• প্রকাশ : বুধবার ২২ এপ্রিল, ২০২৬, সময় : ১১:৫৫ এএম

পঞ্চগড়ের সদর উপজেলার পাটশিরি সীমান্তে কাঁটাতারের কাছে ছবি তুলতে গিয়ে আটক হওয়া দুই বাংলাদেশি স্কুলছাত্রকে ৮ ঘণ্টা পর ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।


বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে বিজিবি-বিএসএফের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। এর আগে সকালে পার্শ্ববর্তী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করে নিয়ে যায়।


ফেরত পাওয়া দুই কিশোর হলেন আটোয়ারী উপজেলার শিবু চন্দ্র রায়ের ছেলে ইন্দ্রজিত রায় (১৪) এবং সমারু চন্দ্র রায়ের ছেলে উদয় চন্দ্র রায় (১৪)। 


পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ মো. কায়েস জানান, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে দুই স্কুলছাত্রকে নিরাপদে ফেরত আনা হয়েছে।

  সীমান্তে ছবি তোলার সময় ২ স্কুলছাত্রকে ধরে নিয়ে গেছে বিএসএফ

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে বোনের বাড়িতে ঘুরতে আসে উদয় রায় ও ভাতিজা ইন্দ্রজিত রায়। বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া পাটশিরি সীমান্ত এলাকায় ঘুরতে যায় তারা। সীমান্তে তারা মোবাইল ফোন দিয়ে নিজেদের ছবি তোলে। একপর্যায়ে তারা সীমান্তের মেইন পিলার ৪১৭-এর ৯ নম্বর সাবপিলার এলাকা দিয়ে ভারতীয় অংশের ১৫০ গজ ভেতরে মীরগঞ্জ এলাকায় গেলে বিএসএফের ১৩২ ব্যাটালিয়নের মরিচা ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাদের ধরে নিয়ে যান। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে বিএসএফকে অবগত করে বিজিবি।




‘স্বপ্না’কে খুঁজছেন মাসুদ রানা

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:৪৩ পিএম

‘স্বপ্না, তুমি যদি কোথাও থেকে এই পোস্টারটি দেখো, একবার শুধু যোগাযোগ করো। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তোমার সঙ্গে একবার দেখা হওয়ার অপেক্ষায় থাকবো।’ এমন আবেগঘন বার্তা লিখে প্রায় দুই দশক আগে হারিয়ে যাওয়া স্কুলজীবনের এক সহপাঠীকে খুঁজছেন আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার সাবেক বাসিন্দা মো. মাসুদ রানা।


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ হিসেবে তিনি এলাকার বিভিন্ন সড়ক, বিদ্যুতের খুঁটি, দেওয়াল ও পাড়া-মহল্লায় পোস্টার সাঁটিয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে তার এমন উদ্যোগ। সম্প্রতি আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার স্পেকট্রাম গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দেওয়াল, বিদ্যুতের খুঁটি ও বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের পোস্টার লাগানো রয়েছে। 


বড় অক্ষরে লেখা, ‘স্বপ্না, স্বপ্না’। নিচে লেখা, ‘একটি মানুষকে খুঁজছি। যদি কেউ চিনে থাকেন, দয়া করে জানাবেন।’


পোস্টারে মাসুদ রানা উল্লেখ করেন, ২০০৭ সালে জিরাবো স্কুলে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বপ্না নামে তার এক সহপাঠী ছিল। মেয়েটির গালে একটি তিল ছিল। ঈদের ছুটির পর হঠাৎ করেই সে স্কুলে আসা বন্ধ করে দেয়। পরে জানতে পারেন, পরিবারের আর্থিক কারণে স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায় কাজ শুরু করে সে।


পোস্টারে আরও দাবি করা হয়েছে, বিভিন্ন সময়ে জিরাবো, পুকুরপাড় ও আশপাশের কয়েকটি পোশাক কারখানায় স্বপ্নার চাকরির তথ্য পেয়ে বারবার সেখানে গিয়ে খোঁজ করেছেন মাসুদ। কিন্তু কখনোই তার দেখা পাননি। সবশেষ ২০১৬ সালের পর পর্যন্ত বিভিন্ন কারখানায় কাজ করার তথ্য জানলেও এরপর আর কোনো সন্ধান মেলেনি।


নিজের বর্তমান অবস্থার কথাও পোস্টারে উল্লেখ করেন তিনি। সেখানে লিখেছেন, ২০১৮ সাল থেকে একটি পোশাক কারখানায় টেকনিক্যাল ম্যানেজার (মার্কেটিং) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 


সম্প্রতি চাকরির কারণে গাজীপুরের মাওনা এলাকায় চলে যেতে হয়েছে। ফলে আগের মতো জিরাবো এলাকায় এসে পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেওয়া আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই এটিকেই তিনি স্বপ্নাকে খুঁজে পাওয়ার ‘শেষ চেষ্টা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। পোস্টারের নিচে নিজের নাম ও একটি মোবাইলফোন নম্বরও দিয়েছেন মাসুদ রানা।


ওই নম্বরে যোগাযোগ করা হলে মাসুদ রানা বলেন, ‘ছোটবেলায় আমরা একসঙ্গে পড়তাম। আমি তাকে পছন্দ করতাম, কিন্তু কখনো সেটা বলা হয়নি। তার কোনো ছবি বা ফোন নম্বর আমার কাছে নেই। বহু বছর ধরে বিভিন্নভাবে খোঁজ করেছি। এখন চাকরির কারণে অন্য এলাকায় চলে এসেছি। তাই শেষ চেষ্টা হিসেবে পোস্টার ছাপিয়েছি।’


তিনি আরও বলেন, ‘আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই। শুধু একবার জানতে চাই, সে কেমন আছে। জীবনে অন্তত একবার তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।’


মাসুদ রানা জানান, পোস্টার লাগানোর পর অনেকেই ফোন করে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে স্বপ্নার কোনো খোঁজ মেলেনি।


ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যেও কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। জিরাবো এলাকার বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আমিনুর রহমান বলেন, ‘গান-কবিতায় শহরময় পোস্টার লাগানোর কথা শুনেছি। কিন্তু বাস্তবে একজন পুরোনো সহপাঠীকে খুঁজতে এভাবে পোস্টার লাগাতে দেখিনি। বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রমী। আশা করি, তারা একদিন দেখা করতে পারবেন।’


স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাজনৈতিক পোস্টার তো সব সময়ই দেখি। কিন্তু একজন পুরোনো বন্ধুকে খুঁজে পাওয়ার জন্য এমন পোস্টার আগে কখনো চোখে পড়েনি। বিষয়টি মানবিক এবং আবেগের।’


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও সারজিস আলম

  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:২৭ এএম

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মারধর, ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।


গতকাল বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলার এজাহার দাখিল করেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন রুকন। মামলায় এনসিপির ১০ নেতার নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই বিকেল ৫টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদের সামনে এনসিপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। 


অভিযোগে বলা হয়েছে, এনসিপির নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালান।


এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহীদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কোর্ট মসজিদের সামনে জড়ো হন। এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে এসে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলায় জেলা ছাত্রদল নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। তাদের লোহার রড, রামদা, ফিকল, ইটের টুকরোসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।


মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সংঘর্ষের সময় বাদীর আইফোন-১৩, মোজাক্কির হোসেন ইমনের আইফোন-১১, মাহফুজ চৌধুরীর আইফোন-১৪, মাহমুদুল হাসান গাজীর স্যামসাং এস-২২, রক্সি ইসলামের কাছে থাকা ৫০ হাজার টাকা এবং শিমুল হাসানের আইফোন-১৫ ছিনিয়ে নেওয়া হয়। 


পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা সরে যান এবং আহতরা হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। মামলার আসামিরা হলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হবিগঞ্জ জেলা জাতীয় শক্তির আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, জেলা কমিটির সদস্য ফখরুল জাকির, আ. হাই কামাল, রুহাম গাজী, সদস্য সচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ উদ্দিন তারেক, জেলা আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল এবং জেলা কমিটির সদস্য ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরী।


এদিকে, একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এর আগে এনসিপির পক্ষ থেকেও ছাত্রদলের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়। দলটির দাবি, ২৮ জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে ছাত্রদলের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ নেতাকর্মী আহত হন। হামলায় এনসিপির এক কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন দলটির নেতারা। একই ঘটনায় কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগও করা হয়।


এনসিপির অভিযোগ অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলম নিরাপত্তার জন্য থানার পাশের সোনালী ব্যাংকে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায় এবং রাতে পুলিশি পাহারায় মৌলভীবাজার পৌঁছে দেয়।


এ বিষয়ে জানতে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠানো বার্তারও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তবে সদর মডেল থানার এসআই ধ্রুবেশ চক্রবর্তী বলেন, ছাত্রদল নেতা বাদী হয়ে এনসিপির নেতাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন।


অন্যদিকে, হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুব আহমেদ থানায় অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ঘটনার জেরে দায়ের হওয়া এ মামলার খবর বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


  • প্রকাশ : শুক্রবার ৩১ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ এএম

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, জনবল সংকট দূর করতে স্বাস্থ্যখাতে অধিক বরাদ্দ রেখেছে সরকার। অনেক জেলায় ২৫০ শয্যার হাসপাতালের অবকাঠামো তৈরি করা হলেও সেটি জনবলের অভাবে চালু করা যাচ্ছে না। তাই সরকার উদ্যোগী হয়ে দ্রুত জনবল নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

 

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে আলোচনা সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদী সরকারের আওতায় দেশের প্রতিটি স্তরে অব্যবস্থাপনা, অন্যায়, জুলুম, দুর্নীতি, অবহেলা ছিল। স্বাস্থ্যখাতও এর বাহিরে নয়। রংপুরের সন্তান হিসেবে আমাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। এ হাসপাতালের উন্নয়নে আমি সাধ্যমত কাজ করে যাব।

 

তিনি আরও বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন করে ১০টি আইসিইউ শয্যা যুক্ত করে ২০টি শয্যায় ইউনিটকে উন্নীত করা হবে। হাসপাতালে রোগীর সাথে একজন এটেনডেন্টের থাকার সুবিধা নেই, সেটি দ্রুত নিশ্চিত করা হবে। এনেসথেশিয়ার অভাবে অপারেশনে সমস্যা হচ্ছে। এ কারণে রোগীর মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে, আবার কোনো ক্ষেত্রে রোগী মারাও যাচ্ছে। অপারেশন চালু করতে প্রয়োজনীয় ঔষধ সরবরাহ করা হবে।

 

মন্ত্রী আরও বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উত্তরের দুই কোটি মানুষের চিকিৎসাস্থল হলেও এ হাসপাতালে নিরাপত্তার জন্য নেই কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা। তাই আগামী এক মাসের মধ্যে হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। চুরি, ছিনতাই রোধে এক সপ্তাহের ভেতরে গোটা মেডিকেল ক্যাম্পাসে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন লাইট জ্বালিয়ে আলোকিত করা হবে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতা দূরসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সিটি করপোরেশন।

 

জনবল সংকট মোকাবেলা নিয়ে আসাদুল হাবিব বলেন, বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আউটসোর্সিং হিসেবে ১২৪ জন জনবল রয়েছে। এদের মাধ্যমে হাসপাতালে সঠিক সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে ১০ জন, রংপুর-৩ আসনের এমপির পক্ষ থেকে ৫ জনসহ জেলার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের আর্থিক সহযোগিতায় ৫০ জন আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ করা হবে। এতে করে হাসপাতালে দালাল চক্র, ট্রলির মাধ্যমে পয়সা নেওয়া বন্ধ হবে। প্রতিটি কর্মচারীকে বাধ্যতামূলকভাবে নির্ধারিত পোশাক পরানো ও পরিচয়পত্র নিশ্চিত করা হবে।

