সরকারি ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ছয়জন প্রান্তিক মানুষের কাছ থেকে প্রায় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ভুক্তভোগীরা। প্রায় দেড় মাস ধরে ‘আজ দেব, কাল দেব’ বলে ঘোরানোর পর নতুন করে আরও টাকা দাবি করাই কাল হলো ওই প্রতারকের জন্য। ফাঁদ পেতে বাকি টাকা দেওয়ার অজুহাতে ডেকে এনে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে তাকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার বেলা একটার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ী ইউনিয়নের রায়েরবাজার এলাকায় কৃষি ব্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আটক নারীর নাম নার্গিস আক্তার (৩৬)। তিনি স্থানীয় মৃগালী গ্রামের খোকন আলীর স্ত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রায়েরবাজার তদন্তকেন্দ্রে এবং বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সন্ধ্যায় তাকে সরাসরি ঈশ্বরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগীরা সবাই পাশের নান্দাইল উপজেলার কামারগাঁও ইউনিয়নের দোরুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন—হোসনে আরা বেগম (৩২), রাবেয়া খাতুন (৫০), জোসনা খাতুন (৩০), আছিয়া খাতুন (৫৬), তন্নী আক্তার লিমা (৩৫) ও কনক মিয়া (৩৬)।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্বপরিচয়ের সূত্রে নার্গিস আক্তার তাদের আশ্বাস দেন যে স্থানীয় প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে তিনি দ্রুত সরকারি ফ্যামিলি কার্ডের ব্যবস্থা করে দেবেন। এই আশ্বাসে বিশ্বাস করে রাবেয়া খাতুন দেন ১৮ হাজার টাকা এবং বাকি পাঁচজন দেন ১৬ হাজার টাকা করে—যার মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৮ হাজার টাকা। টাকা হস্তান্তরের পর থেকেই ভুক্তভোগীদের প্রায় দেড় মাস ধরে নানা টালবাহানায় ঘোরাতে থাকেন নার্গিস।
ভুক্তভোগী রাবেয়া খাতুন জানান, আঠারবাড়ী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীর ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাবিবুর রহমানের প্রভাব খাটিয়ে কার্ড করিয়ে দেওয়ার কথা বলেছিলেন নার্গিস। কিন্তু কার্ড তো মেলেইনি, উল্টো সম্প্রতি নার্গিস আরও ৪ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে তাদের সন্দেহ তীব্র হয়। এরপর বুদ্ধি খাটিয়ে বাকি ৪ হাজার টাকা পরিশোধের কথা বলে মঙ্গলবার নার্গিসকে রায়েরবাজারে ডেকে আনা হয় এবং পৌঁছামাত্র স্থানীয়দের সহযোগিতায় পুলিশে তুলে দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান আলমগীরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান জানান, গত সোমবার বিষয়টি তার নজরে আসে। তাদের নাম ভাঙিয়ে নার্গিস সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছিলেন বুঝতে পেরে ভুক্তভোগীদের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার ফাঁদ পেতে তাকে আঠারবাড়ীতে ডেকে আনা হয় এবং পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন জানান, ফ্যামিলি কার্ড পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে নার্গিস আক্তার নামের ওই নারীকে আটক করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতারণা মামলা দায়েরসহ যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।
শ্রীনগর পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় পাইলট স্কুল এন্ড কলেজ চত্বরে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও শ্রীনগর পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মোঃ হাফিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ও স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন উজ্জলের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুন্সিগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ।
এ সময় অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন শ্রীনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হাসিবুর রহমান, শ্রীনগর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আশরাফ হোসেন মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক মোড়ল, শ্রীনগর সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ নুরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ মামুন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক ফয়সাল আহমেদ রনি, সদস্য সচিব এমদাদুল হক রজিন, উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম শুভ প্রমুখ।
লেখক রিয়াদ আনোয়ার শুভ
রংপুরের ইতিহাস লেখক, গবেষক, সংগ্রাহক ও সাবেক ছাত্রনেতা শাহ্ রিয়াদ আনোয়ার শুভ’র দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) বাদ যোহর রংপুর কেরামতিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এতে শুভ’র সহপাঠী, রাজপথের সহযোদ্ধা, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ শুভাকাঙ্খীরা অংশ নেন।
জানাজা শেষে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ করে রিয়াদ আনোয়ার শুভ’র প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল(জাসদ), বাংলাদেশ জাসদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন। এরপর নগরীর মুন্সিপাড়ায় কেন্দ্রীয় সিটি করপোরেশন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
এর আগে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নগরীর সার্কিট হাউস সংলগ্ন নিজ বাসভবনে শাহ্ রিয়াদ আনোয়ার শুভ’র মৃত্যু হয় (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসের জটিল রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুর সময় তিনি দুই ভাই-বোনসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
শাহ্ রিয়াদ আনোয়ার শুভ ১৯৭৩ সালের ২৫ নভেম্বর রংপুরের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা অ্যাডভোকেট শাহ্ আনোয়ারুল হক আনু ছিলেন ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং মা উম্মে হাবিবা জাকিয়া হক সাবেক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।
তিনি ১৯৮৮ সালে রংপুর জিলা স্কুল থেকে এসএসসি, ১৯৯০ সালে কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করার পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখা করেন। ছাত্রজীবনে প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (জাসদ) এর সাথে রাজনীতি করতেন। রাজপথের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকা ছিল।
শাহ্ রিয়াদ আনোয়ার শুভ রংপুরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা-লেখিতে একজন নিবেদিত প্রাণ ছিলেন। তার লেখার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম রংপুরের পুরাতন বাড়ি, সড়ক, ভবনসহ নানা ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পেরেছে। তিনি ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ফকির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহ থেকে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ‘রণভূমির রংপুর’ শিরোনামে একটি বই লিখে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। তিনি রংপুরের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে লেখালেখির পাশাপাশি এসবের সংগ্রাহক, সংরক্ষক ও গবেষকও ছিলেন।
তার মৃত্যুতে রংপুরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক, পেশাজীবী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শারমিন জাহান বলেছেন, মাদকদ্রব্য সমাজ, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির জন্য একটা মারাত্মক সমস্যা। মাদকের ব্যবহার দিন দিন আমাদের প্রজন্মকে গ্রাস করে নিচ্ছে। ধ্বংস করছে আমাদের সন্তানদের মেধা, ঘটাচ্ছে সামাজিক অবক্ষয়। মাদক সমাজের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার মধ্যে অন্যতম। বাংলাদেশে মাদক ভয়াবহ সমস্যা হিসেবে যুব সমাজকে তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে। মাদক কারবারিদের প্রধান টার্গেট হয়ে ভয়াবহ মরণ নেশার নির্মম শিকারে পরিণত হচ্ছে এদেশের তরুণ ও যুবসমাজ। মাদক সেবনের ফলে তরুণ ও যুবসমাজ তাদের জীবনীশক্তি, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা ও মেধা-মনন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছে। হতাশায় নিমজ্জিত যুবসমাজের সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ হয়ে পড়ছে অনিশ্চিত। ফলে এসব তরুণ-যুবক জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধ কর্মকান্ডে।
আজ বুধবার ৭ অক্টোবর বিকালে কুরুলিয়ার পাড়ে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মুখে আধুনিক চুল্লি এবং ভারী যান (ভোল্ডোজার) ব্যবহার করে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিভিন্ন সময়ে মাদকসহ বিভিন্ন আলামতের নিস্পত্তিকৃত মামলার পৌনে ৬ কোটি টাকার বিভিন্ন মাদক ও আলামত ধ্বংসকালে এসব কথা বলেন।
ধ্বংসকালে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রোকেয়া আক্তার, সিনিয়র জুডিসিয়ার ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মেজবাহ উদ্দিন ভূঁইয়া, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিছবাহ উদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফনান সুমী, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আলমগীর, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল ইসলাম, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুকসহ আদালতের কর্মকর্তা কর্মচারীগণ।
ধ্বংসকৃত মাদক ও আলামতের মধ্যে রয়েছে গাঁজা ২ হাজার ৩শত ৪৩ কেজি ৭৮৩ গ্রাম, ইয়াবা ট্যাবলেট ৫৭ হাজার ২শত ৯২টি, স্কফ সিরাজ ১ হাজার ৯শত ৮৩ বোতল, বিদেশী মদ ৩শত ৭৩ বোতল, চোলাই মদ ৩শত ৬১.২০০লিটার, বিদেশী ক্যান ৯৩ বোতল, ফায়ার ড্রিল ২শত ৮৭ ক্যান, ইয়াবা ট্যাবলেট এর গুড়া ৩২ গ্রাম।
সূত্র জানান, নিস্পত্তিকৃত মামলার মাদক বা আলামত ধ্বংসের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
দিনাজপুরের বিরল সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি বিশেষ অভিযানে ৭০০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা ও ৪৭ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (Win Cerex সিরাপ) উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
তবে অভিযানে কোনো মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের মোট সিজার মূল্য ২১ হাজার ২৫০ টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধীন ধর্মজান বিওপির সদস্যরা বিরল উপজেলার সীমান্ত পিলার ৩১৯/৩-এস থেকে আনুমানিক ৮০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পূর্ব বনগাঁও এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ৭০০ গ্রাম ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
