হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে অর্থপাচার মামলায় গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের গোপীনাথ চন্দ্র দাসের ছেলে।
পলাশবাড়ী থানার ওসি সরোয়ার আলম খান সোমবার বলেন, ঢাকার উত্তরা পশ্চিম থানার একটি অর্থপাচারের মামলায় তাকে ঢাকার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, “সিআইডির রিকুইজিশনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
হরিদাসকে সিআইডি বুঝে পেয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থার বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান।
ওসি সরোয়ার আলম বলেন, “মন্দির এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।”
হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থপাচারের অভিযোগে রোববার মামলা করেছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।
সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, হরিদাসের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিষয়ে অভিযোগ থাকায় সিআইডি প্রাথমিক অনুসন্ধান করে। তাতে দেখা গেছে, বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাবে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে।
এর প্রায়ই সবই তিনি উত্তোলন করেছেন, যা সন্দেহজনক বর্ণনা করে সিআইডি বলেছে, দেশের বিভিন্ন স্থানের নানা ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ হরিদাসের ব্যাংক হিসাবগুলোতে জমা করেছেন, যা তার পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সিআইডি বলছে, হরিদাসের বিরুদ্ধে বনানী থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার তথ্য মিলেছে। তার বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে ‘দেশি-বিদেশি মুদ্রাপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রমাণিত’ হওয়ায় উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।
তার বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
সিআইডির ভাষ্য, হরিদাস ২০০৬ সালে পলাশবাড়ীর হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকার ক্যামব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। সিআইডি জেনেছে, হরিদাস ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গমন করে ‘শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ’ গ্রহণ শেষে দেশে ফেরেন। তিনি ২০১৯ সালে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন।
এরপর থেকে হরিদাস বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তখনকার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রটোকল অফিসার পরিচয় দিতেন; বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নিজের সম্পাদন করা ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সেভ করা ভুয়া ফোন কল শোনাতেন।
সম্প্রতি পলাশবাড়ী উপজেলায় রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির চত্বরে রামের বিগ্রহ নির্মাণ কাজ শুরু করে মন্দির কর্তৃপক্ষ। তাদের ভাষ্য, এটি হবে ‘এশিয়ার সর্ববৃহৎ’ রাম বিগ্রহ।
এর অর্থায়নের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে ইমাম ওলামা পরিষদ আন্দোলনে নামলে গেল ৯ জুন বিগ্রহ নির্মাণের কাজ স্থগিত করে মন্দির কমিটি।
ওলামা পরিষদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—কোনো বিদেশি রাষ্ট্র, সংস্থা বা ব্যক্তির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ অর্থায়ন, প্রভাব বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না তা গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থানের পর হরিদাস ২০২৪ সালে এলাকায় ফিরে আসেন। এরপর তিনি গ্রামের কালী মন্দিরের পুরনো অবকাঠামো পরিবর্তন করে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেন। এর অংশ হিসেবে গ্রামে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে হরিদাসকে সভাপতি ও বিপিন চন্দ্র দাসকে সাধারণ সম্পাদক করে মন্দির কমিটি গঠন করা হয়।
২০২৫ সালের মে মাসে মন্দির আধুনিকায়নের কাজ শুরু করে এ কমিটি। মন্দিরের নাম বদলিয়ে রাখা হয় রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির। সম্প্রতি মন্দির চত্বরে ৮১ ফুট উচ্চতার রাম বিগ্রহ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এরপর বিগ্রহ অপসারণ, অর্থায়নের উৎস অনুসন্ধান এবং হরিদাসকে গ্রেপ্তার পলাশবাড়ী, গাইবান্ধাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
চোর দলের সক্রিয় সদস্য ১৩ জন আটক। ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটে ড্রামট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ। ছবি: সংগৃহীত
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ফুটবল খেলা দেখে বাড়ি ফেরার পথে ড্রামট্রাকের চাপায় বিপ্লব মিয়া (২২) নামের এক তরুণ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অটোরিকশার আরও অন্তত ৩জন যাত্রী গুরুত্বর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের দক্ষিণ গোপাল রায় এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত বিপ্লবসহ কয়েকজন যুবক নামুড়ী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলা শেষে অটোরিকশায় করে কাকিনা বাজারের দিকে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বালুভর্তি ড্রামট্রাক অটোরিকশাটিকে সজোরে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিপ্লব মিয়ার মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মঞ্জুরে মাওলা জানায়, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
কয়লা উত্তোলনের দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে সোনাইমুড়ীতে ছাত্রদলের আনন্দ শোভাযাত্রা
আদাবর থানা। ছবি : সংগৃহীত
বর-কনের প্রতীকী। ছবি: সংগৃহীত
সাতক্ষীরার তালায় উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে দুটি বাল্যবিয়ে পণ্ড করা হয়েছে। আকস্মিক এ অভিযানে অপ্রাপ্তবয়সী মেয়েদের বিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে তালা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ দুটি পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। পুরো অভিযানটি সমন্বয় করেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সাতক্ষীরার উপপরিচালক নাজমুন নাহার।
প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রথম অভিযান হয় উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের হাজরাপাড়া এলাকায় শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপপরিচালক নাজমুন নাহার জানতে পারেন, তালা উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজেরপাড়া এলাকায় ধুমধাম করে একটি বাল্যবিয়ে চলছে। কনে ওই এলাকার বাসিন্দা এবং বর পার্শ্ববর্তী খলিশখালী এলাকার অপ্রাপ্তবয়সী ওসমান গাজী।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণার নির্দেশে তালা উপজেলা কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটার রিংকু আইচ, কুমিরা ইউনিয়ন কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সংগীত শিক্ষক শম্পা ভট্টাচার্য এবং ক্লাবের দপ্তরি মিনা দে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এছাড়া পাটকেলঘাটা থানার ওসির সহযোগিতায় এসআই আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিমও ঘটনাস্থলে যায়। তবে অভিযানের টের পেয়ে বর দ্রুত কনেকে গাড়িতে তুলে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় মেয়ের বাবা মুচলেকা দিয়েছেন এবং আগামী সোমবার সকাল ১০টায় মেয়েসহ অভিভাবকদের ইউএনও মহোদয়ের অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে কুমিরা মধ্যপাড়া এলাকা প্রথম ঘটনাটি প্রতিরোধ করে ফেরার সময় এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, কুমিরা মধ্যপাড়া এলাকায় দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া অপ্রাপ্তবয়সী এক মেয়ের বিয়ের আয়োজন চলছে। তাৎক্ষণিকভাবে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের টিম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেখানে উপস্থিত হয়ে ওই বিয়েটিও সফলভাবে প্রতিরোধ করেন।
এ ক্ষেত্রেও মেয়ের পরিবার থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে এবং আগামী সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় মেয়েসহ অভিভাবকদের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
তালা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তালা উপজেলার পৃথক এলাকায় বাল্যবিয়ে বন্ধে অভিযান পরিচালিত হয়। এতে বিয়ের দুটি বন্ধ করা হয়েছে। তাছাড়া অভিভাবকদের আগামী সোমবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।