বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া-আদাবাড়িয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে চোরাই স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ ও একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করেছে সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় দুই নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা, পিপিএম-সেবা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৯ জুলাই সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া-আদাবাড়িয়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালানো হয়। এ সময় মো. খাদিজা ও মোছা. মরিয়ম নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।অভিযানে নগদ ৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা, ৬ ভরি ১১ আনা ৫ রতি স্বর্ণালঙ্কার এবং একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণালঙ্কারের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১৪ লাখ ১১ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা বলেন, জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে জেলা পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এই অভিযানে চোরাই মালামাল উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও আরও চোরাই মালামাল উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরের দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন। এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সোনাপুর লিংক রোডের ইসলামিয়া মাদরাসা মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তি হলেন মো. আতিকুল্যা আতিক (৫৫)। তিনি নোয়াখালী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালিয়াল এলাকার এলাহি বক্স মিয়ার বাড়ির মৃত সামসুদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবির এসআই নূরুল আলমের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান চালিয়ে আতিককে আটক করে। পরে তার হেফাজত থেকে ১২ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন আরও জানান, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুধারাম মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন। ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হবে।
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় একটি পুকুর থেকে ৫০ বছর বয়সী অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার তমরদ্দি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মিরাজের পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সকালে স্থানীয় লোকজন পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন বলেন, নিহত ব্যক্তির পরনে হালকা গোলাপি রঙের ফুলহাতা শার্ট ও নীল-খয়েরি রঙের লুঙ্গি ছিল। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানের চামড়া আংশিক খসে গেছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
বান্দরবানের রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পাহাড়ের খাদ থেকে দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে রুমা-কেওক্রাডং সড়কের বগালেক ভিউ পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানান রুমা থানার ওসি মানস বড়ুয়া।
নিহতরা হলেন, ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার মানিকারহাট বড় মানিকা এলাকার জহির উদ্দিনের ছেলে জামির উদ্দিন (৩২) এবং ঢাকার লালবাগ থানার পোস্তা টিএসও এলাকার মো. চুন্নু গাজীর মেয়ে রোকাইয়া আক্তার (৩০)।
পর্যটক গাইডের বরাত দিয়ে ওসি মানস বড়ুয়া বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ছয়টি মোটরসাইকেলে ১০ জন পর্যটক ঢাকা থেকে বান্দরবানের উদ্দেশে রওনা হন। বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তারা রুমা উপজেলায় পৌঁছে বগালেক এলাকায় একটি কটেজে রাত্রিযাপনের জন্য ওঠেন।
“বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ওই পর্যটকরা বগালেক ভিউ পয়েন্টে ঘুরতে যান। সেখানে ছবি তোলা শেষে আটজন ফিরে এলেও জামির উদ্দিন ও রোকাইয়া আক্তার গাইডের নিষেধ অমান্য করে মোটরসাইকেলে ভিউ পয়েন্ট অতিক্রম করে সামনের দিকে চলে যান।”
ওসি আরও বলেন, সঙ্গে থাকা গাইড মো. ইসমাইল সন্ধ্যা ৬টার দিকে বিষয়টি বগালেক আর্মি ক্যাম্পে জানান।
পরে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয়দের সমন্বয়ে শুরু হওয়া তল্লাশি অভিযানে রাত প্রায় ১১টার দিকে ভিউ পয়েন্ট সংলগ্ন খাদ থেকে ওই দুই পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ওসি আরও বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় ন্যায্যমূল্যে বিক্রির জন্য বরাদ্দ দেয়া আটা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকসহ তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জুলাই) তাদের বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয় এবং বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তাদের কালাই উপজেলা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তারা হলেন- কালাই উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ূন আহম্মেদ, উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক মো. মাহমুদুন্নবী সরকার ও সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর নির্বাচনি এলাকার অন্তর্ভুক্ত আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলালে বিশেষ ওএমএস কার্যক্রমের আওতায় চাল ও আটা বিক্রি শুরু হয়। এই তিন উপজেলায় প্রতিদিন ২ টন আটা (৪০ বস্তা) ও ২ টন চাল বরাদ্দ ছিল। একজন সুবিধাভোগীর ২৭০ টাকায় ৫ কেজি আটা ও ৫ কেজি চাল কিনতে পারবেন।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন ৪০ বস্তা আটা বরাদ্দের বিপরীতে বিক্রয় কেন্দ্রে মাত্র ২০ বস্তা আটা রাখা হতো। বাকি ২০ বস্তা আটার কোনো হদিস পাওয়া যেত না। ফলে অনেক সুবিধাভোগী চাল পেলেও আটা ছাড়াই বাড়ি ফিরতেন।
গত ২৭ জুলাই (সোমবার) সকালে বিক্রয়কেন্দ্রে গিয়ে স্থানীয়রা ৪০ বস্তার জায়গায় ২০ বস্তা আটা দেখতে পেয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন।
এ বিষয়ে জানতে কয়েকজন সাংবাদিক উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদের সঙ্গে কথা বলতে যায়। তাদের গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে খাদ্য কর্মকর্তা বলেন, 'এত কথা কওয়া লাগবে ক্যা, কয় টন বরাদ্দ, এতদিন পর আচ্ছেন। সবাই মিলেমিশে খাই। এখানে তেমন কিছু নাই। যা হবে ভাই-ব্রাদার মানুষ, সবাই মিলে মিশে খামু। আর আপনারা যদি কন বন্ধ করে দিতে, কালকে থেকে বন্ধ করে দিমু।'
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আটা সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন সাদিয়া ফ্লাওয়ার মিলস। এই মিলের ব্যবস্থাপক জহুরুল ইসলাম জানান, তারা নিয়ম অনুযায়ী প্রতিদিন ৪০ বস্তা করেই আটা সরবরাহ করেছেন। সপ্তাহে পাঁচ দিন এ কার্যক্রম চলে। বিক্রির আগের দিন মিল থেকে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আটা বিক্রয়কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হয়। কালাই উপজেলা সহকারী উপখাদ্য পরিদর্শক আব্দুল মোমিন ৪০ বস্তা আটা বুঝে নিয়ে প্রাপ্তিস্বীকারপত্রে স্বাক্ষর করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা হুমায়ূন আহম্মেদকে কালাই কার্যালয়ে পাওয়া যায়নি। তাকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।
জয়পুরহাট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাকিল আহমেদ জানান, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং তিন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
টাঙ্গাইলের ডিসি লেক'কে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা আছে এই লেকে মাছ চাষ করা হবে, যার সুফল পাবে জনগণ। এছাড়াও উন্নত মানের মিনি পর্যটন কেন্দ্র করার ঘোষণা দিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, নির্বাচনের আগে জনগণকে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি তা পালন করার চেষ্টা করবো। চরাঞ্চলে যমুনা তীরবর্তী এলাকায় একটি বৃহৎ পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে যাহার কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। পর্যটন চেয়ারম্যান ইতোমধ্যে এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত সফল না হই আমরা কাজ করে যাবো। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে ইনশাল্লাহ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে ডিসি লেকের কচুরিপানা পরিস্কার কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু'সহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
‘স্বপ্না’কে খুঁজছেন মাসুদ রানা
‘স্বপ্না, তুমি যদি কোথাও থেকে এই পোস্টারটি দেখো, একবার শুধু যোগাযোগ করো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার সঙ্গে একবার দেখা হওয়ার অপেক্ষায় থাকবো।’ এমন আবেগঘন বার্তা লিখে প্রায় দুই দশক আগে হারিয়ে যাওয়া স্কুলজীবনের এক সহপাঠীকে খুঁজছেন আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার সাবেক বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ হিসেবে তিনি এলাকার বিভিন্ন সড়ক, বিদ্যুতের খুঁটি, দেওয়াল ও পাড়া-মহল্লায় পোস্টার সাঁটিয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে তার এমন উদ্যোগ। সম্প্রতি আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার স্পেকট্রাম গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দেওয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি ও বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের পোস্টার লাগানো রয়েছে।
বড় অক্ষরে লেখা, ‘স্বপ্না, স্বপ্না’। নিচে লেখা, ‘একটি মানুষকে খুঁজছি। যদি কেউ চিনে থাকেন, দয়া করে জানাবেন।’
পোস্টারে মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, ২০০৭ সালে জিরাবো স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বপ্না নামে তার এক সহপাঠী ছিল। মেয়েটির গালে একটি তিল ছিল। ঈদের ছুটির পর হঠাৎ করেই সে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। পরে জানতে পারেন, পরিবারের আর্থিক কারণে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করে সে।
পোস্টারে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে জিরাবো, পুকুরপাড় ও আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানায় স্বপ্নার চাকরির তথ্য পেয়ে বারবার সেখানে গিয়ে খোঁজ করেছেন মাসুদ। কিন্তু কখনোই তার দেখা পাননি। সবশেষ ২০১৬ সালের পর পর্যন্ত বিভিন্ন কারখানায় কাজ করার তথ্য জানলেও এরপর আর কোনো সন্ধান মেলেনি।
নিজের বর্তমান অবস্থার কথাও পোস্টারে উল্লেখ করেন তিনি। সেখানে লিখেছেন, ২০১৮ সাল থেকে একটি পোশাক কারখানায় টেকনিক্যাল ম্যানেজার (মার্কেটিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্প্রতি চাকরির কারণে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় চলে যেতে হয়েছে। ফলে আগের মতো জিরাবো এলাকায় এসে পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই এটিকেই তিনি স্বপ্নাকে খুঁজে পাওয়ার ‘শেষ চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পোস্টারের নিচে নিজের নাম ও একটি মোবাইলফোন নম্বরও দিয়েছেন মাসুদ রানা।
ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে মাসুদ রানা বলেন, ‘ছোটবেলায় আমরা একসঙ্গে পড়তাম। আমি তাকে পছন্দ করতাম, কিন্তু কখনো সেটা বলা হয়নি। তার কোনো ছবি বা ফোন নম্বর আমার কাছে নেই। বহু বছর ধরে বিভিন্নভাবে খোঁজ করেছি। এখন চাকরির কারণে অন্য এলাকায় চলে এসেছি। তাই শেষ চেষ্টা হিসেবে পোস্টার ছাপিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই। শুধু একবার জানতে চাই, সে কেমন আছে। জীবনে অন্তত একবার তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।’
মাসুদ রানা জানান, পোস্টার লাগানোর পর অনেকেই ফোন করে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে স্বপ্নার কোনো খোঁজ মেলেনি।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। জিরাবো এলাকার বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আমিনুর রহমান বলেন, ‘গান-কবিতায় শহরময় পোস্টার লাগানোর কথা শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে একজন পুরোনো সহপাঠীকে খুঁজতে এভাবে পোস্টার লাগাতে দেখিনি। বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রমী। আশা করি, তারা একদিন দেখা করতে পারবেন।’
স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক পোস্টার তো সব সময়ই দেখি। কিন্তু একজন পুরোনো বন্ধুকে খুঁজে পাওয়ার জন্য এমন পোস্টার আগে কখনো চোখে পড়েনি। বিষয়টি মানবিক এবং আবেগের।’