• প্রকাশ : বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৪:৪৭ এএম

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা শেষ। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে দীর্ঘ প্রচারণা শেষ হয়। এবার শুরু হিসেব নিকেশ। দীর্ঘ প্রচারণা শেষে এবার হিসেবে বসছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। সিলেট জেলার মোট ছয়টি আসন রয়েছে। বিএনপি নেতাদের দাবি, সিলেটের ছয়টি আসনের মধ্যে চারটিতে এগিয়ে আছেন তাদের প্রার্থীরা। 


তবে জামায়াতের নেতাদের দাবি, কেবল সিলেট-২ আসন ছাড়া আর কোথাও এগিয়ে নেই বিএনপি। একটিতে এগিয়ে রয়েছে জামায়াত। আর বাকীগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। স্থানীয় রাজনীতির পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, আওয়ামী লীগবিহীন এই নির্বাচনে সব আসনে নীরব ভোট বেশি। তারাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করে দিতে পারে। এসব বিষয় মাথায় রেখেই রাজনৈতিক নেতারা তাদের জয়-পরাজয়ের হিসাব কষছেন।


প্রচার প্রচারণায় ভোটের মাঠ অনেকাংশেই বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থক ও তাদের নেতা-কর্মীদের দখলে ছিল। এই দুই দলের প্রার্থীরাই ৫ অগাস্ট পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে জনসংযোগ, সভা-সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন। তবে সিলেট-৫ ও সিলেট-৬ আসনে ভালো অবস্থানে রয়েছেন দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।


সিলেট -১ঃ ‘মিথ ও মর্যাদার’ লড়াই


সিটি করপোরেশন ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিকে সিলেট বিভাগের চার জেলার ১৯টি আসনের মধ্যে সবসময় ‘মর্যাদার’ মনে করা হয়। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকেই সিলেট-১ আসনে যে দলের প্রার্থী জয়লাভ করেন, সেই দলই সরকার গঠন করে- এটা মিথে পরিণত হয়েছে।


এই আসনে আট প্রার্থী নির্বাচনি মাঠে থাকলেও মূল লড়াই হবে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের হাবিবুর রহমানের মধ্যে। পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া খন্দকার মুক্তাদির দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে প্রচারে থাকায় এগিয়ে থাকলেও ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে হাবিবুর রহমানও লড়াইয়ের আলোচনায় রয়েছেন। খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের বাবা খন্দকার আবদুল মালিক সিলেট বিএনপি প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। 


তিনি ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৮ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য হন। তার কনিষ্ঠ ছেলে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ২০১৮ সালেও বিএনপির হয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন।


এদিকে, বিএনপির অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য, সিলেট জেলা আমির হাবিবুর রহমান। তাকে নিয়ে দলে কোনো কোন্দল নেই, নেই কোনো অসন্তোষ। ইসলামী ছাত্রশিবির দিয়ে রাজনীতির পথ চলা শুরু হাবিবুরের। ১৯৮২ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দেন। তিনি সিলেট জেলা শাখার আমির থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। 


এর আগে হাবিবুর রহমান সিলেট-৬ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন। এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- সিপিবির মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কাস্তে), বাসদের প্রণব জ্যোতি পাল (মই), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের শামীম মিয়া (আ্যাপেল), গণঅধিকার পরিষদের আকমল হোসেন (ট্রাক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মাহমুদুল হাসান (হাতপাখা), বাসদ-মার্কসবাদীর সঞ্জয় কান্তি দাস (কাঁচি)।


সিলেট-২ঃ ‘ইলিয়াস-স্মৃতিতে নির্ভার’ লুনা


বিশ্বনাথ-ওসমানীনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-২ আসনের এক সময় সংসদ সদস্য ছিলেন বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী। তিনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা বিএনপির রাজনীতিতে আসেন। এবার তিনি ধানের শীষ নিয়ে লড়াই করছেন। তার সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী মুহাম্মদ মুনতাসির আলীর লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে স্থানীয় ভোটারদের ধারণা।


তারা মনে করেন, ইলিয়াস আলীর কারণে এখানে ব্যাপক জনপ্রিয় তাহসিনা রুশদীর লুনা। তিনি ভোটের প্রচারে ইলিয়াস আলীর সময়ে হওয়া উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন। এদিকে, এই আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও শুরু থেকেই মাঠে ছিলেন। এ নিয়ে দুই নেতার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে।অবশেষে হুমায়ুন কবিরকে দলের যুগ্ম মহাসচিব (পররাষ্ট্র) হিসেবে মনোনীত করায় লুনা ‘ঝামেলা মুক্ত’ হন বলে মনে করেন সমর্থকরা।এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন-গণফোরামের মুজিবুল হক (উদীয়মান সূর্য), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির উদ্দিন (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির মাহবুবুর রহমান চৌধুরী (লাঙ্গল)।


