আন্দ্রেয়া রুইজ বেলো ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজের শরীর দিয়ে আড়াল করে এক বছরের সন্তান আলানাকে বাঁচিয়েছেন
ধ্বংসাবশেষের মধ্যে জীবনবাজি রেখে সর্বস্ব দিয়ে আগলে রেখেছেন সন্তানকে। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিজের শরীর দিয়ে এক বছরের কন্যাসন্তানকে ধ্বংসস্তূপের হাত থেকে রক্ষা করে গেছেন। মেয়ে আলানা’কে বাঁচাতে পেরেছেন ঠিকই। তবে সন্তানের জন্য চূড়ান্ত আত্মত্যাগ করে গেছেন ভেনেজুয়েলার এক মা।
সন্তানের প্রতি বীরত্বপূর্ণ ও অকৃত্রিম ভালোবাসা দেখিয়ে নিজের জীবন বিসর্জন দেওয়া এই নারীর নাম আন্দ্রেয়া রুইজ। তিনি দেশটির ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রী।
ভেনিজুয়েলার উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরার কুমানা শহরের একটি বহুতল ভবনে পরিবারসহ তারা বসবাস করতেন। বুধবার শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পে ভবনটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ে। এ সময় শিশুটিকে বিপদ থেকে আড়াল রাখেন মা। পরে ধ্বংসস্তূপের নিচে আন্দ্রেয়ার মরদেহ পাওয়া যায়। মায়ের এই চূড়ান্ত আত্মত্যাগের কারণে ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে বেঁচে ফেরে শিশু আলানা। তাকে রাজধানী কারাকাসের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। শিশুটি সেখানে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
ভেনিজুয়েলার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশন আন্দ্রেয়া রুইজের এই মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে। প্রতিবেদনে মা আন্দ্রেয়ার অনন্য আত্মত্যাগের কথা উল্লেখ করা হয়, যিনি শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নিজের শরীর দিয়ে এক বছরের কন্যাসন্তানকে ধ্বংসস্তূপের হাত থেকে রক্ষা করেছেন।
এ ঘটনার পর ফুটবলার হেক্টর বেলো চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে পড়েন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধারাবাহিক পোস্টে তার অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে না পারা এবং পরিবারকে রক্ষা করতে না পারার গভীর অপরাধবোধ ও তীব্র মানসিক কষ্ট প্রকাশ পেয়েছে তার এসব পোস্টে। এমনকি ভবিষ্যতে বড় হওয়ার পর সন্তানকে তার মায়ের এই চিরতরে চলে যাওয়া এবং বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের কথা কীভাবে জানাবেন, তা নিয়েও তিনি চরম এক সংকটের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান। তিনি এই অপূরণীয় ক্ষতি এবং মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার জন্য মানসিকভাবে শক্তি খুঁজছেন বলে জানিয়েছেন।
আন্দ্রেয়া রুইজের উদ্দেশে হেক্টর বেলো ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘তোমার মেয়েকে আমি কীভাবে বোঝাব যে, তুমি তার জীবন বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন হারিয়েছ, আর আমি সেখানে কিছুই করার জন্য উপস্থিত ছিলাম না? কীভাবে বোঝাব আমি? আমাকে এখন শক্তি দাও।’
মূল্যবান ভালোবাসা দিয়ে দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের সময় তাদের ছোট শিশুটির জীবন বাঁচিয়েছেন আন্দ্রেয়া রুইজ- এ কথা উল্লেখ করে হেক্টর বেলো তার ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন,‘বড় হয়ে আলানা জানতে পারবে কীভাবে তার মা নিজের জীবন দিয়ে তাকে বাঁচিয়েছে।’
ভেনেজুয়েলার ফুটবল ক্লাব মারিতিমো দে লা গুয়াইরার খেলোয়াড় হেক্টর বেলো পোস্টে লিখেছেন, ‘আমি তাকে সেই গল্প শোনাব যে, তুমি কীভাবে তাকে বাঁচিয়েছ, কীভাবে তুমি আমাদের মেয়ের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছ, তুমি কেমন সাহসী নারী ছিলে যে, নিজের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার মুহূর্তেও তাকে ছেড়ে যাওনি।’
হেক্টর বেলো ধারাবাহিক পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি কারাকাসে গিয়েছেন যেখানে তার মেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শুক্রবার দিবাগত রাতে এক পোস্টে লিখেছেন, ‘আমার মেয়ে এবং তার খালা ভালো আছে। তবে আজ তাদের হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হবে না। তারা হাসপাতালেই থাকছে।’
ভেনিজুয়েলার স্থানীয় ফুটবল গণমাধ্যম ও প্রচার সংস্থা কুমানা দে ক্যাম্পিওনেস ও আন্দ্রেয়া রুইজের মৃত্যু নিয়ে একটি পোস্ট শেয়ার করেছে।
সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে লিখেছে, ‘আমরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, কুমানা শহরের বাসিন্দা ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রীকে ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। তবে পুরো পরিবার যে ভবনটিতে বসবাস করত, সেটি ধসে পড়লেও তাদের কন্যাসন্তান অলৌকিকভাবে বেঁচে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম ইউনিভিশনও ফুটবলার বেলোর স্ত্রীর মৃত্যুর খবরটি প্রকাশ করেছে। গত বুধবারের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর থেকে আরও অনেকের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা হচ্ছে। পাশাপাশি এখনও বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ভেনিজুয়েলান ফুটবল ফেডারেশন এবং স্থানীয় ক্লাবগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুজন ফুটবল খেলোয়াড়ও রয়েছেন। কারাকাস ফুটবল ক্লাব জানিয়েছে, তাদের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের খেলোয়াড় রাজান সিজা লা গুয়াইরায় নিজের বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের সাথে মারা গেছেন। কারাকাস ফুটবল ক্লাব তাদের এই তরুণ প্রতিভার অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে লিখেছে, ‘তার আনন্দ, নিষ্ঠা এবং সাহচর্য এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের সাথে থাকবে।’
কারাকাসভিত্তিক ক্লাব স্পোর্ট সান অগুস্তিন তাদের ইনস্টাগ্রামে লিখেছে, ভিক্টর প্যালাসিওস তাদের একাডেমিতে একটি ‘অমোচনীয় দাগ’ রেখে গেছেন। তার চলে যাওয়ার এই বেদনা প্রকাশ করার মতো পর্যাপ্ত শব্দ আমাদের কাছে নেই।’
ভিক্টর প্যালাসিওসের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে ভেনিজুয়েলান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে যে, তিনি মারিতিমো দে লা গুয়াইরা ক্লাবের হয়েও খেলেছেন।
এদিকে সাবেক মিস ভেনিজুয়েলা গিজেল রেইস তার ইনস্টাগ্রামের এক পোস্টে জানিয়েছেন, জোড়া ভূমিকম্পের কারণে লা গুয়াইরায় তার মায়ের বহুতল ভবনটি ‘সম্পূর্ণ ধসে’ পড়ায় তার মা মারা গেছেন।
গিজেল রেইস জানিয়েছেন যে, ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনি এবং এর ভয়াবহ প্রভাবের কারণে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মা মারা গেছেন। তার দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা নার্স, যিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন, তিনিই এই দুঃখজনক খবরটি সবাইকে জানান।
রাজধানী কারাকাসের কাছে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৯২০ জনের মৃত্যু এবং তিন হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। উদ্ধারকারীরা বেঁচে থাকা মানুষদের খোঁজে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন।
ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক দম্পতি এবং তাদের দুই বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে। এর আগে উদ্ধার হওয়া অপর দুই শিশু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ফার্স বার্তা সংস্থা এবং হরমুজগান ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলায় নিহত তিনজন হলেন ওই ভবনে বসবাসকারী এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান।
মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ সদস্যের ওই পরিবারটির বাকি দুই শিশুকে এর আগে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। সাত ও নয় বছর বয়সী আহত ওই দুই শিশু এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এর আগে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি ধ্বংসস্তূপ থেকে তৃতীয় এক শিশুকে উদ্ধারের খবর জানিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ফার্স বার্তা সংস্থা ধ্বংসস্তূপ থেকে দম্পতি ও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
সূত্র: আল-জাজিরা
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার ইরাকে হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এতে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো নিয়ে গঠিত একটি আধাসামরিক জোটের ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন।
ওয়াশিংটন ও রিয়াদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী আর সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার জবাবে তারা ইরাকে ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি আধাসামরিক ওই জোটের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র আর ইরান দুই দেশই ইরাকের অন্যতম মিত্র। কিন্তু তাদের শত্রুতার কারণে বাগদাদ দীর্ঘদিন ধরে প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দেশটির সরকার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেও হিমশিম খাচ্ছে।
ইরাকে ইরান সমর্থিত আধাসামরিক জোটটি ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ বা পিএমএফ নামে পরিচিত। এক সময় সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে তাদের তেমন তৎপরতা নেই। পিএমএফ জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অন্তত ২০ জন যোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩২ জন।
পিএমএফ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি যৌথ আগ্রাসন চালিয়ে বাগদাদ, উত্তর ইরাকের নিনেভ এবং দক্ষিণের বসরাসহ ৭টি প্রদেশের ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। জোটের নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন, নিনেভ এবং মধ্য ইরাকের দিয়ালা প্রদেশের হামলাগুলোতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে।
জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইরাকে পিএমএফ গঠন করা হয় ২০১৪ সালে। পরে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনীর অংশ করা হয়। এর মধ্যে ইরান সমর্থিত কিছু ব্রিগেডও আছে। সেগুলো নিজেদের মতো করে কার্যক্রম চালায়।
গত সোমবার সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরাক থেকে উড্ডয়ন করা বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিতের কথা জানিয়েছিল। এসব ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু ছিল পেট্রোলিয়াম স্থাপনা। তখন ইরাকি কোনো পক্ষ হামলার দায় স্বীকার করেনি।
জাপানে ভূমিকম্পে নিহত
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাস্থল কুমামোতো শহরের কাছে আংশিক ধসে পড়া একটি বিপণিবিতানে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুমামোতো শহরের কাছে অবস্থিত একটি শপিং মলের একাংশ ধসে পড়ে।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভবনের ভেতরে সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে আটজনকে উদ্ধার করা হলেও তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
বিপণিবিতান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আয়ন জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার ৭০০ কর্মীর খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তবে চারজন কর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, এখনও অনেক মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সরকার সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে।
ধসে পড়া ভবনে দমকল, পুলিশ ও প্রায় ১৭০ জন সেনাসদস্য উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ- এর একটি কারখানায় চিমনি ধসে সাতজন নিখোঁজ এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে বহু আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো কুমামোতো প্রিফেকচারে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ভবন ধস ও আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের জন্য ৩৮৬টি জরুরি কল পেয়েছে পুলিশ।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামোতো শহরের প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইয়াতসুশিরো শহরে বহু বাড়ির ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। একটি সেতুর অংশ কুমাগাওয়া নদীতে ভেঙে পড়েছে।
কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ ওই অঞ্চলে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
আজ বুধবার তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছালে ৩৬ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। ফলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
ভূমিকম্পের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উকি শহরের একটি হাসপাতালের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আরেকটি হাসপাতাল ৮৬ জন আহতকে চিকিৎসা দেওয়ার পর অতিরিক্ত চাপের কারণে নতুন জরুরি রোগী ভর্তি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া দ্রুতগতির ট্রেনে থাকা কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। কম্পন অনুভূত হওয়ার পর ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, প্রায় ২০০টি দোকানবিশিষ্ট আয়ন মলের একপাশ সম্পূর্ণ ধসে পড়ে ভেতরের ইস্পাত কাঠামো উন্মুক্ত হয়ে গেছে এবং পার্কিং এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভূমিকম্পের প্রভাবে রেনেসাস ইলেকট্রনিক্স, সনি, টোকিও ইলেকট্রন ও হোন্ডা তাদের স্থানীয় কারখানার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। টয়োটা মোটর জানিয়েছে, সরবরাহকারীদের পরিস্থিতি বিবেচনায় শুক্রবার পর্যন্ত কুমামোতো প্রিফেকচারের বাইরের তিনটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত জাপানে বিশ্বের ৬ বা তার বেশি মাত্রার প্রায় ২০ শতাংশ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ১০ বছর আগে কুমামোতোতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৭৫ জন নিহত এবং ২ হাজার ৭৩৯ জন আহত হয়েছিলেন। এবারের ভূমিকম্পেও ঐতিহাসিক কুমামোতো দুর্গ, কয়েকটি উপাসনালয় এবং সপ্তদশ শতাব্দীর একটি চা-পানের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনগত রাতে এই হামলা চালানো হয়ে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আকস্মিক হামলার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা ফের চরম আকার ধারণ করলো।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছিল ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে এক আকস্মিক হামলার উদ্দেশ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে সেসব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ‘সম্পূর্ণ সতর্ক ও উচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।’
