• প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১১ পিএম

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে রবিউল হোসেন (১৯) নামে এক তরুণের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।


আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম। এর আগে, গত সোমবার ৫ অক্টোবর রাত ১১টার দিকে উপজেলার নেওয়াজপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।


অভিযুক্ত রবিউল হোসেন একই ইউনিয়নের ধন্যপুর গ্রামের জসিম উদ্দিনের ছেলে।


ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা জানান, তার মেয়ে একসময় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। বর্তমানে তার লেখাপড়া বন্ধ রয়েছে। একই বাড়ির রবিউল দীর্ঘদিন ধরে তার মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করে আসছিল।


তিনি অভিযোগ করেন, গত সোমবার রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যায় তার মেয়ে। পরে বাথরুম থেকে ঘরে ফেরার সময় রবিউল তাকে রান্নাঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ওই দিন বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পর তার সন্দেহ হলে মেয়ের কাছে বিষয়টি জানতে চান। তখন কিশোরী তাকে ধর্ষণের কথা জানায়। পরে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরা ঘটনা অস্বীকার করেন এবং উল্টো আমাদের গালমন্দ করেন


অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত রবিউল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।


সুধারাম থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে থানায় এসেছে। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করছেন। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। কিশোরীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫৬ পিএম

গোপালগঞ্জে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ সাইফুর রহমান নান্টুর এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ শনিবার দুপুরে বৌলতলী সম্মিলিত উচ্চ বিদ্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাইফুর রহমান নান্টু এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, সামাজিক অগ্রগতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, এলাকার জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে তিনি সর্বদা পাশে থাকবেন। তিনি আরো বলেন, সামাজিক ভাবে হোক রাজনৈতিক ভাবে হোক আমি আপনাদের পাশে আছি।

 

মতবিনিময় সভায় বক্তারা স্থানীয় নানা সমস্যা ও উন্নয়নের সম্ভাবনা নিয়ে মুক্ত আলোচনা করেন। সভায় উপস্থিত সকলে এলাকার সার্বিক কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।


এ সময় গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক শরিফ রাফিকুজ্জামানসহ নেতা কর্মিরা উপস্থিত ছিলেন।


পুলিশ সুপারের জেলা ট্রাফিক অফিস পরিদর্শন

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপারের জেলা ট্রাফিক অফিস পরিদর্শন করেছেন। আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ বেলাল হোসেন ঠাকুরগাঁও জেলা ট্রাফিক অফিস এর বার্ষিক পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশ সুপার আনুষ্ঠানিকভাবে সালাম ও সম্মাননা প্রদান করেন ট্রাফিক শাখার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক (শ ও য), জনাব মোঃ হাসান আসকরী।


পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার মহোদয় ট্রাফিক অফিসের সার্বিক কার্যক্রম, জেলার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি বিভিন্ন রেজিস্টার ও নথিপত্র পরিদর্শন ও পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি ট্রাফিক অফিসে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা, অসুবিধা ও কর্মপরিবেশ সম্পর্কে অবগত হন। উত্থাপিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা প্রদান করেন।




এ সময় পুলিশ সুপার মহোদয় ঠাকুরগাঁও জেলার সার্বিক ট্রাফিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং জনসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সেবা প্রত্যাশী জনগণের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে সততা, নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য ট্রাফিক শাখায় কর্মরত সকল পুলিশ সদস্যকে আহ্বান জানান।


পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার মহোদয় পরিদর্শন বহিতে স্বাক্ষর করেন।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আলমগীর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস), ঠাকুরগাঁও; জনাব মোঃ হাসান আসকরী, ইনচার্জ, ট্রাফিক শাখা, ঠাকুরগাঁও এবং ট্রাফিক শাখায় কর্মরত বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ সদস্যবৃন্দ।


  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে একই বাড়ির দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাইয়ের ঘরের আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হওয়া মো. সোহাগ (৪৩) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।


আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) ভোরে ঢাকার বার্ন ইউনিট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে, গত ৩ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার নদনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কালুয়াই গ্রামের সুলতান চকিদার বাড়িতে আগুন নেভাতে গিয়ে দগ্ধ হন সোহাগ।


নিহত সোহাগ ওই বাড়ির মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফার ছেলে। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়ের জনক ছিলেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ অক্টোবর সোহাগের দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই সালাউদ্দিনের বসতঘরে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বাড়ির ছয়টি ঘর পুড়ে যায়। আগুন দেখে অন্যদের সঙ্গে সোহাগও তা নেভাতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে সালাউদ্দিনের ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করার সময় তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকার বার্ন ইউনিট হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাত দিন পর তার মৃত্যু হয়।


স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আজগর হোসেন সহেল বলেন, সোহাগ বেকার ছিলেন। তিনি খুব অসহায় ছিলেন। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


সোনাইমুড়ী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ডিউটি অফিসার ফায়ার ফাইটার নোমান হোসেন বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ওই দিন ছয়টি ঘর পুড়ে যায়। আগুন লাগার খবর পেয়ে সোহাগও অন্যদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নেন। একপর্যায়ে একটি ঘর থেকে আসবাবপত্র বের করতে গিয়ে তিনি দগ্ধ হন।


সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোহাগের মৃত্যু হয়েছে বলে তার স্বজনেরা জানিয়েছেন। তারা ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ নিতে আবেদন করেছেন। এ জন্য সোনাইমুড়ী থানা থেকে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় একটি ঘর থেকে গ্যাস সিলিন্ডার বের করতে গিয়ে তিনি আগুনে দগ্ধ হন।


  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৩ পিএম

ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের তথ্য সংগ্রকারী ও সুপারভাইজারদের ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা শুরু হয়েছে।


আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) লালপুর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার দয়রামপুর ইউনিয়ন ও লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া ইউনিয়নের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের ২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা উদ্বোধন করেন।


লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম, এসময় উপস্থিত ছিলেন বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. শামসুল ইসলাম, লালপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবীর হোসেন, লালপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা খন্দকার মাসুদ রানা, বাগাতিপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম, বিলমাড়ীয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও লালপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ছিদ্দিক আলী মিষ্টু। 


প্রশিক্ষণে ২জন সুপারভাইজার সহ ৩০ জন অংশগ্রহণ করেছেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২১ পিএম

‘আমি তোর সাথে যাবোরে, ও সোনার বাজানরে। আমি আর কিছু চাই না।’ ছেলেকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে এ আকুতিই জানাচ্ছিলেন অসুস্থ মুন্নি খাতুন। 


পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁর ছেলে সাগর হোসেন। মাকে সঙ্গে রাখতে চান না তিনি। তাঁর সাফ কথা, মায়ের ভরণপোষণের খরচ দেবেন, কিন্তু তাঁকে নিজের সঙ্গে রাখা সম্ভব নয়।


পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গত বৃহস্পতিবার মা-ছেলের বিরোধ নিয়ে শুনানিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


শুনানিতে ইউএনও সেলিম আহমেদ ছেলেকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন; কিন্তু সাগর নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে তিনি বলেন, মাকে তাঁর সঙ্গে থাকতে দিলে আত্মহত্যা করা ছাড়া উপায় থাকবে না।


৫৫ বছর বয়সী মুন্নি খাতুনের সঙ্গে এ বিরোধ নিয়ে কিছু বলতে নারাজ সাগর (৩২)। তবে স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মা-ছেলের এ বিরোধের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও অভিমান। সাগরের বিয়ের পর থেকে তাঁর স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। পরে এ বিরোধে সাগরের বোনও মায়ের পক্ষ নিয়ে জড়ালে অশান্তি আরও বাড়ে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কয়েক দফা সমাধানের চেষ্টা করেও এ বিরোধ মেটেনি।


সাগর হোসেন সাঁথিয়া উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) গ্রাম পুলিশ। তাঁর বাবা সিরাজুল ইসলাম অনেক আগেই মারা গেছেন। বোনের বিয়ে হয়েছে। মুন্নি খাতুন এখন ছেলের সঙ্গে স্বামীর রেখে যাওয়া বাড়িতে থাকেন না, থাকেন মেয়ের বাড়িতে। মা ও ছেলে দুজনেরই কিছু জমিজমা রয়েছে। মুন্নি খাতুনের নিজের নামেও প্রায় ১০ লাখ টাকার জমি আছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী। তাঁরা বলছেন, মা-ছেলের এ বিরোধে মূলে আর্থিক অনটন নয়, বরং একসঙ্গে থাকা নিয়ে পারিবারিক টানাপোড়েন।


‘মায়ের প্রতি অভিমান থেকে এমন সিদ্ধান্ত’


নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান বলেন, মা ও ছেলের বিরোধ মেটাতে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করছেন; কিন্তু দুই পক্ষেরই কিছু ভুল রয়েছে। ইউএনওর কার্যালয়ে শুনানির পর আজ শুক্রবারও তিনি সাগরের সঙ্গে কথা বলেছেন।


চেয়ারম্যানের ভাষ্য অনুযায়ী, সাগর তাঁকে জানিয়েছেন, বিয়ের পর থেকে তাঁর স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। এ নিয়ে বিরোধ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে সাগরের বোন মায়ের পক্ষ নিয়ে ঝগড়ায় জড়ান। এসব ঘটনার জের ধরে মুন্নি খাতুন বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করলে সাগরকে ডেকে নিয়ে মারধর করা হয়েছিল। এর পর থেকে মায়ের ওপর তাঁর অভিমান আরও বেড়ে যায়।


হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মায়েরও কিছু ভুল থাকতে পারে; কিন্তু একমাত্র ছেলে হয়ে মাকে নিজের কাছে রাখতে না চাওয়াটা মেনে নেওয়া যায় না। আমি সাগরকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। আশা করছি, তাঁকে রাজি করিয়ে বিষয়টির সমাধান করতে পারব।’


সাগরের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, ‘প্রয়োজনে মায়ের খরচ আমি দেব। কিন্তু আমার সঙ্গে রাখা সম্ভব না।’


‘সমস্যা আর্থিক নয়, মানসিক’


ইউএনও সেলিম আহমেদ বলেন, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মুন্নি খাতুন ও সাগরের মামা তাঁর কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে মুন্নি খাতুন জানান, ছেলে তাঁকে বাড়িতে রাখেন না, ভরণপোষণও দেন না। তিনি অসুস্থ, জীবনের বাকি সময় ছেলের সঙ্গে থাকতে চান। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাগরকে শুনানিতে হাজির হওয়ার নোটিশ দেওয়া হয়।


ইউএনও বলেন, শুনানিতে সাগরকে মা-বাবার ভরণপোষণসংক্রান্ত আইন সম্পর্কে বোঝানো হয়েছে। মানবিক ও ধর্মীয় দিক থেকেও মায়ের দায়িত্ব নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে বোঝানোর পরও সাগর মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে রাজি হননি। একপর্যায়ে জানান, তিনি মায়ের যাবতীয় খরচ দিতে রাজি, কিন্তু একই বাড়িতে থাকতে রাজি নন।


সেলিম আহমেদ বলেন, ‘আমার পর্যবেক্ষণে এটি মূলত আর্থিক সমস্যা নয়, মানসিক সমস্যা। মা ভরণপোষণের টাকা বা আর্থিক সুবিধাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তাঁর একটাই চাওয়া, ছেলের সঙ্গে থাকবেন। অন্যদিকে ছেলে মায়ের খরচ দিতে রাজি, কিন্তু তাঁকে সঙ্গে রাখতে চান না। কেন তিনি (সাগর) এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা বারবার জানতে চেয়েছি। কিন্তু তিনি কারণটি স্পষ্ট করে বলেননি।’


ইউএনও আরও বলেন, মুন্নি খাতুন একাধিক সরকারি ভাতা ও সহায়তা পান। আর্থিক অসচ্ছলতা থাকলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা যেত। কিন্তু এখানে মায়ের চাওয়া ছেলের সঙ্গে থাকা। শুনানি শেষে সাগর মাকে জড়িয়ে ধরে অশ্রুসিক্তও হয়েছিলেন। তাই মায়ের প্রতি তাঁর কোনো অনুভূতি নেই, এমনটা বলা যায় না। তবে মাকে সঙ্গে রাখতে না চাওয়ার পেছনে আরও কোনো ঘটনা আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।


আপাতত সাগরের ওপর আর চাপ না দিয়ে কিছুদিন পর মা-ছেলেকে আবারও শুনানিতে ডেকে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বিরোধ মেটানোর চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন ইউএনও।


কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া

  • প্রকাশ : শনিবার ১০ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৬ পিএম

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় অটোরিকশাচালক সুমন একাই জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ। হত্যার পর ওই শিক্ষার্থীর মুঠোফোন নিয়ে পালিয়ে যান তিনি। শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার সকাল সোয়া ১০টায় কুমিল্লার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পংকজ বড়ুয়া।


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন রাতে নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে ৩০০ টাকা ভাড়ায় অটোরিকশায় ওঠেন ওই শিক্ষার্থী। তাকে নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চালক অন্য স্থানে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ধানখেতে মাথা চেপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যান সুমন।


পুলিশ জানায়, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে তিনি কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন।


পুলিশ জানায়, অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে গাড়িটির মালিক হিসেবে লালমাই উপজেলার আবুল হাসেমকে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অটোরিকশার চালক সুমনের পরিচয় জানতে পারে পুলিশ।


পরে শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে কুমিল্লায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তার দেখানো মতে নগরের উপকণ্ঠের বাখরাবাদ এলাকা থেকে শিক্ষার্থীর মুঠোফোনটি উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


পুলিশ জানায়, ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে তার চলাচল সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যায়।


পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় ওই শিক্ষার্থী। তবে মুঠোফোনের কললিস্ট বিশ্লেষণে পুলিশ জানতে পারে, সেদিন তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যান। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।


৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামেন তিনি। পুলিশের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা গেছে। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে তাকে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায়। পরে তিনি সড়কের দিকে চলে গেলে আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।


মরদেহ উদ্ধারের পর ওই শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে তার মেয়ে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের জন্য অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।