আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নরসিংদীর পলাশে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নরসিংদীর পলাশে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আজ রবিবার (৮ মার্চ) সকালে পলাশ উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে দেশ আরও দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। নারী-পুরুষ সমতার ভিত্তিতে একটি উন্নত সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা কবিতা ইসলামের সঞ্চালনায় এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকীন মাশরুর খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আয়েশা আক্তার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুম ভুঁইয়া ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফারিজা নূর।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, নারী উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আইনজীবী শরিফুল আলম ও মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেহ উদ্দিন। ছবি : সংগৃহীত
গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেহ উদ্দিনকে নির্দোষ দাবি করেছেন তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম।
তিনি বলেছেন, ‘আমার আসামি ইনোসেন্ট। আমার আসামির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মোটেও সত্য নয়। ব্যাডটাচও হয় নাই, চুম্বনও দেয় নাই। কিন্তু মামলায় যেটা উল্লেখ হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত।’
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসামির জামিন শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। এদিন গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২-এর বিচারক ওমর হায়দার উভয় পক্ষের শুনানি শেষে অভিযুক্ত শিক্ষকের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে আদালতের ইন্সপেক্টর আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী বলেন, গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করেছেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম বলেন, ‘আমার আসামি ইনোসেন্ট। আমার আসামির বিরুদ্ধে যে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে, তা মোটেও সত্য নয়। মাদ্রাসায় প্রবেশ করে সেখানে অতর্কিত হামলা এবং মব সৃষ্টি করে মাদ্রাসায় ভাঙচুর করা হয়েছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষতি করা হয়েছে।’ এই শিক্ষকের সঙ্গে সুষ্ঠুভাবে বসে কথা বলা যেত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কিন্তু তা না করে সেখানে তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়েছে, বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। আপনারা ভিডিও ফুটেজ দেখেছেন। আমার আসামি যদি কোনো অন্যায়ও করে থাকেন, তাহলে তো আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। একটি প্রতিষ্ঠানে ১৫ জন লোক নিয়ে গিয়ে মব সৃষ্টি করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে পারেন না।’
শিশুকে চুম্বন দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘অভিভাবকের কথা হচ্ছে, আমার বাচ্চাকে চুম্বন দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাচ্চার বাবা-মা বলছেন, বিষয়টি তাদের বাচ্চা খারাপভাবে নিয়েছে।’
আইনজীবী শরিফুলের দাবি, ‘ব্যাডটাচও হয় নাই, চুম্বনও দেয় নাই। কিন্তু মামলায় যেটা উল্লেখ হয়েছে, তা অতিরঞ্জিত। আমরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে কথা বলে যতটুকু জেনেছি, সেখানে চুমু দিতে চাওয়ার কথা এসেছে।’
অভিযুক্ত শিক্ষকের আচরণের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আইনজীবী বলেন, ‘দেড়-দুই বছর আগেও এই বাচ্চা শিক্ষকের ঘাড়ে উঠে বসেছে, দাড়ি টেনেছে। ছোট বাচ্চা তো। মানে স্যারের সঙ্গে সে খুব ফ্রি। স্যার হয়তো বলেছেন, তুমি ভালো রেজাল্ট করেছ, তোমাকে আমি একটা চুমু দেব। অথবা তোমাদের প্রত্যেককে একটা সারপ্রাইজ দেব, তোমাদের আরও বেশি স্নেহ করব।’
মামলার বাদীপক্ষের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাদীপক্ষ আজকে অনেক দুর্বল। যার পরিপ্রেক্ষিতে আজ আদালতে বাদীপক্ষের আইনজীবী নিয়োগের পিটিশন দেওয়া হলেও তিনি দাঁড়াতে পারেননি। কাজেই সত্য-মিথ্যা আমরা বিজ্ঞ আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করব। আমি মনে করি, আমার আসামি নির্দোষ। আমরা আইনের আশ্রয় নিয়েছি এবং সেটা প্রমাণ করব।’
জামিন আবেদন নামঞ্জুরের বিষয়ে শরিফুল আলম বলেন, ‘আমি জামিন প্রার্থনা করেছি। আদালত স্বাভাবিকভাবেই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০ ধারার মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেছেন। পরবর্তীতে আমরা উচ্চ আদালতে যাব এবং সেখানে জামিন প্রার্থনা করব।’
ভুক্তভোগী শাহজালাল রুমি ও তার তালাবদ্ধ বাসা। ছবি: সংগৃহীত
কন্যাশিশুকে যৌন নিপীড়নের পর তার ‘ভবিষ্যতের চিন্তায়’ এবং লাগাতার হুমকি পাওয়ার পর গাজীপুর ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন শাহজালাল রুমি। স্ত্রী এবং দুই সন্তানসহ তিনি ঠিক কোথায় আছেন তার কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
রুমি যে ভবনে বসবাস করেন সেখানকার কেয়ারটেকার কালবেলাকে জানিয়েছেন, গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসার ওই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন মুঠোফোন নম্বর থেকে হত্যার হুমকি পাওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি গ্রেপ্তার আতঙ্কে ছিলেন রুমি। স্ত্রী, দুই সন্তান এবং শ্বশুর-শাশুড়ির নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাসা ছেড়ে তিনি এখন অন্যত্র অবস্থান করছেন।
রোববার (২৫ অক্টোবর) টঙ্গীতে গিয়ে রুমির ফ্ল্যাটের দরজায় তালা দেখতে পান এই প্রতিবেদক। ভবনটির কেয়ারটেকার হাবিবুর রহমানের ভাষ্য, দুই থেকে তিন দিন ধরে রুমির পরিবারের সদস্যরা ভয়ে বাসায় থাকছেন না। যে মেয়েটির সঙ্গে এসব ঘটেছে, সেও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। রুমি এখন মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় আছেন বলে আমাদের জানিয়ে গেছেন। রুমি পেশায় একজন ফেব্রিক ব্যবসায়ী। পাশাপাশি বডি বিল্ডিংয়ের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। ঢাকায় ব্যবসার সুবাদে তিনি তার বাবার ফ্ল্যাটে স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। তার এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। মেয়ের বয়স আট বছর এবং ছেলের বয়স চার বছর। রুমির শ্বশুরের নাম হাজি মোহাম্মদ মোকাররম আলী। মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে রুমি এবং তার পরিবারের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। রুমি ফেসবুক লাইভে একাধিকবার তার ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।
পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি দুই শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সন্তানদের ভালোভাবে পড়াশোনা করিয়ে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়ে মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন রুমি। কিন্তু সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঘিরে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে, তা কখনো কল্পনাও করেননি বলে তার বক্তব্যে উঠে এসেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর থেকে রুমি ও তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে। এর মধ্যে হুমকি ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
পাল্টাপাল্টি মামলা, তদন্তে পুলিশ
মাদ্রাসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে দুটি পৃথক মামলা হয়েছে। একটি মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এবং অন্যটি করেছেন শিশুটির বাবা রুমি। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও বক্তব্য সামনে এসেছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের মামলায় অর্থ আত্মসাৎ, ভাঙচুরসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, রুমি তার মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘দুটি মামলাই আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছি। তদন্ত সাপেক্ষে পুরো বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
তদন্তের স্বার্থে মামলার বিস্তারিত বিষয়ে আপাতত কিছু জানাতে চাননি সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা।
মাদ্রাসা ও রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়
ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনায় আসার পর থেকে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসা এবং রুমির বাসায় গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ঘটনার প্রকৃত তথ্য, দুই পক্ষের বক্তব্য এবং তদন্তের অগ্রগতি জানতে সাংবাদিকেরা সেখানে যাচ্ছেন।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বসতবাড়ীর রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধের জেরে মারামারির ঘটনায় মনোরঞ্জন রায় (৫৫) নামে এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ১ নম্বর বেলাইচণ্ডী ইউনিয়নের নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আসাদুজ্জামান (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত মনোরঞ্জন রায় দিনাজপুরের চক শুকদেবপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। তিনি চিরিরবন্দর উপজেলার সোনাপুকুর মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত অসীম চন্দ্র রায়ের ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নয়া মোল্লাপাড়া গ্রামের মরহুম আজিজুল মাস্টারের বসতবাড়ীসংলগ্ন রাস্তার জমি নিয়ে প্রতিবেশী আসাদুজ্জামান ও তাঁর পক্ষের লোকজনের সঙ্গে আগে থেকেই বিরোধ চলে আসছিল।
রোববার দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধ মীমাংসা বা পরিস্থিতি শান্ত করার উদ্দেশ্যে শিক্ষক মনোরঞ্জন রায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় আসাদুজ্জামান ও তাঁর সঙ্গীরা ক্ষিপ্ত হয়ে মনোরঞ্জন রায়ের ওপর হামলা চালান। সজনে গাছের ডাল ও লাঠি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়।
এতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়ে তিনি পাশের একটি ধানখেতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান। ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা আল রোমান জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পার্বতীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)সহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আসাদুজ্জামানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা দেখা দিলেও পুলিশের হস্তক্ষেপে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারীও জোরদার করা হয়েছে।
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে মোবাইল ফোন চুরির মিথ্যা অপবাদকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে চার মাসের এক গর্ভবতী নারীসহ দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
উপজেলার ভাগ্যকূল ইউনিয়নের উত্তর কামারগাঁও এলাকায় গতকাল শনিবার সকাল ১২ টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে, আহতরা হলেন মমতাজ বেগম ও তার ৪ মাসের গর্ভবতী মেয়ে অহনা আক্তার।
স্থানীয় সূত্র ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উত্তর কামারগাঁও এলাকার শওকত মৃধা বাড়ির পাশে জনৈক আনেচের মুদি দোকানে গেলে জালাল শেখ নামে এক ব্যক্তি তাকে মোবাইল চুরির মিথ্যা অপবাদ দেন। পরবর্তীতে শওকত মৃধার মা মমতাজ বেগম বিষয়টি জানেন এবং প্রতিবাদ করতে গেলে জালাল শেখ ও তার মেয়ে জথি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তারা মমতাজ বেগম ও তার চার মাসের গর্ভবতী মেয়ে অহনা আক্তারের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং বেধড়ক মারধর করে। এ সময় তাদের ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এ বিষয়ে শ্রীনগর থানায় পুলিশের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দিনাজপুরে ৫৭ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ রুনা আক্তার সুমি (৩২) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় নগদ ২ লাখ ৩৫০ টাকা জব্দ করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ৯টা ৫ মিনিটের দিকে জেলার কোতোয়ালী থানাধীন ৯ নম্বর আস্করপুর ইউনিয়নের তাজপুর নতুনপাড়া গ্রামে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোঃ আনোয়ার হোসেন বিপিএমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং ডিবির অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আলমগীর পিপিএমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় ওই নারীর দেহ তল্লাশী করে সাত পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁর দেখানো মতে বসতঘরের তোষকের নিচ থেকে আরও ৫০ পিস ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ট্যাবলেটগুলো ১০০ মিলিগ্রাম মাত্রার। এ ছাড়া মাদক বিক্রির অর্থ বলে উল্লেখ করা নগদ ২ লাখ ৩৫০ টাকা জব্দ করা হয়।
পুলিশের দাবী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার নারী ট্যাবলেটগুলো বিক্রির উদ্দেশ্যে নিজের দখলে রাখার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) ধারার সারণির ২৯(ক) অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে বলে জেলা গোয়েন্দা শাখা জানিয়েছে।