এর আগে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর নৈশ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে গালফ বা পারস্য উপসাগরে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে ইরান। তবে গত সপ্তাহে উভয় পক্ষই সাময়িকভাবে গোলাগুলি বা আক্রমণ বন্ধ রেখেছিল।
চরম সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ লড়াই
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হওয়া অতি সংকীর্ণ ও কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’-তে ইরান কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। গত জুন উভয় পক্ষের মধ্যে এক অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই কার্যত এই প্রণালির ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক লড়াই শুরু হয়ে যায়।
ইরানের দাবি হলো, এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী সব জাহাজকে তাদের উপকূলের কাছাকাছি নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে ও তেহরান এর জন্য শুল্ক বা ফি আদায় করার অধিকার রাখে। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ অপারেশনের অধীনে ওমানের উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে যখন একের পর এক জাহাজ নিরাপদে অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান।
ঘটনা নতুন মোড় নেয় যখন বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরের দিকে মার্কিন ও সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো যৌথভাবে ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়াদের ওপর দফায় দফায় বিমান হামলা চালায়। সম্প্রতি সৌদি আরবের কয়েকটি তেল স্থাপনায় হওয়া ড্রোন হামলার পেছনে এই ইরাকি মিলিশিয়াদের দায়ী করেই যৌথ এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে এই অভিযুক্ত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর কথিত ড্রোন হামলার ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, তার দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে ‘ইরাকি ভূখণ্ডকে কোনো বন্ধুপ্রতীম বা ভাতৃপ্রতিম দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের রুট বা লঞ্চিং প্যাড হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া না হয়।’
তবে ইরাকের সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো সৌদি তেলের স্থাপনায় ড্রোন হামলার সব দায় সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত মোর্চা ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ সৌদির এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সোমবার (২৭ জুলাই) সংঘটিত এই হামলাগুলো মূলত ইয়েমেনের হুথিরাই চালিয়েছে; যারা নিজেরাই সৌদি তেলের স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছিল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ছবিঃ সংগৃহীত
মুম্বাইয়ের পুলিশ ভ্যান আটকে প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠা মডেল রিয়া আহির এবার অনলাইনে তীব্র আক্রমণ ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনার পর তিনি সাইবার পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত ২২ জুলাই মুম্বাইয়ের দাদারের শিবাজি পার্কের কাছে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভরত মানুষদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি পুলিশ ভ্যান আটকে দিয়েছিলেন রিয়া আহির।
ছাই রঙের হুডি পরে ভ্যানের বনেটে হাত রেখে তার সাহসিকতার সেই দৃশ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। পরবর্তীতে এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পুলিশ অন্যায় করছে বুঝতে পেরেই তিনি সহজাত প্রবৃত্তি থেকে ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর জোর দিয়েছিলেন।
তবে এই সাহসী ঘটনার পর থেকেই অনলাইনে তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমআইডিসি পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা অভিযোগে তিনি জানান যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়মিত হত্যার হুমকি এবং তার অনলাইন কন্টেন্টে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে।
রিয়ার দাবি, তার বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত ঘৃণা প্রচার চালানো হচ্ছে, যার মধ্যে মানহানি, ভীতি প্রদর্শন, নারীর প্রতি অবমাননাকর অপব্যবহার, টার্গেটেড হয়রানি এবং ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এই সাইবার হয়রানির কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি আইনি সহায়তার পথ বেছে নেন এবং মানহানিকর কন্টেন্টের স্ক্রিনশট, বিভিন্ন ইউআরএল ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র পুলিশের কাছে জমা দেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
