বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান

  • প্রকাশ : সোমবার ১৫ জুন, ২০২৬, সময় : ৭:০৬ এএম

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা: শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, দেশ ও জনগণের স্বার্থে জামায়াত কোন আপোষ করবেনা। আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ হাসিমুখে ফাসির কাষ্ঠে জীবন দিয়েছেন কিন্তু পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সাথে কোন আপোষ করেন নি। দেশ ও জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আমরা পিছপা হবোনা। সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে আন্দোলন চলবে। গণরায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করেই ছাড়বো। 


সংসদে নিজেদের ভূমিকা প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সংসদে বিরোধী দল চরমপন্থা ও গরমপন্থা অবলম্বন করবে না, মধ্যমপন্থা অবলম্বন করবে। সংসদকে আর আমরা মমতাজের সংসদ বানাতে চাই না। 


তিনি বলেন, আজকেও সংসদে একজন দাঁড়ালেন, আল্লাহর বিধার পর্দার বিরুদ্ধে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করলেন। সরকারি দল ইতোমধ্যে স্পষ্টভাবে জাতির সাথে দেওয়া ওয়াদা লঙ্ঘন করেছে দাবি করে জামায়াত আমীর বলেন, জনগণের রায় ব্যর্থ হলে টেকসই গণতন্ত্র বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে সংসদে সমাধান না হলে রাজপথে লড়াই চলবে। তবে সরকার দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশ ভাল থাকবে। 


তিনি গতকাল রোববার (১৪ জুন) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিক ও ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় কালে এসব কথা বলেন। মতবিনিময় কালে তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সভায় ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃবৃন্দ ও সিলেটে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবি সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ভালো নির্বাচন হলেই ভালো শাসক হওয়ার প্রমাণ নেই। রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় গিয়ে বর্তমান সরকার জুলাই সনদকে উপেক্ষা করেছে এবং প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের দেয়া গণভোটের রায়কে বাতিল করেছে। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে আমরা ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম।


নির্বাচনের ফলাফলে কারসাজির অভিযোগ তুলে ডা: শফিক বলেন, আমরা সাড়ে ১৭ বছর একটা কঠিন অবস্থা অতিক্রম করেছি। সাড়ে ১৭ বছর পর এবার একটা অর্থবহ নির্বাচন জাতি আশা করেছিলো। আমার ব্যক্তিগত মত, নির্বাচন সুন্দর হয়েছে। কিন্তু ফলাফল সুন্দর হয়নি। ফলাফলে অনেককিছু করা হয়েছে। যেটা এখন অনেকে স্বীকার করছেন। আমরা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। ফলাফল মেনে না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা ছিলো। আর যেসব দেশে একবার গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে তারা আর এর থেকে বের হতে পারেনি।


সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সাবেক পুলিশ প্রধান বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ডা. শফিক বলেন, বেনজীরকে আটক দেশের পুলিশের কৃতিত্ব নয়, এটা ইন্টারপোলের কৃতিত্বতার বিরুদ্ধে রেড এলার্টও বর্তমান সরকার জারি করে নাই। তবে বেনজীর আটক বাংলাদেশের একটা অর্জন। কিন্তু তিনি দুবাইর কারাগারে থাকবেন নাকি দেশে আনা হবে তা সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।


সীমান্তে অব্যাহত উত্তেজনা চলছে জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, ওপার থেকে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। আমরা দুই দুইবার স্বাধীন হলাম, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পেলাম কী? জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে আমরা কোনো আপোষ করব না।


প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাজেটে অনেককিছু ওয়েভার এসেছে। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও মোটরসাইকেলের ওপর সরকার কর বসাবে কি না সেটা জানতে চান তিনি। দুর্নীতি বন্ধ আর দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে কি না এই দু’টি বিষয়ের স্পষ্ট উল্লেখ নাই বাজেটে। 


তিনি বলেন, এদেশে এক কোটি মানুষ ট্যাক্স দেওয়ার মত আছেন, তাহলে শুধু ৩৪ লাখ কেন? পুশইন সম্পর্কে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ বিজিবির সহযোগী হয়ে উসকানির সৃষ্টি হয় এমন কোন কাজ আমরা মেনে নেবো না। সেটা যদি মুসলমানরা করে, তাও মেনে নেবো না। অন্য ধর্মের কেউ করলেও মেনে নেবো না। এ দেশ আমাদের সবার। যেটা করলে শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষা হয় সেটা করতে হবে। সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।


মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, জেলা আমীর মাওলানা হাবিবুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিলেট জেলা আহ্বায়ক জুনেদ আহমদ ও মহানগর আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিলেট মহানগর সভাপতি মাওলানা এমরান আলম, লেবারপার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, এলডিপির সিলেট জেলা সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, জাগপা সিলেট মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নুরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, মহানগর সেক্রেটারী মোহাম্মদ শাহজাহান আলী ও জেলা সেক্রেটারী মোঃ জয়নাল আবেদীন প্রমূখ। 


এর আগে তিনি দুপুরে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার তালবাড়ী জামেয় ইসলামিয়া ইউসুফিয়া কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনায় অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাখেন। এ সময় জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, মরহুম অধ্যক্ষ মাওলানা ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের একজন নিবেদিতপ্রাণ ও মুখলিস দাঈ। 


সিলেট অঞ্চলে ইসলামী আন্দোলনের প্রচার, প্রসার এবং সংগঠনকে মজবুত ও গতিশীল করার পেছনে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তিনি নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে সংগঠনের আদর্শকে সিলেটের সর্বস্তরের মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়েছেন। কুরআন ও দ্বীনের সুমহান খেদমতে তিনি ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ দ্বা’য়ি ইলাল্লাহ। এর আগে তিনি মরহুম ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীর কবর জিয়ারত করেন এবং মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করেন।



সর্বশেষ সব খবর

পঞ্চগড়ে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ

নদী ও দেশ রক্ষায় মানুষের বেঁচে থাকার জন্য গাছ লাগানোর বিকল্প নেই


  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৪ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৬ পিএম

পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেছেন, বৃক্ষরোপন সংরক্ষনের যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশে নির্বাচনী ইশতেহারে ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপনের কর্মসুচি নিয়েছিলেন তারই ধারা বাহিকতায় পঞ্চগড় জেলায় আজকে বৃক্ষরোপন অভিযান ও ১০ দিন ব্যাপী বৃক্ষমেলা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। 


আজ শুক্রবার(২৪জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসন ও পঞ্চগড় বনবিভাগ এর আয়োজনে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালি বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পঞ্চগড় সড়কারী অডিটোরিয়ামে এসে বেলুন উড়িয়ে প্রতিমন্ত্রী বৃক্ষরোপন অভিযান ও বৃক্ষমেলার শুভ উদ্বোধন করেন। এসময় তিনি বৃক্ষমেলা পরিদর্শন করেন। 


তিনি আরও বলেন, গাছ আমাদের অক্সিজেন সরবরাহের মাধ্যমে জীবন রক্ষার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গাছের সাথে নদীর সম্পর্ক আছে। পঞ্চগড়ে করতোয়া, মহানন্দা, তালমাসহ বিভিন্ন নদী রয়েছে। এসব রক্ষায় গাছ লাগানো আবশ্যক। 


তিনি আরও বলেন,  আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। পাশাপাশি একটি করে গাছ লাগানোর অনুরোধ করেন শিক্ষার্থীদের। 


এসময় জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীনের সভাপতিত্বে পঞ্চগড় পুলিশ সুপার আবু সাইম, দিনাজপুরের সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ও বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার সদস্য সচিব ফাহিম ও জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলাম চাচ্চু বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:১০ এএম

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামে ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা  হয়েছে। এ মামলায় মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার (২৭) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 


বৃহস্পতিবার সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে দুপুরে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


গ্রেফতার জাহাঙ্গীর উপজেলার মৌডুবী ইউনিয়নের ভূইয়াকান্দা গ্রামের আক্কেল  আলী হাওলাদারের ছেলে।


মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ১৮ জুলাই তিনি তার মাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যান। 


এজাহারে বলা হয়,  ১৯ জুলাই রাত আনুমানিক ১টার দিকে জাহাঙ্গীর পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের বসতঘরের পেছনের জানালা দিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ভুক্তভোগী তাকে দেখতে পেয়ে চিৎকার দিলে জাহাঙ্গীর তাকে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ভুক্তভোগীর ১০ মাস বয়সী শিশুর গায়ে অভিযুক্তের পা লাগলে শিশুটি কান্না শুরু করে। পরে চার বছর বয়সী অপর সন্তানও জেগে কান্নাকাটি শুরু করে। এ সময় জাহাঙ্গীর শিশুটির মুখ চেপে ধরেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জাহাঙ্গীর ঘরের পেছন দিয়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন ওই গৃহবধূ।


ঘটনার পর ভুক্তভোগী তার স্বামী ও স্বজনদের বিষয়টি জানান। পরে অভিযুক্ত ও তার স্বজনদের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য হুমকি ও চাপ দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।


রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী বাদী হয়ে রাঙ্গাবালী থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীরকে গ্রেফতার করে। দুপুরে তাকে রাঙ্গাবালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


সর্বশেষ সব খবর

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে মহাদেবপুরে শোভাযাত্রা

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:০৪ এএম

"প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি" এই প্রতিপাদ্য নিয়ে শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে নওগাঁর মহাদেবপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।


এ উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা উপজেলা কমপ্লেক্সের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মানজুরা মুশাররফ এতে সভাপতিত্ব করেন।


উপজেলা নির্বাহী অফিসারের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোসলেম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ খুরশিদুল ইসলাম, সাংবাদিক লিয়াকত আলী বাবলু আজাদ হোসেন মুরাদ প্রমুখ। 


শোভাযাত্রায় অন্যদের অবসরপ্রাপ্ত প্রভাষক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, সদর ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ হাসান তরফদার শাকিল, হাতুড় ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী, একাডেমিক সুপারভাইজার ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ অংশ নেন।


বক্তব্য দানকালে ইউএনও উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড, হাসপাতাল গেটের সামনে ও বিভিন্ন জনসমাবেশস্থলে প্রকাশ্যে ধূমপানকারিদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।



সর্বশেষ সব খবর

শিক্ষকের পিটুনির শিকার শিক্ষার্থীদের একাংশ

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৫৫ এএম

নওগাঁয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৭ শিশুশিক্ষার্থীকে বৈদ্যুতিক তার দিয়ে পিটানোর অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। প্রতিবাদে অভিভাবকেরা এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করে অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবি করেছেন। তবে ওই শিক্ষক দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করে পার পাবার চেষ্টা করছেন। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সদর উপজেলার নারচী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল দল সম্পর্কে ব্যঙ্গ করার জেরে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক আব্দুস সালাম।


অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস নেবার জন্য কোন শিক্ষক ছিলেন না। এসময় এক শিক্ষার্থী ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ বলে গান গাওয়া শুরু করেন। গানের শব্দে শিক্ষক আব্দুস সালাম ক্ষিপ্ত হয়ে একখন্ড বৈদ্যুতিক তার দিয়ে শিক্ষার্থীদের এলাপাথারি পিটাতে থাকেন। এতে ওই শ্রেণির ২৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ জন ছেলে ও মেয়ে শিক্ষার্থী আহন হন।


শিশুরা বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দেয়। সন্ধ্যায় তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন নারচী মোড়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। 


চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আক্তার বলেন, ‘সালাম স্যার আর্জেন্টিনা সাপোর্ট করেন। দল হেরে যাওয়ায় আমরা কয়েকজন মিলে ক্লাসে গান গাইছিলাম ব্যঙ্গ করে। এরপর স্যার এসে আমাদের সবাইকে ইচ্ছেমতো মারধর করেন।’


আরেক শিক্ষার্থী আব্দুর রহমান বলেন, ‘আর্জেন্টিনা স্পেনের কাছে বাঁশ খাইছে’ এইটা বলে আমরা তিনজন গান গেয়েছিলাম। তারপর স্যার রেগে গিয়ে আমাদের পিঠে বেধড়ক মারধর করেন।’


স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’


জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষক আব্দুস সালাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের মারধর করায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবক ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করবো।’


জানতে চাইলে নওগাঁ জেলা ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হাবিব বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেবো।’



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৪৪ এএম

গাজীপুর মহানগরের বাসন থানাধীন আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ খুনের প্রধান আসামী স্বামী সাইফুল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করলে স্ত্রী হত্যার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। 


বিকেলে গাজীপুর পিবিআই কার্য়ালয়ে পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান। গ্রেপ্তার স্বামী মো: সাইফুল ইসলাম (৩৮) জামালপুরের ইসলামপুর থানার বেনুয়ারচর এলাকার বাসিন্দা।


গাজীপুর পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, মহানগরের বাসন থানার চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে থেকে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতযুক্ত এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সংবাদ পেয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার ক্রাইমসিন টিম অজ্ঞাতনামা লাশের পরিচয় সনাক্ত করে। নিহত শান্তা বেগম (৩৩) নাটোর সদরের চরলক্ষীকোল এলাকার শহিদুল ইসলামের মেয়ে। তিনি গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় ভাড়া থেকে পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। পরে নিহতের পিতা বাসন থানায় মামলা করেন।


তিনি বলেন, বাসন থানা পুলিশ একদিন মামলাটি তদন্ত করে। মামলাটি পিবিআই এর সিডিউলভুক্ত হওয়ায় ২৩ জুলাই পিবিআই গাজীপুর জেলা মামলাটি স্ব-উদ্দোগে গ্রহণ করে। এদিকে হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে পিবিআই গাজীপুর জেলার টিম প্রথম থেকেই ছায়া তদন্ত অব্যাহত রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় সকাল সাড়ে ৭ দিকে ফায়দাবাদ এলাকার ট্রান্সমিটার মোড় থেকে হত্যাকান্ডের জড়িত আসামি সাইফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার হেফাজত থেকে নিহত শান্তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।


