সি চিন পিং

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, সময় : ৯:১৪ এএম

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে বেশ টানাপোড়েন চলছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত সপ্তাহান্তে চীনের শীর্ষ জেনারেল ঝাং ইউকসিয়া এবং আরেক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জেনারেল লিউ ঝেনলিকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনা দেশটির অভিজাত মহলে ক্ষমতার লড়াই নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।


এ ঘটনার নেপথ্য কারণ কী? চীনের যুদ্ধক্ষমতা, বিশেষ করে তাইওয়ান দখল বা অন্য কোনো বড় আঞ্চলিক দ্বন্দ্বে জড়ানোর উচ্চাকাঙ্ক্ষার ওপর এর প্রভাব কী পড়তে পারে, তা নিয়ে জনমনে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে।


৭৫ বছর বয়সী ঝাং ছিলেন কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের (সিএমসি) ভাইস চেয়ারম্যান। দেশটির নেতা সি চিন পিংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট পার্টির এই গ্রুপই সশস্ত্র বাহিনীকে নিয়ন্ত্রণ করে।


সাধারণত সাতজন সদস্য নিয়ে গঠিত সিএমসি এখন মাত্র দুজন সদস্যে নেমে এসেছে। তাঁদের মধ্যে এখন আছেন সি চিন পিং নিজে ও জেনারেল ঝাং শেংমিন।


আগের কয়েক দফা আটক করার পর চলমান ‘দুর্নীতিবিরোধী’ অভিযানে বাকি সবাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।


সিএমসি লাখ লাখ সামরিক সদস্যকে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে রয়েছে। সংস্থাটি এতটাই শক্তিশালী যে চীনের একচ্ছত্র শাসক হিসেবে দেং জিয়াওপিংয়ের হাতে থাকা একমাত্র পদ ছিল সিএমসির চেয়ারম্যানের।


এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের লাইল মরিসের মতে, সিএমসিতে এখন কেবল শি ও একজন জেনারেলের অবশিষ্ট থাকা অভূতপূর্ব এক ঘটনা বটে।


মরিস বিবিসিকে বলেন, পিএলএ এখন বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। চীনের সামরিক বাহিনীতে এখন একটি বিশাল নেতৃত্বশূন্যতা তৈরি হয়েছে।


এত বড় বড় জেনারেলকে সরিয়ে দেওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মরিস বিবিসিকে বলেন, ‘বাজারে অনেক গুজব ছড়িয়েছে। আমরা এখনো জানি না, এর মধ্যে কোনটি সত্য আর কোনটি মিথ্যা। তবে এটি নিশ্চিতভাবে সি চিন পিংয়ের নেতৃত্ব এবং পিএলএর ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার ক্ষেত্রে নেতিবাচক বার্তা।’


ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের সহযোগী অধ্যাপক চং জা ইয়ানও বলেন, ঝাংয়ের পতনের সঠিক কারণ সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। তবে এটি নিয়ে অনেক জল্পনা-কল্পনা রয়েছে।


ইয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পারমাণবিক গোপন তথ্য ফাঁস থেকে শুরু করে অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্র এবং অভ্যন্তরীণ উপদলীয় কোন্দল—সবকিছুই শোনা যাচ্ছে। এমনকি বেইজিংয়ে গোলাগুলির গুজবও রটেছে।


তবে ঝাং ও লিউয়ের পতন এবং এসব জল্পনা দুটি বিষয়কে স্পষ্ট করে তুলেছে। প্রথমত, সি চিন পিং এখনো অপরাজেয় এবং দ্বিতীয়ত, বেইজিংয়ে তথ্যের প্রবাহ অত্যন্ত সীমিত, যা অনিশ্চয়তা ও গুজবকে বাড়িয়ে তুলছে।


ঝাং ও লিউয়ের বিষয়ে ‘তদন্ত’ চলছে বলে বেইজিং সরকার ঘোষণা দিয়েছে। এতে তাঁদের বিরুদ্ধে ‘শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের’ অভিযোগ আনা হয়েছে, যা মূলত দুর্নীতির একটি মার্জিত পরিভাষা।


