সঞ্জয় দেব
সিনেমা, নাটক, গান, খেলা– সবকিছুতেই কি আমরা পিছিয়ে থাকব? এমন তো নয়, আমরা কেবলই ব্যর্থ চেষ্টা করে যাচ্ছি। সংস্কৃতি অঙ্গনে আমাদেরও অনেক শিল্পী, সাধক আছেন; যারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন অভিনব আয়োজন তুলে ধরার প্রয়াসে। ক্রীড়া জগতেও সাফল্যে দেখা মিলেছে বিভিন্ন সময়।
তাহলে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে আমরা কেন সুযোগ পাব না, নিজেদের চেনাতে? এমন অনেক প্রশ্ন মনের মাঝে ঘুরপাক খায়। সে কারণে আশার জাল বুনে যাই এমন কিছু দেখার, যা আমাদের গর্বিত করবে। অবশেষে তেমনই এক গর্বিত মুহূর্ত আমাদের সামনে ধরা দিল ‘বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬’-কে ঘিরে। অবাক বিস্ময় নিয়ে আমরা দেখলাম, বিশ্বমঞ্চে দাঁড়িয়ে কীভাবে সঞ্জয় নামে এক তরুণ শিল্পী গানে গানে পরিচয় করিয়ে দিলেন বাংলাদেশকে।
সঞ্জয়ের জন্ম বাংলাদেশের মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে। চট্টগ্রামে কাটিয়েছেন শৈশবের বড় একটি অংশ তিন বছর বয়স থেকেই ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত শেখা শুরু তাঁর। ১১ বছর বয়সে চলে যান যুক্তরাষ্ট্রে। খেলাধুলা বা অন্য কোনো বিষয়ে না জড়িয়ে সংগীতকে জীবনের আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। এ ক্ষেত্রে শিল্পী ও সংগীতায়োজক হাবিব ওয়াহিদ এবং ফুয়াদ আল মুক্তাদিরের সৃষ্টি তাঁকে দারুণভাবে প্রভাবিত করেছিল। পরবর্তী সময়ে ইয়ান্নি, হ্যান্স জিমার, এ আর রহমান, স্ক্রিলেক্স, ডেডমাউস, ক্যালভিন হ্যারিসসহ বিশ্বসংগীতের আরও বেশ খ্যাতিমান শিল্পী ও সংগীতায়োজকদের সৃষ্টিতে বুঁদ হয়ে ছিলেন তিনি। সে কারণে বাংলা গান এবং বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে আধুনিক ধারার মিশ্রণের বিষয়টি প্রাধান্য দিয়ে আসছেন। আর এই কাজটি তাঁর সংগীতচিন্তাকে আরও গভীরে নিয়ে গেছে।
তবে সংগীতের এই যাত্রায় ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছিলেন তাঁর মা। সঞ্জয়ের কথায়, মা-ই আমাকে ছোটবেলায় সংগীতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তবলা শেখার জন্য ভর্তি করিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাল-লয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। তিনি সবসময় আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন এবং আমার স্বপ্নে বিশ্বাস রেখেছেন। একজন শিল্পী হিসেবে আমি যা হয়েছি, তার শুরুটা মায়ের কাছ থেকেই। ছোটবেলা থেকেই মাথায় নানা সুর আসত, আর সেগুলো গান আকারে সাজানোর চেষ্টা করতাম। ১৩তম জন্মদিনে একটি ল্যাপটপ উপহার পাই। তখনই ‘রিজন’ নামে সংগীত তৈরির সফটওয়্যার আবিষ্কার করি। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত সংগীত তৈরি থামাইনি।’ সঞ্জয়ের এক কথা থেকে সহজেই অনুমান করা যায়, সংগীত মাধ্যমে তাঁর জীবনের অধ্যায়গুলো– এ যেন বহুকাল আগেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। তাইতো বিশ্বকাপ ফুটবলের উদ্বোধনী আয়োজনে তাঁকে পারফর্ম করতে দেখা মোটেও অবাক করে না।
