পাঁচটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হলো সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ড
পাঁচটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হলো সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ড। দৈনন্দিন ও অন্যান্য সেবামূলক কার্য পরিচালনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নগরকে করা হয়েছে। এ নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ৬০ নং আইন) এর ধারা ৪৭-এ প্রদত্ত ক্ষমতা বলে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিসিকের জনসংযোগ কর্মকর্ত নেহার রঞ্জন পুরকায়স্থ।
অঞ্চল-১ঃ ১, ২, ৩, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-১ গঠন করা হয়েছে। অঞ্চল-১ এর আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো: দরগা মহল্লা, ঝর্ণারপাড়, দর্শনদেউড়ি, আম্বরখানা (পশ্চিম), চৌহাট্টা, রাজারগলি, মিয়া ফাজিলচিশত, মিরের ময়দান, দাঁড়িয়া পাড়া, কাজি ইলিয়াছ, পুলেরপার, সরষপুর, কুরিটুলা, মির্জা জাঙ্গাল (উত্তর), জল্লারপাড়, জিন্দাবাজার, ক্ষেত্রীপাড়া, বারইপাড়া, পুরাতন মেডিকেল এলাকা, কাজলশাহ, পুলিশ লাইন, কাজল শাহ আ/এ, মুন্সিপাড়া, কেওয়াপাড়া, সুবিদবাজার, পশ্চিম কাজলশাহ, ওসমানী মেডিকেল এলাকা, রিকাবীবাজার, বাগবাড়ী, সাগর দীঘিরপাড়, আখালীঘাট (অংশ), নিহারীপাড়া, নরশিংটিলা, এতিম স্কুল রোড, নগর, খুলিয়াপাড়া, ধানুহাঁটা, আখালিয়া বাজার, কানিশাইল, ঘাসিটুলা, মজুমদারপাড়া, ওয়াপদা, ডহর, কলাপাড়া, হিয়াবরন, মধুশহীদ, লালাদীঘির পাড়, নোয়াপাড়া, কাজলশাহ, ভাতালিয়া, বিলপাড়, লামাবাজার, সচিলাপুর, শেখঘাট প্রথম অংশ, ইটাখলা, ভাংগাটিকর, শেখঘাট দ্বিতীয় অংশ, শেখঘাট তৃতীয় অংশ, শেখঘাট ৪র্থ অংশ, সওদাগরটুলা, শেখঘাট কলোনি, কুয়ারপাড়, তোপখানা, গির্জার পশ্চিম, রামের দীঘির পাড়, লামাবাজার, খুলিয়াটুলা, মনিপুরী রাজবাড়ী, মাছুদীঘির পাড়, তালতলা (দক্ষিণ), তেলিহাওর, কাজিরবাজার, যুগলটিলা, চাঁদনীঘাট, শেখ নাসির আলী, ছড়ারপাড়, ধোপাদীঘির দক্ষিণপাড়, ব্রহ্মময়ী বাজার, লাল দীঘিরপাড়, আমজাদ আলী রোড, কালীঘাট, কাষ্ঠঘর, চালিবন্দর পশ্চিম, বন্দরবাজার, মহাজনপট্টি, কামালগড়, তালতলা (উত্তর), জামতলী, জল্লারপাড়, মির্জাজাঙ্গাল দক্ষিণ, জেলা জজ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শেখ জিয়াউল্লাহ, কারপাসটুলা, পুরানলেন, বারুতখানা, জেলরোড, বেতবারটুলা, পঞ্চখানা, নন্দাইপট্টি, পর্বতখানা, লাল বাজার, ধোপাদীঘির পূর্বপাড়, চন্দানীটুলা, মিরাবাজার দক্ষিণ, চালিবন্দর পূর্ব, সুপানিঘাট, যতরপুর, নাইওরপুল, জয়নগর ও নয়াপাড়া ।
অঞ্চল-২ঃ ২১, ২২, ২৩, ২৪, ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-২ গঠন করা হয়েছে। অঞ্চল-২ এর আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো: গোপালটিলা, ভাটাটিকর, কালাপিন, টিকরিপাড়া, নিষ্করপাড়া, রাজপাড়া, কল্যাণপুর, শাপলাবাগ, বাদুরলটকা পূর্ব, লাকড়িপাড়া পূর্ব, গঙ্গাদাস, ব্রাহ্মণপাড়া, শিবগঞ্জ, সাদিপুর, উপশহর, টিলাবাড়ি, মাছিমপুর, মেন্দিবাগ, দুবড়িহাওর, দেওয়ানবাগ, উপকন্ঠ, দক্ষিণ সাদিপুর, টুলটিকর, মিরাপাড়া পশ্চিম, তেররতন, সৈদানীবাগ, মাদারপাড়া, নোয়াবাজার, তৈয়াটিকর (গোলাপবাগ), গঙ্গাদাস (হাতিমবাগ), কল্যাণপুর (শাপলাবাগ), লামাপাড়া পূর্ব, কুশিঘাট, সাদাটিকর, উত্তর সাদিপুর, কুইটুক, নয়াবস্তি, মুরাদপুর, পেশনেওয়াজ (মুক্তিরচক), পীরেরচক, মিরেরচক (আংশিক), সোনাপুর, বেতার কেন্দ্র, ইসলামপুর (আংশিক), ইসলামপুর (কলোনী) ইসলামপুর দক্ষিণ (ফাল্গুনী), মুসলিম নগর, মুগীরপাড়া, মুড়িলা, নূরপুর, নাথপাঁড়া, আটালু, পূর্ব ভাটপাড়া, পশ্চিম ভাটপাড়া, কান্দিহুতা, মীরাপাড়া, পূর্ব শাপলাভাগ, টুলটিকর আ/এ, পূর্ব কুশিঘাট, শাহপরান উপশহর আ/এ, কৃষিখামার, কৃষি খামারের (আংশিক), খাদিমপাড়া (আংশিক), কালাটিকর (আংশিক), নিপবন, মনিপুরি পাড়া বস্তি, বহর দাসপাড়া, ধনকান্দি, পাঁচগরী, লালখাটংগী, শাহপরান আ/এ, বহর নোয়াগাঁও, এ.টি.আই, ভাওয়াল টিলা, ইসলামাবাদ, কল্পগ্রাম।