এরপর ‘পিএলএ ডেইলি’ তাদের এক সম্পাদকীয়তে বিষয়টি একদম পরিষ্কার করে লিখেছে, এই পদক্ষেপ ‘দুর্নীতি দমনে’ কমিউনিস্ট পার্টির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিরই প্রকাশ। দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা ব্যক্তি যে–ই হোন বা তাঁর পদমর্যাদা যত ওপরেই হোক না কেন।


এসব জেনারেলের বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো জনসাধারণের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। হয়তো কখনো প্রকাশ করা হবেও না। তবে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলার অর্থই হচ্ছে নিশ্চিতভাবে তাঁদের অন্তত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।


‘পিএলএ ডেইলি’র সম্পাদকীয়তে ইতিমধ্যেই ঝাং ও লিউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, তাঁরা ‘কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির বিশ্বাস ও প্রত্যাশার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা’ করেছেন এবং ‘কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনকে পদদলিত ও অবমাননা’ করেছেন।


জেনারেলদের লক্ষ্যবস্তু করার বিষয়টি দুর্নীতির কারণে হতে পারে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়, এর পেছনে ক্ষমতার রাজনীতিও থাকতে পারে।


সি চিন পিং যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন চীনে দুর্নীতির সমস্যা অবশ্যই ছিল। তবে চীনের এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি তাঁর অনুগত নন এমন রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী বা সরকারি কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিতে দলের ভয়ংকর ‘শৃঙ্খলা পরিদর্শক দল’ ব্যবহার করে এই দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেন। এর ফলে সাধারণ সম্পাদক সি চিন পিং এমন এক স্তরের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছেন, যা চেয়ারম্যান মাওয়ের পর আর দেখা যায়নি।


তবে এ ধরনের নেতৃত্ব হিতে বিপরীতও হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, সামরিক বাহিনীতে সন্দেহের পরিবেশ তৈরি হলে তা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্কতা, এমনকি দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।


ঝাংয়ের বাবা ছিলেন সির বাবার বিপ্লবী কমরেড। সির সঙ্গে এই জেনারেলের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক এই বিশৃঙ্খলার আগে তাঁদের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে গণ্য করা হতো। তাঁদের এই বিচ্ছেদ হয়তো পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে। কারণ, এখন ধারণা করা হচ্ছে যে চীনে কেউই নিরাপদ নন।


ঝাং পিএলএর হাতেগোনা কয়েকজন যুদ্ধ-অভিজ্ঞ শীর্ষ কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন। তাঁর চলে যাওয়া সামরিক বাহিনীর জন্য এক বড় ক্ষতি।


লাইল মরিসের মতে, ঝাংকে সরিয়ে দেওয়া দীর্ঘ মেয়াদে সির জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। সি হয়তো আবারও তাঁর কর্তৃত্ব জাহির করেছেন। কিন্তু এই বিশৃঙ্খলা পিএলএর ভেতরে দীর্ঘস্থায়ী টানাপোড়েন সৃষ্টি করবে।


সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ জেনারেলদের বহিষ্কারের ফলে পরবর্তী স্তরের কর্মকর্তাদের মনেও এখন প্রশ্ন জাগছে, এরপর কার পালা? ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিণতি দেখে তাঁরাও হয়তো সেই ‘বিপজ্জনক অঞ্চলে’ পদোন্নতি পেতে চাইবেন না, যেখানে সির দুর্নীতিবিরোধী নজরদারি যেকোনো সময় তাঁদের ওপর পড়তে পারে।


এসব কিছু এমন সময়ে ঘটছে, যখন বেইজিং তাইওয়ানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করছে এবং যেকোনো সময় পূর্ণমাত্রার আক্রমণ চালিয়ে স্বশাসিত দ্বীপটি দখলের হুমকি দিচ্ছে।


বিশ্লেষকেরা খতিয়ে দেখছেন, এসব অপসারণ তাইওয়ান দখলের সম্ভাবনাকে কতটা ব্যাহত করবে। অবশ্য কেউ কেউ মনে করেন যে বেইজিংয়ের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষায় এর বিশেষ প্রভাব পড়বে না।