১২ জুন শুক্রবার ছিল সেই কাঙ্ক্ষিত দিন, যেদিন কানাডার টরন্টোর বিএমও স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬’ এর উদ্বোধনী আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করেন সঞ্জয়। ‘সির সির’ শিরোনামের সেই গানে তাঁর সঙ্গী ছিলেন বলিউডের এ সময়ের আলোচিত তারকা, কানাডীয় শিল্পী নোরা ফাতেহি ও ফরাসি হিপহপ তারকা ভেজেড্রিম। সেদিন কোটি ফুটবলপ্রেমীর সামনে দাঁড়িয়ে তারা যে পরিবেশনা তুলে ধরেন, তা দারুণভাবে আন্দোলিত করেছে এ দেশের দর্শক-শ্রোতাদেরও। তবে সবকিছু ছাপিয়ে নজর কেড়েছে সঞ্জয়ের বিশেষ জ্যাককটি। ডান হাতাজুড়ে সু এমব্রয়ডারিতে ফুটে উঠেছিল বাংলাদেশের পরিচয়ের তিনটি শক্তিশালী প্রতীক– রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা। শুধু পোশাকে এসব প্রতীক ব্যবহার করেই থেমে থাকেননি তিনি।
পারফরম্যান্স চলাকালে বারবার নিজের হাতার দিকে ইঙ্গিত করে বিশ্বের প্রতিটি দেশের দর্শকের নজর সেদিকেই টেনে নিয়েছেন। গানে গানে দেশের পরিচিতি তুলে ধরার অভিনব এই পরিকল্পনা নিয়ে সঞ্জয় বলেন, ‘যেদিন ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমার পারফর্ম করার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে, সেদিন থেকে ভাবতে শুরু করেছি, আমার পরিবেশনা কতটা আলাদাভাবে তুলে ধরা যায়। অনেকে পরামর্শ দিয়েছিলেন, অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জার্সি পরে পারফর্ম করার। কিন্তু এই বিষয়টি আমার কাছে অনেক গৎবাধা মনে হয়েছে। তাঁর বদলে আরও নান্দনিক কিছু তুলে ধরা যায় কিনা, তা নিয়ে আলাদা করে ভাবতে বসেছি। যদিও আগে থেকে জানা ছিল, আমার ও ভেজেড্রিমের ‘সির সির’ গানটি ফিফার অফিসিয়াল অ্যালবামে থাকছে। কিন্তু এই গানের সঙ্গে কীভাবে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আয়োজন সাজানো হবে, তা নিয়ে কোনো ধারণা ছিল না। এজন্য আমার টিমের সঙ্গে বসে পরিকল্পনা করি, কীভাবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা যায়। এরপর আমার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর ছায়া কুমারের সঙ্গে মিলে এই জ্যাকেটের নকশা তৈরি করি। যার প্রতিটি মোটিফের পেছনেই ছিল একটি বার্তা। পোশাকের হাতায় তুলে ধরা রয়েল বেঙ্গল টাইগার হলো বাংলাদেশের শক্তি ও সাহসের প্রতীক। শাপলা তুলে ধরে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির পরিচয়। আর জাতীয় পতাকার লাল-সবুজ রংয়ে মিশে আছে শান্তি, সৌহার্দ ও পরিচয়ের গল্প। তবে সবকিছু পরিকল্পিতভাবে হলেও মঞ্চে দাঁড়িয়ে বারবার হাতার নকশা দর্শকদের দেখানো বিষয়টি হঠাৎ করেই হয়ে গেছে।’
কিভাবে হলো? এ প্রশ্নের জবাবে সঞ্জয় স্বীকার করেন, আবেগের বশেও আমরা অনেক কিছু করে ফেলি। এই বিষয়টাও তেমনি। তবে এও মনে হয়, অচেতন মনে বাংলাদেশকে দেখানোর ইচ্ছাটা পুষে রেখেছিলাম। সে কারণে হয়তো মঞ্চে ওঠে মনে হয়েছে, আমার সঙ্গে পুরো বাংলাদেশ আছে। অনুষ্ঠানের আগে যখনই জ্যাকেটটি পরতাম, আমার হৃদস্পন্দন বেড়ে যেত। আর বিশ্বকাপের মঞ্চে ওঠার পর সেই অনুভূতি আরও তীব্র হয়। তাই শেকড়ের টান উপেক্ষা করতে পারিনি, তাঁকে চিনিয়ে দেওয়ার দায় অনুভব করেছি। আর তা করতে গিয়ে খানিকটা গর্বও হয়েছে।’
ছবি : সংগৃহীত
ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্ব গত বছরই কন্যাসন্তানের বাবা হয়েছেন। এ খবর অবশ্য এখন পুরোনো। কিন্তু মেয়ের ছবি প্রকাশ্যে আনেন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে।
