ছবি : সংগৃহীত
এক সময় আশঙ্কা করা হতো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলা সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরে এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। বাস্তাবে রূপ নেয় আশঙ্কা। শুরু হয় হামলা পাল্টা হামলা। এক্ষেত্রে এখন কোনো অংশে পিছিয়ে নেই ইরানও।
প্রথম দিকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে হামলার ক্ষেত্রে ইরান কিছুটা সংযত থাকলেও পরিস্থিতি এখন বদলে গেছে। তেহরানের দাবি, তারা মূলত অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সেনাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।
তবে এরই মধ্যে ইরানের হামলার পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, আমিরাতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আর চুপ থাকতে চাইছে না। কোনো কোনো দেশ সামরিক পদক্ষেপের কথাও বিবেচনা করছে। এরই মধ্যে সৌদি আরব ইরাক ও ইয়েমেনে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
একই সঙ্গে ইরানকে মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে ইরান ও ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতায় সৌদি আরবের জন্য হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের নৌপথ প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে এখন ইরান ও সৌদি আরব এক ধরনের মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধেও বাড়ছে উত্তেজনা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখনও চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় নিয়মিত পাল্টাপাল্টি হামলা হচ্ছে। ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানও জবাব দিচ্ছে।
এই সংঘাত এখন আরও বড় আকারে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। কারণ উপসাগরীয় দেশগুলো যেকোনো মূল্যে নিরাপদ বাণিজ্যপথ ফিরিয়ে আনতে চায়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরের নৌপথ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু ইরান এ বিষয়ে কোনোভাবেই রাজি হচ্ছে না। তেহরানের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় ইরানে হামলার জন্য যেসব দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা হবে, সেসব দেশকেও লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
এত দিন সৌদি আরব সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলতে চাইলেও পরিস্থিতির কারণে এখন দেশটিকে সামরিক পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। তাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব সামরিকভাবে কতটা শক্তিশালী? ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে গেলে দেশটি কি টিকে থাকতে পারবে? কিংবা ইরান-সমর্থিত হুথিদের মোকাবিলাই বা কতটা সম্ভব?
সামরিক শক্তিতে ইরান এগিয়ে
২০২৬ সালে প্রকাশিত গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ারের (জিএফপি) তথ্য অনুযায়ী, সামরিক শক্তিতে সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ইরান। বিশ্বের ১৪৫টি দেশের সামরিক শক্তির তালিকায় ইরানের অবস্থান ১৬তম। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ইসরায়েলের পরেই ইরানের অবস্থান।
অন্যদিকে সৌদি আরবের অবস্থান ২৫তম। অর্থাৎ জিএফপি-এর হিসাবে সামগ্রিক সামরিক সক্ষমতায় সৌদি আরবের চেয়ে ইরান এগিয়ে। তবে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চলার কারণে ইরানের সামরিক সক্ষমতা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সংঘাতে ইরানের সামরিক শক্তি ঠিক কতটা ক্ষয় হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
জিএফপি-এর পাওয়ারইনডেক্স অনুযায়ী, ইরানের স্কোর ০ দশমিক ৩১৯৯। সৌদি আরবের স্কোর ০ দশমিক ৪৪৭৩। এই সূচকে স্কোর যত শূন্যের কাছাকাছি, সামরিক শক্তির অবস্থান তত শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সামরিক জনবলে বড় ব্যবধান
ইরানের মোট জনসংখ্যা ৮ কোটি ৮৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯৩৭। দেশটিতে সামরিক বাহিনীতে কাজ করার মতো জনশক্তি রয়েছে প্রায় ৪ কোটি ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৫ জন। অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫৬ শতাংশ সামরিক দায়িত্ব পালনের উপযোগী।
অন্যদিকে সৌদি আরবের মোট জনসংখ্যা ৩ কোটি ৬৫ লাখ ৪৪ হাজার ৪৩১ জন। দেশটিতে সামরিক বাহিনীতে কাজ করার মতো জনশক্তি প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ৩ হাজার ১০৪ জন, যা মোট জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ।
সামরিক বয়সে পৌঁছানো মানুষের সংখ্যাতেও ইরান এগিয়ে। দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ১৪ লাখ ১৪ হাজার মানুষ সামরিক বয়সে পৌঁছান। সৌদি আরবে এই সংখ্যা প্রায় ৬ লাখ ২১ হাজার।
সক্রিয় সেনাসদস্যেও ইরান অনেক এগিয়ে
ইরানের মোট সামরিক সদস্য প্রায় ১১ লাখ ৮০ হাজার। এর মধ্যে সক্রিয় সামরিক সদস্য ৬ লাখ ১০ হাজার এবং রিজার্ভ সদস্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার।
অন্যদিকে সৌদি আরবের মোট সামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৯৭ হাজার। এর মধ্যে সক্রিয় সদস্য ২ লাখ ৪৭ হাজার। GFP-এর তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের কোনো রিজার্ভ সদস্য নেই। অর্থাৎ সক্রিয় সামরিক সদস্যের সংখ্যাতেও ইরান সৌদি আরবের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে।
স্থলবাহিনীতেও বড় ব্যবধান
ইরানের সেনাবাহিনীতে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সদস্য রয়েছে। দেশটির বিমানবাহিনীতে প্রায় ৩৭ হাজার এবং নৌবাহিনীতে প্রায় ২০ হাজার সদস্য রয়েছেন।
অন্যদিকে সৌদি আরবের সেনাবাহিনীতে প্রায় ৭৫ হাজার সদস্য রয়েছে। বিমানবাহিনীতে প্রায় ৩০ হাজার এবং নৌবাহিনীতে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ সদস্য রয়েছেন। অর্থাৎ স্থলবাহিনীর জনবলে ইরান সৌদি আরবের তুলনায় অনেক এগিয়ে।
আধাসামরিক বাহিনীতেও ইরান এগিয়ে
আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যসংখ্যাতেও ইরানের অবস্থান শক্তিশালী। ইরানে এই বাহিনীর সদস্য প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার। সৌদি আরবে আধাসামরিক সদস্যের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার। ফলে সামরিক ও আধাসামরিক জনবলের ক্ষেত্রেও ইরানের পরিমাণ সৌদি আরবের চেয়ে বেশি।
তিন দিক থেকে নিরাপত্তা হুমকি সৌদি আরবের
বর্তমানে সৌদি আরবকে একসঙ্গে তিনটি দিক থেকে নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একদিকে ইরান, অন্যদিকে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবং ইরাকের সশস্ত্র মিলিশিয়ারা।
সম্প্রতি হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরাক থেকে ড্রোন হামলা এবং ইরানের নতুন হুমকির পর সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে পূর্ব ইরাকে বিমান হামলা চালায়।
এ ছাড়া একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মার্চ মাসের শেষ দিকে সৌদি বিমানবাহিনী ইরানের ভেতরেও গোপন প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছিল। তবে এই হামলার বিষয়ে সৌদি আরব বা ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু নিশ্চিত করেনি।
বাণিজ্যপথ রক্ষায় সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট
বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচল নিরাপদ রাখতে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সৌদি আরব।
সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘মাল্টিন্যাশনাল মেরিটাইম ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ নামে এই জোট গঠন করা হয়েছে। এর লক্ষ্য সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
জোটভুক্ত দেশগুলো জানিয়েছে, বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে তারা একসঙ্গে কাজ করবে।
এই তিনটি জলপথ ভারত মহাসাগরকে ভূমধ্যসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর হিসেবে বিবেচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ার সময় এই জোট গঠনের ঘোষণা আসে। বিশ্বের তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ একসময় হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হতো। সেখানে নৌ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
ইরানের কঠোর হুঁশিয়ারি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জোট বা সহযোগিতা করা এবং দেশটিকে নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া আঞ্চলিক দেশগুলোকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।
দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলী আবদোল্লাহি বলেছেন, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে অবস্থান নেয় কিংবা ওয়াশিংটনের জন্য ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে তাকেও যুদ্ধের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
এক বক্তব্যে আবদোল্লাহি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আঞ্চলিক যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখন ‘ব্যাপক যুদ্ধংদেহী পথে’ আরও দ্রুত এগোচ্ছে।
ইরানি এই কমান্ডারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতির পেছনে রয়েছে পুরো অঞ্চলজুড়ে আধিপত্য বিস্তার এবং নিজেদের প্রভাব প্রতিষ্ঠার একটি ‘বিপজ্জনক কৌশল’।
মুসলিম দেশগুলোর সম্পদ ব্যবহার করছে যুক্তরাষ্ট্র
আবদোল্লাহি অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র দেখিয়েছে যে নিজেদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য মুসলিম দেশগুলোর স্বার্থ ও সম্পদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ নিতে তারা পিছপা হবে না।
তার দাবি, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর অর্থ, সম্পদ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও কৌশলগত সম্পদকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সামরিক বাহিনীর জন্য ‘প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছে।
একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সহযোগিতা পুনর্বিবেচনার আহ্বান
ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোর এখন বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড এবং চলমান যুদ্ধের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক দেশগুলোর ভূমিকা নতুন করে মূল্যায়নের সময় এসেছে বলে মনে করেন তিনি।
তিনি মুসলিম দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বা ঘনিষ্ঠতার বিষয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান।
আবদোল্লাহির ভাষায়, আঞ্চলিক দেশগুলোর উচিত ‘দূরদর্শিতার সঙ্গে’ কাজ করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
