আসামি রাজিব
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর মাকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
আজ মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চর কালিবাড়ি এলাকায় এ ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ সময় আসামিদের বাড়ির টিনের বেড়া ও চাল ভেঙে খুলে পাশে স্তূপ করে রাখা হয়।
এ ঘটনায় এরই মধ্যে রাজিব (২৩) নামের এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে এ হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দা, প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে চর কালিবাড়ি এলাকায় এক প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, শরীফ মিয়া ও আরিফ মিয়াসহ পাঁচ যুবক প্রথমে পানি ও কুড়াল চান। পানি দেওয়ার জন্য দরজা খুললে তাঁরা ওই নারীর নবম শ্রেণিপড়ুয়া ছেলেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ঘরে প্রবেশ করেন। পরে বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি ওই নারীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ঘটনার সময় তাঁর ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তিন দিনের মধ্যে আরও দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়।
ঘটনার পর রাতেই রাজিবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে গফরগাঁও থানায় মামলা করেন।
মামলায় চর কালিবাড়ি এলাকার তাহের উদ্দিনের ছেলে শরীফ (২৩) ও আরিফ (২১), মমিনের ছেলে ফাহিম (২২), মোফাজ্জলের ছেলে রাজিব (২৩) এবং নূরুর ছেলে এনামুলকে (২২) আসামি করা হয়েছে। মামলার পাঁচ আসামিই চর কালিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আসামিদের শাস্তির দাবিতে এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে রোববার ও সোমবার সন্ধ্যায় স্থানীয়রা দুই দফা আলোচনা করেন। এর পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শত শত বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একত্র হয়ে মামলার আসামিদের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর শুরু করেন।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা ভাঙচুরে আসামিদের টিনের বসতঘরের বেড়া ও চাল ভেঙে ফেলা হয়। পরে খুলে নেওয়া টিন বাড়ির পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। তবে স্থানীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যক্তিরা আসামিদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ঘরের মালামাল সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন আকন্দ বলেন, ‘এমন ন্যক্কারজনক ও লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িতদের বিচার হওয়া দরকার। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানাচ্ছি।’
স্থানীয়দের দাবি, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভাঙচুর চললেও ওই সময়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত ছিল না।
এ বিষয়ে গফরগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান শেখ বলেন, ‘দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আমরা খবর পেয়েছি। চর কালিবাড়ি এলাকায় আসামিদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হচ্ছে।’
কাপ্তাইয়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করে সাইনবোর্ড লাগাচ্ছেন বন বিভাগের কর্মীরা
রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের অবাধ প্রবেশ ও যাতায়াত বন্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বন বিভাগ। সম্প্রতি এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষার পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জ কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন স্থানে নিষেধাজ্ঞা সংবলিত বিলবোর্ড স্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে কাপ্তাইয়ের পাহাড় ও বনাঞ্চলে ঘুরতে এসে পর্যটকদের দুর্ঘটনার শিকার হওয়া এবং পথ হারিয়ে বিপদে পড়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে পর্যটকদের অবাধ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম শহর থেকে সীতা পাহাড়ে ভ্রমণে এসে কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে নেমে সাদিজ শাহরিয়ার সানম (২৪) নামের এক পর্যটকের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কর্ণফুলী নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে গত ২৯ আগস্ট সংরক্ষিত বনাঞ্চলের সীতার পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে সন্ধ্যায় পথ হারিয়ে ফেলেন চার পর্যটক। পাহাড় থেকে নামার সময় তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে তাদের উদ্ধার করেন।
বন বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, শীত মৌসুম ছাড়াও সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড় ও বনাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় ট্রেকিং করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন পর্যটক পথ হারিয়ে বিপদে পড়ছেন। অনেকেই বন বিভাগের নিয়ম-কানুন না মেনে সংরক্ষিত বনাঞ্চলের ভেতরে প্রবেশ করছেন। এতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ার পাশাপাশি বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
এ বিষয়ে বন বিভাগের কাপ্তাই রেঞ্জের রামপাহাড় বিট কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিঠু তালুকদার জানান, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে অনুমতি ছাড়া পর্যটকদের প্রবেশের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকরা পথ হারিয়ে ফেলছেন। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে অভিযান পরিচালনা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের নিরাপত্তা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বন বিভাগের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কারণে সংরক্ষিত এলাকায় পর্যটকদের অবাধ প্রবেশ ও যাতায়াত বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ও সংরক্ষিত বনের ভেতরে প্রবেশ না করার জন্য পর্যটকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কাপ্তাইয়ের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে ৭৫১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এ প্রকল্প অনুমোদনের খবরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মুছাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী ও বামনী নদীর অববাহিকায় বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে এ প্রকল্প অনুমোদন নোয়াখালীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকূলীয় এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের নদী ভাঙন, বন্যা, জলাবদ্ধতা ও পানি নিষ্কাশনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। ।
প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ফখরুল ইসলামকে ধন্যবাদ জানিয়ে নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য মো. গোলাম মোমিত ফয়সাল বলেন, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু ও যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে নোয়াখালীর উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে নদীভাঙন ও বন্যার ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি কৃষি, মৎস্য ও স্থানীয় যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট প্রবল বর্ষণ ও উজানের ঢলে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের মুছাপুরে অবস্থিত ২৩ ভেন্টের রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। এতে ছোট ফেনী নদী ও আশপাশের এলাকায় নদীভাঙন, বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বেড়ে যায়। পরে রেগুলেটরটি পুনর্নির্মাণ এবং নদী ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গাজীপুরের টঙ্গীতে পূর্বশত্রুতার জেরে জয় (২৩) নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে টঙ্গী কেরানিটেক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত জয় টঙ্গীর ব্যাংক মাঠ বস্তি এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাতে বাসায় ফিরছিলেন জয়। এ সময় কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার উপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় জয় ঘটনাস্থলেই মারা যান।
খবর পেয়ে টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। তবে পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
টঙ্গী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) নূর আলম হোসেন জানান, এ ঘটনায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি মো. জাবিদ হোসেন সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেছেন।
এ সময় স্থানীয় বিচারপ্রার্থী, জনগণ ও আইনজীবীরা নবীনগরে দেওয়ানী আদালতের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি আদালত প্রতিষ্ঠা এবং দ্রুত বিচার কার্যক্রম চালুর দাবি জানান।
বিচারপতিদ্বয় আদালতের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন, বিচারকার্য প্রত্যক্ষ ও বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় নবীনগর আদালতের আইনজীবীদের বসার ব্যবস্থা, টেবিল, কম্পিউটার ও ফটোকপি মেশিন সরবরাহের দাবিও জানানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বড় উপজেলা নবীনগরে ফৌজদারি আদালত না থাকায় বিচারপ্রার্থীদের জেলা সদরে যেতে হয়। অতীতে এখানে ফৌজদারি আদালতের কার্যক্রম চালু ছিল। তাই পুনরায় পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি আদালত চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। বিচারপতিদ্বয় আদালতের বিচারিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ ও গতিশীল করে সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও সহজে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টির আশ্বাস দেন।
নীলফামারীর সৈয়দপুরে অভিযান চালিয়ে তিনটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সৈয়দপুর থানা পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দিনাজপুরের চিরিরবন্দর এলাকার বাসিন্দা সাব্বির হোসেন এবং সৈয়দপুরের মতির মোড় ফাইলেরিয়া হাসপাতালের পাশের এলাকার বাসিন্দা ফরহাদ হোসেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযান চালিয়ে প্রথমে সাব্বির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চোরাই মোটরসাইকেল ক্রয় ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে ফরহাদ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানকালে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে বিভিন্ন স্থান থেকে চুরি করা তিনটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। উদ্ধার হওয়া মোটরসাইকেলগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মোটরসাইকেল চুরি ও চোরাই মোটরসাইকেল কেনাবেচার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তদন্ত করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার দুইজনের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
ময়মনসিংহের ভালুকায় ঐতিহ্যবাহী শাপলা বিদ্যানিকেতনের ৪১ বছর পূর্তি ও নতুন ভবনে পাঠদান কার্যক্রম উদ্বোধন উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভালুকা পৌর মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডে প্রতিষ্ঠানটির নতুন কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভালুকা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন মাসুদ।
ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মিল্টনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও ভালুকা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক হাতেম খান, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আহসানউল্লাহ খান রোবেল, এম এ খালেক, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক মাসুদ রানা এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান বাবু।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ৪১ বছরের ঐতিহ্য ও সুনাম ধরে রেখে শাপলা বিদ্যানিকেতনকে আরও এগিয়ে নিতে শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নতুন ভবনে পাঠদান কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রতিষ্ঠানটির অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভা শেষে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।