ছবি: সংগৃহীত।
কুড়িগ্রামের উলিপুরে নিখোঁজের প্রায় ১২ ঘণ্টা পর এক নারীকে প্রায় ২৫ ফুট উঁচু একটি তেঁতুল গাছের মগডাল থেকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। বুধবার (৬ মে) সকালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করা হয়। ওই নারী আনন্দবাজারের বাসিন্দা আবু সাইদের স্ত্রী।
জানা গেছে, গতরাত রাত ১০টায় ওই নারী ঘর থেকে নিখোঁজ হন। এরপর তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি করে কোথাও পাওয়া যায়নি। পরে আজ বুধবার সকালে বাড়ির কাছে একটি পুকুর পাড়ের লম্বা তেঁতুল গাছের মগডালে তাকে কখনো বসে বা কখনো শুয়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। এতে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এসময় এ দৃশ্য দেখতে সেখানে ভিড় করেন এলাকার অনেক মানুষ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল ১০টার দিকে তাকে গাছের মগডালে বসে কিছু একটা খেতে দেখা যায়। এসময় তার ছেলে গাছে উঠতে চেষ্টা করলে তাকে নিষেধ করে সে। পরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারীরা গিয়ে তাঁকে নামানোর চেষ্টা করলে তাদেরও তিনি নিষেধ করেন। এক পর্যায়ে ওই নারী গাছ থেকে পানিতে লাফিয়ে পরলে অজ্ঞান অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস।
এ ঘটনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রায়হান কবির বলেন, ৪০ বছর বয়সী ওই নারী ইতিপুর্বেও বাঁশ গাছসহ বিভিন্ন গাছের মগডালে উঠেছিল। তিনি যে ধরনের গাছের মগডালে আরোহন করতেন, সেটি একজন পুরুষের পক্ষেও সম্ভব নয়। আমার জানামতে, তিনি একজন জ্বিনের আছরের রোগী বলে এলাকায় শ্রুত রয়েছে।
রায়হান কবির আরও দাবি করেন, প্রায় ২৫ ফুট উঁচু গাছের মাথা থেকে পানিতে পড়ার সময় পানিতে সামান্য শব্দও পাওয়া যায়নি। কিন্তু আমরা যখন তাকে পানি থেকে উদ্ধার করি তখন তাকে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তার বাড়ীতে পৌঁছে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে কড়িগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এ উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মির্জা নাসির উদ্দিন
বলেন, এই ধরনের ঘটনা আমাদের সমাজে অনেক সময় অলৌকিক বা ‘জ্বীনের আছর” বলে চালিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান এবং চিকিৎসা শাস্ত্রের কাছে এগুলো যৌক্তিক। তবে তিনি বলেছেন- এ ধরনের আচরণের প্রধানত দুইটি বৈজ্ঞানিক কারণ হতে পারে:
১. স্লিপওয়াকিং (Sleepwalking) বা ঘুমের মধ্যে হাঁটা
চিকিৎসা বিজ্ঞানে একে Somnambulism বলা হয়। এটি একটি প্যারাসমনিয়া (Parasomnia) ডিসঅর্ডার।
কি ঘটে: ঘুমের একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে (সাধারণত গভীর ঘুমে) মানুষের মস্তিষ্ক আংশিক জেগে ওঠে, কিন্তু শরীর পুরোপুরি সচেতন হয় না। এই অবস্থায় ব্যক্তি হাঁটতে পারে, কথা বলতে পারে, এমনকি জটিল কাজ যেমন-রান্না করা বা উঁচু কোনো জায়গায় উঠে পড়াও সম্ভব।
বিপত্তি:স্লিপওয়াকাররা সাধারণত চোখ খোলা রাখলেও তাদের চেতনার অভাব থাকে। তারা কোথায় যাচ্ছে বা কি করছে সে সম্পর্কে তাদের কোনো স্মৃতি থাকে না। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তারা সাধারণত কিছু মনে করতে পারে না এবং নিজেকে অদ্ভুত জায়গায় আবিষ্কার করে ভীষণভাবে অবাক বা আতঙ্কিত হয়ে
পড়ে।
২. ডিজোসিয়াটিভ ডিসঅর্ডার (Dissociative Disorder)
মনোবিজ্ঞানে অনেক সময় একে Dissociative Identity Disorder বা সহজ ভাষায় হিস্টেরিয়া বলা হয়ে থাকে। কারণ: যখন একজন মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক চাপ বা পারিবারিক অবদমন সহ্য করেন, তখন তার মস্তিষ্ক বাস্তব জগত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে একটি ভিন্ন পর্যায়ে চলে যায়।
আচরণ: এই অবস্থায় ব্যক্তি নিজের অজান্তেই এমন সব কাজ করে ফেলেন যা তার স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বের বাইরে। উঁচু গাছে ওঠা বা অদ্ভুত শব্দ করা এই মানসিক অসুস্থতার একটি লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় একে "পজেসন" (Possession) বা আছর করা মনে করা হয় কারণ ব্যক্তির আচরণের ওপর তার নিজের নিয়ন্ত্রণ থাকে না।
কেন অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া যায়?
গাছে ওঠার মতো শারীরিক পরিশ্রমের পর যখন ব্যক্তির স্বাভাবিক চেতনা ফিরে আসে, তখন অতিরিক্ত ভয় বা ক্লান্তিতে তার স্নায়ুতন্ত্র (Nervous System) সাময়িকভাবে কাজ করা বন্ধ করে দিতে পারে, যার ফলে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান।
এ পরিস্থিতিতে করণীয়:
এই ধরনের পরিস্থিতিতে ওই মহিলার ওপর কোনো কবিরাজি চিকিৎসা বা ভয় দেখানোর মতো কাজ করা একদমই উচিত নয়। তাকে দ্রুত একজন নিউরোলজিস্ট (Neurologist) বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist) দেখানো প্রয়োজন। সঠিক কাউন্সেলিং এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
এটি অলৌকিক কিছু নয় বরং একটি চিকিৎসাযোগ্য স্নায়বিক বা মানসিক সমস্যা।
কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তীব্র মানসিক চাপ (ট্রমা), বা পারিবারিক অবদমনে থাকা যে কেউ এ ধরনের কাজ করতে পারে। এ ধরনের রোগীকে পারিবারিকভাবে কেয়ার নেয়ার পাশাপাশি অতি দ্রুত মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
চোর দলের সক্রিয় সদস্য ১৩ জন আটক। ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটে ড্রামট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে ড্রামট্রাকের চাপায় বিপ্লব মিয়া (২২) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার আরও অন্তত ৩জন যাত্রী গুরুত্বর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের দক্ষিণ গোপাল রায় এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত বিপ্লবসহ কয়েকজন যুবক নামুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা শেষে অটোরিকশায় করে কাকিনা বাজারের দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বালুভর্তি ড্রামট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিপ্লব মিয়ার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরে মাওলা জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কয়লা উত্তোলনের দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে সোনাইমুড়ীতে ছাত্রদলের আনন্দ শোভাযাত্রা
আদাবর থানা। ছবি : সংগৃহীত
বর-কনের প্রতীকী। ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার তালায় উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দুটি বাল্যবিয়ে পণ্ড করা হয়েছে। আকস্মিক এ অভিযানে অপ্রাপ্তবয়সী মেয়েদের বিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ দুটি পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। পুরো অভিযানটি সমন্বয় করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার উপপরিচালক নাজমুন নাহার।
প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রথম অভিযান হয় উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের হাজরাপাড়া এলাকায় শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানতে পারেন, তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজেরপাড়া এলাকায় ধুমধাম করে একটি বাল্যবিয়ে চলছে। কনে ওই এলাকার বাসিন্দা এবং বর পার্শ্ববর্তী খলিশখালী এলাকার অপ্রাপ্তবয়সী ওসমান গাজী।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার নির্দেশে তালা উপজেলা কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটার রিংকু আইচ, কুমিরা ইউনিয়ন কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংগীত শিক্ষক শম্পা ভট্টাচার্য এবং ক্লাবের দপ্তরি মিনা দে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এছাড়া পাটকেলঘাটা থানার ওসির সহযোগিতায় এসআই আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিমও ঘটনাস্থলে যায়। তবে অভিযানের টের পেয়ে বর দ্রুত কনেকে গাড়িতে তুলে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মেয়ের বাবা মুচলেকা দিয়েছেন এবং আগামী সোমবার সকাল ১০টায় মেয়েসহ অভিভাবকদের ইউএনও মহোদয়ের অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে কুমিরা মধ্যপাড়া এলাকা প্রথম ঘটনাটি প্রতিরোধ করে ফেরার সময় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কুমিরা মধ্যপাড়া এলাকায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া অপ্রাপ্তবয়সী এক মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে। তাৎক্ষণিকভাবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই বিয়েটিও সফলভাবে প্রতিরোধ করেন।
এ ক্ষেত্রেও মেয়ের পরিবার থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং আগামী সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেয়েসহ অভিভাবকদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তালা উপজেলার পৃথক এলাকায় বাল্যবিয়ে বন্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। এতে বিয়ের দুটি বন্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া অভিভাবকদের আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।