অঞ্চল-৩ঃ ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ৩৪, ৩৫ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-৩ গঠন করা হয়েছে। অঞ্চল-৩ এর আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো: হাওয়াপাড়া, তাতিপাড়া, খন্দকারটুলা, নয়াসড়ক, চারাদীঘিরপাড়, মজলিস আমীন, কুমারপাড়া পশ্চিম, সওদাগরটুলা, খান্দাউড়া, ধোপাদীঘির উত্তরপাড়, নাইওরপুল, খ্রিষ্টান মিশন, কাজীটুলা, কাজী জালাল উদ্দিন, মহলে আব্দুল্লাহ, ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই (শাহ চান গলি), আম্বরখানা পূর্ব, চন্দনটুলা, চৌহাট্টা, মিরবক্সটুলা, বেতবারটুলা (পূর্ব জিন্দাবাজার), মানিকপীর রোড, শাহী ঈদগাহ, উত্তর মিরাবাজার, আগপাড়া, ব্রজনাথটিলা, ঝরনারপার, নয়াপাড়া, ঝেরঝেরি পাড়া, কুমারপাড়া (পূর্ব) মুক্তারখাকিমানী (পশ্চিম), শাখারীপাড়া, ভাইয়ারপাড়া, সুনাতলা, দর্জিপাড়া, সোনারপাড়া, দর্জিবন্দ, আলমটুলা, দপ্তরীপাড়া, রায়নগর, মুক্তারখাকিমানী (পূর্ব), খারপাড়া, ধুনিশাহী ঈদগাহ, মজুমদারপাড়া, সোনারপাড়া লাল মঞ্জিল, ছাপার বনপাড়া, খন্ডিকরপাড়া, ঠাকুরপাড়া, লামাপাড়া (উত্তর-পশ্চিম), রায়নগর, সেনপাড়া, নাথপাড়া, দক্ষিণ বালুচর, খরাদিপাড়া, ধোপার, ব্রাহ্মণপাড়া, আদিত্যপাড়া, দাসপাড়া, দেবপাড়া, লাকড়িপাড়া পশ্চিম, বাদুলটকা পশ্চিম, শিবগঞ্জ, ব্ৰাহ্মণপাড়া (খন্ডিকরপাড়া), খাদিমপাড়া (আংশিক), মীরমহল্লা, বহর কলোনী, বাহুবল আ/এ, বাহুবল, কলোনী, উদ্দিন টিলা, কালাটিকর (আংশিক) (শান্তিভাগ), জাহানপুর, সৈয়দপুর (আংশিক), মোহাম্মদ পুর, চামেলীবাগ (গোয়াল গাঁও), শ্যামলী আ/এ (আংশিক), ইসলামপুর পূর্ব, সরকারি কলেজের (আংশিক), সিলেট টেক্সটাইল (আংশিক), প্রকৌশলী কলেজ, দুগ্ধ খামার, শ্যামলী আ/এ (আংশিক), সৈয়দপুর (আংশিক), জাহানপুর উত্তর, (বুড়িবস্তি), আলুরতল, উত্তর বালুচর, আরামভাগ, দুর্গাবাড়ী, এম.সি.কলেজ আ/এ, টি.ভি.গেইট হাসপাতাল এলাকা, বন বিভাগ টিলা, ইকো পার্ক, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর।
অঞ্চল-৪ঃ ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৩৭, ৩৮ ও ৩৯ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-৪ গঠন করা হয়েছে। অঞ্চল-৪ এর আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো: হাউজিং এস্টেট, মনিপুরীপাড়া, দত্তপাড়া, কোনাপাড়া, গড়দোয়ার, হানিটুলা, ৩৭, ৩৮, ৩৯ আম্বরখানা বড়বাজার রাস্তার পশ্চিম অংশ, আম্বরখানা বড় বাজার রাস্তার পূর্বাংশ, ওয়াপদা কলোনি, গোয়াইপাড়া, রায় হোসেন, কলবাখানী, হাজারীবাগ, খাসদবীর, পীরমহল্লা, চৌকিদেখি পূর্ব, মালীপাড়া, বাদাম বাগিচা, চৌকিদেখি পশ্চিম, সৈয়দ মুগনী, জালালাবাদ আ/এ, পশ্চিম পীর মহল্লা, ফাজিল চিশত, সুবিদবাজার পূর্ব, বানিয়ামহল, হাতর হাওর (উত্তর পীর মহল্লা), উমর কাটিগড়, মুগলীটুলা, সুবিদবাজার নয়াবস্তি, সুবিদবাজার ছয়েফ খান রোড, ব্রাহ্মণশাসন, পনিটুলা, পাঠানটুলা পূর্ব, পাঠানটুলা পশ্চিম, করেরপাড়া, কুচারপাড়া, চান্দাই গির্দা, নোয়াপাড়া এক, কলোনি দুই, কলোনি তিন, ভট্টপাড়া, পানতলা, আড়খাই, চুড়ারপাড়া, কালিবাড়ী, হাওলাদারপাড়া (অংশ), দর্জিপাড়া, কারীপাড়া, টিলারগাঁও, ডলিয়া, বড়গুল, দুসকী, বিশ্ববিদ্যালয়, আখালিয়া নতুন বাজার আ/এ, যুগীপাড়া, দামালীপাড়া, খাদরা মডেল টাউন, ক্বারীপাড়া, খলাপাড়া, চান্দিয়ালা, নোয়াপাড়া, বিজিবি এলাকা, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, আখালিয়া ঘাট, নাজিরের গাঁও, টিওরবাড়ী, খালিগাঁও হায়দরপুর, চরুগাঁও, সাহেবেরগাঁও, শেখপাড়া, ওয়াবদা, কুমারগাঁও, শাহপুর, নোয়াগাঁও (আংশিক), নয়া খুরুমখলা, শাহপুর খুরুমখলা, পীরপুর (আংশিক), টুকেরগাঁও (আংশিক), খুরুমখলা, নোয়াপাড়া, তালুকদারপাড়া, মইয়ারচর, পীরপুর (আংশিক), নোয়াগাঁও (আংশিক), নোয়াগাঁও হিন্দু পাড়া, গৌরিপুর।
