মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ডেনমার্কের স্বায়ত্ত্বশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র গোল্ডেন ডোম আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপন করতে চাইলেও কানাডা এর বিরোধীতা করছে বলে অভিযোগ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি দাবি করেছেন, কানাডা যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার বদলে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গভীর করছে। কিন্তু এ বন্ধুদের আড়ালে চীন তাদের গিলে খাবে।
স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লিখেছেন, “গ্রিনল্যান্ডে গোল্ডেন স্থাপনের বিরুদ্ধে কানাডা। যদিও এ গোল্ডেন ডোম কানাডাকেও সুরক্ষা দেবে। আমাদের এক্ষেত্রে সহায়তা না করে তারা চীনের সঙ্গে ব্যবসা করার পক্ষে ভোট দিয়েছে। যারা কানাডাকে এক বছরের মধ্যে গিলে খাবে।”
দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পরই কানাডার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি প্রায়ই দেশটির নেতৃবৃন্দের সমালোচনা করেন।
চীনের সঙ্গে কয়েকদিন আগে বাণিজ্য চুক্তি করে কানাডা। এতে দুই দেশের কিছু পণ্য আমদানি-রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক একেবারেই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে বেইজিং সফরে গিয়ে চুক্তি করেন। এরপরই ট্রাম্প মন্তব্য করলেন কানাডাকে চীন ব্যবসার আড়ালে গিলে খাবে।
কানাডা সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। এরপরই রয়েছে চীন। যদিও মাঝে সম্পর্ক খারাপ ছিল। কিন্তু দুই দেশ আবারও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুনর্স্থাপনের চেষ্টা করছে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে যা বলেছিলেন ট্রাম্প
গত সপ্তাহে বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, আর্কটিক অঞ্চলের গ্রিনল্যান্ডে যদি তারা গোল্ডেন ডোম স্থাপন করেন তাহলে স্বাভাবিকভাবে কানাডা এর সুবিধা ভোগ করবে এবং সুরক্ষিত থাকবে। তিনি ওই সময় দাবি করেন, কানাডা বিনামূল্যে যুক্তরাষ্ট্রের সুবিধা পায় এবং তাদের জন্যই কানাডা টিকে আছে।
তিনি বলেন, “আমরা গোল্ডেন ডোম স্থাপন করব, যেটি স্বাভাবিকভাবে কানাডাকে রক্ষা করবে। কানাডা আমাদের কাছ থেকে অনেক কিছু বিনামূল্যে পায়। তাদের আমাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা উচিত।”
“কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে বেঁচে আছে।” দেশটির প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, “পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে কিছু বলার আগে এটি মনে রাখবেন মার্ক।”
কিন্তু ট্রাম্পের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বেঁচে নেই। কানাডা সফলতা পাচ্ছে কারণ আমরা কানাডিয়ান।”
মহাকাশশিল্পের উন্নয়ন ইরান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার
চলতি ইরানি বছর শেষ হওয়ার আগেই (২১ মার্চ ২০২৭) শহিদ সোলেইমানি স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডলের তিনটি স্যাটেলাইট একসঙ্গে কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে ইরান। গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দেশটির যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মহাকাশশিল্পের উন্নয়ন ইরান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। রাশিয়ার সহযোগিতায় একই সঙ্গে তিনটি ইরানি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকে এই খাতে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
হাশেমি জানান, পায়া, জাফর ও কাওসার নামের এই তিনটি স্যাটেলাইট তৈরি করা হয়েছে সরকারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে।
ইরানের মহাকাশ অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ কয়েকটি প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধে দেশটির কিছু মহাকাশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, চাবাহার স্পেস সেন্টারের প্রথম ধাপের নির্মাণকাজ প্রায় ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর আগে কাজের অগ্রগতি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। এই কেন্দ্রটি যোগাযোগ ও রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
