ছবি- বঙ্গভবন
সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করতে সমবায় সমিতিগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করার পাশাপাশি তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পণ্য বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘সমবায় সমিতিগুলোর মধ্যে দুর্নীতির কারণে বেশিরভাগ সমিতি নষ্ট হয়ে গেছে এবং তাদের কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছে। হাতে গোনা কয়েকটি সমিতি সফলভাবে কাজ করছে। অথচ সমবায় আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। সমবায় আন্দোলনকে সফল করতে হলে সংগঠনগুলোকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।’
রোববার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, সমবায় আন্দোলন শুরু হয়েছিল ১৯০৪ সালে। দীর্ঘ সময় ধরে এই আন্দোলন চলেছে। মাঝখানে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সমবায়কে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তিনি নিজে যে স্বনির্ভর আন্দোলন, অর্থাৎ স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, সেই উদ্যোগের সঙ্গে সমবায়কে সম্পৃক্ত করে কাজ করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান ষাটের দশকে বাংলাদেশের সমবায় আন্দোলনের পথিকৃৎ হিসেবে পরিচিত ড. আখতার হামিদ খানকে পাকিস্তান থেকে দেশে ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং তাকে বার্ডের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে সমবায় আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছিলেন। ফলে সমবায় আন্দোলন অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। একইসাথে রাষ্ট্রপতি সমবায় উন্নয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উল্লেখযোগ্য অবদান ও কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে সমবায় খাত আরও দ্রুত গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রপতি অতীতের সফল সমবায়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমবায়ের সেই অবস্থান এখন আর নেই। ধীরে ধীরে সমবায় আন্দোলন একেবারে নিচের দিকে চলে গেছে। এখন আর আগের মতো এই আন্দোলনের প্রতি গুরুত্ব বা মনোযোগ দেখা যায় না।’
এজন্য তিনি সমবায় খাতের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের উপযোগী করে বিদ্যমান সমবায় সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন ও যুগোপযোগী করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান। একইসাথে তিনি সমবায় সমিতিগুলো যেন দেশের এনজিওগুলোর সাথে প্রতিযোগিতা করে টিকে থাকতে পারে, সেই ব্যাবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে এনজিওর ধারণা অত্যন্ত সফলভাবে এগিয়ে গেছে। এই এনজিও কার্যক্রমের কারণেও সমবায় আন্দোলন পিছিয়ে পড়েছে। ফলে সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে সমবায় সমিতিগুলো প্রতিযোগিতার সক্ষমতা অর্জন করে এনজিওগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টিকে থাকতে পারে।
সমবায় প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যসমূহের যথাযথ বাজারজাতকরণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলো যেসব পণ্য উৎপাদন করে সেগুলোর বাজারজাতকরণে বড় ধরনের সমস্যা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সমবায় অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। সমবায়ভিত্তিক কোম্পানি তৈরি করা যেতে পারে, যারা এসব পণ্য বাজারজাতকরণে সমবায় সমিতিগুলোকে সহযোগিতা করবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এ ধরনের উদ্যোগে যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। পণ্য বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি দূর করা অত্যন্ত জরুরি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সমবায়ের মূল ধারণা হচ্ছে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করা। নানামুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হলে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য যেসব চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র রয়েছে, সেগুলো মোকাবিলা করে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। এ সময় তিনি সফল সমবায়ী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রশংসা করে বলেন, সম্প্রতি বগুড়ায় পল্লী উন্নয়ন একাডেমিতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেখানে তারা অত্যন্ত চমৎকার কাজ করছে। আজকের অনুষ্ঠানে কয়েকটি সফল সমবায়ের কার্যক্রম ও অগ্রগতি দেখে আমি খুব আনন্দিত হয়েছি। তারা সত্যিকার অর্থেই অনেক ভালো কাজ করছে।
রাষ্ট্রপতি সমবায়ীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আপনারা এখনো সমবায় আন্দোলনকে ধরে রেখেছেন। তবে শুধু ধরে রাখলেই হবে না, এটিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য সমবায় আন্দোলনকে আরও ব্যাপকভাবে দেশের জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। এতে বক্তব্য দেন এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সমবায় ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবদুস সালাম।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন অধিদপ্তরের নিবন্ধক ও মহাপরিচালক সেলিম ফকির। সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক আয়োজিত এ বছর সমবায় দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘করবো সমবায়, গড়বো দেশ। সবার জন্য বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে সফল সমবায়ীদের হাতে পুরস্কার ও ক্রেস্ট তুলে দেন রাষ্ট্রপতি। এর আগে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) ফারুক আহমেদ। রোববার (৮ নভেম্বর) তিনি নতুন এ দায়িত্বে যোগ দেন। এর আগে গত ৩ নভেম্বর তাকে এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ফারুক আহমেদ ১৯৯৮ সালে ১৭তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট ও পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন), র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং হাইওয়ে পুলিশের প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের আওতায় লাইবেরিয়া ও সুদানেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
শিক্ষাজীবনে ফারুক আহমেদ রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিষয়ে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন।
এসআরবির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার সম্মানে স্বাগত দরবার অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি জনমানুষের কল্যাণে আন্তরিকতা, পেশাদারত্ব, জবাবদিহি ও নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অর্পিত দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন।
এ সময় দেশের জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এসআরবি ফোর্সেসকে একটি রোল মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বাহিনীর সব পর্যায়ের সদস্যদের নির্দেশ দেন নতুন মহাপরিচালক।
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম
২০২৬-২৭ অর্থবছরে আমন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ মেট্রিক টন। প্রতি কেজি ৩৫ টাকা দরে কৃষকদের কাছ থেকে এ ধান কিনবে সরকার। রোববার (৮ নভেম্বর) খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সভা শেষে মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম।খাদ্যমন্ত্রী জানান, কৃষকেরা বিক্রি করতে চাইলে লক্ষ্যমাত্রার বাইরেও ধান সংগ্রহ করা হবে। এ ছাড়া ৫ লাখ মেট্রিক টন সিদ্ধ চাল প্রতি কেজি ৪৯ টাকা দরে এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা দরে সংগ্রহ করবে সরকার।
তিনি জানান, আগামী ১৪ নভেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ধান সংগ্রহ চলবে। আর চাল সংগ্রহ করা হবে ১ ডিসেম্বর থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, মোটা চালের দাম বাড়েনি, তবে মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে।চাল রপ্তানির সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দেওয়া হয়েছিল উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে। খাদ্যের অভাবে কেউ মারা যাবে না। কৃষকদের ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে কাজ করছে সরকার।
খাদ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১৭ লাখ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ লাখ মেট্রিক টন গম মজুদ রয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এ বিষয়ে কোনো আবেগ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকেরা জানতে চান—শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সঙ্গে কোনো আইনি লড়াই চালানো হবে কি না। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করণীয়, সেটা আমরা ডিউ প্রসেসে করছি। সেখানে আমাদের যা ডিল করা হবে তা হবে সম্পূর্ণ আইনসংগতভাবে। আপনারা দেখবেন যখনই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেখানে ইমোশনের কোনো বিষয় থাকবে না; বিষয় হলো, আমি আমার আইনটাকে যথাযথভাবে প্রয়োগ করব।
ভারতের আদালতের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এটা একান্তই ভারত সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে দ্বিপক্ষীয় বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় আমরা ইতিমধ্যে তাদের কাছে হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছি। তারা তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে আমরা আইনের নিয়মে যেভাবে আদালতে সোপর্দ করা দরকার, ঠিক সেভাবেই করব।
ভারত শেখ হাসিনাকে বন্দি হিসেবে না দেখে ‘রাষ্ট্রীয় অতিথি’ হিসেবে বিবেচনা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ভারত কী বলছে, তারা বললেই তো আর বাস্তবতা বদলে যাবে না! আমার রাষ্ট্রে উন্মুক্ত আদালতে তার বিচার হয়েছে। আমাদের কাছে তিনি একজন অপরাধী—দেশের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী, এটাই হলো আমাদের কাছে তার চূড়ান্ত পরিচয়।”
জিয়া দম্পতির কবরে শ্রদ্ধা রাষ্ট্রপতির। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর জিয়া উদ্যানে তাদের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এর আগে একই দিন সকালে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শিশুদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
জুমার নামাজের পর শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় শিশুদের উচ্ছ্বসিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীতে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তিনি শিশু-কিশোদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জুমার নামাজ আদায় করে বের হওয়ার সময় শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
তিনি আরও জানান, মসজিদে নারীদের জন্য নির্ধারিত আলাদা স্থানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাজধানীর বনানীতে নৌবাহিনী সদর দপ্তরের কেন্দ্রীয় মসজিদে জুমার নামাজ শেষে তিনি শিশু-কিশোদের সঙ্গে কিছু সময় কাটান।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জুমার নামাজ আদায় করে বের হওয়ার সময় শিশু-কিশোরদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
তিনি আরও জানান, মসজিদে নারীদের জন্য নির্ধারিত আলাদা স্থানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও নামাজ আদায় করেন।
ছবি : সংগৃহীত
ভারতীয় ভিসা আবেদনকারীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন। এখন থেকে সব ধরনের ভিসার আবেদনের সঙ্গে নির্ধারিত ফরম্যাটে ‘ভিসা আন্ডারটেকিং ফর্ম’ বা ভিসা অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নির্ধারিত ফরম্যাটে ফর্ম জমা না দিলে ভিসার আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) হাইকমিশনের ভিসা সংক্রান্ত পোর্টালে প্রকাশিত এক জরুরি অ্যাডভাইজরিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।
অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় ভিসার জন্য আবেদনকারীদের হাইকমিশনের নির্ধারিত লিংক থেকে ‘Visa Undertaking Form’ ডাউনলোড করে যথাযথভাবে পূরণ করতে হবে। এরপর পূরণ করা ফর্মটি স্ক্যান করে NIC Visa Application Portal-এ অনলাইন ভিসা আবেদনের সঙ্গে আপলোড করতে হবে।হাইকমিশন জানিয়েছে, এ ক্ষেত্রে শুধু নির্ধারিত ফরম্যাটের ফর্মই গ্রহণযোগ্য হবে। অন্য কোনো ফরম্যাটে অঙ্গীকারনামা জমা দিলে আবেদন গ্রহণ করা হবে না।
ফর্মে যেসব তথ্য দিতে হবে
প্রকাশিত এক পাতার অঙ্গীকারনামায় প্রথমে আবেদনকারীকে নিজের নাম লিখে ঘোষণা দিতে হবে, তিনি যে উদ্দেশ্যে ভিসার আবেদন করছেন, ভারত সফরের সময় শুধু সেই উদ্দেশ্যেই দেশটিতে অবস্থান করবেন। পাশাপাশি আবেদনের তারিখে তিনি ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের অধিক্ষেত্রে বসবাস করছেন এবং আবেদনে দেওয়া সব তথ্য সঠিক- এমন অঙ্গীকারও করতে হবে।
ফর্মের প্রথম অংশে ব্যক্তিগত তথ্য হিসেবে পাসপোর্ট অনুযায়ী নাম, পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয়তা, জন্মতারিখ এবং ঢাকার বর্তমান ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে।
দ্বিতীয় অংশে ভারত সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। যেমন- পর্যটন, ব্যবসা, চিকিৎসা কিংবা সম্মেলনে অংশগ্রহণ।
এ ছাড়া ফর্মের পরবর্তী তিনটি অংশে আবেদনকারীকে কয়েকটি বিষয়ে অঙ্গীকার করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে, সফর শেষ হওয়ার পর নিজ দেশে ফিরে আসা এবং কোনো অবস্থাতেই ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভারতে অবস্থান না করা।
ভারতে অবস্থানকালে দেশটির প্রচলিত আইন, বিধিবিধান ও সংস্কৃতি মেনে চলার পাশাপাশি কোনো ধরনের আইনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকারও করতে হবে। ফর্মে সতর্ক করে বলা হয়েছে, আইন লঙ্ঘন করলে ভিসা বাতিল হতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভারতীয় ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সবশেষে আবেদনকারীকে ফর্মে স্বাক্ষর, স্থান ও তারিখ উল্লেখ করতে হবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বাবা-মা উভয়কে অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করতে হবে।