সিলেট-৩ঃ  জোটের সুবিধা-অসুবিধা


ফেঞ্চুগঞ্জ, বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী এম এ মালিক। তার সঙ্গে মূল লড়াইয়ে থাকবেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজু। এ আসনে মুসলেহ উদ্দিন রাজু তার বাবা ইসলামি পণ্ডিত মাওলানা নুরুদ্দিন গহরপুরীর পরিচয়ে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন। তবে বিএনপি শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধ থাকলে এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে পারলে ফল এম এ মালিকের পক্ষে যেতে পারে। 


তবে মালিকের জন্য এখনও বড় চ্যালেঞ্জ দলের ঐক্য। আর এই আসনে সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এম এ সালাম দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন; তারাও ধানের শীষকে বিজয়ী করতে মাঠে নেমেছেন। তবে তাদের অনুসারীরা শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেন তার উপরই নির্ভর করবে রাজুর ভাগ্য। এ ছাড়া এই আসনে বিএনপি প্রার্থীর বিপক্ষে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের প্রার্থী ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান লোকমান আহমদ। জোটের সিদ্ধান্তে তিনি মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন।


ভোটাররা বলছেন, বিএনপির প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী লোকমান আহমদ থাকলে নির্বাচনি লড়াই হত হাড্ডাহাড্ডি। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনি মাঠে রয়েছেন। তবে মূল লড়াইয়ে থাকবেন রিকশা প্রতীকের মুসলেহ উদ্দিন রাজু। এ আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আনওয়ারুল হক (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির আতিকুর রহমান (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা (ফুটবল), স্বতন্ত্র প্রার্থী মাইনুল বাকর (কম্পিউটার)।


সিলেট-৪ঃ ‘মেয়র-চেয়ারম্যানের’ লড়াই


কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৪ আসন। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এখানে ধানের শীষের প্রার্থী। আর জামায়াতে ইসলামী থেকে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে প্রার্থী হয়েছেন জয়নাল আবেদীন। আরিফ ও জয়নালের মধ্যে মূল লড়াই হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা। আরিফুল হক সিলেট-১ আসনে মনোনয়র প্রত্যাশী ছিলেন। আর জামায়াতের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন আরিফুল হককে ‘বহিরাগত’ বলে প্রচার চালান।  


তবে সিলেট-৪ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপক প্রচার চালিয়েচেনন আরিফুল। এদিকে, দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি জয়নাল আবেদীন। তিনি জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের দুই বারের সাবেক চেয়ারম্যান। এলাকায় তার শক্তিশালী অবস্থান রয়েছেন। এই আসন থেকে জামায়াত কখনও নির্বাচিত হতে পারেনি। 


আর নির্বাচনের ‘ম্যাজিক ম্যান’ হিসেবে আরিফুলের খ্যাতি রয়েছে। তার সমর্থকদের ভাষ্য, জাতীয় নির্বাচনে স্থানীয়, বহিরাগত কোনো বিষয় নয়। এখানে উন্নয়নই মূল লক্ষ্য।এই আসনে অন্য প্রার্থীরা হলেন- জাতীয় পার্টির মুজিবুর রহমান (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা সাঈদ আহমদ (হাতপাখা), গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলাম (ট্রাক)।


সিলেট-৫ঃ ‘ফুলতলী হুজুর ফ্যাক্টর’


দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত সিলেট-৫ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন মামুনুর রশিদ; যিনি সাধারণ মানুষের কাছে ‘চাকসু মামুন’ নামে পরিচিত। ভোটের মাঠে তার ‘ফুটবল’ হিসাব পাল্টে দিতে পারে বলে মনে করছেন কর্মী-সমর্থকরা। দলের শৃঙ্খলা না মানায় এরই মধ্যে তাকে সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম সহসভাপতি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার সঙ্গে কাজ করছেন এমন আরও কয়েক নেতা বহিষ্কার হয়েছেন।


বিএনপি এই আসনটি তার জোট শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দিয়েছে। তিনি খেজুর গাছ প্রতীকে লড়ছেন। ২০১৮ সালেও তিনি বিএনপি জোট থেকে এই আসনে প্রার্থী হয়েছিলেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষে এখানে প্রার্থী হয়েছেন খেলাফত মজলিসের মুফতি আব্দুল হাসান। তিনি দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে লড়ছেন।তাদের সঙ্গে লড়াইয়ের ময়দানে এসেছেন আরেক আলোচিত রাজনীতিক ‘চাকসু মামুন’। 