কিন্তু ওই সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছিল, গত ১২ ডিসেম্বর অভিনেতার মেয়ে আনায়ার জন্ম হয়েছে। কিন্তু সেই তথ্য সঠিক নয়।
এবার প্রায় এক বছর পর সেই ভুল ভাঙালেন অভিনেতা অপূর্ব। জানালেন, আজ (১৫ অক্টোবর) তার মেয়ের বিশেষ দিন, অর্থাৎতার মেয়ের জন্মদিন আজ। এ উপলক্ষে সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মেয়ের দুটি ছবি পোস্ট করেছেন তিনি। সেখানে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তার মেয়ে গত বছরের আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেছিল।
এ অভিনেতা মেয়ের বিশেষ দিনে বিশেষ বার্তায় লিখেছেন, ‘তোমাকে ভালোবাসার ৩৬৫ দিন। আমাদের ছোট্ট রাজকন্যার প্রথম জন্মদিনে অনেক অনেক শুভেচ্ছা। সত্যিই বুঝতে পারিনি, দেখতে দেখতে কীভাবে সময়টা পেরিয়ে গেল। ঠিক এক বছর আগে আজকের দিনে তুমি পৃথিবীতে এসেছিলে, আর মুহূর্তেই অপার সৌন্দর্যে বদলে দিয়েছিলে সবকিছু।’
রাজকন্যার বেড়ে ওঠা দেখতে পারাই যেন অভিনেতা এবং তার স্ত্রী শাম্মা দেয়ানের কাছে এক পরম প্রাপ্তি। এ ব্যাপারে অপূর্ব লিখেছেন, ‘তোমার বেড়ে ওঠা, নতুন নতুন জিনিস আবিষ্কার করা, আর তোমার মিষ্টি হাসি ও আনন্দে আমার ঘর ভরিয়ে তোলা, এসব দেখা এই জীবনের বড় প্রাপ্তি। আজ তোমার মাথায় হয়তো ছোট্ট একটি মুকুট শোভা পাচ্ছে, কিন্তু জন্মের সেই প্রথম মুহূর্ত থেকেই আমাদের হৃদয়ের রানির মুকুট পরে আছো তুমি।’
সবশেষ মেয়েকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘তোমার জীবন যেন সবসময় তোমার মতোই উজ্জ্বল, মায়াময় ও অমূল্য হয়ে থাকে।’
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী শাম্মা দেওয়ানের সঙ্গে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন অভিনেতা অপূর্ব। এর আগে ২০১১ সালে অদিতিকে বিয়ে করেছেন। সেই সংসারে ছেলে আয়াশ রয়েছে। এরও আগে অভিনেত্রী সাদিয়া জাহান প্রভাকে বিয়ে করেছিলেন অভিনেতা। যদিও সেই সংসার বেশিদিন টিকেনি।
করণ জোহর ও সালমান খান
ভারতের জনপ্রিয় টকশো ‘কফি উইথ করণ’। বিগত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডের বিভিন্ন তারকার ব্যক্তিগত জীবন, প্রেম ও বিতর্কের নানা বিষয় উঠে এসেছে প্রযোজক ও পরিচালক করণ জহরের এই অনুষ্ঠানের আড্ডায়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কফি উইথ করণ’-এর শেষ তথা নবম সিজনের প্রথম পর্বের প্রোমোতেই বেশ বোঝা গেল যে, দর্শকমহলের জন্য বড়সড় চমক অপেক্ষা করছে। অতিথি বলিউড সুপারস্টার সালমান খান। প্রচারঝলকের গোড়াতেই ভাইজানের সঙ্গে সঞ্চালককে রসিকতায় মাততে দেখা গেল।
আর সেখানেই করণ জোহরের প্রশ্নবাণে স্তম্ভিত ভাইজান!
সালমানকে স্বাগত জানিয়ে করণকে বলতে শোনা যায়, ‘একজন জ্ঞানী মানুষ একবার বলেছিলেন, ‘ইটস ডান, ব্রো’। তাই আমার শেষ সিজন শুরু করার জন্য এই মানুষটির থেকে ভালো আর কে-ই হতে পারেন!’
বিগত দু’দশকেরও বেশি সময় ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তারকাদের আড্ডা-গসিপ, বিতর্ক আর নানা আলোচনার ঠেক হয়ে উঠেছে করণ জোহরের টকশো। ‘কফি উইথ করণ’ মানেই নতুন সম্পর্ক, নতুন ব্রেকআপ আর নতুন গুঞ্জন!
