পরকালের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন

  • প্রকাশ : শুক্রবার ০৩ জুলাই, ২০২৬, সময় : ২:০৩ এএম

পৃথিবীতে আমাদের ক্ষণস্থায়ী জীবনে শুধু একটি বিষয়েরই শতভাগ নিশ্চয়তা রয়েছে, আর তা হলো মৃত্যু। মৃত্যু এমন এক বাস্তব সত্য, যা থেকে পালানোর কোনো পথ মানুষের নেই। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে এবং শেষ পর্যন্ত আমার কাছেই ফিরে আসতে হবে। 


অন্য আয়াতে এসেছে, তোমরা যেখানেই থাকো না কেন, মৃত্যু তোমাদের স্পর্শ করবেই; এমনকি তোমরা যদি সুউচ্চ সুদৃঢ় দুর্গের ভেতরেও অবস্থান করো।


প্রশ্ন উঠতে পারে, জীবন-মৃত্যু ও পুনরুত্থানের এই অন্তহীন চক্রের উদ্দেশ্য কী? যুগের পর যুগ ধরে বড় বড় দার্শনিকদের মনে এই প্রশ্ন ঘুরপাক খেয়েছে। তবে মানুষের বুদ্ধিমত্তা দিয়ে অদৃশ্যের এই রহস্য ভেদ করা অসম্ভব। এর উত্তর শুধু তিনিই দিতে পারেন, যার কাছে অদৃশ্যের চাবিকাঠি রয়েছে। 


সূরা মুলক-এ আল্লাহ বলছেন, যিনি সৃষ্টি করেছেন মৃত্যু ও জীবন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করতে পারেন যে, তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে কে সবচেয়ে উত্তম। আর তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।


ধরা যাক, আমরা যদি মাত্র কয়েক দিনের জন্য কোনো বিদেশি রাষ্ট্রে সফরে যাই, তবে তার প্রস্তুতি নিতেই আমাদের সপ্তাহখানেক লেগে যায়। কেনাকাটা, ব্যাগ গোছানো এবং প্রয়োজনীয় রসদ নেওয়ার জন্য বিভিন্ন তোড়জোড় চলে। তাহলে আমাদের যে চূড়ান্ত ও চিরস্থায়ী যাত্রার টিকিট নিশ্চিত হয়ে আছে, তার জন্য আমাদের প্রস্তুতি কতটুকু? এই যাত্রার সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা হলো, আমরা কেউই জানি না আমাদের কখন আসবে। এটা যেকোনো মুহূর্তে, এমনকি এখনই হতে পারে।


দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী আর পরকাল চিরস্থায়ী। জান্নাতের অসীম নিয়ামত কিংবা জাহান্নামের কঠিন শাস্তি-সবকিছুই হবে অনন্তকাল ধরে, যেখান থেকে ফিরে আসার আর কোনো পথ থাকবে না। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো বর্তমান সময়কে কাজে লাগানো এবং আজ থেকেই পরকালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।


কেয়ামতের দিনের অন্যতম একটি নাম হলো ইয়াওমুল হাসরাহ, যার অর্থ অনুতাপ বা আফসোসের দিন। কখনো কি ভেবে দেখেছেন, সেদিন যদি জান্নাতে যাওয়ার জন্য মাত্র একটি নেক আমল কম পড়ে, তবে কেমন হবে সেই পরিস্থিতি? তখন হয়তো আমাদের আফসোস করে বলতে হবে, ইশ! যদি ফজরের ঘুমের চেয়ে নামাজকে প্রাধান্য দিতাম, কিংবা যদি সেই ছোট গুনাহটি না করতাম! শুধু এই ভাবনাটুকুই অন্তরকে কাঁপিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।


অনেক সময় আমাদের ইমান যখন খুব চাঙ্গা থাকে, তখন আমরা একসঙ্গে অনেক বেশি ভালো কাজ করার চেষ্টা করি। তবে সামর্থ্যের অতিরিক্ত করতে গিয়ে একসময় আমরা হাঁপিয়ে উঠি এবং পরে অলসতার কারণে ফরজ কাজগুলোও ঠিকঠাক করতে পারি না। এই পরিস্থিতি এড়াতে আলেমরা তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন।


প্রথমত, নিজের নামাজকে ঠিক করা। সময়মতো এবং নিয়মিত নামাজ পড়ার পাশাপাশি অন্তরে প্রশান্তি বা খুশু-খুজু তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। সফল তো তারাই, যারা নিজেদের নামাজে বিনয়ী ও নম্র। 


দ্বিতীয়ত, একসঙ্গে অনেক ভালো কাজ করতে গিয়ে ক্লান্ত না হয়ে, ভেতরকার খারাপ অভ্যাসগুলো একে একে দূর করা। একটি খারাপ অভ্যাসকে একটি ভালো অভ্যাস দিয়ে প্রতিস্থাপন করা উচিত; যেমন লোভের জায়গায় দানশীলতা তৈরি করা। 


তৃতীয়ত, সবসময় সৎ ও ভালো বন্ধুদের সাহচর্যে থাকা। কারণ মানুষ সাধারণত তার বন্ধুর আদর্শ দ্বারাই প্রভাবিত হয়।


একজন প্রকৃত মুমিনের মূল লক্ষ্য থাকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। আল্লাহ যা ভালোবাসেন, তা ভালোবাসা এবং আল্লাহ যা অপছন্দ করেন, তা থেকে দূরে থাকাই ইমানের মূল ভিত্তি। আল্লাহর প্রতি এই ভালোবাসা তৈরি হয় আশা এবং ভয়ের সমন্বয়ে। 


বিখ্যাত ইসলামী পণ্ডিত ইবনুল কাইয়িম ইমানকে একটি পাখির সঙ্গে তুলনা করেছেন, যার মাথা হলো ভালোবাসা আর দুই ডানা হলো আশা ও ভয়। একটি ডানা ভেঙে গেলে বা ভারী হয়ে গেলে পাখি যেমন উড়তে পারে না, তেমনি আশা ও ভয়ের ভারসাম্য না থাকলে মুমিনও তার গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না।


আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার গভীরতা নিয়ে শায়খ সালিহ আল-মুনাজ্জিদ বলেছেন, আল্লাহর ভালোবাসা হলো স্বয়ং জীবন, যা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অর্থ হলো এক ভয়ানক মৃত্যু। এটি এমন এক আলো, যা ছাড়া মানুষ অন্ধকারের সমুদ্রে হারিয়ে যাবে। এটি অন্তরের সমস্ত রোগের একমাত্র নিরাময় এবং এটিই ইমানের মূল নির্যাস। এই ভালোবাসা ছাড়া মানুষ কখনো জান্নাতে পৌঁছাতে পারবে না।


আমাদের এই সীমিত সময়কে কাজে লাগিয়ে পরকালের চিরস্থায়ী আবাস সুন্দর করার এবং আল্লাহর প্রকৃত ভালোবাসা পাওয়ার তাওফিক দান করুন।



  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২২ এএম
  • আপডেট : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২২ এএম

এ সম্পর্কিত আরও খবর


কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা

  • প্রকাশ : রবিবার ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:২২ এএম

কোজাগরী পূর্ণিমা আজ। এ দিন হিন্দু সম্প্রদায় শ্রীশ্রী কোজাগরী লক্ষ্মী দেবীর পূজা করেন। শারদীয় দুর্গোৎসবের পর প্রথম পূর্ণিমা তিথিতে ভক্তরা বিনিদ্র থেকে দেবী লক্ষ্মীর পূজা করেন। আশ্বিনী পূর্ণিমা ছাড়াও কেউ কেউ প্রতি বৃহস্পতিবার লক্ষ্মীর বিশেষ পূজা করে থাকেন। কোনো কোনো অঞ্চলে দীপান্বিতা অমাবস্যায় সন্ধ্যাবেলা লক্ষ্মীপূজার রীতি প্রচলিত আছে। ঘটে বা মূর্তিতে লক্ষ্মীর পূজা করা হয়। এ পূজা ব্যক্তিগত বা সার্বজনীনভাবে অনুষ্ঠিত হয়।


শাস্ত্রমতে, দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পদ তথা ঐশ্বর্যের প্রতীক। উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মী। তাই লক্ষ্মী ঐশ্বর্যের দেবী।


লক্ষ্মীর বাহন প্যাঁচা। বিষ্ণু রাম ও কৃষ্ণরূপে অবতার গ্রহণ করলে, লক্ষ্মী সীতা ও রাধারূপে তাদের সঙ্গিনী হন। কোজাগরী পূর্ণিমা রাতে দেবী লক্ষ্মী ধনধান্যে ভরিয়ে দিতে ভক্তগৃহে আসেন। প্রাচীনকাল থেকেই রাজা-মহারাজা, ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থ সবাই দেবী লক্ষ্মীর পূজা দিয়ে আসছেন।


বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে, কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা পালিত হবে ২৫ অক্টোবর রোববার। পূর্ণিমা তিথি শুরু হবে আজ রোববার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে। পূর্ণিমা তিথি শেষ হবে ২৬ অক্টোবর সকাল ৯টা ৪১ মিনিটে।


লক্ষ্মীকে নিয়ে বাংলার জনসমাজে বিভিন্ন জনপ্রিয় গল্প প্রচলিত আছে। এই গল্পগুলো পাঁচালি আকারে লক্ষ্মীপূজার দিন পাঠ করা হয়। একে লক্ষ্মীর পাঁচালি বলা হয়।