ইয়ান বলেন, এঁদের বহিষ্কার তাইওয়ানকে চীনের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। কারণ, এটি পুরো সিসিপি এবং বিশেষ করে সির সিদ্ধান্তের বিষয়। যেখানে প্রভাব পড়তে পারে, তা হলো সামরিক কার্যক্রমের সিদ্ধান্ত গ্রহণ। শীর্ষ সামরিক পেশাদারদের অনুপস্থিতিতে বা তাঁরা ভীতসন্ত্রস্ত থাকলে, তাইওয়ানে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সির ব্যক্তিগত পছন্দ ও মেজাজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩২ পিএম

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শেষ হয়েছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এ সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিসহ ১২ জনের বেশি বিশ্বনেতা অংশ নেন।


বিশ্বনেতাদের সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। নয়াদিল্লির প্রগতি ময়দানের ‘ভারত মণ্ডপমে’ গত শনিবার সন্ধ্যায় বসে এ আয়োজন। নৈশভোজের খাবারের তালিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ আলোচনা হয়েছে। নৈশভোজের পুরো মেনুই ছিল নিরামিষ। মাছ-মাংসের কোনো পদ রাখা হয়নি। তবে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের নানা ধরনের খাবার ছিল তালিকায়।


শুরুতে অতিথিদের পরিবেশন করা হয় খান্ডভি মিলেফয় ও খুম্ব গালৌটি কাবাব। গুজরাটের জনপ্রিয় খাবার খান্ডভি বেসন দিয়ে তৈরি। এতে সর্ষে, নারকেল ও কারিপাতার ব্যবহার রয়েছে। কেসর আম, দই ও সবুজ পাতা দিয়ে সাজিয়ে এটি পরিবেশন করা হয়।


মাশরুম দিয়ে তৈরি খুম্ব গালৌটি কাবাব পুদিনাপাতা দিয়ে গ্রিল করা হয়। পরে শিরমাল রুটির সঙ্গে এটি পরিবেশন করা হয়। মূল খাবারের তালিকায় ছিল পনির লাবাবদার, গুচ্চি মারমিক, ক্যারট বিন পোরিয়াল, থাক্কালি বেলে সারু ও মিলেট পোলাও।


উত্তর ভারতের জনপ্রিয় পদ পনির লাবাবদার তৈরি করা হয় ছোট পেঁয়াজ ও টমেটোর ঘন ঝোলে নরম পনির দিয়ে। আর হিমালয়ের বিশেষ গুচ্চি মাশরুমের সঙ্গে জাফরান, কিশমিশ ও কাঠবাদাম মিশিয়ে তৈরি করা হয় গুচ্চি মারমিক।


ক্যারট বিন পোরিয়ালে গাজর ও বিভিন্ন ধরনের সবুজ বীজের সঙ্গে নারকেল তেল ও দক্ষিণ ভারতীয় মসলা ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে থাক্কালি বেলে সারু হলো টমেটো, কারিপাতা ও ডাল দিয়ে তৈরি দক্ষিণ ভারতীয় একটি পদ।


সুগন্ধি বাসমতী চালের সঙ্গে বাজরা ও বিভিন্ন মসলা দিয়ে তৈরি করা হয় মিলেট পোলাও। এর সঙ্গে ছিল দই মেশানো বিটরুটের রায়তা ও বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় রুটি।


নৈশভোজের শেষপাতে ছিল পুরোনো দিল্লির ঐতিহ্যবাহী ফ্রুটক্রিম ও জিলাপি। মৌসুমি ফলের সঙ্গে হালকা হুইপড ক্রিম মিশিয়ে তা জিলাপির সঙ্গে পরিবেশন করা হয়। ছিল শাহুতুত ফিরনিও। দুধ, চাল, মিষ্টি মালবেরি ও খাবার উপযোগী সোনার পাত দিয়ে তৈরি করা হয় এ মিষ্টান্ন।


নৈশভোজে খাবারের পাশাপাশি ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও। এতে অংশ নেন ১৬০ জন শিল্পী। ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্য ও সংগীতের পাশাপাশি ব্রিকসের বিভিন্ন দেশের শিল্পীরাও এতে অংশ নেন। পরিবেশিত হয় ভরতনাট্যম, কুচিপুড়ি, ওডিশি ও কত্থক।


