প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী
দেশের ২৬তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আজ রোববার সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটের দিকে বঙ্গভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ সময় উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বাংলাদেশ বেতার সরাসরি সম্প্রচার করেছে।
এর আগে, গত ২৩ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে আইন মন্ত্রণালয়। সংবিধানের ৯৫ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি তাকে এই নিয়োগ দেন। শপথ গ্রহণের দিন থেকেই তার এই নিয়োগ কার্যকর হবে।
বিদায়ী প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ শনিবার অবসরে গেছেন। এদিন তার চাকরির মেয়াদ ৬৭ বছর পূর্ণ হয়।
২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হন এবং দুই বছর পর স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। ২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তাকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে পদোন্নতি দেওয়া হয়। শিক্ষাজীবনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
আইন পেশায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন জুবায়ের রহমান চৌধুরী ১৯৮৫ সালে জেলা জজ আদালতে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৭ সালে তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এবং দুই বছর পর বিচারপতি হিসেবে তাঁকে স্থায়ী করা হয়।
২০২৪ সালের ১২ আগস্ট তাঁকে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উন্নীত করা হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি যুক্তরাজ্য থেকে আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
ছবি : সংগৃহীত
সুনির্দিষ্ট কোনো মামলা না থাকলে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার না দেখানো (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার কিংবা অন্য কোনোভাবে হয়রানি করা যাবে না, হাইকোর্টের দেওয়া এমন আদেশ চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।
একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের জারি করা রুল আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের করা পৃথক ১৪টি করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগ বুধবার এই আদেশ দেন।
আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর কারামুক্তির আগেই জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে এজাহারে নাম নেই এমন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। নারায়ণগঞ্জের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ক্ষেত্রে এমন ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের ছেলে আশিক উল হকসহ কারাগার বা হেফাজতে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর পক্ষে হাইকোর্টে পৃথক ১৫টি রিট করা হয়।
এসব রিট আবেদনের পর রুলসহ পৃথক আদেশ দেন হাইকোর্ট। রিট আবেদনকারীকে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া গ্রেপ্তার না দেখাতে (শ্যোন অ্যারেস্ট), গ্রেপ্তার বা হয়রানি না করতে বিবাদীদের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে শুধু হয়রানি ও অপদস্থ করার জন্য আবেদনকারীকে বারবার গ্রেপ্তার দেখানো ও আবেদনকারীকে ফাঁসানোর এমন কর্মকাণ্ড কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। বিভিন্ন সময় দেওয়া হাইকোর্টের এমন আদেশ স্থগিত চেয়ে পৃথক ১৫টি আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।
এর মধ্যে আপিল বিভাগ ১৪টি আবেদন নিস্পত্তি করেন। একটি আবেদনের ওপর আগামী রোববার শুনানি হবে।
আজ বুধবার আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, হাইকোর্টের এই আদেশে তদন্ত সংস্থার স্বাধীন তদন্তে বাধা সৃষ্টির আশঙ্কা ছিল। এমন আইন থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে কারও বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকলেও ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকতো না।
তিনি বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এর অর্থ হচ্ছে ফৌজদারি অভিযোগের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ত ব্যক্তির এজাহারে নাম নাও থাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা যদি তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যে যদি সম্পৃক্ততা পেয়ে থাকেন, তাহলে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর অবশ্যই আবেদন করতে পারবেন।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বারিস্টার সারা হোসেন ও অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু, ব্যারিস্টার মুস্তাফিজুর রহমান খান, আইনজীবী এ কে এম ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।
লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তিনি জানিয়েছেন, এর আগে গ্রেপ্তার না হলে আগামী সপ্তাহের রোববার অথবা সোমবার ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করবেন।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন লতিফ সিদ্দিকী।
আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত লতিফ সিদ্দিকী জুলাই অভ্যুত্থানের পর গত বছরের আগস্টে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক অনুষ্ঠান থেকে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের এক মামলায় তাকে আসামি করে পুলিশ। কয়েক মাস পর জামিনে মুক্তি পান তিনি। তবে মামলাটি এখনো চলছে এবং তাকে হাজিরা দিতে হচ্ছে আদালতে।
আজ সেই মামলায় হাজিরা শেষে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘আজ সকালে আমাকে জানানো হয়েছে, শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে করা মামলায় আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আমি জানি, আজ যদি আদালতে না আসতাম, তাহলে মনে করা হতো আমি আত্মগোপনে চলে গেছি। আমি সাধারণত আত্মগোপন করি না, সব সময় আত্মপ্রকাশ করি। সে কারণেই আজ আদালতে এসেছি।’
শাপলা চত্বরের ঘটনার বিষয়ে নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘আমি তখন মন্ত্রী ছিলাম। কিন্তু শাপলা চত্বরের ঘটনা বা সে সময়কার কোনো বিষয়ে আমি কিছু জানি না।’
এ সময় সাংবাদিকেরা শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে জানতে চাইলে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘শেখ হাসিনা সম্পর্কে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি নই।’
আদালত সূত্রে জানা গেছে, শাহবাগ থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় আজ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। ওই মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ অন্য আসামিরা আদালতে হাজিরা দেন। তবে তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত আগামী ৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
গত বছরের ২৮ আগস্ট ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মঞ্চ-৭১ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠানে একদল লোক ঢুকে লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে পুলিশের একটি দল সেখানে গেলে তাদের পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পরদিন এই ১৬ জনের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলায় গত বছরের ৬ নভেম্বর হাইকোর্ট থেকে জামিন পান লতিফ সিদ্দিকী। পরে তিনি কারামুক্ত হন।
বীর মুক্তিযোদ্ধা লতিফ সিদ্দিকী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০০৯ সালে মন্ত্রিসভায় স্থান পান। তবে হজ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের পর ২০১৪ সালে তিনি মন্ত্রিত্ব হারানোর পাশাপাশি দল থেকেও বহিষ্কৃত হন।
পরে ২০২৪ সালের বিতর্কিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একই বছরের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংসদ বিলুপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদও বাতিল হয়ে যায়।
ছবি : সংগৃহীত
ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত মামলা শুনানিতে বিব্রতবোধ করেছেন হাইকোর্ট। মামলার নথি পাঠানো হয়েছে প্রধান বিচারপতির কাছে। বুধবার (২৯ জুলাই) হাইকোর্টের বিচারপতি মুজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের একজন বিচারপতি বিব্রতবোধ করেন।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. সাদ্দাম হোসেন ও জায়েদ বিন আমজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ঘটনায় সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় আসে।
হাইকোর্টে দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনে জেএমসি বিল্ডার্সের মাধ্যমে ব্যাংকের শেয়ার নিয়ন্ত্রণ এবং এস আলম গ্রুপের স্বার্থ রক্ষায় তার ভূমিকার অভিযোগ উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট তথ্যে বলা হয়, ২০১৭ সালে সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে এস আলম গ্রুপ ব্যাংক কোম্পানি আইনের একাধিক বিধান লঙ্ঘন করে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। ওই সময় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনকে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরে তিনি ব্যাংকটির ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে তিনি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর হাইকোর্টের নির্দেশে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার কেলেঙ্কারির বিষয়ে তদন্ত শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা (বিএফআইইউ)। এ বিষয়ে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করেছে বিএফআইইউ।
চিত্রনায়ক রিয়াজ, ফেরদৌস ও সাংবাদিক আনিস আলমগীরসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন জানিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)।
রবিবার (২৬ জুলাই) ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর বরাবর লিখিত ওই আবেদন জানান এসডিএফের কেন্দ্রীয় সদস্য সচিবআল নূর মোহাম্মদ আয়াস।
জুলাই গণহত্যায় প্ররোচনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ওই ২৭ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের আবেদন জানানো হয়।
অভিযুক্তরা হলেন—
১। ফেরদৌস আহমেদ (তৎকালীন ঢাকা-১০ আসনের সংসদ সদস্য ও চিত্রনায়ক)
২। মেহের আফরোজ শাওন (অভিনেত্রী ও নির্মাতা)
৩। রিয়াজ আহমেদ (চিত্রনায়ক)
৪। অরুণা বিশ্বাস (অভিনেত্রী)
৫। শমী কায়সার (নাট্যব্যক্তিত্ব)
৬। রোকেয়া প্রাচী (অভিনেত্রী ও নির্দেশক)
৭। মাহিয়া মাহি (চিত্রনায়িকা)
৮। নিপুণ আক্তার (চিত্রনায়িকা)
৯। তানভীন সুইটি (অভিনেত্রী)
১০। রুবি হক (নাট্যব্যক্তিত্ব)
১১। জ্যোতিকা জ্যোতি (অভিনেত্রী)
১২। সাজু খাদেম (অভিনেতা)
১৩। সোহানা সাবা (অভিনেত্রী)
১৪। পিয়া জান্নাতুল (মডেল ও আইনজীবী)
১৫। শামীমা তুষ্টি (অভিনেত্রী ও বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের নেত্রী)
১৬। হিরো আলম (অভিনেতা)
১৭। আশা হাবীব ভাবনা (অভিনেত্রী)
১৮। সাইমন সাদিক (চিত্রনায়ক)
১৯। সুজাত আজিম (অভিনেত্রী)
২০। জায়েদ খান (চিত্রনায়ক ও নির্বাচনী প্রচারকারী)
২১। আজিজুল হাকিম (অভিনেতা)
২২। চন্দন রেজা (অভিনেতা)
২৩। আসাদুজ্জামান নূর (প্রবীণ অভিনেতা ও সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী)
২৪। মারিয়া কিসপট্টা (মডেল)
২৫। শায়লা ফারজানা মোমিন মেহেদী
২৬। সোমা ইসলাম (টেলিভিশন উপস্থাপিকা)
২৭। আনিস আলমগীর (সাংবাদিক)।
আল নূর মোহাম্মদ আয়াস লেখেন, ‘আমাদের অভিযোগ হলো, ওই ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানসংক্রান্ত ঘটনাবলিতে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গণহত্যায় প্ররোচনা, সহযোগিতা, উসকানি বা সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে জনপরিসরে উপস্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনানুগ তদন্তের স্বার্থে আমরা এই অভিযোগ দাখিল করছি।’
যানবাহনের দৃশ্যমান স্থানে ফিটনেস সনদ প্রদর্শনের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কুইক রেসপন্স টিম গঠন, বেপরোয়া গতি কমাতে প্রতিটি গণপরিবহনে ভেতরে-বাইরে ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা স্থাপন এবং একতলা বিশিষ্ট বাসকে ডাবল ডেকারে রূপান্তর ঠেকাতে বিবাদীদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সেটিও জানতে চেয়েছেন আদালত।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রবিবার বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বসন্তপুর এলাকায় সেন্ট মার্টিন পরিবহনের সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান রিটটি করেন। আইনজীবী বাহাউদ্দিন আল ইমরানকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।
পাশাপাশি দুর্ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে করা তার আবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার সানজিদ সিদ্দিকী।
এর আগে, গত মে মাসে দুর্ঘটনায় আহত সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. বাহাউদ্দিন আল ইমরান হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, সাধারণ এক তলা বাসের চেসিসের ওপরই তৈরি হচ্ছে দ্বিতল স্লিপার বাস। এর মধ্যে কোনো কোনো বাসের নিচ তলায় বিজনেস ক্লাস সিট ও ওপরে স্লিপার সিট থাকে, আবার কোনোটিতে নিচে ও ওপরে দুই তলাতেই থাকে স্লিপার সিট। বাসগুলো সাধারণ এক তলা বাসের তুলনায় বেশি উচ্চতার তৈরি করা হয়। অনুমোদনহীন এই রূপান্তরের বিষয়ে বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা একেবারেই নীরব।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিআরটিএর একজন কর্মকর্তা বলেন, টাইপ অনুমোদন না থাকায় বর্তমানে স্লিপার বাস অনুমোদনের সুযোগ বিআরটিএর নেই।
তবে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। দ্বিতল স্লিপার বাসের চেসিস কী ধরনের হবে, বডির ডিজাইন, সিটের ধরন বিষয়ে বিস্তারিত থাকবে ওই নীতিমালায়।
বর্তমানে কিভাবে স্লিপার বাস চলছে, এ প্রশ্নে ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে সাধারণ বাসের অনুমোদন নিয়ে পরবর্তী সময়ে বাসগুলোকে রূপান্তর করে স্লিপার বাসে পরিণত করা হয়।
তবে বছর ঘুরে ফিটনেস সার্টিফিকেট নিতে আসলে, সেসব বাস কিভাবে ফিটনেস সনদ পায়, এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারেননি ওই কর্মকর্তা।
খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল।
খল অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজলের বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন আপন খালাতো ভাই আজিজুর রহমান টাইগার।
রবিবার (২৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে ডিপজলের খালাতো ভাই এ ওয়ান ট্রেডিং বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টাইগার এ মামলা করেন।
মামলায় ডিপজলের ম্যানেজার আব্দুল গণি এবং ব্যক্তিগত সহকারী খোকনকেও আসামি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মাজহারুল ইসলাম মারুফ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে ডিবি পুলিশের ডিসিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে আগামি ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, আজিজুর রহমান টাইগারের সুনাম, সুখ্যাতি, ব্যাবসায়িক সফলতা, দেশ-বিদেশে পরিচিতিতে ঈষান্বিত হয়ে ডিপজল বিভিন্নভাবে তার অপচেষ্টায় লিপ্ত। তারই ধারাবাহিকতায় ম্যানেজার আব্দুল গণি গত বছরের ৩ অ্যাগাস্ট আজিজুর রহমান টাইগারের বিরুদ্ধে দারুস সালাম থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
সেখানে অভিযোগ করা হয়, টাইগারের নির্দেশে ৩ আগস্ট সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিলশাদ, সাইদুর রহমানসহ ১০-১৫ জন তাদের (ডিপজলের) ভাড়া দেওয়া নাভানা সিএনজিতে জোর করে সাইনবোর্ড ভেঙে তাদের নামে লাগানোর চেষ্টা করে। তারা জমির মালিকানা দাবি করে সামনের মাস থেকে ভাড়া দাবি করে। তবে জিডির তদন্তে টাইগারের সংশ্লিষ্টতা পায়নি পুলিশ। পরদিন ডিপজল তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিষয়টি নিয়ে পোস্ট দেন।
টাইগার দাবি করেন, ওই সম্পত্তির (নাভানা সিএনজি) মালিক তিনি নিজে। ডিপজল ওই সম্পত্তি তার দাবি করে তাকে সমাজে তাকে হেয় করতে চেয়েছেন।
বাদী অভিযোগ করেন, ডিপজল শুধু ফেসবুক পোস্টে ক্ষ্যান্ত হননি। টেলিভিশন, বিভিন্ন পত্রিকায়, অনলাইন নিউজপোর্টালে বিষয়টি প্রচার করে। এতে তার সামাজিক সম্মানহানী করে, ব্যাবসায়িক সুনাম ও কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করেছেন।