• প্রকাশ : শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬, সময় : ৬:১৯ এএম

টাঙ্গাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট পাকা করণ, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জেলার প্রান্তিক জনপদের অর্থনৈতিক চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। 


জেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার আওতায় মোট সড়কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯,৮২৬.৭০ কিলোমিটারে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ইতিমধ্যে ২,৯৪৬.৫০ কিলোমিটার সড়ক বিসি (বিটুমিনাস কার্পেটিং) দ্বারা পাকা করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬,৮৮১.২০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ককে ক্রমান্বয়ে পাকা সড়কের আওতায় আনার মেগা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এলজিইডি। এই বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে উপজেলা সড়ক ৮১৪.৫০ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক ১,০৭৫.৪০ কিলোমিটার এবং গ্রামীণ সড়ক ৭,৯৩৬.৮০ কিলোমিটার। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত বজায় রাখতে ২৮৬.৭০ কিলোমিটার সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।


সূত্রমতে, প্রান্তিক মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে এলজিইডি এই সড়ক সমূহে আনুমানিক ২,৫০০.০০ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করেছে। শুধু তাই নয়, চলতি অর্থবছরেই যোগাযোগের পরিধি আরও বাড়াতে ৯৪.৯১৭ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৭১.১৭৯ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক এবং ৩৯.০৯১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। গ্রামীণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল রাখতে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১৬টি আধুনিক হাট-বাজার ও বিভিন্ন ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারে চলে আসছে। পাশাপাশি, সমাজের প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশমান ধারা অব্যাহত রাখতে বিপুল সংখ্যক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এলজিইডির প্রাথমিক শিক্ষা 

অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ইউনিটের আওতায় নির্মিত এই আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়গুলো প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নে রাখছে যুগান্তকারী ভূমিকা।


এলজিইডি সূত্র আরো জানায়, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এলজিইডি পানির উৎস সৃষ্টি ও তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেছে। ক্ষুদ্র পানি সম্পদ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশব্যাপী পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ১২ কিলোমিটার খাল এবং ৫টি সরকারি দিঘি/পুকুর সফলভাবে খনন করা হয়েছে। সেই সাথে স্লুইসগেট ও সেচ উপ-প্রকল্পসহ ২টি বড় অবকাঠামো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ১টি সেচ উপ-প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। 


টাঙ্গাইল শহরের চাকুরিজীবী উম্মুল কাউছার, রাফিউর রহমান, আজিজুল হক, আইনজীবী শামসুদ্দিন, নাজিমুদ্দিন, সাগর আহমেদ, শামীমুল ইসলাম, নাসিমুল হক, রেজাউল করিম বাদশা, হুমায়ুন কবির সহ অনেকেই জানান, জেলা সদরের কেন্দ্রবিন্দু ডিসি অফিস-এলজিইডি মোড়(বৈল্লা) সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। ওই সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহন ও চলাচলকারী মানুষচন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল। সড়কটি এলজিইডি নাকি সড়ক বিভাগ করবে এ নিয়ে জটিলতা ছিল। এলজিইডি সড়কটি পুণ:নির্মাণ করায় সাধারণ মানুষের খুবই উপকার হয়েছে- মানুষ সড়কের সুফল ভোগ করছে।


ধনবাড়ীর কৃষক নাজমুল হাসান, পোল্ট্রী খামারের মালিক আজগর আলী, ব্যবসায়ী রহমত হোসেন, আলী ইসলাম, মুদি দোকানদার কায়েম উদ্দিন, শামসুল আলম, আ. কুদ্দুছ সহ অনেকেই জানান, উপজেলার মুশুদ্দী-ঝোপনা সড়কে ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় এখন আর তাদেরকে ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়না। কৃষিপণ্য, পোল্ট্রী মুরগি ও ফিড, নিত্যপণ্য সহজেই আনা-নেওয়া করা যায়। ফলে তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।


বাসাইল উপজেলার শিক্ষক আবুল কাশেম, হাসান আলী রেজা, ইসমত আরা, চাকুরিজীবী রাশেদ রহমান, আফজাল হোসেন, ব্যবসায়ী কলিমুল্লাহ, আমির হামজা সহ অনেকেই জানান, ঝিনাই নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করায় দাপনাজোর এলাকায় অবস্থিত উন্নতমানের ওয়াটার গার্ডেন ও স্পা’তে বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াতে সুবিধার পাশাপাশি নিত্য ও কৃষিপণ্য এবং শিক্ষার্থী-চাকুরিজীবীদের যাতায়াতের পথ সুগম হয়েছে।  


টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, গ্রামীণ অবকাঠামোর এই টেকসই উন্নয়ন মূলত প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে জেলার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে। টাঙ্গাইলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এলজিইডির সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক নির্দেশনা ও পরামর্শ, বিভিন্ন অংশীজন এবং মাঠ পর্যায়ের সহকার্মীদের সার্বিক সহযোগিতায় জেলার উন্নয়ন কাজ সঠিক ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষি-অকৃষিপণ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের খামারি সহ উৎপাদনমুখি কার্যক্রমের সাথে যুক্ত জনগোষ্ঠি গ্রামীণসড়ক যোগাযোগের সুবিধাগ্রহণ করছে। তাদের উৎপাদিত সকল পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য কম খরচে সহজে ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলার সাথে দ্রুত সময়ে যোগাযোগ করে পণ্য বাজারজাত করে আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হচ্ছে।




ভারতীয় নাগরিক অঞ্জনা ভৌমিকের (৫৬) মরদেহ। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:২১ পিএম

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতীয় নাগরিক অঞ্জনা ভৌমিকের (৫৬) মরদেহ ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে তামাবিল ইমিগ্রেশন পুলিশ ও বিজিবির উপস্থিতিতে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহটি হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।


সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আগরতলা থেকে উড়োজাহাজে কলকাতায় যাচ্ছিলেন অঞ্জনা ভৌমিক। যাত্রাপথে বিমানের দরজায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটি অবতরণ করে।


এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে দুই ক্রু সদস্য, একজন রোগী, একজন চিকিৎসক ও একজন প্যারামেডিকসহ মোট সাতজন ছিলেন। অবতরণের পর রোগীকে দ্রুত কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ ভারতে ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে মৃত ব্যক্তি ও তার সঙ্গে থাকা নিকটাত্মীয়ের পাসপোর্ট না থাকায় বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশন তাদের ট্রাভেল পারমিট প্রদান করে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বুধবার দুপুরে তামাবিল ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে মরদেহটি ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


নিহত অঞ্জনা ভৌমিক ভারতের আসাম রাজ্যের কামরূপ জেলার আজেরা এলাকার বাসিন্দা। মরদেহের সঙ্গে তার বোন শান্তা ভৌমিকও ছিলেন। 


  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১১:০০ পিএম

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত ফি দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ভূমিসেবা। নামজারি থেকে শুরু করে শুনানির তারিখ নির্ধারণসহ বিভিন্ন ধাপে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে।


আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে এ-সংক্রান্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তসাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম।


অভিযোগ ওঠা ব্যক্তিরা হলেন বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু, অফিস সহায়ক হারুন অর রশীদ এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েব। আবু সোয়েব বর্তমানে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত।


হয়রানির আশঙ্কায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন সেবাপ্রার্থী অভিযোগ করেন, জমির নামজারির ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ ও দলিলের ধরন বিবেচনায় ৫ হাজার টাকা বা তার বেশি দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব টাকা সরাসরি না নিয়ে আল আমিন লাবুর মাধ্যমে নেওয়া হয়।


এ ছাড়া নামজারির বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে ৩ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আল আমিন লাবুর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, নামজারির শুনানির তারিখ নির্ধারণ ও সিরিয়াল দেওয়ার নামে অফিস সহায়ক হারুন অর রশীদ এক হাজার টাকা করে নেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।