অপরদিকে, আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ২টা ৪০ মিনিটে একই ব্যাটালিয়নের অধীন এনায়েতপুর বিওপির সদস্যরা বিরল উপজেলার সীমান্ত পিলার ৩২৩/৩-এস থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে দ্বীপনগর এলাকায় অভিযান চালান। সেখান থেকে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৭ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল জাতীয় মাদকদ্রব্য (Win Cerex সিরাপ) উদ্ধার করা হয়।
বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা মাদকদ্রব্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যাওয়া সংশ্লিষ্ট মাদক ব্যবসায়ীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে ও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্তবর্তী এলাকায় আন্তঃসীমান্ত অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ফরিদা সুলতানা
মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে টাকা ধার ও কানের স্বর্ণের দুল দিতে রাজি না হওয়ায় ফরিদা সুলতানা (৬০) নামক এক বৃদ্ধাকে লোহার টর্চলাইট ও ধারালো চাক্কু দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে তার দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নিলা আক্তার গ্রেফতার হয়েছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আটপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ফরিদা সুলতানার ছেলে মো. ইহতিয়াম মাহমুদ উত্তরা দিয়াবাড়ির একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সিনিয়র এক্সিকিউটিভ হিসেবে কর্মরত। ঘটনার দিন সকালে তিনি অফিসের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। বৃদ্ধা ফরিদা সুলতানাকে বাড়িতে একা পেয়ে তার দূর সম্পর্কের চাচাতো ভাই মো. ডালিমের স্ত্রী নিলা আক্তার ঘরে প্রবেশ করেন। ফরিদা সুলতানা কাছে টাকা ধার চান এবং কানের স্বর্ণের দুল দাবি করেন। তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে নিলা আক্তার সঙ্গে থাকা একটি ভারী বিদেশি লোহার টর্চলাইট দিয়ে ফরিদা সুলতানার মাথায় সজোরে আঘাত করেন। এতে তার মাথা ফেটে রক্তাক্ত জখম হয়।
তার চিৎকার ও আর্তনাদে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
এ ঘটনায় আহত বৃদ্ধার ছেলে মো. ইহতিয়াম মাহমুদ বাদী হয়ে শ্রীনগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পুলিশ দ্রুত মামলাটি নথিভুক্ত করে। আজ বুধবার মামলার আসামি নিলা আক্তার মুন্সিগঞ্জ আদালতে হাজির হতে গেলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ নির্দেশ দেন।
বাঞ্ছারামপুলে পথচারী চলাচল ও ড্রেন পরিষ্কার নিয়ে প্রশ্ন, ফের পৌর অভিযান দাবী। দিনাজপুর শহরের যানজট নিরসন, পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত এবং পৌরসভার ড্রেনগুলো সচল রাখতে সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালিয়েছে দিনাজপুর পৌরসভা।
তবে উচ্ছেদ অভিযানের পরও শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাঞ্ছারামপুল এলাকায় পৌরসভার ড্রেন ও সড়কসংলগ্ন জায়গা দখল করে থাকা কিছু স্থাপনা ও অতিরিক্ত ছাউনিকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আইন কলেজ মোড় থেকে মধ্য বালুবাড়ী হয়ে বাঞ্ছারামপুল পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে সম্প্রতি অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় রাস্তার পাশে থাকা চা, পান, বড়া, পিয়াজু, পুরিসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হয়। এতে অনেক নিম্নআয়ের মানুষের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় বলে স্থানীয়দের ভাষ্য। কিন্তু একই অভিযানের পর বাঞ্ছারামপুলের পূর্ব পাশে সড়কের দক্ষিণ দিকে অবস্থিত কয়েকটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ড্রেনের ওপর নির্মিত স্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঐতিহাসিক আদি মুন্সী হোটেলসংলগ্ন এলাকায় একটি রেস্টুরেন্টের বারান্দা পৌরসভার ড্রেনের ওপর নির্মিত রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, আহার কাবাব এন্ড রেস্টুরেন্ট-এর ড্রেনের ওপর নির্মিত বারান্দার বাইরে আরও প্রায় পাঁচ-ছয় ফুট অতিরিক্ত ছাউনী পৌরসভার জায়গার দিকে সম্প্রসারিত হয়েছে।
পাশাপাশি ওই স্থানে গাছের টপ, সাইনবোর্ডসহ বিভিন্ন কাঠামো স্থাপনের অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবী, সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের সময় ওই রেস্টুরেন্টের পৌরসভার জায়গার ওপর থাকা ফুলের টপ ও সাইনবোর্ড সরিয়ে নেওয়া হলেও ড্রেনের ওপর নির্মিত বারান্দা ও অতিরিক্ত ছাউনীর বিষয়টি পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত অংশ সরিয়ে নেওয়ার জন্য কিছু সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের পরও যদি অতিরিক্ত স্থাপনা থেকে থাকে, তাহলে সেটি পুনরায় সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া জরুরী বলে মনে করছেন তারা।
ড্রেনের ওপর স্থাপনা, পরিষ্কার করবেন কীভাবে?
শহরের ড্রেনগুলো শুধু পানি নিষ্কাশনের জন্য নয়, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাও জনস্বাস্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু ড্রেনের ওপর স্থায়ী বা আধা-স্থায়ী বারান্দা, ছাউনী, কাঠামো কিংবা দোকানের অংশবিশেষ নির্মাণ করা হলে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পক্ষে ড্রেনে প্রবেশ করে ময়লা- আবর্জনা পরিষ্কার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ফলে ড্রেনের ভেতরে ময়লা জমে পানি চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি বর্ষাকালে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন নাগরিকরা। স্থানীয় একাধিক পথচারীর প্রশ্ন- যে জায়গা দিয়ে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ড্রেন পরিষ্কার করার কথা, সেখানে যদি দোকানের স্থাপনা ও অতিরিক্ত ছাউনি থাকে, তাহলে পৌরসভার কর্মীরা নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করবেন কীভাবে?
গরিবের দোকান উচ্ছেদ হলে বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম চান নাগরিকরা, এলাকাবাসীর একটি অংশ বলছেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবৈধ স্থাপনা যদি জনস্বার্থে উচ্ছেদ করা হয়, তাহলে একই নিয়মে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ড্রেন ও পৌরসভার জায়গা দখল করে থাকা অতিরিক্ত স্থাপনাও যাচাই করা উচিত। তাদের বক্তব্য, বিষয়টি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার নয়; বরং আইনের সমান প্রয়োগ এবং জনস্বার্থ রক্ষার বিষয়।
আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তাহলে ধনী-গরিব, ছোট দোকান কিংবা বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান- কারও ক্ষেত্রেই পৌরসভার ড্রেন, ফুটপাত বা সরকারী/পৌর জায়গা দখলের সুযোগ থাকা উচিত নয় বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। পৌরসভার কাছে সরেজমিন তদন্তের দাবী, স্থানীয়দের দাবী, দিনাজপুর পৌরসভা চাইলে বিষয়টি সরেজমিন পরিদর্শন করে সড়ক, ড্রেন ও পৌরসভার জায়গার সীমানা নির্ধারণ করতে পারে। কোনো স্থাপনা অনুমোদিত হলে তার বৈধতা এবং অনুমোদনের সীমা যাচাই করা যেতে পারে। আর অনুমোদনের বাইরে অতিরিক্ত অংশ থাকলে তা অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।
এতে একদিকে যেমন পথচারীদের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত হবে, অন্যদিকে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নির্বিঘ্নে ড্রেন পরিষ্কার করতে পারবেন। প্রশ্ন একটাই- অভিযান কি সবার জন্য সমান হবে? সাম্প্রতিক উচ্ছেদ অভিযানের পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্থাপনা সরিয়ে দেওয়া হলেও একই এলাকার বড় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ড্রেনসংলগ্ন স্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বিষয়টি এখন পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য নেওয়া জরুরী। কোনো প্রতিষ্ঠান অনুমোদিত নকশা বা বৈধ অনুমতির আওতায় স্থাপনা নির্মাণ করে থাকলে সেটিও জনসমক্ষে পরিষ্কার হওয়া উচিত।
সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, দিনাজপুর পৌরসভা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি বৈষম্য না করে সরেজমিনে তদন্ত করবে এবং পৌরসভার ড্রেন, ফুটপাত ও জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখলমুক্ত রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তাদের প্রত্যাশা-শুধু একবারের উচ্ছেদ অভিযান নয়, বরং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে শহরের ড্রেন ও সড়কপাশের পৌর জায়গা দখলমুক্ত রাখা হবে। তাহলেই গরিব-ধনী নির্বিশেষে সবার জন্য একই আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত হবে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে।