• প্রকাশ : বুধবার ০৪ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৬:১৯ এএম

ইরানে লক্ষ্য অর্জনে যা যা প্রয়োজন, সবই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানে হামলায় যোগ দিয়ে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট কী লক্ষ্য অর্জন করতে চান?


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনও ‘শাসন পরিবর্তন’কে যুদ্ধের লক্ষ্য বলে বর্ণনা করছেন। কখনও বলছেন, ইরান যেন পারমাণনিবক অস্ত্র বানাতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি।


তিনি কখনো বলেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে, আবার কখনো বলছেন, তা অনেক দীর্ঘ হতে পারে। ইরানে হামলার পর এ কয়েক দিনে গোটা মধ্যপ্রাচ্যই যুদ্ধের মঞ্চে পরিণত হয়েছে, এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে? এই আলোচনা এখন সামনে এসেছে।


প্রায় দুই দশক আগে ইরাকে যে অজুহাতে হামলা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, এবারও প্রায় একই অজুহাত সামনে আনা হয়েছে, যার কোনো গোয়েন্দাভিত্তি নেই। বরং এরকম এক যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।


আরেকটি ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন, আর তা হল- একটি সন্দেহজনক যুক্তির উপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিতে পারে। যা শেষ পর্যন্ত হাজার হাজার সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু ঘটাতে পারে। এছাড়া এই যুদ্ধ আগামী বছরগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে নতুন ‘সন্ত্রাসী হামলার ভিত্তিও’ তৈরি করতে পারে।


আরেকটি বিকল্প পরিস্থিতির কথাও বলেছে সিএনএন। সেটি হল-এই হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প যদি এ অঞ্চলে ৫০ বছরের জন্য ইরানের হুমকি কমিয়ে আনতে পারেন এবং সে দেশে স্বাধীনতার সূচনাকে ত্বরান্বিত করতে পারেন।


গত শনিবার সকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু করে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক ও সামরিক শীর্ষ পর্যায়েরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন হামলায়।


গত সোমবার হোয়াইট হাউজে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানে হামলা চালানোর এটিই ছিল ‘শেষ সেরা সুযোগ’। এ পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “একটি অসুস্থ ও পাপিষ্ঠ শাসনব্যবস্থা থেকে আসা অসহনীয় হুমকি দূর করতেই আমরা বর্তমানে এই পদক্ষেপ নিচ্ছি।”


গত গ্রীষ্মে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “সেই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার পর আমরা তাদের সতর্ক করেছিলাম অন্য কোথাও নতুন করে পারমাণবিক কেন্দ্র না গড়তে। কিন্তু তারা সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছোটা অব্যাহত রেখেছে।”


ইরানে এবারের মার্কিন অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘এপিক ফিউরি বা মহাতাণ্ডব’। ইসরায়েল নাম দিয়েছে ‘রোরিং লায়ন বা গর্জনরত সিংহ’।


‘হামলা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র’


খামেনির বিদায়ের পর যা আশা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা এখনও দেখা যায়নি ইরানে, অর্থাৎ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানিরা এখনো রাস্তায় নামেনি। চারদিকে যখন শোকের মাতম আর বিশৃঙ্খলা ঘনিয়ে উঠছে, ঠিক তখনই তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দ থেকে নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছেন প্রবীণ এক ঝানু রাজনীতিবিদ আলি লারিজানি।


গত রোববার তিনি জানিয়েছেন, দেশে একটি ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ গঠন করা হবে। এই ঘোষণা দিয়ে তিনি যেন বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি না থাকলেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো স্থিতিশীল আছে।


খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে বিবেচিত লারিজানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।


এ অবস্থায় মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে প্রবেশে করেছে যুদ্ধ। সিএনএন লিখেছে, ইরানে হামলা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সবথেকে বড় হামলা এখনো চালানো হয়নি।


সিএনএন সঞ্চালক জেক ট্যাপারকে তিনি বলেন, “আমরা তাদের ওপর চরম আঘাত হানছি। মনে হয় খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে। অত্যন্ত শক্তিশালী একটি অভিযান। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনী আছে আমাদের। আমরা সেটি ব্যবহার করছি।”


ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখনো তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত শুরুই করিনি। বড় ঢেউটি এখনো আসেনি। সেটি আসছে খুব শিগগিরই।” মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে ইরানের আক্রমণকে ‘বড় বিস্ময়’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প।


তিনি বলেন, “আমরা অবাক হয়েছি। আমরা তাদের (আরব দেশগুলোকে) বলেছিলাম, ‘আমরা এটি সামলে নেব’। কিন্তু এখন তারা লড়াই করতে চাইছে। তারা বেশ আগ্রাসীভাবেই লড়াই করছে। তাদের ভূমিকা খুব সামান্যই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন তারা এতে যুক্ত হওয়ার জন্য জোরাজুরি করছে।”


সিএনএন বলছে, ইরানের নেতৃত্বের যারা এখনো টিকে আছেন, তারাও ‘আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা উসকে দিতে সংকল্পবদ্ধ।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিণতি কী হতে পারে?


• বিমান অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্রের লক্ষ্যস্থলগুলোতে ধ্বংসাত্মক হামলা করলে এটি জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও প্রতিবাদের জোয়ার সৃষ্টি করতে পারে, যা দীর্ঘ সময় ধরে চলা ক্ষমতা কেন্দ্রের ওপর চাপ তৈরি করবে এবং একটি নতুন ইরান মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিতে সক্ষম হতে পারে।


• ইরানের বাকি নেতৃত্ব নতুন শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে যে যেন দেশটি আর আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে কার্যকরভাবে দাঁড়াতে না পারে।


• খারাপ যা ঘটতে পারে, তা হল- ইরানের পরিস্থিতি লিবিয়ার মতো হতে পারে। বছরের পর বছর ধরে চলা কতৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর নেতৃত্ব শূন্যতা তৈরি হতে পারে। গোষ্ঠীগত লড়াই বা গৃহযুদ্ধ লেগে যেতে পারে, যা ছড়িয়ে পড়তে পারে অঞ্চলজুড়ে, উদ্বাস্তু সংকট তৈরি হতে পারে এবং ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ উগ্রপন্থিদের হাতে চলে যেতে পারে।


গত সোমবার রয়টার্সের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্কে ঢুকছে শত শত ইরানি।


সে দিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসবিদ ও বৈশ্বিক নীতি বিশারদ ম্যাক্স বুট কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস সম্মেলনে বলেছেন, “ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তা অযৌক্তিক এবং অবৈধ। তবে এর মানে এই নয় যে এটি ব্যর্থ হবে।” তিনি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সমালোচনা করেন।


তবে ইরানের সামরিক বাহিনী এখনো সক্রিয় থাকায় দেশটির শাসক গোষ্ঠীকে উৎখাত করাটা ‘কঠিন’ মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড পেট্রাউস।


কারণ হিসেবে সংস্থার সাবেক এ পরিচালক বলেন, “সমস্যা হলো, কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বেশ কঠিন, যদি সেখানে লাখ লাখ সদস্যের সশস্ত্র ও সংগঠিত বাহিনী মাঠে উপস্থিত থাকে।” ট্রাম্প বলেছিলেন ইরানে তিনি স্থলবাহিনী মোতায়েন করবেন না।


এ অবস্থায় ইরানে সরকার পরিবর্তন না হলেও এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হয় বেশ কিছু লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে মনে করেন ডেভিড পেট্রাউস।


তবে সোমবার নিউ ইয়র্ক পোস্ট পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, “ইরানে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানো নিয়ে আমার কোনো জড়তা নেই। অন্য প্রেসিডেন্টরা যেমন বলেন, স্থলভাগে কোনও সেনা মোতায়েন করা হবে না। আমি তা বলি না। আমি বলি, সম্ভবত তাদের (স্থলসেনা) প্রয়োজন নেই অথবা যদি প্রয়োজন হয় (তবে পাঠানো হবে)।”


কী চলছে ইরানে


বিবিসি লিখেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ইরানের সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, তাতে ১৯৮৯ সাল থেকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া আলি খামেনি নিহত হয়েছেন।


ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফ দাবি করেছে, খামেনির সঙ্গে নিহত হয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান, সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ এবং ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রধানের মতো শীর্ষস্থানীয় কয়েক ডজন কর্মকর্তা।


মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট।


সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৫৩টি শহর আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৫০৪টি স্থান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। আর নথিভুক্ত হামলার সংখ্যা ১০৩৯-এ পৌঁছেছে।


খামেনির মৃত্যুতে সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৪০ দিনের শোক পালনের জন্য দেশের সব সরকারি এবং সাধারণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে। সরকার শোককাঠিন্যকে “জাতির একত্রিত ক্ষতি” হিসেবে উল্লেখ করেছে।


বিবিসি লিখেছে, সোমবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে যে তারা ওমান উপসাগরে ইরানের ১১টি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, ওই এলাকায় ইরানের আর কোনো জাহাজ নেই।


ইরানের পাল্টা হামলা


ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েল, কুয়েত, আরব আমিরাতেও মৃত্যুর খবর এসেছে। নিহতদের মধ্যে মার্কিন সেনাও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি দেশে মার্কিন স্থাপনা ইরানের হামলার লক্ষ্যস্থল।


মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ড্রোন হামলা হয়েছে। এর পর সৌদি আরবের বিভিন্ন মিশনে তাদের সব ধরনের সেবা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।


কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দূতাবাস এক্স পোস্টে বলেছে, “আমরা সব ধরনের নিয়মিত এবং জরুরি কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেছি।”


এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির’ কারণ দেখিয়ে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের বাণিজ্যিক মাধ্যমে দেশত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিল।


বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড সদর দপ্তর ইরানের হামলায় ধ্বংস হওয়ার খবর এসেছে।


গত সোমবার অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলায় তাদের দুটি ডেটা সেন্টার অঞ্চলে ‘সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত’ হয়েছে।


গতকাল মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান আশপাশের যেসব শহরকে পাল্টা হামলার নিশানা বানিয়েছে, দোহা সে তালিকার একটি।


আল জাজিরা লিখেছে, এর আগে সোমবার কাতারের বিমান বাহিনী তাদের আকাশসীমায় দুটি ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে এবং কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করে।


সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির মুসাফাহ এলাকায় একটি জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনালে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ওমান, জর্ডান ও ইরাকেও মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। ইরানের সমর্থনে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা করছে। ইসরায়েল পাল্টা লেবাননের বৈরুতে হামলা করেছে।


জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরাইনি জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, “যদি কোনো প্রতিবেশী দেশের কোনো ঘাঁটি অন্য কোনো দেশে হামলা বা আক্রমণ চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে সেই ঘাঁটি ইরানের জন্য একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।”


বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব?


উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চলার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।


ইরানের হামলার কারণে কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে, যে কারণে সোমবার ইউরোপে গ্যাসের দাম হঠাৎ করেই ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়।


আল জাজিরা জানিয়েছে, দিনের শুরুতেই দাম ২৫ শতাংশ বেশি ছিল। কাতার এনার্জির উৎপাদন বন্ধের খবরের পর সেই ঊর্ধ্বগতি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।


ইরানের ড্রোন হামলা জেরে সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগার আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী এ তথ্য দিয়েছেন। সেদিন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়।


বিবিসি লিখেছে, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশ্বের তেল-গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয় এই প্রণালী হয়ে।


সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সোমবার প্রতি ব্যারেল ৮২ ডলারে উঠেছে।


আসলে কী চায় যুক্তরাষ্ট্র?


ইরানে কেন যুক্তরাষ্ট্র হামলা করেছে? ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে কী এ বিষয়ে স্পষ্ট কারণ রয়েছে?


হামলার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা একেক সময় একেক যুক্তি দিচ্ছেন। ফলে এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী, এ বিষয়ে যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিভ্রান্তি থাকে, তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।


সিএনএন লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা বদলানো। ইরানিদের ‘স্বাধীনতা’ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেছেন তিনি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংসের অঙ্গীকার করেছেন তিনি, যদিও এর আগে ১২ দিনের হামলায় তাদের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করেছিলেন।


প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার জোর দিয়েই বলেছেন, ইরানি সন্ত্রাসী বা ইরাকে মার্কিন দখলদারিত্বের সময় ইরান সমর্থিত মিলিয়াশিয়াদের হাতে আমেরিকানদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া প্রয়োজন।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলার যুক্তি হাজির করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগাম হামলা চালিয়েছে কারণ তারা জানতেন ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা করছে এবং তাতে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী ইরানের পাল্টা হামলার শিকার হতে পারে।


ট্রাম্প প্রশাসনের এ ধরনের বক্তব্যে বোঝা যায়, কী কারণে যুদ্ধে জড়িয়েছেন সেটি তারা জানে না। ফলে ইতোমধ্যে তাদের এই সামরিক অভিযান সমস্যায় পড়ে থাকতে পারে।


ডেমোক্রেটিক সেনেটর জিন সাহিন সোমবার সিএনএনকে বলেন, “সত্যি কোনো স্পষ্ট কৌশল নেই এবং প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আমাদের শোনা দরকার তিনি কী চান।”


“সফল হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রকৃত মোড় ঘোরানোর সুযোগ হতে পারে। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কীভাবে ঘটবে, তা মোটেও স্পষ্ট নয়,” বলেন তিনি।


ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই অস্পষ্টতা যেন অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং তার কৌশলেরই একটি অংশ। যুদ্ধে লক্ষ্য অনিশ্চিত রেখে তিনি রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করতে চান, যাতে যখন চাইবেন তখনই বিজয় ঘোষণা করতে পারেন।


তিনি যেন ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন- বৃহৎ পরিসরের স্থলযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা ও অচলাবস্থার ঝুঁকি তৈরি করে।


কিন্তু আকাশ হামলার মাধ্যমে কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও অনুগত শাসক বসানোর একমাত্র নজির চিন্তা করা কী সম্ভব? যদিও ট্রাম্প বলেছেন, কিছু সমালোচকের কথায় তিনি বিরক্ত নন, যারা বলছেন-ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে গেলে তার নিজের ক্ষমতায় থাকা নিয়ে তারা সন্দিহান।


সিএনএন লিখেছে, ট্রাম্প ইতোমধ্যেই যুদ্ধে লক্ষ্য সীমিত করে এনেছেন বলে মনে করা হয়েছে।


গত সোমবার তিনি বলেছেন, তাদের পরিকল্পনা হল ইরানে নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূর্চি ও ভবিষ্যৎ পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্খা ধ্বংস করা। মনে হচ্ছে তিনি এবং হেগসেথ দুজনই আগে থেকেই ব্যর্থতার অজুহাত তৈরি করে রাখছেন, যাতে ইরানের বর্তমান পুনর্গঠিত হলে সে দেশের জনগণের ঘাড়েই দোষ চাপানো যায়, ‘তোমরাই তো সুযোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছ’।


হেগসেথ বলেছেন, “আমি মনে করি ইরানিদের প্রতি প্রেসিডেন্টের বার্তা স্পষ্ট। ইরানের জনগণ: এটা তোমাদের সময়।”


কিছু বিশ্লেষক ভেনিজুয়েলায় মাদুরাকে উৎখাত প্রসঙ্গ টেনেছেন। মাদুরাকে ধরে আনার পর ভেনিজুয়েলায় অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু বহু দশক ধরে চেষ্টা করেও ইরানে মধ্যপন্থি কোনো নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে।


এমনকি খামেনিকে হত্যা করার পর এখনও এমন কোনো নেতা খুঁজে পায়নি তারা। যে অজুহাতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র, সেই অভিযোগকে নাকচ করে দিল আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।


সংস্থাটির প্রধান, মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এনবিসি নিউজকে বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ইরানের কোনো সমন্বিত কর্মসূচির প্রমাণ তারা পাননি। ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য কোনো সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত কর্মসূচির আলামত শনাক্ত হয়নি।


‘শিগগিরই আগ্রহ হারাবে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র’


আল জাজিরা লিখেছে, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও কৌশলগত পর্বে এগিয়ে থাকতে পারেন—যদিও এই ‘জয়’ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে মূলত তাদের স্বল্পমেয়াদি স্বার্থের ঐক্যের কারণে।


তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু পরস্পরের প্রতি পুরোপুরি আস্থাশীল নন। উভয় পক্ষের সহযোগিতার ক্ষেত্রটি মূলত তাৎক্ষণিক স্বার্থে সীমাবদ্ধ—দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ঐক্যের ভিত্তি স্পষ্ট নয়।


মনোযোগ সরে গেলে, দুজনই এক অনিশ্চিত যুদ্ধের মুখোমুখি হবেন। ট্রাম্প দ্রুত অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার চাপ অনুভব করতে পারেন, যেখানে নেতানিয়াহু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার কৌশল নিতে পারেন।


দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন ও রাজনৈতিক ধৈর্য ট্রাম্পের নেই—এমন অভিযোগ উঠছে। তিনি স্থলবাহিনী মোতায়েন করতে পারবেন না বলেই বারবার ইরানিদের ‘সহায়তা করা’ বা তারা নিজেদের দেশ নিয়ন্ত্রণে নিলে ‘পাশে থাকার’ বার্তা দিচ্ছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ শুরুর অভিযোগ, সম্ভাব্য মার্কিন হতাহতের ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ছেন।


বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের এই ‘অস্বস্তিকর’ জোটটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠলেও স্বল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত তাদের অর্জন ‘বড় মূল্য দিয়ে সীমিত সাফল্য লাভ’ হয়ে থাকতে পারে।


কতদিন চলবে এ যুদ্ধ?


ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচিত করবে যে বিশেষজ্ঞ পরিষদ, তার এক সদস্য বলেছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ‘দীর্ঘায়িত’ হবে না।


আলি মোআলেমি বলেছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের সময় ‘ব্যক্তিগত পছন্দ’ বা রাজনৈতিক ও দলীয় গোষ্ঠীর প্রাধান্য যে বিবেচ্য হবে না, সেই বিষয়ে শপথ নিয়েছেন বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা। তিনি বলেন, “বিপ্লবের শহীদ নেতার মতোই একজনকে নির্বাচিত করবে বিশেষজ্ঞ পরিষদ।”


মিডল ইস্ট মনিটর লিখেছে, ইসলামি ঐতিহ্যে, বিশেষ করে শিয়া ইতিহাসচেতনায়, শহীদ হওয়া পরাজয়ের প্রতীক নয়। বরং এটি ‘স্রষ্টার সঙ্গে অঙ্গীকারের প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্যের’ প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়।


খামেনির মৃত্যু ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তিনি ‘সাম্রাজ্যবাদ ও জায়নবাদের’ বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে সংগ্রাম করে গেছেন।


খামেনির মৃত্যু ইরানে গভীর জাতীয় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর পরপরই ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রতিশোধ নেওয়া এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা ঘোষণা করেছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ড আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। খামেনির এই ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ একটি মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


যে ঘটনাকে তার বিরোধীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হিসেবে ভেবেছিল, সেটিই উল্টো ব্যাপক জনসমাবেশ ও সংগঠনের শক্তিশালী প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে কি না, সে আলোচনাও সামনে এসেছে।


গত শনিবার ট্রাম্পের এক বক্তব্যের বরাতে বিবিসি লিখেছে, ইরানের ওপর হামলা ‘সপ্তাহজুড়ে বা যতদিন প্রয়োজন অব্যাহত থাকবে’। তবে পরে তিনি আরও দীর্ঘ সময়সীমার ইঙ্গিত দেন।


গত রোববার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ একই গতিতে অভিযান চালিয়ে যেতে পারে।


গত সোমবার হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, “শুরু থেকেই আমরা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের কথা বলেছি, তবে আমাদের সক্ষমতা এর চেয়েও অনেক দীর্ঘ সময় ধরে চালানোর।”


এই যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি সিএনএনকে বলেছেন, “প্রায় এক মাস। আমি চাই না এটি খুব দীর্ঘ হোক। আমি সবসময় ভেবেছি এটা চার সপ্তাহ চলবে।”


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ শেষ হতে ‘কিছুটা সময় লাগলেও তা বছরের পর বছর চলবে না’।


নেতানিয়াহু অবশ্য এই সংঘাতকে আগের দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধগুলোর মতো দেখতে নারাজ, জানিয়েছে রয়টার্স।


ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে সোমবার তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম এটি দ্রুত ও চূড়ান্ত হতে পারে। এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু এটি বছরের পর বছর ধরে চলবে না। এটি কোনো অন্তহীন যুদ্ধ নয়।”




যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের লোগো

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:১৬ পিএম

সৌদি আরবে ভ্রমণের ক্ষেত্রে মার্কিন নাগরিকদের জন্য আরোপ করা সতর্কতা হালনাগাদ করেছে ওয়াশিংটন। এখন ‘সতর্কতা লেভেল ৩’ জারি করেছে মার্কিন প্রশাসন। হালনাগাদ সতর্কতায় মার্কিন নাগরিকদের সৌদি আরবে ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মূলত ইয়েমেনের ইরানপন্থী হুতিদের সঙ্গে সৌদি আরবের বিরোধ এবং আঞ্চলিত অস্থিরতা বেড়ে যাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা হালনাগাদ করেছে মার্কিন প্রশাসন।


আজ বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইটে এ ভ্রমণ সতর্কতার কথা জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় মার্কিন স্বার্থের ওপর ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি রয়েছে।


সেই সঙ্গে সৌদি আরবের কিছু এলাকায় হামলার ঝুঁকি ক্রমেই বেড়ে যাওয়ার কথাও সতর্কতায় উল্লেখ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।


অন্যদিকে মার্কিন নাগরিকদের জন্য ইয়েমেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে আগে থেকেই ‘সতর্কতা লেভেল ৪’ জারি রয়েছে। এতে ইয়েমেনে ভ্রমণ না করার কথা বলা হয়েছে।


ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ২০১৫ সাল থেকে হুতিদের লড়াই চলছে। ওই সময় হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। পরে হুতিদের সঙ্গে এ লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরবও।


চলমান ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের আগের সেই বিরোধ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি আরবের দাবি, পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছুড়েছে হুতিরা। এ কারণে শহরটিতে গতকাল নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে সৌদি আরব সরকার।


সর্বশেষ ২০১৭ সালে হুতিরা পবিত্র এ নগরীতে হামলার চেষ্টা করেছিল। এরপর এবারই প্রথম মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলো। তবে জারি করার কয়েক মিনিটের মধ্যে তা তুলে নেয় সরকার। একই ধরনের সতর্কতা তাইফ ও সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দাতেও জারি করা হয়েছিল।


  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৫৯ পিএম

সরকারি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয়ে ভুয়া বোমা হামলার হুমকি পাঠানোর জন্য পাঁচ লাখেরও বেশি ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট তৈরি ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িত এক অপরাধ চক্রকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় পুলিশ। এ ঘটনার পর পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব ও সুরক্ষা বলয়ের ত্রুটি নিয়ে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।


গতকাল মঙ্গলবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।


গুগলের অন্যতম বড় বাজার ভারত। এর আগে আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় অপরাধীরা গুগলের ওয়েব ডেভেলপমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ‘ফায়ারবেইস’-এর অপব্যবহার করায় এরইমধ্যে ভারত সরকারের কড়া নজরদারিতে রয়েছে গুগল।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমের রাজ্য গুজরাটের সাইবার ক্রাইম শাখা এ সপ্তাহে আন্তঃরাজ্য বোমা হামলার হুমকি পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত এক বড় পরিসরের ইমেইল নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে।


ধারাবাহিক অভিযানে এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ২০২২ সাল থেকে অপরাধমূলক কার্যক্রমে ব্যবহৃত ৫ লাখ ১৩ হাজার ৮৪৭টি জিমেইল আইডি ও এর পাসওয়ার্ড জব্দ করেছে পুলিশ।


রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সবার আগে যে বিষয়টি উঠে এসেছে, তা হচ্ছে, এ বড় অপরাধ চক্রের নেপথ্যে গুগলের সিস্টেমের নিরাপত্তা দুর্বলতাও তদন্তের আওতায় আসছে।


গুজরাট পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা বিবেক ভেদা বলেছেন, “এত বিপুল সংখ্যক ভুয়া জিমেইল অ্যাকাউন্ট একত্রে ব্যবহারের ঘটনা এর আগে কখনো দেখা যায়নি, যা বিস্ময়কর।


“আমরা খুব দ্রুতই গুগলকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেব। তাদের প্ল্যাটফর্মের পলিসিতে কিছু পরিবর্তন আনতে বলা হবে, যাতে এ ধরনের সুরক্ষাব্যবস্থা সহজেই এড়িয়ে যাওয়া না যায়।”


তিনি বলেছেন, খুব শিগগিরই গুগলকে এ মামলার তদন্তের কাঠগড়ায় একটি পক্ষ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগের পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।


এ ঘটনা ও তদন্তের বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট। এ ঘটনায় শেষ পর্যন্ত গুগল কোনো ধরনের আইনি অভিযোগ বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখে পড়বে কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।


