• প্রকাশ : বুধবার ০৪ মার্চ, ২০২৬, সময় : ৬:১৯ এএম

ইরানে লক্ষ্য অর্জনে যা যা প্রয়োজন, সবই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানে হামলায় যোগ দিয়ে বিশ্বের ক্ষমতাধর রাষ্ট্রটির প্রেসিডেন্ট কী লক্ষ্য অর্জন করতে চান?


প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কখনও ‘শাসন পরিবর্তন’কে যুদ্ধের লক্ষ্য বলে বর্ণনা করছেন। কখনও বলছেন, ইরান যেন পারমাণনিবক অস্ত্র বানাতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতে চান তিনি।


তিনি কখনো বলেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে, আবার কখনো বলছেন, তা অনেক দীর্ঘ হতে পারে। ইরানে হামলার পর এ কয়েক দিনে গোটা মধ্যপ্রাচ্যই যুদ্ধের মঞ্চে পরিণত হয়েছে, এই যুদ্ধ কবে শেষ হবে? এই আলোচনা এখন সামনে এসেছে।


প্রায় দুই দশক আগে ইরাকে যে অজুহাতে হামলা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, এবারও প্রায় একই অজুহাত সামনে আনা হয়েছে, যার কোনো গোয়েন্দাভিত্তি নেই। বরং এরকম এক যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে অর্থনৈতিক সংকটের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।


আরেকটি ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিএনএন, আর তা হল- একটি সন্দেহজনক যুক্তির উপর ভিত্তি করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে দিতে পারে। যা শেষ পর্যন্ত হাজার হাজার সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু ঘটাতে পারে। এছাড়া এই যুদ্ধ আগামী বছরগুলোতে মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে নতুন ‘সন্ত্রাসী হামলার ভিত্তিও’ তৈরি করতে পারে।


আরেকটি বিকল্প পরিস্থিতির কথাও বলেছে সিএনএন। সেটি হল-এই হামলার মাধ্যমে ট্রাম্প যদি এ অঞ্চলে ৫০ বছরের জন্য ইরানের হুমকি কমিয়ে আনতে পারেন এবং সে দেশে স্বাধীনতার সূচনাকে ত্বরান্বিত করতে পারেন।


গত শনিবার সকালে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু করে। হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। রাজনৈতিক ও সামরিক শীর্ষ পর্যায়েরও কয়েকজন নিহত হয়েছেন হামলায়।


গত সোমবার হোয়াইট হাউজে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ইরানে হামলা চালানোর এটিই ছিল ‘শেষ সেরা সুযোগ’। এ পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত বলে তিনি দাবি করেন। তিনি বলেন, “একটি অসুস্থ ও পাপিষ্ঠ শাসনব্যবস্থা থেকে আসা অসহনীয় হুমকি দূর করতেই আমরা বর্তমানে এই পদক্ষেপ নিচ্ছি।”


গত গ্রীষ্মে পরিচালিত ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’-এর প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “সেই অভিযানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করার পর আমরা তাদের সতর্ক করেছিলাম অন্য কোথাও নতুন করে পারমাণবিক কেন্দ্র না গড়তে। কিন্তু তারা সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে পারমাণবিক অস্ত্রের পেছনে ছোটা অব্যাহত রেখেছে।”


ইরানে এবারের মার্কিন অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে, ‘এপিক ফিউরি বা মহাতাণ্ডব’। ইসরায়েল নাম দিয়েছে ‘রোরিং লায়ন বা গর্জনরত সিংহ’।


‘হামলা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র’


খামেনির বিদায়ের পর যা আশা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা এখনও দেখা যায়নি ইরানে, অর্থাৎ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে ইরানিরা এখনো রাস্তায় নামেনি। চারদিকে যখন শোকের মাতম আর বিশৃঙ্খলা ঘনিয়ে উঠছে, ঠিক তখনই তেহরানের ক্ষমতার অলিন্দ থেকে নাটকীয়ভাবে দৃশ্যপটে আবির্ভূত হয়েছেন প্রবীণ এক ঝানু রাজনীতিবিদ আলি লারিজানি।


গত রোববার তিনি জানিয়েছেন, দেশে একটি ‘অস্থায়ী পরিচালনা পরিষদ’ গঠন করা হবে। এই ঘোষণা দিয়ে তিনি যেন বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি না থাকলেও ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো স্থিতিশীল আছে।


খামেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও অত্যন্ত বিশ্বস্ত কৌশলবিদ হিসেবে বিবেচিত লারিজানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানকে ধ্বংসের চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে চাইলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।


এ অবস্থায় মঙ্গলবার চতুর্থ দিনে প্রবেশে করেছে যুদ্ধ। সিএনএন লিখেছে, ইরানে হামলা বাড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। সিএনএনকে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সবথেকে বড় হামলা এখনো চালানো হয়নি।


সিএনএন সঞ্চালক জেক ট্যাপারকে তিনি বলেন, “আমরা তাদের ওপর চরম আঘাত হানছি। মনে হয় খুব ভালোভাবেই এগোচ্ছে। অত্যন্ত শক্তিশালী একটি অভিযান। বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সামরিক বাহিনী আছে আমাদের। আমরা সেটি ব্যবহার করছি।”


ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখনো তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত শুরুই করিনি। বড় ঢেউটি এখনো আসেনি। সেটি আসছে খুব শিগগিরই।” মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে ইরানের আক্রমণকে ‘বড় বিস্ময়’ বলে বর্ণনা করেন ট্রাম্প।


