• প্রকাশ : বুধবার ০৪ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৬:১৯ এএম

ইরানে লক্ষ্য অর্জনে যা যা প্রয়োজন, সবই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানে হামলায় যোগ দিয়ে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট কী লক্ষ্য অর্জন করতে চান?


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনও ‘শাসন পরিবর্তন’কে যুদ্ধের লক্ষ্য বলে বর্ণনা করছেন। কখনও বলছেন, ইরান যেন পারমাণনিবক অস্ত্র বানাতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি।


তিনি কখনো বলেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে, আবার কখনো বলছেন, তা অনেক দীর্ঘ হতে পারে। ইরানে হামলার পর এ কয়েক দিনে গোটা মধ্যপ্রাচ্যই যুদ্ধের মঞ্চে পরিণত হয়েছে, এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে? এই আলোচনা এখন সামনে এসেছে।


প্রায় দুই দশক আগে ইরাকে যে অজুহাতে হামলা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, এবারও প্রায় একই অজুহাত সামনে আনা হয়েছে, যার কোনো গোয়েন্দাভিত্তি নেই। বরং এরকম এক যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।


আরেকটি ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন, আর তা হল- একটি সন্দেহজনক যুক্তির উপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিতে পারে। যা শেষ পর্যন্ত হাজার হাজার সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু ঘটাতে পারে। এছাড়া এই যুদ্ধ আগামী বছরগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে নতুন ‘সন্ত্রাসী হামলার ভিত্তিও’ তৈরি করতে পারে।


আরেকটি বিকল্প পরিস্থিতির কথাও বলেছে সিএনএন। সেটি হল-এই হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প যদি এ অঞ্চলে ৫০ বছরের জন্য ইরানের হুমকি কমিয়ে আনতে পারেন এবং সে দেশে স্বাধীনতার সূচনাকে ত্বরান্বিত করতে পারেন।


গত শনিবার সকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু করে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক ও সামরিক শীর্ষ পর্যায়েরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন হামলায়।


গত সোমবার হোয়াইট হাউজে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানে হামলা চালানোর এটিই ছিল ‘শেষ সেরা সুযোগ’। এ পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “একটি অসুস্থ ও পাপিষ্ঠ শাসনব্যবস্থা থেকে আসা অসহনীয় হুমকি দূর করতেই আমরা বর্তমানে এই পদক্ষেপ নিচ্ছি।”


গত গ্রীষ্মে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “সেই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার পর আমরা তাদের সতর্ক করেছিলাম অন্য কোথাও নতুন করে পারমাণবিক কেন্দ্র না গড়তে। কিন্তু তারা সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছোটা অব্যাহত রেখেছে।”


ইরানে এবারের মার্কিন অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘এপিক ফিউরি বা মহাতাণ্ডব’। ইসরায়েল নাম দিয়েছে ‘রোরিং লায়ন বা গর্জনরত সিংহ’।


‘হামলা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র’


খামেনির বিদায়ের পর যা আশা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা এখনও দেখা যায়নি ইরানে, অর্থাৎ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানিরা এখনো রাস্তায় নামেনি। চারদিকে যখন শোকের মাতম আর বিশৃঙ্খলা ঘনিয়ে উঠছে, ঠিক তখনই তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দ থেকে নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছেন প্রবীণ এক ঝানু রাজনীতিবিদ আলি লারিজানি।


গত রোববার তিনি জানিয়েছেন, দেশে একটি ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ গঠন করা হবে। এই ঘোষণা দিয়ে তিনি যেন বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি না থাকলেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো স্থিতিশীল আছে।


খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে বিবেচিত লারিজানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।


এ অবস্থায় মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে প্রবেশে করেছে যুদ্ধ। সিএনএন লিখেছে, ইরানে হামলা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সবথেকে বড় হামলা এখনো চালানো হয়নি।


সিএনএন সঞ্চালক জেক ট্যাপারকে তিনি বলেন, “আমরা তাদের ওপর চরম আঘাত হানছি। মনে হয় খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে। অত্যন্ত শক্তিশালী একটি অভিযান। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনী আছে আমাদের। আমরা সেটি ব্যবহার করছি।”


ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখনো তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত শুরুই করিনি। বড় ঢেউটি এখনো আসেনি। সেটি আসছে খুব শিগগিরই।” মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে ইরানের আক্রমণকে ‘বড় বিস্ময়’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প।


তিনি বলেন, “আমরা অবাক হয়েছি। আমরা তাদের (আরব দেশগুলোকে) বলেছিলাম, ‘আমরা এটি সামলে নেব’। কিন্তু এখন তারা লড়াই করতে চাইছে। তারা বেশ আগ্রাসীভাবেই লড়াই করছে। তাদের ভূমিকা খুব সামান্যই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন তারা এতে যুক্ত হওয়ার জন্য জোরাজুরি করছে।”


সিএনএন বলছে, ইরানের নেতৃত্বের যারা এখনো টিকে আছেন, তারাও ‘আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা উসকে দিতে সংকল্পবদ্ধ।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিণতি কী হতে পারে?


• বিমান অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্রের লক্ষ্যস্থলগুলোতে ধ্বংসাত্মক হামলা করলে এটি জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও প্রতিবাদের জোয়ার সৃষ্টি করতে পারে, যা দীর্ঘ সময় ধরে চলা ক্ষমতা কেন্দ্রের ওপর চাপ তৈরি করবে এবং একটি নতুন ইরান মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিতে সক্ষম হতে পারে।


• ইরানের বাকি নেতৃত্ব নতুন শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে যে যেন দেশটি আর আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে কার্যকরভাবে দাঁড়াতে না পারে।


• খারাপ যা ঘটতে পারে, তা হল- ইরানের পরিস্থিতি লিবিয়ার মতো হতে পারে। বছরের পর বছর ধরে চলা কতৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর নেতৃত্ব শূন্যতা তৈরি হতে পারে। গোষ্ঠীগত লড়াই বা গৃহযুদ্ধ লেগে যেতে পারে, যা ছড়িয়ে পড়তে পারে অঞ্চলজুড়ে, উদ্বাস্তু সংকট তৈরি হতে পারে এবং ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ উগ্রপন্থিদের হাতে চলে যেতে পারে।


গত সোমবার রয়টার্সের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্কে ঢুকছে শত শত ইরানি।


সে দিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসবিদ ও বৈশ্বিক নীতি বিশারদ ম্যাক্স বুট কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস সম্মেলনে বলেছেন, “ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তা অযৌক্তিক এবং অবৈধ। তবে এর মানে এই নয় যে এটি ব্যর্থ হবে।” তিনি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সমালোচনা করেন।


তবে ইরানের সামরিক বাহিনী এখনো সক্রিয় থাকায় দেশটির শাসক গোষ্ঠীকে উৎখাত করাটা ‘কঠিন’ মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড পেট্রাউস।


কারণ হিসেবে সংস্থার সাবেক এ পরিচালক বলেন, “সমস্যা হলো, কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বেশ কঠিন, যদি সেখানে লাখ লাখ সদস্যের সশস্ত্র ও সংগঠিত বাহিনী মাঠে উপস্থিত থাকে।” ট্রাম্প বলেছিলেন ইরানে তিনি স্থলবাহিনী মোতায়েন করবেন না।


এ অবস্থায় ইরানে সরকার পরিবর্তন না হলেও এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হয় বেশ কিছু লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে মনে করেন ডেভিড পেট্রাউস।


তবে সোমবার নিউ ইয়র্ক পোস্ট পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, “ইরানে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানো নিয়ে আমার কোনো জড়তা নেই। অন্য প্রেসিডেন্টরা যেমন বলেন, স্থলভাগে কোনও সেনা মোতায়েন করা হবে না। আমি তা বলি না। আমি বলি, সম্ভবত তাদের (স্থলসেনা) প্রয়োজন নেই অথবা যদি প্রয়োজন হয় (তবে পাঠানো হবে)।”


কী চলছে ইরানে


বিবিসি লিখেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ইরানের সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, তাতে ১৯৮৯ সাল থেকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া আলি খামেনি নিহত হয়েছেন।


ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফ দাবি করেছে, খামেনির সঙ্গে নিহত হয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান, সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ এবং ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রধানের মতো শীর্ষস্থানীয় কয়েক ডজন কর্মকর্তা।


মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট।


সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৫৩টি শহর আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৫০৪টি স্থান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। আর নথিভুক্ত হামলার সংখ্যা ১০৩৯-এ পৌঁছেছে।


খামেনির মৃত্যুতে সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৪০ দিনের শোক পালনের জন্য দেশের সব সরকারি এবং সাধারণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে। সরকার শোককাঠিন্যকে “জাতির একত্রিত ক্ষতি” হিসেবে উল্লেখ করেছে।


বিবিসি লিখেছে, সোমবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে যে তারা ওমান উপসাগরে ইরানের ১১টি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, ওই এলাকায় ইরানের আর কোনো জাহাজ নেই।


ইরানের পাল্টা হামলা


ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েল, কুয়েত, আরব আমিরাতেও মৃত্যুর খবর এসেছে। নিহতদের মধ্যে মার্কিন সেনাও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি দেশে মার্কিন স্থাপনা ইরানের হামলার লক্ষ্যস্থল।


মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ড্রোন হামলা হয়েছে। এর পর সৌদি আরবের বিভিন্ন মিশনে তাদের সব ধরনের সেবা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।


কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দূতাবাস এক্স পোস্টে বলেছে, “আমরা সব ধরনের নিয়মিত এবং জরুরি কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেছি।”


এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির’ কারণ দেখিয়ে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের বাণিজ্যিক মাধ্যমে দেশত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিল।


বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড সদর দপ্তর ইরানের হামলায় ধ্বংস হওয়ার খবর এসেছে।


গত সোমবার অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলায় তাদের দুটি ডেটা সেন্টার অঞ্চলে ‘সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত’ হয়েছে।


গতকাল মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান আশপাশের যেসব শহরকে পাল্টা হামলার নিশানা বানিয়েছে, দোহা সে তালিকার একটি।


আল জাজিরা লিখেছে, এর আগে সোমবার কাতারের বিমান বাহিনী তাদের আকাশসীমায় দুটি ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে এবং কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করে।


সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির মুসাফাহ এলাকায় একটি জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনালে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ওমান, জর্ডান ও ইরাকেও মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। ইরানের সমর্থনে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা করছে। ইসরায়েল পাল্টা লেবাননের বৈরুতে হামলা করেছে।


জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরাইনি জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, “যদি কোনো প্রতিবেশী দেশের কোনো ঘাঁটি অন্য কোনো দেশে হামলা বা আক্রমণ চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে সেই ঘাঁটি ইরানের জন্য একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।”


বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব?


উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চলার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।


ইরানের হামলার কারণে কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে, যে কারণে সোমবার ইউরোপে গ্যাসের দাম হঠাৎ করেই ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়।


আল জাজিরা জানিয়েছে, দিনের শুরুতেই দাম ২৫ শতাংশ বেশি ছিল। কাতার এনার্জির উৎপাদন বন্ধের খবরের পর সেই ঊর্ধ্বগতি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।


ইরানের ড্রোন হামলা জেরে সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগার আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী এ তথ্য দিয়েছেন। সেদিন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়।


বিবিসি লিখেছে, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশ্বের তেল-গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয় এই প্রণালী হয়ে।


সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সোমবার প্রতি ব্যারেল ৮২ ডলারে উঠেছে।


আসলে কী চায় যুক্তরাষ্ট্র?


ইরানে কেন যুক্তরাষ্ট্র হামলা করেছে? ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে কী এ বিষয়ে স্পষ্ট কারণ রয়েছে?


হামলার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা একেক সময় একেক যুক্তি দিচ্ছেন। ফলে এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী, এ বিষয়ে যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিভ্রান্তি থাকে, তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।


সিএনএন লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা বদলানো। ইরানিদের ‘স্বাধীনতা’ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেছেন তিনি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংসের অঙ্গীকার করেছেন তিনি, যদিও এর আগে ১২ দিনের হামলায় তাদের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করেছিলেন।


প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার জোর দিয়েই বলেছেন, ইরানি সন্ত্রাসী বা ইরাকে মার্কিন দখলদারিত্বের সময় ইরান সমর্থিত মিলিয়াশিয়াদের হাতে আমেরিকানদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া প্রয়োজন।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলার যুক্তি হাজির করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগাম হামলা চালিয়েছে কারণ তারা জানতেন ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা করছে এবং তাতে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী ইরানের পাল্টা হামলার শিকার হতে পারে।


ট্রাম্প প্রশাসনের এ ধরনের বক্তব্যে বোঝা যায়, কী কারণে যুদ্ধে জড়িয়েছেন সেটি তারা জানে না। ফলে ইতোমধ্যে তাদের এই সামরিক অভিযান সমস্যায় পড়ে থাকতে পারে।


ডেমোক্রেটিক সেনেটর জিন সাহিন সোমবার সিএনএনকে বলেন, “সত্যি কোনো স্পষ্ট কৌশল নেই এবং প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আমাদের শোনা দরকার তিনি কী চান।”


“সফল হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রকৃত মোড় ঘোরানোর সুযোগ হতে পারে। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কীভাবে ঘটবে, তা মোটেও স্পষ্ট নয়,” বলেন তিনি।


ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই অস্পষ্টতা যেন অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং তার কৌশলেরই একটি অংশ। যুদ্ধে লক্ষ্য অনিশ্চিত রেখে তিনি রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করতে চান, যাতে যখন চাইবেন তখনই বিজয় ঘোষণা করতে পারেন।


তিনি যেন ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন- বৃহৎ পরিসরের স্থলযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা ও অচলাবস্থার ঝুঁকি তৈরি করে।


কিন্তু আকাশ হামলার মাধ্যমে কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও অনুগত শাসক বসানোর একমাত্র নজির চিন্তা করা কী সম্ভব? যদিও ট্রাম্প বলেছেন, কিছু সমালোচকের কথায় তিনি বিরক্ত নন, যারা বলছেন-ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে গেলে তার নিজের ক্ষমতায় থাকা নিয়ে তারা সন্দিহান।


সিএনএন লিখেছে, ট্রাম্প ইতোমধ্যেই যুদ্ধে লক্ষ্য সীমিত করে এনেছেন বলে মনে করা হয়েছে।


গত সোমবার তিনি বলেছেন, তাদের পরিকল্পনা হল ইরানে নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূর্চি ও ভবিষ্যৎ পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্খা ধ্বংস করা। মনে হচ্ছে তিনি এবং হেগসেথ দুজনই আগে থেকেই ব্যর্থতার অজুহাত তৈরি করে রাখছেন, যাতে ইরানের বর্তমান পুনর্গঠিত হলে সে দেশের জনগণের ঘাড়েই দোষ চাপানো যায়, ‘তোমরাই তো সুযোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছ’।


হেগসেথ বলেছেন, “আমি মনে করি ইরানিদের প্রতি প্রেসিডেন্টের বার্তা স্পষ্ট। ইরানের জনগণ: এটা তোমাদের সময়।”


কিছু বিশ্লেষক ভেনিজুয়েলায় মাদুরাকে উৎখাত প্রসঙ্গ টেনেছেন। মাদুরাকে ধরে আনার পর ভেনিজুয়েলায় অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু বহু দশক ধরে চেষ্টা করেও ইরানে মধ্যপন্থি কোনো নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে।


এমনকি খামেনিকে হত্যা করার পর এখনও এমন কোনো নেতা খুঁজে পায়নি তারা। যে অজুহাতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র, সেই অভিযোগকে নাকচ করে দিল আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।


সংস্থাটির প্রধান, মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এনবিসি নিউজকে বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ইরানের কোনো সমন্বিত কর্মসূচির প্রমাণ তারা পাননি। ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য কোনো সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত কর্মসূচির আলামত শনাক্ত হয়নি।


‘শিগগিরই আগ্রহ হারাবে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র’


আল জাজিরা লিখেছে, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও কৌশলগত পর্বে এগিয়ে থাকতে পারেন—যদিও এই ‘জয়’ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে মূলত তাদের স্বল্পমেয়াদি স্বার্থের ঐক্যের কারণে।


তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু পরস্পরের প্রতি পুরোপুরি আস্থাশীল নন। উভয় পক্ষের সহযোগিতার ক্ষেত্রটি মূলত তাৎক্ষণিক স্বার্থে সীমাবদ্ধ—দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ঐক্যের ভিত্তি স্পষ্ট নয়।


মনোযোগ সরে গেলে, দুজনই এক অনিশ্চিত যুদ্ধের মুখোমুখি হবেন। ট্রাম্প দ্রুত অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার চাপ অনুভব করতে পারেন, যেখানে নেতানিয়াহু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার কৌশল নিতে পারেন।


দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন ও রাজনৈতিক ধৈর্য ট্রাম্পের নেই—এমন অভিযোগ উঠছে। তিনি স্থলবাহিনী মোতায়েন করতে পারবেন না বলেই বারবার ইরানিদের ‘সহায়তা করা’ বা তারা নিজেদের দেশ নিয়ন্ত্রণে নিলে ‘পাশে থাকার’ বার্তা দিচ্ছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ শুরুর অভিযোগ, সম্ভাব্য মার্কিন হতাহতের ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ছেন।


বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের এই ‘অস্বস্তিকর’ জোটটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠলেও স্বল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত তাদের অর্জন ‘বড় মূল্য দিয়ে সীমিত সাফল্য লাভ’ হয়ে থাকতে পারে।


কতদিন চলবে এ যুদ্ধ?


ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচিত করবে যে বিশেষজ্ঞ পরিষদ, তার এক সদস্য বলেছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ‘দীর্ঘায়িত’ হবে না।


আলি মোআলেমি বলেছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের সময় ‘ব্যক্তিগত পছন্দ’ বা রাজনৈতিক ও দলীয় গোষ্ঠীর প্রাধান্য যে বিবেচ্য হবে না, সেই বিষয়ে শপথ নিয়েছেন বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা। তিনি বলেন, “বিপ্লবের শহীদ নেতার মতোই একজনকে নির্বাচিত করবে বিশেষজ্ঞ পরিষদ।”


মিডল ইস্ট মনিটর লিখেছে, ইসলামি ঐতিহ্যে, বিশেষ করে শিয়া ইতিহাসচেতনায়, শহীদ হওয়া পরাজয়ের প্রতীক নয়। বরং এটি ‘স্রষ্টার সঙ্গে অঙ্গীকারের প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্যের’ প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়।


খামেনির মৃত্যু ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তিনি ‘সাম্রাজ্যবাদ ও জায়নবাদের’ বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে সংগ্রাম করে গেছেন।


খামেনির মৃত্যু ইরানে গভীর জাতীয় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর পরপরই ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রতিশোধ নেওয়া এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা ঘোষণা করেছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ড আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। খামেনির এই ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ একটি মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


যে ঘটনাকে তার বিরোধীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হিসেবে ভেবেছিল, সেটিই উল্টো ব্যাপক জনসমাবেশ ও সংগঠনের শক্তিশালী প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে কি না, সে আলোচনাও সামনে এসেছে।


গত শনিবার ট্রাম্পের এক বক্তব্যের বরাতে বিবিসি লিখেছে, ইরানের ওপর হামলা ‘সপ্তাহজুড়ে বা যতদিন প্রয়োজন অব্যাহত থাকবে’। তবে পরে তিনি আরও দীর্ঘ সময়সীমার ইঙ্গিত দেন।


গত রোববার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ একই গতিতে অভিযান চালিয়ে যেতে পারে।


গত সোমবার হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, “শুরু থেকেই আমরা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের কথা বলেছি, তবে আমাদের সক্ষমতা এর চেয়েও অনেক দীর্ঘ সময় ধরে চালানোর।”


এই যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি সিএনএনকে বলেছেন, “প্রায় এক মাস। আমি চাই না এটি খুব দীর্ঘ হোক। আমি সবসময় ভেবেছি এটা চার সপ্তাহ চলবে।”


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ শেষ হতে ‘কিছুটা সময় লাগলেও তা বছরের পর বছর চলবে না’।


নেতানিয়াহু অবশ্য এই সংঘাতকে আগের দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধগুলোর মতো দেখতে নারাজ, জানিয়েছে রয়টার্স।


ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে সোমবার তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম এটি দ্রুত ও চূড়ান্ত হতে পারে। এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু এটি বছরের পর বছর ধরে চলবে না। এটি কোনো অন্তহীন যুদ্ধ নয়।”




সংগৃহীত

  • প্রকাশ : রবিবার ০১ নভেম্বর, ২০২৬, সময় : ৫:৩১ পিএম

ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় মদপানে ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় বাড়িতে তৈরি করা মদ পান করেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।


গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


তবে অভিযুক্তদের তৈরি মদের সঙ্গে ১৩ জনের মৃত্যুর সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।


পুলিশের দাবি, মূল অভিযুক্ত অজয় রাঠোর ইন্দোরের বাসিন্দা। গত সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য খোঁজেন তিনি। সেখান থেকে পাওয়া অসম্পূর্ণ তথ্য কাজে লাগিয়ে পরে ইন্টারনেটে রাসায়নিক সরবরাহকারীদের সন্ধান শুরু করেন।


তদন্তকারীদের ভাষ্য, এরপর ইন্দোরের ‘রাইজিং ব্রাদার্স’ নামে একটি দ্রাবক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন অজয়। সেখান থেকে একটি রাসায়নিক সংগ্রহ করেন তিনি।


পুলিশের অভিযোগ, ওই রাসায়নিক ব্যবহার করে অজয় ও তার সহযোগীরা বেআইনিভাবে মদ তৈরি শুরু করেন। ১ অক্টোবর রাসায়নিক হাতে পাওয়ার পর পুরোনো ও ফেলে দেওয়া মদের বোতলে তৈরি করা তরল ভরে বিক্রি শুরু করেন তারা। এমনকি আসল মদের সঙ্গে নকল মদ মিশিয়ে গ্রামাঞ্চলেও সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।


এতে ক্রেতাদের পক্ষে আসল ও নকল মদের পার্থক্য বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। রাসায়নিক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইন্দোরের আরেক বাসিন্দা আমন কাসলিওয়ালকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।


যে গুদাম থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ। সেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। সন্দেহভাজন মদের নমুনাও পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।


ওমর আবদুল্লাহ ও নিধি রাজদান

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৮:০৭ পিএম

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ নিধি রাজদান নামে এক হিন্দু নারী সাংবাদিককে বিয়ে করেছেন। আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) তারা এ ঘোষণা দিয়েছেন।


৫৬ বছর বয়সী ওমর এক্সে লিখেছেন, “গতকাল এক নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে।” এতে নিধি রাজদানকে ট্যাগ করেন তিনি।


সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, জম্মু ও কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগরে ঘরোয়া পরিবেশে বিয়েটি সম্পন্ন হয়। এতে পরিবারের কাছের সদস্যরা আসেন।


যারমধ্যে ছিলেন ওমর আব্দুল্লাহর বাবা ফারুক আব্দুল্লাহ এবং মোলি আব্দুল্লাহ। অপরদিকে নিধি রাজদনের বাবা এমকে রাজদান এবং শার্লা রাজদানও উপস্থিত ছিলেন।


ওমর আব্দুল্লাহ এর আগে পায়েল আব্দুল্লাহ নামে এক নারীকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে দুই সন্তানও আছে। তবে স্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ভালো ছিল না। এ কারণে তিনি তাকে ডিভোর্স দিতে চান। পরে তাদের এই বিয়ের সম্পর্কটি কয়েক বছর ধরে ঝুলে থাকার পর গত জুলাইয়ে সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে তাদের চূড়ান্ত বিচ্ছেদ হয়।


এরআগে তারা একে অপরের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। পরবর্তীতে তারা মামলা তুলে নিতে সম্মত হন এবং বিচ্ছেদ চূড়ান্ত করেন।


এদিকে তার সাবেক স্ত্রী পায়েল আব্দুল্লাহও হিন্দু ছিলেন। বিয়ের আগে তার নাম ছিল পায়েল নাথ। ওমর আব্দুল্লাহর সঙ্গে বিয়ের পর তিনি নিজের নাম পাল্টে রাখেন পায়েল আব্দুল্লাহ।


সূত্র: এনডিটিভি


ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৭:৪৫ পিএম

কলকাতায় ফের বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ঘেরাওকে কেন্দ্র করে এক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, স্বাধীন সনাতনী রাষ্ট্রের দাবি এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির’ দাবিতে শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজপথে নেমেছিল ‘বঙ্গসেনা’ নামের একটি কট্টরপন্থি সংগঠন। তবে পুলিশের বাধার মুখে  মিশনের মূল ফটক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি তারা।


শনিবার শিয়ালদহ স্টেশন চত্বর থেকে মিছিল বের করেন বঙ্গসেনার কর্মী-সমর্থকেরা। মিছিলের সামনের সারিতে দেখা যায় বিপুল সংখ্যক গেরুয়া বসনধারী ও সন্ন্যাসী-সন্ন্যাসিনীদের। সেখান থেকে বিভিন্ন স্লোগান তুলে মিছিলটি পার্ক সার্কাসের বাংলাদেশ মিশনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।


মিছিলটি উপ-হাইকমিশনের কাছাকাছি আসা মাত্রই প্রস্তুত থাকা কলকাতা পুলিশ ডাবল ব্যারিকেড তুলে সেটিকে থামিয়ে দেয়। মিশন থেকে আনুমানিক ৩০০ গজ আগেই বিক্ষোভকারীদের আটকে দেয়া হয়। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সামান্য বচসা ও ধাক্কাধাক্কি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে প্রশাসন। ব্যারিকেডের সামনেই অবস্থান নিয়ে নিজেদের দাবি-দাওয়া নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন বঙ্গসেনার সদস্যরা।


এই কর্মসূচির কারণে পার্ক সার্কাস ও সংলগ্ন এলাকায় কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। শনিবারে মিশন বন্ধ থাকার কারণে এদিন কোনো স্মারকলিপি জমা দিতে পারেননি সংগঠনের প্রতিনিধিরা। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে উপ-হাইকমিশন ও তার আশপাশের এলাকায় আগাম অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।


উল্লেখ্য, চলতি মাসে এটি বাংলাদেশ মিশনের সামনে দ্বিতীয়বার উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনা। এর আগে গত ৩ অক্টোবর ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ এবং বিবেকানন্দ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠানের সন্ন্যাসীরা প্রায় একই দাবিতে মিশনের বাইরে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেবারে অবশ্য তারা মিশনের কর্মকর্তাদের কাছে একটি স্মারকলিপি তুলে দিতে সক্ষম হয়েছিলেন।


আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে সংসদ সদস্যদের মধ্যে তুমুল মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৪:৩৫ পিএম

‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ বা যৌনতা মন্ত্রণালয় গঠনের প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের জেরে আর্মেনিয়ার পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় সংসদ সদস্যদের পরস্পরের দিকে কিল-ঘুষি, লাথি ও চেয়ার ছুড়তে দেখা যায়। অধিবেশনকক্ষের পাশাপাশি পার্লামেন্ট ভবনের করিডোরেও ছড়িয়ে পড়ে হাতাহাতি।


চলতি বছরের শুরুতে বিরোধী দল স্ট্রং আর্মেনিয়া পার্টি নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে দেশে ‘কোনো অসন্তুষ্ট নারী থাকবে না’—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এ লক্ষ্য পূরণে দলটি ‘সেক্স মন্ত্রণালয়’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেয়। দলটির দাবি ছিল, যৌন অসন্তুষ্টির কারণে মধ্যবয়সী শ্বেতাঙ্গ নারীদের মধ্যে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে, যা মোকাবিলায় এ ধরনের মন্ত্রণালয় প্রয়োজন।


গত বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) পার্লামেন্টে প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্কের একপর্যায়ে সংঘাতের সূত্রপাত হয়। ক্ষমতাসীন সিভিল কন্ট্রাক্ট পার্টির সংসদ সদস্য তারন চাখোয়ান বিরোধী দলকে দুর্নীতিতে নিমজ্জিত বলে মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে দলটির নেতা নারেক রাপেতিয়ানকে নারীদের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।


বিতর্কের সময় চাখোয়ান রাপেতিয়ানকে ‘আপাদমস্তক ঝামেলা’ বলে কটাক্ষ করলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। একপর্যায়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে চাখোয়ানের বক্তব্য দেওয়ার ডায়াসের দিকে এগিয়ে যান। এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।


সংঘর্ষের সময় সংসদ সদস্যদের একে অপরকে ঘুষি ও লাথি মারতে দেখা যায়। পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার ও ক্ষমতাসীন দলের সদস্য ভাহাগন আলেকসানিয়ান বিরোধী আইনপ্রণেতাদের দিকে একটি চেয়ার ছুড়ে মারেন। অন্যদিকে চাখোয়ানকে বিরোধী সংসদ সদস্য গার্নিক দাভতিয়ানের দিকে পানি ছিটাতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন আইনপ্রণেতা পানির বোতল ছোড়েন এবং পার্লামেন্টের কয়েকটি টেবিল ভেঙে যায়।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার অধিবেশন মুলতবি না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার ভাষ্য ছিল, সবাই যেন ঘটনাটি সরাসরি দেখতে পারেন। তবে সংঘর্ষের মাত্রা বেড়ে গেলে শেষ পর্যন্ত অধিবেশনে বিরতি ঘোষণা করতে হয়। বিরতির পরও হাতাহাতি থামেনি; পার্লামেন্টের করিডোরেও দুই পক্ষের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা দুই দলের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে মানবপ্রাচীর তৈরি করেন। কয়েকজন সংসদ সদস্যকে আঘাতপ্রাপ্ত ও ছেঁড়া পোশাকে চেম্বার থেকে বের হতে দেখা যায়।


ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান সহিংসতার নিন্দা জানান। তবে একই সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্যদের ভূমিকার প্রতি সমর্থনও জানান তিনি। পাশিনিয়ান বলেন, ‘আমি সহিংসতার নিন্দা করি, তবে আজ সিভিল কন্ট্রাক্ট উপদল যে ব্যবস্থা নিয়েছে আমি তাকে সমর্থন করি; কারণ বিরোধী দলে থাকার মানে এই নয় যে কেউ উদ্ধত আচরণ করবে। চেয়ার ছুড়ে মারা হোক বা অন্যকিছু, এটি ছিল যথাযথ ও সঠিক।’


পরে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী কৌতুক করে লেখেন, ‘স্ট্রং আর্মেনিয়া’ নামের দলটির সংসদ সদস্যরা ‘শারীরিকভাবে ততটা শক্তিশালী নন’। 


সেই পোস্টের মন্তব্যে চাখোয়ান বলেন, ‘আমার কিছুটা খারাপ লাগছে। তারা [স্ট্রং আর্মেনিয়া] লড়াই শুরু করে আর তারপর পালিয়ে যায়।’


চাখোয়ান পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের আচরণকে ‘গুণ্ডামি’ হিসেবে অভিহিত করে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে সংঘাত উসকে দিয়ে মার না খেয়ে পালিয়ে যাওয়া চলবে না।’


অন্যদিকে, বিরোধী নেতা কারাপেতিয়ান সংঘর্ষের পক্ষে অবস্থান নিয়ে ঘটনাটিকে ‘খাঁটি আর্মেনীয় ধাঁচের পুরুষে পুরুষে স্বাভাবিক লড়াই’ বলে বর্ণনা করেন। তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিরক্ত করে আসা ব্যক্তিরা এবার সরাসরি জবাব পেয়েছেন।


এ ঘটনায় কোনো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে চাইলে আর্মেনিয়ার প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।


