টঙ্গী ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নাজমুল হোসেন মন্ডলের উদ্যোগে গণ-ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

  • প্রকাশ : শনিবার ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, সময় : ১০:৫৩ এএম

টঙ্গী মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব ও গাসিক ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নাজমুল হোসেন মন্ডলের উদ্যোগে গণ-ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টঙ্গীর পাগাড় হাজী মার্কেট এলাকায় আয়োজিত এ গণ-ইফতার মাহফিলে সাধারণ মুসল্লি, বিভিন্ন মসজিদের আলেম-ওলামা, সমাজসেবক ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। পুরো আয়োজনটি ছিলো ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সামাজিক সম্প্রীতির এক অনন্য মিলনমেলা।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নাজমুল হোসেন মন্ডল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবক রয়েল হায়দার। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুরব্বি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।




ইফতারের পূর্বে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়। একই সঙ্গে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়ন কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।


এ সময় নাজমুল হোসেন মন্ডল তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচিত হলে তিনি ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন, ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং মাদক ও সকল প্রকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।


তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের নেতা হয়ে নয়, একজন সেবক হয়ে কাজ করতে চাই। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন নিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। নির্বাচন হলে আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে পাশে থাকবেন এবং এলাকার উন্নয়নের সুযোগ করে দিবেন। গণ-ইফতার ও দোয়া মাহফিলটি স্থানীয়দের মধ্যে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উপস্থিত অতিথিরা আশা প্রকাশ করেন।”




স্লিপার বাসে আগুন

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৯:৩৪ পিএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লায় আবারও স্লিপার বাসে আগুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে আগুন লাগার সময় যাত্রাবিরতি থাকায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন বাসটির যাত্রীরা। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।


শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় ‘শাহ ফাতিহা স্লিপার কোচ’ নামে বাসটিতে আগুন লাগে।


ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে নওগাঁগামী বাসটি রাত আড়াইটার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকায় হোটেল নুরজাহানের সামনে যাত্রাবিরতি দেয়। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ বাসটিতে আগুন জ্বলে ওঠে। মুহূর্তেই আগুন বাসের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। 


আগুন দেখতে পেয়ে কয়েকজন যাত্রী ও আশপাশের লোকজন দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যান। খবর পেয়ে সদর দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।


সদর দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার ফাইটাররা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত হননি।


সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, বাসটিতে কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যাত্রাবিরতির কারণে অধিকাংশ যাত্রী তখন হোটেলে ছিলেন। কেউ কেউ বাস থেকে নিচে নেমে যাওয়ায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।


এর আগে গত ১৭ আগস্ট ভোরে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী রয়েল কোচ পরিবহনের একটি স্লিপার বাস মহাসড়কের ইলিয়টগঞ্জ এলাকায় পৌঁছালে আগুন লাগে। পেছন থেকে অন্য একটি গাড়ি বাসটিকে ধাক্কা দেওয়ার পর আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আগেই যাত্রীরা বাস থেকে নেমে যাওয়ায় সেবারও কোনো প্রাণহানি হয়নি।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:৫৫ পিএম

আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর একদিনের সফরে সিলেট আসছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি হযরত শাহজালাল (রাহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রাহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এ ছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) প্রাঙ্গণে রাষ্ট্রপতিকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। 


রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারত উপলক্ষে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হযরত শাহজালাল (রাহ.) ও শাহপরান (রহঃ) দরগাহ শরিফ পরিদর্শন করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। 


গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি দরগাহ এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে দরগাহ এলাকায় সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন তিনি।


পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক। রাষ্ট্রপতির মাজার জিয়ারত নির্বিঘ্ন ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে দরগাহ এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রটোকল শাখা থেকে পাঠানো এক পত্রে সফরসূচি জানানো হয়েছে।


পত্র অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বঙ্গভবন থেকে যাত্রা করে রাষ্ট্রপতি সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে ১০টা ৫০ মিনিটে বিমানযোগে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়ে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন তিনি। এরপর ১১টা ২০ মিনিটে সার্কিট হাউজের উদ্দেশে রওনা হবেন।


সার্কিট হাউজে পৌঁছানোর পর সেখানে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর সেখান থেকে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে গিয়ে জিয়ারত করবেন। মাজার জিয়ারত শেষে বেলা ১টায় হযরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজারের উদ্দেশে রওনা হয়ে ১টা ২৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছাবেন। উভয় মাজার জিয়ারত শেষে বেলা ২টা ৩০ মিনিটে সার্কিট হাউজে ফিরে সাময়িক বিশ্রাম নেবেন তিনি। 


বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে সার্কিট হাউজ থেকে সংবর্ধনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়ে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন রাষ্ট্রপতি। সংবর্ধনা শেষে বিকেল ৫টা ১ মিনিটে সার্কিট হাউজের উদ্দেশে রওনা হয়ে ৫টা ৫ মিনিটে সেখানে ফিরে পুনরায় বিশ্রাম নেবেন। রাতে সাড়ে ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে সার্কিট হাউজ থেকে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়ে ৭টা ৫৫ মিনিটে বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন রাষ্ট্রপতি। রাত ৮টায় ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হবেন এবং রাত ৯টা ৫০ মিনিটে বঙ্গভবনে প্রত্যাবর্তন করবেন।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৮:০৩ পিএম

ময়মনসিংহের ভালুকায় চোর সন্দেহে সুজন মিয়া (৩৫) নামের এক যুবককে আটক করে বেঁধে মারধরের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার জৈনা বাজার এলাকায় নিয়ে মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।


ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় এক ধরনের নীরবতা তৈরি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে জানতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও ওই রাতে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে কেউ বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। 


স্থানীয়দের দাবি, ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন-এমন কয়েকজন ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন।


নিহত সুজন মিয়া শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া বাজারসংলগ্ন এলাকার আমিনুল হক কালুর ছেলে। তাঁর মা মৃত ফিরোজা বেগম। বর্তমানে তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের আবদার পাড়ায় তাসলিমা নামের এক নারীর বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় ‘মুরাদ ইলেকট্রনিকস’ নামের একটি দোকানে চুরি হয়। চুরির পর দোকানের পেছনের ভাড়া বাসার বাসিন্দারা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর সুজনকে চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয় বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।


স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আটকের পর সুজনকে বেঁধে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে আহত অবস্থায় তাঁকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে শ্রীপুরের জৈনা বাজার এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মহাসড়কের পাশে ময়লার স্তূপের কাছে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।


জৈনা বাজার এলাকায় ময়লার স্তূপের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন সুজনকে উদ্ধার করেন। তাঁকে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করা হয়। তবে কিছুক্ষণ পর তাঁর মৃত্যু হয়।


পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে শ্রীপুর থানা-পুলিশ। তবে সুজন আসলে চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি পুলিশ। চুরির অভিযোগ এবং সুজনকে আটক করে মারধরের ঘটনা-দুটিই তদন্তের বিষয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ।


ঘটনার মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও। ভিডিওতে এক যুবককে বেঁধে মারধর করতে দেখা যায় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে।


তবে ভিডিওটি সুজন মিয়াকে মারধরের ঘটনারই কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশও বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ভিডিওটির স্থান, সময় এবং সেখানে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।


ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে ‘মুরাদ ইলেকট্রনিকস’ দোকানে গিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলা হয়। তাঁরা জানান, ঘটনার রাতে দোকানে চুরি হয়েছিল। 


তবে সুজনকে আটক করা, তাঁকে মারধর করা কিংবা পরে তাঁকে শ্রীপুরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তাঁরা বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। 


দোকানের মালিকের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে সুজনকে আটকের সঙ্গে দোকানের মালিক বা কর্মচারীদের কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না, সে বিষয়ে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


ঘটনার পর জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে ওই রাতের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হয়। তবে স্থানীয়দের অধিকাংশই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।


স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন-এমন কয়েকজন ঘটনার পর থেকে এলাকায় নেই। তাঁরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। তবে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কারও আত্মগোপনের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।


শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ভালুকা উপজেলার মাস্টারবাড়িতে চুরির ঘটনায় সুজনকে চোর সন্দেহে মারধর করা হয়। পরে তাঁকে জৈনা বাজারে ফেলে দেওয়া হলে সেখানে তাঁর মৃত্যু হয়। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।’


ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার পর ভালুকা থানা পুলিশও তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।’


পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সুজন চুরির সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তাঁকে কারা আটক করেছিলেন, তাঁর ওপর কারা মারধর করেছিলেন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে কারা শ্রীপুরে নিয়ে গিয়েছিলেন-এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৮ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতের অভ্যন্তরে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে আসাদুল হক (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মোস্তাকিম (৩২) ও শ্রী উদা রায় (৩৪) নামে আরও দুই বাংলাদেশি যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের অবস্থা গুরুতর বলে খবর পাওয়া গেছে। 


গতকাল শনিবার ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির ৩৩৩ নম্বর মেইন পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে। 


নিহত আসাদল হক পীরগঞ্জের বৈরচুনা ইউনিয়নের ইন্দ্রইল গ্রামের আব্দুল ওয়াজেদের উদ্দীনের ছেলে। আহতদের বাড়িও একই এলাকায়। মোস্তাকিম সেখানকার আহেদ আলীর ছেলে এবং শ্রী উদা মুনষা নারায়ণের ছেলে।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই সীমান্ত পিলার এলাকায় ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দল গুলি চালায়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।


স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজাহান আলী বলেন, বিএসএফের গুলিতে নিহত ও আহতরা বৈরচুনা ইউনিয়নের বাসিন্দা। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে আমরা মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হয়েছি। আহত দু’জনের অবস্থাও ভালো নেই। 


এ বিষয়ে দিনাজপুর ৪২ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল আবদুল্লাহ আল মঈন বলেন, বিষয়টি আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। বিস্তারিত তথ্য জানতে ও পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে। আজ পতাকা বৈঠক হলে বিস্তারিত জানা যাবে।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৭ পিএম

পঞ্চগড়ের দ্বিতীয় পর্যায়ে সরকারি ভাবে পঞ্চগড়ে সোলার প্রজেক্ট স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও পঞ্চগড় চিনিকল পরিদর্শন শেষে এমন মন্তব্য করেন পানি সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এসময় তার সাথে  চায়না, সিঙ্গাপুর ও দুবাই সহ বিভিন্ন দেশের ব্যাবসায়ি প্রতিনিধি এবং দেশীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।




প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম পর্যায়ে আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী ফেনীতে সরকারি সোলার পাওয়ার প্লান্টের উদ্বোধন সহ নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের উদ্বোধন করবেন। সরকারের আশা, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন দেবীগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক এগ্রোজোন ও এই এলাকাকে সবুজায়ন হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এসময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের জন্য সোলার প্রজেক্ট অত্যন্ত উপযোগী। খুব দ্রুত এই সোলার প্রজেক্টগুলোর নির্মাণকাজ শেষ করে ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদের বিদ্যুতের চাহিদা দূর করার পাশাপাশি স্থানীয় বেকারত্ব দূরীকরণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


এসময় তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিদ্যুৎ নিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি করা হয়েছে। যার কারণে গ্রামের সাধারণ মানুষ এখন ঠিকমতো বিদ্যুৎ পাচ্ছে না এবং এর জন্য প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।


বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোতে পারলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কয়েক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে সহায়তা মিলবে। 


বিদেশি বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে স্থানীয় জনগণকে কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এতে এলাকার বেকারত্ব কমার পাশাপাশি মানুষের জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।


চায়না প্রতিনিধি জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান পেং ওয়াং অর্থনৈতিক অঞ্চল এলাকা পরিদর্শন শেষে জানান, জমি প্রাকৃতিকভাবে ভালো এবং বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। তারা নিজ দেশে ফিরে বোর্ড সভায় বিষয়টি আলোচনা করে বিনিয়োগের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে জানান।


এসময় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রনালয়ের যুগ্মসচিব মাহাবুব হোসেন, জেলা প্রশাসক মোসা: শুকরিয়া পারভীন, চায়না প্রতিনিধি জুলং গ্রুপের চেয়ারম্যান পেং ওয়াং, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি বেসরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:২৮ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় টাঙ্গন নদীর উপর নবনির্মিত চেরকুরঘাট ব্রিজ সাম্প্রতিক সময়ে  স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং সর্বস্তরের মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ।


জানা যায় যে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি ) কর্তৃক নির্মিত এই নান্দনিক সেতুটি দেখতে প্রতিদিন সেখানে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন। 


নান্দনিক ডিজাইন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ব্রিজের মূল আকর্ষণ। টাঙ্গন নদীর ওপর নির্মিত এই ব্রিজের আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য ও এর আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর কারণে এটি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে "ভাইরাল ব্রিজ" হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। 


পরবর্তীতে পর্যটন স্পট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বিকেল হলেই স্থানীয় বাসিন্দা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ এখানে ঘুরতে আসছেন এবং ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করছেন, যা এটিকে একটি জনপ্রিয় ভ্রমণ গন্তব্যে পরিণত করেছে। 


স্থানীয় ব্যক্তি মনসুর আলী, রফিকুল ইসলাম আব্দুল হামিদ সহ অনেক‌ই জানান, এই ব্রীজটি হ‌ওয়ায় আমাদের দুই পাড়ের পাশাপাশি আশেপাশে কয়েক গ্রামের মানুষের অনেক সুবিধা হয়েছে। পূর্বে আমাদের বর্ষা মৌসুমে ৫-৭ কিলোমিটার দূরে গিয়ে  যাতায়াত করতে হতো। আমাদের কৃষিকাজে, হাটবাজারে পণ্য পরিবহন, হাসপাতাল সহ ও স্কুল কলেজে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কাজে আমাদের খুব অসুবিধা হতো। এখন ব্রীজ হওয়ায় মনে হয় যোগাযোগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ব্রীজটি নান্দনিক ডিজাইন ও আধুনিক স্থাপত্য শৈলীর কারণে বিনোদনের পাশাপাশি চেরকুরঘাট সংলগ্ন এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়েছে। যেহেতু এই ব্রিজের মাধ্যমে। ব্রীজটি নান্দনিক ডিজাইন ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর মাধ্যমে করা হয়েছে। যা দেখার জন্য দূর দূরান্তের মানুষেরা প্রতিদিন ছুটে আসছে।


ব্রীজটি এলজিইডির অভিজ্ঞ প্রকৌশলীদের মাধ্যমে সুনিপুণভাবে কাজটি সুসম্পন্ন হয়েছে এর আগে এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসন সেতুটির নির্মাণকাজ ও এর চারপাশের উন্নয়ন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেছেন। বর্তমানে এটি পীরগঞ্জের অন্যতম একটি দৃষ্টিনন্দন ও আলোচিত স্থান হিসেবে হাজারো মানুষের নজর কেড়ে চলেছে।


এলজিইডির সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. ফরহাদ হোসেন সৌরভ জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং কাজের গুণগত মান বজায় রেখে এলজিইডি কাজ করে যাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে দক্ষ প্রকৌশলী ও কার্যসহকারীদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রাস্তা, ব্রীজ কালভার্ট এর কাজগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে।


নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মামুন বিশ্বাস জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এবং গুণগত মান বজায় রেখে এলজিইডির বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করাই ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। জনগণের জীবন মান উন্নয়নে এলজিইডি জেলায় সব উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের  গ্রামের রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করে চলেছে। এতে করে গ্রামের মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা আরামদায়ক ও দুর্ঘটনামুক্ত হচ্ছে। তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গ্রামের পাকা রাস্তা ব্যবহার করে মানুষকে অতি দ্রুত আইনি সেবা দিতে পারছে।  কৃষকরা ও ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্য কম খরচে ও সহজে নিকটস্থ বাজারে বাজারজাত করতে সক্ষম হচ্ছে।