ইরানের দাবি, বদলে গেছে শক্তির ভারসাম্য
আবদোল্লাহি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাত প্রমাণ করেছে যে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য আর আগের মতো নেই।
তার মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে তারা মুসলিম দেশগুলোর ভূখণ্ডের ‘আড়াল’ থেকে যুদ্ধ ও আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা করছে এবং যুদ্ধের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য আঞ্চলিক সরকারগুলোর ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে।
তিনি বলেন, ইরান এখন স্পষ্টভাবে নিজের অবস্থান জানিয়ে দিচ্ছে আঞ্চলিক দেশগুলোকে বুঝতে হবে, তারা কার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে এবং সেই অবস্থানের সম্ভাব্য পরিণতি কী হতে পারে।
‘যুদ্ধের আগুনে পুড়তে হবে’
বক্তব্যের শেষ দিকে আঞ্চলিক দেশগুলোর জন্য সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা।
তিনি বলেন, কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘প্রতিরক্ষামূলক ঢাল’ হিসেবে নিজেকে ব্যবহার করতে দেয়, তাহলে সেই দেশও যুদ্ধের আগুন থেকে রেহাই পাবে না।
তার সতর্কবার্তা হলো-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমনভাবে অবস্থান নেওয়া যাবে না, যার ফলে কোনো দেশ নিজেই আঞ্চলিক সংঘাতের অংশ হয়ে পড়ে।
ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। ফলে তেহরানের এই কঠোর বার্তা আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে?
সামগ্রিক সামরিক শক্তিতে ইরান সৌদি আরবের চেয়ে এগিয়ে। ১৪৫টি দেশের মধ্যে ইরানের অবস্থান ১৬তম, যেখানে সৌদি আরবের অবস্থান ২৫তম। সামরিক জনবল, সক্রিয় সেনাসদস্য, রিজার্ভ বাহিনী, স্থলবাহিনী ও আধাসামরিক সদস্যের সংখ্যাতেও ইরানের বড় ব্যবধান রয়েছে।
তবে সামরিক শক্তি শুধু সেনাসদস্যের সংখ্যা দিয়ে নির্ধারিত হয় না। যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, অস্ত্রের মান, আকাশ প্রতিরক্ষা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা, গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি, সামরিক জোট এবং সরবরাহব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ।
তাই ইরান ও সৌদি আরব সরাসরি সংঘাতে জড়ালে শুধু র্যাংকিং দিয়ে ফলাফল নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। বরং দুই দেশের শক্তির ধরন ও তাদের মিত্রদের ভূমিকা যুদ্ধের গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব একদিকে ইরান ও তার মিত্রদের মোকাবিলা করছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সচল রাখতে সামরিক জোট গড়ে তুলছে। বিপরীতে ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে আঞ্চলিক চাপ মোকাবিলার চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতাকারী দেশগুলোকে সরাসরি সতর্ক করছে।
ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আট মাস ধরে চলা সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া এবং এ অঞ্চলে তেল সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের আশঙ্কায় মঙ্গলবার এশিয়ার লেনদেনের শুরুতে তেলের দাম বাড়ে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার গ্রিনিচ মান সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১০৫ দশমিক ২৫ ডলারে দাঁড়ায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪৭ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৯৩ ডলারে ওঠে।
এর আগে সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৮ দশমিক ৬৬ ডলার বা ৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ৭৭ ডলারে স্থির হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাতে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কয়েকজন কর্মকর্তা হামলাকে প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর সক্ষমতা যাতে ইরান না পায়, সে উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, হামলার খবর তেলের দামে ঝুঁকির প্রিমিয়াম আবার যুক্ত করেছে। বাজার যখন কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা বিবেচনা করতে শুরু করেছিল, তখন নতুন করে সামরিক তৎপরতার খবর পরিস্থিতির চিত্র বদলে দিয়েছে।
এদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছে তেহরান। কাতারের মধ্যস্থতায় কয়েক দিন ধরে দুই পক্ষের আলোচনা হলেও প্রস্তাব পরিবর্তন হয়েছে, তবে কোনো সমঝোতা হয়নি।
সোমবার ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা চালানোর হুমকি বাস্তবায়ন করবেন কিনা, সে বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানের সঙ্গে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এর ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। সংঘাতের আগে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো।
ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা ভোটারদের ওপর চাপ তৈরি করছে। সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের ওপরও চাপ বাড়ছে। আগামী মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আবার বাড়তে পারে- এমন আশঙ্কায় অক্টোবরের শেষ দিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
সূত্র: রয়টার্স
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হেনেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাত ১টার দিকে রাজ্যটির প্রকাশম জেলার ওঙ্গোলের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে ঝড়টির স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির স্থলভাগ অতিক্রমের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এর প্রভাবে দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে ঝোড়ো বাতাসের তীব্রতাও বাড়ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রাত ১টা ৩০ মিনিটে দেওয়া আবহাওয়া বুলেটিন অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়টি পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন দক্ষিণ অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের কাছে অবস্থান করছিল। তখন এটি ওঙ্গোল থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাভালি থেকে ৬০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এবং বাপাতলা থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে ছিল।
আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, নেলোর ও নরসাপুরের মধ্যবর্তী উপকূল দিয়ে ওঙ্গোলের কাছাকাছি এলাকায় ঘূর্ণিঝড়টি স্থলভাগ অতিক্রম করতে পারে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উপকূল ও আশপাশের এলাকায় ঘণ্টায় ১১০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ আরও জানিয়েছে, আগামী ১২ ঘণ্টায় দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
এ ছাড়া বুধবার সকাল পর্যন্ত স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় ১ থেকে ১ দশমিক ৫ মিটার বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কা রয়েছে। এতে দক্ষিণ উপকূলীয় অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে পারে। বিশেষ করে বাপাতলা, কৃষ্ণা ও প্রকাশম জেলায় জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি বেশি বলে সতর্ক করেছে আইএমডি।
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে কেশম দ্বীপের দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোন দুটি অকার্যকর করা হয়। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি ইরান।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, সোমবার (২ নভেম্বর) আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুটি এমকিউএম-১৭০ ড্রোনের বিরুদ্ধে অভিযান চালায়। এর ফলে ইরানি বাহিনীর হাতে এ ধরনের ড্রোন আটক হওয়ার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চারটিতে।
তাসনিম জানিয়েছে, এ অভিযানের ফলে ড্রোন দুটি তাদের নির্ধারিত মিশন সম্পন্ন করতে পারেনি। তবে অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগে গত সপ্তাহে ইরানের পক্ষ থেকে একই ধরনের দুটি ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। গত শুক্রবার রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ইরনা জানায়, কেশম দ্বীপের আকাশে ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে একটি এমকিউএম-১৭০ ড্রোন ভূপাতিত করেছে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্স।
এর আগের দিন আইআরজিসির নৌবাহিনী জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাঞ্চলে একই ধরনের আরেকটি ড্রোনের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। ড্রোনটি অক্ষত অবস্থায় অবতরণ করানো হয়।
তবে বৃহস্পতিবারের ঘটনা নিয়ে ইরানের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে মার্কিন সামরিক বাহিনী। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ চলার মধ্যেই সর্বশেষ এ প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো।
এদিকে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে। তিনি আরও নিশ্চিত করেন, কাতারের মধ্যস্থতায় এ যোগাযোগ সহজ করতে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায় ইরান। পরে পাকিস্তানের মধ্যস্ততায় এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।
এরপর হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটিতে হামের সংক্রমণ-সংশ্লিষ্ট প্রথম মৃত্যুর ঘটনা এটি।বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সোমবার (৩ নভেম্বর) শিশুটির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ ও লুইস কাউন্টি পাবলিক হেলথ এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারণে লুইস কাউন্টিতে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কারণে লুইস কাউন্টিতে এক শিশুর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শিশুটির পরিবার ও স্বজনদের প্রতি আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি। এই কঠিন সময়ে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ করছি।’শিশুটির বয়স, লিঙ্গ বা মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
নিউইয়র্ক ও পার্শ্ববর্তী কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে হামের প্রাদুর্ভাবের কারণে গভর্নর ক্যাথি হোকুল জরুরি অবস্থা ঘোষণার এক মাস পর এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত নিউইয়র্কে হামে আক্রান্ত হওয়ার ১৭৮টি ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে আক্রান্ত হয়েছেন আটজন।
জরুরি অবস্থার আদেশ অনুযায়ী, নিবন্ধিত নার্সরা হামে আক্রান্ত বলে সন্দেহ করা ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার নির্দেশ দিতে পারবেন।
গত বছর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ বাড়তে শুরু করার পর কোনো অঙ্গরাজ্যে প্রথমবারের মতো এ ধরনের জরুরি আদেশ জারি করা হয়েছে।
চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে হামে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অন্তত ৯৬ শতাংশ টিকা নেননি অথবা তাঁদের টিকা নেওয়ার তথ্য জানা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, হামের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে কাশি, নাক দিয়ে পানি ঝরা, ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত জ্বর এবং চোখ লাল হয়ে পানি পড়া।
লক্ষণ দেখা দেওয়ার দুই থেকে তিন দিন পর রোগীর মুখের ভেতরে, গালের অভ্যন্তরীণ অংশে ছোট ছোট সাদা দাগ দেখা দিতে পারে। এগুলোকে কপলিক স্পট বলা হয়।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৪ হাজার ৮০০টির বেশি হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশটির প্রায় সব অঙ্গরাজ্যেই সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। ১৯৯১ সালের পর এ বছরই যুক্তরাষ্ট্রে হামে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ।
সিডিসি সবাইকে এমএমআর (হাম, মাম্পস ও রুবেলা) টিকার দুই ডোজ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। প্রথম ডোজ ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ ৪ থেকে ৬ বছর বয়সের মধ্যে নেওয়া উচিত।
সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, এমএমআর টিকার এক ডোজ হাম প্রতিরোধে ৯৩ শতাংশ এবং দুই ডোজ ৯৭ শতাংশ কার্যকর।
এ ছাড়া উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রাদুর্ভাবের এলাকায় বসবাসকারী বা সেখানে ভ্রমণকারী ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুরা আগাম তৃতীয় ডোজ এমএমআর টিকা নিতে পারবে।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রভাবশালী এই সংবাদমাধ্যমটির এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপ ও বন্দর লেঙ্গেহতে দফায় দফায় বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো।
বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মূলত এমন এক সময়ে এই হামলার খবর এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনাকে অনেকটা খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ নভেম্বর) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আমাদের যুদ্ধ হয়েছিল। আমরা জিতেছি’। তিনি আরও বলেন, ‘এটাকে আদৌ যুদ্ধ বলা যায় কি না, তা আমি জানি না। কারণ, কয়েক মাস ধরে আমরা কোনো লড়াই করছি না।’
তবে দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ছোট পরিসরে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা এসব অভিযানকে প্রতিরক্ষামূলক বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্য, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি তৈরি বা জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জন থেকে ইরানকে বিরত রাখতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
এদিকে পৃথক প্রতিবেদনে আনাদোলু জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থিত কেশম দ্বীপ ও হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। অন্যদিকে আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স জানিয়েছে, হরমোজগান প্রদেশের বন্দর লেঙ্গেহতে সমুদ্রের দিক থেকে বিস্ফোরণের শব্দ ভেসে আসে।
বিস্ফোরণের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি সংবাদমাধ্যম দুটি। মূলত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই বিস্ফোরণের খবর এলো।
সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই দেশ বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রেখেছে। তিনি নিশ্চিত করেন, কাতারের মধ্যস্থতায় এ যোগাযোগ সহজ করতে উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি দোহা সফর করেছেন।
এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এর জবাবে ইসরায়েল এবং পুরো অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। পরে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়।
হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারক সই করে। তবে প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে মতবিরোধের কারণে এর বাস্তবায়ন থমকে যায়।
বাড়িতে কয়েক দিনের খাবার, পানি, ওষুধ, টর্চলাইট ও রেডিও রাখার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার। ছবি: পেক্সেলস
বাড়িতে কয়েক দিনের খাবার, পানি, ওষুধ, টর্চলাইট ও রেডিও রাখার পরামর্শ দিচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার। যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স নাগরিকদের তিন দিনের প্রস্তুতি নিতে বলছে। সুইডেন ও নরওয়েতে এক সপ্তাহ এবং জার্মানিতে ১০ দিনের প্রস্তুতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এসব নির্দেশনা ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা।
যুক্তরাজ্যে সরকারের আহ্বানের পর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে টিনজাত খাবার, রেডিও, টর্চলাইট ও পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রিও বেড়েছে। কেন এত দেশ নাগরিকদের জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলছে? এর পেছনে কি আসন্ন কোনো যুদ্ধ বা বড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা আছে?
বিভিন্ন দেশের সরকারি নির্দেশনা এবং বিবিসি, নিউজউইক, স্কাই নিউজ ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তুতির পেছনে আছে একাধিক ঝুঁকি।
এর মধ্যে আছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চরম আবহাওয়া, সাইবার হামলা এবং বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। ইউরোপের কিছু দেশের প্রস্তুতিতে যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাও বিবেচনায় আছে।
তবে এসব নির্দেশনা থেকে নির্দিষ্ট কোনো যুদ্ধ বা বিপর্যয় আসন্ন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি নেই।
যুক্তরাজ্যে কী হচ্ছে
গত ২২ অক্টোবর যুক্তরাজ্য সরকার ‘বি রেডি’ নামের একটি প্রচারাভিযান শুরু করে। এর উদ্দেশ্য, জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকেরা যেন অন্তত ৭২ ঘণ্টা বা তিন দিন নিজেদের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে পারে।
ব্রিটিশ সরকারের নির্দেশনায় একজনের জন্য প্রতিদিন তিন লিটার খাবার পানি, সহজে নষ্ট হয় না এমন খাবার, প্রয়োজনীয় ওষুধ, টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারি, পাওয়ার ব্যাংক ও ব্যাটারিচালিত বা হাতল ঘুরিয়ে চালানো যায় এমন রেডিও রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকার বলছে, ঝড়, বন্যা, বিদ্যুৎবিভ্রাট কিংবা সাইবার হামলার কারণে জরুরি পরিষেবা সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারগুলো কিছুদিন নিজেরা চলতে পারলে উদ্ধার ও সহায়তাকারী সংস্থাগুলো বেশি বিপদে থাকা মানুষদের আগে সাহায্য করতে পারবে।
টিনজাত খাবার ও রেডিওর বিক্রি বেড়েছে
সরকারের এই আহ্বানের পর যুক্তরাজ্যের কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে জরুরি সামগ্রীর বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিবিসির ‘নিউজ নাইট’ অনুষ্ঠানের সংগ্রহ করা তথ্য অনুযায়ী, সুপারমার্কেট চেইন আইসল্যান্ডে এক সপ্তাহান্তে টিনজাত খাবারের বিক্রি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বোতলজাত পানির বিক্রিও বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাজ্যের গৃহস্থালির ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান রবার্ট ডায়াস জানিয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় তাদের রেডিও বিক্রি বেড়েছে ১৬০ শতাংশ।
যুক্তরাজ্যের ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ম্যাপলিনের হিসাবে, সরকারি ঘোষণার পর রেডিওর বিক্রি ৯২ শতাংশ, টর্চলাইটের বিক্রি ২৮৪ শতাংশ এবং পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রি ১০৬ শতাংশ বেড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগের মাসের একই সময়ের সঙ্গে এই পরিসংখ্যানের তুলনা করেছে।
জরুরি পরিস্থিতির সরঞ্জাম বিক্রি করে এমন কয়েকটি ছোট প্রতিষ্ঠানও চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে।
তবে এসব পরিসংখ্যান নির্দিষ্ট কয়েকটি বিক্রেতার। এ থেকে গোটা যুক্তরাজ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে বা খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
সুপারমার্কেট চেইন আইসল্যান্ড জানিয়েছে, তাদের টিনজাত খাবারসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক আছে।
অন্য দেশগুলো কী বলছে
২৮ অক্টোবর প্রকাশিত নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বিভিন্ন দেশের জরুরি প্রস্তুতিবিষয়ক নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো কানাডা, জাপান, মেক্সিকো ও নেদারল্যান্ডসেও তিন দিনের জরুরি সামগ্রী রাখার পরামর্শ আছে। সুইডেন ও নরওয়ে প্রায় এক সপ্তাহ এবং জার্মানি দিয়েছে ১০ দিনের প্রস্তুতির পরামর্শ।
ভারতে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জরুরি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখতে বললেও সবার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ওয়েবসাইট ‘রেডি ডট গভ’-এও কয়েক দিন চলার মতো খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার নির্দেশনা আছে।