শুধু তাই নয়, খুনসুটি করে তাকে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘কফি উইথ করণের পর এবার শুরু হচ্ছে কফি উইথ সালমান।’ এরপরই বলিউড সুপারস্টারকে সরাসরি করণ জোহর জিজ্ঞেস করে বসেন, ‘তুমি কি এখনও ভার্জিন (চিরকুমার)?’
এটাই অবশ্য প্রথম নয়! অতীতে একবার ‘কফি উইথ করণ’-এ এসেও এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছিল ভাইজানকে। তবে এবার আর থামেননি। পালটা করণ জোহরকে সীমাজ্ঞানের পাঠ দিয়েছেন সালমান। তিনি বলেন, ‘আরে ভাই নিজেকে একটু কন্ট্রোল করো।’
টিজারটি প্রকাশ্যে আসতেই স্যোশাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে গেছে। এর আগেও ‘কফি উইথ করণ’-এর একটি পর্বে অতিথি হয়ে একই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন এই বলিউড অভিনেতা। অনুষ্ঠানটির নবম মরশুমের প্রথম পর্বটি শিগগিরই প্রচার হতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে
শাকিব খান ও স্বামী নেহালের সঙ্গে সাবিলা নূর
শোবিজ দুনিয়ায় বইছে তারকাদের বিচ্ছেদের বাতাস। এরইমধ্যে যুক্ত হয়েছে অভিনেত্রী সাবিলা নূরের বিচ্ছেদগুঞ্জন।
২০১৯ সালে নেহাল সুন্দর তাহরকে বিয়ে করেন সাবিলা নূর। স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসারই চলছিল তার। কিন্তু এখন নাকি একসঙ্গে থাকছেনও না তারা! বিচ্ছেদ নাকি হয়েছে অনেক আগেই, যা গোপন রাখা হয়েছে অনেকদিন ধরে।
বিগত কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্টে উঠে আসে এমন কথা। পরে বিষয়টি আসে সংবাদের শিরোনাম আকারেই! এ গুঞ্জন ছড়ানোর নেপথ্যে মিলি সুলতানা নামের এক একটিভিস্ট-এর একাধিক পোস্ট।
সেই অ্যাক্টিভিস্ট কিছুদিন আগে দীর্ঘ এক পোস্টে উল্লেখ করেন, সাবিলার অভিনীত ‘তাণ্ডব’ সিনেমার সেট থেকেই নাকি অভিনেত্রীর সংসার ভাঙার বীজ বোনা হয়েছিল। মিলি সুলতানা পোস্টে উল্লেখ করেন, শাকিব খানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বেড়ে যায় সাবিলা নূরের। শুধু তাই নয়, শাকিব খানের দিকে আঙুল তুলে তিনি আরও অভিযোগ তোলেন, দেশের নায়িকাদের কাছে শাকিব খান নাকি এক ভয়ানক ব্যধি। যার ভুক্তভোগী সাবিলার স্বামী নেহাল সুন্দর তাহের। সাবিলা নূর নাকি নেহালের নিয়ন্ত্রণে আর নেই, এমনটাও উল্লেখ করেন সেই অ্যাক্টিভিস্ট।
সেই অ্যাক্টিভিস্ট আরও বিস্ফোরক কিছু বিষয় তুলে দাবি করেন, সাবিলা নূর আগে মাদকাসক্ত ছিলেন। রিহ্যাবেও ছিলেন বেশ কয়েকদিন।
নেহালের মনে আশঙ্কার কথা তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, শাকিব খানের পাল্লায় পড়ে সাবিলা নিজেকে আরও উঁচুতে ওঠাতে চেয়েছিলেন। বাসায় নাকি মদ্যপ অবস্থায়ও ফেরেন। নেহাল দেখলেন সাবিলা আর তার কবজায় নেই। এরপর মিলি সুলতানা উল্লেখ করেন, এ সকল ঘটনার কারণে নাকি সাবিলার সংসার ভেঙেছে; বিচ্ছেদ ঘটেছে। আর বিষয়টি গোপন রেখেছেন সাবিলা নূর।
সব মিলিয়ে, শাকিব খানের দিকে আঙুল তুলে শোবিজ অঙ্গনের ভেতরে নায়িকাদের অফস্ক্রিন স্টোরির কথা তুলে ধরেন সেই অ্যাক্টিভিস্ট। কিন্তু এই পোস্টে শুধু শাকিবের দিকে আঙুল তুলে থেমে থাকেননি তিনি, পরবর্তী এক পোস্টে রকস্টার সিনেমার ডিওপি (ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফার) আবদুল মামুনের সাথে সাবিলার গোপন সম্পর্ক রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেই নাকি ভেঙে যায় সাবিলা-নেহালের সাত বছরের সংসার।
অ্যাক্টিভিস্ট মিলি সুলতানা সবশেষ উল্লেখ করেন, ‘যদিও সাবিলা শাকিবের সাথে ধামাকা রোমান্সে অংশ নিয়েছেন এটা সত্যি। কিন্তু তার ঘর ভাঙার জন্য রকস্টারের ক্যামেরাম্যন আব্দুল মামুনই দায়ী। এই কথাটা আমি শতভাগ নিশ্চিত হয়েই বলছি। এবার সাবিলার সুহৃদরা কি বলবেন?’