ব্রিকস সম্মেলনকে কেন্দ্র করে বোমা হামলার হুমকি


ভারতে আর্থিক জালিয়াতির কারণে সাইবার অপরাধে বার্ষিক ক্ষতি ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন অপরাধে ব্যবহৃত প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানও নিয়েছে।


সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনের কয়েক দিন আগে ১০ সেপ্টেম্বর গুজরাট রাজ্য সরকার এক বোমা হামলার হুমকির ইমেইল পাওয়ার পর এ তদন্ত শুরু হয়।


পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, ওই ইমেইলটিতে ব্রিকস সম্মেলনের সময় ভারতের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ বিভিন্ন দেশকেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল।


ভেদা বলেছেন, শেষ পর্যন্ত এসব হুমকি ভুয়া ছিল। তবে এ চক্রের আন্তর্জাতিক সংযোগ রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের একজন বাংলাদেশের এক ক্রেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। এই ক্রেতা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে আংশিক অর্থ পরিশোধ করে জিমেইল অ্যাকাউন্টগুলোর বিভিন্ন ব্যাচ কিনতেন ও পরবর্তীতে ভুয়া ইমেইল পাঠাতেন।


পুলিশের উদ্বেগের আরেকটি বিষয়, প্রতিটি ভুয়া অ্যাকাউন্টে গুগলের টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু ছিল। অপরাধ চক্রটি এত বড় সংখ্যক অ্যাকাউন্টে তা কীভাবে করল সেটাও তদন্তের আরেকটি দিক।


এফ–১৫ যুদ্ধবিমান

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৪৮ পিএম

ইয়েমেনে সৌদি আরবের একটি এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করেছে হুতিরা। ইরানপন্থী হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি আজ বুধবার এ দাবি করেন।


এক বিবৃতিতে ইয়াহিয়া সারি বলেন, ইয়েমেনের মারিব এলাকায় ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থানীয়ভাবে নির্মিত।


বিবৃতিতে হুতিদের মুখপাত্র আরও বলেন, ‘আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের মুখে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী (হুতি বিদ্রোহীরা) সৃষ্টিকর্তার সহায়তা ও অনুগ্রহে সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে।’


যুদ্ধবিমানটি ইয়েমেনের মারিবের আকাশসীমায় সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর তৎপরতায় সহায়তা করার সময় ভূপাতিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ইয়াহিয়া সারি।


স্থানীয় সূত্রের বরাতে আল-জাজিরা জানিয়েছে, মারিবের উত্তর-পশ্চিমে মাউন্ট হেলানের কাছে হুতিরা যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত করেছে।


হুতিদের পক্ষ থেকে এফ–১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবির বিষয়ে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।


ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ২০১৫ সাল থেকে হুতিদের লড়াই চলছে। ওই সময় হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে নেয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করে। পরে হুতিদের সঙ্গে লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।


চলমান ইরান যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের সঙ্গে হুতিদের আগের সেই বিরোধ এখন নতুন মাত্রা পেয়েছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি, পবিত্র মক্কা নগরীর দিকে ড্রোন ছুড়েছে হুতিরা। এ কারণে শহরটিতে গতকাল মঙ্গলবার নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়।


সর্বশেষ ২০১৭ সালে হুতিরা পবিত্র মক্কায় হামলার চেষ্টা করেছিল। এরপর এবারই প্রথম মক্কায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হলো। তবে হুতিরা পবিত্র স্থানে হামলার এসব অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে।


মক্কা নগরীতে গতকাল নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করার কয়েক মিনিটের মধ্যে অবশ্য তা তুলে নেয় সৌদি সরকার। একই ধরনের সতর্কতা তাইফ ও সৌদি আরবের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর জেদ্দাতেও জারি করা হয়েছিল।



ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের বোমার এক বিশাল চালান বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে। কয়েক বিলিয়ন ডলারের এই চুক্তি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিতর্কিত এই সমরাস্ত্রের সবচেয়ে বড় একক চালান হতে যাচ্ছে বলে খবর দিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।


এক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, ২৮০ কোটি ডলারের এই অস্ত্র চুক্তির আওতায় দুই হাজার পাউন্ড ওজনের ৪০ হাজার বোমা দেওয়া হবে, যার মধ্যে রয়েছে ২০ হাজার এমকে-৮৪ এবং ২০ হাজার বিএলইউ-১১৭ বোমা।


এছাড়া এই বিক্রয় তালিকায় ২০ হাজার আই-২০০০ পেনিট্রেটর ওয়ারহেডও থাকছে।


পশ্চিমা সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম ধ্বংসাত্মক এই এমকে-৮৪ বোমা বিস্ফোরণের পর এর ধাতব টুকরোগুলো কয়েক হাজার ফুট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এটি পুরু কংক্রিট ও লোহা ভেদ করতে পারে এবং মাটিতে বড় ধরনের গর্তের সৃষ্টি করে।


বিএলইউ-১১৭ বোমা হল এমকে-৮৪ এর একটি বিশেষ রূপ। এতে তাপ প্রতিরোধী প্রলেপ থাকে, যা নৌবাহিনীর গুদামে নিরাপদে সংরক্ষণের উপযোগী। আর আই-২০০০ বোমা ভূগর্ভস্থ বা সুরক্ষিত কাঠামো ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়।