তার গুরুত্ব অনুধাবন করে জেলা বিএনপির নেতারা ঘন ঘন জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট সফর করছেন। জোট প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছেন। সবশেষ এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন ‘ফুলতলী হুজুর’ হিসেবে পরিচিত আব্দুল লতিফ চৌধুরীর ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী। ভোটারদের অভিমত, এই আসনে ‘ফুলতলী হুজুরের’ ব্যাপক সমর্থক রয়েছেন। অতীতের নির্বাচনে দেখা গেছে, ফুলতলী হুজুরের সংগঠন ‘আনজুমানে আল ইসলাহের’ ভোট যেদিকে গেছে সেদিকেই ভোটের বাতাস তৈরি হয়েছে। 


এই ‘ভোট ব্যাংক’ সবসময় জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখে। ভোটারদের ধারণা, ‘ফুলতলী মসলকের’ একটা বড় ভোট ‘চাকসু মামুনের’ বাক্সে যেতে পারে। সেটা হয়ত মামুনের ব্যক্তি ইমেজ, দলীয় একাংশের সমর্থনের সঙ্গে বাড়তি শক্তি দেবে। এ আসনে চারবার আওয়ামী লীগ, তিনবার জাতীয় পার্টি, বিএনপি, ইসলামী ঐক্যজোট ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী একবার করে এবং দুবার স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।


সিলেট-৬ঃ 


ত্রিমূখী লড়াইয়ের আভাস গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। তার সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভবনা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া এই আসনে নিজস্ব ‘ভোট ব্যাংক’ রয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী মাওলানা ফখরুল ইসলামের। তিনি লড়াইয়ের ময়দানে জোরেশোরে ছুটছেন। গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, এখানে বিএনপির মূল সমস্যা দলীয় বিভক্তি। 


২০১৮ সালে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ফয়সল আহমদ চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আদিবা হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল কাহের চৌধুরী এখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বিশেষ করে ফয়সল আহমদ চৌধুরী বিএনপির বিকল্প প্রার্থী ছিলেন। পরে দলের চূড়ান্ত টিকেট পান এমরান আহমদ চৌধুরী। ভোটের মাঠে এরা কেউ হয়ত প্রকাশ্যে ‘বিদ্রোহী’ হননি। আর জামায়াতে ইসলামীর দুই উপজেলাতেই শক্ত ভিত্তি রয়েছে। 


দলে কোনো কোন্দল নেই, সেটি সেলিম উদ্দিনকে সুবিধা দিচ্ছে।তবে কেউ কেউ এই আসনের এলাকাভিত্তিক ভোটের প্রভাবকে একেবারে নাকচ করে দিতে চান না। কারণ, জামায়াতের সেলিম উদ্দিন এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রার্থী ফখরুল ইসলামের বাড়ি বিয়ানীবাজার উপজেলাতে। এটা কাজে লাগলে বিএনপির প্রার্থী গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ভালো অবস্থানে থাকবেন বলেও মনে করছেন তার নেতাকর্মীরা। 


নেতারা যা বলছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সংসদ নির্বাচনে জেলার ছয়টি আসনের কার্যক্রমের সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ী করতে নেতাকর্মীরা এক হয়ে কাজ করছেন। আমাদের নির্বাচনি এলাকায় কিছু ছোটখাটো সমস্যা ছিল, সেটা আমরা সমাধান করেছি। যারা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।তিনি বলেন, সিলেটের সব আসনে বিএনপি ও জোটের প্রার্থীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন। আশা করছি, সবকটি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সংসদে যাবেন।জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর শাখার আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, “আমরা দেখতেছি, মানুষজন একটা পরিবর্তন চাচ্ছে, পুরাতন বন্দোবস্ত আর চাচ্ছে না। বিশেষ করে সমাজের তরুণ ভোটারদের একটা বড় আকাঙ্ক্ষা হল পুরাতন বন্দোবস্ত যেন আর ফিরে না আসে।”



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৪৫ পিএম

উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নির্মিত সড়ক, মহাসড়ক, রাস্তার দু’পাশ, নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে গঠিত কারিগরি কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ অংশগ্রহণ করেন।


সভায় পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের নদী, খাল, হাওর-বাঁওড় ও বাঁধের পাড়ের ভাঙন এবং মাটির ক্ষয়রোধে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উপযোগী ঘাস ও উদ্ভিদভিত্তিক সবুজায়নের মাধ্যমে একদিকে যেমন মাটির ক্ষয় ও ভাঙন কমানো সম্ভব, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা করা যাবে।


তিনি বলেন, ভূমি রক্ষায় ব্যয় সাশ্রয়ী বিন্না ঘাস রোপণের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হলো রোপণের পর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা। তাই বিন্না ঘাস রোপণের নীতিমালা প্রণয়নের সময় রোপণ-পরবর্তী পরিচর্যার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


ফরহাদ হোসেন আজাদ আরও বলেন, সড়ক, বাঁধ ও নদীতীরবর্তী এলাকার স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে স্থানীয় ভৌগোলিক ও মাটির বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী প্রযুক্তি নির্বাচন করতে হবে। ঘাস রোপণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যমান অভিজ্ঞতা, মাটির ধরন, পানি প্রবাহ, জলবায়ু ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো কারিগরি দৃষ্টিকোণ থেকে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।


সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, সেতু বিভাগ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তারা এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।


সভায় দেশের অবকাঠামো, নদী ও বাঁধের পাড় সুরক্ষায় পরিবেশবান্ধব এবং টেকসই পদ্ধতি হিসেবে ঘাস রোপণের সম্ভাবনা, কার্যকারিতা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৮ পিএম

চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ চলাকালে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস। মৃত্যুর মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি সন্তানের বাবা হয়েছিলেন। সদ্যজাত সন্তানকে পৃথিবীতে রেখে তার এমন আকস্মিক চলে যাওয়া শোকের ছায়া ফেলেছে পরিবার, স্বজন ও পুরো এলাকায়।


নিহত সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াস নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল ওয়াহাবের ছেলে।


আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানিয়েছে, ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের সময় ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের একপর্যায়ে আকস্মিক দুর্ঘটনা ঘটে। এতে পিয়াসসহ দুই সেনাসদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় এক সেনা কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।




স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পিয়াস ছিলেন পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই। ছোটবেলা থেকেই শান্ত, ভদ্র ও অমায়িক স্বভাবের মানুষ হিসেবে এলাকায় তার পরিচিতি ছিল। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা এবং সহজ-সরল ব্যবহারের কারণে স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। চাকরির সুবাদে পরিবার-পরিজন নিয়ে চট্টগ্রামের সেনা কোয়ার্টারে বসবাস করতেন পিয়াস। দেশের সেবায় নিয়োজিত এই তরুণ সৈনিকের জীবন হঠাৎ করেই থমকে গেল একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায়।


সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো, কয়েকদিন আগেই পিয়াসের ঘর আলো করে এসেছিল একটি নবজাতক সন্তান। সন্তানকে ঘিরে যখন পরিবারের আনন্দ-উচ্ছ্বাস, ঠিক তখনই এলো তার মৃত্যুর খবর। বাবার স্নেহ-ভালোবাসা বোঝার আগেই বাবাকে হারাল সদ্য পৃথিবীতে আসা সেই সন্তান। পরিবারের তিন বোনের একমাত্র ভাই এবং কয়েকদিন আগে বাবা হওয়ার আনন্দে থাকা পিয়াসের নিথর দেহের অপেক্ষায় এখন স্বজনদের প্রহর গোনা।


মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায়ও নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। তাকে শেষবারের মতো দেখতে এবং পরিবারের পাশে দাঁড়াতে স্বজন, প্রতিবেশীসহ স্থানীয়রা ছুটে আসেন। 


স্থানীয়দের ভাষ্য, পিয়াস ছিলেন অত্যন্ত ভালো মনের মানুষ। তার এমন অকাল মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে সদ্যোজাত সন্তানকে রেখে তার চলে যাওয়া পুরো ঘটনাটিকে আরও হৃদয়বিদারক করে তুলেছে।


কবিরহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পূদম পুষ্প চাকমা বলেন, দেশের সেবায় নিয়োজিত একজন তরুণের এভাবে অকালে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সৈনিক আবু বকর সিদ্দিক পিয়াসের আকস্মিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৪৮ পিএম

পূর্বশত্রুতার জেরে যুবদল নেতা রাসেলসহ তিনজনের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণের আংটি, হাতঘড়ি ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।


আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে এ ঘটনা ঘটে।


আহত রাসেল (৪৪) রূপগঞ্জ থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে জানান, তিনি তাঁর ভাগিনা জসিম (৩৯) ও বন্ধু শামীম ভূঁইয়াকে (৪৯) সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে গোলাকান্দাইলের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। 


বাগবেড় সিটি মার্কেটের সামনে পৌঁছালে সাব্বির (২৩), কামরুল (৪৫), সোহান (২৩), ইয়ামিন (২৪), জিহাদ (২৪) ও রাব্বিসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করেন।




অভিযোগে রাসেল দাবি করেন, অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাঁকে লোহার রড ও স্টিলের পাইপ দিয়ে মারধর করা হয়। হামলায় তাঁর মাথা ও হাতে গুরুতর জখম হয়। তাঁর ভাগিনা জসিমকে গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা এবং মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। একই ঘটনায় শামীম ভূঁইয়াও আহত হন।


রাসেলের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে তাঁর হাত থেকে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের আংটি ও ১৫ হাজার টাকা মূল্যের হাতঘড়ি নিয়ে যাওয়া হয়। এ ছাড়া জসিমের কাছে থাকা ড্রেজার ব্যবসার ১ লাখ টাকা এবং শামীমের ব্যবহৃত প্রায় ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত তিনজনকে উদ্ধার করে  রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় রাসেল রূপগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।


রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, “হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪১ পিএম

সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের হোসেনপুরে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাতের পর গ্যাসের রাইজারে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। 


ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। আজ বুধবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে আল মাহমুদ এভিনিউয়ে মন্ত্রীর বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।


প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে বৃষ্টির সময় হঠাৎ বিকট শব্দে বাসভবনের প্রধান ফটকে বজ্রপাত হয়। এতে গেটের পাশে থাকা ডাবল চেইন গ্যাসলাইনের রাইজারে মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়।


আগুনের শিখা দেখতে পেয়ে বাসভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. শফিকুল ইসলাম দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ফায়ার সার্ভিসের স্থানীয় কন্ট্রোল রুমে খবর দেন। খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট দুপুর ১টা ১৭ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। প্রায় পাঁচ মিনিটের চেষ্টায় দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে।


সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাতের আঘাতে গ্যাসের রাইজারে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছানোয় বাসভবন ও আশপাশের প্রায় দুই লাখ টাকার সম্পদ অক্ষত অবস্থায় রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। এতে সামান্য অবকাঠামোগত ক্ষতি হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সর্বশেষ সব খবর

প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৫ পিএম

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় ছাগলে শিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে কুলছুমা (৩০) নামে এক নারীর শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে। গুরুতর আহত কুলছুমা বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভুক্তভোগীর বাবা মো. জামসেদ বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এর আগে, গত রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর আব্দুল গনি কুলছুমাকে বিয়ে করেন। গনির আগের সংসারের ছেলে সাইফুলের একটি ছাগল কয়েকদিন আগে কুলছুমার রোপণ করা একটি শিমগাছ খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে কুলছুমা প্রতিবাদ করলে সাইফুল ও তার বোনদের সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে কুলছুমার শরীরে ফুটন্ত গরম ভাতের মাড় ঢেলে দেয় সাইফুল ও তার বোনেরা। এতে তার পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।


ঘটনার পর অভিযুক্তরা বিষয়টি কৌশলে পুলিশ বা স্থানীয় কাউকে না জানিয়ে গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তারা গোপনে চিকিৎসা করানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমে ৫ হাজার টাকা দেয় এবং পরে আরও ২০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘটনাটি চেপে যেতে বলে। তবে প্রতিশ্রুত টাকা না দেওয়া এবং কুলছুমার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।


চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান বলেন, ঘটনার কয়েকদিন পার হলেও বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে গোপন রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে নাজমা ও আকলিমা নামে দুই অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৪ পিএম

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আলোচিত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলায় পারভেজ মো. আবুল কালাম নামে একজনকে যাব্বজ্জীবন দিয়েছে আদালত।


বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১ এর বিচারক আবু হানিফ এ রায় প্রদান করেন। 


সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ইফতেখার মাহমুদ জানিয়েছেন, '২০২৫ সালের ১৫ জুলাই রাতে চকরিয়া থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যের স্ত্রীর বাড়িতে হানা দেয় পারভেজরা। এসময় সবকিছু লুটে নেয়ার পর স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় আলোড়ন সৃষ্টি হলে পুলিশ আসামীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। 


দীর্ঘ শুনানী শেষে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক পারভেজকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। একই সঙ্গে দুই লাখ টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ১০ বছরের কারাদন্ড দেন। 


সট:- ইফতেখার মাহমুদ এপিপি, কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন আদালত-১।


এদিকে, আদালতের রায়ে সস্তুষ্টি প্রকাশ করেছে বাদীপক্ষ। একই সঙ্গে মামলার বাদীর প্রত্যাশা অন্যকোন পরিবারে যেন এমন জুলুম না হয়।

সর্বশেষ সব খবর