লক্ষ্মীপূজার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো- সিঁদুর, ঘট, ধান, মাটি, আম্রপল্লব, ফুল, দূর্বা, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন, ধূপ, দীপ, নৈবেদ্য, আতপচাল ও জল। লক্ষ্মীপূজায় মঙ্গলঘট, ধানের ছড়ার সঙ্গে গৃহস্থের আঙিনায় শোভা পায় চালের গুঁড়ার আলপনায় লক্ষ্মীর ছাপ। এ উপলক্ষে রমণীরা উপবাস ব্রত পালন করেন।


লক্ষ্মীপূজায় রাত্রি জাগরণ করা হয়। কোজাগরী অর্থাৎ কে জাগরী বা কে জেগে আছো। শাস্ত্র মতে, এই রাতে লক্ষ্মী সবার বাড়িতে যান। যে গৃহের দরজা বন্ধ থাকে ও গৃহস্থরা ঘুমিয়ে থাকেন, সেখান থেকে লক্ষ্মী ফিরে আসেন। এ কারণে এই লক্ষ্মীপূজাকে কোজাগরী বলা হয়। লক্ষ্মীপূজায় অনেকে উপবাসব্রত পালন করেন। পূজা অর্চনার পাশাপাশি বাড়ির আঙিনায় লক্ষ্মীর পায়ের ছাপের আলপনা আঁকা হয়।


দুর্গাপূজা। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৯:১৬ পিএম

একই বছরে দুইবার শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন হতে যাচ্ছে ২০২৮ সালে। পঞ্জিকার তিথি গণনার পদ্ধতিগত পার্থক্যের কারণে প্রায় ১৫ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় দুর্গোৎসবে মাতবেন বাঙালিরা। বিরল এই ঘটনা নিয়ে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।


ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে জোড়া সপ্তমী এবং ২০২৭ সালে জোড়া মহাঅষ্টমীর পর ২০২৮ সালে তিথি গণনার ভিন্নতার কারণে দুই সময়ে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।


হিন্দু শাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলায় মূলত দুটি পদ্ধতি অনুসরণ করে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। একটি হলো বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত, অন্যটি সূর্য সিদ্ধান্ত। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্তে দৃকসিদ্ধ গণনাপদ্ধতি অনুসরণ করা হয়। অন্যদিকে সূর্য সিদ্ধান্তে মহাজাগতিক অবস্থানের ভিত্তিতে তিথি ও নক্ষত্র গণনা করা হয়। এই দুই পদ্ধতির হিসাবের পার্থক্যের কারণেই ২০২৮ সালে দুর্গাপূজার সময় এক হবে না।


প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুসারে ২০২৮ সালের দুর্গাপূজা সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হবে। আর সূর্য সিদ্ধান্ত মেনে পূজার আয়োজন করা হলে তা হবে অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। ফলে দুই দফার পূজার মধ্যে ১৫ দিনের বেশি ব্যবধান থাকবে। বেলুড় মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘের মতো বিভিন্ন মঠ, মন্দির ও আশ্রমে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত অনুসারে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়। অন্যদিকে বনেদি বাড়ি, বারোয়ারি ও সর্বজনীন পূজার ক্ষেত্রে সূর্য সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে এক বছরে দুইবার দুর্গাপূজার এমন ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ১৯৮০ সালেও দুই পদ্ধতি অনুসারে দুই সময়ে দেবী দুর্গার পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী, উভয় পদ্ধতিতেই পূজার আয়োজন শুদ্ধ বলে বিবেচিত হয়।


এক বছরে দুই দফায় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হলেও সরকারি ছুটি দুইবার ঘোষণা করা হবে না। প্রতিবেদন অনুযায়ী, অফিস, স্কুল ও কলেজে ছুটি থাকবে একবারই। বারোয়ারি পূজার সময়ের সঙ্গে মিল রেখে ছুটি নির্ধারণ করা হবে।

বিষয় :


ইসলামে উপহার আদান-প্রদান অত্যন্ত সুন্দর একটি রীতি

  • প্রকাশ : শনিবার ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩১ পিএম

ইসলামি সমাজব্যবস্থায় উপহার আদান-প্রদান অত্যন্ত সুন্দর একটি রীতি। এর ফলে পারস্পারিক সৌহার্দ্য যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি এটি ক্ষোভ-বিদ্বেষ দূর করে। খোদ রাসুল (সা.) বলেছেন- তোমরা একজন অন্যজনকে উপহার দাও। উপহার মনের ময়লা দূর করে। এক নারী প্রতিবেশী অপর নারী প্রতিবেশীকে যদি বকরির (ছাগল) পায়ের এক টুকরা ক্ষুরও উপহার দেয়, তবুও যেন তা অবহেলা না করে। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ২১৩০; সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৩৯৬)