তবে মোদির আয়োজিত নৈশভোজে আমন্ত্রিত নেতাদের সবাই উপস্থিত থাকলেও ছিলেন না চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ শেখ খালিদ বিন মোহাম্মদকেও সেখানে দেখা যায়নি। 

সর্বশেষ সব খবর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১:৫০ পিএম

ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখে দেশটির তেল নেওয়ার সম্ভাবনার কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ক্ষেত্রে তিনি ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক জ্বালানি চুক্তির উদাহরণ টেনেছেন। রোববার আয়ারল্যান্ড সফরের সময় এক গলফ টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প এসব কথা বলেন। 


তিনি আবারও দাবি করেন, চলতি বছরের মধ্যেই ইরানের যুদ্ধ শেষ হতে পারে। এমনকি নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই যুদ্ধ শেষ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি।


ট্রাম্প বলেন, শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরান থেকে সরে আসবে-তবে তেল ধরে রাখার জন্য সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।


তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা ইরান থেকে বেরিয়ে আসব, যদি না আমরা সেখানে থেকে যাওয়ার এবং ভেনেজুয়েলার মতো তেল রাখার সিদ্ধান্ত নিই।’


ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলসম্পদের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক উদ্যোগের সঙ্গে ইরানের পরিস্থিতির তুলনা করেন ট্রাম্প। তার দাবি, ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্র যে আয় করছে, তা ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের খরচ বহুবার পরিশোধ করেছে।


ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি ‘সঠিক চুক্তি’ করতে চান বলেও জানান ট্রাম্প। তবে তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো নয়-এমন কোনো চুক্তিতে তিনি রাজি হবেন না।


ইরান নিয়মিত শান্তি আলোচনার আহ্বান জানাচ্ছে বলেও দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে তেহরান অতীতে এমন দাবি নাকচ করেছে।


ইরান যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম ‘পাথরের মতো দ্রুত’ কমে যাবে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। এর মধ্যে রোববার সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার ঘটনা তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।


রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার কারণে সোমবার তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন তেল ব্যবসায়ীরা।


এদিকে ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। আগস্টে এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই চুক্তির সঙ্গে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য অবস্থান ধরে রাখার বিষয়টি তুলনা করে নতুন ইঙ্গিত দিলেন ট্রাম্প।

 

সর্বশেষ সব খবর

শুক্রবার ড্রোন হামলার পর সৌদি আরব তার বিশাল পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১২:৪৫ পিএম

 সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ একটি তেল পাইপলাইন দ্রুত চালু করা না গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই রপ্তানির জন্য মজুত তেল ফুরিয়ে যেতে পারে। এতে বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ কমে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ। সৌদি তেল ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।


ইরান যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে সৌদির তেল সরবরাহ আরও কমে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। এতে জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও ঋণের সুদহার আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


শুক্রবার ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার শিকার হয়ে সৌদি আরব তাদের বিশাল পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয়। তবে পাইপলাইনটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কত দিন এটি বন্ধ থাকবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানায়নি সৌদি কর্তৃপক্ষ।


রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা কয়েকটি সূত্র ক্ষয়ক্ষতি মেরামতে ভিন্ন ভিন্ন সময়ের কথা জানিয়েছে। একটি সূত্রের মতে, পাইপলাইনটি পুরোপুরি মেরামত করতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আরেকটি সূত্র বলেছে, এর আগেই মেরামতের কাজ শেষ হতে পারে এবং কাজ চলার মধ্যেই পাইপলাইনের একটি অংশ দিয়ে আবার তেল সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হতে পারে। এ বিষয়ে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তর ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


গত ছয় মাসে সৌদি আরবের জন্য এই পাইপলাইনটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। আরব উপদ্বীপের মরুভূমির মধ্য দিয়ে যাওয়া পাইপলাইনটি হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ বা সীমিত হয়ে যাওয়ার প্রভাব থেকে সৌদি আরবকে অনেকটাই রক্ষা করেছে।


বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাত। এই পরিমাণ তেল বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।