পুলিশ সুপার আরো বলেন, সাইফুল আগে একটি বিয়ে করেছিল। সেই সংসারে দুই ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। পরে গাজীপুরে গার্মেন্টসে চাকুরি করাবস্থায় শান্তার সাথে সম্পর্ক হয় এবং পরে তারা বিয়ে করে। বিয়ের এক বছর পরে জানতে পারে শান্তার পর্বে আরো দুইটি বিয়ে হয়েছিল। শান্তার প্রথম স্বামী জুয়েল এবং দ্বিতীয় স্বামী সবুজের ঘরে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এছাড়াও সাইফুল ইসলাম বিভিন্ন কারনে শান্তাকে সন্দেহ করতে থাকে শান্তার যে অন্য কারো সাথেও বিবাহ বহির্ভত সম্পর্ক থাকতে পারে। এ বিষয়গুলি জানতে পেরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হয় এবং এক পর্যায়ে শান্তা আসামী সাইফুলকে ডিভোর্স দেয়। এরপর আবার আসামীকে একদিন শান্তা ফোন দিয়ে গাজীপরে আসতে বললে আসামী গাজীপুরে এসে শান্তাকে আবার বিয়ে করার পর প্রায় ২/৩ মাস তাদের ভালো চলে। কিন্তু এরপরেও সাইফলের মনে শান্তার প্রতি সন্দেহ থেকেই যায়। এর জেরে ঝগড়া ঝাটি করে সাইফল তার খালুর বাড়ীতে চলে যায়। 


গত ২১ জুলাই সকাল শান্তা সাইফুলকে ফোন করে গাজীপুর চৌরাস্তায় আসতে বলে। এসময় সাইফুল শান্তাকে বাসা থেকে ফল কাটার ছুরি নিয়ে আসতে বলে। পরে তারা গাজীপুর চৌরাস্তায় একাটি হোটেলে খাওয়া দাওয়া ওই আবাসিক হোটেলে রুমে অবস্থান কালীন সময় পুরনো কথাবার্তা নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এসময় তাদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে সাইফুল শান্তার আনা ছুরি দিয়ে শান্তার গলায় ও বুকে আরো আঘাত করে মোবাইল ও আইডি কার্ড নিয়ে পালিয়ে যায়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ এএম

গাজীপুরে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় পিতার যাবজ্জীন সশ্রম কারাদন্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়েছে। শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইবুনাল, গাজীপুর মহানগরের বিচারক মো. আবুবক্কর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার আদালতে আসামীর উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। এসময় রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম এবং আসামি পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকারসহ অন্যান্য আইনজীবীগণ উপস্থিত ছিলেন।


রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি আইনজীবী (পিপি) মোছাম্মৎ সেলিনা বেগম জানান, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার পুরাতন দোহারো খুলুমবাড়ি এলাকার স্থানীয় রিপন হোসেনের স্ত্রী মোসা. জোসনা বেগম (৩৯) এবং মেয়ে (১৫)কে নিয়ে গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুরের বরিশালের টেক এলাকায় বসবাস করতেন। গত বছরের ২৬ মার্চ রাত ১০টার দিকে তারা ঘুমিয়ে পরেন। পরে ওই রাতেই ভিকটিমের পিতা মো. রিপন হোসেন জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় কাশিমপুর থানায় ভিকটিমের মা জোসনা বেগম পিতাকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশ পাষণ্ড পিতাকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেন। পরে কাশিমপুর থানার এস আই রোকন মিয়া তদন্ত শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে চার্জসীট দাখিল করেন। পরে আদালত গত ১১ মে চার্জ গঠন করেন এবং সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। চার্জ গঠনের দুই মাসের মধ্যে বিজ্ঞ বিচারক এ মামলায় রায় ঘোষণা করেন। 


আসামী পক্ষের আনজীবী মো. সোহেল জামিন সরকার বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ যে কয়জন সাক্ষীর সাক্ষা গ্রহণ করেছেন আমি তাদেরকে যথেষ্ট জেরা করেছি। তাদের একজনের সাথে আরেক জনের সাক্ষয় অনেক অমিল রয়েছে। তারপরেরও বিজ্ঞ বিচারক যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন। লিগ্যাল এ্যাড কতৃক নিযুক্ত বিবাদী পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আমি এ রায়ে সংক্ষুব্ধ।

সর্বশেষ সব খবর