সংগৃহীত ছবি
ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে এবারও নেই বাংলাদেশ। কবে দেশের লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বকাপ ফুটবলের মূল পর্বে উড়বে, সেই প্রশ্নের উত্তরও আজ অজানা। তবু বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন থেমে নেই।
কোটি ফুটবলপ্রেমীর বিশ্বাস, একদিন না একদিন বিশ্বকাপের মাঠেও জায়গা করে নেবে বাংলাদেশ। তবে সেই স্বপ্ন এখনো দূরের হলেও ২০২৬ বিশ্বকাপের আসরে একেবারেই ‘নেই’ নয় বাংলাদেশ। মাঠের খেলায় নয়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসরের সাংস্কৃতিক আয়োজনের মঞ্চে এবার উচ্চারিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নাম।
এই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন বাংলাদেশি–আমেরিকান সংগীতশিল্পী ও সংগীত প্রযোজক সঞ্জয় দেব। কানাডার টরন্টোয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর্বে তিনি মঞ্চে থাকবেন। তাঁর সঙ্গে থাকবেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একাধিক তারকা। সঞ্জয় দেবের এই উপস্থিতি অনেকের কাছেই বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের প্রতীক।
ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নাম ওঠার খবর আগে কখনো শোনা যায়নি। সেখানে এমন বড় পরিসরে কোনো বাংলাদেশি শিল্পীর পরিবেশনার খবর তো ছিলই না। সে কারণেই সঞ্জয়ের অংশগ্রহণকে বিশেষভাবে দেখছেন অনেকে।
বিশ্বকাপ ঘিরে তৈরি আলোচিত গান ‘সির সির’-এর কো-প্রডিউসার আর কো-রাইটার হিসেবেও রয়েছেন আরেক বাংলাদেশি গিটারিস্ট, সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সংগীত প্রযোজক রাসেল আলী। অর্থাৎ শুধু একজন নয়, একাধিক বাংলাদেশির নাম থাকছে এবারের বিশ্বকাপ আয়োজনে।
বিশ্বকাপের মঞ্চে ওঠার আগের রাতে, বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সঞ্জয় বলেন, ‘এমন মুহূর্ত জীবনে বারবার আসে না।
দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, পরিশ্রম ও স্বপ্নের পথ পেরিয়ে আমি এই অবস্থানে পৌঁছেছি। তাই অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনাও রয়েছে, যদিও সেটি আগেভাগে প্রকাশ করতে চাচ্ছি না।’ বিশ্বকাপের আয়োজনে তাঁকে দেখা যাচ্ছে টি-শার্ট বা জামায়। যেখানে বাংলাদেশের পতাকা বা লাল-সবুজের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। একটা টি-শার্টে লেখা ছিল বাংলাদেশ ১৯৭১। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি দিলে হ্যাশট্যাগে বাংলাদেশকে রাখছেন।
সঞ্জয়ের গল্পটাও অনেকটা স্বপ্নপূরণের গল্প। বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলে জন্ম হলেও তাঁর বেড়ে ওঠার একটি বড় সময় চট্টগ্রামে। পরে মাত্র ১০–১১ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান।
সিলিকন ভ্যালিতে অভিবাসী জীবনের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন তিনি। আজ আন্তর্জাতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের অর্জনের কৃতিত্ব দিতে চান মা–বাবাকেই। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বাবা–মা কঠোর পরিশ্রম করেছেন, নানা ধরনের কাজ করেছেন, অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে পরিবারকে এগিয়ে নিয়েছেন। সেই ত্যাগ ও পরিশ্রমই তাঁকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
সংগীতের প্রতি তাঁর ভালোবাসার শুরু পরিবার থেকেই। মা মিতা দেব গান গাইতেন, আর ছোটবেলায় মায়ের গানের সঙ্গে তবলা বাজাতেন সঞ্জয়। নানিও ছিলেন সংগীতপ্রেমী। তাঁদের কাছ থেকেই সংগীতের প্রতি ভালোবাসা জন্মেছে তাঁর।
সঞ্জয়ের বিশ্বাস, বাংলাদেশের সংগীত বিশ্বে দারুণভাবে জায়গা করে নিতে পারে। সেই সম্ভাবনা প্রবর। তাই তাঁর স্বপ্ন শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজ করা নয়, বরং বাংলা গান ও বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরা। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রেও কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগের দল জাফনা কিংসের অন্যতম মালিক ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার মনজ্যোৎ কালরা। অভিযোগ উঠেছে, ম্যাচ ছেড়ে দেওয়ার জন্য নিজের দলের একজন ক্রিকেটারকে টাকা দিতে গিয়েছিলেন তিনি। এই অভিযোগে শ্রীলঙ্কার জেলে বন্দি আছেন তিনি। এবার তার জামিনের আবেদনও খারিজ হয়ে গেছে।
কলম্বোর প্রধান ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জামিনের আবেদন করেছিলেন কালরা এবং তার সহকারী যুবরাজ পুষ্প। তাদের আইনজীবী জানিয়েছিলেন, দুজনেরই শরীর খারাপ। তাই মানবিক কারণে তাদের জামিন দেওয়া উচিত।
তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করে শ্রীলঙ্কা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল। শেষ পর্যন্ত পুলিশের দাবি মেনে নিয়ে দুজনকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন প্রধান ম্যাজিস্ট্রেট।
কালরার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের তিন ক্রিকেটার ভানুকা রাজাপক্ষ, আবিষ্কা ফের্নান্দো এবং দুনিথ ওয়েল্লালাগে। এ ছাড়া আরও দুজন ঘরোয়া ক্রিকেটারও কালরার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন।
২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। পৃথ্বী শ'র নেতৃত্বাধীন সেই দলে ওপেনার ছিলেন কালরা। তিনি পৃথ্বীর সঙ্গে ইনিংস শুরু করতেন। তিন নম্বরে ব্যাট করতেন শুভমান গিল। ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অপরাজিত ১০১ রান করে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন কালরা।
তবে পরবর্তী সময়ে ক্রিকেটে নিজের জায়গা ধরে রাখতে পারেননি কালরা। ক্রিকেটে ভবিষ্যৎ গড়তে না পেরে স্পোর্টস কমিউন নামের একটি সংস্থা তৈরি করেন তিনি। এই সংস্থাই ছিল জাফনা কিংসের অন্যতম মালিক।
তবে ম্যাচ গড়াপেটার সঙ্গে নাম জড়ানোর পর এই সংস্থার সঙ্গে সব চুক্তি বাতিল করে দিয়েছে লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ। সব মিলিয়ে ক্রমেই বাড়ছে কালরার সমস্যা।
জিনেদিন জিদান ফ্রান্সের নতুন কোচ
বিশ্বকাপ শেষে জিনেদিন জিদানের ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হওয়া নিয়ে যে গুঞ্জন চলছিল, তা-ই এবার সত্য হলো। সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সাবেক এই বিশ্বজয়ী তারকাকে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে ঘোষণা করেছে ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ)। ২৫ সেপ্টেম্বর নেশন্স লিগে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হতে পারে জিদানের ফ্রান্স অধ্যায়।
ফরাসি ফেডারেশনের সঙ্গে চার বছরের চুক্তিতে সই করেছেন জিদান। সেই অনুযায়ী ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত এমবাপ্পে-গ্রিজম্যানদের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন এই কিংবদন্তি। দীর্ঘ দিন ধরে কোনো ক্লাবের কোচিংয়ে ছিলেন না জিদান।
সবশেষ ২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদের ডাগআউটে কাজ করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর আবারও ডাগআউটে প্রত্যাবর্তন ঘটল এই ফরাসি ফরোয়ার্ডের।
দায়িত্ব নেওয়ার পর ৫৪ বছর বয়সী জিদান বলেছেন, ‘আমি অনেকবারই বলেছি, ফ্রান্স জাতীয় দলের চেয়ে বড় আর কিছু নেই। তাই জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়াটা আনন্দের পাশাপাশি অনেক বড় একটা গর্বের ব্যাপার। একই সঙ্গে এটা অনেক বড় দায়িত্ব। আমি ফ্রান্সের ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট, নির্বাহী কমিটি ও ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনকে ধন্যবাদ দিতে চাই। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, জাতীয় দলের হয়ে আমার অনেক উচ্চাকাঙ্খা আছে।’
খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৯৮ সালে ফ্রান্সকে প্রথম বিশ্বকাপ জেতানোর পাশাপাশি কোচিং ক্যারিয়ারেও গড়েছেন ইতিহাস। ২০১৬ থেকে ২০১৮, টানা তিন মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতিয়েছেন।
এছাড়া দুই মেয়াদে রিয়ালের হয়ে দুটি করে লা লিগা, উয়েফা সুপার কাপ, ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ ও স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা জেতেন তিনি। জিদানের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটল দীর্ঘ ১৪ বছরের দিদিয়ের দেশম যুগের। তার হাত ধরেই ২০১৮ বিশ্বকাপ, ইউরো এবং উয়েফা নেশন্স লিগ জেতে ফরাসিরা।
সদ্য সমাপ্ত ২০২৬ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ ব্যবধানে হেরে চতুর্থ হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করে তারা।
জিদানের সামনে এখন হাতছানি দিচ্ছে ইতিহাস গড়ার অনন্য এক সুযোগ। বিশ্বের চতুর্থ ব্যক্তি হিসেবে খেলোয়াড় ও কোচ, দুই ভূমিকাতেই বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড গড়ার প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।
ফুটবল ইতিহাসে এখন পর্যন্ত এই দুর্লভ কীর্তি গড়েছেন কেবল ব্রাজিলের মারিও জাগালো, জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার এবং ফ্রান্সেরই বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশম।
ছবি : সংগৃহীত
২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজন নিয়ে ওঠা বিভিন্ন সমালোচনার জবাব দিয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। টুর্নামেন্টজুড়ে নিরাপত্তা, ভিসা জটিলতা, শৃঙ্খলাবিষয়ক সিদ্ধান্ত ও টিকিটের মূল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তিনি দাবি করেছেন, বিশ্বকাপ ছিল নিরাপদ এবং সফল। সমালোচকদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বলেন, টুর্নামেন্টে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
৪৮ দলের অংশগ্রহণে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপ আয়োজন করে ফিফা। তবে টুর্নামেন্ট চলাকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফোনকলের পর ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত, ইরান দলের ভ্রমণ জটিলতা, সোমালিয়ার রেফারি ওমর আব্দুলকাদির আর্তানের ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে সমালোচনা হয়।
এসব অভিযোগের জবাবে ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে ইনফান্তিনো লেখেন, ‘যারা ফুটবলের মাধ্যমে শিশু, বাবা-মা ও দাদা-দাদিদের একসঙ্গে হওয়ার এই সুন্দর মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে পারেননি, তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়। সমালোচনা ও ঘৃণায় এতটাই ডুবে ছিলেন যে এই সৌন্দর্য দেখতে পাননি।’
সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি আরও লেখেন, ‘আপনারা যখন পর্দার আড়ালে বসে ঘৃণা ও মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছিলেন, তখন আমরা মাঠে ছিলাম। আমরা কঠোর পরিশ্রম করেছি এবং বিশ্বের সেরা বিশ্বকাপ আয়োজন করেছি।’
ইনফান্তিনোর দাবি, ফিফার কর্মকর্তারা কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সমর্থকদের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন। ‘আপনারা যেখানে বিভাজনের কথা বলেছেন, আমরা সেখানে মানুষকে এক করেছি। পরিবার, সমর্থক এবং বিভিন্ন দেশের মানুষ একসঙ্গে এই উৎসব উদযাপন করেছে।’
ইরান দলের ভ্রমণ ও ভিসা জটিলতা নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ফিফা সভাপতি। তার দাবি, ইরান কোনো ধরনের সংঘাত বা বড় সমস্যা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিসা না পাওয়ায় ইরানের কোচিং স্টাফের কয়েকজন সদস্য বিশ্বকাপে যেতে পারেননি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিধিনিষেধের কারণে দলটি মেক্সিকোকে অনুশীলন ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে এবং শুধু ম্যাচের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পায়। ইনফান্তিনোর ভাষ্য, কয়েকজনের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অনুমোদন পাওয়া লাখো দর্শনার্থীর তুলনায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা।
ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েও কথা বলেন ইনফান্তিনো। তার মতে, বিতর্কিত রেফারিং সিদ্ধান্ত বা শৃঙ্খলাবিষয়ক রায় পর্যালোচনা করা বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ লিগে অস্বাভাবিক কিছু নয়। তিনি লেখেন, ‘বিতর্কিত হলুদ বা লাল কার্ড, কিংবা পরে শাস্তি পুনর্বিবেচনার মতো ঘটনা বিশ্বের অনেক বড় লিগেই নিয়মিত ঘটে। তাই এ বিষয় নিয়ে এত সমালোচনা করা বিস্ময়কর।’
পোস্টের শেষ দিকে ইনফান্তিনো বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ফিফা আরও বেশি স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য। একই সঙ্গে সমালোচকদের প্রতি ঘৃণা নয়, ভালোবাসা ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো
ফুটবল ক্যারিয়ারে সাফল্যের কমতি নেই। এবার অভিনয় জগতে পা রাখছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তবে সেখানেও বিষয় ফুটবল।
এক ফুটবল এজেন্টের জীবন নিয়ে নতুন ওয়েব সিরিজ আসতে চলেছে। তার কার্যনির্বাহী প্রযোজক হিসেবে নাম থাকছে পর্তুগীজ সুপারস্টার রোনালদোর। সেইসঙ্গে বিশেষ অতিথি চরিত্রেও অভিনয় করবেন আল নাসরের এই তারকা ফুটবলার। তার পাশাপাশি এই ওয়েব সিরিজে থাকবেন ফ্রান্সের সাবেক কিংবদন্তি ফুটবলার থিয়েরি অঁরিও। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন।
জানা গেছে, ওয়েব সিরিজটির নাম ‘ডে ওয়ানস’। আধুনিক ফুটবল দুনিয়ার আভ্যন্তরীণ কাহিনি তুলে ধরা হবে এখানে।
একজন ফুটবলার, এজেন্ট, বাজারের চাহিদা ও বিভিন্ন ক্লাবের অন্দরমহলের গল্প দিয়ে সাজানো হবে ওয়েব সিরিজটি। যেখানে এক এজেন্টের চরিত্রে অভিনয় করবেন ‘হোমল্যান্ড’ খ্যাত ডামিয়ান লুইস। ইতিমধ্যে উত্তর-পশ্চিম লন্ডনের বার্নেট এফসির স্টেডিয়াম ‘দ্য হাইভ’-এ সিরিজটির শুটিং শুরু হয়েছে।
রোনালদো নিজেও এই সিরিজটি নিয়ে যথেষ্ট উৎসাহী। আল নাসর তারকা বলছেন, ‘এটা আমার জীবনের নতুন এক অধ্যায় হতে চলেছে। ফুটবলের পাশাপাশি বিনোদন জগতেও নতুন কিছু করার সুযোগ পেয়ে আমি খুব খুশি।’
এই সিরিজে রোনালদোর সঙ্গে সহ-প্রযোজক হিসেবে থাকছেন হলিউড পরিচালক ম্যাথু ভনের প্রতিষ্ঠিত ইউআর-মার্ভ স্টুডিওস। যারা ‘কিংসম্যান’-এর মতো সিনেমা প্রযোজনা করেছেন। এই ওয়েব সিরিজে থাকছেন রোনালদোর একসময়ের প্রতিদ্বন্দ্বী থিয়েরি অঁরি। যেহেতু রোনালদো আর অঁরি আছেন, তাই সিরিজটির সম্প্রচারস্বত্ব পেতে বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।