এ ছাড়া নাহিদ-২ স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে ইরান। হাশেমি বলেন, এই স্যাটেলাইটটি প্রথমবারের মতো কু-ব্যান্ড প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এর উন্নয়নকাজে একজন নারী নির্বাহী গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। টেলিযোগাযোগের কাজে নাহিদ-২ ব্যবহার করা হবে।
হাশেমি জানান, শহিদ সোলেইমানি স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডলে মোট ২৪টি স্যাটেলাইট থাকবে। এর মধ্যে ১৮টি মূল স্যাটেলাইট এবং ছয়টি রিজার্ভ হিসেবে রাখা হবে। চলতি ইরানি বছরের মধ্যে তিনটি স্যাটেলাইট একসঙ্গে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি স্যাটেলাইটগুলো পরবর্তী বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে কক্ষপথে পাঠানো হবে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলি বসতিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। এর জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর নতুন করে কূটনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি বসতি সম্প্রসারণে সেবা দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে লন্ডন।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতিস্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার বিষয়ে ইসরায়েল সরকার চোখ বন্ধ করে আছে। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপ যুক্তরাজ্যের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতিতে একটি নতুন পদ্ধতির সূচনা।
লন্ডনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে ইসরায়েলও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
বিবিসি বলছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে যুক্তরাজ্য নতুন নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের কোম্পানিগুলো যাতে নতুন বসতি নির্মাণে অর্থায়ন, নির্মাণকাজ বা বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত না হয়, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইসরায়েলি বসতি নিয়ে দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে পশ্চিম তীরের ‘ই-১’ এলাকা। এই এলাকায় ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞার পর ইসরায়েলের পাল্টা পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি করেছে। বিবিসি বলছে, এই পরিস্থিতি কয়েক দশকের মধ্যে ব্রিটিশ-ইসরায়েলি সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস (ফাইল ফটো)
নিউইয়র্কে আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর জাতিসংঘের বার্ষিক এই অধিবেশনে সরাসরি অংশ নিতে পারছেন না তিনি। একই সময়ে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
আল জাজিরা বলছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে মাহমুদ আব্বাসকে মার্কিন ভিসা না দেয়ার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর আব্বাসকে জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে সরাসরি অংশ নিতে বাধা দেয়া হলো। গত বছর সদস্য দেশগুলো ভিডিওর মাধ্যমে তার অংশগ্রহণের অনুমোদন দেয়ার পর ভার্চুয়ালি অধিবেশনে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি।
ভিসা না দেয়ার সিদ্ধান্তের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তা এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানো হবে। তাদের বিরুদ্ধে সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতা এবং শান্তির সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর কয়েক দিন আগে এ ঘোষণা দেয়া হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তারা কংগ্রেসকে জানিয়েছে যে পিএলও ও পিএ আবারও যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এর কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় তাদের কিছু কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও রয়েছে।
আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরিবর্তে একতরফাভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পিএলও ও পিএ এখনো ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা দেয়া এবং সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করা’ অব্যাহত রেখেছে বলেও অভিযোগ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
নিউইয়র্কে আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে সামনে রেখে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গত বছরও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে পিএলও ও পিএ কর্মকর্তাদের ভিসা দেয়া হয়নি বা আগের ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।
তবে জাতিসংঘের সদর দপ্তর-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মিশন কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পেয়েছিল। ফলে গত বছরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি ভার্চুয়ালি অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সংক্রান্ত ঘোষণার বিষয়ে ফিলিস্তিনি পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এর আগে বার্তাসংস্থা আনাদোলু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে জানতে চেয়েছিল যে মাহমুদ আব্বাস ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের ভিসার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি না এবং ভিসা না দেয়া বা নিষেধাজ্ঞার আইনি ভিত্তি কী। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমুখপাত্র পালোমা চাকন ই-মেইলে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, ‘প্রতিটি ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তই জাতীয় নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত’—জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি সুন্দর, শান্ত ও স্থলবেষ্টিত দেশ লাওস, যার অর্থ চারপাশে স্থলভূমি
বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা ও শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওস। ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই স্থগিতাদেশ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর দেশটির ইংরেজি ভাষার সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট দ্য লাওশিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এ–সংক্রান্ত নির্দেশনাটি ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা হয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, অবৈধ প্রবেশ, মানব পাচার, অননুমোদিত শ্রমিক সরবরাহকারী এবং বিদেশ থেকে শ্রমিক আনার পর দায়দায়িত্ব এড়ানো নিয়োগকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেই কেন এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো, নির্দেশনায় তার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সূত্র বলছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে লাওস যেতে ছাড়পত্র নিয়েছে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মী। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে সবচেয়ে বেশি কর্মী পাঠানো দেশগুলোর তালিকায় এ বছরে লাওসের অবস্থান ১৩তম। লাওস যেতে গত বছর ৩ হাজার ৮৩৫ বাংলাদেশি কর্মী ছাড়পত্র নিয়েছিলেন। এই হিসাবে লাওসের অবস্থান ছিল ১৬তম।
লাওসে বাংলাদেশিদের নিয়ে অপরাধে যুক্ত করাসহ নির্যাতনের অভিযোগ আছে।
দ্য লাওশিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তিতে কাজের সময়সূচি নির্ধারিত থাকা লাওস সরকার অনুমোদিত বড় অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে।
লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগকর্তা বা শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশ বা কাজে নিয়োগের অনুমতি দিতে পারবে না। বাংলাদেশিদের জন্য শ্রম ভিসার (এলএ–বি২) অনুমোদনও ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়ম ভাঙলে জরিমানা, বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অনুমোদন ছাড়া শ্রমিক আনলে বা নিয়োগ দিলে নিয়োগকর্তাকে প্রতি ঘটনায় শ্রমিকপ্রতি ২৫ লাখ লাও কিপ (১১০ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হবে। অন্য শ্রমিক ইউনিটে দেওয়ার জন্য শ্রমিক আনলেও একই জরিমানা দিতে হবে।
অন্য শ্রমিক ইউনিটের জন্য নির্ধারিত কোনো শ্রমিককে কাজে ব্যবহার বা গ্রহণ করলে নিয়োগকর্তাকে প্রতি ঘটনায় শ্রমিকপ্রতি ২০ লাখ লাও কিপ (৮৯ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হবে।
অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত কর্মস্থলের বাইরে গিয়ে কাজ করলে শ্রমিককে প্রতি ঘটনায় ১০ লাখ লাও কিপ (৪৪ মার্কিন ডলার) জরিমানা দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁকে ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। দেশে ফেরত পাঠানোসহ যাতায়াতের সব খরচ নিয়োগকর্তা বা নিয়ম ভঙ্গকারী পক্ষকে বহন করতে হবে।
একই ধরনের অপরাধ আবার করলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ হবে। এ ছাড়া আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
লাওসে বর্তমানে কতজন বাংলাদেশি কাজ করছেন, নির্দেশনায় তা উল্লেখ করা হয়নি। এই স্থগিতাদেশের কারণে দেশটির কোন কোন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা–ও জানানো হয়নি। বাংলাদেশ থেকে লাওসে যাওয়া শ্রমিকেরা প্রধানত নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে কাজ করে আসছেন।
লাইব্রেরিতে সিঙ্গাপুরের এক শিক্ষার্থী
মানুষকে বই পড়ায় উৎসাহিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সিঙ্গাপুর। দেশটির নতুন পাঁচ বছর মেয়াদি জাতীয় কর্মসূচির আওতায় নাগরিকদের প্রতিদিন অন্তত ১৫ মিনিট বই পড়তে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। শুধু উৎসাহই নয়, নিয়মিত পড়ার জন্য দেওয়া হচ্ছে ভার্চুয়াল পুরস্কারও। এর লক্ষ্য মানুষের পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ‘ব্রেন রট’ বা অতিরিক্ত স্বল্পদৈর্ঘ্যের ডিজিটাল কনটেন্টে মনোযোগ ক্ষয়ের প্রবণতা মোকাবিলা করা। বুধবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দি ইনডিপেনডেন্ট জানায়, সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ড (এনএলবি) চলতি মাসের শুরুতে ‘ReadSG’ নামের ওই কর্মসূচি চালু করেছে।
এতে অংশ নিতে আগ্রহীরা ওয়েবসাইট অথবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিদিনের পড়ার সময় নথিভুক্ত করতে পারবেন। অন্তত ১৫ মিনিট পড়লে পাওয়া যাবে ২০টি ভার্চুয়াল কয়েন। এক হাজার ভার্চুয়াল কয়েনের মূল্য এক সিঙ্গাপুরি ডলার।
কর্মসূচির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট পড়াই একটি অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট। সিঙ্গাপুরের ব্যস্ত নগরজীবনের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, মেট্রোরেলে তিনটি স্টেশনের মধ্যবর্তী যাত্রা, বাসের জন্য অপেক্ষা কিংবা সকালের কফি খাওয়ার সময়টুকুই হতে পারে পড়ার জন্য যথেষ্ট।
ন্যাশনাল লাইব্রেরি বোর্ডের প্রধান মেলিসা ট্যাম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পড়ার অভ্যাস মানুষের মনোযোগ, সমালোচনামূলক চিন্তা ও কল্পনাশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাঁর ভাষায়, স্বল্পদৈর্ঘ্যের কনটেন্ট মানুষকে দ্রুত তথ্য জানতে সাহায্য করলেও বইয়ের দীর্ঘ পাঠ মনোযোগ ধরে রাখা ও গভীরভাবে চিন্তা করার সক্ষমতা বাড়ায়। তাঁরা এমন একটি পাঠকসমাজ গড়ে তুলতে চান, যারা কৌতূহলী, চিন্তাশীল, বিচক্ষণ এবং ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা বিশ্বকে বুঝতে সক্ষম।
কর্মসূচিতে পাঠাভ্যাসের ধরন বোঝাতে খাবারের নাম ব্যবহার করে কয়েকটি ‘ফ্লেভার’ও রাখা হয়েছে। যেমন ‘কুয়ে লাপিস’—স্তরযুক্ত ও গভীর মনোযোগী পাঠক; ‘কুলফি’—উচ্চাকাঙ্ক্ষী ও কিছুটা বিশৃঙ্খল; আর ‘আং কু কুয়ে’—কল্পনাপ্রবণ ও স্মৃতিকাতর পাঠক।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব এডুকেশনের গবেষক লোহ চিন ই বলেন, পড়ার বিষয়টিকে গেমের মতো করে তোলা ও ধীরে ধীরে অভ্যাসে পরিণত করাই উদ্যোগটির মূল লক্ষ্য। তাঁর মতে, পর্দায় লেখা পড়ার প্রবণতা থাকলেও গভীরভাবে পড়া ও দীর্ঘ সময় ধরে পাঠে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস অনেকের মধ্যেই কমে যাচ্ছে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ১০ তরুণ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের উদ্যোক্তারা দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের ধনী ব্যক্তিদের কাতারে উঠে আসছেন। বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিপ্লব এই তালিকার চিত্র বদলে দিচ্ছে। এআইয়ের জোয়ারে ভর করে এই তরুণ ধনীরা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অভিজাত ধনীদের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছেন। গত বছর ৪০ বছরের কম বয়সী মাত্র ৪ জন বিলিয়নিয়ার ফোর্বস ৪০০-এ স্থান পেয়েছিলেন। অর্থাৎ এই তালিকায় স্থান পেতে যে পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হয়, সেই পরিমাণ সম্পদ ছিল মাত্র চারজনের। এ বছর সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০। ফোর্বস ৪০০-এ স্থান পেতে এবার সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪০ কোটি ডলার। এ বছর সাতজন নতুন করে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। নতুন সাতজনই এআই খাতের উদ্যোক্তা হিসেবে উঠে এসেছেন।