অঞ্চল-৫ঃ ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে অঞ্চল-৫ গঠন করা হয়েছে। অঞ্চল-৫ এর আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো: খোজারখলা, গাংগু দক্ষিণ-পশ্চিম (অর্ধাংশ), বারখলা, ভার্থখলা, কায়স্তরাইল, ২৯, ৩০, ৪০, ৪১। মোমিনখলা পশ্চিম, কাজীরখলা, দাউদপুর, ঝালোপাড়া, গাংগু (রেল লাইনের উত্তর), সাধুরবাজার, কদমতলী, আলমপুর, গোটাটিকর, পাঠানপাড়া, পৈত্যপাড়া, বাটঘর, হরিনন্দী, আচার্যপাড়া, কিষাণপাড়া, যোগীশাসন, মোমিনখলা পূৰ্ব, সামাল হাসান, মজলিসপুর, গাংগু, কাজীরখলা, রিয়াছতপুর, মাজপাড়া, সুনামপুর, পশ্চিম বরইকান্দি, কামুশেনা, তেলিরাই, নিয়ামতপুর, মজিদপুর, সিরাজগঞ্জ, পিরিজপুর, পর্বতপুর, বদিকোনা (আংশিক), ধরাধরপুর, উম্মুর কবুল, লাউয়াই, মোহাম্মদপুর, রায়েরগাঁও, জৈনপুর, চান্দাই, তেলীপাড়া, চান্দাই পশ্চিমপাড়া, টিয়রগাঁও, তালুকদারপাড়া, নজরপুর, বকশীপুর, গালিমপুর, দাউদপুর (আংশিক), কুচাই, পালপুর, দক্ষিণ কুশিঘাট, চিটা শ্রীরামপুর, রুগনপুর, সামাল হাসান, মজলিশপুর (আংশিক), গংগানগর, মনিপুর (আংশিক), আলমপুর (আংশিক) ছিটা গোটাটিকর, গংগা রায়েরচক, পশ্চিমভাগ, পশ্চিমভাগ আ/এ, সারপিং, সুলতানপুর, তৈয়ব কামাল (আংশিক), শেখপাড়া (আংশিক) ও শ্রীরামপুর।
অঞ্চলসমূহের প্রতিটিতে নিম্নোক্ত কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত হবে- ক) প্রশাসনিক কাজ খ) হিসাব রক্ষণ (কর্মচারীদের বেতন, অফিস পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত খরচ), পূর্ত কাজসমূহ ও রক্ষণাবেক্ষণ, প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিচর্যা, সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি, দাতব্য চিকিৎসালয়, ভেজাল খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, স্যানিটেশন ভেটেরিনারি কার্যক্রম, জবাইখানা ব্যবস্থাপনা, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনকরণ, মশক নিধন, পাবলিক টয়লেট, শিশু কেন্দ্র, কবরস্থান এবং শ্মশানঘাট রক্ষণাবেক্ষণ, সিটি কর নির্ধারণ ও আদায়, লাইসেন্স প্রদান ও ফি আদায়, বিজ্ঞাপন সংক্রান্ত, বাজার ফি আদায়, আবর্জনা পরিস্কার ও পরিচ্ছন্নকরণ, স্যানিটারী ল্যান্ডফিলিং, ডাম্পিং গ্রাউন্ড রক্ষণাবেক্ষণ, সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি (কমিউনিটি সেন্টার, পার্ক, পাঠাগার), ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, আত্ম-কর্মসংস্থানে সহায়তা প্রদান, উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রশিক্ষণ।
প্রজ্ঞাপনে সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে অবিলম্বে এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে
ময়মনসিংহ-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ
ময়মনসিংহ-২ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহর ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন বিএনপির এক কর্মী। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে।
শুক্রবার রাতে ছড়ানো ভিডিওতে ওই ব্যক্তি সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ করে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দেন। এ ঘটনায় আজ শনিবার দুপুরে ১১ জোটের সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লার পক্ষে থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তারাকান্দা থানার ওসি আবদুর রাশিদ।
হুমকি দেওয়া ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছেন স্থানীয়রা। তিনি তারাকান্দা থানার রামপুর ইউনিয়নের আটাদার গ্রামে প্রয়াত জব্বার আলীর ছেলে মো. সোহরাব হোসেন। তিনি স্থানীয় বিএনপির কর্মী।
ভিডিওতে মুহাম্মদুল্লাহকে উদ্দেশ্য করে সোহরাব বিভিন্ন আপত্তিকর ও মানহানিকর মন্তব্য করেন।
সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মোতাহার হোসেন তালুকদারকে নিয়ে কথা বললে এমপির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন এবং পুনরায় রাস্তায় নামলে তার অবস্থা খারাপ করে দেওয়া হবে। বক্তব্যজুড়ে তিনি রাজনৈতিক উসকানিমূলক মন্তব্য ও অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেন।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুহাম্মদুল্লাহ বিএনপির প্রার্থী মোতাহার হোসেন তালুকদারকে পরাজিত করে নির্বাচিত হন। পরে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোতাহার হোসেনকে ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেয় সরকার।
হুমকির বিষয়ে সংসদ সদস্য মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, “আমি আগে বিষয়টি শুনেছিলাম, তবে এইমাত্র পুরো ভিডিওটি দেখলাম। এখন আইনগতভাবে কীভাবে প্রতিকার পাওয়া যায়, সেটি জানতে উপজেলা থানা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলব।”
হুমকির কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা মূলত চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রতিক্রিয়া। তারা উসকানি দিয়ে ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। কেউ তাদের সঙ্গে এসব করতে যাচ্ছে না বলেই তারা এমন আচরণ করছে।
ভিডিওতে মোতাহার হোসেনের নাম বলা নিয়ে মুহাম্মদুল্লাহ বলেন, “ভিডিওতে তো সরাসরি বলা হয়েছে, তালুকদারের বিরুদ্ধে কথা বললে আমার চোখ তুলে ফেলবে। বিষয়টি বোঝার আর কিছু নেই। অনেকেই আমাকে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তিকে তালুকদার সাহেবের সঙ্গে একাধিকবার দেখা গেছে।”
হুমকির ভিডিওতে নিজের নাম আনা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে মোতাহার হোসেন বলেন, ঘটনাটি রাজনৈতিক নয় বরং ব্যক্তিগত বিরোধের জের।
তিনি বলেন, “যে ছেলেটার বাড়িঘর পোড়ানো হয়েছিল, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এমপির সঙ্গে তার ব্যক্তিগত বিরোধ রয়েছে। এটি কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, আমারও কোনো বিষয় নয়।”
ভিডিও প্রকাশের পর ওই ব্যক্তিকে তা মুছে ফেলতে বলেছেন বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।
তার ভাষ্য, “আমি সঙ্গে সঙ্গে তাকে বলেছি, এটা তোমার ব্যক্তিগত বিষয়, ব্যক্তিগতভাবেই সমাধান করো। ভিডিওটি ডিলিট করো। পরে সে ভিডিওটি ডিলিট করেছে।”
হুমকি দেওয়া ব্যক্তির দলীয় পরিচয়ের বিষয়ে মোতাহার হোসেন বলেন, বিএনপিতে তার কোনো পদ নেই। সংগঠনের কোথাও তার সম্পৃক্ততা আছে কি-না, সেটি খতিয়ে দেখতে একটি অনুসন্ধান কমিটি করা হয়েছে। তবে সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তারাকান্দা থানার ওসি আবদুর রাশিদ বলেন, “ভিডিওতে সংসদ সদস্যকে নিয়ে মানহানিকর মন্তব্য করা হয়েছে। তার প্রতিনিধি থানায় এসে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। প্রয়োজন হলে সাইবার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করার কথাও বলা হয়েছে।” এ ঘটনায় পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন বলেন জানান তিনি।
হুমকির বিষয়ে জানতে বিএনপি কর্মী সোহরাব হোসেনকে ফোন করা হলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