তবে সব দেশের নির্দেশনার কারণ এক নয়। জাপানের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ। অস্ট্রেলিয়ার কিছু অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড় এবং দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে স্থানীয় জরুরি পরিস্থিতির জন্য আলাদা নির্দেশনা আছে।
এ ছাড়া এসব নির্দেশনার সবই নতুন নয়। অনেক দেশে দীর্ঘদিন ধরে দুর্যোগ প্রস্তুতির কর্মসূচি চালু আছে।
ইউরোপে কেন বাড়তি গুরুত্ব
ইউরোপীয় কমিশন ২০২৫ সালের মার্চে ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ইউনিয়ন স্ট্র্যাটেজি’ ঘোষণা করে। এতে সদস্যদেশগুলোর নাগরিকদের অন্তত ৭২ ঘণ্টা নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ইউরোপীয় কমিশন বলেছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, সংঘাত, সাইবার নিরাপত্তার ঝুঁকি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা মোকাবিলায় সামগ্রিক প্রস্তুতি প্রয়োজন।
সুইডেনের সরকারি নির্দেশিকায় সংকটের পাশাপাশি যুদ্ধের পরিস্থিতির কথাও আছে। দেশটির নাগরিকদের এক সপ্তাহ চলার মতো খাবার, পানি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
তবে সুইডেনে যুদ্ধকালীন নাগরিক প্রস্তুতির নির্দেশনা নতুন নয়। দেশটির এমন নির্দেশিকা প্রকাশের দীর্ঘ ইতিহাস আছে। সাম্প্রতিক সংস্করণে পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে ৯০ দিনের প্রস্তুতি
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক স্থাপনাগুলোর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে আলাদা উদ্যোগ নিয়েছে।
২ নভেম্বর দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ‘ফোর্ট্রেস আমেরিকা’ উদ্যোগের লক্ষ্য হলো, বাইরে থেকে সহায়তা না পেলেও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটিগুলো যেন অন্তত ৯০ দিন কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারে।
এ জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানির স্বনির্ভরতা, সরবরাহব্যবস্থা, জরুরি মজুত এবং সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পরিকল্পনা আছে।
তবে এই ৯০ দিনের প্রস্তুতি সাধারণ নাগরিকদের জন্য দেওয়া কোনো নির্দেশনা নয়। এটি সামরিক স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম সচল রাখার পরিকল্পনা।
তাহলে কি বড় কোনো বিপর্যয় আসছে
বিভিন্ন দেশের প্রস্তুতির উদ্যোগকে একই ধরনের আসন্ন হুমকির সতর্কবার্তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
আধুনিক জীবনে বিদ্যুৎ, পানি, ইন্টারনেট, ব্যাংকিং ও যোগাযোগব্যবস্থা পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে বড় ধরনের দুর্যোগ বা সাইবার হামলায় একটি পরিষেবা বন্ধ হলে অন্য পরিষেবাও ব্যাহত হতে পারে। সরকারি নির্দেশনাগুলোর মূল উদ্দেশ্য এমন পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ কমানো।
ব্রিটিশ সরকারও স্পষ্ট করেছে, জরুরি প্রস্তুতি মানে একবারে বিপুল পরিমাণ খাবার বা পানি কিনে রাখা নয়। ঘরে আগে থেকেই থাকা সামগ্রী দেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ধীরে ধীরে কিছু জিনিস যোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের নির্দেশনায় প্রতিবেশীদের খোঁজ রাখা, জরুরি যোগাযোগের নম্বর লিখে রাখা এবং যাঁদের বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন, তাঁদের কথা বিবেচনা করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ বিভিন্ন দেশের এই উদ্যোগের মূল বার্তা হলো সম্ভাব্য সংকটের জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকা। এসব আসন্ন যুদ্ধ বা খাদ্যসংকটের নিশ্চিত পূর্বাভাস নয়।
সূত্র: বিবিসি, নিউজউইক, স্কাই নিউজ, দ্য গার্ডিয়ান, ইউরোপীয় কমিশন, সুইডিশ সিভিল ডিফেন্স অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স এজেন্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের রেডি ডট গভ।