সম্প্রতি এনডিটিভির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রিয়া আহির জানান, ওই মুহূর্তে তার প্রতিক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল এবং বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে এত বড় একটি অসাধারণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে, তা এখনও তিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না।
সূত্র: এনডিটিভি।
মা-বাবার মাঝে অভিজিৎ দিপকে
ভারতের সাম্প্রতিক যুব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। আন্দোলন থামতেই এই তরুণের জন্য একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব আসছে তার বাবা-মায়ের কাছে। অভিজিতের মা অনিতা দিপকের ইচ্ছা, আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যেই ছেলেকে বিয়ের পিঁড়িতে বসাবেন। তবে বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা মাসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার তিনি ছেড়ে দিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই সমাজকর্মীর ওপরই।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনিতা দিপকে জানান, এনইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সিজেপির প্রতিবাদের আগে থেকেই অভিজিতের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছিল। আর সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
তিনি স্মরণ করেন, বোস্টনে থাকার সময় অভিজিতের সঙ্গে ফোনে এ বিষয়ে তার কথা হয়েছিল। তিনি যোগ করেন, ‘সে এ নিয়ে বেশি কিছু বলেনি; শুধু একটু হেসেছিল। অভিভাবক হিসেবে আমরা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছি। তবে সে আর কয়েকদিনের মধ্যে বাড়ি ফিরলে আমরা বিষয়টি আবার তুলব এবং তাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেব।’
সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন সমাপ্ত হলে অভিজিতের দ্রুত বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি ভ্রমণ পিছিয়ে দেন। তার মা বলেন, ‘আমরা এখন জানতে পেরেছি তার ফিরতে আরও চার থেকে পাঁচদিন লাগবে।’
হুমকির মুখে আত্মগোপনে যায় পরিবার
অভিজিৎ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই চরম হুমকির মুখে পড়ে তার পরিবার। নিরাপত্তার খাতিরে তাদের প্রায় দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।
অনিতা দিপকে বলেন, দল গঠনের পর বোস্টনেই অভিজিৎকে হুমকি দেওয়া শুরু হয়। ফোন করে হুমকিদাতারা বলত, যেহেতু সে বস্টনে রয়েছে, তাই ভারতে তার বাবা-মাকে টার্গেট করা হবে।
এই খবর পেয়েই অভিজিৎ তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার তাগিদ দেন। এরপর তারা কংকনে আত্মীয়দের বাড়িতে চলে যান এবং সেখানে ১৫ দিন কাটিয়ে আসেন। বর্তমানে পরিবারটি ছত্রপতি সম্ভাজি নগরের ওয়লুজ এলাকায় বসবাস করছে।
পরিবারকে না জানিয়েই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ
অভিজিৎ যে এমন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন, সে পরিকল্পনা তিনি পরিবারকে ঘুণাক্ষরেও জানাননি। সংবাদমাধ্যমে তার সাক্ষাৎকার দেখেই তারা বিষয়টি জানতে পারেন।
তার মা বলেন, ছেলে বাড়িতে খুব একটা কথা বলত না। খাবার বা মৌলিক প্রয়োজন ছাড়া সে দীর্ঘ কোনো আলোচনা করত না। স্কুলের বিতর্কে অংশ নেওয়ারও কোনো রেকর্ড ছিল না তার।
ছোটবেলায় বেশ শান্ত প্রকৃতির এই ছেলেটি কীভাবে জাতীয় টিভিতে তিন ভাষায় কথা বলল, তা দেখে আজও অবাক হন তার মা। মহামারির সময়ে অভিজিতের গৃহহীন আদিবাসী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মানবিক রূপও তিনি তুলে ধরেন।
ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যর্থতা ও আক্রমণের ভয়
দশম শ্রেণীতে ৯৬ শতাংশ নম্বর পাওয়া মেধাবী অভিজিৎকে তার বাবা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় এই পেশায় ঠেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বাদশ শ্রেণীতে ৬৫ শতাংশ পাওয়ার পর পুনের সিংহগড় ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি তিনি। মা স্বীকার করেন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জোর করাটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।
সাম্প্রতিক আন্দোলনে ছেলের ওপর হামলা এবং মুখে কালি ছেটানোর ঘটনায় পরিবারটি দারুণ ভীতি ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে গেছে। মা জানান, এসব খবর শুনে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন এবং ছেলের বড় কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না তা নিয়ে ভেবেছিলেন।
তবে অভিজিৎ তাকে ফোন করে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, তিনি এখন আর শুধু পরিবারের নন, দেশের সাধারণ মানুষের সম্পদে পরিণত হয়েছেন।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস