তিস্তায়
বন্যার পানি টান ধরলেও বেড়েছে জনদুর্ভোগ। নদীপাড়ের কয়েক হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে আছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি কমার সাথে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্ক কেন্দ্রের
তথ্য অনুযায়ী ফের পানি বাড়বে-এমন উদ্বেগ ও উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের মানুষ।
রংপুর
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল
ছয়টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫১ দশমিক
৮৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩০
সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ১২ ঘণ্টায়
এই পয়েন্টে পানি প্রবাহ ১৩ সেন্টিমিটার হ্রাস
পেয়েছে। এখানে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক
১৫ সেন্টিমিটার। একই সময়ে কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার নিচ
দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়।
এরআগে
গত সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় তিস্তা নদীর কাউনিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার দুই সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। একই সময়ে ডালিয়া ব্যারাজ পয়েন্টে পানি কমে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচ
দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এদিকে,
হঠাৎ করে তিস্তা নদীর পানি বাড়া-কমায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়ার তিস্তা সেতু রক্ষাবাঁধ ও ডানতীর রক্ষায়
নির্মিত গ্রোয়েন এলাকায় ভাঙনসহ কোলকোন্দ এবং লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। বেশকিছু পরিবার পানিবন্দিসহ চরাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন। তলিয়ে গেছে পাট, বাদাম ও আমনের বীজতলা।
চলতি
মৌসুমে গত ২৩ জুন
সর্বপ্রথম বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার ওপর
দিয়ে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। যা পরদিনই বিপৎসীমার
নিচে নেমে আসে। আবার ২৮ জুন রোববার
সন্ধ্যায় হঠাৎ পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর
দিয়ে চলতে থাকে, ফলে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
গঙ্গাচড়ায়
পানিবন্দি ৪ হাজার পরিবার
উপজেলার
কোলকোন্দ, আলমবিদিতর, নোহালী, সদর, লক্ষ্মীটারী ও মর্ণেয়া ইউনিয়নের
অন্তত ২০টির বেশি গ্রামের নিম্নাঞ্চল পানি ঢুকে পড়েছে। এতে করে বাগডহরা, মিনারবাজার, আনন্দবাজার, বিনবিনা, চর মটুকপুর, চিলাখাল,
বাগেরহাট, চর শংকরদহ, কাশিয়াবাড়ী,
ইচলি ও চর ছালাপাকসহ
বিভিন্ন এলাকার শত শত বাড়িঘর,
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি
এখন হাঁটু পানির নিচে। আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাসহ গবাদি পশু খাদ্যের সংকট, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানিসহ খাদ্য সংকটে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ।
সেতু রক্ষা বাঁধের ১৫০ মিটার নদীগর্ভে বিলীন
গত
বছর ভাঙনের পর স্থায়ী প্রতিরক্ষা
ব্যবস্থা গ্রহণ না করে অস্থায়ীভাবে
বাঁশের পাইলিং (স্পার) নির্মাণ করা হয়। যা কার্যকর না
হওয়ায় সরকারের ১৪ লক্ষ টাকা
গচ্ছা গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের
অভিযোগ, বাঁশের পাইলিং বসানোর ছয় মাসও হয়নি,
চলতি বর্ষা মৌসুমের প্রথম ধাপেই পানির চাপ ও তীব্র স্রোতের
মুখে বাঁশের পাইলিংয়ে ধসে গেছে ।
স্থানীয়দের
দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় ১৫০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু, রংপুর–কাকিনা আঞ্চলিক সড়ক এবং আশপাশের কয়েক হাজার মানুষের বসতভিটা ঝুঁকিতে পড়েছে।
চর
শংকরদহ গ্রামের কৃষক আব্দুল হালিম বলেন, রাতারাতি পানি বাড়লো, ঘরবাড়ি ডুবে গেল। এখন পানি কিছুটা নামছে, কিন্তু নদী ভাঙনের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আশ্রয়কেন্দ্রে
থাকা গৃহবধূ রহিমা বেগম বলেন, বাড়িতে পানি উঠেছে। শিশু আর গবাদিপশু নিয়ে
খুব কষ্টে আছি। এখনো কোনো ত্রাণ পাইনি।
কোলকোন্দ
এলাকার কৃষক সালাম উদ্দিন বলেন, দেড় একর জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। গবাদিপশুর খাদ্য নিয়েও সংকটে আছি। ধান বীজতলা নষ্ট হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
একই
অবস্থা কাউনিয়া উপজেলা তিস্তা নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে। সেখানকার পাঞ্চরভাঙ্গা গ্রামের আরমান বলেন, কয়েক দিন ধরে পানি বাড়া-কমা করছিল। পানি বেশি হলে তো সমস্যা। স্ত্রী-সন্তান ও গরু-ছাগল,
হাঁস-মুরগি নিয়েও উচুঁ স্থানে আশ্রয় নিতে হবে।
সেতুর সংযোগ সড়কে গর্ত ও ফাটল সৃষ্টি
গঙ্গাচড়া
উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা মহিপুরে নির্মিত দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু। কিন্তু বিগত সময়ের মতো এবারো বর্ষা মৌসুমে এই সেতুর সংযোগ
সড়কের বিভিন্ন অংশে ধস দেখা দিয়েছে।
সড়কের একাধিক স্থানে বড় বড় গর্ত
ও ফাটল সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন যাত্রী, পথচারী ও বিভিন্ন যানবাহন।
জানা
যায়, দ্বিতীয় তিস্তা সেতুটি রংপুর-লালমনিরহাটের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণের অন্যতম মাধ্যম। এই সেতুটি রংপুরের
বুড়িরহাট ও মহিপুর হয়ে
লালমনিরহাটের কাকিনা, হাতীবান্ধা, পাটগ্রাম ও তুষভাণ্ডার অতিক্রম
করে বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত সংযোগ তৈরি করেছে। আঞ্চলিক ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও সাধারণ মানুষের
যাতায়াতের জন্য সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সরেজমিনে
দেখা গেছে, সেতুর উত্তরপ্রান্তে সংযোগ সড়কের অন্তত ১৫টি স্থানে ধস ও বড়
গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও পিচ উঠে গিয়ে সড়ক দেবে গেছে। এতে ভারি যানবাহনের পাশাপাশি ছোট যান ও মোটরসাইকেল চালকদের
জন্যও চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সেতু
সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর মিয়া
বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টির পর হঠাৎ করেই
রাস্তার কয়েক জায়গা দেবে যেতে শুরু করে। এখন বড় বড় গর্ত
তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন এত মানুষ চলাচল
করে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড়
ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
পথচারী
মাহমুদ মিয়া বলেন, সড়কটির অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। কয়েক জায়গায় ধসে গেছে। আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এ
বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ধসের বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্টদের পরিদর্শনের
নির্দেশ দিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে । মেরামত কাজ
শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
ভেঙে যাচ্ছে স্বেচ্ছাশ্রমের বাঁধ
উপজেলার
বড়াইবাড়ি খেয়াঘাট থেকে নদীর ওপারে তাকালেই দেখা যায় মাটির দীর্ঘ বাঁধ। তবে সরকারি কোনো প্রকল্প নয়, ঠিকাদারের নির্মাণও নয়। দিনমজুর, কৃষক, জেলে আর চরবাসীর শ্রমে
গড়ে ওঠা এ বাঁধ তিন
বছর ধরে পাঁচটি গ্রামের মানুষের বেঁচে থাকার শেষ ভরসা। কিন্তু উজানের ঢল আর তিস্তার
পানি বাড়া-কমার সঙ্গে সেই বাঁধের বিভিন্ন অংশে এখন দেখা দিয়েছে ভাঙন। ফলে ১২ হাজার পরিবারের
মধ্যে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে উৎকণ্ঠা।
স্থানীয়রা
বলছেন, তিন বছর আগে বন্যায় বাগডোহরা চরের নিচাপাড়ার তিন শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে যায় তিস্তায়। সে সময় বারবার
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে গেলেও নেয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে নিজেরাই
সিদ্ধান্ত নেন বাঁধ নির্মাণের। চাঁদা তোলা হয় গ্রামের মানুষের
কাছ থেকে। কেউ টাকা দিয়েছেন, কেউ শ্রম। দিনের কাজ শেষে রাতভর মাটি কেটেছেন অনেকে।
বৈরাতি
থেকে বাগডোহরা মিনার বাজার পর্যন্ত নির্মাণ করা হয় প্রায় পাঁচ
কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বাঁধ। পরে উজানে চরনোহালী এলাকায় গড়ে তোলা হয় আরও প্রায়
দুই কিলোমিটার সহায়ক বাঁধ। গত বছরের বন্যায়
দুই শতাধিক একর কৃষিজমি নদীতে চলে গেলেও এই বাঁধের কারণে
রক্ষা পেয়েছিল ঘরবাড়ি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সহায়ক বাঁধটি টিকতে না পারলে থাকবে
না মূল বাঁধও। ইতোমধ্যে ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধে ২০০ ব্যাগ জিও ব্যাগ ফেলেছে।
ভাঙনরোধে সময়মতো ফেলানো হয়নি জিও ব্যাগ
গঙ্গাচড়া
উপজেলার লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন,
চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে পানিবন্দি মানুষের পাশে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো এবং নদী ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আমরা খোঁজখবর রাখছি এবং প্রশাসনকে সবকিছু অবগত করতেছি।
তিনি
আরও বলেন, দ্বিতীয় তিস্তা সেতু রক্ষা বাঁধে যখন প্রথম ভাঙন শুরু হয়েছিল, তখন সময়মতো অল্প কিছু জিও ব্যাগ ফেললেও পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হতো না। গত বছর থেকেই
বরাদ্দের কথা শুনে আসছি, কিন্তু কোনো বরাদ্দ আসেনি। পরে বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বাঁশের পাইলিং করা হলেও পানির বৃদ্ধির শুরুতেই প্রথম চাপেই সেটি ভেঙে গেছে। এতে প্রায় ১৪ লাখ টাকার
কাজ ধ্বংস হয়ে গেছে।
কাউনিয়া
উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান, উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে তার ইউনিয়নের নদীর তীরবর্তী গ্রামগুলোতে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তিনি
বলেন, পানি বৃদ্ধির ফলে একদিকে নদীপাড়ের মানুষরা নির্ঘুম রাত কাটায়। অন্যদিকে পানি কমে যাওয়ার পর নদী ভাঙন
দেখা দিবে।
একই
কথা জানান টেপামধুপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দিনের বেলায় পানি বৃদ্ধি পেলে তীরবর্তী এলাকায় সমস্যা কম হয়। কিন্তু
রাতের বেলায় পানি বৃদ্ধি পেলে নদীপাড়ের মানুষের কষ্টের শেষ থাকে না। এছাড়া সৃষ্ট বন্যায়
নদী তীরবর্তী আবাদি জমিগুলো তলিয়ে বাদামসহ বিভিন্ন শাক-সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হবে।
ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করছে প্রশাসন
স্থানীয়রা
দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন, শুধু দ্রুত ত্রাণ বিতরণ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন এবং তিস্তা নদীর ভাঙন রোধে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বাঁধ
নির্মাণ করা জরুরি।
এ
ব্যাপারে উপজেলা ত্রাণ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন
কর্মকর্তা সজিবুল করীম বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে এবং দ্রুত সহায়তা কার্যক্রম শুরু করা হবে।
উপজেলা
কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন জানান, প্রাথমিক হিসাবে প্রায় ২০ হেক্টর আমন
ধান, ১ হেক্টর মাসকলাই,
২ হেক্টর বীজবাদাম ও আধা হেক্টর
সবজির জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সরকারিভাবে বন্যা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতি
গঙ্গাচড়া
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন আক্তার বলেন, প্রশাসন সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পাপিয়া সুলতানা জানান, উজানে ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে চরঢুষমারা গ্রামের কিছু অংশে পানি ঢুকে পড়েছে। ওই গ্রামের নদীর
তীরবর্তী কিছু অংশে ভাঙনও দেখা দিয়েছি। পানি বৃদ্ধির ফলে যেন বন্যায় কেউ ক্ষতিগ্রস্থ না হয়, সেজন্য
জনপ্রতিনিধিদের নদীপাড়ের খোঁজখবর নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে সকল ধরনের আগাম প্রস্তুতি নেয়া আছে।
রংপুর অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস
বন্যা
পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র
জানায়, দেশের অভ্যন্তরে রংপুর বিভাগ ও এর উজানে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশে আরও দুদিন ভারী থেকে অতিভারী এবং পরবর্তী তিনদিন মাঝারী ভারী থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
রংপুর
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তা নদীর পানি আগামী তিন দিন বৃদ্ধিসহ বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে। বন্যা সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন এলাকায় কুড়িগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কুড়িগ্রাম আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনের লাগেজ ভ্যানের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এতে সারাদেশের সঙ্গে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। লাইনচ্যুত বগিটি উদ্ধার করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার স্টেশন এলাকায় প্রবেশের সময় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের পেছনে থাকা লাগেজ ভ্যানের একটি বগি ত্রুটির কারণে লাইনচ্যুত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। বগিটি লাইনচ্যুত হওয়ার পর যশোর-পার্বতীপুর রুটে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। এতে ওই রুটে চলাচলকারী ট্রেনগুলোকে সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে।
সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার খাতিজা খানম বলেন, ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসের লাগেজ ভ্যানের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। লাইন মেরামতের কাজ চলছে। মেরামত কাজ শেষ হলে যেকোনো সময় ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে।’
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত লাইন সচল করতে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তহশিলদার নিলুফা
খুলনা আন্তঃজেলার মধ্যে অনিয়ম, দুর্নীতিতে আলোচনার শীর্ষে থাকা ডুমুরিয়া উপজেলার থুকড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের দায়িত্বরত তহশিলদার নিলুফা ইয়াসমিন কে অবশেষে তার দূর্নীতি ধরা পড়ার কারণেই খুলনা জেলা প্রশাসক কর্তৃক তাকে দাকোপ উপজেলার তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলী করা হয়েছে। গত ৬ সেপ্টেম্বরের ২০২৬ ইং তারিখে ১৫৯০ নং স্মারকের আদেশে এ বদলী করা হয়।
জানা যায়, গুটুদিয়া ইউনিয়নের ৫৫৪৩ দাগের খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ২ একর ৪৩ শতক জমি শেখ তুহিনুল ইসলাম নামে লিজ প্রদান করা হয় তাছাড়া ৫৫৪৩ দাগের ১ একর আড়াই শতক জমি নজরুল ইসলামের নামে দাম পত্তন করে মাঠ পর্যায়ে এর প্রতিবেদনও দেন নিলুফা ইয়াসমিন যেখানে ইতিপূর্বে অন্যান্য তহশিলদাররা সরকারের পক্ষে প্রতিবেদন দিলেও নিলুফা ইয়াসমিন সরকারের বিপক্ষে প্রতিবেদন দেন। এতে সরকারি জমি জমি যেমন একদিকে দখল হারায় অন্যদিকে রাজস্ব থেকেও হয় বঞ্চিত। তিনি অত্যন্ত চতুরতার সাথে স্থানীয় ভূমিদস্যু চক্রের সাথে একাত্তমতাপোণ করে এতোটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন যে, জেলা শাসক সহ একাধিক দপ্তরে তার বিরুদ্ধে বার বার লিখিত অভিযোগ দাখিল করেও থামানো সম্ভব হয়নি।
বিভিন্ন দপ্তরে খোঁজ নিয়ে আরো জানা যায়, নিলুফা ইয়াসমিন ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা থাকাকালীন ফুলতলার দামোদর, থুকড়া, দৌলতপুর, বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত ছিলেন এবং প্রতিটি অফিসেই তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিলো আকাশ ছোঁয়া। এসব দূর্নীতির অর্থ দিয়ে নগরীর মুজগুন্নী মৌজার আর এস ৪৪৩ নং ১৫২৯ নং দাগের ৫ শতক জমি স্বামী মো. সেলিম করীম, পিতা-বাচ্চু মিয়ার নামে ক্রয় করে ভাড়াটিয়া থেকে বাড়িওয়ালা হন।
গত ২০১৫ সালে দামোদর তহসিল অফিসে কর্মরত থাকাকালীন নিলুফা ইয়াসমিন এফ-২৫৩১৯৪-২৫৩২০০, ২৫৩৯৪-২৫৩৩০নং ৪টি দাখিলা বহি থেকে শেষের ৭ পাতা করে মোট ২৮টি দাখিলা চুরি করে গোপনীয়ভাবে বিসিক শিল্প এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নামে খাজনা কর্তন করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেন। উক্ত ঘুষের টাকা দিয়ে তিনি গড়েছেন অঢেল সম্পদের পাহাড়। ১২৬৪ ও ১৮৮৭ নং খতিয়ানে ০.০৭০০ একর জমিতে মুজগুন্নী মৌজায় খুলনা যশোর মহাসড়ক সংলগ্নে নির্মাণ করেছেন বিলাস বহুল করিম টাওয়ার এবং তার সংলগ্ন সড়ক ও জনপথের এবং জেলা প্রশাসকের প্রায় ২০ শতক জমির উপরে ভারী মেশিনারিজের দোকান করে দেখল নেনও তিনি।
দৌলতপুর ভূমি অফিসে থাকা কালীন বয়রা মৌজার নিষেধাজ্ঞাকৃত খতিয়ানের খাজনা কেটে দুর্নীতি, ঘুষগ্রহণ ও অনিয়মের অভিযোগে নিলুফার নামে বিভাগীয় মামলা হয়। যার মামলা নং-১/২০১৯। উক্ত মামলায় গুরু দন্ড থেকে লঘু দন্ডে বেতন গ্রেটের নিম্ন ধাপে অবনমিতকরণ করা হয় ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন গত ২৪/০১/২০১৯ চাকুরী থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
সূত্রে আরো জানা যায়, এই ঘুষখোর নায়েবের অবৈধ অর্থের বিনিময়ে গত ১৯ নভেম্বর ২০২৪ উপ-সহকারী থেকে সহকারী কর্মকর্তা পদে পদোন্নতী নেন। নায়েব নিলুফার স্বামী সেলিম করীম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর এপিএস ও ভাই শাহাবুদ্দিন'র একনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন। সেই সুবাদে শ্রম প্রতিমন্ত্রীর এপিএস শাহাবুদ্দিনসহ পরিবারের সদস্যরা বাড়ীতে আসতেন। এখন বিএনপি'র স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্যদের গা ঘেষে চলছেন।
বর্তমানে নিলুফা বিভিন্ন মান্যবর ব্যক্তির নিকটে বিএনপির ছাত্র বিষায়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল কে নিজের ফুফাতো ভাই, খুলনা ০৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবী এবং খুলনায় কর্মরত দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার প্রতিনিধি সাবেক আওয়ামী স্বাস্থ্য মন্ত্রী আ.ফ.ম রুহুল হকের এপিএস আবু হেনা মুক্তির ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে চলছেন বলে সুস্পষ্ট তথ্য রয়েছে। তিনি ফুলতলা উপজেলার দামোদর মৌজার স্কাউট ভবনের জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ড দেন। দামোদর মৌজার সরকারের ক তফশিলভুক্ত অধিকাংশ সম্পত্তির দাখিলা প্রদান করেছে। যা অডিট আপত্তিতে নায়েব নিলুফা ইয়াসমিনকে দায়ী করা হয়। সরকারী জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ০৪০.১৩-১৮১নং স্বারকে গত ২৩ নভেম্বর ২০১৫ খ্রিঃ, জেলা প্রশাসক বরাবর অডিট আপত্তিতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
উক্ত প্রতিবেদনের জবাব না দেয়ায় পরবর্তীতে বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয় ঢাকা হতে ৪ঠা ডিসেম্বর ২০১৯ পূর্ণরায় অডিট আপত্তি নোটিশ আসে। তাতে উল্লেখ থাকে ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা নিলুফা ইয়াসমিন কর্তৃক বিধি বহির্ভূতভাবে ৩৪ লক্ষ ৪১ হাজার তিনশত বাহাত্তর টাকা মূল্যের ঝধ ও ঞ অপঃ এর ৯২ ধারামতে খাস খতিয়ানভুক্ত ০.১৪ একর সরকারি সম্পত্তি এবং বাংলাদেশ গেজেটের ক তফশিলভুক্ত ০.১৫ একর সম্পত্তির দাখিলা ২০১৪-১৫ সালে ব্যক্তি মালিকানায় প্রদান করে। যার পূর্ণরায় তদন্ত করলে বেড়িয়ে আসবে থলের বিড়াল।
দুর্নীতিগ্রস্থ নিলুফা ইয়াসমিন গত ৯ জানুয়ারী ২০০৩ চাকুরিতে যোগদান করে এতো অল্প সময়ের ব্যবধানে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সচেতনমহল তার চাকরি জীবনের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যেখানেই গিয়েছে সেখানেই ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতি দায়ে দন্ডিত হয়েছে। তারপরও এতো বড় অদক্ষ, অযোগ্য, দুর্নীতিগ্রস্থ ভূমি কর্মকর্তাকে কিভাবে বিনা বিচারে সরকারি চাকরীতে পদোন্নতি পান সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে সচেতন মহল দাবি করেন।
এদেশে যতদিন পর্যন্ত এ ধরনের নীতি নির্ধারকরা চেয়ারে থাকবেন ততদিন শুধু একস্থান থেকে অন্য স্টেশনে বদলী করলে দূর্নীতি ও অনিয়ম রোধ করা সম্ভব হবে না বরং স্বল্প শাস্তির জন্য অপরাধে আরো জড়িত হবে। এমতাবস্থায় যদি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ সহ সকলের দুর্নীতির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা সম্ভব হয় তবেই ভূমি সেক্টরের অনিয়ম ও দূর্নীতি রোধ করা সম্ভব বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।
রাষ্ট্রপতি ফখরুল ইসলাম আলমগীর
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম সিলেট সফরে আসছেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর এটাই তাঁর প্রথম সিলেট সফর। এ সফরকে সফল করতে সিলেটে সোমবার প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন।
সভায় সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসাইনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সিলেট জেলা সফর করবেন। সফরকালে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। একই দিন বিকেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশগ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করবেন।
রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটের সকল সরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যথাসময়ে অফিসে উপস্থিত থাকা এবং অফিসের চারপাশ ও আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ সৌন্দর্যবর্ধনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি নগরীর রাস্তাসমূহ চলাচল উপযোগী রাখা, বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টার অপসারণ এবং রাস্তার পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। সভায় নগরীর রাস্তার পাশের সিএনজি স্টেশনগুলো লালদিঘীর পাড়ে স্থানান্তরের নির্দেশনাও প্রদান করা হয়।
এছাড়া রাষ্ট্রপতির সফর নির্বিঘ্ন করতে বহরে জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য মেডিকেল টিম ও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রস্তুত রাখা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সিলেটজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
কালীগঞ্জ থানার গ্রাম পুলিশ সদস্যদের সাপ্তাহিক হাজিরা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পুলিশকে তথ্য ও সার্বিক সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় তিনজন গ্রাম পুলিশ সদস্যকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান। থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মো. মাসুদ রানা শামিম এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (অপারেশন) মো. ইকবাল হোসেন।
সভায় কালীগঞ্জ-কাপাসিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান সাপ্তাহিক হাজিরায় গ্রাম পুলিশ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
এ সময় কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জাকির হোসেন গ্রাম পুলিশ সদস্যদের দায়িত্বশীলতা ও জনসেবামূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। স্থানীয় পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আরও দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহায়তা করে বিশেষ ভূমিকা রাখায় জামালপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মো. সহিদুল্লাহ্ ও মোঃ সিদ্দিকুর রহমান এবং মোক্তারপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ শ্রী চিনি বাসকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
ছবি : সংগৃহীত
নারী থেকে পুরুষ হওয়ার স্বপ্নে অপর এক যুবতীকে সঙ্গে নিয়ে প্রথম ধাপ স্তন অপারেশন করেছিলেন রোজি আক্তার লিজা (৩১) নামের এক যুবতী। অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পরে তার (লিজা) মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। মৃত লিজা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব হাওলাদারের (রব রাজ) মেয়ে।
ঢাকার পান্থপথ গ্রীণ রোডের ‘ইউনিহেলথ স্পেশালাইজড হাসপাতালে’ গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপারেশনের পর রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে চারটার দিকে লিজার মৃত্যু হয়েছে।
ওইদিন বিকেলে পরিবারের সদস্যরা মরদেহ নিয়ে আসলে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। পরবর্তীতে তড়িঘড়ি করে সন্ধ্যার মধ্যেই লিজাকে দাফন করা হয়েছে।
সরেজমিনে এলাকাবাসী ও মৃতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোজি আক্তার লিজা মেয়ে হলেও ছেলেদের মতো আচরণ করতো। ছেলেদের মতো চুল কাটাতো। তার (লিজা) বাড়িতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার নামের এক যুবতীর আনাগোনা ছিল। ওই যুবতীকে সে (লিজা) স্ত্রী হিসেবে মনে করতো। এমনকি ওই যুবতীও লিজাকে তার স্বামী হিসেবে দেখাশোনা করতো।
সূত্রমতে, প্রায় তিনবছর আগে একই সম্পর্কে লিজা তার আপন ভাইয়ের স্ত্রীকে নিয়ে অজানার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমিয়েছিলো। পরবর্তীতে তারা আবারও বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর জেনিফার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিজার পরিচয় হয়। এরপর থেকে জেনিফা প্রায়ই লিজাদের বাড়িতে এসে মাসের পর মাস একসঙ্গে বসবাস করতো। বিষয়টি লিজার বাবা ও মা জানলেও জেনিফা কৌশলে তাদের আপন করে নেয়ায় তারা মুখ বুঝে সব সহ্য করে গেছেন।
জেমিনি ওরফে জেনিফা আক্তার জানান, তারা একে অপরের বাসায় বেড়াতো। একসঙ্গে থাকতো। লিজা ঢাকায় হরমোনের চিকিৎসা করাতো। লিজার মা, বাবা ও বোন স্তন অপারেশনের জন্য দেড় লাখ টাকা দিয়েছেন। ওই টাকা দিয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার পান্থপথের ইউনিহেলথ স্পেশালাইড হাসপাতালে সরফরাজ নাম দিয়ে লিজাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে অপারেশনের আগে সম্মতিপত্রে লিজার স্ত্রী হিসেবে তিনি (জেনিফা) স্বাক্ষর করেছেন।
মেয়ে হয়ে আরেকজন মেয়ের স্ত্রী পরিচয়ে সম্মতিপত্রে স্বাক্ষরের বিষয়ে জেনিফা দাবি করেন, লিজার মা ও বাবার সম্মতি নিয়ে স্বাক্ষর করা হয়েছে। তবে মৃত রোজীর বাবা আব্দুর রব হাওলাদার বলেন, ‘সে (জেনিফা) যে স্বাক্ষর করবে, তার স্বাক্ষরে যে অপারেশন হবে সে বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এমনকি লিজার নাম যে সরফরাজ রাখা হয়েছে তা আজই কেবল জেনেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘লিজা অপারেশন করে পুরুষ হয়ে জেনিফাকে বিয়ে করবে এমনটা ওর (লিজা) মায়ের কাছে শুনেছি।’
আক্ষেপ করে আব্দুর রব বলেন, ঘরের যেকোনো বিষয়ে আমার কোনো পরামর্শ নেওয়া হয় না। ঘরের সব সদস্যরা আমাকে আলাদা চোখে দেখে।
মৃত লিজার মা ফজিলা বেগম বলেন, ‘আমার মেয়ে লিজা ছোট বেলা থেকেই কোনো ছেলেকে পছন্দ করতো না। তাকে জোর করে দুইবার বিয়ে দেওয়া হয়েছিলো। কোথাও সে (লিজা) সংসার করেনি। ছেলেদের সাথে সঙ্গ দেওয়া কিংবা ঘর সংসার করার কোন মনমানসিকতাই তার ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে জেনিফা আমাদের বাড়িতে এসে লিজার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী হিসেবে বেড়াত। এই কারণে লিজার অপারেশনের দায়িত্ব আমরা জেনিফার ওপর ছেড়ে দিয়েছিলাম।’
এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসলাম সমর্থন করে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইসলাম সমর্থন করে না জানি। তবে মোবাইলে এসব ঘটনা এখন শত শত দেখা যায়।
অন্যদিকে ইউনিহেলথ স্পেশাইলজড হাসপাতাল থেকে দেওয়া মৃত্যু সনদে দেখা গেছে, গত ৩ সেপ্টেম্বর তাকে (লিজা) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সনদপত্রে লিজার নাম সরফরাজ এবং পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে মৃত্যু সনদপত্রে দেওয়া হাসপাতালের নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে লিমন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে এডমিন পরিচয় দেন। তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জিএম-এর সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে ইউনিহেলথ স্পেশাইলজড হাসপাতালের জিএম বিশ্বজিত বৈদ্যের কাছে সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এসময় তিনি যে চিকিৎসকের অধীনে ওই রোগী (লিজা) ভর্তি হয়েছেন, ওই চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।
পরে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ডা. মাহমুদুল হাসানকে ফোন করা হলে ব্যস্ততা দেখিয়ে ‘পরে ফোন করব’ বলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর তাকে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বরগুনার সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট চরমে পৌঁছেছে। জেলার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ ছয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৯৩টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭৭ জন। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে ২১৬টি পদ। এর মধ্যে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেই কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ।
ফলে প্রতিদিন ধারণক্ষমতার দুই থেকে তিনগুণ শিশু রোগী ভর্তি হলেও স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক দিয়ে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এতে কাঙ্খিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পাশাপাশি বাড়তি খরচ ও ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও স্বজনরা।
এ ছাড়াও জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে চিকিৎসক সংকট দূর করে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী- বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ৮৩ জন চিকিৎসকের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ১৮ জন। এ ছাড়াও সদর উপজেলা স্বাস্থ্য অফিসে ১৩ জনের বিপরীতে ৫, আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪১ জনের বিপরীতে ১৭, তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৪ জনের বিপরীতে ৮, বামনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩৮ জনের বিপরীতে ৬, বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪১ জনের বিপরীতে ১২, পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪০ জনের বিপরীতে ৯ এবং সিভিল সার্জন অফিসে ৩ জনের বিপরীতে ২ জন চিকিৎসক কর্মরত আছেন।
এ অবস্থায় জেলার অন্তত ১২ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবায় প্রধান ভরসার জায়গা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের অধিকাংশ চিকিৎসকের পদই রয়েছে শূন্য। এতে হাসপাতালটিতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হওয়া ও জরুরি চিকিৎসা সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগীরা।
বিশেষ করে বরগুনার জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেই। ফলে সঠিক চিকিৎসা দিতে পারছেন না কর্মরত চিকিৎসকরা। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকরা।
স্বজনদের দাবি- হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় বাধ্য হয়ে শিশুদের নিয়ে যেতে হচ্ছে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে। এ ছাড়াও একটু বেশি অসুস্থ হলেই শিশুদের রেফার করা হচ্ছে বরিশালে। এতে একদিকে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়, অপরদিকে চিকিৎসা সেবা নিতে এসে সৃষ্টি হচ্ছে ভোগান্তির।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে হামের প্রকোপসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে অসংখ্য শিশু রোগী। হামের উপসর্গ ও জ্বর, সর্দি, কাশি এবং নিউমোনিয়া নিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের নির্ধারিত ৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন শিশু। ফলে এতসংখ্যক শিশু ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা সেবায় বর্তমানে কোনো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার দাবি চিকিৎসা নিতে আসা শিশু রোগীর অভিভাবকদের। অনেক সময় বাধ্য হয়ে শিশুদের নিয়ে বাইরের ক্লিনিকে যেতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।