ফোর্বস এ বছর সমীক্ষায় ৪০০-এর সবচেয়ে কম বয়সী ১০ সদস্যের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৬৯০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালে যা ছিল ৩ হাজার ৫৭০ কোটি ডলার। এই পতনের প্রধান কারণ, কয়েকজন অতিধনী ব্যক্তি বয়সের কারণে এ বছর সবচেয়ে কম বয়সীদের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন মেটার ৪২ বছর বয়সী সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ, যাঁর সম্পদের পরিমাণ ২১ হাজার ২০০ কোটি ডলার; ৪১ বছর বয়সী ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারী জশ কুশনার, যাঁর সম্পদ ১ হাজার ৬৭ কোটি ডলার এবং ৪৩ বছর বয়সী এয়ারবিএনবির সহপ্রতিষ্ঠাতা নাথান ব্লেচারজিক, যাঁর সম্পদ ১ হাজার ১৯ কোটি ডলার।
দেখে নেওয়া যাক, শীর্ষ ১০ তরুণ ধনীর তালিকায় কারা আছেন—
১. গ্রেগ ব্রকম্যান (৩৭)
স্নাতক শেষ না করেই হার্ভার্ড ও এমআইটি ছেড়েছিলেন গ্রেগ ব্রকম্যান। ২৫ বছর বয়সে অর্থ লেনদেনের প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইপের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ২৮ বছর বয়সে ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেন ব্রকম্যান। ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এআই মডেলগুলোর পশ্চাৎ অবকাঠামো দেখভাল করেন তিনি। জুলাই থেকে পণ্য ব্যবসার দায়িত্বও তাঁর হাতে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগে তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর কর্মকর্তা।
২. এডউইন চেন (৩৮)
ফ্লোরিডার ৩ হাজার ৪০০ মানুষের ছোট এক শহরে বেড়ে ওঠেন এডউইন চেন। তাঁর তাইওয়ানিজ অভিবাসী মা–বাবা সেখানে এক চীনা-থাই রেস্তোরাঁ চালাতেন। পরবর্তী সময় এমআইটিতে গণিত, ভাষাবিজ্ঞান ও কম্পিউটারবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন চেন। গুগল, ফেসবুক ও টুইটারে কাজ করেছেন তিনি। ২০২০ সালে সার্জ এআই প্রতিষ্ঠা করেন চেন। প্রতিষ্ঠানটি এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য তথ্যের লেবেল তৈরি করে। পাশাপাশি এআইয়ের তৈরি উত্তর মূল্যায়ন ও সংশোধন করে তারা। চেনের হাতে কোম্পানিটির প্রায় ৭৫ শতাংশ মালিকানা আছে বলে ধারণা করা হয়।
৩. টম ব্রাউন (৩৯)
কম্পিউটারবিজ্ঞান ও কগনিটিভ সায়েন্স নিয়ে এমআইটিতে পড়াশোনা করেন টম ব্রাউন। ওপেনএআইয়ের প্রথম ২০ কর্মীর একজন ছিলেন তিনি। ২০২০ সালে প্রকাশিত জিপিটি-৩ নিয়ে গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ছিলেন টম ব্রাউন। ওই ভাষা মডেল থেকেই প্রথম বোঝা যায়, এ ধরনের এআই কতটা সাবলীলভাবে লিখতে পারে। এরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের জোয়ার শুরু হয়, যে জোয়ার এখনো চলছে। অ্যানথ্রোপিক থেকেই তাঁরা আরেক এআই মডেল ক্লড তৈরি করেন।
৪. ড্যানিয়েলা অ্যামোডেই (৩৯)
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা ক্রুজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে অর্থ লেনদেনের প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইপে কাজ শুরু করেন ড্যানিয়েলা অ্যামোডেই। পরে ওপেনএআইয়ে যোগ দেন; দায়িত্বে ছিলেন নিরাপত্তা ও নীতি বিভাগের। ২০২১ সালে ভাই দারিও অ্যামোডেই ও পাঁচ সহকর্মীর সঙ্গে ওপেনএআই ছাড়েন তিনি। তাঁরা অ্যানথ্রোপিক প্রতিষ্ঠা করেন। ড্যানিয়েলা অ্যানথ্রোপিকের প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন। গবেষণা, প্রকৌশল, পণ্য উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের দায়িত্ব তিনি দেখভাল করেন।
৫. জ্যাক ক্লার্ক (৩৭)
ওপেনএআইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ব্লুমবার্গের সাংবাদিক হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করেছেন জ্যাক ক্লার্ক। পরবর্তী সময়ে ওপেনএআইয়ের নীতিবিষয়ক পরিচালক হন তিনি। ২০২১ সালে অ্যানথ্রোপিকের প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে ওপেনএআই ছাড়ার পর থেকে এআই খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রবক্তা হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে অ্যানথ্রোপিকের গবেষণাকেন্দ্র পরিচালনা করছেন তিনি। এই গবেষণাকেন্দ্র এআই প্রযুক্তির সামাজিক প্রভাব নিয়ে কাজ করে।
৬. স্যাম ম্যাকক্যান্ডলিশ (৩৬)
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন স্যাম ম্যাকক্যান্ডলিশ। পরবর্তী সময়ে ওপেনএআইয়ে যোগ দিয়ে এআইয়ের ‘স্কেলিং ল’ নিয়ে কাজ করেন। এই গবেষণায় দেখা যায়, এআই ব্যবস্থার কম্পিউটিং শক্তি বৃদ্ধি এবং বেশি তথ্য দেওয়া হলে তার সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অ্যানথ্রোপিকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত অক্টোবর থেকে তিনি প্রধান পরিকল্পনাকারী। কোম্পানির এআই মডেল কীভাবে তৈরি ও প্রশিক্ষিত হবে, সেটা দেখভাল করেন তিনি।
৭. ভ্লাদ টেনেভ (৩৯)
বুলগেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ভ্লাদ টেনেভের মা–বাবা দুজনই বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ফোর্বস ৪০০-এর আরেক সদস্য বাইজু ভাটের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ভাটের বয়স ৪১ বছর। ২০১৩ সালে তাঁরা রবিনহুড চালু করেন। অ্যাপটি শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে কমিশন তুলে দেয়। পরবর্তী সময়ে অন্য ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোও কমিশন কমাতে বা তুলে দিতে বাধ্য হয়। ২০২১ সালে রবিনহুড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬ শতাংশ শেয়ার টেনেভের মালিকানায় রয়েছে। টেনেভ ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ হারমোনিকেরও চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটি গাণিতিক যুক্তি প্রয়োগে সক্ষম এআই নিয়ে কাজ করছে।
৮. পামার লাকি (৩৩)
কিশোর বয়সেই ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট তৈরি করেন পামার লাকি। তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠান ছিল অকুলাস। ২১ বছর বয়সে ২০০ কোটি ডলারের নগদ ও শেয়ারের বিনিময়ে ফেসবুকের কাছে অকুলাস বিক্রি করেন তিনি। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করে সমালোচিত হন। এরপর তিনি মেটা ছেড়ে চলে যান। সেবারই অ্যান্ডুরিল প্রতিষ্ঠা করেন লাকি। প্রতিষ্ঠানটি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন, সেন্সর ও তা পরিচালনার জন্য এআইভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরি করে। মার্চে মার্কিন সেনাবাহিনী সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য অ্যান্ডুরিলের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি করে।
৯. স্টিভেন হাও (৩০)
কগনিশনের দুই সহপ্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে স্টিভেন হাও আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিকস অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক পেয়েছেন। এরপর তিনি তথ্য লেবেলিং–বিষয়ক স্টার্টআপ স্কেল এআইয়ে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ২৯ বছর বয়সী বিলিয়নিয়ার অ্যালেক্স ওয়াং। ২০২৫ সাল থেকে স্কেল এআইয়ের ৪৯ শতাংশ মালিকানা মেটার হাতে। ২০২৩ সালে স্কেল এআই ছেড়ে কগনিশন প্রতিষ্ঠা করেন হাও। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পণ্য ডেভিন একধরনের এআই এজেন্ট, যার কাজ হলো কোড লেখা ও সংস্কার করা। সেপ্টেম্বরে কগনিশন ২০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করে। ফলে প্রতিষ্ঠানের তিন সহপ্রতিষ্ঠাতাই বিলিয়নিয়ার হন।
১০. লুকাস ওয়ালটন (৩৯)
ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের (মৃত্যু ১৯৯২) নাতি লুকাস ওয়ালটন। বাবার রেখে যাওয়া সম্পদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন তিনি। এর বড় অংশই ওয়ালমার্টের শেয়ার। শিকাগোভিত্তিক বিনিয়োগ ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠান বিল্ডার্স ভিশন পরিচালনা করেন ওয়ালটন। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, টেকসই খাদ্য ও সমুদ্র সংরক্ষণ খাতে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ব্যবস্থাপনা করে। জুনে এনবিএর শিকাগো বুলসের কিছু শেয়ার কিনেছেন তিনি।