মার্কিন উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে ইরাকে ৪ সেনার মৃত্যু
ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি জ্বালানি সরবরাহকারী উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে চার সেনার মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার (১৩ মার্চ) মার্কিন সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিধ্বস্ত ‘কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাংকার’ প্লেনটিতে থাকা আরও দুই ক্রু সদস্যকে উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী এ দুর্ঘটনা কোনো ‘শত্রুপক্ষ বা মিত্রপক্ষের গুলিতে’ ঘটেনি। তবে ঘটনার সময় সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের আরও একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ছিল।
গতকাল বৃহস্পতিবারের এ দুর্ঘটনার কারণ এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। নিহত সেনাসদস্যদের পরিবারের কাছে খবর পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টা পর তাদের নাম প্রকাশ করা হবে।
ছবি : সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ে আসার সুযোগ বন্ধ করা হয়েছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার নতুন এ নিয়ম ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। এর আওতায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, তথাকথিত ‘ভিসা হপার’ এবং ব্যাকপ্যাকারদের জন্যও বিভিন্ন নিয়ম কঠোর করা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীরা আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের অস্ট্রেলিয়ায় সঙ্গে আনতে পারবেন না। অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানের মেয়াদ বাড়াতে চাইলে তাদের উচ্চতর কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জনের পথ বেছে নিতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক বলেন, আমরা আর এমন কোনো ব্যবস্থা রাখব না যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে আসতে পারেন।
তবে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থী এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে এই নিয়মে কিছু ছাড় থাকবে। পিএইচডি শিক্ষার্থীরা তাদের পরিবারকে সঙ্গে আনতে পারবেন।
বার্ক বলেন, স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের তুলনায় পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জীবন ও পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট ভিন্ন।
‘অভিবাসন কর্মসূচি পরিচালনার কাজ: কারা আসেন, কারা থেকে যান এবং কারা চলে যান’ শিরোনামে দেওয়া এক বক্তৃতায় বার্ক এসব পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। সরকারের লক্ষ্য হলো ২০২৮ সালের মধ্যে নিট অভিবাসীর সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজারে নামিয়ে আনা।
স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে ‘ভিসা হপিং’ বা ঘন ঘন ভিসা পরিবর্তনের প্রবণতাও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় একজন শিক্ষার্থী একটি কোর্স শেষ করার পর আরেকটি কোর্সে ভর্তির আবেদন করেন, যা অনেক সময় আগেরটির চেয়ে নিম্নমানের যোগ্যতার হয়।
এমন কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করা হয়, যার বৈধতা বা মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে যারা উচ্চতর শিক্ষার দিকে এগোতে চান, যেমন স্নাতক ডিগ্রি শেষ করে স্নাতকোত্তর বা মাস্টার্স করতে চান, তাদের ক্ষেত্রে অনুমতি দেওয়া হবে বলে জানান বার্ক।
১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণদের জন্য প্রযোজ্য ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’র নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। সাধারণত ব্যাকপ্যাকাররা এই ভিসা ব্যবহার করেন। এতে অস্ট্রেলিয়ায় ১২ মাস কাজ করার সুযোগ থাকে এবং নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বছর পর্যন্ত থাকার সুযোগ রয়েছে। কৃষি খাতেও এই ভিসাধারীরা গুরুত্বপূর্ণ শ্রমের উৎস।
বর্তমানে দ্বিতীয় বছরের ভিসার যোগ্য হতে হলে প্রথম বছরে অস্ট্রেলিয়ার আঞ্চলিক এলাকায় তিন মাস কাজ করতে হয়। তৃতীয় বছরের যোগ্যতার জন্য কাজ করতে হয় ছয় মাস। নতুন নিয়মে দ্বিতীয় বছরের জন্য যোগ্যদের একটি ব্যালট বা লটারি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এতে সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার জনের সুযোগ থাকবে, যা গত বছর ৫৭ হাজার ছিল।