কিন্তু পাইপলাইনটি বন্ধ থাকায় ইয়ানবু বন্দরে মজুত তেল দিয়ে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সৌদি তেল রপ্তানির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র। আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরের আইন সকনা ও ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দর থেকেও কয়েক দিন ক্রেতাদের তেল সরবরাহ করা সম্ভব।


শিল্পসংশ্লিষ্টদের হিসাবে, ইয়ানবু বন্দরে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি ব্যারেল তেল সংরক্ষণের সক্ষমতা রয়েছে। আইন সকনা ও সিদি কেরির মজুত সক্ষমতা যথাক্রমে ১ কোটি ৮০ লাখ ও ২ কোটি ব্যারেল। তবে এসব মজুত পুরোপুরি পূর্ণ নয়। ফলে পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইনটি আবার চালু করা না গেলে একপর্যায়ে এসব মজুতও শেষ হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র।


এদিকে হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় আগস্টে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায় বলে শুক্রবার জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।


আইইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বে তেলের সরবরাহ দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল কমে যেতে পারে, যা মোট সরবরাহের প্রায় ৬ শতাংশ।


যুদ্ধের আগে মধ্যপ্রাচ্য থেকে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহ করা হতো। তবে বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক মাত্র ৬০ থেকে ৯০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন হচ্ছে বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে

সর্বশেষ সব খবর

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

  • প্রকাশ : সোমবার ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:৩৭ এএম

পোল্যান্ড-ইউক্রেইন সীমান্তের কাছে একটি ট্রেনে রাশিয়া হামলা চালিয়েছে। এ হামলা থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনসহ ইউরোপের শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন কর্মকর্তা। তারা হামলার কিছুক্ষণ আগে একই রেলপথ দিয়েই অন্য একটি ট্রেনে করে ইউক্রেইনের রাজধানী কিইভ থেকে একটি বার্ষিক সম্মেলন শেষে ফিরছিলেন। তবে হামলার ঘটনায় কেউ হতাহত হওয়ার কোনও খবর পাওয়া যায়নি।


ট্রেনের ইঞ্জিনে হামলা হয়েছিল। সব যাত্রীকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ইউক্রেইন কর্তৃপক্ষ।


রাশিয়া জানিয়েছে, তারা ইউক্রেইনের পশ্চিমাঞ্চলে রেলওয়ে অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে, তবে ইউক্রেইনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কোম্পানি 'উকর্জালিজনিৎসিয়া' বলেছে, খুব সম্ভবত এই ড্রোনের লক্ষ্য ছিল 'কূটনৈতিক ট্রেন'।


এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার ক্রমাগত হামলার হুমকির কারণে ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়েছিল। সেকারণেই ট্রেনটি নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশন ছেড়ে চলে যায়।


বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যে ট্রেনে রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে, সেটির যাত্রীদেরকে হামলার ঠিক ১৫ মিনিট আগে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।


রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, ড্রোন হামলার সময় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)-এর সাবেক প্রধান ডেভিড পেত্রাউস ইয়াহোদিন স্টেশনে অন্য একটি ট্রেনে ছিলেন।


ইউক্রেইন এবং পোল্যান্ড দুই দেশের কর্তৃপক্ষই জানিয়েছে যে, রাশিয়ার ড্রোনটি পোল্যান্ড সীমান্ত থেকে ২ কিলোমিটার দূরে আঘাত হেনেছে।


সুইডেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কার্ল বিল্ডটও কিইভের সম্মেলনে গিয়েছিলেন। কার্ল বিবিসি-কে জানান, তিনি যে ট্রেনে ছিলেন সেটির যাত্রীদের প্রথমে ট্রেন থেকে নেমে যাওয়ার (নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার) প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল।


তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় তাদেরকে আবার যাত্রা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর ট্রেনটি নিরাপদে পোল্যান্ডের সীমান্ত স্টেশন দোরোঙ্কুস্কে গিয়ে পৌঁছায়।


পোল্যান্ড-ইউক্রেইন সীমান্তে ট্রেনে রুশ হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জনসন বলেন “আমি জানি না কোন বিকৃত যুক্তির বশে পুতিন (রুশ প্রেসিডেন্ট) আজ সকালে পোল্যান্ড সীমান্তে একটি নিশ্চল ইউক্রেইনীয় লোকোমোটিভ (রেলগাড়ির ইঞ্জিন) উড়িয়ে দিয়েছেন।"


