পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফাত। ছবি: সংগৃহীত
পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিস সরাফাতসহ চারজনের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬১৩ কোটি টাকার মানি লন্ডারিং মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত বৃহস্পতিবার রাজধনীর গুলশান থানায় মামলাটি করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। মামলার অন্য আসামিরা হলেন চৌধুরী নাফিস সরাফাতের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদ, তাদের ছেলে রাহীব সাফওয়ান সরাফাত চৌধুরী ও সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমাম।
গতকাল শুক্রবার সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, চৌধুরী নাফিস সরাফাত তার সহযোগী ড. হাসান তাহের ইমামকে সঙ্গে নিয়ে ২০০৮ সালে রেইস ম্যানেজমেন্ট নামে একটি সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির লাইসেন্স গ্রহণ করে মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে অবৈধ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছিলেন। পরে স্ত্রী ও সহযোগী কাহের ইমামকে নিয়ে ফান্ডের অর্থ বিনিয়োগ করে তৎকালীন ফারমার্স ব্যাংকের (বর্তমানে পদ্মা ব্যাংক) শেয়ার কেনেন এবং পরে ব্যাংকটির পর্ষদের পরিচালক পদ লাভ করেন। এমনকি কৌশলে চৌধুরী নাফিস সরাফাত তার স্ত্রীকে সাউথইস্ট ব্যাংকেরও পরিচালক করেন। এরপর অভিযুক্তরা চতুরতার সঙ্গে ফান্ডের টাকায় মাল্টি সিকিউরিটিজ নামে একটি ব্রোকার হাউজ করে তার ট্রেড লাইসেন্সের মাধ্যমে প্রতারণা করে ফান্ডের অর্থ হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া চৌধুরী নাফিস সরাফাত পদ্মা ব্যাংকের টাকা দিয়ে পদ্মা ব্যাংক সিকিউরিটিজসহ তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে স্ট্র্যাটেজিক ইক্যুইটি নামে ফান্ড কেনেন বা বিনিয়োগ করেন, যার অধীন একাধিক ফান্ড রয়েছে।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, জাল-জালিয়াতির ব্যাপ্তি এতই বিস্তিৃত ছিল যে, হিসাব বিও ও অন্যান্য ব্যাংক হিসাব খোলা ও পরিচালনাসহ রাজউক থেকে একাধিক প্লট হাতিয়ে নিয়ে বিভিন্ন নামীয় প্রতিষ্ঠান/বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে বিদেশে অর্থ পাচারের পথ সুগম করেছিলেন অভিযুক্তরা।
অনুসন্ধানকালে চৌধুরী নাফিস সরাফাত, তার স্ত্রী ও ছেলে এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নামে তফসিলি ব্যাংকগুলোতে ৭৮টি হিসাব পরিচালিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। ওই হিসাবগুলোতে ১ হাজার ৮০৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জমা এবং প্রায় ১ হাজার ৮০৫ কোটি ৫৮ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানকালে সিআইডি আরও জানতে পেরেছে, চৌধুরী নাফিস সরাফাত ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন কানাডা ও ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডে নিবন্ধিত কোম্পানি এবং আঞ্জুমান আরা শাহীদের নামে সিঙ্গাপুরের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ১৫টি যৌথ হিসাব রয়েছে। সেখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ টাকা জমা রয়েছে। এ ছাড়া রাহীব সাফওয়ান সরাফাত চৌধুরীর নামে বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকের হিসাবে ৭৬টি হিসাব পরিচালনা করার তথ্য পাওয়া যায়। চৌধুরী নাফিস সরাফাতের সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে তিন রুমের একটি ফ্ল্যাট ও পাঁচ রুমের একটি ভিলা রয়েছে বলেও তথ্য পেয়েছে সিআইডি।
বাজেট ২০২৬-২৭
হৃদ্রোগের চিকিৎসা খরচ কমতে পারে। যেমন হার্টের রিংয়ের জোগানদার পর্যায়ে ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে প্রতিটি রিংয়ে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমতে পারে বলে অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় ঘোষণা দিয়েছেন।
কিডনির সমস্যা নিয়ে অনেকেই ভোগেন। এ জন্য কিডনির সমস্যাজনিত রোগীদের ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম কর তুলে দেওয়া হয়েছে। এতে ফিল্টারের দাম কমবে। এতে ডায়ালাইসিস বাবদ প্রত্যেক রোগীর খরচ ৮০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী।
এ ছাড়া কিডনি রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হেমোডায়ালাইসিসের ব্লাড টিউবিং সেট আমদানিতে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাটের আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে।
নানা ধরনের মসলা
কোরবানির ঈদের আর বাকি দুই দিন। এই সময়ে কোরবানির পশু কেনায় ব্যস্ত সময় পার করছেন অনেকে।
অন্যদিকে মসলার বাজারেও ক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। বিভিন্ন ধরনের মসলা পণ্যের মধ্যে বর্তমানে ছোট এলাচ, আদা, লবঙ্গ, দারুচিনি, বাদাম, দেশি পেঁয়াজ, শুকনা মরিচের দাম বাড়তি রয়েছে।
মসলার পাশাপাশি বাজারে আগের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মুরগির ডিম, বিভিন্ন ধরনের মাছ, খাসির মাংস, শসা ও টমেটো। চিনিগুঁড়া বা পোলাও চালের দাম আগে থেকেই বাড়তি। তবে সেমাই, নুডলসের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার, আগারগাঁও তালতলা বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
মসলার আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের পাশাপাশি ভারত, চীন, ইরান, তুরস্ক, আফগানিস্তান, সিরিয়া, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল থেকে বেশির ভাগ মসলা আমদানি হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধের কারণে মসলা আমদানির সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে।
পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দামও কমবেশি বেড়েছে। এসব কারণে বর্তমানে দেশে আমদানি করা বিভিন্ন মসলার দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে। মসলার বাজারে সবচেয়ে দামি পণ্য ছোট এলাচ। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ছোট এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০০ থেকে ৫ হাজার ৫০০ টাকায়।
গত এক মাসের মধ্যে এলাচের দাম সেভাবে বাড়েনি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার এলাচের দাম কেজিতে ৪০০-৬০০ টাকা বেশি রয়েছে।
বাজারে পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫-৫৫ টাকায়। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুসারে, গত এক মাসের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে।