 

তিনি বলেন, নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রংপুর মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প চালু করা হয়েছে। নার্সরা যেন রোগীদের সাথে ভাল আচারণ করেন সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ডাক্তাররা যেন সময় মত ডিউটি করেন সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা সবাই মিলে সহযোগিতা করতে পারলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চিকিৎসাক্ষেত্রে মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবে।

 

লাশ পরিবহনে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট নিয়ে মন্ত্রী বলেন, মরদেহ পরিবহনের ক্ষেত্রে সিন্ডিকেট কাজ করে। আগামীতে অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে হাসপাতালের তালিকাভুক্ত হতে হবে। তারা মাইলেজ অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করবে এবং চালানের মাধ্যমে টাকা দেওয়া হবে। এনিয়ে সিটি করপোরেশন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও অ্যাম্বুলেন্স মালিক আলোচনা করবে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৫ তলা ভবনে ৪৬০ শয্যার একটি ক্যান্সার, কিডনি, হৃদরোগ বিভাগের ভবন নির্মাণ চলছে। এটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। ভবনটি চালু হলে হাসপাতালে রোগীর চাপ কমবে। এছাড়া হাসপাতালে যেসব যন্ত্রপাতি অকেজো রয়েছে এবং মেরামত যোগ্য নয়, সেটি মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. আনোয়ার হোসেন, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা।

 

এর আগে, সকাল সাড়ে ১১টায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু। তিনি ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে প্রায় ৪ ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এরপর তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৪নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন। বিকেলে তিনি রংপুর নগরীর জিয়া খাল ও কেডিএ খাল পরিদর্শন করেন।


মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:৩৩ পিএম

নোয়াখালীর সেনবাগে ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 


একই দিন দুপুরের দিকে আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠেনোর নির্দেশ দেন। এর আগে, গতকাল বুধবার বিকেলে উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়ন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।  


গ্রেপ্তার আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া (৫০) উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের মৃত আব্দুল হক ভূঁইয়ার ছেলে।  


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনমজুর আব্দুল লতিফ গত প্রায় দুই বছর ধরে নিজের মেয়েকে বিভিন্নভাবে উক্ত্যত করত। এরপর ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত একাধিকবার ভিকটিমকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে মেয়ে বিষয়টি তার চাচা ও জেঠাদের জানালে গত মঙ্গলবার ২৮ জুলাই রাতে সেনবাগ উপজেলা জামায়াত নেতা মাওলানা হানিফ ও ডুমুরুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মজিবুল হক টিটুর নেতৃত্বে ভিকটিমের ঘরে একটি গ্রাম্য সালিশ বসে। সালিশে অভিযুক্তকে ৩৩ বেত্রাঘাত, জুতার মালা পরানো ও নাকে খত দেওয়া হয়। সালিশের বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তার করে।


ওসি আব্দুর রহিম সরকার আরও বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় আসামিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। ভুক্তভোগী কিশোরীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৫৭ পিএম

সন্ত্রাস মোকাবিলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।


তিনি হবিগঞ্জ ও সিলেটের গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহর ও নেতাদের উপর হামলার সমালোচনা করে বিএনপির উদ্দেশে বলেন, “হবিগঞ্জ থেকে গোলাপগঞ্জ। আমরা যা দেখছি, দেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যের দিকে আবারও নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং সরকারের সন্ত্রাসী চরিত্র আবারও জাতির সামনে উন্মেচিত হচ্ছে। সরকার সন্ত্রাসের পথে হাঁটলে, জনগণ প্রতিরোধের পথে হাঁটবে।”


আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের মিনি অডিটোরিয়ামে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানের কিছু আগে গোলাপগঞ্জে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।


অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা গোলাপগঞ্জ যাব, আমরা দাঁড়াব, দেখি কত সন্ত্রাসী আছে এই সরকারের। আমরা বিচার ও সংস্কারের দাবি থেকে এক চুলও সরে যাব না। আমাদের কর্মসূচি চলমান থাকবে।’’


তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার সংস্কার চায় না, দেশে নতুন কোনো রাজনৈতিক কোনো শক্তির উত্থান ঘটুক বর্তমান সরকার সেটা চায় না। তাই বারবার এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। খালেদা জিয়ার গাড়ি বহরে যেভাবে সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল, ঠিক সেভাবে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন এনসিপির ওপর হামলা করছে।”


এ সময় দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, এনসিপি কোনো সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না, তাই আগামীতে কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে তিনি মুখ না খোলার ঘোষণা দেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৮:৩৮ পিএম

ভবিষ্যত প্রজন্মের স্বার্থে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের সংস্কার কাজ পরিপূর্ণভাবে করার তাগিদ দিয়েছেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেছেন, “সংবিধানের আঘাতের মধ্যে দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গঠন হবে। আমরা একটা অভাগা জাতি, যে অবস্থায় আছি। এই শিকলটা আমাদের ভেঙে দিতে হবে এবং এই শিকল ভাঙ্গার জায়গাটাতে প্রথমেই সংবিধানে আঘাত করতে হবে। 


বাংলাদেশের সংস্কারটা কমপ্লিট করা প্রয়োজন। যদি এটা না হয় আপনার, আমার, সন্তানের, বাংলাদেশের কারো ভবিষ্যৎ নাই। কেন নাই? এটা আপনারা একটু গভীরভাবে পড়াশোনা করবেন, কেন সংস্কারটা প্রয়োজন।”


আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির উদ্যোগে মিনি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ‘অগ্নিঝরা জুলাই: রক্তের ঋণ ও আগামীর বাংলাদেশ’ বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


এ সময় এনসিপি নেতা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনাদের কাছে আমার একটা অনুরোধ। দয়া করে, জুলাইয়ে আমাদের ১৪০০ ভাই চলে গিয়েছে, এই বিচারটা বাংলাদেশে কমপ্লিট করা আমাদের প্রয়োজন। সে জায়গা সাস্ট ভূমিকা পালন করবে।”


সভায় এনসিপি আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ নাহিদ ইসলাম বিএনপিকে উদ্দেশ করে বলেন, “আপনারা আমার বিরুদ্ধে কথা বলেন, এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র। সাধারণ শিক্ষার্থী, সাধারণ মানুষ ঠিক করবেন কোন সমাবেশে যাবেন, কোন সমাবেশে যাবেন না। কার পক্ষে ভোট দিবেন, কার পক্ষে দিবেন না। কিন্তু কথা বলতে গেলে, আপনারা এসে দমন করবেন, আক্রমণ করবেন এবং পুলিশ এসে বাধা দিবে, প্রশাসন এসে বাধা দিবে নিরাপত্তার নামে- এটা বাংলাদেশে আর হতে দেওয়া যাবে না।


“এটা বিগত আমলের কৌশল এবং আপনারা পারলে নতুন কৌশল হাজির করেন। শেখ হাসিনাকে কপি করবেন না। কারণ শেখ হাসিনাকে কপি করলে, শেখ হাসিনাকে কিভাবে সরানো হয়েছে এইটা এখানকার বাচ্চা-বাচ্চা পোলাপানরাও জানে। ফলে যদি নতুন কৌশল আনতে পারেন সেটা আপনাদের জন্য সুবিধার হবে।”


নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা নতুন দিনের রাজনীতি নিয়ে হাজির হয়েছি। আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে, ছিল, থাকবে। কিন্তু আমরা সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেই সামনের দিনগুলোতে এগিয়ে যাব। যেকোনো গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে, দাবি আদায়ের পক্ষে এনসিপি সবসময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে থাকবে।”


অনুষ্ঠানে জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ বখতিয়ার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে নেতাকর্মীরা ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদী হত্যার বিচারের দাবিতে স্লোগান দেন।