এসব অস্ত্র বিক্রির বিষয়ে কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।


ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হতাশা এবং দুই দেশের সম্পর্কে নজিরবিহীন টানাপড়েনের মধ্যে এই অস্ত্র বিক্রির সিদ্ধান্ত ডেমোক্র্যাটদের জন্য একটি বড় পরীক্ষা হতে পারে।


যদিও এটিকে 'বিক্রি' বলা হচ্ছে, বাস্তবে 'ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং'-এর মাধ্যমে এই লেনদেনের অর্থায়ন করা হচ্ছে। অর্থাৎ, যে অর্থে ইসরায়েল এই অস্ত্র কিনবে, তা যুক্তরাষ্ট্রই তাদের সরবরাহ করবে। আর তা মেটানো হবে যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে।


এ বিষয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প প্রশাসনের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেছেন, "বিদেশে অস্ত্র বিক্রির সব সিদ্ধান্তই যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে। আমরা প্রক্রিয়াধীন কোনো বিষয় নিয়ে মন্তব্য করি না।"


এ বিষয়ে ইসরায়েলি দূতাবাসও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এই চুক্তির আকার বাইডেন ও ট্রাম্প প্রশাসনের আগের সব ২ হাজার পাউন্ডের বোমা বিক্রির রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে ২০২৫ সালে কংগ্রেসের সাধারণ পর্যালোচনা প্রক্রিয়া এড়িয়ে ২.০৪ বিলিয়ন ডলারের একটি বিতর্কিত চালান পাঠিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।


গাজা ও লেবাননে শত শত বার ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ওইসব বোমা ব্যবহার করেছে ইসরায়েল, যা বিপুল প্রাণহানির অন্যতম কারণ।


গাজায় নিজেদের ঘোষিত নিরাপদ অঞ্চলেও নিয়মিত এমকে-৮৪ বোমা ফেলেছে ইসরায়েল, যা নিয়ে তারা ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে।


মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ ট্রেভর বল বলেন, কোনো ভবনে হামলা করতে চাইলে তারা এ বোমা ব্যবহার করতে পছন্দ করে। কারণ একটি এমকে-৮৪ বোমা পুরো ভবনটি ধসিয়ে দিতে পারে।


প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধে মার্কিন পাইলটদের কাছে ‘হ্যামার’ বা হাতুড়ি নামে পরিচিতি পায় এ বোমা।


গাজা যুদ্ধ চলাকালে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিক নিহতের আশঙ্কায় এ ধরনের বোমা ইসরায়েলে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছিল জো বাইডেনের প্রশাসন। ২০২৪ সালে এর একটি চালান স্থগিত করা হয়েছিল।


তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ক্ষমতায় ফেরার প্রথম মাসেই সেই নীতি উল্টে দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।


ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ব্রায়ান ফিনুকেন বলেন, "ইসরায়েল গাজা এবং লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যেভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে, তাতে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইসরায়েল আসলে কাকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু মনে করে, তা নিয়েই প্রশ্ন আছে।"


পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও ইসরায়েলের মধ্যে টানাপড়েন থাকার পরও এই অস্ত্র বিক্রির পক্ষে সমর্থন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।


গাজায় ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনাও প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল, যেখানে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের বিপরীতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব ছিল।


এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি স্বল্পস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছালে নেতানিয়াহুর মিত্ররা এর কঠোর সমালোচনা করেছিল এবং চুক্তিতে মধ্যস্থতা করায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সমালোচনায় মুখর হয়েছিল।


যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় নেতানিয়াহুকে নিয়ে ট্রাম্প ও তার সহযোগীদের হতাশা ক্রমশ বাড়ছে। কারণ নেতানিয়াহু দ্রুত ও চূড়ান্ত বিজয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন।


ফিনুকেন বলেন, নতুন চুক্তির আওতায় এসব অস্ত্র সরবরাহ করতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে। তবে এ চুক্তির অনুমোদন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় বার্তা দেয়।


"পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি আনা যদি ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য হয়, তাহলে এই চুক্তি অস্বাভাবিক। তারা চাক বা না চাক, এর মাধ্যমে ইসরায়েলের প্রতি একটি আস্থার বার্তাই দেওয়া হচ্ছে।"


সিনেট ফরেন রিলেশনস কমিটি এবং হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির নেতাদের এই অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিতে চাপ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।


রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাটিক নেতারা অতীতে এ ধরনের অস্ত্র বিক্রিতে সমর্থন দিয়ে এলেও গাজা ও ইরানের যুদ্ধের হতাশাজনক ফলাফলের কারণে তারা এখন সাধারণ সদস্যদের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।


বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে যুদ্ধের বিপক্ষে, যা জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে।


প্রতিনিধি পরিষদের ১০০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট সদস্য জুলাই মাসে ইসরায়েলকে সব ধরনের মার্কিন সহায়তা বন্ধ করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন।


মঙ্গলবার ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন বলেন, তিনি এই অস্ত্র বিক্রির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলবেন।


" ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন করদাতাদের অর্থে এমন এক সরকারের কাছে বোমা পাঠাচ্ছেন, যার নেতৃত্বে রয়েছেন একজন ওয়ান্টেড যুদ্ধাপরাধী। অথচ নেতানিয়াহু সরকার গাজা ও লেবাননে বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আমেরিকানদের হত্যার জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার পথ আটকে দিচ্ছে।"


তিনি বলেন, "এটি 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি নয়। আমরা এটি বন্ধ করার চেষ্টা করব।"


ইসরায়েলের প্রতি রিপাবলিকানদের সমর্থন থাকলেও মেগিন কেলি, টাকার কার্লসন এবং ক্যান্ডেস ওয়েন্সের মত রক্ষণশীল বিশ্লেষকরা ইসরায়েলকে পাঠানো বার্ষিক ৩.৮ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন সহায়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ৩:২৪ পিএম

বিশ্ব বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও কমে গেছে। গতকাল মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রণালিটি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের দিনের সাতটির তুলনায় কম এবং ১০ দিনের গড় ১৮টির তুলনায় অনেক নিচে। 


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ায় আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।


সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা বলছে, প্রাথমিক হিসাবে মঙ্গলবার মোট চারটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হয়েছে বলে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি জাহাজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে গেছে এবং দুটি প্রবেশ করেছে।


তবে এসব তথ্য এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং পরে তা পরিবর্তন হতে পারে। কারণ মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো বড় আকারের অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ট্যাংকার চলাচল করেনি। এছাড়া কয়েকটি জাহাজ তাদের ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে প্রণালি পার হয়েছে। 


ফলে সেগুলো আনুষ্ঠানিক হিসাবের মধ্যে আসেনি। অবশ্য মঙ্গলবারের জাহাজ চলাচলের সংখ্যা গত ১০ দিনের গড় ১৮টির তুলনায় অনেক কম।


এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত তেলের মজুত অপ্রত্যাশিতভাবে বেড়ে যাওয়ার পর বুধবার তেলের দাম কমেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও বাজারে প্রভাব ফেলছে।


লোহিত সাগরের দিকে যাওয়া সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর দেশটি ইয়ানবু টার্মিনাল থেকে তেল পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।


বাংলাদেশ সময় আজ বুধবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯৩ সেন্ট বা ০.৮৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৭.৮২ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ৯৭ সেন্ট বা ০.৯২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০৪.৮৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।


এর আগে মঙ্গলবার উভয় ধরনের তেলের দাম ৩ ডলারের বেশি বেড়েছিল। এতে করে গত ১৯ মে’র পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় তেলের দাম। ইয়ানবু টার্মিনাল থেকে তেল পাঠানো বন্ধ হওয়া এবং ইউরোপে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় মূল্যবৃদ্ধি হয়েছিল।


মক্কা অভিমুখে ড্রোন হামলায় ওআইসির নিন্দা

  • প্রকাশ : বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, সময় : ১০:১১ এএম

ইসলামের পবিত্র নগরী মক্কা অভিমুখে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সৌদি আরব। এ ঘটনার নিন্দা তীব্র জানিয়েছে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)। 


তবে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের এই অভিযোগকে ‘পুরোনো মিথ্যা’ আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছে হুতিরা। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।


সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, মক্কার কাছে ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া একটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।


জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি বলেন, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি শনাক্ত করা হয়। নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সেটিকে ভূপাতিত করা হয়। পরে ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষ মক্কার দক্ষিণে পড়ে।


আল-মালিকি এটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেন। এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার অভিযোগও হুতিদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল।


তিনি বলেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তা সৌদি আরবের জন্য ‘লাল রেখা’। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।


তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে হুতিরা। গোষ্ঠীটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হাজেম আল-আসাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার দাবি ‘পুরোনো মিথ্যা’, যা এর আগেও ব্যবহার করা হয়েছে।


তিনি দাবি করেন, এ ধরনের অভিযোগ এখন আর কাউকে বিভ্রান্ত করতে পারবে না।


এদিকে মক্কা ও মদিনা অঞ্চলে হুতিদের হামলার অভিযোগে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ওআইসি। সংস্থাটির মহাসচিবালয়ের এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে হুতিদের চলমান হামলারও নিন্দা করা হয়।


বিবৃতিতে বলা হয়, পবিত্র স্থান ও মসজিদ লক্ষ্য করে এ ধরনের হামলা বেসামরিক মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘন করে। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করে।


ওআইসি বলেছে, পবিত্র স্থান, উপাসনালয় ও বেসামরিক অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইসলামি মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইন ও নীতির পরিপন্থি।


পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা লঙ্ঘনকে অগ্রহণযোগ্য ও অসহনীয় উল্লেখ করে এর জন্য দায়ীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।


সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সংহতি জানিয়ে ওআইসি বলেছে, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা বজায় রাখতে রিয়াদ যেসব পদক্ষেপ নেবে, তাতে সংস্থাটির সমর্থন রয়েছে।


এর আগে মঙ্গলবার হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদির খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এসব হামলায় সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।


২০১৪ সালে হুতিরা রাজধানী সানা ও দেশের কয়েকটি অঞ্চল দখল করার পর ইয়েমেনে যুদ্ধ শুরু হয়। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।