তিনি বলেন, “আমরা অবাক হয়েছি। আমরা তাদের (আরব দেশগুলোকে) বলেছিলাম, ‘আমরা এটি সামলে নেব’। কিন্তু এখন তারা লড়াই করতে চাইছে। তারা বেশ আগ্রাসীভাবেই লড়াই করছে। তাদের ভূমিকা খুব সামান্যই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন তারা এতে যুক্ত হওয়ার জন্য জোরাজুরি করছে।”


সিএনএন বলছে, ইরানের নেতৃত্বের যারা এখনো টিকে আছেন, তারাও ‘আঞ্চলিক বিশৃঙ্খলা উসকে দিতে সংকল্পবদ্ধ।


যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পরিণতি কী হতে পারে?


• বিমান অভিযান চালিয়ে রাষ্ট্রীয় দমনযন্ত্রের লক্ষ্যস্থলগুলোতে ধ্বংসাত্মক হামলা করলে এটি জনসাধারণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ ও প্রতিবাদের জোয়ার সৃষ্টি করতে পারে, যা দীর্ঘ সময় ধরে চলা ক্ষমতা কেন্দ্রের ওপর চাপ তৈরি করবে এবং একটি নতুন ইরান মধ্যপ্রাচ্যকে বদলে দিতে সক্ষম হতে পারে।


• ইরানের বাকি নেতৃত্ব নতুন শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলে পারে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র, ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে যে যেন দেশটি আর আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে কার্যকরভাবে দাঁড়াতে না পারে।


• খারাপ যা ঘটতে পারে, তা হল- ইরানের পরিস্থিতি লিবিয়ার মতো হতে পারে। বছরের পর বছর ধরে চলা কতৃত্ববাদী শাসনের অবসানের পর নেতৃত্ব শূন্যতা তৈরি হতে পারে। গোষ্ঠীগত লড়াই বা গৃহযুদ্ধ লেগে যেতে পারে, যা ছড়িয়ে পড়তে পারে অঞ্চলজুড়ে, উদ্বাস্তু সংকট তৈরি হতে পারে এবং ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদ উগ্রপন্থিদের হাতে চলে যেতে পারে।


গত সোমবার রয়টার্সের এক সাংবাদিক জানিয়েছেন সীমান্ত পেরিয়ে তুরস্কে ঢুকছে শত শত ইরানি।


সে দিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসবিদ ও বৈশ্বিক নীতি বিশারদ ম্যাক্স বুট কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস সম্মেলনে বলেছেন, “ট্রাম্প যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, তা অযৌক্তিক এবং অবৈধ। তবে এর মানে এই নয় যে এটি ব্যর্থ হবে।” তিনি একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের সমালোচনা করেন।


তবে ইরানের সামরিক বাহিনী এখনো সক্রিয় থাকায় দেশটির শাসক গোষ্ঠীকে উৎখাত করাটা ‘কঠিন’ মনে করছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা-সিআইএর সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড পেট্রাউস।


কারণ হিসেবে সংস্থার সাবেক এ পরিচালক বলেন, “সমস্যা হলো, কোনো দেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া বেশ কঠিন, যদি সেখানে লাখ লাখ সদস্যের সশস্ত্র ও সংগঠিত বাহিনী মাঠে উপস্থিত থাকে।” ট্রাম্প বলেছিলেন ইরানে তিনি স্থলবাহিনী মোতায়েন করবেন না।


এ অবস্থায় ইরানে সরকার পরিবর্তন না হলেও এই অভিযানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র হয় বেশ কিছু লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে বলে মনে করেন ডেভিড পেট্রাউস।


তবে সোমবার নিউ ইয়র্ক পোস্ট পত্রিকায় দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, “ইরানে মার্কিন স্থলসেনা পাঠানো নিয়ে আমার কোনো জড়তা নেই। অন্য প্রেসিডেন্টরা যেমন বলেন, স্থলভাগে কোনও সেনা মোতায়েন করা হবে না। আমি তা বলি না। আমি বলি, সম্ভবত তাদের (স্থলসেনা) প্রয়োজন নেই অথবা যদি প্রয়োজন হয় (তবে পাঠানো হবে)।”


কী চলছে ইরানে


বিবিসি লিখেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র শনিবার ইরানের সামরিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো ও নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, তাতে ১৯৮৯ সাল থেকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিসেবে ইরানকে নেতৃত্ব দেওয়া আলি খামেনি নিহত হয়েছেন।


ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী-আইডিএফ দাবি করেছে, খামেনির সঙ্গে নিহত হয়েছেন ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী, জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান, সেনাবাহিনীর চিফ অফ স্টাফ এবং ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রধানের মতো শীর্ষস্থানীয় কয়েক ডজন কর্মকর্তা।


মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট।


সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় অন্তত ১৫৩টি শহর আক্রান্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৫০৪টি স্থান লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। আর নথিভুক্ত হামলার সংখ্যা ১০৩৯-এ পৌঁছেছে।


খামেনির মৃত্যুতে সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে এবং ৪০ দিনের শোক পালনের জন্য দেশের সব সরকারি এবং সাধারণ কার্যক্রম স্থগিত রাখা হবে। সরকার শোককাঠিন্যকে “জাতির একত্রিত ক্ষতি” হিসেবে উল্লেখ করেছে।


বিবিসি লিখেছে, সোমবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে যে তারা ওমান উপসাগরে ইরানের ১১টি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে, ওই এলাকায় ইরানের আর কোনো জাহাজ নেই।


ইরানের পাল্টা হামলা


ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েল, কুয়েত, আরব আমিরাতেও মৃত্যুর খবর এসেছে। নিহতদের মধ্যে মার্কিন সেনাও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত সাতটি দেশে মার্কিন স্থাপনা ইরানের হামলার লক্ষ্যস্থল।


মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে ড্রোন হামলা হয়েছে। এর পর সৌদি আরবের বিভিন্ন মিশনে তাদের সব ধরনের সেবা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।


কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। দূতাবাস এক্স পোস্টে বলেছে, “আমরা সব ধরনের নিয়মিত এবং জরুরি কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করেছি।”


এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ‘গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকির’ কারণ দেখিয়ে কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের বাণিজ্যিক মাধ্যমে দেশত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিল।


বাহরাইনে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটির প্রধান কমান্ড সদর দপ্তর ইরানের হামলায় ধ্বংস হওয়ার খবর এসেছে।


গত সোমবার অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ড্রোন হামলায় তাদের দুটি ডেটা সেন্টার অঞ্চলে ‘সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত’ হয়েছে।


গতকাল মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় নতুন করে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান আশপাশের যেসব শহরকে পাল্টা হামলার নিশানা বানিয়েছে, দোহা সে তালিকার একটি।


আল জাজিরা লিখেছে, এর আগে সোমবার কাতারের বিমান বাহিনী তাদের আকাশসীমায় দুটি ইরানি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে এবং কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করে।


সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবির মুসাফাহ এলাকায় একটি জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনালে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। ওমান, জর্ডান ও ইরাকেও মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান। ইরানের সমর্থনে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলে হামলা করছে। ইসরায়েল পাল্টা লেবাননের বৈরুতে হামলা করেছে।


জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরাইনি জেনেভায় সাংবাদিকদের বলেন, “যদি কোনো প্রতিবেশী দেশের কোনো ঘাঁটি অন্য কোনো দেশে হামলা বা আক্রমণ চালানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, তবে সেই ঘাঁটি ইরানের জন্য একটি বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।”


বৈশ্বিক অর্থনীতিতে কী প্রভাব?


উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চলার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।


ইরানের হামলার কারণে কাতার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস-এলএনজি উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে, যে কারণে সোমবার ইউরোপে গ্যাসের দাম হঠাৎ করেই ৫০ শতাংশ বেড়ে যায়।


আল জাজিরা জানিয়েছে, দিনের শুরুতেই দাম ২৫ শতাংশ বেশি ছিল। কাতার এনার্জির উৎপাদন বন্ধের খবরের পর সেই ঊর্ধ্বগতি আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়।


ইরানের ড্রোন হামলা জেরে সৌদি আরবের রাস তানুরা শোধনাগার আংশিক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সোমবার দেশটির জ্বালানি মন্ত্রী এ তথ্য দিয়েছেন। সেদিন সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলে আরামকোর একটি তেল স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়।


বিবিসি লিখেছে, ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। বিশ্বের তেল-গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হয় এই প্রণালী হয়ে।


সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাজ আক্রান্ত হওয়ার খবরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সোমবার প্রতি ব্যারেল ৮২ ডলারে উঠেছে।


আসলে কী চায় যুক্তরাষ্ট্র?


ইরানে কেন যুক্তরাষ্ট্র হামলা করেছে? ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে কী এ বিষয়ে স্পষ্ট কারণ রয়েছে?


হামলার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা একেক সময় একেক যুক্তি দিচ্ছেন। ফলে এই যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কী, এ বিষয়ে যদি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিভ্রান্তি থাকে, তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।


সিএনএন লিখেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অবস্থান ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা বদলানো। ইরানিদের ‘স্বাধীনতা’ দেওয়ার আকাঙ্ক্ষাও ব্যক্ত করেছেন তিনি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংসের অঙ্গীকার করেছেন তিনি, যদিও এর আগে ১২ দিনের হামলায় তাদের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংসের দাবি করেছিলেন।


প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সোমবার জোর দিয়েই বলেছেন, ইরানি সন্ত্রাসী বা ইরাকে মার্কিন দখলদারিত্বের সময় ইরান সমর্থিত মিলিয়াশিয়াদের হাতে আমেরিকানদের হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধ নেওয়া প্রয়োজন।


পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হামলার যুক্তি হাজির করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আগাম হামলা চালিয়েছে কারণ তারা জানতেন ইসরায়েলে হামলার পরিকল্পনা করছে এবং তাতে ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী ইরানের পাল্টা হামলার শিকার হতে পারে।


ট্রাম্প প্রশাসনের এ ধরনের বক্তব্যে বোঝা যায়, কী কারণে যুদ্ধে জড়িয়েছেন সেটি তারা জানে না। ফলে ইতোমধ্যে তাদের এই সামরিক অভিযান সমস্যায় পড়ে থাকতে পারে।


ডেমোক্রেটিক সেনেটর জিন সাহিন সোমবার সিএনএনকে বলেন, “সত্যি কোনো স্পষ্ট কৌশল নেই এবং প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে আমাদের শোনা দরকার তিনি কী চান।”


