ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:১১ পিএম

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় থানার ওসি কক্ষে প্রবেশে বাধা দেওয়ার জেরে থানা ফটক ও পাশের ট্রাফিক পুলিশ বক্সে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার নেতৃত্বে একদল কর্মী-সমর্থক এ হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ।


এ ঘটনায় গতকাল সোমবার রাতে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০-৪০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মুক্তাগাছা থানায় প্রথমে কথাকাটাকাটি ও পরে রাত ১০টার দিকে এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম আরিফ রব্বানী টুটুল। তিনি মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পৌরসভার ঈশ্বরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আরিফ রব্বানী টুটুল থানায় গিয়ে ওসির কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করেন। এ সময় অন ডিউটি কনস্টেবল বকুল মিয়া তাঁকে জানান, ভেতরে কর্মকর্তা একটি জরুরি বৈঠক করছেন এবং তাঁকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরিফ রব্বানী টুটুল কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যের সঙ্গে উচ্চবাচ্য শুরু করেন। হট্টগোল শুনে ওসি কামরুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা কক্ষ থেকে বেরিয়ে এসে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। এ সময় ওসির সঙ্গেও বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন ওই বিএনপি নেতা। পরে উপস্থিত যুবদলের কয়েকজন কর্মী আরিফ রব্বানী টুটুলকে বুঝিয়ে থানার বাইরে নিয়ে যান।


পরে রাত ১০টার দিকে আরিফ রব্বানী টুটুলের নেতৃত্বে ৪০ থেকে ৫০ জন নেতাকর্মী লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুনরায় থানা চত্বরে আসেন। তারা থানার প্রধান ফটক এবং পাশের একটি ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা চালিয়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করেন ও লোহার রড বাঁকা করে ফেলেন। খবর পেয়ে থানার পুলিশ সদস্যরা ফটকের দিকে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে সরে যান।


এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার দিকে একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রসহ থানার দিকে আসতে দেখে আমি ওয়্যারলেসে খবর পাঠাই। তারা থানার গেট ও ট্রাফিক বক্সে আঘাত হেনে ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হামলায় অংশগ্রহণকারীদের নাম পরিচয় শনাক্ত করে মামলা করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি, তবে অভিযান চলছে।


হামলার বিষয়ে বক্তব্য জানতে মামলার প্রধান আসামি মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ রব্বানী টুটুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে। এই মামলায় দুই নম্বর আসামি করা হয়েছে তাঁর ছেলে উপলকে। 


মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন, শুনেছি আরিফ রব্বানী টুটুল একটি অভিযোগ দিতে থানায় গিয়েছিলেন। সেখানে বাগ্‌বিতণ্ডার খবর ছড়িয়ে পড়লে কিছু লোক জড়ো হয়। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।


ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, থানায় হামলার মতো ঘটনা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। যদি দলীয় কেউ এতে জড়িত থাকে, তবে সাংগঠনিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ওসির কক্ষে প্রবেশকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।



সর্বশেষ সব খবর

বিএনপির র‍্যালি। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৩ পিএম

শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দেশপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য, কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের অন্যতম শিক্ষা হচ্ছে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা।


এই চেতনাকে ধারণ করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশকে আরো শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত র‍্যালি ও আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। নানা রাজনৈতিক সংকট ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে ১৯৭৫ সালের এই দিনে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের ঘটনা দেশের ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেয়। দিবসটির মূল চেতনা হচ্ছে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। জাতীয় স্বার্থে এই ঐক্য আরো সুদৃঢ় করতে হবে। দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১১টায় নগরীর কান্দিরপাড়ে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।


শোভাযাত্রাটি নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে মহানগরের ২৭টি ওয়ার্ডসহ কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় স্লোগানে শোভাযাত্রায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এর আগে দলীয় কার্যালয়ে দিবসটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়।


এতে বক্তারা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখা, জাতীয় ঐক্য সুসংহত করা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু, সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কুমিল্লা ওয়াসার চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিমসহ জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সর্বশেষ সব খবর

নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:১৫ পিএম

নোয়াখালীর বিভিন্ন থানা এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করেছে পুলিশ।  

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। এর আগে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় এ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।  

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আটক ৩৭ জনের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে পুলিশ আইনের ৩৪ ধারায় প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে। এ ছাড়া পূর্বের একটি মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি ৩৪ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। থানাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, সুধারাম মডেল থানা এলাকায় সাতজন, কোম্পানীগঞ্জে পাঁচজন, কবিরহাটে চারজন, বেগমগঞ্জে পাঁচজন, সেনবাগে দুজন, সোনাইমুড়ীতে সাতজন, চরজব্বরে তিনজন এবং হাতিয়ায় চারজনকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা প্রতিরোধ, কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়া রোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিনের নির্দেশনায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন আরও জানান, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধপ্রবণতা প্রতিরোধে অভিযানের পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সর্বশেষ সব খবর

গাইবান্ধায় এলজিইডির রাস্তার কাজ বুঝে নিচ্ছেন কর্মকর্তা'রা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৬:০৬ পিএম

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা ইউনিয়নে রাস্তা পাকাকরণের কাজ যথাযথভাবে বুঝে নিচ্ছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল মিয়া।


এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কুপতলা ইউনিয়নের পাচজুম্মা এলাকায় চুক্তিমূল্যে ১ কোটি ৫২ লাখ টাকা ব্যায়ে প্রায় ১৫০০ মিটার রাস্তা নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায় গাইবান্ধার স্থানীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স রশিদ ট্রেডার্স।


ইতোমধ্যে রাস্তার কার্পেটিং করণের কাজ শুরু হয়েছে। ভালোমানের পাথর ও বিটুমিন দিয়ে মিক্সিং করে রাস্তায় ফেলানোসহ সকল কাজ সঠিকভাবে বুঝে নিচ্ছেন গাইবান্ধা সদর এলজিইডির কর্মকর্তা কর্মচারীরা।


 সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মালামাল মিক্সিং পয়েন্টে একজন ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট, বেডে ২ জন ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট এবং ফিনিশিং য়ে উপ-সহকারী প্রকৌশলী উজ্জল মিয়া সঠিকভাবে তদারকি করছেন।


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে কাঁচা রাস্তার কারণে বর্ষাকালে চলাচল অনেক কষ্টের হতো। উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে পড়তে হতো অনেক বিপাকে। তবে রাস্তার উন্নয়ন হওয়ায় এখন অনেক ভালো লাগছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনেক ধন্যবাদ জানাই।

সর্বশেষ সব খবর

আ’লীগ নেতার অবৈধ করাখানা সিলগালা, জেল-জরিমানা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৫৮ পিএম

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের অদূরে, মাত্র দুই কিলোমিটার দূরেই উত্তরগ্রাম ইউনিয়নের শিবগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি বাড়ির ভিতর কারখানা। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করেন মহিলা শ্রমিকরা। রাতের আঁধারে বাজারজাত করা হয় নকল পণ্য। বছরের পর বছর ধরে চলছে এসব অবৈধ কারবার। মাঝে মাঝে অভিযান চালায় প্রশাসন। কিন্তু বন্ধ হয়না নকল পণ্য উৎপাদন। এবার সেখানেই অভিযান চালান জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, এসআরবি, উপজেলা প্রশাসন ও মহাদেবপুর থানা পুলিশ। নকল সার আর ভেজাল কীটনাশক তৈরির দায়ে সিলগালা করা হয় সেখানকার “এসডি এগ্রোভেট” নামের কারখানাটি। সেই সাথে একজন মালিককে একমাসের কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা এবং অপরজনের এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দ করা হয় ভেজাল সার ও কীটনাশক তৈরির বিপুল পরিমাণ সামগ্রী।


শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় অভিযানটি পরিচালনা করার সময় কারখানাটির মালিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা শাহিনুর আলম পলাতক ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শাহিনুর ক্ষমতার অপব্যবহার করে নকল পণ্য তৈরি করে সাধারণ চাষীদের সাথে প্রতারণা করে আসছে। নকল পণ্য বাজারজাত করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছেন তিনি। শাহীনুরের পিতা মোতার হোসেনের মৃত্যুর কারখানাটি শাহীনুর ও তার ছোট ভাই দেলোয়ার হোসেন পরিচালনা করে আসছে।


অভিযান পরিচালনাকারি মহাদেবপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুন নাঈম বিনতে আজিজ বলেন, নকল সার ও কীটনাশক উৎপাদনের অভিযোগে এসডি এগ্রোভেটের মালিক শাহিনুরের অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী হাসনাত জাহান পাপিয়ার বিরুদ্ধে বালাইনাশক আইনে এক লাখ টাকা জরিমানা, একই নামে আরেকটি কারখানা চালানোয় শাহিনুরের ভাই দেলোয়ার হোসেনকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ১৫ দিনের কারাদন্ডের আদেশ দেয়া হয়।


অভিযানে অংশ নেয়া মহাদেবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, সেখান থেকে হরমন প্লাস ৬৫ কন্টেইনার, ওস্তাদ ক্যারেট ব্যাডকিলার ১১৫০ প্যাকেট, বিন্না ক্লাস ১ কেজি, দীন জৈব সার ৪০ কেজি, খোলা ছাঁই, খোলা গোবর, বিভিন্ন চকের গুঁড়া, মিশ্রণ মেশিন জব্দ করেছেন। এখানে ছাঁই, গোবর, তামাকের গুঁড়া মিশিয়ে জৈব সারের মিশ্রণের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। এটার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। ল্যাব টেষ্টে পাঠানো হবে। জৈব সারের নিবন্ধন বাতিলের সুপারিশ করা হবে। বালাইনাশক চকের গুঁড়া বানাচ্ছে তেলাপোকা মারার জন্য। সেখানে তারা সাইপার মেথিন মেশাচ্ছে যা অবৈধ। চকের গুঁড়া পিএইচপি রেজিষ্ট্রেশনে রাখে, কিন্তু সাইপার মেথিন একটা কীটনাশক, এটা ইমপোর্ট করার অনুমতি নাই। বাড়ির মধ্যে এরকম কীটনাশকের কারখানায় যারা কাজ করছে, তারা চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মথ্যে রয়েছেন। অচিরেই বড় রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকবে। এই কারখানাটি পরিবেশের এবং ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র কিভাবে পেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


এসআরবি-৫ এর কর্মকর্তা বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এখানে অবৈধভাবে নকল সার ও কীটনাশক তৈরি করে আশেপাশের জেলাগুলোতে সরবরাহ করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে। কৃষক ফসলের ফলন বাড়ানোর জন্য এসব প্রয়োগ করছেন। কিন্তু ফলন বাড়ার পরিবর্তে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে। এই কৃষিপ্রধান দেশে আমরা যদি কৃষকদের প্রতারণা করি, তাহলে আমরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এখানে উৎপাদিত সারের গায়ে যেসব সামগ্রীর নাম লেখা আছে তার বিন্দুমাত্র বস্তার ভিতর নেই। এটা দেশের জন্য রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ অবস্থা। 


উল্লেখ্য, গত ২০২০ সালের ৪ জুন এই কারখানায় একই অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন নওগাঁ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট অনিক চৌধুরী। এসময় র‌্যাবের কোম্পানি কমান্ডার মোহাইমেনুর রশিদসহ সিপিসি-৩, র‌্যাব-৫ জয়পুরহাটের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।"ওস্তাদ" ব্রান্ডের কীটনাশক ও বিষ উৎপাদনের অনুমতি থাকলেও তারা সিরিয়াস, ম্যাজিক, কারেন্ট, দ্বীন গোল্ড হরমোন প্লাস, অল-ক্লিয়ার ইত্যাদি অননুমোদিত নকল ব্রান্ডের পাউডার ও কীটনাশক উৎপাদন করে আসছিল। অভিযানে শাহিনুর আলমের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।

সর্বশেষ সব খবর

নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে হামলা

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:০৬ পিএম

খুলনা নগরীর ব্যস্ততম পিটিআই মোড়। সময়- শনিবার দুপুর পৌনে একটা। পাশের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে তখন রোগীদের ভিড়। অসংখ্য মানুষের সামনে চাইনিজ কুড়াল হাতে সেখানে প্রবেশ করলেন পাঁচ যুবক। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা কাঁচের দরজা, জানালা, এসি, টিভিসহ সামনে যা পেয়েছে কুপিয়ে ও ভেঙে তছনছ করে ফেলে। 


এরপর সবার সামনে দিয়ে বীরের মতোই বের হয়ে যায়। গত এক মাসে খুলনায় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে এভাবে হামলা ও ভাঙচুরের চতুর্থ ঘটনা এটি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে পঞ্চম। আগের প্রতিটি ঘটনার মতো এবারও মালিকপক্ষ ‘বোবা’ হয়ে গেছেন। পুলিশও কিছু বলতে পারছে না।

রিসিপশন কাউন্টারে ভাঙচুর

ওই ভবনের অন্য প্রতিষ্ঠান এবং ভুক্তভোগীরা জানান, পিটিআই মোড় কেন্দ্রিক প্রতিটি ভাঙচুরের পেছনে শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর আজিজ ও তার বাহিনীর সদস্যরা জড়িত। মূলত দাবি করা চাঁদা না পাওয়ায় এবং কিছু ক্ষেত্রে ভয় দেখাতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভাঙচুর চালানো হচ্ছে। জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় দিন দিন সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। 


ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ঘটনাস্থল ঘুরে ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে পাঁচজন যুবক খানজাহান আলী রোডের নিউ এ্যাপোলো ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড কনসালটেশন সেন্টারে প্রবেশ করেন। তারা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দু’টি এসি, একটি টিভি, সামনের দরজার গ্লাস, রিসিপশনের কাউন্টারসহ সামনে যা পেয়েছে সব কিছু ভেঙে ফেলে। এর মধ্যে তারা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের একজন কর্মীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এ সময় ভেতরে থাকা রোগীরা ভয়ে ছোটাছুটি করছিলেন। ভাঙচুর শেষ হলে তারা নিজেরাই বের হয়ে যায়।


ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন আগে টুটপাড়ার নূর আজিম বাহিনীর এক সদস্য আমাকে ফোন দেয়। আমি বলি এই নামে কাউকে চিনি না। এ কথা বলার পরপরই বিপরীত দিকে হতে ফোন কেটে দেয়া হয়। মালিকপক্ষের কারও কাছে চাঁদা চেয়েছে কিনা আমার জানা নেই।’ আগের ঘটনাগুলোর মতোই দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

 

খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে সিসি ফুটেজ সংগ্রহ করে সকলকে শনাক্ত করা গেছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে।’

ভাঙচুরের পর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কাচ

উল্লেখ্য, গত মাসের মাঝামাঝি নগরীর রয়েল মোড়ে অবস্থিত সিটি কুইন্স ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। ২৪ অক্টোবর নগরীর সন্ধানী ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্সে ৮-১০ জনের একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা চিকিৎসকের চেম্বারের সামনের কাচ, চেয়ার ও টেবিল ভাঙচুর করে এবং ক্যাশ কাউন্টারেও তাণ্ডব চালায়। 


যাওয়ার সময় আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে তারা ক্লিনিকের বাইরে ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। সন্ধানী ক্লিনিকের ঘটনার চার দিন পর ২৮ অক্টোবর নগরীর আহসান আহমেদ সড়কে অবস্থিত ‘চাইনিজ প্যালেস’রেস্তোরাঁ য় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রকাশ্য দিনের বেলা কয়েকজন যুবক রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করে মালিককে খুঁজতে থাকে। 


মালিককে না পেয়ে এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাদের কথিত ‘ভাইয়ের’ ফোন রিসিভ না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে যুবকেরা সেখানে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ৩ নভেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় খুলনা মহানগরীর শামসুর রহমান রোডে অবস্থিত রংধনু ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং আব্দুল্লাহ প্যাথলজিতে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিষ্ঠান দুটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মারধর করা হয়।


খুলনা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (খুলনা জোন) শফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুরের ঘটনাগুলোতে ভুক্তভোগীরা কোনো মামলা করেনি। সন্ধানীতে গুলির খোসা পাওয়ায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করে। ওই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

সর্বশেষ সব খবর

  • প্রকাশ : শনিবার ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৮ পিএম

নাটোরের লালপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আলোচনা সভা,  চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।


শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে ​উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মোঃ মেশকাতুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আবীর হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, গোপালপুর পৌর বিএনপির সাবেক আহবায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম মোলাম, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার সুব্রত কুমার সরকার, লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল ইসলাম প্রমুখ, 


​আলোচনা সভায় দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতন্ত্র সুরক্ষায় এ দিনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ​এসময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সর্বশেষ সব খবর