“এটি এমন এক দৈব এবং কাণ্ডজ্ঞানহীন হামলা ছিল, যা ইউক্রেইনীয়রা প্রতিদিন সহ্য করছে - এমনকি বেসামরিক রেলওয়েতেও," লেখেন জনসন।


ইউক্রেইনের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রতি কয়েক মাসে রাশিয়ার হামলার অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। ট্রেন, রেল ডিপো ও অন্যান্য পরিবহন অবকাঠামোয় একাধিক হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মাত্র ১৪ দিনের তেল অবশিষ্ট রয়েছে- সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবি ছড়িয়ে পড়েছে। 


তবে এই হিসাবটি দেশটির কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত (এসপিআর) এবং মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের পরিমাণকে একসঙ্গে ধরে করা হয়েছে। ফলে এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত তেল সরবরাহ পরিস্থিতি সঠিকভাবে উঠে আসে না।


মার্কিন জ্বালানি বিভাগের (ডিওই) তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ (এসপিআর) বিশ্বের সবচেয়ে বড় জরুরি অপরিশোধিত তেলের মজুত। মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের চারটি ভূগর্ভস্থ লবণের গুহায় এই তেল সংরক্ষণ করা হয়। এসব স্থাপনার মোট ধারণক্ষমতা প্রায় ৭১ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল।


অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া হিসাব অনুযায়ী, এসপিআরে রয়েছে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ ও ব্যবহার হয়। এই দুটি সংখ্যা ভাগ করে প্রায় ১৪ দিনের হিসাব পাওয়া যায়। কিন্তু এই হিসাবের সমস্যা হলো, এসপিআরে থাকা অপরিশোধিত তেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট পেট্রোলিয়াম ব্যবহারের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। প্রতিদিনের ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেলের হিসাবের মধ্যে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রয়েছে। এগুলো সরাসরি এসপিআরের অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে তুলনাযোগ্য নয়।


যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সরবরাহ কেবল কৌশলগত মজুতের ওপর নির্ভর করে না। দেশটির নিজস্ব অপরিশোধিত তেল উৎপাদন, বাণিজ্যিক মজুত, আমদানি, শোধনাগার এবং পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যের মজুত-সব মিলিয়ে একটি বড় সরবরাহ ব্যবস্থা রয়েছে। এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে। দেশটির বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। 


একই সময়ে শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করে। অর্থাৎ দেশটির তেল সরবরাহ একটি চলমান ব্যবস্থা, যেখানে উৎপাদন, আমদানি, বাণিজ্যিক মজুত, শোধন ও রপ্তানি—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে কাজ করে।


এসপিআর যুক্তরাষ্ট্রের তেলের প্রধান ভাণ্ডার নয়; এটি জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য একটি ব্যাকআপ ব্যবস্থা। যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অবরোধ বা আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে বাজারে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করতে এই মজুত ব্যবহার করা হয়।


১৯৭৩-৭৪ সালের আরব তেল নিষেধাজ্ঞার পর যুক্তরাষ্ট্র এই ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়। ১৯৭৫ সালে কংগ্রেস এসপিআর প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়। দেশের তেল শোধনাগার, পাইপলাইন ও পরিবহন অবকাঠামোর কাছাকাছি মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলে লবণের গুহায় এই মজুত গড়ে তোলা হয়।


২০২০ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে প্রায় ৬৩ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল জমা ছিল। তবে ২০২৬ সালের ২৮ আগস্ট নাগাদ এই পরিমাণ কমে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৮২ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন। বাইডেন ও ট্রাম্প—দুই প্রশাসনের সময়ই বিভিন্ন জরুরি পরিস্থিতিতে এসপিআর থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়া হয়েছে।


২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এ সময় বাইডেন প্রশাসন এসপিআর থেকে ১৮ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দেয়। প্রায় ছয় মাস ধরে প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখ ব্যারেল তেল বাজারে সরবরাহ করা হয়।


পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, এই সমন্বিত তেল ছাড়ার ফলে গ্যাসোলিনের দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ১৭ থেকে ৪২ সেন্ট পর্যন্ত কমতে সহায়তা করেছিল। তবে এর ফলে কৌশলগত মজুতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এরপর মজুত পুনরায় পূরণের কাজ শুরু হয়। ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এসপিআরে তেলের পরিমাণ প্রায় ৪১ কোটি ৩০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল।


২০২৬ সালে ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনে বিঘ্নের আশঙ্কার মধ্যে আবারও কৌশলগত মজুত ব্যবহার করা হচ্ছে। গত মার্চে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) ৩২টি সদস্য দেশ জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে সম্মত হয়। আইইএর ইতিহাসে এটি ছিল এ ধরনের সবচেয়ে বড় সমন্বিত পদক্ষেপ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এসপিআর থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।


ইআইএর তথ্য অনুযায়ী, ৩ এপ্রিল ২০২৬ এসপিআরে ৪১ কোটি ৩৩ লাখ ব্যারেল তেল ছিল। ২৮ আগস্ট তা কমে দাঁড়ায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে। অর্থাৎ পাঁচ মাসেরও কম সময়ে এসপিআরের মজুত প্রায় ১২ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল কমেছে। তবে এই কমে যাওয়া মানে যুক্তরাষ্ট্রের মোট তেল সরবরাহ থেকে একই পরিমাণ তেল শেষ হয়ে গেছে-এমন নয়। একই সময়ে দেশটিতে তেল উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বাণিজ্যিক মজুত ও শোধনাগারের কার্যক্রম চলমান ছিল।


যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রধান উৎসগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশীয় উৎপাদন, আমদানি ও বাণিজ্যিক মজুত। দেশটির শোধনাগারগুলো অপরিশোধিত তেলকে গ্যাসোলিন, ডিজেল, জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্যে রূপান্তর করে।


সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদিত হচ্ছে। বাণিজ্যিক মজুতে রয়েছে প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল। শোধনাগারগুলো প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৭৫ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানি এবং অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য রপ্তানিও করছে যুক্তরাষ্ট্র।


গত চার সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল বেড়েছে। অন্যদিকে এসপিআর থেকে প্রতিদিন প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল তেল প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর অর্থ, এসপিআর থেকে তেল ছাড়ার বিষয়টি সামগ্রিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করছে। তবে এটি যুক্তরাষ্ট্রের পুরো পেট্রোলিয়াম ব্যবস্থার বিকল্প নয়।


এসপিআরের মজুত কমে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। কারণ বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে সরকারের হাতে বাজারে দ্রুত তেল ছাড়ার সক্ষমতা আগের তুলনায় কমে গেছে।


তবে এর অর্থ এই নয় যে, দুই সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোল বা অন্যান্য জ্বালানি শেষ হয়ে যাবে। বরং কোনো বড় আন্তর্জাতিক সংকট দেখা দিলে সরকার আগের মতো বড় পরিমাণে জরুরি তেল বাজারে ছাড়তে পারবে না-এটাই মূল ঝুঁকি।


বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বা বাব আল-মান্দাব প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে এর প্রভাব বিশ্ববাজারে পড়তে পারে। তেলের আন্তর্জাতিক দাম বেড়ে গেলে যুক্তরাষ্ট্রেও অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের দাম বাড়তে পারে। কারণ তেলের বাজার বৈশ্বিক। 


যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব উৎপাদন থাকলেও আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে গেলে দেশটির জ্বালানি দামের ওপর তার প্রভাব পড়ে।


জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। একপর্যায়ে এসপিআর থেকে অতিরিক্ত তেল সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। তখন বাজারকে উৎপাদন ও আমদানি বাড়ানো, রপ্তানি কমানো, বাণিজ্যিক মজুত ব্যবহার, শোধনাগারের কার্যক্রম পরিবর্তন অথবা জ্বালানির চাহিদা কমানোর মাধ্যমে ভারসাম্য তৈরি করতে হবে।


