কোতোয়ালী ওসির অভিযানে সাদ্দাম হত্যা মামলার প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

আকুয়া ভাংগারপুলে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৩৩ পিএম

ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া ভাংগারপুল এলাকায় সাদ্দাম হোসেন (৩৬) নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি অন্তর (২৫)কে গ্রেপ্তার করেছে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।


আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আকুয়া ভাংগারপুল এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় সাদ্দাম হোসেন আকুয়া ভাংগারপুল এলাকায় অন্তরের দোতলা বাসার একটি কক্ষে যান। সেখানে পূর্বশত্রুতার জের ধরে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে রূপ নেয়। এ সময় অন্তর হাতে থাকা চাকু দিয়ে সাদ্দামের বুক ও পেটে একাধিকবার আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


ছুরিকাঘাতে সাদ্দাম গুরুতর রক্তাক্ত জখম হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আনুমানিক দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।


নিহত সাদ্দাম হোসেন (৩৬) আকুয়া ভাংগারপুল এলাকার পান্নু মিয়ার ছেলে।


ঘটনার পর কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অন্তর (২৫)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বিল্লাল হোসেনের ছেলে এবং আকুয়া ভাংগারপুল এলাকার বাসিন্দা। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি চাকুও উদ্ধার করা।




ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:১৮ পিএম

রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হককে ঘেরাও করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও কৃষক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। একই সময় তার একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকেও মারধর করে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করানোর অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল রামেবির কার্যালয়ে গিয়ে এ ঘটনা ঘটায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।


প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ‘ভিসি ঘেরাও কর্মসূচি’ নামে একটি মিছিল নিয়ে ওই ব্যক্তিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করে বিভিন্ন স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা উপাচার্যের কার্যালয়ে ঢুকে তাকে ঘেরাও করেন।


উপাচার্য ডা. জাওয়াদুল হক অভিযোগ করেন, তার কাছে বিভিন্ন সময় ঠিকাদারি কাজ চাওয়া হয়েছিল। তাদের কাজ না দিয়ে ঢাকার একজন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ তুলে মঙ্গলবার একদল ব্যক্তি কার্যালয়ে জোর করে ঢুকে পড়েন।


ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি লাঞ্ছিত করা হয়। আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তাদের তৈরি করা একটি পদত্যাগপত্রে জোর করে স্বাক্ষর নেওয়া হয়।


উপাচার্যের ভাষ্য, পরে তাকে ধাক্কা দিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তার একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইনকেও অবরুদ্ধ করে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


ডা. জাওয়াদুল হক বলেন, ‘জোর করে এভাবে কখনো পদত্যাগ করানো যায় না। এটি কোনো নিয়মতান্ত্রিক পদত্যাগ নয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।’


তিনি অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা কার্যালয়ের সিসি ক্যামেরার হার্ডডিস্ক ও কম্পিউটারের সিপিইউ নিয়ে গেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় তিনি সেখানে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে নেই বলেও জানান।


উপাচার্যের একান্ত সচিব নাজমুল হোসাইন অভিযোগ করেন, রাজশাহী মহানগর কৃষক দলের আহ্বায়ক শামীম, রাজপাড়া থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন, সহসভাপতি সালাম, লক্ষ্মীপুর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি শাহিনসহ কয়েকজন তাকে মারধর করেন। পরে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় ইস্তফা দিতে চান-এমন বক্তব্যসংবলিত কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।


নাজমুল হোসাইন বলেন, ‘তাদের হাতে অস্ত্র ছিল। অস্ত্র ঠেকিয়ে তারা আমাকে স্বাক্ষর করায়। এটা কোনো ইস্তফা নয়, অস্ত্রের মুখে এটা করা হয়েছে।’


এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘আমি ঢাকায় আছি। কারা করেছে, তা জানা নাই।’


মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ বলেন, বিষয়টি কিছুক্ষণ আগে জানতে পারলাম। কারা করেছে, কেন করেছে তা আমার জানা নেই। জড়িতদের কেউ বিএনপির হলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাকসুদ আলম

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৬:৪৪ পিএম

গাজীপুর মহানগর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এলাকায় মাদক,ডাকাতি ছিনতাই ও বিভিন্ন মামলার আসামিদের বিরুদ্ধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


২০ আগস্ট ২০২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত থানার কার্যক্রমের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেখা যায় আগে যে সকল কর্মকর্তা ছিলেন তার চেয়ে তুলনা মূলক ভাবে মাদক বিরোধী অভিযানে বর্তমান কর্মকর্তার সাফল্য অনেক বেশি পুলিশের অভিযানে এ সময়ে ছিনতাই ও মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


অভিযান চলাকালে এ পর্যন্ত ছিনতাই মামলায় ৬টি মামলা রুজু করে ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।


মাদকবিরোধী অভিযানে ৩০টি মামলা দায়ের করে ৩৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৫৭২ পিস ইয়াবা, ১৭ কেজি ৮০০ গ্রাম গাঁজা, ২২ গ্রাম হেরোইন ও ১৫ বোতল বিদেশি মদ। অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৮০ জনকে। ওয়ারেন্টমূলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আরও ১৪২ জনকে। মোট গ্রেপ্তার ৪১৬ জন।


এ বিষয় টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মাকসুদ আলম বলেন টঙ্গী একটি গণবসিত এলাকা এখানে মাদক সন্ত্রাস ছিনতাই চুরি ডাকাতি অনেক বেশি ছিল। আমি যোগদান দেওয়ার পরে জীবন বাজি রেখে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে আমি যেখানে যে কোন ঘটনা ঘটুক সেখানেই আমি উপস্থিত হই, আমার নেতৃত্বে নির্লস ভাবে কাজ করে যাচ্ছি আমাদের পুলিশ বাহিনী দিয়ে আগের চেয়ে অনেক নিয়ন্ত্রনে আনতে পেরেছি এবং মাদকের বিরুদ্ধে কোন ছাড় দেওয়া হবে না।


এ বিষয় স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন বর্তমান ওসি সাহেবের মাদক বিরোধী সকল কাজের পারদর্শী আমরা এলাকাবাসী খুব আনন্দিত এবং টঙ্গী পূর্ব থানার সেকেন্ড  অফিসার  মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, আমরা ওসি স্যারের নির্দেশে কাজ করে যাচ্ছি ও আসামীদের কোন ছাড় দেওয়া হবে না সে যেই হোক তাকে ধরে আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করা হবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক ও অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৫:১২ পিএম

বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও সর্বোচ্চ ভর্তুকি দিয়ে তেল-গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সর্বোচ্চ ভর্তুকি দিয়ে তেল-গ্যাসের দাম যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।”


আজ মঙ্গলবার কুমিল্লার ভাষাসৈনিক শহিদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্টেডিয়ামে ৫৩তম গ্রীষ্মকালীন জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মাহদী আমিন।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সারা পৃথিবীতেই তেল-গ্যাসের দাম বেড়েছে। আজকের দিনেও আশপাশের যেকোনো দেশের তুলনায় আমাদের দেশে ডিজেলের দাম কম।”


মাহদী আমিন বলেন, “অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় যদি তুলনা করেন, যুদ্ধ শুরুর আগে ও পরে ধাপে ধাপে দাম বাড়িয়ে যে জায়গায় নেওয়া হয়েছে, তার তুলনায় বাংলাদেশ সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সর্বোচ্চ ভর্তুকি দিয়ে তেল-গ্যাসের দাম যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়েছে।


তিনি বলেন, “সংকটটা বৈশ্বিক। এর চাপ যেন জনগণের ওপর না পড়ে, সেজন্য সরকার উদ্যোগ নিচ্ছে।”


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি দেশে আরও গ্যাস উত্তোলনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বর্তমান সমস্যার পেছনে ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া কাঠামো ও বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রভাব রয়েছে। তাই জনগণের সমর্থন নিয়ে সরকার দীর্ঘ, মধ্য ও স্বল্পমেয়াদি সমাধান নিয়ে কাজ করবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৭ পিএম

হিমাগারে রেখে আলুর ভালো দাম পাওয়ার আশায় ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। সেই আশায় এখন যেন গুড়েবালি। হিমাগার ভাড়া, পরিবহনসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর দাম পড়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। অথচ বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৪ টাকা কেজি দরে। এতে প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ৬ টাকা লোকসানে পড়েছেন তারা।


কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমে মাঠ থেকে ১০ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে আলু কেনা বা বিক্রি হয়েছিল। পরে দাম বাড়বে এমন আশায় অনেকে আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু এখন বাজারে চাহিদা কম থাকায় প্রত্যাশিত দামে আলু বিক্রি করতে পারছেন না। ফলে হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু পড়ে থাকায় লোকসানের শঙ্কা আরও বাড়ছে।


ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি এলাকার কৃষক আরমান হোসেন বলেন, মাঠে আলুর দাম কম থাকায় হিমাগারে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম পরে দাম বাড়লে খরচ উঠে লাভ হবে। কিন্তু এখন হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে আলুর দাম ১৯ থেকে ২০ টাকা পড়েছে। সেই আলু ১৪ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বড় লোকসান হচ্ছে।


রানীশংকৈল উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ী মো. ওহাব বলেন, গত ২-৩ মৌসুমে আলু চাষ করে ও হিমাগারে আলু রেখে আমরা অনেক লসের মুখে পড়েছি। এবারোও একই অবস্থা। এতে আমার পুঁজি হারিয়ে ফেলেছি। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবেন। সরকার উচিত আলুর দাম সামঞ্জস্য রেখে আমাদের কৃষকদের বাঁচাতে উদ্যোগ নেওয়া।


সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে ব্যবসায়ী শামসুজ্জোহা বলেন, এ সময়ে হিমাগার থেকে প্রচুর আলু বের হওয়ার কথা। কিন্তু বাজারে চাহিদা নেই। এখনও প্রায় দুই তৃতীয়াংশ আলু হিমাগারে পড়ে আছে।  বাজারজাত করা না গেলে লোকসান আরও বাড়বে।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে।


জেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে ১৯টি হিমাগার। এসব হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুদ রয়েছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় ধীরগতিতে আলু বের হচ্ছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি হিমাগার মালিকরাও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।


শাহী হিমাগারের ম্যানেজার মো. আল আমিন বলেন, আলুর দাম না থাকায় হিমাগার মালিকরাও চিন্তিত। হিমাগার থেকে আলু বের না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।




আলুর বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে হিমাগারের শ্রমিকদের উপরও। শ্রমিকরা জানান, আলু ওঠানো ও নামানোর কাজ কমে যাওয়ায় কমেছে তাদের আয়।


জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, কৃষকেরা লাভের আশায় আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন। বর্তমানে আগের তুলনায় দাম অনেক কম থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন।


কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, লোকসান কমাতে দ্রুত আলু বাজারজাতের পাশাপাশি রফতানির উদ্যোগ নিতে হবে। এতে হিমাগারে পড়ে থাকা আলু দ্রুত বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৫৯ পিএম

একসঙ্গে বেড়ে ওঠা, শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি আর দীর্ঘ এক যুগের বন্ধুত্বকে উদযাপন করতে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এসএসসি ১৯৯৯ ব্যাচের ব্যাচভিত্তিক সামাজিক সংগঠন গৌরবোজ্জ্বল ৯৯ এর এক যুগ পূর্তি অনুষ্ঠান।


‘মোরা এক হয়ে ফুটি শতদল’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নতুন বাজার এলাকার সংগঠনের কার্যালয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এক যুগ পূর্তি উপলক্ষে তিন দিন ধরে কার্যালয়টি সাজানো হয় বর্ণিল আলোকসজ্জায়। এতে সদস্যদের মধ্যে সৃষ্টি হয় উৎসবের আমেজ।


অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠ করা হয়। পরে শুরু হয় স্মৃতিচারণ ও আলোচনা পর্ব। এতে এক যুগের পথচলায় সংগঠনের নানা কর্মকাণ্ড, অর্জন এবং বিভিন্ন চড়াই উতরাইয়ের কথা তুলে ধরেন সদস্যরা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে মতামত দেন তাঁরা।


আয়োজনে সংগঠনের সদস্যদের পরিবারের সদস্য এবং নতুন প্রজন্মের সঙ্গে পরিচয়পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ককে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।


স্মৃতিচারণ পর্বে বক্তব্য দেন গৌরবোজ্জ্বল ৯৯ এর সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান সুজন মৃধা, আব্দুল্লাহ আল নাসের, শামসুল আরেফিন শাকিল, মিঠুন পাল, মো. মাসুম বিল্লাহ ও মো. শামীম গাজীসহ অন্যরা।


পরে এক যুগ পূর্তির কেক কাটা হয়। মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। সবশেষে নৈশভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয় দিনব্যাপী এ মিলনমেলা।


আয়োজকদের ভাষ্য, গৌরবোজ্জ্বল ৯৯ শুধু একটি ব্যাচের নাম নয়, এটি দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি বন্ধন। এক যুগ পেরিয়ে সেই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে সামনে এগিয়ে যাওয়াই তাঁদের প্রত্যাশা।


  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ০৬ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:৪৯ পিএম

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবৈধপথে ভারতে অনুপ্রবেশের সময় চার তরুণকে আটক করেছে বিজিবি। আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের শারিয়ালজোত সীমান্ত এলাকায় তাদের আটক করা হয়। এসময় আরও তিনজন তরুণ বিজিবির ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় তেঁতুলিয়া থানায় বিজিবির পক্ষ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে পাসপোর্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।


আটককৃতরা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার আলীপুর লতারগাঁও এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে মো. হাফিজুল ইসলাম (২১), জেলার সদর উপজেলার বনগাঁও এলাকার মো. জাহেল মিয়ার বড় ছেলে মো. সাব্বির হোসেন (১৫) ও তার ছোট ছেলে মো. রাহান (১৩) এবং কুমিল্লা জেলার নাসির নগর উপজেলার ব্যাংগোতা ছপ্পরতোলা এলাকার মো জজ মিয়ার ছেলে মো. শিপন মিয়া (১৯)।


বিজিবি জানায়, মঙ্গলবার ভোর পাঁচটার দিকে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের শারিয়ালজোত বিওপি ক্যাম্পের টহল দল সীমান্তে টহল দিচ্ছিলেন। এ সময় শারিয়ালজোত ফরেষ্টের ভিতর দিয়ে সীমান্তের মেইন পিলার ৪৪০ এর ২৫ নম্বর সাব পিলার এলাকা দিয়ে সাতজন বাংলাদেশী তরুণ অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশর চেষ্টা করে।


এ সময় ১৮ বিজিবির শারিয়ালজোত বিওপির টহল দলের কমান্ডার হাবিলদার মো. সেকেন্দার আলীর নেতৃত্বে টহল দল টের পেয়ে তাদের ধাওয়া করেন এ সময় তারা পালানোর চেষ্টাকালে চারজনকে আটক করতে সক্ষম হয় বিজিবি। তবে অন্য তিনজন পালিয়ে গেছেন। তারা কাজের সন্ধানে ভারতে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।


তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক আব্দুল মালেক বলেন, চারজন তরুণকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে বিজিবি। তাদের বিরুদ্ধে পাসপোর্ট আইনে মামলা  প্রস্তুতি চলছে।


পঞ্চগড় ১৮ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস জানান, তারা ভারতে অবৈধপথে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির টহল দল তাদের ধাওয়া করে। আমরা চারজনকে আটক করতে সক্ষম হই৷ তিনজন পালিয়ে গেছেন। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।