যদিও গত বছরের এই সময়ের তুলনায় এখন পেঁয়াজের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ কম। টিসিবির হিসাবের চেয়ে কিছুটা বেশি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বর্তমানে প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকায়। গত এক মাসের মধ্যে পণ্যটির দাম ৮ শতাংশ বেড়েছে। দেড় মাসের মধ্যে শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ১০০ টাকার ওপরে বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি শুকনা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০-৪৬০ টাকায়। এ ছাড়া লবঙ্গের দাম কেজিতে ৫০-১০০ টাকা বেড়েছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে বড় প্রভাব পড়েছে আলু বোখারা ও পেস্তাবাদামের দামে। পণ্য দুটির বেশির ভাগ আমদানি হয় ইরান থেকে। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি কেজি আলু বোখারার দাম ছিল ৫০০ টাকার আশপাশে। বর্তমানে এই দাম বেড়ে ১ হাজার ২৫০ টাকা হয়েছে।
অন্যদিকে পেস্তাবাদামের দাম কেজিতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার টাকা হয়েছে। এ ছাড়া কাঠবাদামের দামও কেজিতে ১০০ টাকার মতো বেড়েছে।
অন্যান্য মসলার মধ্যে জিরা ৫০০-৬০০ টাকা, কিশমিশ ৭৫০-৮৫০ টাকা, তেজপাতা ১৪০-২০০ টাকা, দারুচিনি ৪৫০-৫২০ টাকা, জয়ফল ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, জয়ত্রী ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ২০০ টকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছরের তুলনায় জিরা, রসুন, ধনে ও তেজপাতার দাম কম রয়েছে।
ঈদের আগে মসলা বেচাকেনা কেমন হচ্ছে জানতে চাইলে রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বিক্রেতা আবদুল হালিম বলেন, ঈদের পাঁচ-ছয় দিন আগে থেকে মসলার বিক্রি বেড়েছে। মোটামুটি ভালো বেচাকেনা চলছে। তবে বাজারে কোরবানির গরু বেচাকেনা বেশি হলে মসলার চাহিদাও বাড়তে থাকে।
সেমাই, চিনির দাম স্থিতিশীল
ঈদের সময় বাসাবাড়িতে কমবেশি সেমাই, পায়েস, পোলাও রান্না হয়। এসব পণ্যের মধ্যে সেমাই, চিনি, দুধের দাম গতকাল পর্যন্ত মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২০০ গ্রাম ওজনের মোড়কজাত সেমাই বিক্রি হয়। প্রতি প্যাকেটের দাম ৪৫-৫০ টাকা। একই পরিমাণ খোলা সেমাই ৩০-৩৫ টাকায় কেনা যায়।
বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি ১০০ টাকা ও মোড়কজাত চিনি ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি গুঁড়া দুধ বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৯০০ টাকায়।
চলতি বছরের শুরু থেকে চিনিগুঁড়া বা পোলাও চালের দাম ঊর্ধ্বমুখী ছিল। দফায় দফায় দাম বাড়তে বাড়তে তা কেজিপ্রতি ১৪০-১৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকে। বর্তমানেও এ দামে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের চিনিগুঁড়া চাল বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য অন্যান্য চালের দাম মোটামুটি স্থিতিশীল।
ডিম, মাছ, টমেটো, মরিচের দাম বাড়তি
কোরবানির ঈদের সময় সাধারণত ব্রয়লার মুরগি, মুরগির ডিম ও মাছের চাহিদা কমে যায়। তবে চাহিদা কম থাকলেও সরবরাহ ঘাটতি থাকায় এসব পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে। বর্তমানে ফার্মের মুরগির প্রতি ডজন ডিম ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
গত সপ্তাহে এ দাম আরও ১০ টাকা বেশি ছিল। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকা কেজি দরে। গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও বাড়ছে। যেমন গতকাল সোমবার রাজধানীতে ২ কেজি আকারের রুই মাছ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
এক সপ্তাহ আগে এই আকারের রুইয়ের কেজি ছিল ৩৬০-৩৭০ টাকা। এভাবে অন্যান্য মাছের দামও ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এ ছাড়া গরুর মাংসের দাম স্থিতিশীল থাকলেও খাসির মাংসের দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে।
বাজারে বিভিন্ন সবজির দাম অবশ্য কমতির দিকে। গতকাল বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হয়েছে ৪০-৬০ টাকার মধ্যে।
তবে শসা, গাজর, কাঁচা মরিচ ও টমেটোর দাম কিছুটা বেড়েছে। এর মধ্যে মরিচের দাম কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে ৮০-১০০ টাকা হয়েছে। প্রতি কেজি শসা বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। টমেটো বিক্রি হয় ১০০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ৮০ টাকা ছিল।
মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সবজি বিক্রেতা আল-নাহিয়ান বলেন, ঈদের সময় সবজির চাহিদা কিছুটা কম থাকে। তবে এ সময় সালাদের জন্য শসা, গাজর, কাঁচা মরিচ ও টমেটোর চাহিদা বাড়ে। তাই এসব পণ্যের দাম কিছুটা বাড়তি রয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
শহুরে ব্যস্ত জীবনে ঈদুল আজহায় নাকাল হতে হয় উপযুক্ত কসাইয়ের খোঁজ করতে গিয়ে। এ ছাড়া বর্জ্য অপসারণ কিংবা মাংসের সঠিক বণ্টন নিয়েও থাকে দুশ্চিন্তা। বিশেষ করে প্রবাসী পরিবার, চাকরিজীবী কিংবা প্রবীণদের জন্য ঈদের দিন এই পুরো প্রক্রিয়া বেশ বড় ঝক্কির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় সমস্যাটির একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও স্বস্তিদায়ক সমাধান নিয়ে এসেছে দেশীয় বেশ কিছু অ্যাগ্রোভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। জেনে নিন বিস্তারিত।
১. বেঙ্গল মিট
কোরবানি বিষয়ক সেবায় দেশের অন্যতম শীর্ষ ও অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠান বেঙ্গল মিট। তাদের আছে নিজস্ব অনলাইন পোর্টাল। পছন্দের গবাদিপশু অর্ডার করতে ভিজিট করতে পারেন qurbani.bengalmeat.com–এ।
প্রতিটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বা তার নিচের দামের গরুর ক্ষেত্রে—
১ লাখ ৪০ হাজারের বেশি ও ১ লাখ ৮০ হাজার দামের গরুর ক্ষেত্রে—
১ লাখ ৮০ হাজার টাকা বা তার বেশি দামের গরুর ক্ষেত্রে—
ছাগলের ক্ষেত্রে—
২. ছায়াবিথী অ্যাগ্রো লিমিটেড
কেরানীগঞ্জ আঁটিবাজারের চন্ডিপুর গ্রামে অবস্থিত ছায়াবিথী অ্যাগ্রো লিমিটেডের মালিক আরিফ ইরফানুল হক বলেন, ‘প্রবাসী, ব্যস্ত চাকরিজীবী এবং যাঁরা শরিক বা ভাগীদার খোঁজার ঝামেলা এড়াতে চান, তাঁদের সম্পূর্ণ সেবা দিচ্ছে ছায়াবিথী অ্যাগ্রো। কোরবানি থেকে শুরু করে শরিয়াহসম্মত বণ্টন ও কোল্ড চেইন লজিস্টিক সাপোর্ট ব্যবহার করে মাংস ঘরে পৌঁছে দিই আমরা ঘরে ঘরে।’
গরুর ক্ষেত্রে প্রতি ৭ ভাগ অংশীদারের ১ ভাগ মূল্যের একেকটি প্যাকেজের মূল্য যথাক্রমে—
ওজন অনুযায়ী প্রতিটি ছাগলের মূল্য যথাক্রমে—
প্রতি প্যাকেজ মূল্যের বাইরে সার্ভিস চার্জ হিসেবে দিতে হবে ১ হাজার টাকা। আর একাই একটি গরু কিনে কোরবানি দেওয়ার বেলায় সার্ভিস চার্জ পড়বে গরুর দামের শতকরা ১৫ টাকা।
৩. মুন্না ক্যাটেল ফার্ম
নিজস্ব খামারে লালিত গরুর মাধ্যমে ওজনের ওপর ভিত্তি করে ৩টি ক্যাটাগরির টেবিল মিট প্যাকেজ রেখেছে মুন্না ক্যাটেল ফার্ম। প্রতি ৭ ভাগ অংশীদারের ১ ভাগের মূল্যই হচ্ছে একেকটি প্যাকেজের মূল্য।
প্রথম প্যাকেজ: সাড়ে ১৫ হাজার টাকা (মাংসের পরিমাণ ১৫–১৭ কেজি)
দ্বিতীয় প্যাকেজ: সাড়ে ২০ হাজার টাকা (মাংসের পরিমাণ ২০–২২ কেজি)
তৃতীয় প্যাকেজ: সাড়ে ২৫ হাজার টাকা (মাংসের পরিমাণ ২৫–২৮ কেজি)
আছে ফ্রি হোম ডেলিভারির সুবিধা। মুন্না ক্যাটেল ফার্মের স্বত্বাধিকারী মঞ্জুরুল আলম জানান, তাঁদের কাছ থেকে শরিকের বাইরে একা কোরবানির জন্য গরু কিনলে কসাইয়ের মাধ্যমে মাংস প্রস্তুত করে নেওয়ার জন্য হাজারে ১০০ টাকা খরচ পড়বে। আর সরাসরি বাসায় গিয়ে মাংস প্রস্তুত করে দেওয়ার জন্য খরচ পড়বে হাজারে ১৫০ টাকা।
৪. ঈশান ক্যাটেল ফার্ম
নোয়াখালী, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ থেকে ঢাকায় গরু নিয়ে আসে ঈশান ক্যাটেল ফার্ম। তাদের আছে গরুতে ৫টি ও ছাগলে ৪টি প্যাকেজ। গরুর ক্ষেত্রে প্রতি ৭ ভাগ অংশীদারের ১ ভাগ মূল্যের একেকটি প্যাকেজের মূল্য যথাক্রমে—
ওজন অনুযায়ী প্রতিটি ছাগলের মূল্য যথাক্রমে—
ঈশান ক্যাটল ফার্মের স্বত্বাধিকারী সোলায়মান হোসেন জানান, কোরবানি থেকে শুরু করে দক্ষ কসাইয়ের দ্বারা মাংস প্রস্তুত করে—
৫. দেশী অ্যাগ্রো
দেশী অ্যাগ্রোর প্রতিষ্ঠাতা কামরুল হাসান বলেন, ‘করোনাকাল থেকে ঢাকায় শেয়ারে কোরবানির কার্যক্রম পরিচালনা করছে দেশী অ্যাগ্রো। সে সময় ঢাকার ডিওএইচএস এলাকায় করোনার পশু জবাই নিষিদ্ধ ছিল। তখন সেখানকার কিছু অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার পরামর্শে আমরা শেয়ারে কোরবানিসহ সম্পূর্ণ গরু ও খাসির মাংস প্রসেস করে হোম ডেলিভারি করি। সেই থেকে শুরু।’
ঢাকার মিরপুর কালশী ফ্লাইওভারের কাছে নির্দিষ্ট স্থানে ঈদের দিন গ্রাহক নিজে উপস্থিত থেকে কোরবানি দেখতে পারবেন। কোনো রকম ডেলিভারি চার্জ ছাড়াই ফুড গ্রেড পলিতে মাংস (ভুঁড়ি আলাদাভাবে) বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়।
৬. হারভেনো অ্যাগ্রো
হারভেনো অ্যাগ্রোর স্বত্বাধিকারী এ কে এম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে সব খরচসহ কোরবানির প্রাণীর প্রতি প্যাকেজের মূল্য ১৯ হাজার ৯৯০ টাকা, সব খরচসহ। প্রতি ভাগে ১৯-২১ কেজি মাংস পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কোরবানি ও মাংস প্রসেসিং ঈদের দিনেই সম্পন্ন করা হয়। ডেলিভারি চার্জ প্যাকেজ প্রতি ৫০০ টাকা।’
তবে হারভেনো অ্যাগ্রো গ্রাহকদের সরাসরি ফার্মে গিয়ে কোরবানি থেকে শুরু করে প্রস্তুত করা মাংস সংগ্রহ করে ঈদের আনন্দে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানায়। দেশের বাইরে থেকে যাঁরা অর্ডার করবেন, তাঁরাও ভিডিও কলের মাধ্যমে সরাসরি দেখতে পারবেন কোরবানির কার্যক্রম।
৭. সেতারা ফার্ম
গরু ও ছাগলের লাইভ ওয়েট বা সরাসরি প্যাক কোরবানিতে কাস্টমাইজড সেবা দিচ্ছে সেতারা ফার্ম। এর সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং টিমে কর্মরত জামিল মিয়া জানান, প্যাকেজ হিসেবে নিলে কসাই এবং ডেলিভারি চার্জ প্যাকেজের মধ্যেই অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
মিরপুর শেওড়াপাড়া জামতলা পানির পাম্পের পাশে সেতারা ফার্ম। অনলাইনের পাশাপাশি যে কেউ সরাসরি এখানে এসেও কিনতে পারেন। প্যাকেজের বাইরে পুরো গরু একা কোরবানি দিয়ে মাংস প্রক্রিয়া করে নিতে খরচ হবে হাজারে ২০০ টাকা।
এখানে প্যাকেজ হিসেবে গরুর জন্য প্রতি প্যাকেজের দাম ১৮ হাজার ৭৫০ টাকা থেকে শুরু করে ক্রমান্বয়ে ২১ হাজার ৮০০ টাকা, ২৩ হাজার ১০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ সাড়ে ২৬ হাজার টাকা।
ছাগলের ক্ষেত্রেই ১৫-১৭ কেজি ওজনের ছাগল সাড়ে ১৪ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩৫-৪০ কেজি ওজনের ছাগল ৩২ হাজার টাকা পর্যন্ত বুকিং নেওয়া হচ্ছে।
৮. তুরফা ফুডস
তুরফা ফুডস মূলত সুপার শপ। তবে প্রতিবছর কোরবানির সময় ঢাকায় কোরবানির প্রাণী সরবরাহ করে। স্বত্বাধিকারী কামরুল আম্বিয়া বলেন, ‘আমরা লাইভ ওয়েট হিসাব করে, অর্থাৎ ওজন হিসেবে প্রাণী বিক্রি করা থেকে শুরু করে কোরবানিসহ মাংস প্রস্তুত করার মতো সব রকম সুবিধা দিই।’
শেয়ারে কোরবানি দিতে চাইলে আছে তিনটি প্যাকেজ- ১৫ হাজার, ২২ হাজার ও ৩০ হাজার টাকা। অনলাইনে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে অর্ডার নেওয়া হয় ঈদের আগের রাত পর্যন্ত।
৯. খামার ফ্রেশ
ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলায় প্রাকৃতিক খাবারে পালিত হয় খামার ফ্রেশের গবাদিপশু। এখানে গরুর ক্ষেত্রে প্রতি ৭ ভাগ শরিকের ১ ভাগ মূল্যের একেকটি প্যাকেজের মূল্য যথাক্রমে-
সঙ্গে যোগ হবে দুই থেকে তিন হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ। নির্ধারিত সার্ভিস চার্জের ভেতরেই স্লটারিং খরচ, কোরবানির আগপর্যন্ত গরুর খাওয়ার খরচ এবং ঢাকার মধ্যে ফ্রি হোম ডেলিভারি অন্তর্ভুক্ত আছে।
১০. মেঘডুবি অ্যাগ্রো
ঢাকার মোহাম্মদপুরের বছিলা গার্ডেন সিটিতে অবস্থিত এই খামার এবার কোনো রকম হিডেন চার্জ ছাড়াই সম্পূর্ণ ভুঁড়ি, কলিজা, মাথার মাংসসহ ৭ ভাগে সমবণ্টন করে হোম ডেলিভারির সুবিধা দিচ্ছে।
ঈদের প্রথম দিন তো বটেই, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনেও তাদের ডেলিভারি সেবা সচল থাকবে।
গরুর ক্ষেত্রে প্রতি ৭ ভাগ শরিকের ১ ভাগ মূল্যের একেকটি প্যাকেজের মূল্য—
১১. রাহমাহ ক্যাটেল ফার্ম
ঝামেলামুক্ত কোরবানি নিশ্চিত করতে মোহাম্মদপুরের বছিলা গার্ডেন সিটিতে অবস্থিত এই খামার এবারও সাত ভাগে কোরবানির সুযোগ দিচ্ছে। নির্ধারিত দামের বাইরে এখানে কোনো হিডেন চার্জ নেই।
গরুর ক্ষেত্রে-
ছাগলের ক্ষেত্রে-
এ ছাড়া আস্ত গরু কেনার ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ চার্জ সাপেক্ষে সম্পূর্ণ স্লটারিং সুবিধা দেওয়া হয়। কোরবানি শেষে নিজস্ব ফ্রিজার ভ্যানের মাধ্যমে ফ্রি হোম ডেলিভারিও দেয়।
১২. উৎসব অ্যাগ্রো লিমিটেড
রামপুরার এই প্রতিষ্ঠান লাইভ ওয়েট সিস্টেমে ওজন মেপে এবং ৩টি শেয়ার প্যাকেজ—উভয় পদ্ধতিতেই বুকিং নিচ্ছে। তারা সরাসরি প্রিমিয়াম কোয়ালিটির দেশি শাহিওয়াল গবাদিপশু এবং দেশি ছাগল সরবরাহ করে। লাইভ ওয়েট মূল্যতালিকায়—
শেয়ার প্যাকেজের মধ্যে আছে-
শেষ মুহূর্তের পরামর্শ
প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই বুকিং শেষ পর্যায়ে চলে আসে। তাই শেষ মুহূর্তের বিড়ম্বনা এবং কসাইয়ের সংকট এড়াতে এখনই নিজের সুবিধাজনক প্যাকেজটি বেছে নিয়ে বুকিং সম্পন্ন করাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
ছবি : সংগৃহীত
জ্বালানি খাতে বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এ খাতে কৌশলগত সহযোগিতার জন্য সমঝোতা স্মারকে সই করেছে বাংলাদেশ সরকার। ওয়াশিংটনের স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরে এ সমঝোতা স্মারক সইয়ের আনুষ্ঠানিকতা সারা হয়।
বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট চুক্তিতে সই করেন।
ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমওইউ স্বাক্ষরের তথ্য তুলে ধরে বলা হয়, “মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ জ্বালানি নিরাপত্তার নিশ্চিতে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মধ্যে সই হল এই সমঝোতা স্মারক।”
এমওইউ’র উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রাপ্যতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলকে টেকসই রাখার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে এই এমওইউ অবদান রাখবে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিস্তৃত জ্বালানির সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন নতুন পথ খুলে দেবে এই সমঝোতা স্মারক।
“এটি সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তেল, গ্যাস, তাপ-বিদ্যুৎ এবং জৈব-জ্বালানির ক্ষেত্রে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করবে। একইসঙ্গে এটি সাশ্রয়ী মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের এলএনজি, এলপিজি এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির পথও তৈরি করবে।”
এমওইউ সই অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর বলেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কে ক্ষেত্রে এই সমঝোতা স্মারক আরেকটি মাইলফলক। এই উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ দেন তিনি।
আর যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী রাইট বলেছেন, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই এমওইউ একটি ‘ঐতিহাসিক ঘটনা’। তিনি এও বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের অংশীদারত্বের ফলে অতীতে অনেক মহৎ কাজ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক মহৎ হবে।
“আমি মনে করি, মার্কিন কোম্পানিগুলো এবং বাংলাদেশের শিল্প ও জনগণের উপকারের জন্য জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে প্রচুর সুযোগ রয়েছে।”
বিদেশ থেকে গরুর মাংস আনতে চান হোটেল মালিকরা
দেশের বাজারে গরুর মাংসের দাম তুলনামূলক বেশি। চাহিদার তুলনায় গরুর মাংসের সরবরাহও কম।
এ ছাড়া পশুখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অনেক এলাকায় গরু-ছাগল পালন কমেছে। এমন যুক্তি দেখিয়ে নিজেরাই বিদেশ থেকে গরুর মাংস আমদানি করতে চান রেস্তোরাঁ মালিকেরা।
আজ রবিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ লিখিত বক্তব্যে দেন রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান। বাজেটকে সামনে রেখে রেস্তোরাঁ খাতের গভীর সংকট ও সমাধানের দাবিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংগঠনটি। এ সময় সরকারের কাছে নিজেরাই গরুর মাংস আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানান সংগঠনের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, মহাসচিব ইমরান হাসান, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম, কোষাধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান চৌধুরী, দপ্তর সম্পাদক আমির হোসেনসহ প্রমুখ।
রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি জানায়, দেশের বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, যা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। আগের তুলনায় সরবরাহ কমেছে। পাশাপাশি সিন্ডিকেটের কারণে পশুখাদ্যের দাম বেড়েছে। এতে অনেক এলাকায় গবাদিপশু পালন কমেছে। সব মিলিয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের রেস্তোরাঁ খাতে।
১১ দফা দাবিতে আরও যা আছে
