ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।এদিন দুপুর ২টার দিকে স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তবে বিমানবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন আগুন লাগার খবর অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সেখানে আগুন লাগেনি, বরং ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ধোঁয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।টনার কারণ এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর ভাটারায় পুলিশের একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত থেকে শুরু হওয়া এই অভিযান আজ মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত চলে।
ডিবি সূত্র বলছে, বাড়িটিতে ডিজে পার্টি চলতো এবং মাদকের আসর বসত। সেখান থেকে ৮৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যেই ২৬ জন নারী।ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) শফিকুল ইসলাম বলেছেন, ওই পুলিশ কর্মকর্তা বাড়িটি ভাড়া দিয়েছেন। সেখানে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও অবৈধ ডিজে পার্টি চলছিল। এজন্য সেখানে অভিযান চালানো হয়েছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাড়িটি অতিরিক্ত ডিআইজি আবদুল্লাহ আল জহিরের। তিনি পুলিশ সদর দপ্তরে ম্যান্টেনেইন্স অ্যান্ড রিপেয়ার শাখায় কর্মরত। তার বাড়িতে মাদকের কারবারের অভিযোগে ডিবির অভিযানের বিষয়ে জানতে তাকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
ধর্ম-বর্ণ, মত ও শ্রেণি-পেশার ভেদাভেদ ভুলে শান্তি, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। এ দেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় কাউকে পিছিয়ে রাখা যাবে না।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুর মহানগরের ধর্মসভা এলাকার রাধাগোবিন্দ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমী উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার সময় কোনো ধর্মের মানুষকে আলাদা করে দেখা হয়নি। সব ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানেও সব ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ ছিল।
হাজার বছর ধরে এ ভূখণ্ডে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। ভবিষ্যতেও এই সম্প্রীতি ও সহাবস্থান অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, “আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, তাহলে সব ধর্ম ও মতের মানুষকে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দেশটি আমাদের সবার। এই দেশকে গড়ে তুলতে হলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। দেশটিকে গড়ে তুলতে হলে আমাদের সব বিভ্রান্তি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।”
সরকারের দায়িত্ব ও উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার শুধু ভোট দেওয়া মানুষের জন্য নয়, যারা ভোট দেননি, তাদের জন্যও কাজ করতে চায়। নির্বাচনে কোনো এলাকায় বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, আবার কোনো এলাকায় হননি। তবে সরকার দল-মত নির্বিশেষে সব এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষম বণ্টনের মাধ্যমে সব এলাকায় সমানভাবে উন্নয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে। কোনো অঞ্চল যেন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট থাকবে।
রংপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে সম্প্রতি ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার মধ্যে সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ভেতরে ভেদাভেদ ভুলে থাকতে হবে। একসঙ্গে হাত ধরে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।”
দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, একটি মহল তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মুক্তিযুদ্ধ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদে তুলে ধরা উচিত। জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
দেশের মানুষ শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা চায় এবং সরকারও সেই লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে মহানবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, মানুষের স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।
তিনি বলেন, “আসুন, আমরা আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার জন্য একসঙ্গে কাজ করি। আমরা আমাদের সন্তানদের শিক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করি, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসুবিধা নিশ্চিত করি, কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করি। সর্বোপরি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য যেভাবে প্রয়োজন, আমরা সেভাবেই সবাই মিলে কাজ করি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান যারা আছি, এই বাংলাদেশ আমাদের। এই দেশকে সুন্দর করে আমরা সকলে মিলে পরিশ্রম করে গড়ে তুলব।”
অনুষ্ঠানে রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজারিরা প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। ছোট শিশুরা নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়। পরে মন্দিরের সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি ক্রেস্ট তুলে দেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করেন। পাশাপাশি মন্দিরের পেছনে হোস্টেলের মতো অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
এর আগে মঙ্গলবার বেলা ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাঁকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তাঁর প্রথম রংপুর সফর।
রংপুরের উদ্দেশে যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দুটি পথসভায় বক্তব্য দেন তিনি। সেখানেও সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
পথসভায় তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালু এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের কাজ ভালো হলেও তার হাতে অস্ত্র নেওয়া ঠিক হয়নি। একজন মন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তির হাতে অস্ত্র থাকা শোভন নয়।মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে ভোলার লালমোহন উপজেলা পরিষদ হলরুমে লালমোহন উপজেলা বিএনপি, পৌরসভা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের যৌথ আয়োজনে গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, যারা ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নেতাকর্মী, তারা নিজেদের সংশোধন করেন। ইতোমধ্যে দেখেছেন ঢাকায় একজন মহিলা এমপির নাম উঠে এসেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে হাসপাতাল দখলের, তাকে প্রধানমন্ত্রী তার পদ থেকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। গতকাল সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন তিনিও পদত্যাগ করেছেন।
স্পিকার বলেন, ইশরাক হোসেন কাজটা ভালোই করেছে, পুলিশের ওপর গুলিবর্ষণ করে একদল মাদকসেবী, তিনি তাদেরকে দমন করতে গিয়েছিলেন। তবে তার হাতে অস্ত্র নেওয়াটা ঠিক হয়নি, এটা মানায় না। সরকারের প্রতিমন্ত্রী, তার সাথে দেহরক্ষী আছে, পুলিশ বাহিনী যদি দুর্বল হয়- দলীয় কর্মীবাহিনী যেতে পারে। কিন্তু একজন নেতা মন্ত্রী পর্যায়ের তার হাতে অস্ত্র আইনি হোক বা বেআইনি হোক- এটা শোভা পায় না। যে কারণে প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তার কাজটা ভালো, তিনি দুর্বৃত্ত দমন করতে গিয়েছিলেন। সেজন্য সাধারণ মানুষ পরে কোনো এক সময় নিশ্চয়ই তাকে মূল্যায়ন করবে।বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এইযে দুই দুইটি উদাহরণ আপনাদের সামনে দেওয়া হলো, অতীতে কোনো রাজনৈতিক দল নিজের দলের নেতাকর্মীদের ওপর এমন কঠিন ব্যবস্থা নেয়নি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি ক্ষেত্রে আপসহীন রয়েছেন। যে কারণে অন্যায় অবিচারের প্রতি ব্যবস্থা নিতে সক্ষম হয়েছেন। আমরা আশা করবো দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের পর জনগণ একটা ভালো এবং তাদের নির্বাচিত সরকার পেয়েছে যাতে করে জনগণের কল্যাণ করা যায়। আপনারা এ ধরনের সরকার বা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবেন।
সংসদে নিজের নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপনারা দেখেছেন আমি নিরপেক্ষভাবে সংসদে কাজ করতে চেষ্টা করি। বিরোধীদলে যারা আছেন তারাও আজ পর্যন্ত আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেনি। আমি সবাইকে কথা বলার সমান সুযোগ দিয়েছি, সরকারি দলের মন্ত্রী কিংবা বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা যখন সরকারের সমালোচনা করে কারও কন্ঠ রোধ করার চেষ্টা কখনোই আমি করিনি। কারণ গণতন্ত্রে সরকারি দল থাকবে, বিরোধীদল থাকবে, সকলকে সমান সুযোগ দেওয়ার আমি চেষ্টা করেছি।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সিফাত বিন সাদিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবাল, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে দেশে ফেরার পথে আটক হওয়া ৩০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের টিজি-৩২১ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছান তারা।জানা যায়, এই ৩০ বাংলাদেশি কম্বোডিয়ার ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। তাদের মুক্ত করে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা নিতে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড থেকে ব্যাংককে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম শাখার প্রথম সচিবকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল।
বোর্ডের উপপরিচালক (আইআরপি) মোহাম্মদ জাকির হোসেনের সই করা সেই চিঠিতে অনির্বাণ সারভাইভার ভয়েস ফাউন্ডেশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আটক বাংলাদেশিদের মুক্তি ও দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।
এর আগে, গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরার উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনের বিমানবন্দরে গেলে ৩২ বাংলাদেশিকে আটক করে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। তাদের মধ্যে দুজন মুক্তি পেলেও দেশটির ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন বাকি ৩০ জন।আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দালাল চক্রের মাধ্যমে এসব বাংলাদেশিকে কম্বোডিয়ায় নেওয়া হয়েছিল। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের অনেককে জোর করে সাইবার স্ক্যামিং বা অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহার করা হতো। এসব কেন্দ্র থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
দেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে স্বাস্থ্য বাজেটের বড় একটি অংশ ক্যানসার চিকিৎসায় বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসার অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন ও তা দ্রুত চালু করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান দীর্ঘসূত্রিতা দূর করার পাশাপাশি এসব যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত 'জাতীয় ক্যান্সার সম্মেলন ২০২৬'-এর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। কনফারেন্সের মূল প্রতিপাদ্য ছিল-'সবার জন্য ক্যান্সার সেবা: প্রতিরোধ, নির্ভুল চিকিৎসা, উপশমমূলক পরিচর্যা ও নীতিনির্ধারণের সমন্বয়'।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, ক্যানসার রোগীদের ভোগান্তি কমাতে দেশের প্রতিটি ক্যানসার হাসপাতালে দ্রুততম সময়ের মধ্যে রেডিওথেরাপি মেশিন স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যেন রোগীদের চিকিৎসার জন্য আর বিদেশে পাড়ি দিতে না হয়। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এসব আধুনিক প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল ও টেকনোলজিস্ট রয়েছে। নতুন প্রযুক্তির সুফল রোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে এবং তাদের সর্বোচ্চ দক্ষতা নিশ্চিত করতে আগামী তিন মাসের বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ব্যবস্থা করা হবে।স্বাস্থ্য খাতে বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনার কঠোর সমালোচনা করে সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বিগত ১৭ বছরের অপশাসন ও চরম অব্যবস্থাপনা দেশের স্বাস্থ্য খাতকে অনেক পেছনে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য সেবায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাস্ত করবে না। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুত করাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মোস্তফা আজিজ সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফারহাদ হালিম ডালিম, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হানসহ বিশিষ্ট চিকিৎসক ও নীতি নির্ধারক বৃন্দ।
মোবাইল যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করতে যাচ্ছে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি)। আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশ থেকে ধাপে ধাপে বিদায় নিতে যাচ্ছে টু-জি নেটওয়ার্ক। অর্থাৎ নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে ২০২৯ সালের পর থেকে দেশে প্রচলিত টু-জি বাটন ফোন আর কাজ করবে না। এর ফলে দেশের নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকা প্রায় ৬ কোটি টু-জি হ্যান্ডসেট পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়বে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, গ্রামের যে মানুষটি বাটন ফোন ব্যবহার করেন তারা কীভাবে নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকবেন? স্মার্ট ফোনের দাম কি কমবে? কতটা কমবে? মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে কি স্মার্ট ফোনের দাম আনা সম্ভব?
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে মোবাইল অপারেটররা খুশি হলেও দেশীয় হ্যান্ডসেট প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠানগুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। অবৈধ সেটে কি আবারও বাজার সয়লাব হয়ে যাবে? এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে মোবাইল অপারেটরদের পরিচালন ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেকটা কমে আসবে। পাশাপাশি সস্তা ফোনের বাজার চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। দেশের সর্বস্তরের মানুষকে আধুনিক ডিজিটাল সংযোগ ও ফোর-জি প্রযুক্তির আওতায় আনতে বিটিআরসি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।
বিটিআরসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পর থেকে নতুন কোনো টু-জি বাটন ফোনের মডেলের অনুমোদন দেবে না বিটিআরসি। ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের পর থেকে বাংলাদেশে টু-জি মোবাইল ফোন সেট উৎপাদন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হবে। ২০২৭ সালের ৩০ জুনের পর থেকে বাজারে টু-জি ফিচার ফোন বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। গ্রাহক পর্যায়ে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে টু-জি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে ।
মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ভালো। কিন্তু একবারে যেভাবে বন্ধ করতে চাচ্ছে সেটাতে হিতে বিপরীত হতে পারে। এনইআইআরের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে সেটা হতে পারে। আমরা বলছি, ২০২৭ সালের মার্চের পর আপনি টুজি ফোন উৎপাদন বন্ধ করে দিলেন। এরপর যে দুই বছর থাকবে, সেখানে তো অবৈধ ফোন দিয়ে বাজার ভরে যাবে। ফলে বিটিআরসি যদি টার্গেট করে ২০২৭ সালের মধ্যে কতটুকু তারা অর্জন করবে, ২০২৮ সালের মধ্যে কতটুকু অর্জন করবে সেটা যদি ঠিকমতো চলে তাহলে তো বন্ধ করলে ক্ষতি নেই। মোবাইল অপারেটরদের এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে।
জানা গেছে, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষকে ফোর-জি প্রযুক্তির আওতায় আনতে সরকার ইতিমধ্যে মাত্র ৫ হাজার টাকায় সাশ্রয়ী স্মার্টফোন বাজারে আনার উদ্যোগ নিয়েছে। মোবাইল ফোন উৎপাদকরা বলছেন, টু-জি নেটওয়ার্ক বন্ধ হলে এই স্পেকট্রাম বা তরঙ্গ ফোর-জি ও ফাইভ-জি প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা সম্ভব? গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের মতো টেলিকম অপারেটরদের ডেটা নেটওয়ার্কের মান কি উন্নত হবে? সেগুলো আগে নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমানে দেশে উৎপাদিত মোট হ্যান্ডসেটের প্রায় ৬৫ শতাংশই টু-জি ফিচার ফোন, যা ৯৫০ টাকায় পাওয়া যায়। বিপরীতে সাশ্রয়ী ফোর-জি স্মার্টফোনের সর্বনিম্ন দাম প্রায় সাড়ে ৯ হাজার টাকা। টু-জি বন্ধ হলে দেশের নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।
তবে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেছেন, ২০২৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে টু-জি সেবা পুরোপুরি বন্ধ করার জন্য যেসব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা সুনির্দিষ্ট পরামর্শসহ সরকারের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠাবে বিটিআরসি। মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন যে দাবি করছে, সে বিষয়ে তিনি বলেন, একটি বাটন ফোনের লাইফটাইম আড়াই বছর। ফলে আড়াই বছর আগেই এটা বন্ধ করতে হবে। তা না হলে অনেকের হাতেই ২০২৯ সালের পরও বাটন ফোন থাকবে, সেগুলো তারা কী করবেন? বিটিআরসি সবদিক বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান বলেন, টু-জি থেকে ফোর-জি হলে আমরা স্পেকট্রাম এফিসিয়েন্সি অনেক বাড়াতে পারব। আর রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম বলেন, যত তাড়াতাড়ি টু-জি থেকে ফোর-জি করতে পারব, আমাদের জন্য তত ভালো হবে। নেটওয়ার্কটা আমরা মূলত ডেটা নেটওয়ার্কের জন্য সাজিয়েছি। ভয়েস নেটওয়ার্ক এখন ঐচ্ছিক পর্যায়ে চলে এসেছে।