২৮ দিন বয়সী মেয়ে মরিয়মকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মো. মিজান বলেন- হাসপাতালে যে পরিমাণ রোগী ভর্তি তার বিপরীতে যে কজন চিকিৎসক আছেন, তাতে ঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পাচ্ছি না। দিনে একবার এসে কোনোরকম রোগী দেখে চলে যান চিকিৎসকরা। একজন রোগীকে বলতে গেলে এক মিনিটও সময় দিতে পারেন না তারা।
শিশু মরিয়মের মা মোসা. কুলসুম বলেন- আমার ছোট মেয়ে অসুস্থ থাকায় স্বাভাবিকভাবেই মেয়েকে নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়। হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যদি বাইরের ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য যেতে হয়, তাহলে এই সরকারি হাসপাতালের প্রয়োজন কী? হাসপাতালে যদি ভালো শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকত তাহলে আর সমস্যা হত না।
বর্তমানে বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ও চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি ও সাংবাদিক মনির হোসেন কামাল বলেন- হাসপাতালটি এখন নিজেই রোগীতে পরিণত হয়েছে। অসুস্থ হয়ে যে রোগীরা হাসপাতালে যায়, তারা সঠিকভাবে চিকিৎসা সেবা পায় না। কারণ বর্তমানে হাসপাতালে চারভাগের একভাগও জনবল নেই। পদায়নকৃত চিকিৎসকদের অনেকেই নিয়মিত কর্মস্থলে আসেন না। হাসপাতালে আসা রোগীদের অবস্থা একটু খারাপ হলেই রেফার করে দেওয়া হয় বরিশাল অথবা ঢাকায়। এ অবস্থায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের বিষয়ে সরকার ও প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত।
শিশু বিশেষজ্ঞ না থাকায়, একজন মেডিকেল অফিসার দিয়ে শিশু ওয়ার্ড পরিচালনা করছে জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে ধারণক্ষমতার থেকে বেশি রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে জানিয়ে হাসপাতালে কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডা. শায়লা আক্তার বলেন- প্রতিদিনই হাসপাতালে ১০০ থেকে ১৫০ জন শিশু রোগী ভর্তি থাকে।
যতদিন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মেহেদী পারভেজ স্যার ছিলেন, তিনি রোগী দেখতেন। আমরাও তার সঙ্গে থাকতাম। তিনি চলে যাওয়ার পর আমাকে একাই রোগী দেখতে হচ্ছে। এ কারণে এতসংখ্যক রোগী দেখতে একটু হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালে একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ কয়েকজন মেডিকেল অফিসার পদায়ন করা হলে আমাদের জন্য সুবিধা হত।
বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালসহ ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সেবার বিষয়ে জেলার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন- বরগুনায় ২৯৩ জন চিকিৎসকের বিপরীতে মাত্র ৭৭ জন চিকিৎসক আছেন। এই স্বল্প সংখ্যক চিকিৎসক দিয়েই হটস্পট বা বিভিন্ন রোগে প্রাদুর্ভাব প্রবণ এলাকার চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কিছু কিছু চিকিৎসক, যারা তাদের কর্মস্থলে অনিয়মিত অথবা দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত আছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এমন ১৩ জন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। এটি অন্য চিকিৎসকদের জন্য একটি সতর্ক বার্তা। এ অঞ্চলের চিকিৎসক যারা আছেন, তারা তাদের দায়বদ্ধতা এবং মানবিক গুণাবলি থেকেই চিকিৎসা সেবা চালাতে হবে।
বরগুনায় চিকিৎসক সংকট দূর করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যোগদানের প্রথম থেকেই চিকিৎসক সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। অনেক চিকিৎসক পদায়নও হয়েছিল। বিশেষ করে ২০২৫ সালে ডেঙ্গুর হটস্পট হওয়ার পর একসঙ্গে ১০ জন চিকিৎসককে পদায়ন করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তারা আবার এখান থেকে চলে গেছেন। এ ছাড়াও জেনারেল হাসপাতালে যিনি শিশু বিশেষজ্ঞ ছিলেন, তিনি সহকারী অধ্যাপক হয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলে যাওয়ায় ওই পদটি শূন্য রয়েছে। জেলার চিকিৎসক সংকটসহ শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে জেলা প্রশাসনও কাজ করছেন। পাশাপাশি আমরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি।