• প্রকাশ : শুক্রবার ২৬ জুন, ২০২৬, সময় : ৬:১৯ এএম

টাঙ্গাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট পাকা করণ, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জেলার প্রান্তিক জনপদের অর্থনৈতিক চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। 


জেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার আওতায় মোট সড়কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯,৮২৬.৭০ কিলোমিটারে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ইতিমধ্যে ২,৯৪৬.৫০ কিলোমিটার সড়ক বিসি (বিটুমিনাস কার্পেটিং) দ্বারা পাকা করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬,৮৮১.২০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ককে ক্রমান্বয়ে পাকা সড়কের আওতায় আনার মেগা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এলজিইডি। এই বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে উপজেলা সড়ক ৮১৪.৫০ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক ১,০৭৫.৪০ কিলোমিটার এবং গ্রামীণ সড়ক ৭,৯৩৬.৮০ কিলোমিটার। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত বজায় রাখতে ২৮৬.৭০ কিলোমিটার সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।


সূত্রমতে, প্রান্তিক মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে এলজিইডি এই সড়ক সমূহে আনুমানিক ২,৫০০.০০ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করেছে। শুধু তাই নয়, চলতি অর্থবছরেই যোগাযোগের পরিধি আরও বাড়াতে ৯৪.৯১৭ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৭১.১৭৯ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক এবং ৩৯.০৯১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। গ্রামীণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল রাখতে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১৬টি আধুনিক হাট-বাজার ও বিভিন্ন ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারে চলে আসছে। পাশাপাশি, সমাজের প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশমান ধারা অব্যাহত রাখতে বিপুল সংখ্যক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এলজিইডির প্রাথমিক শিক্ষা 

অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ইউনিটের আওতায় নির্মিত এই আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়গুলো প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নে রাখছে যুগান্তকারী ভূমিকা।


এলজিইডি সূত্র আরো জানায়, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এলজিইডি পানির উৎস সৃষ্টি ও তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেছে। ক্ষুদ্র পানি সম্পদ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশব্যাপী পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ১২ কিলোমিটার খাল এবং ৫টি সরকারি দিঘি/পুকুর সফলভাবে খনন করা হয়েছে। সেই সাথে স্লুইসগেট ও সেচ উপ-প্রকল্পসহ ২টি বড় অবকাঠামো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ১টি সেচ উপ-প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। 


টাঙ্গাইল শহরের চাকুরিজীবী উম্মুল কাউছার, রাফিউর রহমান, আজিজুল হক, আইনজীবী শামসুদ্দিন, নাজিমুদ্দিন, সাগর আহমেদ, শামীমুল ইসলাম, নাসিমুল হক, রেজাউল করিম বাদশা, হুমায়ুন কবির সহ অনেকেই জানান, জেলা সদরের কেন্দ্রবিন্দু ডিসি অফিস-এলজিইডি মোড়(বৈল্লা) সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। ওই সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহন ও চলাচলকারী মানুষচন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল। সড়কটি এলজিইডি নাকি সড়ক বিভাগ করবে এ নিয়ে জটিলতা ছিল। এলজিইডি সড়কটি পুণ:নির্মাণ করায় সাধারণ মানুষের খুবই উপকার হয়েছে- মানুষ সড়কের সুফল ভোগ করছে।


ধনবাড়ীর কৃষক নাজমুল হাসান, পোল্ট্রী খামারের মালিক আজগর আলী, ব্যবসায়ী রহমত হোসেন, আলী ইসলাম, মুদি দোকানদার কায়েম উদ্দিন, শামসুল আলম, আ. কুদ্দুছ সহ অনেকেই জানান, উপজেলার মুশুদ্দী-ঝোপনা সড়কে ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় এখন আর তাদেরকে ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়না। কৃষিপণ্য, পোল্ট্রী মুরগি ও ফিড, নিত্যপণ্য সহজেই আনা-নেওয়া করা যায়। ফলে তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে।


বাসাইল উপজেলার শিক্ষক আবুল কাশেম, হাসান আলী রেজা, ইসমত আরা, চাকুরিজীবী রাশেদ রহমান, আফজাল হোসেন, ব্যবসায়ী কলিমুল্লাহ, আমির হামজা সহ অনেকেই জানান, ঝিনাই নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করায় দাপনাজোর এলাকায় অবস্থিত উন্নতমানের ওয়াটার গার্ডেন ও স্পা’তে বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াতে সুবিধার পাশাপাশি নিত্য ও কৃষিপণ্য এবং শিক্ষার্থী-চাকুরিজীবীদের যাতায়াতের পথ সুগম হয়েছে।  


টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, গ্রামীণ অবকাঠামোর এই টেকসই উন্নয়ন মূলত প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে জেলার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে। টাঙ্গাইলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এলজিইডির সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক নির্দেশনা ও পরামর্শ, বিভিন্ন অংশীজন এবং মাঠ পর্যায়ের সহকার্মীদের সার্বিক সহযোগিতায় জেলার উন্নয়ন কাজ সঠিক ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষি-অকৃষিপণ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের খামারি সহ উৎপাদনমুখি কার্যক্রমের সাথে যুক্ত জনগোষ্ঠি গ্রামীণসড়ক যোগাযোগের সুবিধাগ্রহণ করছে। তাদের উৎপাদিত সকল পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য কম খরচে সহজে ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলার সাথে দ্রুত সময়ে যোগাযোগ করে পণ্য বাজারজাত করে আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হচ্ছে।



সর্বশেষ সব খবর

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বকুল

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৬ পিএম

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো: সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে বাড়ির আঙিনায় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি ঐক্যবদ্ধ হয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযানে সকালে মিলেমিশে প্রতিটি এলাকায় কাজ করতে হবে। 


বিএনপির ৪৮ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি উদ্যোগে ও রূপগঞ্জ প্রাইভেট হসপিটাল ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে পাড়াগাঁও ঈদগাহ মাঠে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পিং অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 


এসময় তিনি আরো বলেন, রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা থেকে বাড়িয়ে ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতালের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। শীঘ্রই তা বাস্তবায়ন করা হবে। সকলের সম্মিলিত সহযোগিতা ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা উন্নতিকরণ সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। 


বিশেষ অতিথি' বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ ১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মুস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিবো বলেন, রূপগঞ্জে ২০ লাখ মানুষের বসবাস। একটি মাত্র সরকারি হাসপাতালে গড়ে ৪০ হাজার মানুষের জন্য একটি করে বেড বরাদ্দ রয়েছে। তাই ৫০ বেড থেকে ১৫১ বেড নয় এটাকে যেন ২৫১ বেড হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়।


এ সময় কয়েক হাজার মানুষকে ১৩ টি আলাদা বিভাগে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ রোগী দেখে বিনামূল্যে চিকিৎসা পত্র এবং ঔষধ প্রদান করেন।


আয়োজিত মেডিক্যাল ক্যাম্পিংয়ে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুল, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, মহিলা আসন-৩২৮ এর সংসদ সদস্য মমতাজ আলো, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদের প্রাশাসক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম ফারুক খোকন, মেডিক্যাল ক্যাম্পিংয়ের সভাপতিত্ব করে, রুপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি জনাব এড. মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন। সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আনোয়ার সাদাত সায়েম, আশরাফুল হক রিপন, মাহাবুবুর রহমানসহ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। 

সর্বশেষ সব খবর
  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ পিএম
  • আপডেট : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ এএম


আবাসিক হোটেল থেকে ১৮ নারী-পুরুষ গ্রেপ্তার

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৩৬ পিএম

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী পৌরসভার দুটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়ে অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে ৬ জন পুরুষ ও ১২ জন নারীকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।


আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) পেয়ার আহমেদ। 


এর আগে, শুক্রবার বিকেলে চৌমুহনী বাজারের ডালিয়া মার্কেটের রাজ আবাসিক হোটেল ও রিলাক্স আবাসিক হোটেলে পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।


ডিবি পুলিশ জানায়, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ও ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিকেল ৫টার দিকে এসআই মো. ওসমান গনির নেতৃত্বে একটি দল রাজ আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায়। এ সময় অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে আরমান হোসেন (২২), নাছির উদ্দিন (৩২), মিজানুর রহমান (২২), মোজাম্মেল হোসেন (২০), রাকিব হোসেন (১৯) ও ৭ জন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


এর আগে, একই দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে একই এলাকার রিলাক্স আবাসিক হোটেলে এসআই মো. আনোয়ার হোসাইনের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে ইমাম হোসেন (৫০) ও ৫ জন নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।


নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) পেয়ার আহমেদ আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১৬ পিএম

সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং পেশিশক্তি প্রদর্শনপূর্বক সহযোদ্ধাকে রক্তাক্ত করার অভিযোগে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. ইসমাইল হোসেন ইলিয়াসকে কারণ দর্শানো (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। 


আজ শনিবার যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশ প্রদান করা হয়।


কেন্দ্রীয় কমিটির নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ‘ইসমাইল হোসেনের বিরুদ্ধে পেশিশক্তি প্রদর্শন, সংগঠনের সহযোদ্ধাকে (স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নজরুল ইসলাম) অন্যায়ভাবে রক্তাক্ত করা এবং নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার লিখিত অভিযোগ উঠেছে। এহেন সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য কেন তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নোটিশ প্রাপ্তির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়নের সম্মুখে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


সংগঠনিক নোটিশের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে হাতিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ইলিয়াস নোটিশ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,  হাতিয়া উপজেলার একটি সুপারমার্কেটে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা নজরুল ইসলাম ওরফে আদনানের ভাইয়ের সাথে পৌরসভা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোকাররম বিল্লাহ শাহাদাতের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। 


পরবর্তীতে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে শালিস বৈঠকে বসলে পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নজরুলের নেতৃত্বে সেখানে হট্টগোল তৈরী করে। খবর পেয়ে তিনি (ইসমাইল) ঘটনাস্থলে পৌঁছে সংঘাত ঠেকাতে যান এবং প্রতিহত করতে গিয়ে নজরুলের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ইসমাইল হোসেনের দাবি, সম্পূর্ণ ঘটনাকে বিকৃত করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ভিত্তিহীন অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। 


চরাঞ্চলে দস্যুবাহিনীর সঙ্গে বৈঠক ও একসঙ্গে বসে খাওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসমাইল হোসেন বলেন, চরাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও দখলদারি রোধে সাধারণ নেতাকর্মী ও সাংবাদিকদের সাথে গিয়ে তিনি সেখানে কাজ করেছেন। কোনো অপকর্মের সাথে নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি জবাব দাখিল করবেন বলে জানান।


দলীয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২ সেপ্টেম্বর হাতিয়া উপজেলা সুপারমার্কেটে একটি সালিসি বৈঠকে হট্টগোলকে কেন্দ্র করে পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক নজরুল ইসলামের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেখানে উপস্থিত উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইসমাইল হোসেন ওরফে ইলিয়াছ ও অনুসারীরা নজরুলের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে রক্তাক্ত করেছেন বলে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:১০ পিএম

ফরিদপুরের মধুখালীতে ধানখেতের পাশ থেকে তিনটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা অজ্ঞাত এক পুরুষের ছয় টুকরো মরাদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। 


আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের বোয়ালিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা থেকে মরাদেহটি উদ্ধার করা হয়। 


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে ধানখেতের পাশে একটি তালগাছের গোড়ায় তিনটি মুখ বাঁধা প্লাস্টিকের বস্তা দেখতে পান স্থানীয় লোকজন। বস্তাগুলো দেখে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।


স্থানীয়দের উপস্থিতিতে বস্তা তিনটির মুখ খুললে সেগুলোর ভেতর থেকে আনুমানিক ৪০ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত পুরুষের মরাদেহের ছয়টি বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে মরাদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।


মধুখালী সহকারী পুলিশ সুপার মাসুদুজ্জামান জানান, মরাদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে পরিচয় শনাক্ত না হলে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফনের জন্য আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

সর্বশেষ সব খবর

কনসার্ট বন্ধের দাবিতে শুক্রবার রাতে সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুবের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০৯ পিএম

সম্প্রতি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর প্রদর্শনী বন্ধ এবং জেলা পুলিশ লাইনসে কনসার্টে বাধা দেওয়ার পর এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ উপলক্ষে অনুষ্ঠিতব্য কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ।


শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়ে কনসার্টটি বন্ধের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।


কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম, ইলম, আলেম ওলেমা ও ধর্মীয় মূল্যবোধে সমৃদ্ধ এক জনপদ। এ জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনসাধারণের ধর্মীয় অনুভূতি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এমন একটি জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে ১৪ সেপ্টেম্বর নবীনবরণ উপলক্ষে গানের কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে আমরা জেনেছি।


স্মারকলিপিতে বলা হয়, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নবীনদের বরণ অবশ্যই আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হতে পারে। তবে সেই আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, এ বিষযটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়া অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন কনসার্ট ও গানের অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে এ ধরনের আয়োজনকে ঘিরে জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে, তা কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।


কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুজায়েল আহমেদ খান বলেন, আমাদের মূল বিষয়গুলো স্মারকলিপিতে তুলে ধরেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো বলেছেনই, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা বন্ধের মতোই। স্বরাষ্টমন্ত্রী যে বিষয়ে কথাটা বলেছিলেন সেখানে ৩০ জন ছাত্র আহত হয়েছিল- এই কনসার্টের কারণেই। এক মাসও যায়নি, এর মধ্যেই আবার কনসার্ট করতে চাচ্ছে। তাহলে বিষয়টা এমন হয়ে গেল না- ‌‘কাটা গায়ে নুনের ছিটা’ দিচ্ছে! তারা তো এগুলো দেখেছে, তারপরও কীভাবে এগুলো করে?


তিনি বলেন, ৮ থেকে ৯ বছর আগেই এই নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধ হয়েছিল। এটি বন্ধের মূল কারণ ছিল- নাচগানের মধ্যে এক মেয়ে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছিল। যে কারণে কনসার্ট বন্ধ হয়েছিল তারা কি সেটা আবার চালু করতে চায়? তারা (কলেজ কর্তৃপক্ষ) কি চায় ছাত্রীরা সেখানে ইভটিজিংয়ের শিকার হোক?


ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম ওবায়াদুল হক বলেন, উনারা সংসদ সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছে গেছেন- এটা আমি অফিসিয়ালি অবগত নই। উনারা আমাদের কাছে আসেননি। যদি আমাদের জানান এবং পরামর্শ দেন তাহলে আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব। আর এটা ওভাবে কনসার্ট না, আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠন করব। আমাদের তিনটা কর্মসূচি আছে;  নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ।


প্রসঙ্গত, গত ৩০ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ফিল্ম সোসাইটির উদ্যোগে জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এর প্রদশর্নী কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের বাধার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়।


এরপর ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির আগমন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দে গানবাজনা নিয়ে পাশের জামিয়া দারুল আরকাম আল ইসরামিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে ৩০ জন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আহত হয়। এছাড়া পুলিশ সদস্যরাও আহত হন। ওই ঘটনার  রাতেই জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জামিয়া ইসলামিয়া ইউনুছিয়া মাদ্রাসায় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা পুলিশ সুপারের দুঃখ প্রকাশের মাধ্যমে এবং জড়িতদের শাস্তির আশ্বাসে ঘটনাটির তাৎক্ষণিক সমাধান হয়।


এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘একটি অনুষ্ঠানে আছি, পরে কথা বলব।’

সর্বশেষ সব খবর

ফরিদপুরে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত

মামলা নিষ্পত্তি, ওয়ারেন্ট তামিল ও জখমী সনদ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা


পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স

  • প্রকাশ : শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৯ পিএম

ফরিদপুরে বিচার বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে পুলিশ–ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।


আজ ফরিদপুর জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ সেলিম রেজার সভাপতিত্বে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের মাননীয় সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জনাব মোঃ জিয়া হায়দার।


কনফারেন্সে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, পিবিআই ফরিদপুরের প্রতিনিধি, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনের প্রতিনিধি, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের উপপরিচালক, পাবলিক প্রসিকিউটর, ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, জেল সুপার, জেলার বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, সিআইডি ও ডিবির অফিসার ইনচার্জসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।


কনফারেন্সে ফরিদপুর চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিগত পাঁচ বছরের মামলার নিষ্পত্তির পরিসংখ্যান উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি আদালতের বিভিন্ন মামলায় ওয়ারেন্ট তামিলের হার এবং যথাসময়ে জখমী সনদ প্রাপ্তির বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


পরে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মোঃ সেলিম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব। এতে ফৌজদারি মামলার কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে উদ্ভূত সমস্যা, মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা এবং এসব সমস্যা সমাধানের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা করা হয়।


আলোচনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে পুলিশ, আদালত, চিকিৎসা বিভাগ, কারা কর্তৃপক্ষ এবং আইনজীবীদের সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও উঠে আসে।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ জনাব মোঃ জিয়া হায়দার সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।


সভাপতির সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

সর্বশেষ সব খবর