তবে ইসলামে উপহার আদান-প্রদানের ক্ষেত্রে হালাল-হারাম ও ইনসাফের সুস্পষ্ট সীমারেখা রয়েছে। সব ধরনের উপহার দেয়া-নেয়া যেমন ইসলামে জায়েজ নেই, তেমনি যেসব উপহারের নামে সুদ-ঘুষ বা কোনো অন্যায়ের লেনদেন হয়- সেসব ক্ষেত্রে কঠোর নিষেধাজ্ঞা এসেছে।


খোদ রাসুল (সা.)-ও হাদিয়া বা উপহার কবুল করতেন এবং অন্যদের উপহার দিতেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাদিয়া (উপহার) কবুল করতেন এবং তার প্রতিদানও দিতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪১৪) নিচে ইসলামে নিষিদ্ধ এমন ৪ ধরনের উপহার সম্পর্কে আলোচনা তুলে ধরা হলো:


রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কোনো ক্ষেত্রে উপহার আদান-প্রদান নিষিদ্ধ


রাষ্ট্রীয় কোষাগার কিংবা সরকারি কোনো দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির জন্য সাধারণ মানুষের কাছ থেকে উপহার আদান-প্রদান ইসলামে নিষিদ্ধ। এটি মূলত ঘুষের নামান্তর। হাদিসেও এ বিষয়ে কঠোর বার্তা এসেছে। রাসুল (সা) ঘুষ গ্রহণকারী ও ঘুষ প্রদানকারী উভয়কেই অভিসম্পাত করেছেন। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১৩৩৭)


আবু হুমায়দ সাঈদী (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে- একবার নবীজি (সা.) আযদ গোত্রের ইবনু উতবিয়া নামের একজনকে সাদকা সংগ্রহের কাজে নিয়োগ করেছিলেন। তিনি ফিরে এসে বললেন- এগুলো আপনাদের (অর্থাৎ, সাদকার মাল), আর এগুলো আমাকে হাদিয়া (উপহার) দেয়া হয়েছে। পরে নবীজি (সা.) এ কথা শুনে রাগান্বিত হয়ে বলেন- সে তার বাবার ঘরে কিংবা তার মায়ের ঘরে কেন বসে থাকল না? তখন সে দেখত, তাকে কেউ হাদিয়া দেয়া কি না?


পরে রাসুল (সা) বলেন- যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার কসম, সাদকার মাল থেকে সামান্য পরিমাণও যে আত্মসাৎ করবে, সে তা কাঁধে করে কিয়ামতের দিন হাজির হবে। সেই মাল যদি উট হয়, তাহলে তা তার আওয়াজে, আর যদি গাভী হয়, তাহলে হাম্বা হাম্বা, আর বকরি হলে ভ্যাঁ ভ্যাঁ রবে (আওয়াজ করতে থাকবে)। তারপর নবীজি (সা.) তার দু’হাত কিছুটা উত্তোলন করলেন যার ফলে তার উভয় বগলের শুভ্রতা প্রকাশ পেল। এরপর তিনি (নবীজি সা.) বারবার বললেন- হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি। হে আল্লাহ আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪২৫)


চাকরি কিংবা কোনো কাজের বিনিময় হিসেবে উপহার গ্রহণ নিষিদ্ধ


ইসলামে বরাবরই সৎ কাজে উৎসাহ দেয়া এবং অসৎ কাজে নিষেধের কথা এসেছে। এ ক্ষেত্রে কারও চাকরি, বিপদমুক্তি কিংবা কোনো বৈধ কাজে কারও জন্য সুপারিশ করা মহৎ কাজ। তবে এই উপকারের বিনিময় হিসেবে কোনো উপহার গ্রহণ করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে ইসলামে কঠোর নিষেধ রয়েছে।


আবু উমামাহ (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন- কোনো ব্যক্তি তার কোনো ভাইয়ের জন্য কোনো বিষয়ে সুপারিশ করার কারণে যদি সে তাকে কিছু উপহার দেয় এবং সে (যে উপকার বা সুপারিশ করল) তা গ্রহণ করে, তাহলে সে সুদের একটি বড় দরজা দিয়ে প্রবেশ করলো। (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ৩৫৪১)


অর্থাৎ, ইসলামে কারও জন্য সুপারিশ করতে হলে নিঃস্বার্থভাবে সেটি করতে হবে। উপকারের পর উপহার নিলে ইসলামে সেটি সুদের মতোই পাপ হিসেবে গণ্য হবে। আর পবিত্র কুরআনে স্পষ্টভাবে ঘোষণা এসেছে- আল্লাহ তায়ালা ব্যবসা হালাল করেছেন এবং সুদ হারাম করেছেন। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৭৫)