এর আগে আলোচনায় উঠে এসেছিল, রোনালেদোকে ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’ সিরিজে দেখা যেতে পারে। ভিন ডিজেলের একটি ছবিকে কেন্দ্র করে যার আলোচনার শুরু। সেটা নিয়ে অবশ্য এখনও কোন সবুজ সংকেত আসেনি।
তবে এর মধ্যে নতুন অভিযান শুরু করে দিলেন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা।
নেইমার
বিশ্বকাপে ব্যর্থ অভিযান শেষে সান্তোসের হয়ে মাঠে ফিরেছেন নেইমার, করেছেন জোড়া গোলও। কিন্তু ভক্ত-সমর্থকদের তিনি উচ্ছ্বসিত রাখতে পারলেন অল্প কিছুক্ষণই। ড্রেসিংরুমে সতীর্থের সঙ্গে বিতর্কের খবর, অনুশীলন মাঠে গিয়ে কিছু না করেই কাউকে না জানিয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া, পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন—কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় ব্রাজিলিয়ান তারকা।
শনিবার রাতে শাপেকোয়েন্সের সঙ্গে ২-২ ড্র ম্যাচের পরদিনই অনুশীলন ছিল সান্তোসের। রোববার পেলে ট্রেনিং সেন্টারে উপস্থিতও হন নেইমার। ছবি তোলেন, কফি পানও করেন। তবে মূল দলের অনুশীলন শুরুর আগেই বেরিয়ে যান। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যম বলছে, কোচিং স্টাফের অনুমতি ছাড়াই নেইমার অনুশীলন মাঠ ছেড়েছেন।
অনুশীলন না করার এ ঘটনা ঘটে শাপেকোয়েন্স ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে হওয়া আরেকটি বিতর্কের রেশ কাটার আগেই। ও’গ্লোবোর প্রতিবেদন বলছে, নেইমার সান্তোসের মিডফিল্ডার গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো ও ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসকে তিরস্কার করতে গিয়ে অসম্মানজনক ভাষা ব্যবহার করেছেন।
বন্তেম্পোকে ‘বাজে লোক’ গালি দেওয়ার পাশাপাশি পরের মৌসুমে তাঁকে শাপেকোয়েন্সের বিপক্ষে আবার খেলতে হবে বলে বিদ্রূপ করেন নেইমার। শাপেকোয়েন্স এখন ব্রাজিলের শীর্ষ লিগে ২০ দলের মধ্যে সবার শেষে অবস্থান করছে। আগামী মৌসুমে দলটি নিচের লিগে নেমে যাওয়ার পথে। এ ছাড়া ম্যাচের ৬২ মিনিটে আত্মঘাতী গোল করা ডিফেন্ডার জোয়াও আনানিয়াসের সামর্থ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নেইমার। এ নিয়ে তর্কাতর্কিও হয় দুজনের মধ্যে।
ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম বলছে, ড্রেসিংরুমের ঘটনার পর পুরো পরিস্থিতি বুঝতে ক্লাবের কয়েকজন পরিচালক রোববার ট্রেনিং সেন্টারে যান। তবে নেইমারই সেখানে অল্প কিছুক্ষণের বেশি ছিলেন না।
অবশ্য তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন নেইমার। ৩৪ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড ইনস্টাগ্রামে নিজের অবস্থান তুলে ধরে লিখেছেন, ‘বন্ধুরা, এটি আমাদের প্রত্যাশিত দিন ছিল না। তবে আমাদের মাথা উঁচু রাখতে হবে এবং কাজ চালিয়ে যেতে হবে। ড্রেসিংরুমে আমি নাকি তরুণ খেলোয়াড়দের ধমক দিয়েছি! এমন কিছু খবর দেখছি, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
আরেকটি ভিডিওতে নেইমার বলেন, ‘যিনি এসব কথা ছড়িয়েছেন, তাঁকে বলছি, দয়া করে এমন করবেন না। মিথ্যা বলবেন না। চাইলে যাকে খুশি জিজ্ঞেস করতে পারেন। আমরা পুরো দলকে নিয়েই কথা বলেছি। আমি, লুকাস (ভেরিসিমো), আরাও, গাবি, ব্রাজাও—আমরা সবাই একসঙ্গে আলোচনা করেছি। নিজেদের কাছ থেকেই আরও বেশি কিছু দাবি করেছি। কারণ, আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা পছন্দ করি, আমরা জিততে চাই, সফল হতে চাই। কিন্তু তরুণ খেলোয়াড়দের আলাদা করে ধমক দেওয়া বা তাদের ওপর চড়াও হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। এসব মিথ্যা আমি মেনে নেব না।’
সান্তোসে নেইমারের সঙ্গে সতীর্থদের সম্পর্ক নিয়ে এটি নতুন কোনো বিতর্ক নয়। ক্লাবের ভেতরের সূত্রগুলোর দাবি, ড্রেসিংরুমের পাশাপাশি নেইমারের মাঠের কিছু আচরণও তাঁর সতীর্থদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো আক্রমণ সফল না হলে বা কোনো খেলায় ভুল হলে নেইমার প্রকাশ্যেই বারবার সতীর্থদের সমালোচনা করেন। এতে দলের কিছু খেলোয়াড়ের মনে চাপ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, ভুল হলে নেইমার সমর্থকদের সামনেই তা তুলে ধরবেন।
তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে নেইমারের বিরোধের আরেকটি আলোচিত ঘটনা ঘটে এ বছরের জানুয়ারিতে রবসন জুনিয়রকে ঘিরে। অনুশীলনের সময় রবসন তাঁকে কাটিয়ে যাওয়ার পর নিজেকে অসম্মানিত মনে করে নেইমার তাঁকে চড় মারেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রবসন বিষয়টি নিয়ে ক্লাবের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানান। এ ঘটনার পর নেইমার প্রকাশ্যে সতীর্থের কাছে ক্ষমাও চান।
লিওনেল মেসি
উত্তর আমেরিকার ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণ এমএলএস অল-স্টার ম্যাচকে ঘিরে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। আগামী ২৯ জুলাই উত্তর ক্যারোলাইনার শার্লটের ব্যাংক অব আমেরিকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকান লিগ লিগা এমএক্স-এর অল-স্টার দলের মুখোমুখি হবে মেজর লিগ সকার (এমএলএস) অল-স্টার দল।
তবে এবারের ম্যাচে থাকছেন না ইন্টার মায়ামির তারকা লিওনেল মেসি।
বিশ্বকাপের দীর্ঘ ও ধকলপূর্ণ মৌসুমের পর ফুটবলারদের পর্যাপ্ত বিশ্রামের নীতিমালার আওতায় মেসি ও তার আর্জেন্টাইন সতীর্থ রদ্রিগো ডি পলকে অল-স্টার ম্যাচের দল থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
মেসি ও ডি পলের অনুপস্থিতিতে এবং ইনজুরি ও ক্লাব পরিবর্তনের কারণে বাদ পড়া খেলোয়াড়দের জায়গায় অল-স্টার স্কোয়াডে ৪ জন নতুন ফুটবলারকে অন্তর্ভুক্ত করেছে এমএলএস কর্তৃপক্ষ। দলে নতুন ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে হিউস্টন ডায়নামোর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড গুইলহার্মে নিজের অভিষেক মৌসুমে আটটি গোল ও পাঁচটি অ্যাসিস্ট করে সবার নজর কেড়েছেন।
এছাড়া শিকাগো ফায়ারের ফিলিপ জিঙ্কারনাগেল চলতি মৌসুমে পাঁচটি গোল ও সাতটি অ্যাসিস্ট করে দলে জায়গা করে নিয়েছেন। ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের আন্দ্রেস কুবাসও মাঝমাঠে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে এই অল-স্টার দলে ডাক পেয়েছেন।
মেসি ও ডি পল ছাড়াও স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন আরও দুজন ফুটবলার। মেক্সিকান ক্লাব সিএফ মনতেরেতে যোগ দেওয়ায় দলে নেই হুগো কুইপার্স। আর শরীরের নিচের অংশের চোটের কারণে খেলতে পারবেন না তরুণ ডিফেন্ডার এমবেকেজেলি এমবোকাজি।
এমএলএস অল-স্টার ম্যাচের চূড়ান্ত স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: ম্যাক্সিম ক্রাপো, ম্যাট ফ্রিজ, ব্রায়ান শোয়াক
ডিফেন্ডার: ম্যাক্স আরফস্টেন, লুকাস হেরিংটন, রিচি লারিয়া, অ্যান্থনি মারকানিচ, স্টিভেন মোরেইরা, ড্যানিয়েল মুনি, অ্যান্ডি নাজার, জ্যাকসন রেগান, টিম রিম.
মিডফিল্ডার: সেবাস্টিয়ান বারহাল্টার, পেপ বিয়েল, ইয়ানিক ব্রাইট, আন্দ্রেস কুবাস, এভান্দার, কার্লেস গিল, জেভিয়ার গোজো, হানি মুখতার, থমাস মুলার, অ্যাশলে ওয়েস্টউ।
ফরোওয়ার্ড: অ্যান্ডার্স ড্রেয়ার, গুইলহার্মে, জুলিয়ান হল, সন হিউং-মিন, পিটার মুসা, স্যাম সুরিডজ, ফিলিপ জিঙ্কারনাগেল।