নওগাঁর পোরশায় পুকুরের পানিরতে ডুবে মাহিম (৬) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের পূর্ব দিয়াড়াপাড়া গ্রামের মাজেরুল ইসলামের ছেলে। আজ শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, দুপুরে শিশুটি বাড়ির পাশে উপজেলা মসজিদের পাশের পুকুরপাড়ে খেলতে যায়। সেখানে সে এক সময় পুকুরের পানিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে পানিতে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ নাসিমা সুলতানা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভূমিমন্ত্রীর হাতে নিমের বীজ তুলে দেন বৃক্ষপ্রেমী তাল বেলাল
নওগাঁ-রাজশাহী আঞ্চলিক মহাসড়কের ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কের দুপাশে লক্ষাধিক তালের বীজ বপণ করে “বৃক্ষপ্রেমী তাল বেলাল” নামে পরিচিতি পাওয়া নওগাঁর সাংবাদিক মাহমুদুন নবী বেলাল এবার ভূমি মন্ত্রীর হাতে ২৫ কেজি দেশি নিম গাছের বীজ তুলে দিয়েছেন।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজশাহীতে চলমান ১৫ দিনব্যাপী বৃক্ষমেলা প্রাঙ্গনে আয়েজিত অনুষ্ঠানে বেলাল বীজগুলো ভূমি মন্ত্রী আলহাজ মিজানুর রহমান মিনু এমপির মাধ্যমে বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে দেন।
এসময় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আশিক সাঈদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির, সামাজিক বন বিভাগ রাজশাহীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. জাহাঙ্গীর আলম, সামাজিক বন অঞ্চল বগুড়ার বন সংরক্ষক মুহাম্মদ সুবেদার ইসলাম, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এতে সভাপতিত্ব করেন।
বীজ হস্তান্তরকালে ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় দেশের প্রতিটি নাগরিকের গাছ লাগানো উচিত। আমাদের প্রিয় নেতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারাদেশে ‘বৃক্ষ রোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান নিয়ে যে সবুজায়নের ডাক দিয়েছেন, নওগাঁর তাল বেলালের এই উদ্যোগ সেই কর্মসূচিকে আরও গতিশীল করবে। নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর গাছ রোপণের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও শ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। পরিবেশ রক্ষায় এমন প্রতিটি নাগরিক উদ্যোগকে আমাদের সরকার সবসময় স্বাগত জানায়।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান বলেন, “জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি বনায়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি এমন সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্যোগে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে।”
বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল বলেন, “দেশি নিম গাছ আমাদের পরিবেশ, প্রকৃতি ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষকে গাছ লাগাতে উদ্বুদ্ধ করছেন। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে একজন সাধারণ গাছপ্রেমী হিসেবে আমি এই ক্ষুদ্র অবদান রেখেছি। মাননীয় ভূমি মন্ত্রী ও বিভাগীয় কমিশনার মহোদয়ের সরাসরি অংশগ্রহণে আজ বন বিভাগের কাছে এই বীজ পৌঁছাতে পেরে আমি আনন্দিত।”
বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর এমন সবুজ কর্মসূচি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই বীজগুলো নার্সারিতে চারা তৈরিতে ব্যবহার করা হবে, যা পরবর্তীতে দেশের সবুজায়নে অনন্য ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার সদস্যবৃন্দ, বন বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন স্তরের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বৃক্ষপ্রেমী মাহমুদুন নবী বেলাল নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের প্রায় ৭৫ কিলোমিটার রাস্তার পাশে সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ২০১৭ সাল থেকে তাল বীজ রোপণ করে আসছেন। এর পাশাপাশি তিনি জেলার বিভিন্ন রাস্তার পাশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ফলজ, বনজ, ওষুধি ও শোভাবর্ধনকারী গাছের চারা রোপণ করে সারা দেশের মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন। তিনি নওগাঁ পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পরিবেশ রক্ষায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সিলেট শহরের যানজট নিরসনে আম্বরখানা থেকে লাক্কাতুরা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণের নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা সিলেটবাসীর জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ হবে। তিনি আজ (শনিবার) সিলেট সার্কিট হাউসে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
সড়ক নির্মাণকাজের অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত হয়ে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রধান সড়কগুলোর নির্মাণকাজ এবং চলমান প্রকল্পসমূহ পরিকল্পনা অনুযায়ী দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আওতায় ৪২টি ওয়ার্ড রয়েছে। এসব ওয়ার্ডের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একাধিক মেগা প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে সিলেট শহর আরও আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল নগরীতে পরিণত হবে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং সড়ক অবকাঠামোসংক্রান্ত প্রধান সমস্যাগুলোরও সমাধান হবে।
তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে শহরের ছড়াগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করতে এবং বর্ষাকালে বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত খাল খনন ও রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। পানির উৎস থেকে নদী পর্যন্ত প্রাকৃতিক প্রবাহের সুষ্ঠু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।
সভায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. নুরের জামান চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সিলেটের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ চলমান রয়েছে। সিলেট থেকে ফেঞ্চুগঞ্জ হয়ে মৌলভী বাজার গামী সড়কটি আরও প্রশস্ত করা হবে। একইভাবে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লাক্কাতুরা এবং লাক্কাতুরা থেকে টিবি গেট পর্যন্ত একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।
ডা. শফিকুর রহমান
জুলাই গণহত্যার বিচার, সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সিলেটে বিশাল বিভাগীয় সমাবেশ করেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় সিলেট নগরীর সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের বিভিন্ন বিভাগে ধারাবাহিক কর্মসূচির পর সিলেটের এই আয়োজনের মধ্য দিয়েই জোটের বর্তমান দফার কর্মসূচি শেষ হলো।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “এখন যারা সরকার গঠন করেছেন তারাও মজলুম ছিলেন। কিন্তু তারা ভুলে গেছেন সেই ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পথ ধরেই তারা হাঁটা শুরু করেছেন। সমাজের সবক্ষেত্রে তারা বেপরোয়া, নির্লজ্জ দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে তারা জাতীয়করণ করতে চাচ্ছেন। আমরা মানব না, হাসিনা তাড়িয়েছি, যদি ফ্যাসিবাদ আপনারা কায়েম করেন তবে জনগণ আপনাদেরকেও তাড়াবে।”
সিলেটের আঞ্চলিক বঞ্চনা ও বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের মানুষ জেনারেল ওসমানীর নেতৃত্বে লড়েছিলেন। সেই সিলেটের কিছু ন্যায্য দাবি যুগ যুগ ধরে ঝুলে আছে, বাস্তবায়ন হচ্ছে না। প্রবাসীবহুল এলাকা হিসেবে নামমাত্র আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর আছে, এখনো তা পূর্ণাঙ্গতা পায়নি। আজকের এই সমাবেশ থেকে দাবি করছি অবিলম্বে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত করুন।”
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বেহাল অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, “সমুদ্রের ঢেউ উপলব্ধি করার জন্য বঙ্গোপসাগরে যাওয়ার দরকার নেই, ঢাকা থেকে সিলেট আসলেই তা বোঝা যাবে। আমরা চাই অবিলম্বে এই রাস্তা সম্পন্ন করে জনগণকে স্বস্তি দেওয়া হোক।”
সিলেটের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি এখানে ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয় হবে। কলেজটি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে কেন? এটাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত করে প্রাণ দেওয়া হোক। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। অবিলম্বে এটাকে পূর্ণাঙ্গতায় রূপ দেওয়া হোক।”
বর্তমান প্রশাসনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আরও অনেক দাবি সিলেটবাসীর আছে। আমরা জানি না আমরা কার কাছে এসব দাবি করছি, এবং আদৌ তারা এসব দাবি বাস্তবায়ন করবে কি না আমরা জানি না।”
আন্দোলনের পরবর্তী ধাপ ও গণভোটের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "আজকের এই বিভাগীয় সমাবেশ আমাদের শেষ সমাবেশ। সারা বাংলাদেশ আমরা ঘুরেছি। মানুষের একই দাবি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। সত্তরভাগ মানুষ হ্যাঁ বলেছে। এখন আমাদের হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই।"
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতারা। সমাবেশকে কেন্দ্র করে সিলেটের চার জেলা থেকে ব্যাপক লোকসমাগম ঘটে। এর আগে শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া অঙ্গীকার এবং সংবিধান সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে বর্তমান সরকার সরে আসার প্রবণতা দেখাচ্ছে, যার প্রতিবাদেই এই রাজপথের কর্মসূচি।
নিহত শিক্ষার্থী শাহরিয়ার আহমেদ ইমন
নওগাঁয় ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলছিল শাহরিয়ার আহমেদ ইমন (২৫) নামের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ। তিনি জেলার মান্দা উপজেলার মাগুরা গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে। আজ শনিবার সকালে নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশ শহরের বাঙ্গাবাড়িয়া মধ্যপাড়া মহল্লার জননী ছাত্রাবাসের ওই কক্ষ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইমন নওগাঁ সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। জননী ছাত্রাবাসের ১০৯ নম্বর কক্ষের ডবল রুমে একাই ভাড়া থাকতেন তিনি। তার পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার রাতে মোবাইলফোনে কল করেও তার কোন সাড়া না পেয়ে শনিবার সকাল ৭ টার দিকে তার মামা ওই ছাত্রাবাসে আসেন। এ সময় ইমনকে বার বার ডাকাডাকি করেও কোন সাড়া না পাওয়ায় ছাত্রাবাসের অন্যদের সহযোগিতায় বন্ধ দরজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে সিলিং ফ্যানের সাথে তার মরদেহ ঝুলতে দেখতে পান। পরে থানা পুলিশে খবর দেয়া হয়।
নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় একটি ইউডি মামলা হয়েছে। মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধ্যানে তদন্ত চলছে।