ঋণের সঙ্গে উপহার আদান-প্রদান নিষিদ্ধ


বিপদ-আপদে কাউকে ঋণ দেয়া উত্তম কাজ। তবে কাউকে ঋণ দিয়ে তার কাছ থেকে অতিরিক্ত কোনো সুবিধা নেয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কারণ, ইসলামে এটিও সুদের অন্তর্ভুক্ত।


আবু বুরদা (রহ.) বলেন- একবার আমি মদিনায় গেলাম। পরে আবদুল্লাহ ইবনু সালামের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন- তুমি আমাদের এখানে আসবে না? তোমাকে আমি খেজুর ও ছাতু খেতে দেবো এবং একটি (মর্যাদাপূর্ণ) ঘরে থাকতে দেব। তারপর তিনি বললেন- তুমি এমন স্থানে (তৎকালীন ইরাক) বসবাস করো, যেখানে সুদের কারবার অত্যন্ত ব্যাপক। যখন কোনো মানুষের কাছে তোমার কোনো প্রাপ্য থাকে, আর সেই মানুষটি যদি তোমাকে কিছু ঘাস, খড় অথবা খড়ের ন্যায় নগণ্য বস্তুও হাদিয়া (উপহার) পেশ করে- তা গ্রহণ করো না, যেহেতু তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩৫৪২)


ইয়াহইয়া ইবনে আবু ইসহাক আল-হানাঈ (রা.) থেকে বর্ণিত আরেকটি হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন- তোমাদের কেউ কোনো জিনিস করয (ধার বা ঋণ) দেয়ার পর করযদার (ঋণগ্রহীতা) তাকে কিছু উপঢৌকন (উপহার) দিলে বা তার সওয়ারীতে (বাহন) আরোহণ করাতে চাইলে, সে যেন তাতে আরোহণ না করে এবং উপঢৌকন গ্রহণ না করে। তবে তাদের মধ্যে আগে থেকেই এমন সৌজন্যমূলক বিনিময়ের প্রচলন থাকলে সে ক্ষেত্রে আপত্তি নেই। (সুনান ইবনু মাজাহ, হাদিস: ২৪৩২)


সন্তানদের বৈষম্য করে উপহার দেয়া নিষিদ্ধ


ইসলামে সন্তানদের বস্তুগত উপহারের পাশাপাশি ভালো আচরণ ও শিক্ষা দেওয়াকেও সবচেয়ে বড় উপহার হিসেবে দেখা হয়। খোদ রাসুল (সা.) বলেছেন- কোনো পিতা তার সন্তানকে উত্তম শিষ্টাচার শিক্ষা দেয়ার চেয়ে বেশি উত্তম কোনো জিনিস দিতে পারে না। (সুনান আত তিরমিজি, হাদিস: ১৯৫২)


তবে বাবা-মায়ের জন্য সন্তানদের উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে সমতা ও ইনসাফ বজায় রাখাও জরুরি। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া এক সন্তানকে বেশি বা দামি উপহার দেয়া এবং অন্যদের বঞ্চিত করা ইসলামে ন্যায়বিচারের পরিপন্থি।


আমির (রহ.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, তিনি নু’মান ইবনু বশীর (রা.) কে মিম্বরের উপর বলতে শুনেছেন যে- আমার পিতা আমাকে কিছু দান করেছিলেন। তখন (আমার মাতা) আমরা বিনত রাওয়াহা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে সাক্ষী রাখা ছাড়া (এ দানে) সম্মত নই। পরে তিনি রাসুল (সা.) কাছে হাজির হয়ে আরজ করলেন- আমরা বিনতে রাওয়াহার গর্ভজাত আমার পুত্রকে কিছু দান করেছি। কিন্তু ইয়া রাসুলাল্লাহ (সা.)! সে আমাকে বলেছে- আপনাকে সাক্ষী রাখতে। এরপর তিনি (নবীজি সা.) আমাকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমার সব ছেলেকেই কি এ ধরনের দান করেছ? জবাবে বশীর (রা) বললেন- না। পরে রাসুল (সা.) বললেন- তাহলে আল্লাহকে ভয় করো এবং আপন সন্তানদের মধ্যে সমতা রক্ষা করো। এরপর বশীর (রা.) ফিরে এসে তার দান প্রত্যাহার করে নেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৪১৬)


প্রতীকী ছবি

  • প্রকাশ : শুক্রবার ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:১৪ এএম

ইবাদত একজন মুমিনের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নামাজ, রোজা, দান-সদকা কিংবা মানুষের উপকার করা—সবই নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। তবে শুধু আমল করাই যথেষ্ট নয়; বরং সেই আমল আল্লাহ–তায়ালার কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আমলের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও তাঁর কাছে প্রতিদান লাভের ওপর। ইবাদত কবুলের গুরুত্বপূর্ণ ৪টি বিষয় জেনে নেওয়া যাক।


১. বিশুদ্ধ ইমান থাকা


নেক আমল কবুল হওয়ার অন্যতম মৌলিক শর্ত হলো ইমান। আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস, তাঁর নির্দেশনার প্রতি আনুগত্য এবং শিরক থেকে মুক্ত থাকা একজন মুমিনের জীবনের ভিত্তি। ইমান ছাড়া কোনো আমল পরকালে মুক্তি ও প্রতিদান লাভের নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হতে পারে না।


আল্লাহ–তায়ালা বলেন, ‘আর যে মুমিন অবস্থায় সৎকর্ম করবে, পুরুষ হোক কিংবা নারী, তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ১২৪)


এ আয়াত থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর কাছে সৎকর্মের প্রতিদান লাভের সঙ্গে ইমানের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই একজন মুমিনের প্রথম দায়িত্ব হলো বিশুদ্ধ ইমান নিয়ে জীবনযাপন করা এবং শিরকসহ ইমানের পরিপন্থী সব বিষয় থেকে নিজেকে রক্ষা করা।


২. সুন্নত অনুযায়ী আমল করা


ইবাদত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। তবে কোনো কাজকে ইবাদত হিসেবে পালন করতে হলে তা রাসুলের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। ধর্মের নামে এমন কোনো ইবাদত বা পদ্ধতি উদ্ভাবন করা গ্রহণযোগ্য নয়, যার ভিত্তি নেই।


নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আমাদের এ বিষয়ে এমন কিছু নতুন সৃষ্টি করল, যা এর অন্তর্ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২৬৯৭)


৩. হালাল খাবার গ্রহণ করা


নেক আমল কবুলের ক্ষেত্রে হালাল উপার্জন ও পবিত্র খাবার গ্রহণের গুরুত্ব অপরিসীম। একজন মানুষ নামাজ পড়ছেন, রোজা রাখছেন কিংবা দান-সদকা করছেন, কিন্তু তার উপার্জন ও ভোগের উৎস যদি হারাম হয়, তবে তা তার ইবাদত কবুলের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।


হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া গ্রহণ করেন না।’


এরপর তিনি এমন এক ব্যক্তির কথা উল্লেখ করেন, যে দীর্ঘ সফরে ক্লান্ত ও ধুলামলিন অবস্থায় দুই হাত তুলে আল্লাহর কাছে দোয়া করে। অথচ তার খাবার হারাম, পানীয় হারাম, পোশাক হারাম এবং হারাম উপার্জন দিয়েই তার জীবন পরিচালিত।


এরপর নবীজি (সা.) বলেন, ‘তাহলে কীভাবে তার দোয়া কবুল হবে?’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০১৫)


এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, হালাল উপার্জন ও পবিত্র জীবনযাপন ইবাদত কবুলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হারাম উপার্জন মানুষের আত্মিক জীবনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ইবাদত কবুলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।


তাই নেক আমলের পাশাপাশি উপার্জন ও ভোগের প্রতিটি ক্ষেত্রে হালাল-হারামের বিধান মেনে চলা জরুরি।


৪. আমলে ‘ইখলাস’ থাকা


ইবাদতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো ইখলাস। অর্থাৎ মানুষের প্রশংসা, সামাজিক মর্যাদা কিংবা ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য নয়; বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে ইবাদত করা।


কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তাদের তো এ ছাড়া কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি যে তারা আল্লাহর ইবাদত করবে তারই জন্য দ্বীনকে একনিষ্ঠ করে।’ (সুরা বাইয়্যিনাহ, আয়াত: ৫)


কেউ যদি মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য দান করেন, নিজেকে ধার্মিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইবাদত করেন কিংবা সামাজিক মর্যাদা অর্জনের উদ্দেশ্যে নেক কাজ করেন, তবে তা ইখলাসের পরিপন্থী। ইসলামে এই লোকদেখানো মনোভাবকে ‘রিয়া’ বলা হয়, যা কঠোরভাবে নিন্দিত।


আল্লাহ–তায়ালা বলেন, ‘অতএব দুর্ভোগ সেই নামাজিদের জন্য, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন; যারা লোকদেখানোর জন্য তা করে। (সুরা মাউন, আয়াত: ৪-৬)


তাই আমল করার আগে নিজের নিয়ত যাচাই করা উচিত। নিজেকে প্রশ্ন করা প্রয়োজন, আমি কি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজটি করছি, নাকি মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য?


নিয়ত বিশুদ্ধ রাখা এবং লোকদেখানো মনোভাব থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করাই ইখলাসের পথে চলার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।


মো. রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ২২ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১:৫১ এএম

বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম এত সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও পূর্ণ নিরাপত্তায় দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন।


বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে রাশেদ খাঁন বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম এত সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও পূর্ণ নিরাপত্তার সহিত দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা উদযাপন করেছে।’


‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে এভাবেই হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ নানা ধর্ম গোষ্ঠীর মানুষেরা নিরাপদে থাকবে, নিরাপদে ধর্ম পালন করবে, উৎসব করবে’ বলেন তিনি। তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে থাকেন, এটা আবারও প্রমাণ হলো। প্রমাণিত হলো যে, ফ্যাসিবাদী জমানায় রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য ও আওয়ামী লীগের প্রভু রাষ্ট্রের আশীর্বাদ পেতেই মন্দিরে পরিকল্পিত হামলা হয়েছে।’


রাশেদ খাঁন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘ধন্যবাদ জানাই, মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। তার সঠিক তত্ত্বাবধানে পুলিশ-প্রশাসন, এসআরবি, আনসার-ভিডিপিসহ সমস্ত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে ও রাত জেগে পাহারা বসিয়ে সমস্ত ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে দিয়েছে।’


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : সোমবার ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:০৮ এএম

মুহাম্মদ (সা.) নিজের প্রাত্যহিক আচরণে এমন এক ভারসাম্যপূর্ণ ও বিজ্ঞানসম্মত জীবনপদ্ধতি বাস্তবায়ন করে গেছেন, যা মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গের সুস্থতা নিশ্চিত করে। তিনি স্বাস্থ্যকে ইমানের পর মানুষের সবচেয়ে বড় নেয়ামত হিসেবে ঘোষণা করেছেন।


তিনি বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও সুস্বাস্থ্য (আফিয়াত) প্রার্থনা করো। কেননা, ইমানের পর সুস্বাস্থ্যের চেয়ে উত্তম কোনো বস্তু কাউকে দেওয়া হয়নি।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৫৮)


রাসুলের জীবন থেকে ছয়টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস আলোচনা করা হলো: 


১. খুব সকালে জেগে ওঠা


নবীজির জীবনের রুটিন ছিল রাতের প্রথম প্রহরে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া এবং শেষ প্রহরে তাহাজ্জুদ ও ফজরের জন্য জেগে ওঠা। তিনি কখনো ইশার নামাজের পর অপ্রয়োজনীয় আলাপ–আলোচনা পছন্দ করতেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৮)


উম্মতের জন্য ভোরের কল্যাণ কামনা করে রাসুল (সা.) দোয়া করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ, আমার উম্মতের সকালের প্রহরে (ভোরের সময়ে) বরকত দান করুন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ২৬০৬)


আধুনিক ঘুম ও নিউরোবায়োলজি অনুযায়ী, মানবদেহে একটি নিজস্ব জৈবিক ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ রয়েছে। ভোরের নির্মল বাতাসে ওজোন ও বিশুদ্ধ অক্সিজেনের মাত্রা সর্বোচ্চ থাকে, যা ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে।


দেরিতে ঘুম থেকে ওঠার ফলে দেহে কর্টিসল হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যা দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি ও মানসিক বিষণ্নতা তৈরি করে।


২. পেটের এক–তৃতীয়াংশ নীতি


অতিভোজন ও অপরিমিত খাদ্য গ্রহণই আধুনিক বিশ্বের অধিকাংশ জটিল রোগের মূল কারণ। মহানবী (সা.) খাদ্য গ্রহণের এমন এক বৈপ্লবিক ফর্মুলা দিয়েছিলেন, যা বর্তমান গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজির মূল স্তম্ভ।


রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘পেটের চেয়ে নিকৃষ্ট কোনো পাত্র মানুষ কখনো ভর্তি করেনি। মানুষের মেরুদণ্ড সোজা রাখার জন্য কয়েক লোকমা আহারই যথেষ্ট। যদি খেতেই হয়, তবে সে যেন পেটের এক–তৃতীয়াংশ খাবারের জন্য, এক–তৃতীয়াংশ পানির জন্য এবং বাকি এক–তৃতীয়াংশ শ্বাস–প্রশ্বাসের জন্য ফাঁকা রাখে।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ২৩৮০)


পেট পুরোপুরি ভর্তি না করে এক ভাগ খালি রাখলে খাদ্য পরিপাক দ্রুত ও সহজ হয়, অম্লতা (অ্যাসিডিটি) প্রতিরোধ হয় এবং পরিপাকতন্ত্রে অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। এ ছাড়া তিনি কখনো আহারে কোনো ত্রুটি ধরতেন না; পছন্দ হলে তৃপ্তি ভরে খেতেন, আর রুচি না হলে শান্তভাবে তা এড়িয়ে যেতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৪০৯)


৩. ধীরে–সুস্থে ও বসে তিন শ্বাসে পানি পান


তৃষ্ণার্ত হয়ে দাঁড়িয়ে ঢকঢক করে দ্রুত পানি পান করা আধুনিক গ্যাস্ট্রিক রিফ্লাক্স ও খাদ্যনালির বিভিন্ন সমস্যার কারণ। মহানবী (সা.) দাঁড়িয়ে পানি পান করতে নিষেধ করেছেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২০২৪)


রাসুল (সা.) সর্বদা বসে, পাত্রের বাইরে নিশ্বাস ছেড়ে, ধীরে ধীরে তিন শ্বাসে পানি পান করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৩১)


দাঁড়িয়ে দ্রুত পানি পান করলে পানির তীব্র স্রোত খাদ্যনালি দিয়ে সরাসরি পাকস্থলীর দেয়ালে আঘাত হানে, যা সময়ের ব্যবধানে পরিপাকতন্ত্রের সংবেদনশীল আস্তরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বসে ধীরে ধীরে পানি পান করলে স্নায়ুতন্ত্র শিথিল থাকে এবং কিডনি রক্ত থেকে বিষাক্ত উপাদান ফিল্টার করার পর্যাপ্ত সময় পায়।


৪. দাঁতের যত্নে মিসওয়াক ব্যবহার


দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায় মহানবী (সা.) ছিলেন সচেতন পথপ্রদর্শক। তিনি প্রতিটি অজুর সময়, নামাজে দাঁড়ানোর আগে, ঘুম থেকে ওঠার পর এবং ঘরে প্রবেশ করার মুহূর্তে নিয়মিত মিসওয়াক ব্যবহার করতেন।


তিনি বলেছেন, ‘মিসওয়াক হলো মুখ পরিষ্কারকারী এবং রবের সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম।’ (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ৫)


অন্য বর্ণনায় এসেছে, ‘যদি আমার উম্মতের ওপর কষ্টকর মনে না করতাম, তবে প্রতি ওয়াক্তের নামাজের আগেই তাদের মিসওয়াক করা বাধ্যতামূলক নির্দেশ দিতাম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮৭)


প্রাকৃতিক জয়তুন বা পিলুগাছের ডালে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল উপাদান, যা মাড়ির প্রদাহ ও দাঁতের ক্ষয়রোধে কৃত্রিম টুথব্রাশের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে বেশি কার্যকর। মুখের ব্যাকটেরিয়া রক্তে ছড়িয়ে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, যা নবীজি (সা.) শতাব্দী আগেই প্রতিরোধ করেছিলেন।


৫. দুপুরে সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম


দুপুরের খাবারের পর কিংবা জোহরের পর সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সামান্য গা এলিয়ে দেওয়া ছিল নবীজি (সা.)–এর নিয়মিত অভ্যাস, যাকে আরবিতে বলা হয় ‘কায়লুলাহ’। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা কায়লুলাহ গ্রহণ করো। কেননা, শয়তান কখনো কায়লুলাহ করে না।’ (তাবারানি, হাদিস: ২৮৩৫)


দুপুরের ১৫ থেকে ২০ মিনিটের এই ‘পাওয়ার ন্যাপ’ মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে, সতর্কতা বাড়ায় এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি কমিয়ে আনে। এটি কোনো অলস ঘুম নয়; বরং স্নায়ুর অবসাদ দূর করে বিকেলের কাজের নব উদ্যম তৈরির বৈজ্ঞানিক উপায়।


৬. নিয়মিত দ্রুত হাঁটা


মহানবী (সা.) কখনোই অলস জীবনযাপন করতেন না। তিনি দ্রুত ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপে হাঁটতেন। সাহাবি আবু হোরাইরা (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর নবীজির চেয়ে দ্রুত কাউকে হাঁটতে দেখিনি। তিনি যখন হাঁটতেন, মনে হতো যেন মাটি তাঁর জন্য গুটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা তাঁর সঙ্গে চলতে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠতাম, অথচ তিনি স্বাভাবিক গতিতেই হাঁটতেন।’ (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৬৪৮)


সাহাবি আলী (রা.) বলেন, ‘তিনি যখন পথ চলতেন, তখন মনে হতো যেন কোনো উঁচু পাহাড় থেকে নিচের দিকে নেমে আসছেন।’ (শামায়িলে তিরমিজি, হাদিস: ১১৮)


আধুনিক সময়ে একে বলা হয় ‘ব্রিস্ক ওয়াকিং’ বা দ্রুত হাঁটা। দৈনিক ২০–৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার অভ্যাস কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়, ফুসফুসের ধারণক্ষমতা বাড়ায় এবং মেটাবলিজম বৃদ্ধি করে মেদ জমতে বাধা দেয়।


এ ছাড়া নবীজি (সা.) তিরন্দাজ, কুস্তি ও দৌড় প্রতিযোগিতার মতো শরীরচর্চাকে উৎসাহিত করেছেন।