“সফল হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি প্রকৃত মোড় ঘোরানোর সুযোগ হতে পারে। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কীভাবে ঘটবে, তা মোটেও স্পষ্ট নয়,” বলেন তিনি।


ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এই অস্পষ্টতা যেন অসঙ্গতিপূর্ণ নয়, বরং তার কৌশলেরই একটি অংশ। যুদ্ধে লক্ষ্য অনিশ্চিত রেখে তিনি রাজনৈতিক পরিসর তৈরি করতে চান, যাতে যখন চাইবেন তখনই বিজয় ঘোষণা করতে পারেন।


তিনি যেন ইরাক ও আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন- বৃহৎ পরিসরের স্থলযুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা ও অচলাবস্থার ঝুঁকি তৈরি করে।


কিন্তু আকাশ হামলার মাধ্যমে কোনো দেশের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন ও অনুগত শাসক বসানোর একমাত্র নজির চিন্তা করা কী সম্ভব? যদিও ট্রাম্প বলেছেন, কিছু সমালোচকের কথায় তিনি বিরক্ত নন, যারা বলছেন-ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে গেলে তার নিজের ক্ষমতায় থাকা নিয়ে তারা সন্দিহান।


সিএনএন লিখেছে, ট্রাম্প ইতোমধ্যেই যুদ্ধে লক্ষ্য সীমিত করে এনেছেন বলে মনে করা হয়েছে।


গত সোমবার তিনি বলেছেন, তাদের পরিকল্পনা হল ইরানে নৌবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূর্চি ও ভবিষ্যৎ পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্খা ধ্বংস করা। মনে হচ্ছে তিনি এবং হেগসেথ দুজনই আগে থেকেই ব্যর্থতার অজুহাত তৈরি করে রাখছেন, যাতে ইরানের বর্তমান পুনর্গঠিত হলে সে দেশের জনগণের ঘাড়েই দোষ চাপানো যায়, ‘তোমরাই তো সুযোগ নিতে ব্যর্থ হয়েছ’।


হেগসেথ বলেছেন, “আমি মনে করি ইরানিদের প্রতি প্রেসিডেন্টের বার্তা স্পষ্ট। ইরানের জনগণ: এটা তোমাদের সময়।”


কিছু বিশ্লেষক ভেনিজুয়েলায় মাদুরাকে উৎখাত প্রসঙ্গ টেনেছেন। মাদুরাকে ধরে আনার পর ভেনিজুয়েলায় অন্তর্বর্তী নেতা ডেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন। কিন্তু বহু দশক ধরে চেষ্টা করেও ইরানে মধ্যপন্থি কোনো নেতাকে যুক্তরাষ্ট্র খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়েছে।


এমনকি খামেনিকে হত্যা করার পর এখনও এমন কোনো নেতা খুঁজে পায়নি তারা। যে অজুহাতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র, সেই অভিযোগকে নাকচ করে দিল আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ)।


সংস্থাটির প্রধান, মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি এনবিসি নিউজকে বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য ইরানের কোনো সমন্বিত কর্মসূচির প্রমাণ তারা পাননি। ইরানে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য কোনো সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত কর্মসূচির আলামত শনাক্ত হয়নি।


‘শিগগিরই আগ্রহ হারাবে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র’


আল জাজিরা লিখেছে, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ও কৌশলগত পর্বে এগিয়ে থাকতে পারেন—যদিও এই ‘জয়’ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে মূলত তাদের স্বল্পমেয়াদি স্বার্থের ঐক্যের কারণে।


তবে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু পরস্পরের প্রতি পুরোপুরি আস্থাশীল নন। উভয় পক্ষের সহযোগিতার ক্ষেত্রটি মূলত তাৎক্ষণিক স্বার্থে সীমাবদ্ধ—দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ঐক্যের ভিত্তি স্পষ্ট নয়।


মনোযোগ সরে গেলে, দুজনই এক অনিশ্চিত যুদ্ধের মুখোমুখি হবেন। ট্রাম্প দ্রুত অভিযান গুটিয়ে নেওয়ার চাপ অনুভব করতে পারেন, যেখানে নেতানিয়াহু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার কৌশল নিতে পারেন।


দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন ও রাজনৈতিক ধৈর্য ট্রাম্পের নেই—এমন অভিযোগ উঠছে। তিনি স্থলবাহিনী মোতায়েন করতে পারবেন না বলেই বারবার ইরানিদের ‘সহায়তা করা’ বা তারা নিজেদের দেশ নিয়ন্ত্রণে নিলে ‘পাশে থাকার’ বার্তা দিচ্ছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া যুদ্ধ শুরুর অভিযোগ, সম্ভাব্য মার্কিন হতাহতের ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে তিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ছেন।


বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের এই ‘অস্বস্তিকর’ জোটটি ধীরে ধীরে গড়ে উঠলেও স্বল্প সময়ের মধ্যেই ভেঙে পড়তে পারে। শেষ পর্যন্ত তাদের অর্জন ‘বড় মূল্য দিয়ে সীমিত সাফল্য লাভ’ হয়ে থাকতে পারে।


কতদিন চলবে এ যুদ্ধ?


ইরানের নতুন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নির্বাচিত করবে যে বিশেষজ্ঞ পরিষদ, তার এক সদস্য বলেছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ‘দীর্ঘায়িত’ হবে না।


আলি মোআলেমি বলেছেন, নতুন নেতা নির্বাচনের সময় ‘ব্যক্তিগত পছন্দ’ বা রাজনৈতিক ও দলীয় গোষ্ঠীর প্রাধান্য যে বিবেচ্য হবে না, সেই বিষয়ে শপথ নিয়েছেন বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্যরা। তিনি বলেন, “বিপ্লবের শহীদ নেতার মতোই একজনকে নির্বাচিত করবে বিশেষজ্ঞ পরিষদ।”


মিডল ইস্ট মনিটর লিখেছে, ইসলামি ঐতিহ্যে, বিশেষ করে শিয়া ইতিহাসচেতনায়, শহীদ হওয়া পরাজয়ের প্রতীক নয়। বরং এটি ‘স্রষ্টার সঙ্গে অঙ্গীকারের প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্যের’ প্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হয়।


খামেনির মৃত্যু ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ তিনি ‘সাম্রাজ্যবাদ ও জায়নবাদের’ বিরুদ্ধে কয়েক দশক ধরে সংগ্রাম করে গেছেন।


খামেনির মৃত্যু ইরানে গভীর জাতীয় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এর পরপরই ইরানি কর্তৃপক্ষ প্রতিশোধ নেওয়া এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা ঘোষণা করেছে। এতে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এ হত্যাকাণ্ড আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে। খামেনির এই ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ একটি মোড় পরিবর্তনের ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


যে ঘটনাকে তার বিরোধীরা ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আঘাত হিসেবে ভেবেছিল, সেটিই উল্টো ব্যাপক জনসমাবেশ ও সংগঠনের শক্তিশালী প্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। ফলে এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হতে যাচ্ছে কি না, সে আলোচনাও সামনে এসেছে।


গত শনিবার ট্রাম্পের এক বক্তব্যের বরাতে বিবিসি লিখেছে, ইরানের ওপর হামলা ‘সপ্তাহজুড়ে বা যতদিন প্রয়োজন অব্যাহত থাকবে’। তবে পরে তিনি আরও দীর্ঘ সময়সীমার ইঙ্গিত দেন।


গত রোববার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ একই গতিতে অভিযান চালিয়ে যেতে পারে।


গত সোমবার হোয়াইট হাউসে তিনি বলেন, “শুরু থেকেই আমরা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের কথা বলেছি, তবে আমাদের সক্ষমতা এর চেয়েও অনেক দীর্ঘ সময় ধরে চালানোর।”


এই যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে, এমন প্রশ্নে তিনি সিএনএনকে বলেছেন, “প্রায় এক মাস। আমি চাই না এটি খুব দীর্ঘ হোক। আমি সবসময় ভেবেছি এটা চার সপ্তাহ চলবে।”


ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ শেষ হতে ‘কিছুটা সময় লাগলেও তা বছরের পর বছর চলবে না’।


নেতানিয়াহু অবশ্য এই সংঘাতকে আগের দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধগুলোর মতো দেখতে নারাজ, জানিয়েছে রয়টার্স।


ফক্স নিউজের ‘হ্যানিটি’ অনুষ্ঠানে সোমবার তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম এটি দ্রুত ও চূড়ান্ত হতে পারে। এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে, কিন্তু এটি বছরের পর বছর ধরে চলবে না। এটি কোনো অন্তহীন যুদ্ধ নয়।”



সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১১:৪৬ এএম

দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপে একটি আবাসিক ভবনে মার্কিন হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে এক দম্পতি এবং তাদের দুই বছর বয়সী এক শিশু রয়েছে। এর আগে উদ্ধার হওয়া অপর দুই শিশু বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


ফার্স বার্তা সংস্থা এবং হরমুজগান ইউনিভার্সিটি অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, হামলায় নিহত তিনজন হলেন ওই ভবনে বসবাসকারী এক দম্পতি ও তাদের দুই বছর বয়সী সন্তান।


মার্কিন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচ সদস্যের ওই পরিবারটির বাকি দুই শিশুকে এর আগে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল। সাত ও নয় বছর বয়সী আহত ওই দুই শিশু এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।


এর আগে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি ধ্বংসস্তূপ থেকে তৃতীয় এক শিশুকে উদ্ধারের খবর জানিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ফার্স বার্তা সংস্থা ধ্বংসস্তূপ থেকে দম্পতি ও এক শিশুর মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে তিনজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। 



সূত্র: আল-জাজিরা

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:৫৪ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার ইরাকে হামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব। এতে ইরানপন্থী গোষ্ঠীগুলো নিয়ে গঠিত একটি আধাসামরিক জোটের ২০ সদস্য নিহত হয়েছেন।


ওয়াশিংটন ও রিয়াদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মার্কিন বাহিনী আর সৌদির তেল স্থাপনায় হামলার জবাবে তারা ইরাকে ইরান সমর্থিত সন্ত্রাসীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি আধাসামরিক ওই জোটের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে।


যুক্তরাষ্ট্র আর ইরান দুই দেশই ইরাকের অন্যতম মিত্র। কিন্তু তাদের শত্রুতার কারণে বাগদাদ দীর্ঘদিন ধরে প্রক্সি যুদ্ধের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। দেশটির সরকার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেও হিমশিম খাচ্ছে।


ইরাকে ইরান সমর্থিত আধাসামরিক জোটটি ‘পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস’ বা পিএমএফ নামে পরিচিত। এক সময় সক্রিয় থাকলেও বর্তমানে তাদের তেমন তৎপরতা নেই। পিএমএফ জানিয়েছে, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী অন্তত ২০ জন যোদ্ধা শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩২ জন।


পিএমএফ আরও জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি যৌথ আগ্রাসন চালিয়ে বাগদাদ, উত্তর ইরাকের নিনেভ এবং দক্ষিণের বসরাসহ ৭টি প্রদেশের ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। জোটের নেতারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এএফপিকে বলেন, নিনেভ এবং মধ্য ইরাকের দিয়ালা প্রদেশের হামলাগুলোতে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে।


জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য ইরাকে পিএমএফ গঠন করা হয় ২০১৪ সালে। পরে এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনীর অংশ করা হয়। এর মধ্যে ইরান সমর্থিত কিছু ব্রিগেডও আছে। সেগুলো নিজেদের মতো করে কার্যক্রম চালায়।


গত সোমবার সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরাক থেকে উড্ডয়ন করা বেশ কয়েকটি ড্রোন ভূপাতিতের কথা জানিয়েছিল। এসব ড্রোনের লক্ষ্যবস্তু ছিল পেট্রোলিয়াম স্থাপনা। তখন ইরাকি কোনো পক্ষ হামলার দায় স্বীকার করেনি।

সর্বশেষ সব খবর

জাপানে ভূমিকম্পে নিহত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৪:১৬ পিএম

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাস্থল কুমামোতো শহরের কাছে আংশিক ধসে পড়া একটি বিপণিবিতানে এখনও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ভূমিকম্পের প্রায় এক ঘণ্টা পর কুমামোতো শহরের কাছে অবস্থিত একটি শপিং মলের একাংশ ধসে পড়ে। 


কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভবনের ভেতরে সম্ভাব্য গ্যাস বিস্ফোরণের পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে আটজনকে উদ্ধার করা হলেও তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।


বিপণিবিতান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আয়ন জানিয়েছে, প্রায় ২ হাজার ৭০০ কর্মীর খোঁজ নেওয়া হয়েছে। তবে চারজন কর্মী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।


জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন, এখনও অনেক মানুষ উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। যত বেশি সম্ভব মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সরকার সব ধরনের সম্পদ কাজে লাগাচ্ছে।


ধসে পড়া ভবনে দমকল, পুলিশ ও প্রায় ১৭০ জন সেনাসদস্য উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য ৪ হাজার ৫০০-এর বেশি সেনাসদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে, নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজ- এর একটি কারখানায় চিমনি ধসে সাতজন নিখোঁজ এবং চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিভিন্ন হাসপাতালে বহু আহত ব্যক্তির চিকিৎসা চলছে।


কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুরো কুমামোতো প্রিফেকচারে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভূমিকম্পের পর ভবন ধস ও আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের জন্য ৩৮৬টি জরুরি কল পেয়েছে পুলিশ।


ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামোতো শহরের প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ইয়াতসুশিরো শহরে বহু বাড়ির ছাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কয়েকটি ভবন ধসে পড়েছে এবং সড়কের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। একটি সেতুর অংশ কুমাগাওয়া নদীতে ভেঙে পড়েছে।


কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ ওই অঞ্চলে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।


আজ বুধবার তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছালে ৩৬ হাজারের বেশি বাড়ি বিদ্যুৎহীন অবস্থায় ছিল। ফলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়েও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


ভূমিকম্পের কারণে বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উকি শহরের একটি হাসপাতালের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। আরেকটি হাসপাতাল ৮৬ জন আহতকে চিকিৎসা দেওয়ার পর অতিরিক্ত চাপের কারণে নতুন জরুরি রোগী ভর্তি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। এ ছাড়া দ্রুতগতির ট্রেনে থাকা কয়েকজন যাত্রী আহত হয়েছেন। কম্পন অনুভূত হওয়ার পর ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।


ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, প্রায় ২০০টি দোকানবিশিষ্ট আয়ন মলের একপাশ সম্পূর্ণ ধসে পড়ে ভেতরের ইস্পাত কাঠামো উন্মুক্ত হয়ে গেছে এবং পার্কিং এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে পড়েছে।


ভূমিকম্পের প্রভাবে রেনেসাস ইলেকট্রনিক্স, সনি, টোকিও ইলেকট্রন ও হোন্ডা তাদের স্থানীয় কারখানার কার্যক্রম স্থগিত করেছে। টয়োটা মোটর জানিয়েছে, সরবরাহকারীদের পরিস্থিতি বিবেচনায় শুক্রবার পর্যন্ত কুমামোতো প্রিফেকচারের বাইরের তিনটি কারখানায় উৎপাদন বন্ধ থাকবে। 


উল্লেখ্য, প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত জাপানে বিশ্বের ৬ বা তার বেশি মাত্রার প্রায় ২০ শতাংশ ভূমিকম্প সংঘটিত হয়। ১০ বছর আগে কুমামোতোতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৭৫ জন নিহত এবং ২ হাজার ৭৩৯ জন আহত হয়েছিলেন। এবারের ভূমিকম্পেও ঐতিহাসিক কুমামোতো দুর্গ, কয়েকটি উপাসনালয় এবং সপ্তদশ শতাব্দীর একটি চা-পানের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সর্বশেষ সব খবর

ছবি : সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১০:৩১ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিনগত রাতে এই হামলা চালানো হয়ে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। 


বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আকস্মিক হামলার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা ফের চরম আকার ধারণ করলো।


মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এক ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ছিল ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মূল লক্ষ্যবস্তু।


যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্র সময় বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে এক আকস্মিক হামলার উদ্দেশ্যে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে সেসব ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।


সেন্টকম আরও জানায়, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ‘সম্পূর্ণ সতর্ক ও উচ্চ প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।’


এর আগে টানা প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ইরানের ওপর নৈশ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে গালফ বা পারস্য উপসাগরে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্রমাগত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করে ইরান। তবে গত সপ্তাহে উভয় পক্ষই সাময়িকভাবে গোলাগুলি বা আক্রমণ বন্ধ রেখেছিল।


চরম সামরিক উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ লড়াই


সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ প্রবাহিত হওয়া অতি সংকীর্ণ ও কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’-তে ইরান কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর পর এই সংঘাতের সূচনা হয়। গত জুন উভয় পক্ষের মধ্যে এক অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই কার্যত এই প্রণালির ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার এক লড়াই শুরু হয়ে যায়।


ইরানের দাবি হলো, এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী সব জাহাজকে তাদের উপকূলের কাছাকাছি নির্ধারিত রুট ব্যবহার করতে হবে ও তেহরান এর জন্য শুল্ক বা ফি আদায় করার অধিকার রাখে। অন্যদিকে, মার্কিন নৌবাহিনীর বিশেষ অপারেশনের অধীনে ওমানের উপকূল ঘেঁষে দক্ষিণাঞ্চলীয় পথ দিয়ে যখন একের পর এক জাহাজ নিরাপদে অতিক্রম করছিল, ঠিক তখনই কয়েকটি জাহাজে হামলা চালায় ইরান।


ঘটনা নতুন মোড় নেয় যখন বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরের দিকে মার্কিন ও সৌদি যুদ্ধবিমানগুলো যৌথভাবে ইরাকে অবস্থানরত ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র মিলিশিয়াদের ওপর দফায় দফায় বিমান হামলা চালায়। সম্প্রতি সৌদি আরবের কয়েকটি তেল স্থাপনায় হওয়া ড্রোন হামলার পেছনে এই ইরাকি মিলিশিয়াদের দায়ী করেই যৌথ এই বিমান হামলা চালানো হয়েছে।


এর আগে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি দেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে এই অভিযুক্ত মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর কথিত ড্রোন হামলার ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, তার দেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যাতে ‘ইরাকি ভূখণ্ডকে কোনো বন্ধুপ্রতীম বা ভাতৃপ্রতিম দেশের বিরুদ্ধে আক্রমণের রুট বা লঞ্চিং প্যাড হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া না হয়।’


তবে ইরাকের সশস্ত্র মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলো সৌদি তেলের স্থাপনায় ড্রোন হামলার সব দায় সরাসরি অস্বীকার করেছে। ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সমন্বিত মোর্চা ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ সৌদির এই অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মনগড়া’ বলে আখ্যা দিয়েছে। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে যে, সোমবার (২৭ জুলাই) সংঘটিত এই হামলাগুলো মূলত ইয়েমেনের হুথিরাই চালিয়েছে; যারা নিজেরাই সৌদি তেলের স্থাপনায় হামলার দায় স্বীকার করেছিল।


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


সর্বশেষ সব খবর

ছবিঃ সংগৃহীত

  • প্রকাশ : বুধবার ২৯ জুলাই, ২০২৬, সময় : ১:২১ এএম

মুম্বাইয়ের পুলিশ ভ্যান আটকে প্রতিবাদের মুখ হয়ে ওঠা মডেল রিয়া আহির এবার অনলাইনে তীব্র আক্রমণ ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনার পর তিনি সাইবার পুলিশের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন।


গত ২২ জুলাই মুম্বাইয়ের দাদারের শিবাজি পার্কের কাছে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে দেশব্যাপী বিক্ষোভের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভরত মানুষদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় একটি পুলিশ ভ্যান আটকে দিয়েছিলেন রিয়া আহির। 


ছাই রঙের হুডি পরে ভ্যানের বনেটে হাত রেখে তার সাহসিকতার সেই দৃশ্য দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। পরবর্তীতে এনডিটিভি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, পুলিশ অন্যায় করছে বুঝতে পেরেই তিনি সহজাত প্রবৃত্তি থেকে ওই পদক্ষেপ নিয়েছিলেন এবং নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকার ওপর জোর দিয়েছিলেন।


তবে এই সাহসী ঘটনার পর থেকেই অনলাইনে তাকে নানাভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমআইডিসি পুলিশ স্টেশনে দায়ের করা অভিযোগে তিনি জানান যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়মিত হত্যার হুমকি এবং তার অনলাইন কন্টেন্টে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে। 



রিয়ার দাবি, তার বিরুদ্ধে একটি সুসংগঠিত ঘৃণা প্রচার চালানো হচ্ছে, যার মধ্যে মানহানি, ভীতি প্রদর্শন, নারীর প্রতি অবমাননাকর অপব্যবহার, টার্গেটেড হয়রানি এবং ডিপফেক ভিডিও ছড়ানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।


এই সাইবার হয়রানির কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে তিনি আইনি সহায়তার পথ বেছে নেন এবং মানহানিকর কন্টেন্টের স্ক্রিনশট, বিভিন্ন ইউআরএল ও প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র পুলিশের কাছে জমা দেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। 


সম্প্রতি এনডিটিভির একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রিয়া আহির জানান, ওই মুহূর্তে তার প্রতিক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল এবং বিষয়টি সাধারণ মানুষের কাছে এত বড় একটি অসাধারণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে, তা এখনও তিনি পুরোপুরি বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না।


সূত্র: এনডিটিভি।

সর্বশেষ সব খবর

মা-বাবার মাঝে অভিজিৎ দিপকে

  • প্রকাশ : মঙ্গলবার ২৮ জুলাই, ২০২৬, সময় : ৯:১৭ পিএম

ভারতের সাম্প্রতিক যুব আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে পরিচিতি পেয়েছেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। আন্দোলন থামতেই এই তরুণের জন্য একের পর এক বিয়ের প্রস্তাব আসছে তার বাবা-মায়ের কাছে। অভিজিতের মা অনিতা দিপকের ইচ্ছা, আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারির মধ্যেই ছেলেকে বিয়ের পিঁড়িতে বসাবেন। তবে বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা মাসের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ভার তিনি ছেড়ে দিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই সমাজকর্মীর ওপরই।


দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অনিতা দিপকে জানান, এনইটি প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে সিজেপির প্রতিবাদের আগে থেকেই অভিজিতের জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছিল। আর সেই ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।


তিনি স্মরণ করেন, বোস্টনে থাকার সময় অভিজিতের সঙ্গে ফোনে এ বিষয়ে তার কথা হয়েছিল। তিনি যোগ করেন, ‘সে এ নিয়ে বেশি কিছু বলেনি; শুধু একটু হেসেছিল। অভিভাবক হিসেবে আমরা তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছি। তবে সে আর কয়েকদিনের মধ্যে বাড়ি ফিরলে আমরা বিষয়টি আবার তুলব এবং তাকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দেব।’


সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন সমাপ্ত হলে অভিজিতের দ্রুত বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ায় তিনি ভ্রমণ পিছিয়ে দেন। তার মা বলেন, ‘আমরা এখন জানতে পেরেছি তার ফিরতে আরও চার থেকে পাঁচদিন লাগবে।’


হুমকির মুখে আত্মগোপনে যায় পরিবার


অভিজিৎ ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই চরম হুমকির মুখে পড়ে তার পরিবার। নিরাপত্তার খাতিরে তাদের প্রায় দুই সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকতে হয়েছিল।


অনিতা দিপকে বলেন, দল গঠনের পর বোস্টনেই অভিজিৎকে হুমকি দেওয়া শুরু হয়। ফোন করে হুমকিদাতারা বলত, যেহেতু সে বস্টনে রয়েছে, তাই ভারতে তার বাবা-মাকে টার্গেট করা হবে।


এই খবর পেয়েই অভিজিৎ তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার তাগিদ দেন। এরপর তারা কংকনে আত্মীয়দের বাড়িতে চলে যান এবং সেখানে ১৫ দিন কাটিয়ে আসেন। বর্তমানে পরিবারটি ছত্রপতি সম্ভাজি নগরের ওয়লুজ এলাকায় বসবাস করছে।


পরিবারকে না জানিয়েই রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ


অভিজিৎ যে এমন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন, সে পরিকল্পনা তিনি পরিবারকে ঘুণাক্ষরেও জানাননি। সংবাদমাধ্যমে তার সাক্ষাৎকার দেখেই তারা বিষয়টি জানতে পারেন।


তার মা বলেন, ছেলে বাড়িতে খুব একটা কথা বলত না। খাবার বা মৌলিক প্রয়োজন ছাড়া সে দীর্ঘ কোনো আলোচনা করত না। স্কুলের বিতর্কে অংশ নেওয়ারও কোনো রেকর্ড ছিল না তার।


ছোটবেলায় বেশ শান্ত প্রকৃতির এই ছেলেটি কীভাবে জাতীয় টিভিতে তিন ভাষায় কথা বলল, তা দেখে আজও অবাক হন তার মা। মহামারির সময়ে অভিজিতের গৃহহীন আদিবাসী পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর মানবিক রূপও তিনি তুলে ধরেন।


ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ব্যর্থতা ও আক্রমণের ভয়


দশম শ্রেণীতে ৯৬ শতাংশ নম্বর পাওয়া মেধাবী অভিজিৎকে তার বাবা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় এই পেশায় ঠেলে দিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বাদশ শ্রেণীতে ৬৫ শতাংশ পাওয়ার পর পুনের সিংহগড় ইনস্টিটিউটে ভর্তি হলেও পড়াশোনা শেষ করতে পারেননি তিনি। মা স্বীকার করেন, ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে জোর করাটা তাদের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল।


সাম্প্রতিক আন্দোলনে ছেলের ওপর হামলা এবং মুখে কালি ছেটানোর ঘটনায় পরিবারটি দারুণ ভীতি ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে গেছে। মা জানান, এসব খবর শুনে তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন এবং ছেলের বড় কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না তা নিয়ে ভেবেছিলেন।


তবে অভিজিৎ তাকে ফোন করে আশ্বস্ত করে বলেছিলেন, তিনি এখন আর শুধু পরিবারের নন, দেশের সাধারণ মানুষের সম্পদে পরিণত হয়েছেন।


সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


সর্বশেষ সব খবর