• প্রকাশ : রবিবার ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৬ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে মুদাফা হাজী সৈয়দ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের নবগঠিত এডহক কমিটির পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এডহক কমিটির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়।




আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, এডহক কমিটির সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুদাফা হাজী সৈয়দ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আসাদুজ্জামান নূর (ভিপি আসাদ)।


নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সুমন, এডহক কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সদস্য নুরুল ইসলাম এবং অভিভাবক সদস্য মোস্তফা কামাল উপস্থিত ছিলেন।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৫২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইদ্রিস শরিফ, সাধারণ সম্পাদক মো. সামসুল আলম, এডহক কমিটির সাবেক সভাপতি গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুল হক, বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হাজী আবুল হোসেন, টঙ্গী পশ্চিম থানা শ্রমিক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি নাছির উদ্দিন, বিএনপি নেতা সোলাইমান কবির, আরিফুল আলম সরকার, সাইদুল ইসলাম জনি মাস্টার, ইকবাল হোসেন, আলম মিয়া, কামাল হোসেন, আক্তার হোসেন, হারুন মিয়া, নাহিদ শাহরিয়ার, মেহেদী হাসান তারা, সোবহান জিন্নাহ ও ফাইজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুদাফা হাজী সৈয়দ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জিন্নত আলী।


পরিচিতি সভায় নবগঠিত এডহক কমিটির সদস্যদের পরিচয় তুলে ধরা হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষা পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পড়াশোনার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা, অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা এবং বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।


সভায় বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সার্বিক উন্নয়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তুলতে শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।


তারা আরও বলেন, শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জন করাই শিক্ষার মূল লক্ষ্য নয় শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, উপস্থিতি ও আচরণের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে।


সভায় বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে এডহক কমিটি, শিক্ষক ও অভিভাবকদের পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ভবিষ্যতে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা করা হয়।


অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক ও অভিভাবকরা নবগঠিত এডহক কমিটির সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁদের বিভিন্ন মতামত তুলে ধরেন।



সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৫৩ পিএম

ঢাকার সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে ধারাবাহিক নাশকতা, সহিংসতা ও আতঙ্ক সৃষ্টির অভিযোগে দেড় ডজন মামলার আসামি নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানা ওরফে ধর্ষণ রানা ওরফে ড্যান্সার রানাকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ। 


ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের ফরিঙ্গা গ্রামের ফরিঙ্গা কিন্ডারগার্টেন হাই স্কুলের অফিস কক্ষে আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 


সূত্র জানায়, ওই প্রতিষ্ঠানে তিনি বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী রোয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মোল্লার ছত্রছায়ায় খালাতো ভাই পরিচয়ে অবস্থান করছিলেন।


গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানা সাভার সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি। তিনি সাভার সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁপাইন তালতলা এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলীর ছেলে। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ছাত্র-জনতা নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া আলোচিত একাধিক মামলাসহ প্রায় দেড় ডজন মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।


পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে সংঘটিত ছাত্র-জনতা নিহতের ঘটনায় দায়ের হওয়া একাধিক মামলার এজাহারনামীয় আসামি সোহেল রানা। এসব মামলায় তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি, নাশকতা ও সহিংস কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তার দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার ব্যাপক তৎপরতা ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।


তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কয়েকজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে বারবার উঠে আসে সোহেল রানা ওরফে ধর্ষণ রানা ওরফে ড্যান্সার রানার নাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা যাচাই করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনেও তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর থেকেই তার ওপর বাড়ানো হয় গোয়েন্দা নজরদারি।


আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকা জেলার ধামরাই থানাধীন রোয়াইল এলাকার ফরিঙ্গা কিন্ডারগার্টেন হাই স্কুলের ভবনে অভিযান চালায় সাভার মডেল থানা পুলিশ। এ সময় সেখানে আত্মগোপনে থাকা সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


সূত্র জানায়, আত্মগোপনে থাকার সময় সোহেল রানা নিজেকে কখনো স্কুল শিক্ষক, আবার কখনো ফরিঙ্গা কিন্ডারগার্টেন হাই স্কুলের মালিক হিসেবে পরিচয় দিতেন। পাশাপাশি রোয়াইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ওয়াসিম মোল্লার ছত্রছায়ায় নিজেকে তার খালাতো ভাই পরিচয় দিয়ে ওই এলাকায় দাপিয়ে বেড়াতেন, এভাবে ছদ্মবেশ ধারণ করে নিষিদ্ধ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন সোহেল রানা।


ঢাকা জেলা পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাভার মডেল থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সাভার মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল ইসলাম।


গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইফুল আলম জানান, গ্রেপ্তার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে তার নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।


পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সোহেল রানাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে। রিমান্ডে নিয়ে নাশকতা, সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা সহযোগী, অর্থের উৎস এবং পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।


এদিকে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এই ছাত্রলীগ নেতার গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনে শহীদদের স্বজন ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা সোহেল রানার দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এছাড়াও তার পৃষ্ঠপোষক ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের বিএনপি নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী ওয়াসিম মোল্লার বিচার দাবি করেছেন ফ্যাসিস্ট বিরোধী ছাত্র-জনতা।


প্রসঙ্গত, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীরা জুলাই মাসসহ গত ৪ ও ৫ আগস্ট সাভারে জমায়েত হতে থাকেন। এ সময় দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক স্বৈরাচার শেখ হাসিনার অন্যতম সহযোগী সাভার উপজেলার পতিত চেয়ারম্যান ও নিষিদ্ধ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীব এবং দণ্ডপ্রাপ্ত ঢাকা-১৯ আসনের পতিত সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় সাভার-আশুলিয়ায় শতাধিক ছাত্র-জনতা শহীদ হন এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেন।

সর্বশেষ সব খবর

জনপ্রিয় যুবদল নেতা সাজু

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৩৮ পিএম

মশিউর রহমান রাসেল দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ত্যাগ, মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির কারণে ঝালকাঠি জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এনামুল হক সাজুকে জেলা যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দেখতে চান তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশ।


ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এনামুল হক সাজু দীর্ঘদিন ধরে ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি ঝালকাঠি জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ঝালকাঠি সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঝালকাঠি জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় এনামুল হক সাজু বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে মামলা ও কারাবরণের ঘটনাও রয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়ে তাঁর সাংগঠনিক ভূমিকা ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা তাঁর রাজনৈতিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উল্লেখ করছেন নেতাকর্মীরা।


তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে এনামুল হক সাজুর প্রতি দলের তরুণ নেতাকর্মীদের একটি অংশের আস্থা রয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। জেলা যুবদলের নতুন নেতৃত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যে তাঁর নামও সামনে এসেছে।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল হক সাজু বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলাম। এ সময়ে অসংখ্য মিথ্যা ও রাজনৈতিক মামলার শিকার হয়ে বারবার কারাবরণ করতে হয়েছে। বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বানে সবসময় রাজপথে ছিলাম। বর্তমানে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যেভাবে, যখন যে নির্দেশনা দিচ্ছেন, সেভাবেই দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনায় সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রেখে যাচ্ছি।


ভবিষ্যতেও জিয়া পরিবারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বস্ততা রেখে রাজপথে থেকে দলের জন্য কাজ করে যেতে চাই। আমি সবসময় বিশ্বাস করি, রাজনীতি করতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। ত্যাগ ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকার মূল্যায়ন একদিন অবশ্যই হবে-ইনশাআল্লাহ।”


তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, যোগ্যতা, ত্যাগ, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভূমিকা ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার যথাযথ মূল্যায়নের মাধ্যমে জেলা যুবদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে যোগ্য ও ত্যাগী নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হোক।

সর্বশেষ সব খবর

নজরুলের কুশপুতুল দাহ করা হয়

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৪২ পিএম

দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় নজরুলের কুশপুতুল দাহ করা হয়। আজ সোমবার বেলা পৌনে ১২টায় শ্যামনগর জেসি কমপ্লেক্সের সামনে ‘সচেতন নাগরিক কমিটির’ ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।


এ সময় মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবি জানানো হয়। মিছিল শেষে শ্যামনগর প্রেস ক্লাবের সামনে গাজী নজরুলের কুশপুতুল দাহ করা হয়।


স্থানীয় বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, “মরিয়মের মৃত্যুর জন্য গাজী নজরুল দায়ী। আমরা তার শাস্তি চাই।”


ভুরুলিয়া গ্রামের মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম বলেন, “গাজী নজরুল একজন নীতিহীন পথভ্রষ্ট মানুষ। তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি দীর্ঘদিন ধরে জানিয়ে আসছিল শ্যামনগরের মানুষ। সেই দাবির প্রতি মনোযোগ দিলে আজকে মরিয়মের মত মানুষকে জীবন দিতে হত না।”


সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপির শাস্তি দাবি করে আটুলিয়া গ্রামের আশরাফুজ্জামান হেলাল বলেন, “গাজী নজরুল আজীবন একজন দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ। তিনি গরিবের টিন চুরিসহ নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছেন। কিন্তু রাজনীতি ও জনপ্রতিনিধি বিবেচনায় সব সময় নিজেকে নিরাপদ রেখেছেন।”


সদর উপজেলার বাসিন্দা রাবেয়া খাতুন বলেন, “মরিয়মকে বিয়ের কথাটি গাজী নজরুল প্রতারণামূলক প্রচারণা চালিয়ে ছিলেন। শুরুতে সেই অপরাধ চিহ্নিত করতে পারলে, আজকে মরিয়মের প্রাণহানি ঠেকানো যেতো।”


একই এলাকার রাফিয়া ইসলাম বলেন, “গাজী নজরুল সাতক্ষীরার মান-সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছেন। সংসদের উচিত তাকে শুধু বরখাস্ত নয়, তার বিরুদ্ধে বিচারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।”


গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের উল্টো দিকের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে গাজী নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর রাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। রাতেই আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম, তার স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম ও নিহতের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ।


এ ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করার কথা জানিয়েছেন শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার।

সর্বশেষ সব খবর

সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১১ পিএম

ঠাকুরগাঁওয়ে পরিকল্পিত সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জেলা বিএনপি এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।


আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দলীয় নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত মিছিলটি ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


মিছিল থেকে সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও দমন-পীড়নের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। এতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।


মিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ পয়গাম আলি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শরিফুল ইসলাম শরিফ, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ তারিক আদনান, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহবুবুর রহমান তুহিনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রাখেন।


বক্তারা বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তারা গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সর্বশেষ সব খবর

ঈদে মিলাদুন্নবী ও এয়াকুব আলী চৌধুরীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা

বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ.) এয়াকুবিয়া আলিম মাদ্রাসায় দোয়া মাহফিল


  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:৪১ পিএম

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বটতলী শাহ মোহছেন আউলিয়া (রহ.) এয়াকুবিয়া আলিম মাদ্রাসার উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী ﷺ মাহফিল ও মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা, শিক্ষানুরাগী, আজীবন দাতা সদস্য, পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি এবং বটতলী ইউনিয়ন পরিষদের দীর্ঘ তিন যুগের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আলহাজ্ব এয়াকুব আলী চৌধুরীর ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় মাদ্রাসার অডিটোরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, পরিচালনা পরিষদের সদস্য, সাবেক শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেন।


অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আল্লামা জানে আলম নেজামী। পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আলহাজ্ব জালাল উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী মঞ্জু অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।


প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সাবেক সভাপতি ও দাতা সদস্য আলহাজ্ব কুতুবউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন সেলিনা কাদের চৌধুরী কলেজের অধ্যাপক ইমতিয়াজ উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী, পাহাড়তলী কলেজের অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, বখতিয়ার পাড়া চারপীর আউলিয়া (রহ.) ফাযিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক আরিফ উদ্দীন, হযরত খাজা কালু শাহ (রহ.) ফাযিল মাদ্রাসার সাবেক আরবি প্রভাষক মাওলানা আহমদ হোসাইন, পরিচালনা পরিষদের সদস্য মেসবাহ উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী সোহেল, দাতা সদস্য ও ব্যাংকার মেহবুব উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, শিক্ষানুরাগী সদস্য অ্যাডভোকেট রাকিব উদ্দীন জালাল চৌধুরী এবং আল্লামা ইকবাল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ডি. এম. জাহাঙ্গীর আলমসহ অন্যরা।


মাহফিলে বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর পবিত্র জীবনাদর্শ, মানবতার প্রতি তাঁর অসামান্য অবদান, উত্তম চরিত্র, সত্য ও ন্যায়ের শিক্ষা এবং তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন।


বক্তারা বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে নৈতিকতা, মানবিকতা, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।


এ সময় বক্তারা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব এয়াকুব আলী চৌধুরীর শিক্ষা বিস্তার ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাধারণ শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন।


অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল ﷺ, আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি-সমৃদ্ধি এবং মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব এয়াকুব আলী চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:০১ পিএম

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, বন্যা ও লবণাক্ততার ঝুঁকিতে থাকা নোয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার ৪৫০ নারীকে দুর্যোগ মোকাবিলার কৌশল শেখানো হচ্ছে। পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশন নেটওয়ার্ক-প্রান এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) সহায়তায় গত ২৪ আগস্ট থেকে নোয়াখালী সদর, হাতিয়া ও সুবর্ণচর উপজেলার সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত পল্লী মাতৃকেন্দ্রে এ কার্যক্রম চলছে। প্রতিটি কেন্দ্রে ৩০ জন করে মোট ৪৫০ নারী এতে অংশ নিচ্ছেন।


‘দুর্জয়ী’ মডিউলের এসব সেশনে দুর্যোগের সময় নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তা, জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধ, প্রজনন স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য ও আশ্রয়কেন্দ্রে নিরাপত্তার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দুর্যোগের আগে প্রস্তুতি, ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ এবং জরুরি সহায়তা পাওয়ার উপায় শেখানো হচ্ছে। দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে নারীদের জীবিকা ও আয় বাড়াতে জলবায়ু সহনশীল কৃষি, পুষ্টিবাগান, হাঁস-মুরগি ও মাছ চাষ, দক্ষতা উন্নয়ন ও আয়বর্ধক উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা করা হচ্ছে।


আয়োজকেরা জানান, প্রশিক্ষণ থেকে পাওয়া জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নারীরা তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অন্য সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি ও সাড়াদান কার্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ এবং নেতৃত্ব আরও শক্তিশালী হবে।


সেশনগুলোতে বিষয়ভিত্তিক রিসোর্স পারসন হিসেবে রয়েছেন প্রান এর ডব্লিউএলসিসি ম্যানেজার শামীমা আক্তার অর্না, স্কিল বিল্ডিং ট্রেইনার শাহিনুর আক্তার, এমএইচপিএসএস ও জিবিভি কেস ওয়ার্কার সুমাইয়া আক্তার ও সিনথিয়া শর্নীল, মিডওয়াইফ জুঁই আক্তার এবং স্বেচ্ছাসেবক আয়েশা আক্তার।

সর্বশেষ সব খবর