শিল্পকলা প্রাঙ্গনে শিক্ষকদের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়

  • প্রকাশ : সোমবার ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:০৮ পিএম

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের চাপে নিষিদ্ধ গাইড বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ তোলায় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থী অভিভাবক নেতা মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েলের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছে  শিক্ষকদের এক অংশ। 


সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার শিল্পকলা প্রাঙ্গনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।


স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কোটালীপাড়ার ৬৮ নং তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সমিতির সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কোটালীপাড়া প্রতিনিধি মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সঙ্গে সঙ্গে জন সাধারনের নজরে পড়ে বইতে থাকে আলোচনার ঝড়।

ফেসবুকে তাকে লিখতে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে নিষিদ্ধ গাইড বই কোম্পানির প্রতিনিধিকে নিয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। 


সোমবার সকালে একই বিষয়ে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সাংবাদিক জুয়েল । অভিযোগে বলা হয়, লেকচার প্রকাশনীর এক প্রতিনিধিকে সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কেনার জন্য প্ররোচিত করেন এবং পরবর্তীতে চাপ প্রয়োগ করেন। এতে অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

 

সাংবাদিক জুয়েলের  অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ হয়ে ৬৮ নং তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার অধিকারী ও সহকারী শিক্ষক রসময় রত্নের নেতৃত্বে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান ও সহকারী শিক্ষকরা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন। 


মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বিভিন্নভাবে শিক্ষকদের হয়রানি ও আতঙ্কিত করছেন।


এ বিষয়ে সাংবাদিক মনিরুজ্জামান শেখ জুয়েল বলেন, “আমি বিদ্যালয়ের অভিভাবক-শিক্ষক এসোসিয়েশনের (পিটিএ) সভাপতি হিসেবে অভিভাবকদের কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করেছি। শিক্ষকতা একটি মহান পেশা। 

 

যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তা তদন্ত হওয়া উচিত। অনিয়মের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”


তিনি আরও জানান, বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। 


এদিকে শিক্ষকদের মানববন্ধনের সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।


ফিরোজ দাড়িয়া নামের এক ব্যক্তি লেখেন, “এটা সাংবাদিক জুয়েলের বিরুদ্ধে চক্রান্ত। হয়রানির কোনো কারণ তারা প্রকাশ করতে পারেনি।”


কাজী মোস্তাফিজ নামে আরেকজন মন্তব্য করেন, “সাংবাদিক মনিরুজ্জামান জুয়েল একজন স্পষ্টভাষী, সৎ ও সাহসী সাংবাদিক। তিনি শিক্ষকদের অমঙ্গল চান—এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।”


এ বিষয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে ৬৮ নং তারাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার অধিকারীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গাইড বই ক্রয়ে শিক্ষার্থীদের প্ররোচনার সাংবাদিক জুয়েলের একটি লিখিত অভিযোগ শিক্ষকদের বিরুদ্ধে পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।


উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিসারকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সাংবাদিক জুয়েলের বিরুদ্ধে শিক্ষকদের মানববন্ধনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি  জানান, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মানববন্ধনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন, তবে এ সংক্রান্ত কোনো লিখিত অভিযোগ তার দপ্তরে জমা পড়েনি।


শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে গাইডনির্ভর শিক্ষা শিশুদের সৃজনশীলতা ব্যাহত করে এবং এটি সরকারি নীতিমালার পরিপন্থী। তাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। একই সঙ্গে, প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখার দাবি জানিয়ে

শিক্ষা মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:২২ পিএম

‘সকালে মোবাইলে কল আইছে। মনে করছি পোলায় ফোন দিছে, কথা কইবো। কিয়ের কথা..দেহি আগুন আর আগুন। ভালোর লেইগা পাঠাইছিলাম বিদেশ। এমুন জানলে কহনও পাঠাইতাম না’- কথাগুলো বলতে বলতে বারবার ভেঙে পড়ছিলেন আলী আহমদ। 


দক্ষিণ আফ্রিকার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছেলে আপন আহমেদকে হারিয়েছেন তিনি। ছেলের একটি ছবি বুকে জড়িয়ে আক্ষেপ করে বলেন, ‘দেহেন আমার পোলাডা কত সুন্দর আছিলো। কত লম্বা। নায়কগো মতন। এহন আর নাইগো নাই।’ 




দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কোমানি (সাবেক কুইন্সটাউন) শহরের কাছে একটি দোকানে আগুন লেগে ছয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। তাদের পাঁচজনের বাড়ি নারায়ণগঞ্জে, একজনের বাড়ি মুন্সিগঞ্জে। তবে দুই জেলার এই চরাঞ্চলের গ্রামগুলো পাশাপাশি হওয়ায় শোক যেন ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জনপদে।


মঙ্গলবার নিহতদের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি উঠোনেই স্বজন আর প্রতিবেশীদের ভিড়। কেউ সান্ত্বনা দিচ্ছেন, কেউ নীরবে বসে আছেন। কিন্তু স্বজন হারানোর বেদনার সামনে কোনো কথাই যেন কাজে আসছে না।


আলীরটেক ইউনিয়নের মধ্য ক্রোকের চরের আপন আহমেদ চার বছর আগে সংসারের অভাব ঘোচাতে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। সেখানে একটি দোকানে কাজ করতেন। 


বাবা আলী আহমদ বলেন, ‘ছেলেটা খুব কষ্ট করে সংসার চালাইত। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ত, রোজা রাখত। এখন আমার ঘরটাই অন্ধকার হয়ে গেল।’


একই আগুনে প্রাণ হারিয়েছেন একই এলাকার ফাহিম, নুর মোহাম্মদ, তৈলখিরার চরের ফয়সাল, বক্তাবলী ইউনিয়নের শাহীন এবং মুন্সিগঞ্জের রাজ্জাক।


শাহিনের চাচা মোক্তার হোসেন বলেন, ‘নয় বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ছিল। কয়েক দিন ধরেই বলত, ওখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো না। দেশে ফিরতে চাচ্ছিল। কিন্তু আর ফেরা হলো না।’


পুড়ে যাওয়া দোকানটির অন্যতম মালিক এবং আলীরটেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রওশন আলী বলেন, দোকানের আবাসিক কক্ষে সাতজন ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ছয়জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তদন্ত করছে স্থানীয় পুলিশ।


নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বার্তা এখনো পাওয়া যায়নি। তবে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।


দক্ষিণ আফ্রিকায় কর্মরত বাংলাদেশিদের বড় একটি অংশ ছোট দোকান বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত। তাদের অনেকেই কর্মস্থলেই রাত কাটান। 


স্বজনদের ভাষ্য, জীবিকার তাগিদে হাজারো মাইল দূরে গিয়ে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এসব তরুণ ও মধ্যবয়সী মানুষ। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল একটি আগুনে।

সর্বশেষ সব খবর

৭ দিনে দুই শতাধিক বসতভিটা নদীগর্ভে

বিলীনের মুখে ২ কোটি টাকার আশ্রয়কেন্দ্র


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৫৬ পিএম

বয়স ৯০ ছুঁইছুঁই। জীবনের এই দীর্ঘ সময়ে অন্তত ১৫ বার প্রমত্তা তিস্তার ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়েছেন তফেল উদ্দিন। সর্বশেষ আট বছর আগে সব হারিয়ে নিঃস্ব অবস্থায় ঠাঁই নিয়েছিলেন ছাতুনামা কেল্লাপাড়া গ্রামে। কিন্তু তিস্তা ছাড়েনি তাঁকেও।সেখানেও তিস্তার ভাঙনে বিলীন হয়েছে তাঁর শেষ আশ্রয়টুকুও। গেল শুক্রবার দুপুরে তাঁর চোখের সামনেই শেষ আশ্রয়টুকুও বিলীন হয়ে গেছে নদীগর্ভে।


যেখানে কিছুক্ষণ আগেও ছিল বসতভিটা, সেখানে এখন বয়ে চলেছে ঘোলা জলের তীব্র স্রোত। ভিটার শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ে তফেল উদ্দিন বলেন, ১৩ বার ভিটাবাড়ী নদী ভাঙিল, ৬০ বিঘা আবাদি জমিও তিস্তাত গ্যাল। ৮ শতক জমি কিনি ৬টা ছাওয়াক নিয়্যা সংসার তুলি এটে ছিনু, শেষ বয়সেও তিস্তা মুক্তি দিল না। এখন নদীত ঝাঁপ দিয়া মরা ছাড়া হামার উপায় নাই।


তফেল উদ্দিনের বাড়ি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের কেল্লাপাড়া গ্রামে। ২০১৬ সালে তিস্তার ভাঙনে বাস্তুচ্যুত হয়ে এখানে বসতি গড়েছিলেন পাঁচ শতাধিক পরিবার। গত এক সপ্তাহের ভাঙনে তফেলের মতো এই গ্রামের দুই শতাধিক বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। শতাধিক বাড়ি  ও ফসলি জমি এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে। কিন্তু গত সাত দিনের টানা ভাঙনে তফেল উদ্দিনের মতো ওই গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গেছে। বর্তমানে আরও শতাধিক বাড়ি ও ফসলি জমি তীব্র ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।


মোর ভিটা না, কলিজা ভাঙছে- সরজমিনে দেখা যায়, তিস্তার তীব্র স্রোতে নদীতীরের বিশাল অংশ প্রতিনিয়ত ধসে পড়ছে। শেষ সম্বলটুকু বাঁচাতে স্থানীয় বাসিন্দারা তড়িঘড়ি করে ঘরবাড়ি ভেঙে সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ ঘরের টিন খুলছেন, কেউ নৌকায় আসবাবপত্র ও গবাদিপশু সরিয়ে নিচ্ছেন নিরাপদ স্থানে। ভিটামাটি হারিয়ে অনেক পরিবার গৃহস্থালির মালামাল নিয়ে খোলা আকাশের নিচে নিরাশ্রয় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।


২০১৬ সালে ধারদেনা করে ছয় শতক জমি কিনে ভিটা বেঁধেছিলেন জামাল হোসেন। চার সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। আজ সেই ভিটার আর কোনো অস্তিত্ব নেই। নদীর দিকে শূন্য দৃষ্টিতে তাকিয়ে হাত তুলে জামাল হোসেন আকুতি জানিয়ে বলেন, ওইটা মোর ভিটা ছিল, সব শেষ হয়া গেল! এই তিস্তাই হামার জীবনটা শেষ করি দিল। শেষ বয়সে আইসা পরিবার নিয়ে কোনটে দাঁড়ামু, তার কোনো পথ নাই!


পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার পানি এখন বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পানি কমার কারণে নদীতীরে স্রোতের টান বেড়েছে। ফলে ভাঙন আরও তীব্র রূপ নিয়েছে।


ধ্বংসের মুখে ২ কোটি টাকার মুজিব কিল্লা---চরাঞ্চলবাসীর দুর্যোগকালীন আশ্রয়ের সুবিধার্থে ২০২৩ সালে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে কেল্লাপাড়ায় নির্মাণ করা হয়েছিল একটি 'মুজিব কিল্লা' (বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র)। তবে অপরিকল্পিতভাবে নদী তীরের একেবারে কাছে এটি নির্মাণ করায় ভবনটি এখন চরম ধ্বংসের মুখে। নদীর তীর থেকে মাত্র ৮০ থেকে ৯০ মিটার দূরে অবস্থান করায় যেকোনো মুহূর্তে কিল্লাটি তিস্তায় তলিয়ে যেতে পারে।


স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদ আক্ষেপ করে বলেন, নদীর একবারে মুখের ওপর কিল্লা বানাইছে কিন্তু বাধ না দিলে তো সেটা টিকবে না। এ্যালা নদী ভাঙতে ভাঙতে কিল্লার কাছে আসি গেছে। যেকোনো সমায় কিল্লাটা নদীত ধসি পড়বে। অযথাই সরকারের কোটি কোটি টাকা পানিতে গেল, আর হামার আশ্রয়ের আশাও শেষ হয়া গেল। 

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একরামুল হক চৌধুরী বলেন, নদীর ভাঙতে ভাঙতে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের কাছে চলে এসেছে। দ্রুত ব্যাবস্থা না নিলে যে কোন মুহর্তে আশ্রয়কেন্দ্র টি বিলীন হয়ে যাবে। 


স্থানীয়দের ক্ষোভ ও জনপ্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি---দুর্ভোগের এই চরম মুহূর্তে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাাউবো) কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে না আসায় নদীপাড়ের মানুষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।


স্থানীয়দের অভিযোগ, বিপদের সময় কাউকেই পাওয়া যায় না। নদী যখন সব কেড়ে নেয়, তখন নামমাত্র দু-এক বস্তা জিও ব্যাগ ফেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড লোকদেখানো দায়িত্ব শেষ করে। ভোট এলে প্রার্থীরা দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও এখন দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের কোনো খোঁজ নিচ্ছেন না কেউ। ক্ষতিগ্রস্ত নদীপাড়ের মানুষের এখন একটাই দাবি, ত্রাণ বা অনুদান নয়, দ্রুত টেকসই জিও ব্যাগ ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে তিস্তার এই তাণ্ডব থেকে কেল্লাপাড়াকে রক্ষা করা হোক।


ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, পানি কমার সময় নদীতে ঘূর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হয়, যার কারণে নদীতীর দ্রুত ধসে পড়ছে। ছাতুনামা কেল্লাপাড়া এলাকার ভাঙন পরিস্থিতির খবর আমরা পেয়েছি। ভাঙ্গন রোধ ও আশ্রয়কেন্দ্রটি রক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 


​ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরানুজ্জামান বলেন, তিস্তার ভাঙনে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর তালিকা প্রণয়ন করতে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মাঝে সরকারি ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৪৭ পিএম

গাজীপুরের কালীগঞ্জে ভ‚মিদস্যু ওমর ফারুক গংয়ের বিরুদ্ধে বিধবা মাসুমা বেগমের বসত বাড়ীতে সন্ত্রাসী হামলা ও লুট শেষে সম্পত্তি জবরদখল করে মার্কেট, কিন্ডার গার্টেন স্কুল ও অফিস নির্মাণ করে ভাড়া দেওয়ার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।


মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে উপজেলার মোক্তারপুর ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের মৃত মো. সিরাজুল ইসলামের বিধবা স্ত্রী মাসুমা বেগম সংবাদ সম্মেলনে জানান, বড়গাঁও গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম শেখের পুত্র আব্দুল আউয়াল শেখ ও তার পুত্র ওমর ফারুক শেখ, আলমগীর হোসেন শেখ বকুল ও জাইদুল ইসলাম শেখ স্থাণীয় সন্ত্রাসী, চিহ্নিত ভূমিদস্যু এবং জবরদখলকারী। দীর্ঘদিন যাবৎ ওমর ফারুক শেখ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে সারা এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমের মাধ্যমে গবীর, অসহায় ও নিরীহ মানুষের জমিজমা জবরদখল করে আসছে। তাদের এসব সন্ত্রাসী কাজের কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্ন নির্যাতন, পুলিশি হয়রানী ও হামলা মামলার স্বীকার হতে হয়। ভয়ে কেউ তাদের বিরুদ্ধে মূখ না খুলে নীরবে সহ্য করে নেয়।


আমার স্বামী গত ৮ জুলাই ২০১০ইং তারিখে ৬০৩৯নং হেবার ঘোষণাপত্র রেজিষ্ট্রি দলিলমূলে আমাকে ২৭.৫০শতাংশ সম্পত্তি প্রদান করেন। আমি উক্ত সম্পত্তি নিজ নামে নামজারী ও জমাভাগ করে ১৫৩৯নং হোল্ডিং খোলে ১৪৩২ সন পর্যন্ত খাজনাদি পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোগদখল করে আসছি। আমার স্বামীর মৃত্যুর পর ওমর ফারুকগং আমার সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যে আমাদের সাথে শক্রতা শুরু করে। আমি সম্পত্তি রক্ষার্থে বিগত সময়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, কালীগঞ্জ থানা ও গাজীপুরের পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করেও অদৃশ্য কারণে কোন আইনী সহযোগীতা পাইনি। বরং ওমর ফারুক শেখ গং গত ২০২২ সনের ২১ অক্টোবর সকাল ১১ টায় ওমর ফারুক গং আমার বাড়ীতে প্রবেশ করিয়া বিভিন্ন প্রজাতির ৩৫/৪০টি গাছ কাটিয়া নিয়া যায়। সন্ত্রাসীরা আমার স্বামীর সময়ে ভাড়াটিয়াদের দোকান ঘর থেকে ভয়ভীতি দেখাইয়া দোকান ভাঙ্গিয়া নিয়া যায়। ৩১ অক্টোবর ২০২২ইং সকাল ৭ ঘটিকায় পূনরায় ওমর ফারুক গং অজ্ঞাতনামা ৪০/৫০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে বাড়ীতে প্রবেশ করে ইটের পাকা বাউন্ডারী ওয়াল ভাঙ্গিয়া আমার ঘর হইতে আমাকে ও আমার সন্তানদের মারধর করিয়া বাহির করিয়া দেয়। 


পরে আমার ঘরের আসবাবপত্র, টাকা-পয়সা, গহনা সহ সকল কিছু লুটপাট করিয়া নিয়া শেষে বসতবাড়ী ও টিনসেট বিল্ডিং দখল করিয়া ঘরের মালামাল আগুনে পোড়াইয়া ফেলে। আমাদের সম্পত্তি জবরদখলে ওমর ফারুক গংদের বাধা দিলে তারা সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে। মো. ওমর ফারুক শেখ গং আমাদের জমি জবর দখল করে তাতে ৭টি দোকান ঘর, একটি অফিস ও একটি কিন্ডার গার্টেন স্কুল নির্মাণ করিয়া ভাড়া দিয়া নিজেদের দখলে রাখিয়াছে। বর্তমানে আমি আমার এক প্রতিবন্ধী সহ চারজন সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। এছাড়াও ওমর ফারুক শেখগং বড়গাঁও গ্রামের পাচু শেখের পুত্র ফিরোজ আলী, আসমত আলী, সুলতান উদ্দিন, হেকমত আলী ও মুসকত আলীর জমি জবর দখল করে নুরে মদিনা কওমী মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমতি প্রদান করে প্রতিমাসে ভাড়া আদায় করে নিজেরা ভোগ করছে। 


সংবাদ সম্মেলনে ওমর ফারুক শেখ গংয়ের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ পূর্বক আমাদের সম্পত্তি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন এর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।


এ সময় অন্যান্যের মাঝে মাসুমা বেগমের পুত্র মো. মেহেদী হাসান শেখ, মো. আনা নুর ইসলাম শেখ সাকিল, মো. মিনহাজুর রহমান শেখ ও মো. মাজহারুল ইসলাম শেখ, মাসুমা বেগমের বোন মোসা. হালিমা বেগম, মোসা. আলেয়া বেগম ও মোসা. সালমা বেগম উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৩৯ পিএম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অন্যতম হলো সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। সবচেয়ে বেদনাদায়ক বিষয় হলো, অনেক ক্ষেত্রেই তাদের জমি দখল হয়ে যায়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জীবনমান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমান তার তহবিল থেকে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।


মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বাস্তবায়নাধীন ‘বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত)’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের মাঝে ঘরের বরাদ্দপত্র, সেলাই মেশিন, বাইসাইকেল ও শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, শুধু উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণই নয়, দেশের সকল জনগোষ্ঠীকে সমান মর্যাদায় এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম বিভিন্ন সংসদীয় আসনে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো জাতি-গোত্রের বিভেদ দূর করে সকল শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায়ের মানুষকে এক কাতারে নিয়ে আসা।”


তিনি আরও বলেন, গত ১৫ থেকে ১৬ বছরে দেশের রাজনৈতিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বর্তমান সরকারকে অনেক কিছু নতুন করে গড়ে তুলতে হচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, খাল খননসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য পরিচালিত এই সহায়তা কর্মসূচিও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।


মির্জা ফখরুল বলেন, “আমরা সকল ধরনের জাতিগোষ্ঠীকে সঙ্গে নিয়ে সাম্যের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের প্রতিটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সেটিই সরকারের লক্ষ্য।”


অনুষ্ঠানের শেষে ১০ জনের মাঝে বসতঘরের বরাদ্দপত্র, ৪৯ জনকে বাইসাইকেল, ৩৩ জনকে সেলাই মেশিন এবং ৩২৬ জন শিক্ষার্থীকে মোট ১৪ লাখ ৩৪ হাজার টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করা হয়। সব মিলিয়ে ৪১৮ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রায় ৬৯ লাখ ৭৪ হাজার ১ টাকা মূল্যের ঘর, বাইসাইকেল, সেলাই মেশিন ও শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।


অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন, সদর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:২১ পিএম

স্থানীয় সরকার বিভাগ ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) সহায়তায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে প্রথমবারের মতো ডিজিটাল ক্ল্যাডফাই অ্যাপের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। জলবায়ু সহনশীল জীবিকা উন্নয়ন এবং আর্থিক সেবা সহজ ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গঙ্গিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলার চরমোন্তাজ জলবায়ু ও জীবিকা উন্নয়ন সমবায় সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এ কার্যক্রমে সমবায়ের ১০ জন সদস্যের মাঝে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে ঋণ বিতরণ করা হয়।


আয়োজকরা জানান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঋণ বিতরণের ফলে আর্থিক সেবা আরও সহজ ও দ্রুত হবে। একইসঙ্গে ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি সমবায়ের সদস্যরা ডিজিটাল আর্থিক সেবা কতটা সহজে ব্যবহার করতে পারছেন, তা এই পাইলটিং কার্যক্রমের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।


এ কার্যক্রমের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ঋণ বিতরণের সম্ভাবনা মূল্যায়ন করা হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।


স্থানীয় সরকার বিভাগ, লোকাল গভর্নমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (লজিক) প্রকল্প ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে চরমোন্তাজ জলবায়ু ও জীবিকা উন্নয়ন সমবায় সমিতি।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৩৬ পিএম

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে ‘ঘুষ’ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এর আগে বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেনের গুনে গুনে ‘ঘুষ’ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। সোমবার দুপুরে ডাঙ্গী ইউনিয়নের ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেনের নগদ অর্থ নেওয়ার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ে। 


ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমি কর্মকর্তা সরোয়ার তার ব্যক্তিগত কক্ষের চৌকির ওপর বসে কোনো এক ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ অর্থ নিচ্ছেন। পরে টাকা নিয়ে তিনি নিজের চেয়ারে গিয়ে বসে পড়েন। এ সময় এক মাসের মধ্যে কাজ কমপ্লিট করে দেওয়া হবে বলে ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়।


অভিযোগের বিষয়ে সরোয়ার হোসেন বলেন, তাদের কার্যালয়ে নগদ অর্থে সরকারি ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। কেউ অনলাইনে সরকারি ফি জমা দিতে না পারলে মানবিক কারণে তিনি নিজের ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সরকারি ফি পরিশোধে সহায়তা করেন। ভাইরাল ভিডিওতে যে অর্থ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে, সেটিও সরকারি ফি বলে তার দাবি।


তিনি আরও জানান, ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, সেটিও তার জানা নেই।


নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন বলেন, আমি সবাইকে চিনি না। তবে ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


উল্লেখ্য, জেলার বোয়ালমারী উপজেলার সাতৈর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেনের গুনে গুনে ‘ঘুষ’ নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল হয়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর গত রোববার তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।  

সর্বশেষ সব খবর