সেবাপ্রার্থীদের দাবি, ভূমিসেবা পেতে অনেকে বাধ্য হয়ে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দিয়েছেন। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তদের অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, “আমি ওইখানে যাই সপ্তাহে দুই-এক দিন। এসিল্যান্ড যেসব কাগজপত্র বাতিল করে দেন বা যে সিদ্ধান্ত দেন, সেগুলো দেখে কাগজপত্র যাচাই করে আমি রিপোর্ট দিই। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। আমার নাম বলে যদি কেউ কারও কাছ থেকে টাকা নেয়, তাহলে সেটা তার বিষয়।”


অন্যদিকে, অফিস সহায়ক হারুন অর রশীদ ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “কোনো ঘুষ গ্রহণ করা হয়নি। আমাদের অফিসে সিসি ক্যামেরা আছে, কোনো ঘুষ নেওয়ার সুযোগ নাই।”


তবে ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবুকে তাঁর কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।


বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস ইউএনওর। এ বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রবিউল ইসলাম বলেন, “বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অনিয়মের কিছু ভিডিও ও ছবি দেখেছি। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে যতটুকু বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।”


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২৩ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় নলকূপ বসাতে গিয়ে ভূগর্ভ থেকে বের হওয়া গ্যাসে আগুন জ্বলার ঘটনায় নতুন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থলের একাধিক জায়গা দিয়ে গ্যাস বের হতে দেখা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি-বাপেক্সের বিশেষজ্ঞরা।


আজ বুধবার বিকালে বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম বলেছেন, গ্যাসের প্রবাহ শুধু নলকূপের গর্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; আশপাশের বিভিন্ন স্থান দিয়েও গ্যাস বের হচ্ছে। এ অবস্থায় গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। তবে শিলা ও পানির নমুনা সংগ্রহ করেছেন তারা।


এদিকে আগুনের সংস্পর্শে আসায় বিদ্যুতের একটি ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই লাইনের মাধ্যমে কক্সবাজারের উখিয়ার কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। বিকল্প হিসেবে প্রায় ২০০ মিটার নতুন লাইন নির্মাণ করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।


গতকাল মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার ছোট ইনানী এলাকায় মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বাড়ির আঙিনায় নলকূপ বসানোর জন্য মাটি খননের সময় গ্যাস বের হতে শুরু করে। পরে সেই গ্যাসে আগুন জ্বলে ওঠে। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও আগুন নেভানো যায়নি।


বাপেক্সের ব্যবস্থাপক (ভূতত্ত্ব) ও ভূতাত্ত্বিক জরিপ দলের প্রধান এস এম নাফিফুন আরহাম বলেন, ঘটনাস্থলে গ্যাসের প্রবাহ নলকূপের গর্তের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। আশপাশের একাধিক জায়গা দিয়ে গ্যাস বের হতে দেখা যাচ্ছে।


তিনি বলেন, “আমরা শিলার নমুনা ও পানির নমুনা সংগ্রহ করেছি। গ্যাসের নমুনা সংগ্রহ করার মতো পরিস্থিতি এখন নেই।”


আরহাম বলেন, ঘটনাস্থলের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাস বের হওয়ার চিহ্ন দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ধারণে একাধিক বিকল্প বিবেচনা করছেন তারা।


এর আগে বাপেক্সের এই কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ভূগর্ভে গ্যাসের উৎস ও প্রকৃতি বুঝতে নমুনা পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্যাসের প্রকৃত উৎস এবং মজুদের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।


গ্যাসের প্রবাহ একাধিক স্থানে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ ও পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


বিদ্যুতের ৩৩ কেভি লাইন ক্ষতিগ্রস্ত


গ্যাসের আগুনের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে। আগুনের সংস্পর্শে এসে ৩৩ কেভি সঞ্চালন লাইনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা প্রকৌশলী কাইজার নূর।


তিনি বলেন, ওই লাইন দিয়ে পাটোয়ার টেক উপকেন্দ্রে বিদ্যুৎ যায়। সেখান থেকে পাটোয়ার টেক, ছোট ইনানী, শফির বিল, বালিয়াডাঙ্গী, মনখালী ও শ্যামলাপুর এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়।


কাইজার নূর বলেন, আগুনের কারণে সঞ্চালন লাইনের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বাপেক্সের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বিপরীত দিক থেকে প্রায় ২০০ মিটার নতুন লাইন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে।


তিনি বলেন, “আমরা সকাল ৮টা থেকে কাজ শুরু করেছি। আজকের মধ্যে নতুন লাইন নির্মাণ করে সংযোগ দিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পরিকল্পনা রয়েছে।”


তবে আগুনের কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের যন্ত্রপাতির সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, আগুনের সংস্পর্শে থাকায় বিদ্যুতের লাইনটি চালু রাখা সম্ভব হয়নি।


১৫ দিন আগে বসানো হয়েছিল নলকূপ


জমির মালিক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, প্রায় ১৫ দিন আগে তার বাড়ির আঙিনায় গভীর নলকূপ বসানো হয়েছিল। তবে নলকূপ বসানোর পরও পানি পাওয়া যায়নি।


তিনি বলেন, নলকূপ বসানোর কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা পরে সেখান থেকে চলে যান। এরপর মঙ্গলবার সকালে ওই স্থান থেকে গ্যাস বের হতে দেখা যায় এবং আগুন জ্বলে ওঠে।


আব্দুল্লাহ বলেন, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন।


  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:২১ পিএম

বাগেরহাটের শরণখোলায় বাঘ আতঙ্কে গত দশ দিন ধরে পাঁচ গ্রামের মানুষ রাতের বেলা ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।


সর্বশেষ বুধবার (২৮ অক্টোবর)  দুপুরে শরণখোলা গ্রামের ধানক্ষেতে একটি বাঘের বাচ্চার দেখা মিলেছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর সকালে সুন্দরবন সংলগ্ন পানিরঘাট (শরণখোলা) এলাকায় প্রথমে বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পায় গ্রামবাসী। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ড্রোন উড়িয়ে বাঘের সন্ধান করছে বনবিভাগ।


বুধবার বিকেলে সরেজমিনে সুন্দরবন সংলগ্ন শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের পূর্ব সোনাতলা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রামের মানুষের চোখে মুখে আতঙ্কের ছাপ।


শরণখোলা গ্রামের মহিউদ্দিন খান বলেন, ‘বুধবার দুপুর ২টার দিকে গ্রামের ধানক্ষেতের পাশে পুকুরে হাঁসের ডাকাডাকি ও অস্থিরতা দেখে এগিয়ে গিয়ে পুকুর পাড়ে  একটি বাঘের বাচ্চা দেখতে পাই। হাঁকডাক দিয়ে ঢিল ছুড়লে বাঘের বাচ্চাটি ধানক্ষেতে ঢুকে যায়।’সোনাতলা গ্রামের বাসিন্দা কবির হাওলাদার ও গৃহবধূ রুমানা বেগম জানান, গত দশদিন আগে সুন্দরবন থেকে ভোলানদী সাঁতরে বাচ্চাসহ বাঘ লোকালয়ে এসে রাতের অন্ধকারে শরণখোলা, সোনাতলা, পূর্ব সোনাতলা, মডেলবাজার ও পানিরঘাট এলাকার ধানক্ষেতসহ বাগান বাড়ির আশেপাশে বিক্ষিপ্তভাবে বিচরণ করার বাঘের পায়ের ছাপ দেখা যাচ্ছে। অনেকে বাঘের পায়ের ছাপ মাটি খুঁড়ে বাড়িতে নিয়ে সংরক্ষণ করছেন বলে তারা জানালেন।


সোনাতলা গ্রামের আবু রাজ্জাক আকন বলেন, শরণখোলা, সোনাতলা, পূর্ব সোনাতলা, মডেলবাজার ও পানিরঘাট এলাকার মানুষজন বাঘের ভয়ে রাতের বেলা বাইরে বের হচ্ছেন না।


সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, গ্রামে বাঘ আসার খবর পেয়ে বাঘের সন্ধানে ওই এলাকার ধান খেতে কয়েক দফা ড্রোন উড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। বাঘের সন্ধান পাওয়া যায়নি। জনসাধারণকে সচেতন করতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে এবং বনরক্ষীসহ ভিটিআরটি ও সিপিজি সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে এসিএফ জানান।সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, শরণখোলার লোকালয়ে বাঘ আসার খবর পেয়ে শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তাসহ বনরক্ষীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং বৃহস্পতিবার তিনি ঘটনাস্থলে যাবো। 

৪৮ ঘন্টা আল্টিমেটামের হুঁশিয়ারি আইনজীবী ফোরামের

সাতক্ষীরায় এডিসিকে অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন সম্পন্ন


  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৮ পিএম

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) রিপন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আকরাম আলীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করা এবং আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিনকে কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ তুলে এসব ঘটনার প্রতিবাদে তাঁর অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের নেতারা।


মানববন্ধন থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে অপসারণের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় লাগাতার কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন তাঁরা।


বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পূর্বের নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনারের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম, সাতক্ষীরা জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাড. মো. আকবর আলী।


মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, গত ১লা অক্টোবর জেনারেল সার্টিফিকেট আদালতে সি.সি. মামলা নং ১৭৫/২৬-এর শুনানিকে কেন্দ্র করে ম্যাজিস্ট্রেটের কক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাড. আকরাম আলীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাস। একপর্যায়ে তাঁর গলার টাই ধরে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।


ঘটনার শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু সমাধানের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সদস্য সচিব আলহাজ্ব অ্যাড. মো. নুরুল আমিন গত ২৬ অক্টোবর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে এডিসির আমন্ত্রণে তাঁর কক্ষে যান। সেখানে কথোপকথনের একপর্যায়ে তাঁকে প্রায় ৪৫ মিনিট কক্ষে আটকে রেখে চরমভাবে আইনজীবী পেশাকে অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।


এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং এডিসির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনে একজন আইনজীবীকে লাঞ্ছিত করা মানে দেশের ৮০ হাজার আইনজীবী সমাজকে অসম্মান করা। এডিসি রিপন কুমার বিশ্বাস এর আগে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে আইনজীবীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে তিনবার আদালত বর্জনের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া অ্যাড. আকবর আলীসহ প্রায় ১০ জন আইনজীবী তাঁর অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা।


বক্তারা এ সময় এডিসির রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বলেন, এডিসি রিপন বিশ্বাস ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের ক্যাডার ছিলেন। ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের জসীম উদ্দিন হল শাখার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। তার বিরুদ্ধে আইনজীবী সমাজের একটি অংশের সঙ্গে বৈরী আচরণের অভিযোগ রয়েছে।



তবে এসবের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


অ্যাড. মো. নুরুল আমিন তাঁর বক্তব্যে একটি অর্পিত সম্পত্তি সংক্রান্ত মামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, অর্পিত মামলা নং ৮০৯/২০১২-এর রায় হয় ২০২৩ সালের ১৮ এপ্রিল এবং ডিক্রি হয় ২৪ এপ্রিল। তাঁর নিয়োগ দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ৪ মে। তাঁর দাবি, পূর্ববর্তী আইনজীবী অ্যাড. প্রবীর মণ্ডল নির্ধারিত সময়ে আপিল করেননি। এ কারণে তামাদি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে তাঁকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি আরোও বলেন, দীর্ঘ ২ বছর তামাদির মধ্যে পূর্বের আইনজীবী অ্যাড. প্রবীর মন্ডল আপিল করেনি। অর্পিত আইনে আপিলের ক্ষেত্রে ১৮ ধারায় বলা হয়েছে ৪ এর ২ ধারা মতে  রায় প্রকাশের ৪৫ দিনের  মধ্যে আপিল মামলা করতে হয়।তামাদি আইনে ৫ ধারা মতে কোনো গ্রহনযোগ্য নহে।সেক্ষেত্রে তামাদি পিটিশন দিয়ে কোনো লাভ নাই।সেকারনে তামাদি দোষ করলে অ্যাড. প্রবীর কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেননি। অ্যাড. নুরুল আমিনকে নোটিশ করে অবগত করেন নাই। এ্যাড. নুরুল আমিন আরও বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, গত ২৬ অক্টোবর মানববন্ধনের ঘোষণা দেয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে তাঁকে নিয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল।


এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এসময় উপস্থিত ছিলেন, অ্যাড. মিজানুর রহমান পিন্টু, অ্যাড.ইব্রাহিম,অ্যাড.শফিকুল ইসলাম, অ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন, অ্যাড.হেলালুজ্জামান , অ্যাড. জাকির, অ্যাড. শাহাজান, অ্যাড. জগলু, অ্যাড. একরাম, অ্যাড. জাহিদুর রহমানসহ একাধিক আইনজীবী।


মানববন্ধনে এডিসি রিপন বিশ্বাসকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদনসহ লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হবে। তাঁরা বিষয়টি মাননীয়  প্রধানমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী, সাতক্ষীরার দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করার কথাও জানান।

লাখ টাকায় ৪০ কোটির ভ্যাট ফাঁকি

সুতা কারখানার কারসাজি


জাতীয় রাজস্ব বোর্ড

  • প্রকাশ : বুধবার ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:৫৬ পিএম

নারায়ণগঞ্জে ভ্যাট ফাঁকির চাঞ্চল্যকর ঘটনা উদঘাটন করেছে নারায়ণগঞ্জ কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট। শহরের তানবাজার এলাকায় আমদানিকারক ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘জামাল ইয়ার্ন ট্রেডিং’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে নিবারক দল বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকার মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ফাঁকির প্রমাণ পেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৬৫৯ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ টাকার সুতা বিক্রি করে এই ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। 


এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আজ বুধবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। 


কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, মিশনারেটের নিবারক দল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের মজুত পণ্য ও হিসাব ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটি ভ্যাট-সংক্রান্ত দলিলাদি দেখাতে ব্যর্থ হয়। পরে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন রেজিস্টার, খাতা, চালান বই, গার্ড ফাইল, কম্পিউটারে সংরক্ষিত তথ্যের এক্সেল কপি এবং প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধির স্বাক্ষরযুক্ত একটি বিবৃতি জব্দ করা হয়। 


প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি থেকে পাওয়া এসব দলিল পর্যালোচনা করে বিক্রির তথ্য ও ভ্যাট রিটার্নে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে কমিশনারেট। কমিশনারেটের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির সুতা বিক্রির বিবরণীতে ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট ৬৫৯ কোটি ১৪ লাখ ৬০ হাজার ৫৯১ টাকার বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিক্রির ওপর ৫ ও ৭.৫ শতাংশ হারে প্রযোজ্য ভ্যাটের পরিমাণ ৪০ কোটি ৪০ লাখ ৪৪ হাজার ৪৪২ টাকা।


প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দাখিল করা ভ্যাট রিটার্নে মোট বিক্রি দেখিয়েছে ৩৯ কোটি ১৬ লাখ ৫৩ হাজার ২৩০ টাকা। একই সময়ে ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে ভ্যাট জমা দিয়েছে মাত্র ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫০০ টাকা। অর্থাৎ এই ৫ বছরে প্রতিষ্ঠানের কাছে রাজস্ব (মূসক) ফাঁকি বাবদ সরকারের বকেয়া ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকা যা আদায়যোগ্য। 


কমিশনারেটের হিসাবের বরাত দিয়ে এনবিআর বলছে, এমতাবস্থায় প্রযোজ্য ভ্যাট থেকে জমা দেওয়া অর্থ বাদ দেওয়ার পর সরকারের পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ৯৪২ টাকা। এ অর্থ আদায়যোগ্য। 


এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি বিরুদ্ধে বিক্রির সময় ভ্যাট চালান ইস্যু না করার অভিযোগও পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে বিক্রির প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে ভ্যাট রিটার্নে উল্লেখ করা তথ্যের বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে মামলার পাশাপাশি সুদ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।


প্রতিষ্ঠানটির এই রাজস্ব ফাঁকি মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন এবং মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সুতরাং এমন কার্যক্রম শাস্তিযোগ্য অপরাধ বিবেচিত হওয়ায় পরিহারকৃত মূসক, জরিমানা এবং আইনের ধারা-১২৭ অনুযায়ী সুদ আদায় করার লক্ষ্যে মূসক ফাঁকির মামলা দায়ের করা হয়েছে।