কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে দুই শিশুকে দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ২:৪৭ পিএম

স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর দুই মেয়েকে নিজের কাছে রেখেছিলেন মা। পাঁচ বছর ও দেড় বছর বয়সী দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি থাকতেন। পরে তিনি বিয়ে করেন। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে দুই মেয়েকে চিপস কিনে দেওয়ার কথা বলে চলে যান ওই মা। পরে ওই শিশুদের চাচি তাদের বাড়ি নিয়ে যান। গত রোববার দুপুরে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। দুই শিশুর বাবা পেশায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চালক। তিনি কুমিল্লা নগরে অটোরিকশা চালান। শিশুদের মায়ের বাড়ি বরুড়া উপজেলায়।


স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, বাজারে দুই শিশুকে ঘোরাফেরা ও কান্না করতে দেখে কয়েকজন এগিয়ে আসেন। পাঁচ বছর বয়সী শিশুটির কাছ থেকে জানতে পারেন, মা চিপস আনতে তাদের সেখানে রেখে গেছেন। পরে দুই শিশুর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।


দুই শিশুর চাচি বাজারে গিয়ে তাদের দেখতে পান। তিনি শিশুদের চিনতে পেরে নিজের বাড়ি নিয়ে যান। পরে মুঠোফোনে তাদের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে মা তাঁকে বলেন, তিনি কুমিল্লা নগরে চলে এসেছেন। সন্তানদের আর নিজের কাছে রাখতে চান না।


পুলিশ জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে শিশুদের মা–বাবার বিয়ে হয়েছিল। প্রায় পাঁচ মাস আগে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করেছে বলে জানিয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন। গতকাল সোমবার রাতে তিনি বলেন, বর্তমানে দুই শিশু তাদের বাবার কাছে আছে। পুলিশ এ বিষয়ে খোঁজখবর রাখছে।




প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৫১ এএম

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে চার্জে লাগানো মোবাইল ফোনে গেম খেলার সময় বিস্ফোরণে দুই যুবক আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে মো. রুবেল (২২) নামের এক যুবকের দুই চোখই গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের চরবগা এলাকার চৌধুরী বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।


রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ইমরান হোসেন মনজু জানান, মোবাইল ফোন বিস্ফোরণে রুবেলের চোখ ও মুখমণ্ডলে গুরুতর আঘাত লেগেছে। চোখের ভেতরের অংশে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।


প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রুবেলকে ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। অপর আহত শাকিলকে রায়পুরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


সোনাপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, চার্জে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনে গেম খেলার সময় এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে, তা কেউ কল্পনা করেননি। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন বলেন, মোবাইল ফোনটি কী কারণে বিস্ফোরিত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করছে।


টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন

  • প্রকাশ : বুধবার ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:৩৮ এএম

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগআলীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ওষুধ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিট কাজ করছে। বুধবার সকাল ১০টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।


ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার খবর পেয়ে টঙ্গী ও গাজীপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হয় ইউনিটের সংখ্যা। বর্তমানে ১৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।


ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শাহিন আলম বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে টঙ্গী ও গাজীপুর থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।’


এদিকে কারখানাটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আশপাশের এলাকায় উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, কারখানার কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২৯ পিএম

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের উজান বুড়াইল এলাকায় অবৈধভাবে জমি দখল করে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মঙ্গলবার সকালে কাপাসিয়ার উজান বুড়াইল চরে এ মানববন্ধনে প্রায় ৩০০ জন পুরুষ-মহিলা অংশগ্রহণ করে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, মোখলেছুর রহমানগং এলাকাবাসীকে উপেক্ষা করে ন্যায্য কথা না শুনে নাসির উদ্দিনগংদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে আসছেন। এতে করে হয়রানি হচ্ছেন অনেকেই।


সচেতনমহল বলছেন, আইনের প্রতি চরাঞ্চলের মানুষ অনেক শ্রদ্ধাশীল।মোখলেছুর রহমান যে কার্যকলাপ করছেন তা হয়রানির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। চরাঞ্চলের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের পাশাপাশি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনে উপস্থিত জনতা।


ভিডিও দেখতে লিংকে ক্লিক করুন।


সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজ। ইনসেটে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম।

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০০ পিএম

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের একটি শ্রেণিকক্ষ দখল করে ব্যক্তিগত শোবার ঘর বা বেডরুম বানিয়ে বসবাসের অভিযোগ উঠেছে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষকে এভাবে ব্যক্তিগত আবাসন হিসেবে ব্যবহার করায় এলাকায় ও শিক্ষক মহলে তীব্র আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।


সরেজমিন তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে কলেজের আইসিটি ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে খাট, তোষক, বালিশ, বেডশিট, পোশাক রাখার আলনা, চেয়ার-টেবিল ও ফ্যান সাজানো রয়েছে। দৃশ্যটি দেখে যে কারও কাছে কক্ষটিকে কোনো আবাসিক হোটেল বা ব্যক্তিগত শোবার ঘর বলে মনে হবে। বাস্তবে এটি শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য নির্ধারিত একটি শ্রেণিকক্ষ।


সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার সরকারি হাজী কোরপ আলী মেমোরিয়াল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম।


কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের এপ্রিলে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর থেকেই অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম কক্ষটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে আসছেন। অতীতে কক্ষটিতে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য বেঞ্চ ছিল এবং সেখানে নিয়মিত ক্লাসসহ বিভিন্ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের এক শিক্ষক জানান, সরকার নির্ধারিত বেতনের পাশাপাশি অধ্যক্ষ নিয়মিত বাড়িভাড়া ভাতাও পাচ্ছেন। এছাড়া কলেজের নিজস্ব জমিতে তাঁর জন্য একটি আবাসিক কোয়ার্টারও রয়েছে, যা সামান্য সংস্কার করলেই বসবাসের উপযোগী করা সম্ভব। তা সত্ত্বেও নিয়মের তোয়াক্কা না করে তিনি শ্রেণিকক্ষ দখল করে আছেন।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেন, কক্ষটি মূলত অতিথিদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এবং তিনি সেখানে মাঝেমধ্যে অবস্থান করেন। আশপাশে ভালো ভাড়াবাসা না পাওয়ায় এবং তাঁর পরিবার বগুড়ায় থাকায় যাতায়াতের সুবিধার জন্য তাঁকে এই কক্ষে থাকতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।


ঘটনাটি সম্পর্কে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) অধ্যাপক নাজমুল হক জানান, কলেজের শ্রেণিকক্ষে অধ্যক্ষের বেডরুম বানিয়ে থাকার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।


একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষ বন্ধ করে অধ্যক্ষের ব্যক্তিগত আবাসিক কামরা বানানোর এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।


শ্যামপুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৬ পিএম

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের শ্যামপুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিংয়ের রুটিকে কেন্দ্র করে দুই সহকারী শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। এতে সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানা আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।


জানা গেছে, আজ মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে রুটি বিতরণকে কেন্দ্র করে সহকারী শিক্ষিকা রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে সহকারী শিক্ষক শাখাওয়াত হোসেন ও রাজিয়া সুলতানার মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।


অভিযোগ উঠেছে, এ সময় উত্তেজিত হয়ে শাখাওয়াত হোসেন লোহার কাটারজাতীয় ধারালো সরঞ্জাম দিয়ে রাজিয়া সুলতানার হাতে আঘাত করেন। এতে তিনি আহত হন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও আঘাতের ধরন তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।


বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মমতা বেগম বলেন, “রাজিয়া যেখানে যান, সেখানে ঝগড়ার সৃষ্টি করেন। বিষয়টি সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি।”


উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, “বিষয়টি তদন্তের জন্য সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি প্রতিবেদন দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে জানানো হবে।”


বিদ্যালয়ের মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা শিক্ষার পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ১৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৫১ পিএম

পঞ্চগড়ের মেঘমুক্ত আকাশে দেখা মিলেছে হিমালয় পর্বতমালার তৃতীয় সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ কাঞ্চনজঙ্ঘার। ভোরের আলোয় বরফে ঢাকা পর্বতটির অপরূপ সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। পঞ্চগড় জেলা শহরসহ তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা যাচ্ছে কাঞ্চনজঙ্ঘা। আর এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তেঁতুলিয়ায় ছুটে আসছেন পর্যটকেরা।


আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৬টা থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মেলে। তবে তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারের পাশে মহানন্দা নদীর তীর থেকে পর্বতটি সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়। সকাল থেকেই সেখানে ভিড় জমান বিভিন্ন বয়সী দর্শনার্থী ও ভ্রমণপিপাসুরা।


প্রতিবছর অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে আকাশ পরিষ্কার থাকলে পঞ্চগড় থেকে দেখা যায় কাঞ্চনজঙ্ঘা। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভোরের আলো ফুটতেই দিগন্তে ভেসে ওঠে বরফে ঢাকা পর্বতশৃঙ্গটি। কেউ ক্যামেরায় ধারণ করছেন প্রকৃতির এই অপূর্ব দৃশ্য, আবার কেউ মুঠোফোনে ছবি তুলে ধরে রাখছেন স্মরণীয় মুহূর্ত।




সূর্যের আলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলে যায় কাঞ্চনজঙ্ঘার রূপ। কখনো শুভ্র, কখনো গোলাপি, আবার কখনো লালচে আভায় দেখা দেয় বরফে আচ্ছাদিত পর্বতচূড়া। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্বতটি ধীরে ধীরে ঝাপসা হয়ে আসে। স্থানীয়দের মতে, ভোর ও সকালের দিকে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য সবচেয়ে ভালোভাবে উপভোগ করা যায়, যদিও আবহাওয়ার ওপর দৃশ্যমানতা নির্ভর করে।


ঢাকা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে আসা পর্যটক রাকিব বলেন, “আমরা বন্ধুরা মিলে এখানে এসেছি। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা। আলহামদুলিল্লাহ, আকাশ পরিষ্কার থাকায় কাঙ্ক্ষিত কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে পেয়েছি। আমরা অনেক খুশি।”


নওগাঁ থেকে মোটরসাইকেলে ঘুরতে আসা সিমুল বলেন, “সকালে বন্ধুদের নিয়ে মোটরসাইকেলে তেঁতুলিয়ায় কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসেছি। এখানে পৌঁছেই ডাকবাংলো পিকনিক কর্নারের পাশে মহানন্দা নদীর তীর থেকে পর্বতটি দেখতে পেয়েছি। আমাদের এ যাত্রা সফল হয়েছে।”


নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা চিকিৎসক জাহিদ বলেন, “শুনেছি, অনেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে গেছেন। ভোরের দিকে আমরাও হতাশ হয়ে পড়েছিলাম। প্রথমে কিছুটা দেখা গেলেও পরে মেঘ ও কুয়াশায় ঢেকে যায়। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্য দেখা যায়।”


চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক নয়ন বলেন, “কিছুক্ষণের জন্য কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। পর্বতটি আড়াল হয়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে আমরা পৌঁছাতে পেরেছিলাম। তাই অল্প সময়ের জন্য হলেও দেখতে পেরেছি। তেঁতুলিয়ার মানুষের আন্তরিকতাও আমাদের ভালো লেগেছে।”




খুলনা থেকে আসা পর্যটক মালিক বলেন, “ফেসবুক ও টেলিভিশনে কাঞ্চনজঙ্ঘা অনেক দেখেছি। বাস্তবে এবারই প্রথম দেখার সুযোগ হলো। টেলিভিশনের চেয়ে সরাসরি দেখে আরও বেশি সুন্দর মনে হয়েছে।”


কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার পাশাপাশি পর্যটকেরা ঘুরে দেখছেন মহানন্দা নদীর তীর, বিস্তীর্ণ চা-বাগান ও সীমান্তঘেঁষা বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান। এতে তেঁতুলিয়ায় পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। স্থানীয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোতেও তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।


তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ থাকে। আকাশ ও আবহাওয়া পরিষ্কার থাকায় মঙ্গলবার পর্বতটির সৌন্দর্য দেখা যাচ্ছে। তবে পর্যটকদের ভ্রমণে আসার আগে আকাশের অবস্থা বিবেচনা করা উচিত।


পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভিন বলেন, শীতের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা পঞ্চগড়ে বেড়াতে আসেন। তাঁদের অনেকেই কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখতেও আসেন। পর্যটকদের নির্বিঘ্নে ভ্রমণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।