তৃতীয় বছরের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা কমিয়ে ৫ হাজার করা হয়েছে। গত বছর ৩১ হাজার মানুষ তৃতীয় বছরের ভিসার জন্য যোগ্য হয়েছিলেন। তবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কারণে ব্রিটিশ ওয়ার্কিং হলিডে-মেকাররা এসব পরিবর্তনের আওতায় পড়বেন না।
বার্ক বলেন, অভিবাসন অস্ট্রেলিয়ার জন্য একটি ‘শক্তি’ বা ইতিবাচক দিক হলেও এর ওপর ‘উচ্চ মাত্রার নিয়ন্ত্রণ’ থাকা প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস প্রকাশিত নতুন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত ১২ মাসে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২ কোটি ৭৯ লাখে দাঁড়িয়েছে। এই হিসাবের মধ্যে জন্ম ও মৃত্যুর পাশাপাশি নিট অভিবাসন হিসেবে ২ লাখ ৯২ হাজার ১০০ জনের হিসাবও রয়েছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়া এবং জনসেবার ওপর বাড়তি চাপের কারণে অস্ট্রেলিয়ার জনসংখ্যা নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে অভিবাসন দেশটির বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে রয়েছে।
অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ডানপন্থী ও জনতুষ্টিবাদী দল ‘ওয়ান নেশন’ চলতি সপ্তাহের শুরুতে তাদের অভিবাসন নীতি প্রকাশ করেছে। এতে তিন বছরের মধ্যে অস্থায়ী অভিবাসী ভিসার সংখ্যা ৭ লাখ ৫০ হাজার কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত মে মাসে নিম্নকক্ষে দলটি তাদের প্রথম আসন জয় করে।
দলটি নিট বৈদেশিক অভিবাসনের সংখ্যা ১ লাখ ৩০ হাজারে সীমাবদ্ধ রাখারও প্রস্তাব দিয়েছে। বার্ক এই প্রস্তাবের সমালোচনা করে বলেছেন, এমন পদক্ষেপ নিলে তা ‘অস্ট্রেলীয় অর্থনীতির কিছু অংশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে’।
জুলাই মাসে সরকার একটি নীতি চালু করে। এর আওতায় বিদেশ থেকে জমা দেওয়া আবেদনের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানরতদের করা পারিবারিক ভিসার আবেদনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বিদেশে অবস্থানরতদের তুলনায় অস্ট্রেলিয়ায় আগে থেকেই বসবাসরত দক্ষ অভিবাসীদের স্থায়ী ভিসার আবেদনকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া যুক্তরাজ্য বাদে ২৪টি দেশের নাগরিকদের জন্য ‘ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা’র আবেদন গ্রহণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ায় নতুন আসা অভিবাসীদের সহায়তাকারী সংস্থা ‘সেটেলমেন্ট সার্ভিসেস ইন্টারন্যাশনাল’-এর ভায়োলেট রুমেলিওটিস বলেন, অভিবাসন বিষয়ক বিতর্কটি এখন দেশের জন্য যা সর্বোত্তম, তার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি রাজনীতির দ্বারা বেশি প্রভাবিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক ভিসার নিয়মে প্রস্তাবিত পরিবর্তনটি এর একটি বড় উদাহরণ। তার মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে মেধাবীদের আকৃষ্ট করার প্রতিযোগিতায় অস্ট্রেলিয়ার জন্য টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে।
ছবি : সংগৃহীত
ইরানে একটি স্কুল ও একটি ক্রীড়া স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের চালানো দুই সামরিক হামলাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে জাতিসংঘের একটি স্বাধীন তদন্ত মিশন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার বিষয়ে ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পাওয়া গেছে। খবর রয়টার্সের।
জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন অন ইরানের প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়েবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালানো হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, নিহতদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।
তদন্ত মিশন বলেছে, স্কুলটি স্পষ্টতই একটি বেসামরিক স্থাপনা ছিল এবং সেটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হওয়ার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হামলার আগে মার্কিন বাহিনীর লক্ষ্য নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ না করা এবং ভবনটি সামরিক লক্ষ্যবস্তু কি না, তা নিশ্চিত না করাকে নিছক অবহেলা বলা যায় না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন বাহিনী বেসামরিক স্থাপনায় হামলার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও সেখানে হামলা চালিয়েছিল। এ কারণে ঘটনাটিকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করেছে তদন্ত মিশন। লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে হামলার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন জাতিসংঘের তদন্তকারীরা। ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড এর আগে জানিয়েছিল, ওই দিন লামের্দ শহরে তারা কোনো হামলা চালায়নি।
এদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে দেশটির কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ এনেছে জাতিসংঘের তদন্ত মিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভ দমনের সময় বেআইনি হত্যা, নির্যাতন, নির্বিচার আটক, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ইরানি সরকারের হিসাবে বিক্ষোভে ৩ হাজার ৩৮ জন নিহত ও ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের তদন্ত মিশন।
সূত্র: রয়টার্স
মহাকাশশিল্পের উন্নয়ন ইরান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার
চলতি ইরানি বছর শেষ হওয়ার আগেই (২১ মার্চ ২০২৭) শহিদ সোলেইমানি স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডলের তিনটি স্যাটেলাইট একসঙ্গে কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে ইরান। গতকাল বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দেশটির যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, মহাকাশশিল্পের উন্নয়ন ইরান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। রাশিয়ার সহযোগিতায় একই সঙ্গে তিনটি ইরানি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকে এই খাতে বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
হাশেমি জানান, পায়া, জাফর ও কাওসার নামের এই তিনটি স্যাটেলাইট তৈরি করা হয়েছে সরকারের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে।
ইরানের মহাকাশ অবকাঠামো উন্নয়নে বেশ কয়েকটি প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধে দেশটির কিছু মহাকাশ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, চাবাহার স্পেস সেন্টারের প্রথম ধাপের নির্মাণকাজ প্রায় ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর আগে কাজের অগ্রগতি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। এই কেন্দ্রটি যোগাযোগ ও রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হবে।
এ ছাড়া নাহিদ-২ স্যাটেলাইট কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনাও জানিয়েছে ইরান। হাশেমি বলেন, এই স্যাটেলাইটটি প্রথমবারের মতো কু-ব্যান্ড প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এর উন্নয়নকাজে একজন নারী নির্বাহী গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দিয়েছেন। টেলিযোগাযোগের কাজে নাহিদ-২ ব্যবহার করা হবে।
হাশেমি জানান, শহিদ সোলেইমানি স্যাটেলাইট নক্ষত্রমণ্ডলে মোট ২৪টি স্যাটেলাইট থাকবে। এর মধ্যে ১৮টি মূল স্যাটেলাইট এবং ছয়টি রিজার্ভ হিসেবে রাখা হবে। চলতি ইরানি বছরের মধ্যে তিনটি স্যাটেলাইট একসঙ্গে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি স্যাটেলাইটগুলো পরবর্তী বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে কক্ষপথে পাঠানো হবে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইসরায়েলি বসতিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য। এর জবাবে পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে ইসরায়েল। দুই দেশের এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর নতুন করে কূটনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি বসতি সম্প্রসারণে সেবা দেওয়া ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে লন্ডন।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেছেন, ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ এবং বসতিস্থাপনকারীদের হাতে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার বিষয়ে ইসরায়েল সরকার চোখ বন্ধ করে আছে। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপ যুক্তরাজ্যের ইসরায়েল-ফিলিস্তিন নীতিতে একটি নতুন পদ্ধতির সূচনা।
লন্ডনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন। এর অংশ হিসেবে পূর্ব জেরুজালেমে যুক্তরাজ্যের কনস্যুলেট বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। এর আগে ইসরায়েলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিলে ইসরায়েলও যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেবে।
বিবিসি বলছে, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে যুক্তরাজ্য নতুন নীতি গ্রহণের কথা জানিয়েছে। যুক্তরাজ্যের কোম্পানিগুলো যাতে নতুন বসতি নির্মাণে অর্থায়ন, নির্মাণকাজ বা বিজ্ঞাপনের সঙ্গে যুক্ত না হয়, সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ইসরায়েলি বসতি নিয়ে দুই দেশের বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে পশ্চিম তীরের ‘ই-১’ এলাকা। এই এলাকায় ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের নতুন নিষেধাজ্ঞার পর ইসরায়েলের পাল্টা পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে আরও টানাপোড়েন তৈরি করেছে। বিবিসি বলছে, এই পরিস্থিতি কয়েক দশকের মধ্যে ব্রিটিশ-ইসরায়েলি সম্পর্কের সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস (ফাইল ফটো)
নিউইয়র্কে আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ভিসা দেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর জাতিসংঘের বার্ষিক এই অধিবেশনে সরাসরি অংশ নিতে পারছেন না তিনি। একই সময়ে প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশন ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন।
আল জাজিরা বলছে, নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে মাহমুদ আব্বাসকে মার্কিন ভিসা না দেয়ার বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয় বছর আব্বাসকে জাতিসংঘের বার্ষিক অধিবেশনে সরাসরি অংশ নিতে বাধা দেয়া হলো। গত বছর সদস্য দেশগুলো ভিডিওর মাধ্যমে তার অংশগ্রহণের অনুমোদন দেয়ার পর ভার্চুয়ালি অধিবেশনে বক্তব্য দিয়েছিলেন তিনি।
ভিসা না দেয়ার সিদ্ধান্তের আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) কর্মকর্তা এবং প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) সদস্যদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়ানো হবে। তাদের বিরুদ্ধে সংস্কার বাস্তবায়নে ব্যর্থতা এবং শান্তির সম্ভাবনা ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন শুরুর কয়েক দিন আগে এ ঘোষণা দেয়া হলো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তারা কংগ্রেসকে জানিয়েছে যে পিএলও ও পিএ আবারও যুক্তরাষ্ট্রের আইনের আওতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এর কারণ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থায় তাদের কিছু কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) মাধ্যমে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও রয়েছে।
আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পরিবর্তে একতরফাভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি পাওয়ার চেষ্টা করে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এনেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। পিএলও ও পিএ এখনো ‘সন্ত্রাসীদের ভাতা দেয়া এবং সন্ত্রাসবাদকে মহিমান্বিত করা’ অব্যাহত রেখেছে বলেও অভিযোগ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
নিউইয়র্কে আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনকে সামনে রেখে এসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। গত বছরও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৫ সালের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের আগে পিএলও ও পিএ কর্মকর্তাদের ভিসা দেয়া হয়নি বা আগের ভিসা বাতিল করা হয়েছিল।
তবে জাতিসংঘের সদর দপ্তর-সংক্রান্ত চুক্তির আওতায় জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের মিশন কিছু ক্ষেত্রে ছাড় পেয়েছিল। ফলে গত বছরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত হতে পারেননি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। তিনি ভার্চুয়ালি অধিবেশনে বক্তব্য দেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা সংক্রান্ত ঘোষণার বিষয়ে ফিলিস্তিনি পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
এর আগে বার্তাসংস্থা আনাদোলু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের কাছে জানতে চেয়েছিল যে মাহমুদ আব্বাস ও ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদলের ভিসার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে কি না এবং ভিসা না দেয়া বা নিষেধাজ্ঞার আইনি ভিত্তি কী। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমুখপাত্র পালোমা চাকন ই-মেইলে দেয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, ‘প্রতিটি ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্তই জাতীয় নিরাপত্তার সিদ্ধান্ত’—জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অংশগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি সুন্দর, শান্ত ও স্থলবেষ্টিত দেশ লাওস, যার অর্থ চারপাশে স্থলভূমি
বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ওয়ার্ক পারমিট, শ্রমিক আমদানির পরিকল্পনা ও শ্রম প্রকল্পের অনুমোদন স্থগিত করেছে দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়ার দেশ লাওস। ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই স্থগিতাদেশ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এ ঘোষণা দিয়েছে। ১৪ সেপ্টেম্বর দেশটির ইংরেজি ভাষার সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট দ্য লাওশিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এ–সংক্রান্ত নির্দেশনাটি ৯ সেপ্টেম্বর জারি করা হয়। মন্ত্রণালয় বলেছে, অবৈধ প্রবেশ, মানব পাচার, অননুমোদিত শ্রমিক সরবরাহকারী এবং বিদেশ থেকে শ্রমিক আনার পর দায়দায়িত্ব এড়ানো নিয়োগকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তবে বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেই কেন এমন পদক্ষেপ নেওয়া হলো, নির্দেশনায় তার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। জানতে চাইলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।
বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সূত্র বলছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে লাওস যেতে ছাড়পত্র নিয়েছে প্রায় ৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মী। বাংলাদেশ থেকে বিদেশে সবচেয়ে বেশি কর্মী পাঠানো দেশগুলোর তালিকায় এ বছরে লাওসের অবস্থান ১৩তম। লাওস যেতে গত বছর ৩ হাজার ৮৩৫ বাংলাদেশি কর্মী ছাড়পত্র নিয়েছিলেন। এই হিসাবে লাওসের অবস্থান ছিল ১৬তম।
লাওসে বাংলাদেশিদের নিয়ে অপরাধে যুক্ত করাসহ নির্যাতনের অভিযোগ আছে।
দ্য লাওশিয়ান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চুক্তিতে কাজের সময়সূচি নির্ধারিত থাকা লাওস সরকার অনুমোদিত বড় অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো এই স্থগিতাদেশের বাইরে থাকবে।
লাওসের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি, কোম্পানি, নিয়োগকর্তা বা শ্রমিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিজস্ব উদ্যোগে বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশটিতে প্রবেশ বা কাজে নিয়োগের অনুমতি দিতে পারবে না। বাংলাদেশিদের জন্য শ্রম ভিসার (এলএ–বি২) অনুমোদনও ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নিয়ম ভাঙলে জরিমানা, বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো এবং ব্যবসার লাইসেন্স বাতিলের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
অনুমোদন ছাড়া শ্রমিক আনলে বা নিয়োগ দিলে নিয়োগকর্তাকে প্রতি ঘটনায় শ্রমিকপ্রতি ২৫ লাখ লাও কিপ (১১০ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হবে। অন্য শ্রমিক ইউনিটে দেওয়ার জন্য শ্রমিক আনলেও একই জরিমানা দিতে হবে।
অন্য শ্রমিক ইউনিটের জন্য নির্ধারিত কোনো শ্রমিককে কাজে ব্যবহার বা গ্রহণ করলে নিয়োগকর্তাকে প্রতি ঘটনায় শ্রমিকপ্রতি ২০ লাখ লাও কিপ (৮৯ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হবে।
অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত কর্মস্থলের বাইরে গিয়ে কাজ করলে শ্রমিককে প্রতি ঘটনায় ১০ লাখ লাও কিপ (৪৪ মার্কিন ডলার) জরিমানা দিতে হবে। একই সঙ্গে তাঁকে ৩০ দিনের মধ্যে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। দেশে ফেরত পাঠানোসহ যাতায়াতের সব খরচ নিয়োগকর্তা বা নিয়ম ভঙ্গকারী পক্ষকে বহন করতে হবে।
একই ধরনের অপরাধ আবার করলে জরিমানার পরিমাণ তিন গুণ হবে। এ ছাড়া আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে।
লাওসে বর্তমানে কতজন বাংলাদেশি কাজ করছেন, নির্দেশনায় তা উল্লেখ করা হয়নি। এই স্থগিতাদেশের কারণে দেশটির কোন কোন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা–ও জানানো হয়নি। বাংলাদেশ থেকে লাওসে যাওয়া শ্রমিকেরা প্রধানত নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে কাজ করে আসছেন।