এখন কথা হলো, এই অ্যাক্টিভিস্ট-এর এই পোস্ট কেন এত সাড়া ফেলল, কেন বিষয়টি মানুষ কানে নিলো সেটা নিয়েও ভাবছেন নেটিজেনদের একাংশ। কেউ কেউ এটাকে বানোয়াট-মনগড়া গল্প বলছেন। আবার কেউ কেউ শাকিব খানের অতীতের বাস্তবতা টেনে এটিকে সম্ভাব্য সত্যি বলেও ভাবছেন। শোবিজ অঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা যে একটা 'রোজকার বিষয়' তা মনে করেন অনেক নেটিজেনই। কাজেই, সমালোচক, লেখক মিলি সুলতানার এই পোস্ট নানা ধরনের জল্পনা উস্কে দিলেও, শোবিজ অঙ্গনে উত্তেজনা ছড়িয়ে দিলেও তার উল্লেখিত পোস্টের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে অনেকের।
এ প্রসঙ্গে সাবিলা নূরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। অতঃপর, অপর পাশ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি।
শাহরুখ খান ও সোহানা খান
শাহরুখ খান অভিনীত অ্যাকশন থ্রিলার ‘কিং’ সিনেমা মুক্তির আর মাত্র দুই মাস বাকি। ছবিটির কাজও প্রায় শেষের পথে। সম্প্রতি মুম্বাইয়ের গোরেগাঁওয়ে শুরু হয়েছে শেষ ধাপের শুটিং। এই পর্বে শাহরুখের অ্যাকশন দৃশ্যের পাশাপাশি তার মেয়ে সুহানা খানের একটি নতুন গানের শুটিং করবেন পরিচালক সিদ্ধার্থ আনন্দ।
প্রযোজনা সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ অক্টোবর রোববার থেকে ছবির অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলীরা নতুন করে কাজ শুরু করেন। ১২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আন্ধেরি ইস্টের একটি স্টুডিওতে শাহরুখকে নিয়ে অ্যাকশন দৃশ্যের ধারণ শুরু হয়। অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে এসব দৃশ্যের কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর নতুন যুক্ত হওয়া গানটির চিত্রগ্রহণে মনোযোগ দেবেন পরিচালক।
‘কিং’ সিনেমায় সুহানা খানের নাচের দক্ষতা ফুটিয়ে তুলতে একটি বিশেষ গানের আয়োজন করা হয়েছে। মুম্বাইয়ের ফিল্ম সিটিতে বিশাল সেট তৈরি করে এর শুটিং করা হবে। গানটির কোরিওগ্রাফিতে থাকছেন পীযূষ ভগত ও শাজিয়া সামজি।
একদিকে শুটিংয়ের শেষ পর্বের ব্যস্ততা, অন্যদিকে একই সঙ্গে ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের কাজ শেষ করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রযোজনা সংস্থা। আগামী ২৪ ডিসেম্বর সিনেমাটি বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা।
শাহরুখ খান ও সুহানা খান ছাড়াও সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন, রানি মুখার্জি, অভিষেক বচ্চন ও জয়দীপ আহলাওয়াত।
নাসিমা খানম
বাংলা সিনেমার সূচনালগ্নের সময়কার অভিনেত্রী নাসিমা খান মারা গেছেন। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। গণমাধ্যমকে খবরটি নিশ্চিত করেছেন অভিনেত্রীর দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নূরজাহান বেগম।
জানা গেছে, অনেক দিন ধরেই শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন নাসিমা খান। সাত দিন আগে তার অবস্থার অবনতি হলে উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। কিন্তু সুস্থ হয়ে আর ফিরলেন না জীবনের উদ্যানে।
নাসিমা খানের মৃত্যুতে সিনেমা অঙ্গনের অনেকেই শোকপ্রকাশ করছেন। অভিনেতা ওমর সানী এক বার্তায় লিখেছেন, 'আন্টি অনেক পুরোনো শিল্পী, ভীষণ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ ছিলেন; পড়াশোনা ছিল আকাশচুম্বী। আমার সৌভাগ্য হয়েছে তার সাথে অভিনয় করার। আন্টি, আপনার জান্নাত কামনা করছি।'
অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর জানিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও নায়ক সনি রহমান বলেন, 'চলে গেলেন কিংবদন্তি অভিনেত্র নাসিমা খান আপা।
রাজধানীর উত্তরার একটি হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেছেন। নাসিমা খান আপু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির আজীবন সম্মানিত সদস্য ছিলেন। নাসিমা আপুর চলে যাওয়ায় আমি গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি।'
নাসিমা খানের বড় ছেলে থাকেন যুক্তরাষ্ট্রে। ছট ছেলে নাবিল নাছির রহমান কুশল গেল ফেব্রুয়ারিতে নিখোঁজ হয়েছেন। সেই থেকে অনেকভাবে খোঁজার চেষ্টা করেছেন অভিনেত্রী। কিন্তু সন্ধান পাননি।
শিল্পী সমিতির নেতা সনি রহমান জানান, নাসিমা খানের বড় ছেলে দেশে আসা পর্যন্ত তার মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। ছেলে দেশে ফিরলেই হবে শেষকৃত্য।
উল্লেখ্য, নাসিমা খানের জন্ম ১৯৪৪ সালের ৬ আগস্ট পুরান ঢাকার লালবাগে। তার পৈতৃক নিবাস মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার রাঢ়িখাল গ্রামে। পারিবারিক পরিবেশেই ছোটোবেলায় সংস্কৃতিচর্চার সূচনা। শিখেছিলেন নাচ। তার পরিবারের সঙ্গে অভিনেতা ও নির্মাতা খান আতাউর রহমানের ঘনিষ্ঠতা ছিল। সেই সুবাদেই সিনেমায় আসেন নাসিমা।
বড় পর্দায় তার অভিষেক হয় ১৯৫৯ সালে এ জে কারদার পরিচালিত উর্দু সিনেমা ‘জাগো হুয়া সাভেরা’ দিয়ে। ষাটের দশকে তিনি হয়ে ওঠেন ঢাকার অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী। বাংলা ও উর্দু দুই ভাষাতেই তিনি অভিনয় করেছিলেন। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো ‘যে নদী মরু পথে’, ‘সূর্যস্নান’, ‘বেগানা’, ‘উজালা’, 'তানহা', ‘ধারাপাত’, ‘কার বউ’, ‘আপন দুলাল’, ‘উলঝান’, ‘ম্যায় ভি ইনসান হু’, ‘দুই ভাই’, ‘গৌরী’ ইত্যাদি।
স্বাধীনতার পর একসময় রুপালি জগৎ থেকে দূরে সরে যান নাসিমা খান। পরে টেলিভিশনে উপস্থাপনা দিয়ে ফেরেন। পুনরায় নাটক-সিনেমায় অভিনয় করেন।
সিডনিতে শাবনূর ও রবি চৌধুরী
নায়িকা গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে, পাশের আসনে বসে খালি গলায় গাইছেন গায়ক—ছুটির দিন শুক্রবারে এমন দৃশ্যই দেখা গেল। দুজনেই নব্বই দশকের জনপ্রিয় নায়িকা ও গায়ক। সিডনির রাস্তায় সেই গাড়ি চালাচ্ছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর, পাশে বসে গান শোনাচ্ছিলেন সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী। পেছনের আসনে শাবনূরের একমাত্র ছেলে আইজান নেহান। গাড়ি ছুটছে, গান চলছে, সঙ্গে জমেছে আড্ডাও। নব্বইয়ের দশকের এই দুই জনপ্রিয় তারকার বন্ধুত্ব যে এত বছর পরও আগের মতোই আছে, তাই দেখা গেল অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে।
সম্প্রতি স্টেজ শোতে গাইতে অস্ট্রেলিয়ায় গেছেন রবি চৌধুরী। তাঁর আসার খবর আগেই পেয়েছিলেন শাবনূর। তাই ঠিক করে রেখেছিলেন, সময় করে একসঙ্গে ঘুরবেন। শুক্রবার সেই পরিকল্পনা বাস্তবে রূপ নিল। সিডনির বিভিন্ন মনোরম জায়গা রবি চৌধুরীকে ঘুরিয়ে দেখালেন শাবনূর। আর গাড়িতে বসে বন্ধুকে গান শোনানোর দায়িত্বটা নিলেন রবি।
গাড়ি চলতে চলতে শাবনূরের অনুরোধে তাঁর খুব পছন্দের গান ‘যেভাবেই তুমি সকাল দেখো’ গেয়ে শোনান রবি চৌধুরী। পরে গাড়ি থেকে নেমে শাবনূরের অনুরোধে গেয়ে ওঠেন ‘ভালোবাসি তোমাকে’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন’। একসময় যে গান পর্দায় রিয়াজ–শাবনূরের ঠোঁটে দর্শকের মন জয় করেছিল, এত বছর পর সেই গানটি ফিরে এল পুরোনো দিনের স্মৃতি।
ঘোরাঘুরির ফাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয় শাবনূরের। উচ্ছ্বসিত শাবনূর বললেন, ‘অসাধারণ সময় কাটছে। অনেক দিন পর দেখা আমাদের। রবি ভাইয়ের সঙ্গে দারুণ মজা হচ্ছে। আমরা ঘুরছি, আমি গাড়ি চালাচ্ছি আর রবি ভাইয়ের কণ্ঠে গান—দারুণ, দারুণ।’
পরে শাবনূরের ফোনে কথা বলেন রবি চৌধুরী। দুজনের সম্পর্ক নিয়ে মানুষের নানা কৌতূহলের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মানুষজন তো কত কী ভাবে। অথচ আমরা ক্যারিয়ারের শুরুর সময় থেকেই বন্ধু। শাবনূর একজন অসাধারণ অভিনেত্রী, তাঁর সিনেমা যাঁরা দেখেছেন, তাঁরা জানেন। আর বন্ধুত্বের কারণে আমি দেখেছি, কী অসাধারণ একজন মানুষ শাবনূর।’
বন্ধুর প্রশংসা শুনে চুপ থাকেননি শাবনূরও। বললেন, ‘রবি ভাই ভালো মানুষ না হলে তো আমাদের এত বছরের বন্ধুত্ব টিকত না। বন্ধুত্বের এই সম্পর্কটা টিকে থাকুক সম্মান, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায়।’
শাবনূর ও রবি চৌধুরীর জন্মদিনও একই দিনে—১৭ ডিসেম্বর। এর আগে শাবনূর ঢাকায় এলে রবি চৌধুরীর বাসায় একসঙ্গে জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন তাঁরা। সময়ের সঙ্গে দুজনের জীবনের গতিপথ বদলেছে, বদলে গেছে ঠিকানাও; কিন্তু বন্ধুত্ব রয়ে গেছে আগের মতোই।
সামাজিক মাধ্যমে সিডনিতে কাটানো সময়ের ভিডিও প্রকাশ করে শাবনূর লিখেছেন, ‘সিডনিতে প্রিয় সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরীকে কাছে পেয়ে ফিরে গেলাম ‘ভালোবাসি তোমাকে’ চলচ্চিত্রের সেই মধুর স্মৃতিতে। ছবিটির জনপ্রিয় গান “অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম তোমার মন” যার মূল শিল্পী ছিলেন খালিদ হাসান মিলু ও কনকচাঁপা। প্রিয় রবি চৌধুরীর কণ্ঠে আজ সেই গানটির দুই লাইন শুনে নস্টালজিয়ায় ডুবে গেলাম। বাংলা আধুনিক গানের জনপ্রিয় এই শিল্পীর সঙ্গে সিডনিতে কাটানো সুন্দর মুহূর্তগুলো স্মরণীয় হয়ে থাকবে।’ ভালোবাসি তোমাকে ছবিটির পরিচালক মহম্মদ হান্নান আর গানটির গীতিকার ও সুরকার ছিলেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।