখানেই আটকে গেছেন। হ্যাঁ, এমন কথোপকথন হয়েছিল। কিন্তু আমাদের কেউই জাঁকজমকপূর্ণ কোনো প্রস্তাবের অপেক্ষায় ছিলাম না।’
বিয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একে অপরকে বোঝার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, জীবনের আনন্দ, চাপ ও নানা উত্থান-পতনের মধ্যে দুজন মানুষ একে অপরকে বুঝতে যথেষ্ট সময় নিচ্ছেন কি না, সেটিই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
রাশমিকা লেখেন, ‘বিষয়টি ছিল, জীবনের সব উত্থান-পতন, আনন্দ ও চাপের মধ্যেও আমরা দুজন একে অপরকে বুঝতে যথেষ্ট সময় ও সুযোগ নিই। আমরা সত্যিই বিয়ে করতে চাই কি না এবং সেটি করার উপযুক্ত সময় কি না, তা নিশ্চিত হওয়াই ছিল মূল কথা।’
শেষ পর্যন্ত দুজনের সম্মতিতেই বিয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে রাশমিকা বলেন, তারা একে অপরকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন। নিজের আবেগপ্রবণ স্বভাবের সঙ্গে বিজয়ের চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতার সমন্বয় তাদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং একসঙ্গে জীবন গড়ে তোলাকেই বেশি গুরুত্ব দেন রাশমিকা। তার ভাষায়, ‘আমাদের কাছে বিয়ে কখনোই প্রস্তাব দেওয়া, এক হাঁটু গেড়ে বসা কিংবা আঙুলে আংটি পরানোর বিষয় ছিল না। এগুলো বাহ্যিক আয়োজন। আমাদের কাছে বিয়ের অর্থ ছিল একসঙ্গে জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা।’বিজয়ের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা তুলে ধরে অভিনেত্রী আরও লেখেন, ‘আমাদের কাছে বিয়ে কখনোই প্রস্তাব দেওয়া, এক হাঁটু গেড়ে বসা কিংবা আঙুলে আংটি পরানোর বিষয় ছিল না। এগুলো বাহ্যিক আয়োজন। আমাদের কাছে বিয়ের অর্থ ছিল একসঙ্গে জীবন ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। এমন কাউকে খুঁজে নিন, যার জন্য আপনি যেকোনো পর্যায়ে যেতে পারবেন এবং যে আপনার জন্যও একই কাজ করবে। আর হ্যাঁ, আমি আমার মানুষটিকে নিয়ে ভীষণ মুগ্ধ। এটা কখন থেকে খারাপ হয়ে গেল?’
জীবনের দীর্ঘ পথচলায় বিজয়কে সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার গুরুত্বও তুলে ধরেছেন রাশমিকা। তিনি বলেন, ‘আমি যাকে বিয়ে করছি, তার প্রেমে যদি গভীরভাবে না-ই পড়ি, তাহলে তাকে বিয়ে করব কেন? তিনি সারা জীবনের সঙ্গী হবেন। সাধারণ ও অসাধারণ প্রতিটি দিনের বন্ধু, আমার সন্তানের বাবা এবং সেই মানুষ, যার সঙ্গে আমি বৃদ্ধ হতে চাই।’
সমালোচকদের উদ্দেশে রাশমিকা বলেন, ‘এমন একজন মানুষ খুঁজুন, যিনি আপনাকে এত সুন্দরভাবে ভালোবাসবেন যে বিয়ের পরও তাকে বলতে ইচ্ছা করবে, চলো আবার বিয়ে করি। আমি হাজারবারও একই কাজ করব। সেখানে ১০০ বার কিছুই নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সম্পর্ক নিয়ে আসা নানা মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরামর্শেও হতাশা প্রকাশ করেন অভিনেত্রী। তার মতে, ‘আমার ও বিজয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অসংখ্য মতামত, মন্তব্য ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরামর্শ এসেছে। যেভাবে মানুষ আমাদের আক্রমণ করেছে, তা আমাকে সত্যিই কিছুটা বিস্মিত করেছে।’রাশমিকা লেখেন, ‘আমাদের নিয়ে চিন্তা করবেন না। আমি জীবনে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সুখী। আমার মুখে, বিয়ের পরের আনন্দে, আমার অভিনয়ে, সিনেমায় এবং জীবনযাপনে সেই সুখ দেখতে পাবেন বলে আশা করি। আমি সুখী, তৃপ্ত এবং নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।’
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করেন বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানা। এর আগে ‘গীতা গোবিন্দম’ ও ‘ডিয়ার কমরেড’ সিনেমায় একসঙ্গে অভিনয় করেছেন তারা। সম্প্রতি ‘রানাবালি’ সিনেমায়ও এই জুটিকে একসঙ্গে দেখা গেছে।
টাইগার শ্রফকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় তদন্তে একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুধু টাইগার নন, বলিউডের আরও কয়েকজন প্রথম সারির অভিনেতার বাড়ির আশপাশে নজরদারি চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে।তালিকায় ছিলেন অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, অক্ষয় কুমার ও সালমান খানও।প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলাকারীদের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিলেন আমির খান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়। সূত্রের দাবি, আমিরের তুলনায় টাইগারকে প্রকাশ্যে বেশি দেখা যাওয়ায় তাকে নিশানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
আমিরের তৃতীয় বিয়ে এবং গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে তার সম্পর্ককে কেন্দ্র করে লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠীর নামে হুমকির খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে আমিরকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও হুমকি দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই পোস্টে আমির খানের মতো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ‘লাভ জিহাদ’-এর প্রচারের অভিযোগ তোলা হয়। একই সঙ্গে দাবি করা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড তাদের সংস্কৃতি ও সনাতন ধর্মের পরিপন্থী।পোস্টে আরও হুমকি দেওয়া হয়, তারকাখ্যাতির আড়ালে যারা এসব কর্মকাণ্ডের প্রচার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পোস্টটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় ও দাবির সত্যতা তদন্তের বিষয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইসন বিষ্ণোই ও আরজু বিষ্ণোইয়ের নামে পরিচালিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে হুমকিটি দেওয়া হয়েছিল। এর আগে জুলাই মাসেও আমির খান হুমকি পেয়েছিলেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।
এদিকে টাইগার শ্রফের ওপর গুলির ঘটনায় শনিবার ইন্দোর থেকে ২২ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১। তবে হামলার পেছনের উদ্দেশ্য এবং পরিকল্পনা পরিবর্তনের বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানিয়েছেন টাইগার, এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। এ কারণে তিনি এখনো পুলিশের কাছে বিস্তারিত জবানবন্দি দেননি বলে খবর। তার বক্তব্য নিতে মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার একটি দল অভিনেতার বাড়িতে গিয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে টাইগার বলেছেন, পুরো ঘটনায় তিনি প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছেন। কে বা কারা তার ওপর এমন হামলা চালাতে চাইবে, তা বুঝতে পারছেন না। কারও সঙ্গে ব্যক্তিগত শত্রুতা নেই বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এ ঘটনায় টাইগারের গাড়িচালক ফিরদৌস বালোচ এবং ভ্লগার উমেশ চৌহানের বক্তব্য নথিভুক্ত করেছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে হামলার উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে।
‘অ্যানিমেল ফার্ম’ নাটকের একটি দৃশ্য
জর্জ অরওয়েলের বিশ্বখ্যাত উপন্যাস ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ অবলম্বনে নাটক মঞ্চস্থ করতে যাচ্ছে রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ। আজ ও আগামীকাল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির প্রদর্শনী হবে। নজরুল সৈয়দের নাট্যরূপে নাটকটির নির্দেশনা দিয়েছেন রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের প্রধান সাইদুর রহমান লিপন।
রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব নিয়ে রচিত ‘অ্যানিমেল ফার্ম’ বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম আলোচিত উপন্যাস। পশুদের প্রতীকী চরিত্রের মধ্য দিয়ে জর্জ অরওয়েল এতে শাসন ব্যবস্থার শোষণ, নিপীড়ন এবং ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির চিত্র তুলে ধরেছেন। প্রাক্তন সোভিয়েত রাশিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের ব্যর্থতা উপন্যাসটির অন্যতম প্রেক্ষাপট। নির্দেশক সাইদুর রহমান লিপনের ভাষ্য, শোষণ-নিপীড়নের চূড়ান্ত পরিণতি বিপ্লব।
ফরাসি বিপ্লব থেকে রুশ বিপ্লব-ইতিহাসের বিভিন্ন বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ক্ষমতার হাতবদল ঘটলেও সাধারণ মানুষের ভাগ্যের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন হয়নি। নাটকটির মধ্য দিয়ে সেই বাস্তবতাই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। নিজের এই বই সম্পর্কে জর্জ অরওয়েল বলেছিলেন, ‘এটা হচ্ছে আমার প্রথম বই, যেখানে আমি সম্পূর্ণ সচেতন থেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং শৈল্পিক উদ্দেশ্য এক করে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’
রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে নির্মিত নাটকটিতে ক্ষমতাহীন ও ক্ষমতাধরদের মধ্যকার চিরন্তন দ্বন্দ্বকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষমতার কাঠামো, শোষণ এবং বিপ্লব-পরবর্তী বাস্তবতা নিয়ে দর্শকদের ভাবনার খোরাক জোগাতে চান নির্মাতারা।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মো. হাবিবুল্লাহ, ফাহাদ খান, সাইফুল ইসলাম, মো. সজীব হোসেন, সানজিত সুপ্ত, নাজিমউদ্দৌলা জুয়েল, আবির খান অন্তু, পলক চক্রবর্তী, রিফাত আরা জুঁই, মেহেদী হাসানসহ নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থীরা। নাটকটির সহযোগী নির্দেশনায় রয়েছেন আব্দুর রাজ্জাক ও মো. শামীম আহমেদ। আলোক পরিকল্পনায় ধীমান চন্দ্র বর্মন, পোশাক পরিকল্পনায় মহসিনা আক্তার এবং সংগীত পরিকল্পনায় অসীম কুমার নট্ট।