এ ছাড়া বর্তমান এসপিআর কর্মসূচির একটি অংশ তেল বিনিময় ব্যবস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো এসপিআর থেকে অপরিশোধিত তেল নেয় এবং পরে সমপরিমাণ তেলের সঙ্গে অতিরিক্ত কিছু ব্যারেল ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। ফলে বর্তমানে নেওয়া কিছু তেল ভবিষ্যতে সরকারি মজুতে ফেরত আসতে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কত দিনের তেল রয়েছে- এর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা বের করা সম্ভব নয়। কারণ অপরিশোধিত তেল, গ্যাসোলিন, ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্য এক জিনিস নয়। এগুলোর উৎপাদন, মজুত, আমদানি, রপ্তানি ও ব্যবহারের হিসাবও আলাদা।


শুধু এসপিআরের ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদিনের মোট ২ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল পেট্রোলিয়াম পণ্যের ব্যবহারের সঙ্গে ভাগ করে ১৪ দিনের হিসাব করা তাই বাস্তব পরিস্থিতির সঠিক চিত্র দেয় না।


যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রায় ২৮ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল এসপিআর মজুতের পাশাপাশি প্রায় ৪২ কোটি ৪৫ লাখ ব্যারেল বাণিজ্যিক অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে। প্রতিদিন দেশটি প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করছে এবং বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে।


তবে এসপিআরের মজুত ঐতিহাসিকভাবে কমে যাওয়ায় ভবিষ্যতে বড় কোনো সরবরাহ সংকট দেখা দিলে তা মোকাবিলায় সরকারের হাতে জরুরি তেলের মজুত আগের তুলনায় কম থাকবে। 


তাই যুক্তরাষ্ট্রে ‘১৪ দিনের তেল’ অবশিষ্ট থাকার দাবিটি সঠিক না হলেও, এসপিআরের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি দেশটির জন্য বাস্তব উদ্বেগের কারণ।

সর্বশেষ সব খবর

শি জিনপিং ও নরেন্দ্র মোদি

  • প্রকাশ : রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৭:০০ পিএম

ব্রিকস সম্মেলনের প্রথম দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেননি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দীর্ঘ বিমানযাত্রা ও সময়ের পার্থক্যের কারণে ক্লান্ত থাকায় তিনি নৈশভোজে যাননি বলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরাসরি অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।


গতকাল শনিবার বিকেলে নয়াদিল্লিতে পৌঁছে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেন শি জিনপিং। একই দিনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও করেন তিনি। দিনভর বিভিন্ন কূটনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত ছিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর সময়ের পার্থক্যের কারণে শি জিনপিং বেশ ক্লান্ত ছিলেন। এ কারণেই তিনি মোদির দেওয়া নৈশভোজে অংশ নেননি।


শি জিনপিং ছাড়াও আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ নৈশভোজে অংশ নেননি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ব্রিকসের অন্য কয়েকজন নেতা এতে অংশ নেন।


নৈশভোজে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অমিত শাহ, নির্মলা সীতারামন, পীযূষ গোয়েল, অশ্বিনী বৈষ্ণব ও শিবরাজ সিং চৌহান উপস্থিত ছিলেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার পাশাপাশি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিস, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও নৈশভোজে অংশ নেন।


কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীরা সংসদ ভবন থেকে দুটি বাসে করে মধ্য দিল্লির ভারত মণ্ডপমে নৈশভোজের অনুষ্ঠানে যান। দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলন আজ শেষ হবে। এতে ১১টি সদস্য দেশের নেতা ছাড়াও ১০টি অংশীদার দেশের নেতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে নরেন্দ্র মোদির সাতটি দেশের নেতার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।


এর আগে শনিবার শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে ভারত-চীন সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন মোদি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই নেতা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির ওপর জোর দিয়েছেন। তারা বলেন, ‘পার্থক্য যেন বিরোধে পরিণত না হয়।’


বৈঠকে মোদি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ককে পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সংবেদনশীলতা ও পারস্পরিক স্বার্থ-এই তিনটি বিষয়ের ভিত্তিতে পরিচালিত করা উচিত।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের আগস্টে তিয়ানজিনে তাদের সর্বশেষ বৈঠকের পর ভারত-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে যে অগ্রগতি হয়েছে, দুই নেতা তা স্বাগত জানিয়েছেন।

সর্বশেষ সব খবর