এদিকে একই দিনে আলবেনিয়ার পার্লামেন্টেও বিরোধী আইনপ্রণেতাদের বিক্ষোভ ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। সেখানে বিরোধী সংসদ সদস্যরা স্মোক বোমা বিস্ফোরণ ঘটান এবং ডায়াস অবরুদ্ধ করেন।


বিতর্কিত একটি রিসোর্ট প্রকল্পকে কেন্দ্র করে আলবেনিয়ায় কয়েক মাস ধরে চলা ‘ফ্লেমিংগো আন্দোলন’ পরে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। সেন্ট্রাল ব্যাংক অব আলবেনিয়া-সংক্রান্ত একটি আইনের সংশোধনী নিয়ে ভোটাভুটির সময় ক্ষমতাসীন সোশ্যালিস্ট পার্টির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন বিরোধী সদস্যরা। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী এডি রামার পদত্যাগ দাবি করেন।


হ্যালোইন উৎসব

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ৩:২৪ পিএম

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছর ৩১ অক্টোবর রাত নামলেই শুরু হয় হ্যালোইন উৎসব। রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, শপিংমল থেকে শুরু করে পার্টির জায়গা- সবখানেই দেখা যায় ভূত, প্রেত, কঙ্কাল, ডাইনি ও ভ্যাম্পায়ারের সাজ। 


কেউ মুখে রক্তের দাগ আঁকেন, কেউ পরেন কঙ্কালের পোশাক। আবার কেউ বাড়ির সামনে সাজিয়ে রাখেন কৃত্রিম কবর, ভূতের মূর্তি ও ভয়ংকর মুখ খোদাই করা কুমড়া।


বর্তমানে হ্যালোইন অনেকের কাছে আনন্দ, সাজসজ্জা, পার্টি ও বিনোদনের উৎসব। তবে এর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মৃত্যু, আত্মা, পরলোক এবং প্রাচীন লোকবিশ্বাস। প্রায় দুই হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্য থেকে কীভাবে এই উৎসবের সূচনা হলো? কেন মৃতদের আত্মার সঙ্গে হ্যালোইনের সম্পর্ক তৈরি হয়েছে?


হ্যালোইনের ইতিহাসের শিকড় খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হয় প্রাচীন কেল্টিক জনগোষ্ঠীর কাছে। ইতিহাসবিদদের মতে, হ্যালোইনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে তাদের ‘সাওইন’ উৎসবের।


প্রাচীন কেল্টিক জনগোষ্ঠী বর্তমান আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও উত্তর ফ্রান্সের কিছু অঞ্চলে বসবাস করত। তাদের কাছে ১ নভেম্বর ছিল নতুন বছরের শুরু। দিনটি গ্রীষ্মের সমাপ্তি ও শীতের আগমনের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হতো। ফসল কাটার মৌসুম শেষে শুরু হতো দীর্ঘ ও অন্ধকার শীতকাল।


কেল্টিকদের বিশ্বাস ছিল, ৩১ অক্টোবর রাত অর্থাৎ বছরের শেষ রাতে জীবিত মানুষের জগৎ ও মৃতদের জগতের মধ্যকার দূরত্ব কমে আসে। এ সময় মৃতদের আত্মা পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অতিপ্রাকৃত শক্তিও মানুষের জগতে বিচরণ করে বলে তারা মনে করত।


এসব অশুভ শক্তি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে তারা বড় বড় আগুন জ্বালাতেন। অনেকে পশুর চামড়া ও মুখোশ পরে নিজেদের চেহারা বদলে ফেলতেন, যাতে আত্মারা তাদের চিনতে না পারে। এ সময় খাবার ও পানীয় উৎসর্গ করার রীতিও প্রচলিত ছিল।


পরবর্তী সময়ে রোমান সাম্রাজ্যের বিস্তারের ফলে কেল্টিক অঞ্চলে রোমানদের বিভিন্ন উৎসব ও সংস্কৃতির প্রভাব পড়ে। এরপর ইউরোপে খ্রিষ্টধর্মের প্রসারের সঙ্গে যুক্ত হয় নতুন ধর্মীয় আচার।


খ্রিষ্টীয় ক্যালেন্ডারে ১ নভেম্বর পালিত হতে শুরু করে ‘অল সেইন্টস ডে’ বা সব সন্তের স্মরণ দিবস। এর আগের সন্ধ্যাকে বলা হতো ‘অল হ্যালোজ ইভ’। সময়ের সঙ্গে এই নাম সংক্ষিপ্ত হয়ে ‘হ্যালোইন’ নামে পরিচিতি পায়। এ ছাড়া ২ নভেম্বর পালিত হয় ‘অল সোলস ডে’। এদিন মৃত ব্যক্তিদের আত্মার শান্তি কামনায় প্রার্থনা করা হতো। 


ফলে ৩১ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত সময়টি ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃতদের স্মরণ ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায়। হ্যালোইনের অন্যতম পরিচিত প্রতীক হলো ভেতরটা ফাঁপা করে কেটে ভয়ংকর মুখ তৈরি করা কুমড়া। এর নাম ‘জ্যাক-ও-ল্যান্টার্ন’।


তবে শুরুতে কুমড়া নয়, শালগম, আলু কিংবা অন্যান্য সবজি কেটে তাতে মুখ তৈরি করা হতো। এর পেছনে রয়েছে আয়ারল্যান্ডের একটি লোককাহিনি।


কথিত আছে, স্টিঞ্জি জ্যাক নামের এক ব্যক্তি শয়তানকে ধোঁকা দিয়েছিলেন। মৃত্যুর পর স্বর্গ কিংবা নরক- কোথাও তাঁর ঠাঁই হয়নি। হাতে জ্বলন্ত কয়লা নিয়ে তাঁকে পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াতে হয়। সেই কাহিনি থেকেই জ্বলন্ত আলোসহ খোদাই করা সবজির নাম হয় জ্যাক-ও-ল্যান্টার্ন।


পরবর্তী সময়ে আইরিশ অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে এই ঐতিহ্য নিয়ে যান। সেখানে শালগমের পরিবর্তে বড় আকারের কুমড়া ব্যবহার শুরু হয়। কারণ কুমড়া সহজে কাটা যায় এবং এর ভেতরে আলো রাখাও সুবিধাজনক। ধীরে ধীরে কুমড়া হয়ে ওঠে হ্যালোইনের অন্যতম প্রধান প্রতীক।


হ্যালোইনের আরেকটি জনপ্রিয় আয়োজন হলো ‘ট্রিক অর ট্রিট’। এদিন শিশুরা ভূত, ডাইনি, সুপারহিরো কিংবা বিভিন্ন কাল্পনিক চরিত্রের পোশাক পরে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যায়। দরজায় কড়া নেড়ে মিষ্টি বা চকলেট চায়। মিষ্টি না দিলে মজা করে দুষ্টুমি করার কথা বলে। এ প্রথাই পরিচিত ‘ট্রিক অর ট্রিট’ নামে।


এই রীতির শিকড়ও ইউরোপের পুরোনো ঐতিহ্যে। মধ্যযুগে অল সোলস ডে উপলক্ষে দরিদ্র মানুষেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ‘সোল কেক’ নামের বিশেষ খাবার চাইতেন। বিনিময়ে বাড়ির মৃত স্বজনদের আত্মার জন্য প্রার্থনা করতেন।


পরবর্তী সময়ে শিশুদের মধ্যেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে খাবার সংগ্রহের রীতি জনপ্রিয় হয়। আইরিশ ও স্কটিশ অভিবাসীদের মাধ্যমে এই ঐতিহ্য যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দেশটিতে ট্রিক অর ট্রিট ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।


বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় হ্যালোইন সবচেয়ে বেশি জাঁকজমকের সঙ্গে পালিত হয়। বাড়িঘর সাজানো, শিশুদের ট্রিক অর ট্রিট, ভয়ংকর পোশাকের প্রতিযোগিতা, কুমড়া খোদাই এবং বিশেষ পার্টির আয়োজন করা হয়।


আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডেও হ্যালোইনের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য রয়েছে। সেখানে আগুন জ্বালানো, মুখোশ পরা, লোকজ খেলা ও বিভিন্ন উৎসবের আয়োজন করা হয়। যুক্তরাজ্যেও শিশু-কিশোরদের মধ্যে দিনটি বেশ জনপ্রিয়।


অন্যদিকে, মেক্সিকোতে ১ ও ২ নভেম্বর পালিত হয় ‘ডে অব দ্য ডেড’ বা মৃতদের স্মরণে উৎসব। এ সময় পরিবারের সদস্যরা প্রয়াত স্বজনদের স্মরণ করেন, কবর সাজান, তাঁদের পছন্দের খাবার রাখেন এবং রঙিন কঙ্কালের সাজে উৎসবে অংশ নেন। তবে ডে অব দ্য ডেড ও হ্যালোইন দুটি আলাদা ঐতিহ্যের উৎসব।


একসময় আত্মার ভয়, মৃত্যু ও অশুভ শক্তির বিশ্বাসকে ঘিরে যে ঐতিহ্যের বিকাশ ঘটেছিল, সময়ের সঙ্গে তা অনেকটাই বদলে গেছে। বর্তমানে হ্যালোইন বিনোদন ও বাণিজ্যিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। পোশাক, মুখোশ, কুমড়ার সাজসজ্জা, মিষ্টি, খেলনা ও সিনেমাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশাল বাজার।


তবে হ্যালোইনের ইতিহাসে এখনো জড়িয়ে রয়েছে মৃতদের স্মরণ, আত্মা সম্পর্কে প্রাচীন বিশ্বাস এবং ঋতু পরিবর্তনের ঐতিহ্য। অর্থাৎ আজকের হ্যালোইন কেবল ভূত বা ভয়ংকর সাজের উৎসব নয়; এটি প্রাচীন লোকবিশ্বাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক সংস্কৃতির দীর্ঘ বিবর্তনের ফল।


বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ

  • প্রকাশ : শনিবার ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, সময় : ১০:৩০ এএম

ইরান যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়ে ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে, এমন আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।


গতকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) লেনদেন শেষে ডিসেম্বরের জন্য ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১৭ ডলার ৬৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে। আগের দিনের তুলনায় দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। দিনের লেনদেনে একপর্যায়ে ব্রেন্টের দাম ১১৮ ডলারে উঠেছিল।


অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। দিন শেষে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়ায় ১০৪ ডলার ১২ সেন্টে।


অক্টোবর মাসে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। একই সময়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ১৫ দশমিক ২ শতাংশ।


এদিকে হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকার ঘিরে একাধিক ঘটনার খবর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। 


ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দিনের মধ্যে সুপারট্যাংকার সংশ্লিষ্ট চারটি ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, ইরানি কর্তৃপক্ষের নিষিদ্ধ ঘোষিত পথে চলাচলের সময় দুটি ট্যাংকার মাইনে আঘাত করেছে।


বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের ঘটনা তেলের সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।


সূত্র : আল জাজিরা