সংবাদ সম্মেলনে রেস্তোরাঁ পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু, বাজেটে ভ্যাট ও কর কমানো, এলপিজি সংকট সমাধান, রেস্তোরাঁ খাতকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা, ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়া সহজ করাসহ মোট ১১টি দাবি তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহাসচিব ইমরান হাসান রেস্তোরাঁ খাতে সম্পূরক শুল্ক ও উৎসে কর কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে ৫ শতাংশে নামানো হলেও ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, উৎসে করসহ অন্যান্য করের চাপে ব্যবসায়ীরা হিমশিম খাচ্ছেন। তাই আগামী বাজেটে কর সহনীয় রাখা, উৎসে কর প্রত্যাহার এবং শ্রমিক-কর্মচারীদের ক্যানটিন ও ক্যাটারিং সেবায় ভ্যাট ৫ শতাংশ করার দাবি জানান তিনি।
ইমরান হাসান বলেন, দেশের ৮০ শতাংশ রেস্তোরাঁ অনিবন্ধিত। অনেক ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। এ ছাড়া এলপিজি গ্যাসের সংকট বর্তমানে একটি গুরুতর সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অনেক নতুন ও ছোট রেস্তোরাঁ গ্যাস-সংযোগের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারছে না। তাই পরিকল্পিতভাবে নতুন সংযোগ চালু হলে এলপিজির ওপর নির্ভরতা কমবে, খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এ ছাড়া কিছু অসাধু গোষ্ঠী ট্রেড ইউনিয়নের নাম ব্যবহার করে রেস্তোরাঁমালিকদের হয়রানি, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি ও জিম্মি করার মতো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাই এসব ব্যবস্থার প্রতিকার দাবি করে রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।
ছবি : সংগৃহীত
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে ভোক্তা পর্যায়ে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী- ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোলের নতুন এই দাম আজ রবিবার (১৯ এপ্রিল) থেকে সারাদেশে কার্যকর হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই মূল্য সমন্বয়ের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এখন থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকার পরিবর্তে ১১৫ টাকায় বিক্রি হবে। অর্থাৎ লিটারপ্রতি দাম বেড়েছে ১৫ টাকা। এছাড়া কেরোসিনের দাম লিটারে ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা থেকে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে অকটেন ও পেট্রোলের। প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে, পেট্রোলের দাম লিটারে ১৯ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১১৬ টাকা থেকে ১৩৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। আজ সকাল থেকেই দেশের সব ফিলিং স্টেশন ও পরিবেশক পর্যায়ে এই নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি তেল বিক্রি শুরু হয়েছে।
জালানি তেলের এই দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি। সমিতির সদস্য সচিব মীর আহসান উদ্দিন পারভেজ এক বিবৃতিতে জানান, বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে দাম সমন্বয় করায় তেল মজুত করার প্রবণতা কমবে। এর ফলে জ্বালানি খাতের ব্যবসায় আরও স্বচ্ছতা আসবে বলে তারা মনে করেন।
উল্লেখ্য, গত ৩১ মার্চ এক অফিস আদেশে এপ্রিল মাসের জন্য জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। এর আগে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে কয়েক দফায় সামান্য দাম কমানো হলেও বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে চলতি মাসে বড় অংকের এই মূল্য বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিল সরকার।